বুধবার, ৩ জুন, ২০২০

গৌতম মিত্রের জার্নাল : পাঠের মর্ম

একেকটা বই বাঁচিয়ে দেয়।চাকরি সূত্রে বদলি হয়ে যখন তিনবছরের জন্য রাজস্থান গেলাম অনেক বইয়ের সঙ্গে এদুয়ার্দো গালিয়ানোর 'মিররস্' বইটাও ছিল।অতঃপর আমার আগামী তিনবছরের সঙ্গী হয়ে উঠবে এই বইটি।

টানা পড়া নয়, হয়তো বাসে বা ট্রেন কোথাও যাচ্ছি বা কোনও কারণে বিষণ্ন, বইটা খুলে বসলাম।কিংবা ঘুমোতে যাবার আগে কয়েক পৃষ্ঠা।এইভাবে পড়ার বই-ই এটি।টানা পড়া নয়।কোনও ফুটনোট নেই, রেফারেন্স নেই, বিবলিওগ্রাফি নেই, প্রায় ১০০০টি টুকরো টুকরো সন্দর্ভে পৃথিবীর আড়াই হাজার বছরের অল্টারনেটিভ হিস্ট্রি।

যেকোনও পৃষ্ঠা থেকে পড়া যায় বইটি।আসলে আয়নার ধর্ম পাঠকের ধর্ম।প্রতিফলিত হওয়া।বইটি আমার তোমার ও আমাদের তোমাদের।ক্ষমতা যাদের হাতে তারা ইতিহাস লেখে, এখানে যারা ইতিহাস লিখছে বা যাদের ইতিহাস লেখা হচ্ছে কেউই ক্ষমতাবান নয়।

কেমন সেই ইতিহাস? যেমন একটি এন্ট্রিতে লেখা হচ্ছে, হ্যাম নামের যে শিম্পাঞ্জিটি প্রথম মহাকাশে গিয়েছিল, সে বাকি জীবনটা চিড়িয়াখানার একটি খাঁচায় অতিবাহিত করেছে। 'stalactites'-এর কোনও অন্ধকার গুহার ওপর থেকে ঝুলতে ঝুলতে বৃদ্ধি হয় আর 'stalagmites' এর বৃদ্ধি হয় ফ্লোর থেকে ছাদের দিকে।লক্ষ লক্ষ বছর চলে যায়, তাদের আর পরস্পরকে স্পর্শ করা হয় না!আসলে তাদের কোনও তাড়াও নেই।

এমন সব মন কেমন করা, মন উদাস করা ও বারবার ফিরে পড়বার মতো গল্প। কাকে বাদ দিয়ে কার কথাই বা বলি।এই বই পড়তে পড়তে অনন্তে পায়।মানুষের জীবন, ঠিকঠাক বলতে হলে, সাধারণ মানুষের জীবনে কত বৈচিত্র্য ও ছটা।যখন ইরাক ইরাক ছিল না, প্রথম অক্ষরের জন্মভূমি ছিল, কী লেখা হয়েছিল সেই অক্ষরে :

We are dust and nothing
All that we do is no more than wind.

সাফোকে কুৎসিত বানিয়েছে পুরুষ।কিছুই প্রায় জানা যায় না, তবু বানিয়ে বানিয়ে বলেছে, কালো ও বেঁটে। সাফোর অপরাধ ছিল সে মহিলাদের ভালোবাসত।১৭০৩-এ ক্যাথোলিক চার্চ সাফোর সব কবিতা পোড়াতে নির্দেশ দেয়।ভাগ্যিস সামান্য কিছু কবিতা পোড়ানো যায়নি।

৩০ তলা থেকে পড়ে গিয়ে যে মহিলা বেঁচে গেল তার সাক্ষাৎকার আছে।গিলোটিন নিয়ে লখা হচ্ছে, 'A tall doorway without a door, an empty frame.At the top, poised, the deadly blade.' শেষ গিলোটিন ব্যবহৃত হয় ১৯৭৭!ইকবালকে ৪ বছর বয়সে তার বাবা বিক্রি করে দিয়েছিল।পরবর্তী কালে সে পাকিস্তানের শিশু দাস প্রথার বিরুদ্ধে প্রধান স্পোকসম্যান।

এমনই সব সাধারণ মানুষের ইতিহাস।বেটোফেন তো সাধারণ মানুষই।সাধারণ বলেই তাঁরা অসাধারণ।যখন তাঁর নাইনথ সিম্ফনির শিলারের নামানুসারে 'Ode to Freedom' বদলে সেন্সরবোর্ড 'Ode to Joy' করল, বিটোফেন প্রতিবাদস্বরূপ ভরা হলে এমন বাজালেন যে, ''Ode' became a hymn to the joy of freedom'।ভ্যান গখের কাকা ও ভাই আর্ট ডিলার হওয়া সত্বেও জীবিতকালে একটি ছবিও বিক্রি হয়নি।শুধু একজন বন্ধুর বোন দয়া বশবর্তী হয়ে ৪০০ ফ্রাঁতে 'The Red Vineyard' ছবিটি কিনেছিল।আজ তাঁর ছবির জয়জয়কার, শুধু মানুষটা নেই।কাফকা ডেথ বেডে শুয়ে তাঁর ডাক্তারকে বলেছিলেন, আমাকে মেরে ফেলুন অন্যথায় আপনি খুনি হবেন।

বইটা শেষ হচ্ছে ওরিনিকো উপত্যকার মানুষের কথা দিয়ে।কারও মৃত্যু হলে ওরিনিকোর মানুষেরা মৃত মানুষের ছাই সুপ বানিয়ে পান করে।যে নাম ঘুরে বেড়াত, বাসনা বইত ও কথা বলত অতঃপর সে নাম আর উচ্চারিত হত না।ওরিনিকোদের বিশ্বাস সেই মানুষ এবার অন্য নামে চিহ্নিত হবে। আবার অন্য ভ্রমণ, অন্য বাসনা ও অন্য গল্প।

এই বই পড়া হয়তো একদিন শেষ হবে।ততদিনে অন্য গল্প, অন্য ভ্রমণ ও অন্য বাসনা হয়তো অন্য কোনও 'মিররস্' লিখবে।

উরুগুয়ের লেখক গালিয়ানো খুব জনপ্রিয় লেখক।তাঁর অনেক বই বাংলাতে অনুবাদ হয়েছে।ইস্! এই বইটা যে কেন হয় না!

নীচে বইটি ও বইটির ভেতর থেকে যাওয়া আমার ভ্রমণ ইতিহাস।



রবীন্দ্রনাথের গল্প : ল্যাবরেটরি নিয়ে কয়েকটি কথা
-------------------------------------------------------------
কোনও রিসার্চের লক্ষে নয়, কোনও প্রশ্নপত্র লিখবার তাগিদে নয় বা আগের কোনও লেখার সঙ্গে তুলনামূলক আলোচনার জন্যও নয়।সম্পূর্ণ বিনা কারণে, জাস্ট নিছক কৌতুহলে বা পাঠের আনন্দের জন্য যখন কোনও লেখার কাছে যাওয়া হয়, তখন তাতে প্রিজমের বিচ্ছুরণ জাগে।

আমি আজ সকালে রবীন্দ্রনাথের 'ল্যাবরেটরি' গল্পটা নিয়ে বসেছিলাম।অত্যন্ত নিরেট ও গাবদা একটা টেলিফিল্ম দেখবার পর মনে হল আমার বহু আগে পড়া 'ল্যাবরেটরি' গল্পটা কী আসলেই এই।তাতে মিল বা অমিল কোথায় সে খোঁজ মুলতুবি রেখে আমি আবার গল্পটির প্রেমে মজলাম।

গল্পটি অতি সাধারণ।ব্রিলিয়ান্ট নন্দকিশোর সারাজীবনের উপার্জিত অর্থ ব্যয় করে দেশে বিজ্ঞান সাধনার জন্য একটি ল্যাবরেটরি গড়ে তোলে। তার এই সাধনার পথে সঙ্গী হয় পঞ্জাবের মেয়ে সোহিনী।প্রৌঢ় নন্দকিশোর মারা গেলে ল্যাবরেটরির দায়িত্ব বর্তায় সোহিনীর ওপর।সোহিনীর এক মেয়ে হয়।নীলিমা বা নীলা।

ল্যাবরেটরির দায়িত্ব নিতে পারে তার জন্য নন্দকিশোরের পুরনো বন্ধু ও অধ্যাপক চৌধুরীমশাই রেবতী নামের একজন মেধাবী ছাত্রকে জোগাড় করে।নীলার স্বেচ্ছাচারী স্বভাব, তার সম্পত্তির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন, রেবতী ও নীলার বিবাহ প্রস্তাব এবং সর্বোপরি মা-মেয়ের দ্বন্দ্বের মধ্যে দিয়ে গল্প শেষ হয়।

আমার চোখ অন্যদিকে ছিল।জীবনানন্দ পড়া চোখ।কথার খাদ, বাঁক ও আড়চোখ খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম। প্রথম ধাক্কা।সোহিনী প্রথম পরিচয়ে নন্দকিশোরকে বলছে, তোমাকে দুবেলা দেখে তাজ্জব লেগে গেছে। উত্তরে নন্দকিশোর বলছে, এখানে তোমাদের চিড়িয়াখানা নেই নাকি।এবার সোহিনীর উত্তরটি কিন্তু মারাত্মক:

চিড়িয়াখানার কোনো দরকার নেই।যাদের ভিতরে রাখবার, বাইরে সব ছাড়া আছে।আমি তাই মানুষ খুঁজছি।

রবীন্দ্রনাথও তবে মৃত্যুর একবছর আগে টের পেয়েছিলেন মানুষ আসলে পশু।মানুষের মুখোশে পশুরা সব ঘুরে বেড়ায়।কখনও কখনও আসল মানুষের দেখা মেলে।এ সঙ্কট তো দস্তয়েভস্কি, কাফকা ও জীবনানন্দের ছিল।রবীন্দ্রনাথেরও তবে ছিল।

আরও ভয়ঙ্কর কথাটি সোহিনী-ই বলে।বলে, আমার জন্মস্থানে শয়তানের দৃষ্টি আছে, জগতে সব চেয়ে বড়ো নাম শয়তানের, যে নিন্দে করে করুক, শয়তান খুব খাঁটি।আমাদের নিটশের কথা মনে পড়ে যায়, 'সাবধান থাকুন, অন্যথায় আপনার ভেতরের শয়তানকে তাড়িয়ে দেওয়ার পথে আপনি নিজের মধ্যে সবচেয়ে ভাল জিনিসকে হারিয়ে ফেলবেন'।

শয়তান খুব খাঁটি --- এই বোধ যাঁর 'পায়ে চলা পথ'-এর সঙ্গী তিনি সমসাময়িক ও চিরকালের। পৃথিবীর সাহিত্যের ইতিহাসে বারবার এই শয়তান জিতে গেছে।সভ্যতাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে।রবীন্দ্রনাথের সোহিনীও তাই।শয়তান হয়েও একটা সম্পর্ককে শেষ অবধি বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছে।

আরও আছে।নন্দকিশোর জানত, নীলা তার মেয়ে নয়।এমনকি তাদের বিয়েটাও 'খুব বেশি মাত্রার নয়'! ভাবা যায় ১৯৪০-এ লিভ টুগেদার! এখনও আমরা টেস্ট টিউব বেবি বা স্যারোগেট মাদার নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত আর রবীন্দ্রনাথের নায়ক স্ত্রীর দেহের খিদের একটা বাস্তবসম্মত বন্দোবস্ত করে ফেলল।নন্দকিশোর প্রকৃত জ্ঞানী।সে জ্ঞান মানুষকে শুধু বইমুখী করে না, জীবনের পথে চলতে শেখায়।সে নিজে স্ত্রীর দেহের খিদে মেটাতে পারে না বলে পুরুষতান্ত্রিক বিধিনিষেধ তার ওপর চাপাবে কেন।স্ত্রী কেন তার পছন্দের সঙ্গী বেছে নেবে না।এটা খুব স্পষ্ট গল্পে।সেহিনী খুব অকপট নিজের কাছে, 'আমার কাছে যা পাবার তা তিনি সম্পূর্ণ পেয়েছেন, আজও পাবেন তা, আর কিছু তিনি গ্রাহ্য করেননি'।

তারমানে 'পাওয়া' মানে স্ত্রীকে সম্পত্তি ভেবে শুধু শরীরটুকু পাওয়া নয়।শরীরের বাইরেও একটা পদার্থ থাকে।সেটার মিলমিশও খুব বড়ো কথা।একটা কথা সোহিনী আগাগোড়া বলে যায়, সে কোনওদিন নন্দকিশোরকে ঠকায়নি।

এই হলেন রবীন্দ্রনাথ। অকপট, নির্ভুল ও লক্ষভেদী।আমাদের জীবনানন্দ দাশের 'ছায়ানট' গল্পের কথা মনে পড়ে।সেখানেও তো নায়ক নায়িকা রেবাকে বিয়ে করেনি।একসঙ্গে থাকে।সেখানেও তো নায়কের যৌনসামর্থ বিষয়ে সন্দেহ হয়।কেননা নায়ককে পাশে রেখেই কোনও লুকোচুরি না করে রেবা সেখানে অন্য পুরুষের সঙ্গে যৌন মিলনে উদ্যত হয়।ইঙ্গিত খুব স্পষ্ট :

রেবা বললে, 'ঘুমিয়ে পড়েছে।'
মিনিটখানেক সব চুপচাপ।
তারপর চুমোর শব্দ...
দু'জনে উসখুস করছে।
শেষে সব চুপ।
অন্ধকারে একা ঘরটা ঠাণ্ডা মেরে গেছে।
কী বীভৎস না সুন্দর!
বুঝে উঠতে পারছি না!

ভাবতে খুব অবাক লাগে ৯ বছরের ব্যবধানে লেখা দু'টি গল্প, জীবনানন্দ ১৯৩১ ও রবীন্দ্রনাথ ১৯৪০, কী আশ্চর্য মিল!সব থেকে বড়ো কথা, তথাকথিত নারীমুক্তি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত না হয়েও, গোপনে নারীমুক্তির মাইন বিস্ফোরকটি বিছিয়ে রাখা যায়।রেবা ও সোহিনী কোনও বিচ্ছিন্ন অস্তিত্ব নয়, বাংলার চিরপ্রবাহী মানবচেতনার অংশীদার।

শরীর আমার নিজস্ব অর্জন।শরীর কোনও হানাদার বা দখলদারির স্থান নয়।আমার মর্জি আমি কার সঙ্গে আমার শরীর শেয়ার করব বা করব না।সব থেকে বড়ো কথা তার সঙ্গে নৈতিকতা, শুচিতা বা সংস্কৃতির কোনও সম্পর্ক নেই।সব সমস্যার শুরু ক্ষমতা থেকে।আমি শরীর নিয়ে নৈতিকতা করব, আমি শরীরের ধর্ম লিখব, আমি শরীর রাজনীতি করব এবং তা তোমার শরীর নিয়ে।কারণ ক্ষমতা আমার হাতে।এর জন্য ফুকো না পড়লেও হয়।

কী আশ্চর্য দু'জন ভাবুক আলাদা ভাবে এই নিয়ে ভেবেছেন।যে শিখরে এই ২০২০-তেও আমরা পৌঁছাতে পারিনি কী অনায়াসে এই দু'জন পতাকা উড়িয়ে এসেছেন।

আসলে টেক্সট। টেক্সট-ই শেষ কথা বলে।তারপর দু' চোখ ভরে শুধু দেখা:

লিখনে কী ঘটে!


কাফকার 'জুরাউ অ্যাফরিজম্'
--------------------------------------------------------------
দু'জন প্রিয় মানুষ যখন কোনও একটি বইয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে তখন বুঝি সেই বইয়ের প্রতি বেশি টান হয়!একজন প্রত্যক্ষ ও অন্যজন পরোক্ষভাবে।

দেবতোষ মিত্র আমার বন্ধু।খুব কাছের বন্ধু।দিনে ক'বার কথা হল, দেখা হল বা আড্ডা হল তা বড়ো কথা নয়।আমি দেবতোষের ভাবনা, পড়া ও কাজকর্মকে অনুসরণ করি।সে লিখবে কি লিখবে না বা বই প্রকাশ করবে কি করবে না সেটা বড়ো কথা নয় আমার কাছে।আমি দেবতোষের বই নির্বাচনকে ভরসা করি, ওর পড়ুয়া সত্তাকে শ্রদ্ধা করি ও অনন্ত জ্ঞান পিপাসাকে কুর্নিশ করি।

আরেকজন আছেন।রবের্তো ক্যালাসো।দিলীপ(ঘোষ)দার থেকে যখন প্রথম নাম শুনি, তারপর একে একে তাঁর বইগুলো পড়ি আর সত্যি কথা বলতে কি ফিদা হয়ে যাই।একটা ঘোর লেগে যায়।বলছি না ইতালির এই লেখক খুব বড়ো মাপের কোনও লেখক, কিন্তু বিষয় বৈচিত্র ও আন্তরিকতা স্পর্শ করে।জয়পুর লিটারারি ফেস্টিভ্যালে ক্যালাসোকে দেখে পাগল পাগল অবস্থা।তাঁর সঙ্গে কথা বলে, কথা শুনে, বইতে তাঁর সই নিয়ে( সই সংগ্রহ আমার স্বভাববিরুদ্ধ, জীবনে দু'জন লেখকের সই নিয়েছি, ক্যালাসো ও কোয়েটজি) যেন থিতু হলাম।তিনি শতপথ ব্রাহ্মণ নিয়ে বলছিলেন।মনে হচ্ছিল কোনও সংস্কৃতের পণ্ডিত বলছেন।পরে ক্যালাসোকে কলকাতাতেও দেখেছি।

তো আমি যেই বইটির কথা বলছি সেটি ফ্রানজ্ কাফকার 'জুরাউ অ্যাফরিজম্'!ক্যালাসো কাফকার পাণ্ডলিপি থেকে আলাদা ভাবে বইটি পুনঃপ্রকাশ করেছেন।প্রতিটি পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় তাঁর বৈদগ্ধ, গবেষণা ও মরমি ছোঁয়া।

কাফকা যখন ১৯১৭-তে ৩৪ বছর বয়স।কাশির সঙ্গে রক্ত।ফুসফুসে যক্ষা ধরা পড়ল।তিনমাসের ছুটি নিয়ে বোন ওটিলির কাছে জুরাউতে গেলেন।মোট আটমাস ছিলেন জুরাউতে।ডায়েরিতে লিখছেন, যে সুযোগ তুমি পেয়েছ তা নষ্ট করো না।না নষ্ট করেননি।১০৩ টি পাতলা পেঁয়াজের খোসার মতো রঙের কাগজে তিনি ক্রমিক সংখ্যা দিয়ে লিখে রাখলেন তাঁর অনুভূতিমালা।এগুলোই জুরাউ অ্যাফরিজম্।

দেবতোষ মরম মমতায় ক্যালাসোর বইটির সাহায্য নিয়ে একটি একটি করে খোসা ছাড়িয়েছেন কাফকার ভাবনার।অনুবাদ করেছেন প্রতিটি অ্যাফরিজম্।আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি সেই জার্নির সততা ও নিষ্ঠা।কেমন সেই অনুবাদ?

কয়েকটি তুলে দিলাম।পাঠক বিচার করুন।

মানুষের যাবতীয় ভুল উৎসারিত অধীরতা থেকে।
এমন একটি বিন্দু হয়, যার পরে আর ফিরে দাঁড়ানো যায় না।পৌঁছতে হয় এই বিন্দুতেই।
শরতের কোনও পথের মতন: যেই না পরিষ্কার হল অমনি ভরে গেল ঝরা পাতায়।
চললো খাঁচা পাখির খোঁজে।
তোমার সত্যিকারের বিপক্ষ যে, তার থেকেই তোমাতে ভেসে আসে অসীম সাহস।
আমরা যা পথ বলে ভাবি, তা আসলে দ্বিধা।
অনন্তের পথ এতই সহজ, বিস্মিত হল মানুষটি।
মানুষের সঙ্গে আদান-প্রদান, ঘটায় আত্মনিরীক্ষা।

এইভাবে বই ও মানুষ, সময় ও চেতনা, স্পেস ও সত্তা কেমন জড়িয়ে জড়িয়ে যায়।আমার প্রতিটি একলা বই দোকলা হওয়ার ব্যক্তিগত ইতিহাস রচনা করে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন