এটা আমার কাছে ‘চাঁদ হাতে পাওয়া’ সুযোগ। একে তো অল্প দিনেই বিশিষ্ট হয়ে ওঠা পত্রিকা 'বইকথায়' লেখার সুযোগ, তার উপরে নিজের লেখা বইয়ের কথা নিজে লেখা ।
নিজের লেখার সুবিধার চেয়ে বরং অসুবিধাই বেশি। অনেক রকম ‘কইতে কথা বাধে'র মধ্য দিয়ে যেতে হয়। অন্যের বইয়ের কথা বলতে গিয়ে অনেক প্রশংসাবাক্য লেখা যায়, যা নিজের বইয়ের ক্ষেত্রে হয় না। নিজের লেখার প্রতি সন্তান স্নেহসম বাৎসল্য থাকার ফলে ‘স্নেহ অতি বিষম বস্তু' প্রবাদটা সত্যি হয়ে উঠতে চায় বারবার। আবার নিজের লেখার নির্মম বা নির্মোহ সমালোচনা করাও মুশকিলের ব্যাপার। আমি গ্রন্থ সমালোচনার মতো সমালোচনা করব না, এই বইটার হয়ে ওঠা বা গড়ে ওঠাটা বরং লিখি।
যখন আমি হাফ প্যান্ট, পেটকাট্টি, মুখপোড়া, রয়েলগুলি, টোপাকুল আবিষ্কার করি আমার কোনো দেশ নেই। ইস্কুলের বন্ধুরা পকেট থেকে বের করত দেশের বাড়ির পেয়ারা। দেশের বাড়ির টোপাকুল। দেশের বাড়ির একটা নারকোল উপহার দিল আমার স্কুলের এক প্রিয় বন্ধু। আমাদের ঘরের বাসন মাজা ইত্যাদি কাজকর্ম করত সন্তোষের মা। সন্তোষের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব ছিল। ওর কাছেও শুনতাম সোঁদরবনের গল্প। মানে ওর দেশের গল্প। কিন্তু আমার নিজস্ব কোনো দেশের গল্প ছিল না। দেশ সম্পর্কিত ধারণাও ছিল না কোনো, বড়রা মাঝে মাঝে 'দ্যাশের’ গল্প করত। শুনতাম । ওরা দীর্ঘদিন নিজেদের গ্রাম বয়ে বেড়াত শামুক যেমন
যখন আমি গল্প লিখতে শুরু করি, তখন দেশ, দেশভাগ এসব নিয়ে লিখতাম না । এ নিয়ে তেমন দুশ্চিন্তা ছিল না আমার। ক্রমশ শিকড় ছেড়া বাস্তুচ্যুতি, এইসব ব্যাপারগুলো আরও ব্যাপকারে বুঝতে শিখলাম। নানা কারণেই বাস্তুচ্যুত হয় মানুষ ।
দেশভাগ এবং বাস্তুচ্যুতির প্রসঙ্গ আসে আমার প্রথম উপন্যাস চতুষ্পাঠীতে। দেশভাগ পূর্ববর্তী পূর্ববাংলার এক বংশানুক্রমিক টুলো পণ্ডিতের বাস্তুচ্যুতির পরবর্তী শহর জীবন, শহরে টোল পুনঃস্থাপনের চেষ্টা ও ব্যর্থতা, তাঁর শিক্ষকসত্তাকে বাঁচিয়ে রাখার সংগ্রাম, টিকে থাকার জন্য বিভিন্ন আপসের হাতছানি এড়িয়ে নিজের মূল্যবোধে স্থিত থাকার আখ্যান। এর পরের উপন্যাস নবমপর্বে ওড়িশার কেন্দুঝরের পটভূমিকায় জুয়াঙ্গ ভূঁইয়া, এবং বাথুড়ি জাতির জঙ্গল হারানোর এবং ভাষা হারানোর কথা কিছুটা ছিল। পরে ‘বাস্তুকথা’উপন্যাসে কিছুটা বলতে চেয়েছিলাম অন্য এক বাস্তুচ্যুতির কথা । নিজের আদর্শগত অবস্থান থেকে সরে যাওয়াটাও বাস্তুচ্যুতি।
বয়স বাড়তে লাগল। দেশভাগের স্মৃতি জড়িত মানুষেরা, দ্যাশের ভাষায় কথা বলতেন যাঁরা, তাঁরা একে একে বিদায় নিতে লাগলেন। হারিয়ে যাচ্ছিল ওপার থেকে বয়ে আনা প্রবাদ, প্রবচন, ছড়া, ব্রত, রন্ধনপ্রণালী। কিছু কিছু লিখে রাখতে লাগলাম । অন্তত কুড়ি বছর আগেই ঠিক করেছিলাম ঠাই নাড়া আসা মানুষদের ঠাঁই খোঁজার কাহিনি লিখতে হবে। দেশভাগের পূর্বপট দেশভাগ, এবং দেশত্যাগ নিয়ে বেশ কটি উপন্যাস বাংলায় আগেই লেখা হয়ে আছে। অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রফুল্ল রায়, নারায়ণ সান্যালের নাম সবার আগে মনে পড়ে। কিন্তু দেশভাগ পরবর্তী উদ্বাস্তু, ত্রাণ, পুনর্বাসন, উদ্বাস্তুদের সংগঠন, সংগ্রাম, কলোনি স্থাপন এই সব নিয়ে উপন্যাস প্রায় ছিল না। আমার অকালপ্রয়াত লেখক বন্ধু শচীন দাস বাঘাযতীন কলোনী এবং পাশ্ববর্তী কলোনিগুলির গড়ে ওঠা নিয়ে একটা উপন্যাস লিখেছিলেন 'উদ্বাস্তু নগরীর চাঁদ'। কিন্তু মৃত্যু ওকে অকালে ছিনিয়ে নিল। শচীনের মতোই আমিও ভেবেছিলাম উদ্বাস্তু কলোনির প্রবীন মানুষ যাঁরা স্মৃতি সমেত বেঁচে আছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলা খুব দরকার। আমি উত্তর শহরতলীর উদ্বাস্তু কলোনিগুলিতে ঘুরি, দেখি, বোঝার চেষ্টা করি। ১৯৬৭-৬৮ সালে বিরাটির মহাজাতি কলোনিতে আমাদের থাকতে হয়েছিল। আমাদের থাকতে হয়েছিল বাসা-বাড়ি থেকে ঠাই নাড়া হয়ে । আমি সেই দেখার সঙ্গে চল্লিশ বছর পরের দেখা মেলাবার চেষ্টা করি, তা ছাড়া এধারে থিতু হওয়া ওঠা ওধারের মানুষদের কিছু সংগঠন আছে, যেমন চাঁদপুর সম্মিলনী, চট্টগ্রাম সম্মিলনী, নোয়াখালি সম্মিলনী ইত্যাদি। এঁরা মাঝে মাঝে মিলিত হন, নিজ নিজ জেলা নিয়ে স্মৃতিচারণা করেন, একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করেন, এবং একটি বাৎসরিক পত্রিকাও প্রায়শই বের করেন। এইসব পত্রিকাগুলির মধ্যে অনেক তথ্য থাকে, ঘটনা থাকে যা কিনা অনুবীক্ষনিক। আমি এইসব পত্র-পত্রিকাগুলিও সংগ্রহ করতে থাকি ।
১৯৯৯ সালে দিশা পত্রিকায় এই বিষয় নিয়ে একটি ধারাবাহিক লিখতে থাকি, নাম দিই ‘অনুপ্রবেশ’। ১১টি সংখ্যা বের হবার পর পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে অন্য বিষয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। মানুষের নিজস্ব পরিচয় বিশেষত লিঙ্গ পরিচয় বিষয়ের সূত্রে তৃতীয় লিঙ্গ এবং রূপান্তরকামী মানুষ বিষয়ে জানবার ও বুঝবার জন্য যখন এখানে ওখানে ঘোরাফেরা করছি, উদ্বাস্তু বিষয় ভাবনাও মাথায় ছিল। হাবড়ার হিজড়া খোলে যেতে গিয়ে অশোকনগরেও একাধিক বার গিয়েছি, যেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে রানওয়ে বানানো হয়েছিল। পরে পরিত্যাক্ত সেনা নিবাসে উদ্বাস্তুদের গুদাম করা হয় । ‘হলদে গোলাপ' লেখার কালেও মাঝে মাঝেই কলোনি কলরব শুনতে পেতাম। ২০১৪ সালে হলদে গোলাপ শেষ হল। এবার আমি অন্য লেখার সঙ্গে দেশভাগ সম্পর্কিত পড়াশুনো চালাতে থাকি। আমার এক পিসেমশাইয়ের বাড়িতে কিছু পুরোনো চিঠিপত্র পাই। যা ১৯৫১-৫২ সালে পূর্বপাকিস্তান থেকে লেখা। একটি ডায়রি পাই ১৯৫৩ সালের। আজকাল পত্রিকার পক্ষ থেকে একটি ধারাবাহিক লেখার আহ্বান পেলে, আমি ১৯৯৭ সাল থেকে এই উপন্যাসটি লিখতে থাকি। ১৬/১৭ বছর আগেকার ‘দিশা’ পত্রিকার ‘অনুপ্রবেশ' আর বাড়াই না, বরং নতুন করে শুরু করি, কিন্তু আগে যা লিখেছি, সেটা পুরো ভুলে যেতে পারি না, ওই উপন্যাসের কিছু খণ্ডাংশ এই উপন্যাসে এসে গেছে।
নতুন করে লিখতে গিয়ে মনে হয়েছিল অনঙ্গমোহন চরিত্রটিকে রাখা দরকার। সুবর্ণরেখার হরপ্রসাদ চরিত্রটি যাঁর রূপায়ণ বিজন ভট্টাচার্য করেছিলেন, সেই হরপ্রসাদকেই অনঙ্গমোহনের মধ্যে দেখতে পেতাম,—বলা উচিত দেখতে চাইতাম । সেই অনঙ্গমোহনকে বাগবাজারের গলি থেকে তুলে নিয়ে এলাম একটি কলোনিতে, প্রফুল্লনগর কলোনি—যেটা আমার বর্তমান নিবাসের কাছেই, এই যে কলোনির ইতিহাস, ভূগোল আমার জানা। এই কলোনি তৈরি হয়েছিল পরিত্যক্ত মার্টিন রেলের জমিতে যে রেলপথ বেলগাছিয়া থেকে হাসনাবাদ পর্যন্ত ছিল। এই কলোনিতে পূর্ববাংলার নানা জেলার মানুষ থাকে। যখন কলোনির মিটিং হয়, যে যার নিজের মুখের ভাষায় কথা বলে, ঝগড়া করে। মেয়েলি গল্পগাছা নিজেদের নিজেদের জেলার ভাষা বিনিময় । ফেলে আসা ব্রত-পার্বণ আবার পুনঃপ্রতিষ্ঠার ব্যর্থচেষ্টার মধ্যে দেখাতে চেয়েছি একটা কলোনির মধ্যে কি গোটা হারানো দেশকে ঝুলন সাজানোর খেলা। অনঙ্গমোহনের পাশের প্লটটি একজন নমশূদ্রের, অন্যপাশে রুদ্রজ ব্রাহ্মণ । রাঢ়ি বারেন্দ্র ব্রাহ্মণরা যাঁদের অবজ্ঞা করে ‘যুগি’ বলত। অনঙ্গমোহন চিন্তাধারার দিক থেকে অনেকটা উদারপন্থী হলেও নমশূদ্রের ঘরের সঙ্গে খাদ্য বিনিময় প্রথমে মেনে নেয়নি, পরে মেনে নিয়েছে। কলকাতার পাশ্ববর্তী উদ্বাস্তু পল্লীতে প্রথম দিকে নমশূদ্র ঢুকতেই পারেনি। কলোনিগুলির মধ্যেও বর্ণবাদের জটিল বিন্যাস দেখাবার চেষ্টা করেছি। অনঙ্গমোহনের পড়শি রুদ্রজ ব্রাহ্মণ ‘কৈলাস দেবনাথ' চরিত্রটি সৃষ্টি করেছিলাম ব্রাহ্মণ্যবাদ বিশ্লেষণ করতে। কৈলাস দেবনাথের জীবন বড় বর্ণময়। গান্ধীজীর অসহযোগ আন্দোলন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, মন্বন্তর, ভারতছাড়ো তেভাগা, দাঙ্গা, দেশভাগ—সব কিছুর মধ্যেই কোনো না কোনো ভাবে ছিলেন কৈলাস দেবনাথ, এবং তার এই অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি ‘মহাকাব্য’ লিখছেন তিনি। তাঁর এই ‘মহাকাব্য' বারবার উপন্যাসের ভিতরে নিয়ে এসেছি, এতে ন্যারেটিভের প্রকারান্তর ঘটেছে। কলোনির কিশোরী মাধুরীলতার সঙ্গে সাইকেল চালনায় দক্ষ সুকুরনপ্রেম-বৃত্তান্ত এবং বিচ্ছেদ, মাধুরীর বিবাহ পরবর্তী বিয়োগান্ত উপন্যাস লিখেছি গ্রাম্য কথকথার আঙ্গিকে। ইতিহাসের তথ্যগুলিকে পরিবেশন করার জন্য কিছু পরীক্ষামূলক কৌশল প্রয়োগ করতে পেরে বেশ ভালো লেগেছিল। অনঙ্গমোহনের স্বপ্নে শূদ্রক রচিত মৃচ্ছকটিক নাটকের চরিত্ররা আবির্ভূত হলে চারুদি ও বসন্তসেনা মৈত্রেয়, আর্যক এইসব চরিত্রদের মধ্য দিয়ে জওহরলাল নেহেরু, জিন্না, মাউন্টব্যাটেন, লেডি মাউন্টব্যাটেনরা যেন কথা বলেছেন। ব্রেখটিয় নাটকের মতো ওই চরিত্রগুলি তৃতীয় শতাব্দী থেকে বিংশ শতাব্দী চলে আসতে চায় যেন। কতগুলি শহীদ বেদীর মধ্যে আরব কথোপকথনেও কিছু ইতিহাস কথা রাখবার চেষ্টা করেছি। কোথাও কোথাও যাত্রা পালার অংশ ব্যবহার করেছি, কোথাও কবিগান। কখনো ঘটনা-প্রবাহ বর্ণনা করেছি ডায়েরি আকারে।
১৯২৩-এর বেঙ্গল প্যাক্ট প্রস্তাব থেকে ১৯৪৭-এর দেশভাগ পর্যন্ত ইতিহাসের বিভিন্ন সন্ধিস্থল এই উপন্যাসে এনেছি। ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ প্রস্তাব মেনে নিলে হয়তো দেশভাগ হত না, কৈলাস দেবনাথের চিন্তায় এ নিয়ে যুক্তি দিয়েছি। দেশভাগ পরবর্তী বিভিন্ন সমস্যাগুলি তুলে ধরা এবং মূল পশ্চিমবঙ্গবাসী তথা ‘ঘটি’দের সহযোগিতার কথা আগে বলা হয়নি, এখানে বলার চেষ্টা করেছি। পতিত ও সরকারি জমিগুলি শেষ হয়ে গেলে রিফিউজিরা পশ্চিমবঙ্গীয় ধনীদের বাগানবাড়ি ও ফাঁকা জমিগুলি দখল করতে শুরু করলেও তীব্র এবং নিষ্ঠুর প্রতিরোধে পড়েনি খুব একটা। এদেশ থেকে ওদেশে চলে যাওয়া মুসলানদের কথাও রেখেছি, যদিও শিক্ষিত মুসলমানরা গেছেন অধিকতর সুবিধার জন্য কিন্তু জীবনের তাগিদে ওধারে গেছেন বিহারি মুসলমানদের একটা অংশ। বিহারে ১৯৪৬-এর সেপ্টেম্বর থেকে ৭/৮ মাস ব্যাপী বিক্ষিপ্ত দাঙ্গা চলে। ওরা কাছের পাকিস্তান পূর্ববাংলায় চলে যায়। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে ওরা পাকিস্তানের পক্ষে ছিল। অনেকেই রাজাকার দলে নাম লিখিয়েছিল। বাংলাদেশ হবার পর ওরা নিজেদের বাংলাদেশী ভাবতে পারেনি। ওরা পরপর অত্যাচারিত হয়েছে। পাকিস্তানও ওদের স্থান দেবে বলেও নেয়নি। এই দেশহীন পরিবারের এক দীপ্ত কন্যা উজমা। সে পরে পাকিস্তানের নাগরিক এবং পরিবেশ বিজ্ঞানী। আবহাওয়াবিদ বিলুর সঙ্গে ওর প্রেম, সেই সূত্রে আব্রাহামিক ধর্মগুলির উদ্ভব এবং দুর্বলতার কথা বলার চেষ্টা করেছি। ওদের যৌথ যাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাবরি মসজিদ ধ্বংস। আমি ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরে পাঁচবছর চাকরি করেছিলাম। বিলুকে আবহাওয়াবিদ বানাতে আমার সুবিধা হয়েছিল।
উজমা এবং বিলুর মিলিত জীবনে ওরা একটি সন্তান দত্তক নিয়েছিল, যে সন্তানের জাত-ধর্ম জানা নেই। এই সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত করেই উপন্যাসটি শেষ করেছি। বিলুর মধ্যে ব্যক্তি 'আমি' অনেকটাই প্রতিস্থাপিত, কিন্তু প্রকৃতি আমি নয়। আমার না হয়ে ওঠা 'আমি'ই হল বিলু। আমি ব্যক্তিজীবনে যেমন ভেবেছি, সেটা এই বিলুর মধ্যেনচাপিয়ে দিয়েছি। আমি যা পারিনি উপন্যাসের বিলু তা পেরেছে। এই যাপনে দেখেছি ধর্মের দর্শন নিয়ে মাথা ঘামায় না মানুষ, মানুষের যত দুশ্চিন্তা ধর্মের বহিরঙ্গের উপর । ধর্মের বাইরের দিকটাই আমাদের রক্তাক্ত করে।
---------
নারায়ণ শিলার লাল শালুর আবরণ জলে ভাসে যখন রক্তমাখা জল মনে হয় – এই ধরনের ব্যঞ্জনা ব্যবহার পাঠক কতটা নেবেন জানি না, জানি না পুনঃপৌনিকতা আছে কিনা, জানি না পূর্ববাংলার বিভিন্ন জেলার সংলাপ পাঠক কতটা বুঝবেন। ( আমি ব্র্যাকেটে মান্য-বাংলা বলে দিইনি)। অনেক অসম্পূর্ণতা আছে আমি জানি । দণ্ডকারণ্য যাইনি, তাই ওদিকটা নিয়ে লিখিনি। আন্দামানও লিখিনি। হিমাচলের উত্তর প্রদেশে পুনর্বাসিত উদ্বাস্তুরাও অনুপস্থিত।
পরিশেষে বলি ‘জলের উপর পানি নাকি পানির উপর জল' শাহজাদ ফিরদৌসের লেখা একটি গানের প্রথম চরণ ।
-----------------------------------------------------------------------------------------
জলের উপর পানি। স্বপ্নময় চক্রবর্তী। প্রচ্ছদ : দেবব্রত ঘোষ। দে'জ পাবলিশিং। ২০২১।
.jpg)

0 মন্তব্যসমূহ