অনুবাদ : হাইকেল হাশমী
“কি মনে কর, এরপর কী হবে?”
“এরপরে যা কিছু হতে পারে।”
“যেমন?”
“যেমন?” সে চিন্তামগ্ন হয়ে গেল, “দোস্ত অনেক বিভ্রান্তি আছে”, বলে চুপ হয়ে চা খেতে লাগলো।
আমিও চুপচাপ চা খেতে লাগলাম। বাইরে কারোর উচ্চকণ্ঠে আওয়াজ শুনলাম। একটু মনোযোগ দিয়ে শুনলাম। উঠে দাঁড়িয়ে বললাম, “মনে হয় ক্রোড়পত্র বা সংবাদপত্রের টেলিগ্রাম এসে গেছে”। বাইরে গিয়ে ক্রোড়পত্র কিনে আনলাম। দু’জন মিলে পড়তে লাগলাম।
পড়ার পর বললাম, “এখন কী বলো?”
“দোস্ত খুব অল্প খবর কোনো নতুন তথ্য নেই।”
“তবুও তোমার কী ধারণা এখন কী হবে?”
“কী হবে? এটা খুব কঠিন প্রশ্ন”।
“তবুও, কী ধারণা?”
সে ভেবে বললো, “আমি মনে করি”, আশপাশে তাকিয়ে দেখে চুপ হয়ে গেল, একটু পর বললো, “এখানে অনেক চেঁচামেচির শব্দ”।
আমি আশেপাশের টেবিলের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, সব টেবিল মানুষে ভর্তি। সবাই চা খাওয়ার চেয়ে বেশি গল্প করছে। আমাদের টেবিল ঘেঁষে যে টেবিল সেখানে সবচেয়ে বেশি হট্টগোল, কয়েকটা চায়ের কাপ আর একগাদা মানুষ। তারা এত জোরে কথা বলছে যে অন্য কোনো টেবিলে বসলেও শান্তিতে কথা বলা দুষ্কর হবে।
আমি আশ্চর্য হলাম। মনে মনে রাগও করলাম। কেমন অসচেতন লোকজন। এমনভাবে তারা কথা বলছে মনে হয় যেন কিছুই ঘটেনি।
অন্যকোনো টেবিল খোঁজার জন্য দূরের টেবিলের দিকে তাকালাম, কিচেনের পাশে কিছু টেবিল খালি দেখতে পেলাম।
“চল ওই দিকে যাই”।
আমরা ওখান থেকে উঠে কিচেনের পাশের জায়গায় পাতা টেবিলে বসে পড়লাম। এ জায়গায় বেশ শান্তির পরিবেশ। এখানে শান্তির সাথে কথা বলা যাবে। নতুন করে চায়ের অর্ডার দিলাম। ওর দিকে তাকিয়ে বললাম, “এখন কথা বলা যায়”।
“হ্যাঁ, এখানে শান্তিতে কথা বলা যাবে”, সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলো।
“তাহলে তোমার কী ধারণা এখন কি হবে?”
তখনই দুইজন এসে আমাদের পাশের টেবিলে বসে পড়লো। তারা আমাদের টেবিলে রাখা ক্রোড়পত্রের দিকে তাকাল আর বললো, “আচ্ছা ক্রোড়পত্র বেরিয়েছে”, সে উঠে আমাদের টেবিলের কাছে এসে দাঁড়ালো, “একটু কি দেখতে পারি?”
“অবশ্যই”,আমি এক পৃষ্ঠার সংবাদপত্র তার হাতে তুলে দিলাম।
ক্রোড়পত্র নিয়ে সে নিজের টেবিলে বসে পড়তে লাগলো। একটু দূরে আর এক টেবিলে বসা একজন ক্রোড়পত্র দেখে বললো, “তাহলে ক্রোড়পত্র বেরিয়েছে”, উঠে ওই টেবিলে বসা লোকটির কাঁধে ঝুঁকে খোলা পৃষ্ঠা পড়তে লাগলো। সে কথাটি উঁচু কন্ঠে বলেছিল যা আশেপাশে অন্য টেবিলে বসা লোকজন শুনতে পেয়ে উঠে এসে ওই টেবিলের চারিদিকে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো, “ক্রোড়পত্র কী বলছে?”
ব্যাখ্যা, সমালোচনা, কারোর পক্ষপাতদুষ্ট বাক্য, কারোর বিপক্ষে কথা, কারোর দুঃখমাখা কথা, তারপর তর্ক, কন্ঠ উঁচু হতে শুরু করল।
আমরা দুইজন চুপচাপ ওই দিকে তাকিয়ে রইলাম। সে বিচলিত হয়ে বললো, “এখানে অনেক কোলাহল, এখানে বসে কথা বলা অনেক দুষ্কর”।
“তাহলে চলো এখান থেকে বের হয়ে যাই।”
ওখান থেকে বেরিয়ে ক্যাফে ডি প্যালেসে গেলাম। মনে করেছিলাম ওখানে শান্তি হবে কিন্তু ওখানে ঢোকার সাথে সাথে মনে হলো যেন কোলাহলের সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়ে গেলাম। তারপর অন্য কয়েকটা কফি হাউজ আর রেস্টুরেন্টে গেলাম। সবখানে মানুষের ভিড় আর হট্টগোল।
“সব জায়গায় অনেক কোলাহল।”
“বুঝতে পারছি না আজ এত বেশি হট্টগোল কেন?”, আমি বললাম।
“আর মানুষের ভিড় দেখো, মনে হচ্ছে পুরা শহর চা খেতে আর গল্প করতে হোটেলে চলে এসেছে। কীভাবে লোকজন এত দুর্ভাবনাহীন থাকতে পারে?”
“এত কোলাহল, এত ভিড়? এই শহরে তো মনে হচ্ছে শ্বাস নেয়া দুরূহ হয়ে যাবে”,আমি তার কথা সমর্থন করলাম।
“মনে আছে এক সময় এই শহরটা কত শান্তিপূর্ণ ছিল। আমরা কত শান্তিতে এই রাস্তায় হাঁটতাম।”
আমি রাস্তার দিকে তাকালাম - বাস, গাড়ী, ট্যাক্সি, রিকশা, আর সবচেয়ে সংখ্যায় বেশি বাইক। মনে হচ্ছে একটি ঝড় বয়ে চলেছে। কোলাহল আর হট্টগোল । কানের পর্দা ফাটার উপক্রম। এই মুহূর্তে যখন আমরা একটি শান্ত নির্জন জায়গার খোঁজ করছি তখন আমাদের বুঝতে বাকি রইলো না যে এই শহরে কত ভিড় আর কত কোলাহল।
তারও কথা বলার ইচ্ছা তীব্রতর হয়ে গেছে। একটি নির্জন জায়গা খোঁজার জন্য যত আমি উৎসাহিত। মনে হয় সেও সমান উৎসাহিত। কত জায়গায় গেলাম আর নিষ্ফল হয়ে ফিরে এলাম। কথা বলার ইচ্ছা বেড়েই চলছে। মনে হলো যেন আমাদের কোনো জাতীয় সমস্যার সমাধান করতে হবে। “চল কোম্পানি গার্ডেন যাই।”
আমরা এই কোলাহলপূর্ণ রাজপথ পেরিয়ে একটি জনশূন্য পথ পার করে কোম্পানি গার্ডেন পৌঁছে গেলাম। বাগানের পরিবেশ বেশ শান্তিপূর্ণ আর নির্জন। এই দিক ওই দিক এক দুই জন বসে আছে অথবা হাঁটছে। কেউ বাগানের সরু পথে হাঁটছে, কেউ চুপ করে বেঞ্চে বসে আছে। আমরা একটি কনক্রিটের বেঞ্চে বসে পড়লাম। কোলাহলের সমুদ্র পার করে এসেছি তাই একটু বসে বিশ্রাম নিচ্ছি। আমাদের পাশ দিয়ে একটি ছেলে আর মেয়ের জুটি হেঁটে গেল। একটু সামনে গিয়ে ছেলেটি মেয়ের হাত ধরে গাছের ছায়ায় হেঁটে একটি পুরু ঘন গাছের আড়ালে হারিয়ে গেল।
“কোনো কিছু বিস্তারিত জানা যাচ্ছে না। অনেক বিভ্রান্তি আছে”, সে বিড়বিড় করে বললো।
“পানি রে পানি তেরা রাঙ ক্যায়সা?”, দূর থেকে গানের শব্দ ভেসে এলো।
শব্দটা দূর থেকে কাছে আসতে লাগলো। একজন যুবক ট্রানজিস্টার রেডিও হাতে ঝুলিয়ে হেঁটে আসছে। পাশের জায়গায় ঘাসের উপর ট্রানজিস্টার রেখে সে বসে নিজের জুতার ফিতা খুলতে লাগলো। গানটি আমাদেরকেও আকৃষ্ট করলো আর আমরা গান শুনতে লাগলাম।
“লতার গলা তাই না?”
“হ্যাঁ। সাথে কিশোর কুমার”, আমি বললাম।
তারপর ট্রানজিস্টারের শব্দ আরো উঁচু হতে থাকলো, লতার প্রথম গান, দ্বিতীয় গান, তৃতীয় গান। কিছুক্ষণ পর কয়েকজন ছেলে এসে পাশের আর একটি ঘাসের কেয়ারিতে বসে পড়লো। তাদের কাছে টেপরেকর্ডার আর তারা নিজেদের পছন্দের গান বাজাতে লাগলো।
“এখানে তো খুব বাজে অবস্থা হয়ে গেল।”
“আর এই ছেলেদের পছন্দ কত বাজে আর অশ্লীল”, আমার তাদের উপর অনেক রাগ হচ্ছে।
“মনে হয় আজ এই শহরে আমরা কোথাও শান্তি পাবো না।”
“আমি বুঝতে পারি না লোকজন এত জোরে গান কেন শোনে?”
“মৃদু সুর এখন অতীত হয়ে গেছে। এত শব্দ যে কেউ কারোর কথা শুনতে পারছে না। এমন অবস্থায় মানুষ একে অন্যের সাথে কীভাবে কথা বলবে?”
আমরা দুজন চুপ হয়ে গেলাম। এক দিকে ট্রানজিস্টার আর অন্য দিকে টেপরেকর্ডার। ডানে কোলাহল, বামে কোলাহল। আমরা বিরক্ত হয়ে উঠে পড়লাম। বাগানের সরুপথে হাঁটলাম। সন্ধ্যা হয়ে গেছে, বাগানে আগতদের ভিড় বাড়ছে। আমরা বাগান থেকে বেরিয়ে গেলাম।
“বিবিসি শোনা দরকার”, সে কথা বলতে শুরু করলো,“মাথায় একই কথা আটকে আছে বরং কাঁটার মত বিঁধে আছে যতক্ষণ ওই কাঁটাটা বের হচ্ছে না আমরা শান্তি পাবো না”। ঠিক সেই সময় পিছনে কারো হাঁটার শব্দ এলো, সে চুপ হয়ে গেল। পিছনের লোকটা দ্রুত হাঁটছে। আমরা আমাদের গতি মন্থর করে দিলাম। সে আমাদেরকে অতিক্রম করে সামনে চলে গেল। এখন আরামে কথা বলা যায় কিন্তু এই রাস্তায় সন্ধ্যাবেলা প্রচুর লোকজন হাঁটার জন্য চলে আসে। এখন আমাদের পিছনে একজন ভদ্রলোক হেঁটে আসছেন তার গতি এত কম যে আমাদের গতি কমিয়ে দেয়া সত্ত্বেও আমাদের মাঝে কোনো দূরত্ব তৈরি হলো না।
“চলো,আমার বাসায় চলো”, আমি প্রস্তাব দিলাম।
“তুমি তো একাই থাকো?”
“হ্যাঁ”।
“তাহলে চলো যাই, ওখানে বসে শান্তিতে কথা বলা যাবে ।”
বাসায় এসে দরজার তালা খুলে রুমে ঢুকলাম, “বসো”।
সে রুমের এদিক ওদিক তাকিয়ে বললো, “তোমার কাছে কোনো রেডিও নাই?”
“রেডিও নাই, ট্রানজিস্টারও নাই”।
“যদি থাকতো তবে বিবিসি শোনা যেতো।”
“তুমি কি মনে করো বিবিসি কিছু জানাবে?”
“অবশ্যই বলবে। আজ আমাদের দেশের রেডিও-ও শোনা উচিৎ কিন্তু তুমি তো এই ঝামেলা থেকে মুক্ত। তোমার কাছে রেডিও নাই টিভিও নাই ।”
“এমন ঝামেলা বউ’রা জড় করে”, আমি বললাম।
“আর বউ নিজেই একটি ঝামেলা ।”
“তাই তো আমি বিয়ে করিনি।”
“ভালো করেছো তাই তো শান্তিতে আছো’, সে একটু থেমে বললো, “আমার মনে হয় তোমার প্রতিবেশীরা সবাই অবিবাহিত।”
“কেমন করে বুঝলে?”
“কোথাও কোনো সাড়া শব্দ নেই ।”
“এটা কোনো মহল্লা না, ফ্লাট বাড়ী আর এখানে বোঝা যায় না যে ফ্লাটে কেউ আছে। আমার আশেপাশে সব ফ্লাটে পুরো পরিবার থাকে।”
আমি চিন্তা করলাম আগে চায়ের ব্যবস্থা করে নেই, চা সামনে থাকলে আরামে গল্প করা যায়। দেখলাম দুধ আছে কি না, দুধ আছে, চা আর চিনি তো বাসায় থাকেই। হিটার জ্বালিয়ে চায়ের জন্য পানি ফুটতে রেখে দিলাম।
“দোস্ত তোমার পাশের বাসায় কোনো বাচ্চা নেই?”
“আরে না, অনেক বাচ্চা আছে।”
“কোনো শব্দ পাচ্ছি না।”
“এটা ফ্লাট তুমি একে মহল্লার বাসার মতো ভেবো না”, আমি বললাম।
আমার উত্তর থেকে সে সন্তুষ্ট হলো না। একটু চুপ থাকার পরে বলল, “এতো নিঃশব্দ, মনে হচ্ছে কোনো জঙ্গলে এসে পড়েছি।”
আমি কোনো উত্তর দিলাম না। আমার সম্পূর্ণ মনোযোগ ফুটন্ত পানির দিকে।
“এটা তুমি কি করছো?”
“চা বানাচ্ছি, এখনই তৈরি হয়ে যাবে। তারপর বসে আরামে কথা বলবো।”
“বাদ দাও বাইরে গিয়ে চা খাবো”, সে হঠাৎ উঠে পড়লো। “এখানে আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।”
আমি ওকে আশ্চর্য হয়ে দেখে বললাম, “এখানে বসে শান্তিতে কথা বলা যেতো।”
“তা ঠিক কিন্তু”, সে নিজের ঘড়ির দেখে বললো, “এখানে যদি বসে থাকি তাহলে খবরের সময় পেরিয়ে যাবে। বাইরে নিজের ঠিকানায় যাই, ওখানে রেডিও আছে, খবর শোনা যাবে”, সে থেমে বললো, “এখানে তো মনে হচ্ছে দুনিয়া থেকে দূরে কোথাও বসি আছি।”
আসলেই, এই রুমে ঢুকলে তো আমার বাইরের দুনিয়ার সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। কিছুই বোঝা যায় না বাইরে কি হচ্ছে। আসলে এই রুমে এমন কোনো জানালাও নেই যেটা দিয়ে আকাশ দেখা যায়। আমরা বাসা থেকে বেরিয়ে গেলাম। রাস্তা একদম খালি।
“ক’টা বাজে?”, সে চমকে তার ঘড়ির দিকে দেখলো, “আজব, আজ এত তাড়াতাড়ি রাস্তা নির্জন হয়ে গেল”, আসলেই অনেক নিঃশব্দ পরিবেশ। কোনো রিকশা পাশ দিয়ে গেলে কিছুক্ষণের জন্য একটু শব্দ হয় তারপর আবার নীরবতা আরো গভীর হয়ে যায়। আমরা আমাদের পায়ের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি। আমরা হেঁটে নিজের আড্ডা দেওয়ার জায়গায় পৌঁছালাম। এখন রেস্টুরেন্ট একদম খালি। কিছুক্ষণ আগে আমরা ভর্তি দেখে ছেড়ে গিয়েছিলাম। ওই সময় শব্দে কানের পর্দা ফেটে যাচ্ছিল। এখন মাত্র একটি টেবিলে দুইজন বসে আছে কিন্তু তারাও কিছুক্ষণ পর উঠে চলে গেল। এখন শুধু আমরা দুইজন রয়ে গেলাম। আমরা চা’র অর্ডার দিলাম।
“আজ এই জায়গাটি একদম নির্জন হয়ে গেছে”, সে বললো।
“ভালোই হয়েছে। ভিড়ে কথা বলা যায় না।”
“হ্যাঁ, ঠিক বলছো”, তারপর একটু ভেবে বললো, “কিন্তু অনেক বিভ্রান্তি আছে।”
“বিভ্রান্তি কি আগে ছিল না?”
“না বিভ্রান্তি আগেও ছিল”, তারপর সে চিন্তায় ডুবে গেল। আবার বলতে শুরু করলো, “এটার পিছনে কি কারণ আমি ঠিক বলতে পারবো না কিন্তু আমি মনে করি”, ও যখনই কথা বলতে শুরু করেছে তখনই ওয়েটার চা নিয়ে চলে এলো। সে ওয়েটারকে দেখে চুপ হয়ে গেল। চা কাপে ঢেলে চামচ দিয়ে নাড়তে নাড়তে বললো, “মেয়েটি বেশ আকর্ষণীয় ছিল।”
“মেয়ে? কোন মেয়ে?”
“ওই মেয়েটি যাকে কোম্পনি গার্ডেনে দেখে ছিলাম।”
“আচ্ছা ওই মেয়েটি”, মেয়ের সুন্দর আর আকর্ষণীয় শরীর আমার চোখের সামনে ভেসে উঠলো।
“হ্যাঁ, বেশ আকর্ষণীয় ছিল।”
তাকে দেখে মনে হয়েছিল যেন বাতাস নেই, প্রচণ্ড গরম শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা আর হঠাৎ ঠান্ডা বাতাস বয়ে গেল। আমার তো এমনই মনে হয়েছিল। তাকেও বেশ উৎফুল্ল দেখাচ্ছিল। তারপর আমরা তার শারীরিক সৌন্দর্য নিয়ে আলোচনা করলাম। সিদ্ধান্তে পৌঁছালাম মেয়েটি আসলেই আকর্ষণীয় ছিল।
“দোস্ত”, সে চিন্তায় মগ্ন হয়ে বললো, “আমাদের জীবন থেকে তো মেয়ে মানুষ উধাও হয়ে গেছে।”
আমি হেসে বললাম, “আমাদের জীবনে মেয়ে কি কোনোদিন ছিল?”
“তবুও”, সে গম্ভীরভাবে বললো, “আগে তো জীবনে এমন শূন্যতা ছিল না।”
আমি হেসে দিলাম। তার কথার কোনো উত্তর দিলাম না।
সে জিজ্ঞেস করলো, “ওর কি আর কোনোদিন দেখা পেলি?”
আমি জিজ্ঞেস করলাম,“কার?”
“ওই।”
এখন বুঝতে পারলাম সে কার সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করছে। আমার মন খারাপ হয়ে গেল।
“তারপর কি আর কোনোদিন তার সাথে দেখা হয়নি?”
“না।”
“আশ্চর্য।”
আমি নিজেই এই ব্যাপার নিয়ে আশ্চর্য। আশ্চর্যের সাথে খেয়াল করলাম আমি তাকে ভুলেই গিয়েছিলাম। এখন যখন সে আশ্চর্য হলো তখন আমিও আশ্চর্য হয়ে গেলাম যে ও এমনভাবে উধাও হলো যে আর কোনোদিন তার সাথে দেখা হলো না।
“দোস্ত, তোমার সাথেও একই ঘটনা ঘটলো যেটা আমার সাথে ঘটেছিল।”
“এমন ঘটনা প্রত্যেক ভদ্রলোকের সাথে ঘটে”, আমি তার কথা সম্পূর্ণ করলাম।
আমরা দুইজনই দুঃখী হলাম। সে আর কোনো কথা বলেনি। আর আমারও কথা বলতে ইচ্ছা করেনি। চুপচাপ বসে চা খেতে থাকলাম। বিবিসির খবর শোনার সময় পার হয়ে গেল। রেডিও পাকিস্তান আর আকাশবাণীর সংবাদের সময়ও পার হয়ে গেল।
“চল যাওয়া যাক?”
“হ্যাঁ, চল।” আমরা হাঁটতে শুরু করলাম, সে তার বাসার দিকে আর আমি আমার বাসার দিকে।


0 মন্তব্যসমূহ