একটা ঘোরের মধ্যে ঘুম ভাঙে আকাশ রহমান মিমিখের। সময় গড়ালেও ঘোর কাটে না। লেপ্টে থাকা স্বপ্নের রেশ সঙ্গে নিয়েই প্রাতঃকালীন সব কাজ ও ব্রেকফাস্ট শেষ করে বাইরে বেরিয়েই তাজ্জব হয়। একি! এত তার রাতে দেখা স্বপ্ন। স্বপ্ন কিংবা দুঃস্বপ্ন। চারপাশে তাকিয়ে বিহ্বল হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। ডানে বাঁয়ে, সামনে পেছনে দৃষ্টিসীমা যতদূর যায়- ঝাঁ চকচকে শপিংমল। সুন্দর পোশাক ও প্রসাধনীতে সুসজ্জিত নারী-পুরুষ গিজ গিজ করছে। দূর থেকেও মিমিখের নাকে আসে তাদের গায়ের মোহময় সুবাস। মৌমাছির মতো ঝাঁক বেঁধে কিনছে তারা। বিক্রেতারা সর্বোচ্চ অভিনিবেশ ঢেলে বিক্রি করছে নিজ পণ্য। ক্রেতা বিক্রেতা দু’তরফের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে যা পরিণত হয়েছে আনন্দ মেলায়। উপচে পড়ছে আনন্দ আর ছলকে পড়ছে উচ্ছ¡াস, ভোরের আলোয়। মিমিখ বুঝতে পারে না রাতের স্বপ্নটাই ফিরে এসেছে নাকি দিবাস্বপ্ন দেখছে সে! হুবহু এক, এমন কি উদ্ভট অসঙ্গতির মতো জৌলুসের বাইরে ঝিমুতে থাকা নাম গোত্রহীন কিছু মানুষ যেভাবে ম্লান মুখে জটলা পাকিয়ে ইঁতিউঁতি বসেছিল, তারাও ঠিক তেমনই আছে।
একি কাণ্ড! এমনও হতে পারে! অফিস টাইম ঘড়ির কাঁটা ছুঁই ছুঁই অথচ কোথায় গাড়ি, কোথায় ড্রাইভার! সাত সকালে বাড়ির ফটকের বাইরেৃ
হঠাৎ ওদিক থেকে একজন হাই তুলতে তুলতে এগিয়ে আসে। মিমিখ কৌতূহলী চোখে তাকায় কিন্তু চিনতে পারে না। আরো কাছে এসে ঠোঁট, কপাল, চুল ছুঁয়ে ইশারা ভাষায় কথা বলার মতো আঙুল নাড়ালে অনেক কাল আগে ভুলে যাওয়া এক ঘটনা মনে পড়ে। মূলত আগন্তুকের সরু আঙুলের ডগায় অযতেœ বাড়া নখে জমে থাকা ময়লা আর অনেক দিনের না কাটা চুল ও অপরিচ্ছন্ন পোশাকই তার স্মৃতির দরজায় কড়া নাড়ে। মিমিখ বুঝতে পারে সরু আঙুল আর নোংরা নখ তার বুকের কোথাও করুণ রাগিণী হয়ে ঘুমিয়েছিল। এই অদ্ভুতুড়ে সকালে তাতে তরঙ্গ ওঠার কারণ ঠিক বোঝে না। আগন্তুকের আঙুলের ইশারায় স্পষ্ট পরিচিতির ইঙ্গিত।
ফখরুদ্দীন! ফখরুদ্দীন!!
অজান্তেই মুখ থেকে বেরিয়ে এলে নিঃশব্দ হাসি ছড়িয়ে পড়ে আগন্তুকের ঝুলকালি মাখা অবয়বে। মাথা নেড়ে, আঙুল ঝাঁকিয়ে, গোঁ গোঁ শব্দে প্রতিক্রিয়া জানায় সে।
এই ঝাঁ চকচকে আনন্দ মেলায় আগতদের ভ্রæকুটির কথা ভুলে মিমিখ শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ফখরুদ্দীনকে।
তার এ কাণ্ডে সম্মিলিত নারী-পুরুষ অসন্তোষ ও উপেক্ষার দৃষ্টিতে একযোগে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়। সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই ওর।
ফখরুদ্দীন! ফখরুদ্দীন!!
হারানো প্রিয়জন ফিরে পাওয়া আনন্দের বিহ্বল নদীতে ভেসে যায় মিমিখ। কূল প্লাবিত থৈ থৈ নদী। দূরে তরুছায়ার আড়ালে বয়ে যাওয়া নদীতে ভেসে এসেছিল ফখরুদ্দীন, সেই কোন কালে। কোন দূরদেশ থেকে ভেসে এসেছিল সে? জানে না মিমিখ। নন্দীর বাজারের বড় বড় জাহাজের কোনো একটা বয়ে এনেছিল তাকে। নাসিরহাট বন্দরের শনি মঙ্গলের এক হাটের দিনে বাচারির এক কোনে তাকে দেখতে পায় কতিপয় হাঁটুরে। নিজের নামধাম ঠিকানা না জানা সরল বালক। তামাশাপ্রবণ লোকেরা মুহূর্তে জটলা পাকিয়ে ফেলে।
-ওই তর নাম কি?
-কইত্থন আইছস?
-কতা কস না ক্যারে
-ওই হালা নাম কি তর, বাপের নাম কি, কৃ
এত প্রশ্নেও নিরুত্তর, নির্বিকার অবয়ব জটলায় উত্তেজনা বাড়ায়।
তারপর এক সময় তার বাকশক্তিহীনতার বিষয়টি উদ্ঘাটিত হলে জনতার উত্তেজনা রূপ নেয় কৌতুকপ্রবণতায়। যেন চিড়িয়াখানার কোনো জন্তু এসে পড়েছে লোকালয়ে। অপেক্ষাকৃত অল্পবয়সিরা ভেংচি কেটে খোঁচাতে শুরু করে, বয়স্করা দাঁত কেলায়। নিরুপায় কিশোর পালাতে চাইলে দর্শক-বৃত্তে আটকে যায় বারবার।
নিস্তরঙ্গ লোকালয়ে তরঙ্গের বুদ্বুদ ওঠে। নৌবন্দরে বাণিজ্যরতরা কৌতূহল নিয়ে তাকায়। যেমন তাকিয়েছিল একটু আগে মিমিখ আর ফখরুদ্দীনের আলিঙ্গনাবদ্ধ যুগল মূর্তির দিকে। মিমিখ অবাক হয় কৌতূহল প্রকাশের অভিন্নতা দেখে। কি মিল! কি ঐক্য! মিমিখ সামনে এগোনোর জন্য পা বাড়ায় আর তাতে জড়িয়ে পড়ে যায় ফখরুদ্দীন। অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে হেসে ধুলো ঝাড়তে ঝাড়তে উঠে দাঁড়ায় সে।
-এতদিন কোথায় ছিলে ফখরুদ্দীন?
ফখরুদ্দীন কবিতার মতো ছন্দময় তার সরু আঙুলের ডগা নাচিয়ে মুখে গাঁ গোঁ শব্দ তুলে দুর্বোধ্য ভাষায় কি যে বলে! আগের মতো। আশ্চর্য লোকালয়ের ভাষা আজও রপ্ত হলো না ওর! অবাক হয় মিমিখ।
ইশারা ভাষায় আরো কিছু বলে সে। মিমিখ কি করে যেন বুঝে নেয় ওর কথা।
নাসিরহাটের সেই তাড়া খাওয়া জনতার হাত থেকে বেরিয়ে আসা ফখরুদ্দীন যা বলেছিল তার সরল তর্জমা যেমন করে নিয়েছিল সে। চেনা নেই, জানা নেই তবু কি এক দুর্দমনীয় আকুলতায় আশ্রয় চেয়েছিল মিমিখের কাছে। কিশোর মিমিখ মায়ের কাছে নিয়ে ভাত খাইয়েছিল সমবয়সি তাকে। মনে হয়েছিল বড্ড খিদে ওর। কয়েকদিনের অভুক্ত বুঝেছিল তার খাওয়া দেখে। মা স্নেহে নাম জিজ্ঞেস করলে অস্পষ্ট শব্দে- ওই ধ্বনি করছিল অনেক সময় নিয়ে। মিমিখ তার অর্থ করে নিয়েছিল ও ফখরুদ্দীন।’ স্কুলে তখন সে ফখরুদ্দীন মোবারক শাহ্র ইতিহাস পড়ছে। ফখরুদ্দীন নামে চিহ্নিত করেই ওর কিশোর কল্পনা ডানা মেলেছিল দিল্লি, মাদ্রাজ, লখনৌ অথবা অদেখা কোনো ভারতীয় নৌবন্দরে। যেখান থেকে ভেসে এসেছে সে।
ওর বহুদিনের না কাচা জামার হাই নেকে কারুকাজ আর হাতার ঝুলে মলিন হয়ে আসা এম্ব্রডারি, ছিপছিপে বলিষ্ঠ দেহ, টিকল নাক এবং কবিতার মতো সরু আঙুলের ডগায় অযতেœ বেড়ে ওঠা নখ, কোঁকড়া চুলের বেয়াড়া বাড় ইত্যাদির কোথাও যেন লুকিয়েছিল প্রচ্ছন্ন আভিজাত্যের ছাপ। সব কিছুর সম্মিলিত গড় করে কিশোর মিমিখ একটি সভ্রান্ত পারিবারিক পটভূমি কল্পনা করেছিল ওর। আদরে বেড়ে ওঠা সন্তান কোনো বিষণ্ন দুপুর কিংবা সন্ধ্যায় ভুল করে উঠে পড়েছিল দূরগামী জাহাজে। তারপর এ-ঘাট ও-ঘাট করে।
কতদিকেই না ডালপালা মেলেছিল মিমিখের কল্পনা। বৃন্তচ্যুত পাতার মতো কোথা থেকে উড়ে এলো কোথায়! মমতায় আর্দ্র হয় কচি প্রাণ।
কি ওর ভাষা ? উর্দু, হিন্দি, তামিল, মালয়লাম? মিমিখ জানে না। ফখরুদ্দীনও জানে না মিমিখ কিংবা হঠাৎ আসা এ জনপদের মানুষের ভাষা। ভাষাহীন একটি মানুষ বসন্তের ঝরা পাতার মতো পাক খেয়ে উড়েছে শুধু। যেখানে গিয়েছে, এ ওর কাছে ঠেলে দিয়েছে। কেউ গ্রহণ করেনি ওকে।
কেমন কেমন করে ফখরুদ্দীন তো ঝরা পাতাদের সঙ্গেই মিশে গিয়েছিল।
তাহলে এখানেৃ এই সকালেৃ
নাহ্। মাথাটা কি গুলিয়ে গেল!
বিরক্তিতে ঘাড় ঝাঁকিয়ে গতরাতের কথা ভাবতে চেষ্টা করে মিমিখ। উদ্ভট এ ভোরের আগে একটানা ঘুম দিয়েছে সে। ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন। তার আগে রাতের খাবার। তারও আগে বন্ধুদের সঙ্গে ঘরোয়া আড্ডা। তারাই এসেছিল যারা আসে সবসময়। তিন পেগ নেয়ার পর সফল করপোরেট ইরফান লেজ ঝোলা পাখির মতো ঠোঁট ঝাঁকিয়ে আরো একটি পুরস্কার বিক্রির অনুপুঙ্খ বর্ণনা শুরু করলে টার্কিশ ঝাড়বাতির নিচে পুরো আসর হাসির ঝলকে দুলে উঠেছিল। সাহিত্যের বাজারে তারল্যের সংজ্ঞা নিয়ে তখন নানামুখী বিশ্লেষণ। চার পেগের পর ইরফানের মেজাজ শরীফ।
ব্যাংকওয়ালা কাফীরও একই দশা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আরো কটা ব্যাংক দেউলে হলো তা নিয়ে দীর্ঘ বক্তৃতা করে থামে সে। মানে থামানো হয় তাকে। দেশের শিল্প রসিক, সাহিত্য বোদ্ধা ব্যাংকসমূহের প্রতিভা হান্টের ঘোড়া দাবড়িয়ে বাঁদর নাচানো নিয়ে আরেক লেকচার ঝাড়ে সে।
-ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল জুড়ে ঝড় ওঠে বুঝলি, ঝড়। শালা লিস্ট আমাদের মুখস্থ। লিখলেই পুরস্কার। কলম চালাও শুধু, কি প্রসব করছ জানার ঠেকা পড়েনি কারো। লিস্টে আছো, না না তালিকায় আছো- ব্যাস পদক তোমার। নাও বাবা, এবার সিনা টান করে হাঁটো আর শিল্পের সবক দাও। লিস্ট আসে কোত্থেকে? কোথা থেকে? ওই হোথা থেকে।
কাফীর গলা জড়িয়ে আসে।
-হা হা হা, যা বলেছিস শালা! তোরা সত্যি জিনিয়াস, বুদ্ধি কিনে খাস। হাসির গমকে রোহানের গ্লাসের তরল ছলকে পড়ে।
-এ্যাই শালা, বুদ্ধি কিনে খাস মানে কি এ্যাঁ! বুদ্ধি কি কেজি দরে বিকোয় যে কিনে খাবো, শালা মাথা খারাপের বাচ্চা।
কাফির গলায় কপট ধমকের স্বর।
-বুদ্ধি কেনার অর্থ বোঝো না শালা! ন্যাকা!
ঘিলু কিনে খাস, ঘিলু- এবার বুঝেছিস
গজগজ করে রোহান।
-হ্যাঁ খাই। কেনার ক্ষমতা আছে আমাদের কিনি
তোর বাপের কি শালা!
মিমিখ গ্লাস নিয়ে কারুকাজ করা বিমের গায়ে হেলান দিয়ে বসেছিল। আরেকটা আইস কিউব নিতে নিতে বলে,
-শালা বুদ্ধু কাঁহাকা! সাঁঝ বেলাতেই আজ তোদের এই দশা! বুদ্ধি কেনার কথা শুনেছে কেউ! ও তো বেচার জিনিস।
-ওহহো, চাঁদু আমার, সোনামুখ বালক, কিসসু বোঝে না। কেনে বলেই তো বেচে হাঁদারাম! বেচে বলেই কেনে, বুঝলি কিছু? কেনা আর বেচা, বেচা আর কেনা। মুদ্রা উল্টে দেখো সোনা, অভিন্ন তার এপিঠ ওপিঠ।
কাফি আর রোহান একযোগে পরিহাস করে ওঠে। ইরফানও সুর মেলায় ওদের সঙ্গে।
মিমিখ গ্লাসের তরলটুকু ঝপ করে পেটে চালান করে ওঠে পড়ে। ওদের কথার শেষটুকুর রেশ রয়ে যায় তার কানে। ‘কেনা আর বেচা তার এপিঠ ওপিঠ।’ কি সুন্দর ছন্দময়। মিমিখ কি জানে না একথা! না জানার কারণ নেই কোনো। সেতো এ জগতেই বাস করে। সফল ক্যারিয়ার নিয়ে। তবে এভাবে শোনাটা নতুন।
ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়েছিল রাতে। দু’চোখের পাতা এক হওয়ার আগে উড়ো পঙ্ক্তির মতো মগজে খেলে গিয়েছিল আরো এক ছন্দবদ্ধ লাইন,- ও বিশ্বময় ছড়িয়েছ জাল, বাণিজ্যে বসতি লক্ষ্মী’। শেষ অংশটুকু নাসির হাটের সোনার দোকানি মনোহর পোদ্দারের দোকানের চৌকাঠে লেখা থাকত- বাণিজ্যে বশতঃ লক্ষ্মী’। তা থাক। তার সঙ্গে এসবের কি সম্পর্ক? রাতের স্বপ্ন, ভোরের এ মহাযজ্ঞ। ফখরুদ্দীনই বা এলো কোত্থেকে?
ফখরুদ্দীন! ফখরুদ্দীন! চেঁচিয়ে ডাকে মিমিখ। ফখরুদ্দীন ঘাড় দুলিয়ে, হাত নাড়িয়ে সামনে ইশারা করলে মিমিখ চমকে ওঠে। সোনার দোকানি মনোহর পোদ্দার ছাড়াও আরো ক’ঘর স্বর্ণকার, কর্মকার, গোয়ালা, ময়রার দোকান ছিল নদী তীরের সেই ছোট্ট বন্দরে। তারা সবাই সার বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে। মনোহর পোদ্দারের দোকানের সেই কর্মচারী, কিশোর বলাইও। বই খাতা হাতে স্কুলে যাওয়ার পথে মিমিখের চোখে পড়ত বলাইয়ের চিরচেনা মুখ। যেন পটে আঁকা চিত্র। সরু চোঙায় ফুঁ দিয়ে আগুনের শিখায় গয়না ঝালানো। প্রতিবার ফুঁ দেয় আর টন টন করে ওর গলার শিরা। গাল দুটো ফুলে ওঠে আপেলের মতো, যেন ফেটে পড়বে এক্ষুনি। স্কুল ছুটির পর কিংবা ছুটির দিনে বলাইয়ের কাছে গিয়ে বসে থাকত ও, দেখত বলাই গাল ফুলিয়ে ফুঁ দিতে দিতে গয়নার ভাঙা অংশজুড়ে দিচ্ছে মূল গয়নার গায়ে।
সেই চিরচেনা ভঙ্গিতে বসে আছে বলাই!
ফখরুদ্দীনের ইশারা আর উত্তেজিত ভঙ্গি মিমিখকে মনে পড়িয়ে দেয় নাসির হাটের হরি কামারের কথা। হাঁটুর ওপর ওঠানো ময়লা খাটো ধুতি পরা হরি কামার। উদোম শরীরে হাঁপানির টান। হাপরের ওঠা নামার সঙ্গে ওঠে নামে তার নিঃশ্বাস প্রশ্বাস। এক হাতে হাপর অন্য হাতে হাতুড়ি। কমলা রঙের আগুনে গনগনে লোহার খণ্ডটি হাতুড়ির ঘায়ে হয়ে উঠত দা, বঁটি, ছুরি, কাঁচি।
ফখরুদ্দীন কি সত্যিই বলছে এসব! সত্যিই!!
মিমিখ ভেবে পায়না কেন তার মনে হচ্ছে এমন।
কবেকার কথা! কবেকার মানুষরা!
ভীতির শীর্ণ শিহরণ বয়ে যায় শিরদাঁড়া বেয়ে।
হঠাৎই চোখে পড়ে, একদল সজ্জিত নারী-পুরুষ এগিয়ে আসছে তার দিকে। স্বাভাবিক ভঙ্গিতে। যেন এই আনন্দ সভা, এই মহোৎসব, এই তার ফটকের সামনের দক্ষযজ্ঞ, খুবই স্বাভাবিক এসব।
আগতরা আরো কাছে এলে মিমিখ ফখরুদ্দীনকে আঁকড়ে ধরতে চায়। নাম ধরে চিৎকার করে ডাকে।
-ফখরুদ্দীন! ফখরুদ্দীন!!
কিন্তু কোথায় সে। আরো জোরে চিৎকার করে ডাকে মিমিখ। ফখরুদ্দীন ততক্ষণে পেরিয়ে গেছে বর্ণিল বাণিজ্য সভা।
হাসতে হাসতে মিলিয়ে যায় সে। অনেক কাল আগে যেমন গিয়েছিল।
আগন্তুকরা ততক্ষণে পৌঁছে গেছে মিমিখের একেবারে কাছে। গা ঘেঁষে দাঁড়ায় তারা। মিমিখের হাত ধরে হাসিমুখে হাঁটে। মিশে যায় সম্মিলিত আনন্দ আসরে।
0 মন্তব্যসমূহ