বুধবার, ৩ জুন, ২০২০

রুমা মোদকের অর্ধ শতক : রুমা মোদকের গল্পপাঠ প্রসঙ্গে


গল্প আসলে কী? গল্পের কাজ কি কেবল ঘটনাপ্রবাহ বলে যাওয়া? না কি গল্প হলো ঝিম ধরা মানুষের মনে নতুন করে ঔৎসুক্য জাগিয়ে তোলার জন্য জটিল এক ফ্রেম বা শব্দের কোলাজ?

গল্পের সংজ্ঞা নিয়ে নতুন সব গল্প ফাঁদার সুযোগ আছে বিস্তর। তবে কেন যেন মনে হয় গল্প যদি মানুষের জীবনকে আয়নায় না দেখায় তবে গল্পের শব্দেরা শবের মতো পড়ে থাকে, সেই গল্পটিও আদতে মুখ থুবড়ে পড়ে। যে গল্পে প্রতিবিম্বিত হয় জীবনের চেনা-অচেনা আখ্যান সেই গল্পের সঙ্গেই যেন পাঠকের একটা আত্মিক যোগাযোগ তৈরি হয়। পাঠক চাইলেও ভুলতে পারেন না সেই গল্প। গল্পকার রুমা মোদকের লেখা গল্প পাঠকের হৃদয়ে এমনই তোলপাড় জাগিয়ে তুলতে পারে।
নাট্যকার ও থিয়েটার-কর্মী রুমা মোদক এই সময়ের একজন শক্তিশালী গল্পকার। ‘প্রসঙ্গটি বিব্রতকর’, ‘ব্যবচ্ছেদের গল্পগুলি’র পর পাঠ করলাম ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে জেব্রাক্রসিং প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত তার তৃতীয় গল্পগ্রন্থ ‘গোল।’ এই গল্পকারের গল্পশৈলীর যে দিকটি পাঠক হিসেবে আমার কাছে বিশেষত্ব বহন করে তা হলো তার প্রতিটি গল্পের বাক্যের ভাঁজে ভাঁজে অদ্ভুত এক সুষুপ্ত বোধ থাকে, যা নিজের অজান্তেই পাঠককে আবেগতাড়িত করে।

রুমা মোদকের গল্প ভাবনা, গল্পের প্লট নির্বাচন সমসাময়িক। আবার কারো কারো কাছে বিব্রতকর কিছু পুরনো প্রসঙ্গও প্রাসঙ্গিক হয়ে গল্পের মোড়কে নতুনভাবে এসেছে।

এই গল্পকারের বেশিরভাগ গল্পের শুরুতে খুব নির্লিপ্ত ভাব থাকলেও বর্ণনাশৈলীর কারণে একটা বাক্য পড়লে পরের বাক্যটি পড়ার জন্য মুখিয়ে থাকি। মনে হয় কিছু একটা হবে। অন্যরকম কিছু। আর তা হয়ও। বিশেষ করে খুব চেনা চরিত্র বা পত্রিকার কোনো রোজকার ঘটনা যা নিয়ে আমাদের অখণ্ড নির্লিপ্তি সেসব তার গল্পের ভেতরে হুট করে ঢুকে পড়ে। আর চেনা চরিত্রগুলোও পাঠকের মনে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি করে। সেই সাথে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো ভীষণভাবে উৎপাত করে মস্তিষ্কের কোণে, কোণে। ‘গোল’ গল্পগ্রন্থটি পড়তে পড়তে আমার মন-মগজের অন্দরে এমন অহেতুক গোলযোগের সৃষ্টি হয়েছে। তাই কিছু পাঠপ্রসঙ্গ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

শ্রী দুর্গা জুয়েলার্সের উজ্জ্বল আলোর নিচে টুকটুকির ঝলমলে হাসি দেখার ছবিটি ঝাপসা চোখে দেখতে দেখতে একটি যুবক আউড়ে চলে কবিতার নিটোল বাক্য ‘ভালো থেকো ফুল…মিষ্টি বকুল।’ এমন ভালো থাকার আকুতিতে কত মফস্বলী প্রেম হারিয়ে যায়। কিন্তু একেবারে ফুরিয়ে যায় কি? হয়তো না।

‘মিথ্যেটুকু না বললে যে আমার সকালের অপেক্ষাটা মিথ্যে হয়ে যেত, ওর দুঃখগুলো অপেক্ষাগুলো অসহায়ত্বটুকু ওকে আমার বাসা পযর্ন্ত টেনে আনতো না মোটেই। বাস্তবে একখানা হীরের আংটি কেনায় অক্ষম আমি যে কল্পনায় ওকে হীরের আংটি কিনে দেয়ার মতো সক্ষম হয়ে উঠি। স্বপ্নের মতো গল্পের মতো ওকে কাছে পাবার যোগ্যতার মতো সক্ষম।’ এই কয়েকটি বাক্যের মধ্যেই পুরো ‘ভালো থেকো ফুল’ গল্পটি লুকানো থাকলেও পুরো গল্পটিতে আবিষ্কার করি মধ্যবিত্ত জীবনের টানাপোড়েনের ছোট ছোট অসংখ্য গল্প।

কোনো গল্পের নাম অনুযায়ী যদি একটা বইয়ের নাম হয় তবে ওই গল্পের ওপর অবশ্যম্ভাবীভাবে একটা প্রত্যাশার চাপ তৈরি হয়। পাঠক মনে মনে ধারণা করে নেয় এটি গ্রন্থটির বিশেষ একটি গল্প। আমিও সেই বিশেষ প্রত্যাশা থেকেই ‘গোল’ গল্পটি পড়তে শুরু করেছিলাম। হতাশ হইনি।

দু’চারটা অপারেশান থেকে প্রাপ্ত কয়েক হাজার টাকা থেকে দু চারটা টাকাও যেমন জামিল যোগান দিতে পারে না সংসারে তেমনি ওর কোমরে গোঁজা পিস্তল, শহরজুড়ে ভয়ার্ত চোখ, উঠতি তরুণদের সমীহের দৃষ্টি কিছুই ওর ঘরের দোযখের ওম কমাতে পারে না। তাহলে কীসের এত অহংকার ওর? যা নিয়ে সে পৌঁছাতে চায় সবচেয়ে উচু চেয়ারটায়? পারে না। সেই শেশব-কৈশোর থেকে তাড়িয়ে বেড়ানো ফুটবলটির চোখ-নাক -মুখ গজিয়ে বরাবরের মতো জামিলের দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে বলে- মিস, এবারও মিস। নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে গিয়ে বারবার হোঁচট খাওয়া জামিলের গল্প ‘গোল।’ জীবনের লক্ষ্যে না পৌঁছাতে পারার হাহাকারের এ গল্প আমাদেরও।

'দুঃখভুক মৃত্যুময় দিন' আর 'দুঃখভুক স্বপ্নময় দিন' গল্প দুটির ফ্রেম আলাদা হলেও দুটো গল্পেই দুঃখবোধ চুম্বক আকর্ষণে পাঠককে বিমর্ষ করে। সুখের জীবনেও খুব গোপনে ভীষণভাবে অসুখী থাকতে পারে মানুষ। আপাতদৃষ্টিতে সুখে মোড়ানো দাম্পত্যজীবনেও নিভৃতে বেদনার সমুদ্র টইটম্বুর থাকতে পারে। যে জীবনে ছকে বাঁধা নিশ্চিত নিপাট এক একটি দিনও প্রচণ্ডভাবে অসহ্য লাগতে পারে। আর তাই তেমনই এক তাড়নায় 'দুঃখভুক স্বপ্নময় দিন' গল্পের গল্পকথক হৃদয়ের গহীনে অদ্ভুত এক স্বপ্ন নাড়াচাড়া করে সবার অগোচরে।

গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়েছে সে খবরটির ঘুরতে থাকে পাড়ায়-পাড়ায়, গলিতে-মহল্লায়, চা স্টলে, রাস্তার মোড়ে, ঘরের কোণে। ‘গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়েছে। সকালে শহরতলীতে নিজ বাংলোবাড়ির ভেতরের উঠান থেকে তার মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। গণতন্ত্র নিজের ক্ষমতাকে সুসংহত করার প্রাথমিক লগ্নে শহরতলীতে ধানি জমি ভরাট করে এই বাংলোবাড়িটি তৈরি করেছিলেন।’

বদরুল-রীনা, রহম মোল্লা-জোহরার সাথে গণতন্ত্রের আত্মহত্যা বা হত্যাজনিত মৃত্যুর কার্যকারণের কী সম্পৃক্ততা সেটি ভাবতে ভাবতে ‘গণতন্ত্রের মৃত্যু’ গল্পের একদম শেষ বাক্যে পৌঁছে যাই এবং লেখকের বর্ণিত পুনশ্চ অনুসারে ‘গণতন্ত্র’ শব্দের স্থানে ‘বদরুল’ নামটি প্রতিস্থাপিত করে গল্পটি পুনঃপাঠের আগ্রহ তৈরি হয়।

‘নীতি ঠিক রেখে দায়িত্ব পালন করতেও মেরুদণ্ড লাগে। কেবল এই কেরাণির দায়িত্ব পালন করতে মেরুদন্ড লাগে না।’ তবু পুনঃপুন সংশোধনের জন্য আসা চিঠি হরিপদ কেরাণিকে অস্থির করে তোলে। একসময় নিজের ভেতরে রূপান্তর প্রক্রিয়া টের পায় হরিপদ, টের পায় তার মেরুদণ্ড ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে আসছে। ‘হরিপদ কেরাণির মেটামরফসিস’ গল্পে এডিএম স্যারের কাছে ছুঁড়ে দেয়া প্রশ্নটি হরিপদ প্রকৃতঅর্থে কার দিকে ছুঁড়ে দিয়েছে সেই প্রশ্নের বিলোড়ন বুকে নিয়ে পাঠশেষে নিশ্চুপ বসে থেকেছি।

এভাবে কোনো একটি বা একাধিক চরিত্র নিয়ে রুমা মোদকের গল্পের কাঠামো গড়ে উঠলেও শেষ অবধি তা ধর্ম, রাজনীতি ও জীবনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম দ্বন্দ্বকে বার বার ব্যবচ্ছেদ করেছে।
'গ্রিক পুরাণ অনুসারে দেবতাদের সাবধানবাণী সত্ত্বেও একদিন বাক্সটি খুলে ফেলে প্যান্ডোরা। সঙ্গে সঙ্গে বাক্স থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করে রোগ-মহামারী নানা রকমের অশুভ বিষয়াদি। হতভম্ব এবং ভীত প্যান্ডোরা যদিও বাক্সটি বন্ধ করে দেয় কিন্তু একটিমাত্র বিষয় উন্মুক্ত হতে পারে না আর তা হলো- আশা।' তাই জমিলার আশাও অবরুদ্ধ থেকে যায় ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ গল্পে।

‘এই বাক্সের ভিতরে আসলে কী আছে কিংবা বৃদ্ধ লোকটি কেন বাক্সটি বগলে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়- প্রশ্নগুলো খেয়ালের অভাবেই গাঁয়ের মানুষের মাঝে তেমন কোনো আগ্রহের জন্ম দিতে সক্ষম হয় না, যেমন সক্ষম হয় সংবাদপত্র কিংবা টিভি চ্যানেলের উত্তপ্ত নিউজফিডের দাউ দাউ জ্বলন্ত অগ্নিগর্ভ সংবাদগুলো। গাঁয়ের একমাত্র পিচ করা রাস্তাটা যেখানে শেষ হয়ে হাইওয়েতে মিশে গেছে সেখানে সদ্য গজিয়ে ওঠা চায়ের স্টলে কনডেন্সড মিল্ক আর দু-চামচ চিনি দিয়ে কড়া মিষ্টির চা খেতে খেতে তারা টকশো দেখে, বক্তাদের সাথে সাথে দলে-উপদলে বিভক্ত হয়, আর উত্তপ্ত প্রসঙ্গের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেরাও উত্তপ্ত হয়, ঝগড়াঝাটি করে। শরীর উত্তপ্ত করা প্রসঙ্গের তো অভাব নেই। একটার পিঠে আরেকটা।’ ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ গল্পটির অনেকগুলো অনুচ্ছেদ এমন অসংখ্য অসঙ্গতির গল্প বলে গেছে। নির্লিপ্ত ঢঙে বলা এই গল্পটি যতো সামনের দিকে গড়িয়েছে ততো পাঠ আকর্ষণ বেড়েছে। শেষ মুহূর্তে জমিলার হাতে থাকা ব্যাগের ভেতরে পুরানো শাড়িতে প্যাঁচানো টিনের বাক্স যার সবুজ রঙের গায়ে লাল-হলুদ লতাপাতা নকশা করা, সেই বাক্সের রহস্য একসময় উন্মুক্ত হয়ে পড়লেও কিছু রহস্য চাপা পড়ে যায় সমুজের বৃদ্ধ বাবাকে দাফন করার সাথে সাথে।

‘গোল’ গল্পগ্রন্থে কোনো কোনো গল্পের কোনো কোনো অনুচ্ছেদে দীর্ঘ বাক্য ব্যবহার করা হয়েছে। কারো কারো কাছে তা ক্লান্তিকর মনে হলেও উপমা-উৎপ্রেক্ষার কারণে সেই বাক্যগুলোই গল্পের প্রতি মনোযোগী পাঠককে আরও নিবিষ্ট করে তুলবে। তাই ‘একটি সন্ধ্যা যেভাবে রাত হয়’ গল্পের থিমটি জীবনের চেনা দ্বন্দ্বমুখরতার হলেও প্রথম বাক্য থেকেই বাক্য নির্মাণের স্বকীয়তা পাঠকের আগ্রহ বাড়ায়। কালভার্টের উপরে উপুড় হয়ে হুড়মুড় সন্ধ্যা নেমে গেছে, পোঁচ পোঁচ অন্ধকার, নির্বিকার পাতা, পাখিদের হল্লা ক্রমশ গিলে খেতে খেতে, প্রতিকূলতার পাথর নানা রং নানা মাত্রায় ক্রমাগত ভারি হয়ে মাথায় চেপেছে-এমন অসংখ্য উদাহরণ দেয়া যাবে।

পুরুষ অভিভাবকহীন মা-মেয়ের জীবনযাত্রার দুর্গতি, নীতা-ঋতু, ঋতুর কমবয়সী হাউস টিউটরের প্রেগন্যান্ট হওয়া, ঋতুর মায়ের মতো আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানুষের অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের হাত ধরে পথে নেমে আসা-গল্পের ভেতরে এসব গল্প পড়তে পড়তে আমি দেখি হাজার রঙ মেলে দেয়া রাতের অন্ধকারে কী করে সন্ধ্যেটা মিশে যায়।

'মাইয়া-বিয়াইন্না' হাজেরার কষ্টের বৃত্তান্ত খুঁচিয়ে কেউ দরদ দেখাতে এলে ভালো লাগে না তার। সপ্তম সন্তানের আগমনের আভাসে ক্রমে ক্রমে পেট স্ফীত হতে থাকলে হাজেরার মনে ক্ষীণ আশা জাগে এবার ছেলে সন্তান হলে মিয়াধন মিয়ার মন ফিরবে। 'সাত বোন চম্পা' গল্পে হাজেরার শরীরে প্রতিবার মাতৃত্বের চিহ্ন ফুটে ওঠার সাথে সাথে সে এই একই আশায় থাকে-'এবার ছেলে না হয়ে যায়ই না।' শেষ পর্যন্ত হাজেরার কোলে কটা চোখের ছেলে সন্তান আসে আর তখনই গল্পটিতে আসে ভিন্ন এক মোড়। এই গল্পটির প্লট দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে খুব অপরিচিত না হলেও গল্পটি সুখপাঠ্য।

'বৈধতা অবৈধতার চোরাবালি' গল্পে অকাল বৈধব্য নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে পোয়াতী বউদের বৈধ ছেলে-মেয়ে বিয়োনোর কাজ অর্থাৎ ধাইগিরি করে বেড়ানো করিমুন্নেছা খালা একসময় বিস্মিত হতে ভুলে যান। যেসব ছেলে-মেয়ের জন্ম তার হাতে তারা বড় হতে হতে তাদের কেউ কেউ অপরাধের চোরাবালিতে ডুবে যায়। তখন করিমুন্নেছার মনে হয়, এদের আঁতুড়ঘরে মেরে আসলে বেশ হতো। এই গল্পটি শেষ হয়েছে বৈধতা অবৈধতার চোরাবালিতে বর্তমান সমাজের নিমজ্জনের ইঙ্গিত দিয়ে।

‘১৯৭৫’ গল্পটির শুরুতে নির্মলতার পরশ থাকলেও গল্পের নামকরণই ইঙ্গিত দেয় যে গল্পটি কেবল কাব্যিকতা নিয়েই থাকবে না। কোথাও না কোথাও পাঠককে আঘাত করবে, প্রচণ্ডভাবে। ‘সূর্যোদয়ে কর্মব্যস্ত মানুষের দিন নিয়মতন্ত্রের চাকায় গড়িয়ে মিশে যাবার সময়টুকু পার হবার পর, সূর্যটা মধ্যাকাশে ঠিক একটুখানি জিরিয়ে নেয় পশ্চিমে হেলে যাবার আগে। সময়টা কেমন ঝিমিয়ে যায় তখন। নিঃশব্দ নিস্তব্ধ দুপুরগুলো হঠাৎ একটু কেঁপে উঠে কাকের তীব্র কর্কশ স্বরে, নিঃশব্দ নিস্তদ্ধতা ছিঁড়ে ছিঁড়ে যাবার এই দুপুরগুলো সবসময় এরকমই হয়, সর্বত্র।’ এমনই এক দুপুরে বুবলি এসেছে একটা একতলা বাড়িতে। প্রথমবারের মতো এরকম প্যান্ট-শার্ট পরা মেয়েমানুষ দেখে তৌহিদ চমকে ওঠে। এরপর গল্পে যখন দাদু চরিত্রটির আগমন ঘটে তার বয়ানে পাঠক আমি চমকে উঠি, ‘শেখের ব্যাটারে সময় দিবি না? এতো সহজ হক্কলতা?’ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড নিয়ে ভিন্ন একটা আবহে লেখা এই গল্পটি এই গ্রন্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ গল্প।

পরিশেষে প্রার্থনা করি গল্পকার রুমা মোদকের কলম আরও শাণিত হোক। সেই সাথে তার গভীর জীবনবোধ এবং অন্তর্ভেদী দৃষ্টি ক্রমশ তাকে বাংলা সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ গল্পকার করে তুলুক।



লেখক পরিচিতি:
সাদিয়া সুলতানা 
গল্পকার। প্রাবন্ধিক।
বাংলাদেশে থাকেন।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন