বইমেলা : নাহার তৃণার বইপত্র

 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মোট ১৭টি গল্প সহজ-সরল ভাষায় শিশুদের উপযোগী করে অনুবাদ করেছেন নাহার তৃণা। অনুবাদক হিসেবে ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য আসন অর্জন করেছেন তিনি। চীন, জাপান, আমেরিকা, আফ্রিকা, জার্মান, ইউক্রেন ও স্পেনের মোট ১৭টি অনূদিত গল্প আছে বইটিতে। গল্পগুলো বাছাইয়ের মধ্য দিয়েও অনুবাদক সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন।

শিশু-মনস্তত্ত্বের উপযোগী প্রতিটি গল্প পড়তে পড়তে শিশুরা সহজেই এগিয়ে যেতে পারবে। কেবল আনন্দ-বিনোদন নয়, শিশুদের পুরো মনোজগৎ দখল করতে পারবে গল্পের আখ্যান।

এসব কাহিনি পাঠে শিশুর মন আলোকিত হয়ে উঠবে, দরদি কিংবা মানবিক হয়ে উঠবে বলেই বিশ্বাস। লোভ-লালসার পেছনে না-ছুটে তারা তখন বুদ্ধি খাটানোর প্রয়োজনীয় কৌশল পেয়ে যাবে, মনে হয়েছে আমার।

গল্পগুলোর শিক্ষণীয় দিক যথাযথভাবে কাহিনির মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে। আরোপিত উপদেশ হিসেবে নয়, গল্প-বুননের মুনশিয়ানা যেমন লেখকদের শক্তিমত্তাকে পাঠকের সামনে উপস্থাপন করে, একইভাবে সাবলীল অনুবাদের কারণে গল্পের মোরাল বা আদর্শকথা বাংলা ভাষাভাষী খুদে পাঠকদের অন্তর অন্য আলোয় ভরে দেবে নিশ্চিত।

--মোহিত কামাল
 

উল্লেখ্য ‘ভিনদেশি গপ্পো’ চলন্তিকা পান্ডুলিপি পুরস্কারপ্রাপ্ত বই হিসেবে প্রকাশিত।


ভিনদেশি গপ্পো
প্রকাশক: চলন্তিকা, ঢাকা
প্রচ্ছদ শিল্পী: মলি আহমেদ
প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
বইমেলার স্টল নং- ২০৩-২০৪

-----------------------------------------------------------


নাহার তৃণার বইটি ১১ টি গল্প নিয়ে সজ্জ্বিত। দুঃখ আনন্দ বেদনার তীব্র কোলাজ।

নওয়াবালি এক অমল ধবল মানবিক প্রান্তিক মানুষ। তার ভাবনার প্রতিরূপ গোবেচারা যাপিত জীবনের ছিন্ন ছায়া কেঁপে কেঁপে ওঠে এই গল্পের বিশিষ্ট বুননে। বেকার বেহদ্দ নওয়াব অবশেষে শ্রীময়ী দেশি শাড়ি হাউজে জীবিকার নোঙ্গর ফেলে।চারদিকে সাম্প্রদায়িকতার দমবন্ধ দশা।প্ল্যস্টিকের ম্যানিকুইন্টাকে রোজদিন সাজাতে সাজাতে আকাশ পাতাল ভাবে সে।' পানি কিংবা জল যে নামেই ডাকা হোক, সবার জন্যে তার কাজের ধারা সমান।'

শোনা যায়, 'লাগিছে লাগিছে নামাজের ওয়াক্তে কীর্তন গাবার জন্যি কুন্দল লাগিছে।...খুন খারাবির যোগ আছে কয়ে দিলাম।' অজগর সাপের মতো ফসফস করে ধেয়ে আসে মিছিল। নওয়াবালি দোকানের সাটার চটজলদি সেঁটে দৌড়ায়।... এই দৌড়ের বুঝি সঠিক গন্তব্য থাকে না। থাকে কি? ভাষা যুৎসই,ঝরঝরে, প্রাণতোষিণী। গল্পের মর্মমূলে গড়পড়তা যাপনের স্বচ্ছ চিত্র প্রস্ফুট।

আঁধারে গাঢ় নিরুদ্দেশে গল্পে মুকুন্দপুরের নিস্তরঙ্গ বাতাসে তোলপাড়। সাড়ে ষোলমাস আগে পাকুড় গাছের গোড়ায় পুকুর ঘাটলায় ধাই ধাই করে গড়ে উঠেছে পোক্ত চাতাল।চেয়ারম্যান, তার অবধারিত ষন্ডা পান্ডার খবরদারিতে তল্লাটে আমজনতা ঘেঁষতে পারে না। অবোধ জনতা জানে না তার সুলুকসন্ধান। পেটের ধান্দায় এ বিষয়ে কোন সুরাহা না পাওয়ারই কথা। শেরালি, সতীবালা নিখোঁজ। কঙ্কাল মিলেছে শেরালির। সন্তানহারা রহিম শেখ, ইন্দুবালার শোক খুব কী ওজনদার! খুব কী জরুরী? পোনা ছাড়ার আগাম প্রস্তুতি পর্বে জালে উঠলো কঙ্কাল।পুলিশ নজরদারি, ভিড়ভাট্টা।নাহার লিখছেন,' দেহিস হাড়হাড্ডি আস্ত থাকে যেন।' শিরালির রূপার চেনের আল্লাহু লেখা লকেটটি দৃশ্যমান গাছের ডালে। সতীবালা কোথায়? তার হাড়গোড়ের হসিদ মেলে না। অতঃপর দৃষ্ট হয় মেয়েটির নাকের নকল হিরের নাকছাবি গাছের খোড়লে। 'রোদের ছটা তেরছা হয়ে নেমে আসে চাতালটায়।..নকল হীরে বসানো একটা নাকছাবি সেই আলোর টানে ঝকমকিয়ে ওঠে'। অদৃশ্য সেই হাত! পুতুল নাচের রশিটি ধরে রাখে পোক্ত হাতে।যথার্থ বাক্যবুননে সেই দূরাভাস এই গল্পে।

অন্ধসময় এবং একজন আহাদ সাহেবের গল্প। দারুণ নিয়তির সাথে বসবাস আহাদ সাহেবের। সাপলুডু খেলা জমে ওঠে। দানাদার রহস্যময়তা আবছা কুয়াশায় হেঁটে হেঁটে পাঠক অতঃপর এক বিস্ময়কর সিদ্ধান্তে উপনীত হয়।কৌশলি আখ্যান টেনে নিয়ে গেছে পাঠককে।

আবু তৈয়ব অথবা গাছবৃত্তান্ত। গাছপাগল এক মানুষের মূল্য ভবসংসারে অধুনা আর মেলে না। যে মানুষ নিজ বিবেচনায় গাছের বাকলে বিদ্ধ মরণ ছোবল তারকাঁটা উপড়ায়।অবশেষে তাকেই উপড়িয়ে ফেলে ধান্দাবাজ নরাধমের দল।আবু তৈয়ব তবে প্রাচীন বৃক্ষের মৃত রূপে রয়ে যায় দূষিত দুনিয়ায়!

পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখার কুশলতাসম্পন্ন গ্রন্থের বেশ কয়েকটি অসাধারণ গল্প। শুভকামনা নাহার তৃণা।

--দিলারা মেসবাহ


নো ওয়ান কিল্ড জেসিকা ও অন্যান্য গল্প
প্রকাশক: জলধি
প্রচ্ছদ শিল্পী: রাজীব দত্ত
প্রকাশকাল: নভেম্বর, ২০২২
বইমেলার স্টল নং- ৩৪৮

---------------------------------------------------


‘দূরদেশের গল্প’ ১৬টি অনূদিত ছোটো গল্পের সংকলন।

সময়ের পরিক্রমায় ছোটগল্প বিভিন্ন দেশে ও ভাষায় বিভিন্ন রূপে নিজেকে তুলে ধরেছে পাঠকের সামনে। কেমন সেই সম্প্রসারিত ও বৈচিত্র্যময় চেহারা? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আপাতভাবে অসম্ভব। কিন্তু আমরা কতগুলো গল্প পড়ে নিজের মতো করে অনুধাবন করতে পারি। সেই কাজটিই করবে নাহার তৃণা অনূদিত গল্পসংকলন ‘দূর দেশের গল্প’। বিভিন্ন সময় ও ভাষাভাষী গল্প নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অনুবাদক ছোটগল্পের বিচিত্র রূপ উন্মোচন করেছেন। উনিশ শতকের প্রথম সারির রুশ লেখক মিখাইল ইয়েভগ্রাফোভিচ সালটিকভ শ্চড্রিনের গল্প দিয়ে বইটি শুরু হয়েছে। শ্চড্রিন তাঁর স্যাটায়ার সাহিত্যের জন্য বিখ্যাত। এই গল্পেও সেই স্বাক্ষর পাবেন পাঠকেরা। উনিশ শতকের শেষ দিকের অন্যতম প্রভাবশালী মার্কিন গল্পকার ও হেনরির গল্প আছে। বিংশ শতকের শুরুর দিকের অন্যতম প্রধান কানাডীয় লেখক স্টিফেন বাটলার লীকক।

পাঞ্জাবি ভাষার অন্যতম প্রধান সাহিত্যিক নানক সিং। পাঞ্জাবি সাহিত্য এই উপমহাদেশের শক্তিশালী সাহিত্য কিন্তু আমরা এ সম্পর্কে খুব কমই জানি। নানক সিংয়ের মাধ্যমেও আমরা কিছুটা ধারণা পাবো। বিংশ শতক ছোটগল্পের সবচেয়ে সমৃদ্ধ শতক। এই শতকের অন্যতম প্রভাবশালী লেখক যুক্তরাষ্ট্রের রোয়াল্ড ডাল ও আফ্রিকার সাহিত্যের পুরোধা লেখক চিনুয়া আচেবে। এই দুজনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ গল্পও এখানে অনূদিত হয়ে সংকলিত হয়েছে।

সমকালীন বিশ্বসাহিত্যে অতি উল্লেখযোগ্য নাম চিমামান্দা নগুজি আদিচি। তিনি ডায়াসপরিক প্রেক্ষাপট থেকে বর্তমানে নাইজেরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করছেন। বেন ওকরিও তাই। অনুরূপভাবে ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করছেন ভারতীয় ডায়াসপোরিক লেখক ঝুম্পা লাহিড়ি। গ্যাব্রিয়েলা ঘেরমান্ডিও দুই সংস্কৃতির লেখক— ইথিওপিয়ার এই লেখক ও শিল্পী থাকছেন ইতালিতে। দুই সংস্কৃতির ধারক এই লেখকেরা নতুন ধরনের গল্প লিখেছেন, তাঁদের সাহিত্যের ভাষা ও বিষয়বস্তু জাতিগত সীমানা অতিক্রম করে গেছে। সে কারণে তাঁদের পাঠ ছাড়া উত্তরাধুনিক ছোটগল্পের পাঠ প্রায় অসম্ভবত। নাহার তৃণার এই নির্বাচন আমাদের বুঝিয়ে দেয়, তিনি এ বিষয়েও সচেতন আছেন।

পোলিশ লেখক ওলগা তোকারচুক দুহাজার আঠারোতে সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন। তাঁর একটি গল্প পাঠের সুযোগ পাচ্ছেন পাঠক। অতি সম্প্রতি(২০২১) সাহিত্যের সর্বোচ্চ পুরস্কার নোবেল পেয়েছেন যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী তাঞ্জানীয় ঔপন্যাসিক আবদুলরাজাক গুরনাহ। তাঁরও একটি গল্প এই সংকলনে আছে। পাঠক গল্পটি পড়ে আনন্দ পাবেন আশা রাখি। এছাড়াও যাদের গল্প থাকছে তাঁরা হলেন: আর্জেন্টিনার লেখক পেদ্রো মায়রাল যিনি লাতিন সাহিত্যে সমকালীন লেখকদের প্রতিনিধিত্ব করছেন, মিশরীয় সাহিত্যে তেজস্বী কণ্ঠ হিসেবে পরিচিতি লেখক নাওয়াল আল সাদাব—আপোসহীন নারীবাদের কারণে তাঁকে আরববিশ্বে ‘সিমন দ্য বোভোয়া’নামে ডাকা হয়ে থাকে এবং একই প্রজন্মের আইরিশ লেখক এ্যানি টেরেসা এনরাইট। এ্যানি ২০০৭ সালে “দ্য গ্যাদারিং”উপন্যাসটির জন্য বুকার পুরস্কার লাভ করেন। একইসঙ্গে ম্যান বুকার ইন্টারনেশন্যাল প্রাইজজয়ী ইন্দোনেশীয় লেখক একা কুরনি য়াওয়ানেরও গল্প সংকলনভুক্ত হয়েছে। এই দেশটি সম্পর্কে আমাদের পাঠ একেবারে নেই বললেই চলে।

নাহার তৃণাকে আমি সাহিত্যের পাঠক অনুবাদকর্মী হিসেবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। অনুবাদ ভীষণ শ্রমসাধ্য কাজ, স্বপ্রণোদিত হয়ে তিনি এই বন্ধুর পথে হেঁটে যাচ্ছেন। তাঁর অনুবাদের মান নিয়ে পাঠকের মনে প্রশ্ন থাকতে পারে। আমি বেশ কয়েকটি গল্প মূলের সঙ্গে মিলিয়ে পাঠ করেছি। তিনি গল্পের কোনো অংশ ছেগে যাননি। সুকৌশলে একইসঙ্গে মূলানুগও সৃজনশীল হওয়ার চেষ্টা করেছেন। বিভিন্ন সংস্কৃতি ও সময়ের লেখকদের অনুবাদ করা বেশ কঠিন একটি কাজ। অনুবাদে মূলের সাংস্কৃতিক বোধের জায়গাটিও অক্ষুণ্ন আছে। কোথাও কোথাও তিনি লক্ষ্য ভাষার পাঠকদের প্রতি সুবিচার করার জন্য কিঞ্চিৎ সরে এসেছেন যা একজন প্রকৃত অনুবাদকের কাজও বটে। তাঁর মূলানুগ থাকা এবং প্রয়োজনে সরে আসার বিষয়টি বোঝানোর জন্য একটি গল্পের মূল ও অনূদিত অংশ তুলে দিচ্ছি:

আব্দুলরাজাক গুরনাহ'র' My Mother Lived on a Farm in Africa' গল্পের একটি অংশ: ‘Munah wanted to rush in there and tell them that it wasn't like that. It was nothing like that. But she heard someone snigger just a second after Kadi spoke, and that made her hesitate and retreat. It was Amy, she thought, giggling with surprise or pleasure. Did your mum really!? Perhaps Kadi's remark was nothing more than a boastful exchange between adolescent friends.’

নাহার তৃণার অনুবাদে: ’শোনামাত্র মুনাহ (কাদির মা) ছুটে গিয়ে বলতে চেয়েছিলেন এটা মোটেও সেরকম কোনো ব্যাপার ছিল না। যেভাবে বলছো আসলে তেমন কিছুই নয়। কিন্তু কাদির কথা শেষ না হতেই তাদের কেউ একজন খিক করে করে হেসে দিয়েছিল। সেটা শুনেই তিনি পিছু হটে আসেন। নিশ্চয়ই এমির গলা ওটা, সে হয়তো বিস্ময়ে কিংবা খুশিতে ওরকম হেসে দিয়েছে। এমি বললো- ‘বলিস কি রে, তোর মায়েরও ওরকম একটা খামারবাড়ি ছিল?’ কাদির ওই মন্তব্য ছিল নেহায়েত বাচ্চাসুলভ চাপাবাজি।’

নাহার তৃণা নিজেও গল্পকার, ফলে এভাবে তাঁর সৃজনশীল সত্তার পরিচয়ও আমরা পাবো এই অনূদিত সংকলনে। আশা করি গল্পপ্রেমী পাঠক ও লেখকেরা বইটির পাঠাস্বাদন করে আপ্লুত হবেন।

--মোজাফ্‌ফর হোসেন



দূর দেশের গল্প
প্রকাশক: চৈতন্য
প্রচ্ছদ শিল্পী: নির্ঝর নৈঃশব্দ্য
প্রকাশকাল:ফেব্রুয়ারি, ২০২২
বইমেলার স্টল নং- ৪৭-৪৮

---------------------------------------------


জনপ্রিয় ফেসবুক গ্রুপ পেন্সিলের প্রকাশনা সংস্থা পেন্সিল পাবলিকেশনস কর্তৃক ২০২০ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলার জন্য নির্বাচিত পাণ্ডুলিপিগুলোর বিভিন্ন শাখায় নবীন লেখকদের যে তিনটি পাণ্ডুলিপি সেরা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে তার মধ্যে একটি হলো গল্পকার নাহার তৃণার 'স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট।'

একটি ওয়েবজিনের কল্যাণে বইয়ের নাম গল্পটি পড়ার সুযোগ হয়েছিল আমার। মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্ন মধ্যবিত্তের ছাড় দেয়া জীবনের একঘেয়ে ছকের ভেতরেও হুট করে খুলে যায় সুখের নহর। যে নহরে ডুবসাঁতার খেলতে খেলতে মানুষ ভুলে যায় অনাগত অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা। এমনই এক চেনা জীবনের গল্প অচেনা এক ফ্রেমে বেঁধেছেন গল্পকার নাহার তৃণা।

গল্পকার নাহার তৃণা দেশের বিভিন্ন ব্লগ, ওয়েবজিন, সাহিত্যপত্রিকায় লিখছেন। তার লেখায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সামাজিক অবক্ষয়, মানুষের অন্তর্দহন-এসব মূর্ত হয়ে উঠেছে। জীবনের রংবাজিতে মানুষের যেসব গোপন ব্যাধি চাপা পড়ে যায় সেসবই লেখকের অন্তর্ভেদী দৃষ্টির কাছে ধরা পড়ে বারবার। 

গল্পকারের ভাষায়, "হরেক রঙের জীবন মানুষের। সে জীবনের ভাঁজে ভাঁজে আনন্দ কিংবা বেদনা গল্প হয়ে ঝুলে থাকে। ভেতরের একটা তাগিদ লেখিয়ে নিতে চায় জীবনের সেসব সুখ অসুখের গল্প। বাস্তবতার খাতিরে স্বপ্নালু শব্দেরা ভাঁজ খুলে একদম উদোম শরীরে উপস্হিত হতে চায় আমার লেখায়। 'দূরের দেশে শব্দ হয়, শব্দ ভেসে আসে।' দেশছাড়া আমি, দেশটাকে লেখালেখির কেন্দ্র ভেবে নানা ঘটনার হাত ধরে ভেসে আসা শব্দপাখিদের জড়ো করে গল্পের চেহারা দিতে চেষ্টা করি। এই বইতে শহুরে, গ্রামীণ কিংবা প্রবাসী জীবনের কিছু গল্প বলতে চেষ্টা করেছি। গল্পে গল্পে এসেছে সেসব কাহিনি। আমার 'স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট' বইটিতে জীবনের পাওয়া- না পাওয়া, সুখ-অসুখ, লোভ-প্রতিহিংসা ইত্যাদি মনুষ্য অনুভূতিগুলোকে বয়ানের চেষ্টা করেছি মোট পনেরোটি গল্পের মাধ্যমে। তাতে কতটা সফল হয়েছি সে বিচারের ভার পাঠকের হাতে।"

--সাদিয়া সুলতানা

স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট
প্রকাশক: পেন্সিল
প্রচ্ছদ শিল্পী: হামিম কামাল
প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি, ২০২০

-----------------------------------------------

ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, শিশুদের জন্য কিছু লেখা একটি কঠিন বিষয়। সেখানে লাল-নীল-হলুদ-সবুজ রঙগুলো সব বড্ড ঝকঝকে এবং উজ্জ্বল। কাজেই শিশুতোষ গল্পের ভুবনটা অনেক রূপের মিশেল, অনেক আলোয় ভরা।

একটি উড়ে যাওয়া ঘুড়ির পিছনে ছুটতে থাকা, কাগজের নৌকা জলে ভাসিয়ে আনন্দে হাততালি দিয়ে ওঠা, চড়ুইভাতি, কানামাছি কিংবা পুতুল খেলা, এসব দিয়ে গড়া ছিল আমাদের ছেলেবেলা। এইসাথে একঝাঁক রূপকথা আর ঈশপের গল্প। আজ যা পালটে গিয়ে আবদ্ধ হয়েছে ডিজিটাল গেমসের স্ক্রিনে। মাঠ নেই, আকাশ নেই, নদী নেই, তাহলে নিশ্বাস নিতে কোথায় যাবে ওরা! কোথায় পাবে উদ্দাম আনন্দে ভেসে যাওয়ার মতো প্রকৃতি! কাজেই ডিজিটাল স্ক্রিনে চোখ লাগিয়ে বসে থাকার জন্য ওদেরকে দোষ না দিয়ে বরং ভেবে দেখি, ওদের শৈশব, কৈশোরের স্বাভাবিক চাওয়া-পাওয়াগুলো ডিজিটাল মাধ্যমেই কিছুটা পূরণ করা যায় কিনা। যেমন ইবুকের মাধ্যমেই পৌঁছে দেয়া হোক কিছু শিশুতোষ গল্প ওদের হাতে।

এই বইয়ের গল্পগুলো বিশ্বের নানা ভাষা যেমন, স্পেন, গ্রিক, আফ্রিকা, চীনে ভাষায় লেখা হলেও, খুব সহজ করে অনুবাদ করেছেন অনুবাদক নাহার তৃণা। আশা রাখি, ছোটরাও পাবে এই ই-বই পড়ার পাঠ-আনন্দ। এও জানি, এই সাথে সাথে বড়োরাও। একডজন শিশুতোষ গল্পের ই-বইটির বহুল পাঠ কামনা করছি।


--ফেরদৌস নাহার

----------

 একডজন ভিনদেশি গপ্পো নিয়ে ক্ষুদে পাঠকের চিঠি:

আমি বই পড়তে ভালোবাসি। বইমেলা থেকে অনেক বই কিনেছি। বাবা আমাকে আরো একটি বই পড়তে দিল। বইটির নাম একডজন ভিনদেশি গল্প। এটির অনুবাদ ও সম্পাদনা করেছেন নাহার তৃণা। বইটির গল্পগুলো খুব সুন্দর ছিল। যেমন:-বাদুর আর বেজির গল্প ছিল বুদ্ধির গল্প। অ্যান্ড্রক্লস আর সিংহ ও খড় কয়লা ও মটুরশুটি গল্পদুটো খুব মজার ছিল। এরকম গল্প আরো পড়তে চাই। আমাদের জন্য আরো গল্প লিখবেন।

ইতি-
শিহান রিশাদ
৪র্থ শ্রেণী, 
ফুলকি সহজপাঠ বিদ্যালয়
চট্টগ্রাম
--------

একডজন ভিনদেশি গপ্পো
প্রকাশক: অন্বয়

প্রচ্ছদ শিল্পী: বিদেশি চিত্র অবলম্বনে গুলশান কবীর
প্রকাশকাল: ২০২০


 রকমারিসহ অন্যান্য অনলাইন বুকশপে বইগুলো পাওয়া যাবে।

১. ভিনদেশি গপ্পো

২. নো ওয়ান কিল্ড জেসিকা ও অন্যান্য গল্প

৩. দূরদেশের গল্প

৪. স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট

৫. একডজন ভিনদেশি গপ্পো



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ