নতুন ধারাবাহিক : ডুগি তবলা


(ডুগি তবলা কুলদা রায় ও সুদেষ্ণা দাশগুপ্ত'র একটি ধারাবাহিক। এই যৌথ প্রয়াস দেশ-ভাগের পটভূমির মানুষদের নিয়ে লেখা তাদের পরের প্রজন্মের কলম দিয়ে। যা কুলদা ও সুদেষ্ণা লিখছেন খানিক শোনা গল্প দিয়ে আবার কিছুটা কল্পনাকে সঙ্গে নিয়ে।
ধা-ধি-না না-তি-না। তিন তিন তাক। ধিন লাগে ধিন লাগে। এ বাজনা তবলা আর ডুগির। তাল কোথাও সমপদী কোথাও বিসমপদী। তেহাই কোথাও দমদার কোথাও বেদমদার। বাজনদার দু’জন জন্মেছেন দুটো আলাদা দেশে, বড়ো হওয়া একেবারে অন্য পরিবেশে আর সবচাইতে যেটা মজার দু’জনের এখনও দেখাই হয়নি। তাই এই ডুগি আর তবলা সবসময় যে এক তালে বাজবে তা নয়। বরং বে-তালের ঝুঁকি থাকল।
--সুদেষ্ণা দাশগুপ্ত ও কুলদা রায়)


চল, তাড়াতাড়ি কর
আর দেরি নয়, বেরিয়ে পড় বেরিয়ে পড় এখুনি।

“আমার জ্যাঠাইমা ছিলেন নিঃসন্তান। আমরা ডাকিতাম মাধন। আমাদের জননী-আমরা মাতৃহারা জাতক আর মাধন আমাদের স্নেহভরা মেঘ। এখনও মনে আছে –মাধনের ভাত মাখা, গ্রাস বানাইয়া আমাদের মুখে পুরিয়া দেওয়া। মাধনের ডানহাতের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠের ডগার চামড়াটা ঈষৎ কুঞ্চিত ছিল। আমরা জানিতাম মাধনের ঐ ছিদ্র দিয়া ভাত মাখাইবার সময়ে ঘৃত নিঃসারিত হইত এবং সেইজন্যে মাধনের আমাদের মুখে পুরিয়া দেওয়া সেই ভাতের গ্রাসগুলি অমৃত তুল্য লাগিত। মাধন না খাওয়াইলে সব খাবারই আমাদের কাছে তিক্ত লাগিত। মাধন আমাকে আদর করিয়া ডাকিতেন “পাঁঠা”, বোধহয় খাদ্য নিয়ে আমার কোন ভেদাভেদ জ্ঞান ছিল না বলিয়া।”

লেখাটা পড়ে চমকে উঠি। এ কার লেখা? যে মানুষটিকে বাইরের বারান্দায় একটা কাঠের টুলের ওপর চুপ ক’রে বসে থাকতে দেখা যেতো? সকালে অফিস যাওয়ার আগে খানিকক্ষণ, আবার বাড়ি ফিরে। গায়ে সাদা গেঞ্জি, হাতাওয়ালা। বাইরে বসে তবে রাস্তার লোক চলাচল দেখছেন বলে মনে হতো না। চুপ ক’রে বসে কখনও বা গালে হাত দিয়ে। কখনও আকাশের দিকে, সামনের গাছেদের দিকে দৃষ্টি। সে দৃষ্টি নরম, কোথাও তা একাত্মতার। আবার কিছুই দেখছেন না, কল্পনার চোখকে কী পার করে দিতেন অন্য একটা দেশে? একই আকাশের নিচে ছিঁড়ে ভাগ করে দেওয়া অন্য দেশটাতে? যে গল্প শুনে আসছি জন্মাবধি, দেখছি বহু সিনেমায়, পড়ছি বইয়ের পাতায়।

টুলে বসা মানুষটাকে নিয়ে এই গল্প শুরু হচ্ছে। তখন সে যুবক, নাম কৃষ্ণদাস। শুরু হচ্ছে সদ্য স্বাধীন হওয়া ও খন্ডিত হওয়া ভারতের পটভূমিকায়। যুবক কৃষ্ণপদকে আমরা খুঁজব তার লিখে রাখা অসংলগ্ন কিছু ঘটনা একটা পুরনো খাতায়।

পূর্ব-বাংলা তো এখন শুধু পূবের বাংলাই নয়, সে এখন একটা ভিন্ন দেশ ভিন্ন রাষ্ট্র। ১৯৪৭ – ভারত স্বাধীন হল –পূর্ববাংলা হল পাকিস্তান। যারা পূর্ববাংলার ভারতবাসী তারা দলে দলে পাকিস্তান ছেড়ে নতুন আশ্রয়ের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে।

কৃষ্ণদাস ঢাকুরিয়া এসেছে বড়দার সাথে আলোচনা করতে। পুরো পরিবারটাই তো পাইকরাটি গ্রামের বাড়িতে পড়ে আছে।

‘পুরা পরিবার বলতে তুই কারে বোঝাস? জানকিও তো আসানসোলে, সেটা তো ইন্ডিয়াতেই পড়সে নাকি?’ বড়দার দিকে তাকিয়ে কৃষ্ণদাস বোঝার চেষ্টা করে যে ঠাট্টা করছে নাকি না জেনে বলছে। আসানসোল-এর অবস্থানটা কৃষ্ণদাস নিজের মনে ভেবে নেয়। বিহার ঘ্যাঁষা। না আসানসোলের পাকিস্তানের দিকে পড়ার কোনো ঝুঁকি নেই। আর এদিক-ওদিক দাঁড়ি কাটাকুটির কাজ তো শেষ। এবার নিজেদের বুঝে নেবার পালা। বড়দা আর মেজদা দূরদর্শী। ১৯৪১ সালে এই দিকে চলে আসে। কৃষ্ণদাসের সেবার ম্যাট্রিক। বরিশাল থেকে পাইকরাটির গ্রামের বাড়িতে এসেছে পরীক্ষার আগে পড়াশুনো করার জন্য। বড়দা আর মেজদার আলোচনা কানে আসে, দু’জনেই নিশ্চিত যে ভারত ভেঙে পাকিস্তান তৈরি হচ্ছেই। দুজনেই পূর্ববঙ্গ ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গ চলে আসে। বড়দা ঢাকুরিয়ায় বাসা ভাড়া করে তবে মেজদা চলে যায় আসানসোলে। এম-এ পাশ মেজদার আসানসোলের ই-আই-আর স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি পেতে অসুবিধে হয় না। দুজনেরই ছেলেমেয়ে নিয়ে ভরা সংসার। বড়দাও এখন স্কুলে চাকরি নিয়েছে। স্কুলের মাস্টারের মাইনে আর কত? মাস চালাতে হিমশিম খেতে হয়। বড়দা প্রথম থেকেই হিসেবি তবে অসুবিধে হয় মেজদার। যেদিন মাইনে পায় মাছ-মাংস-মিষ্টির একেবারে মোচ্ছব লাগিয়ে দেয় বাড়িতে। ভরা সংসার তো আছেই, আর ডেকে আনে কিছু ছাত্রকেও। সবাইকে পাত পেড়ে খেতে দেখে মেজদার বড়ো আহ্লাদ হয়। ঠিক যেন পাইকরাটির গ্রামের বাড়িতে ভোজ খাওয়ানো হচ্ছে। ফলও ভোগে সাথে সাথেই। ১৫ তারিখ যেতে না যেতেই মাইনের টাকা যায় ফুরিয়ে। কৃষ্ণদাসের অবশ্য ওই মেজদার ওপরই টান বেশি।


‘কেন বড়দা ---সেজদা তো ওখানে।’ কৃষ্ণদাসের ওপরের ভাই বিলাস গ্রাম ছেড়ে কোথাও যেতে চায় না। পড়াশুনোও বিশেষ করেনি। বিলাসের কথা শুনে কৃষ্ণদাসের বড়দার মুখ গম্ভীর হয়।

‘বিলাসের কথা বাদ দে, না আছে বোধ-বুদ্ধি না সাংসারিক জ্ঞান। আমার এখানে পরিবারে খাবার মুখ তো নয় নয় করে কম না, আমি কারও দায় নিতে পারব না। ওদিকে সেজ মামিমা চিঠি পাঠিয়েছে আমার গোপাল অনিল ম্যাট্রিক পাশ করে ব’সে আছে। ওদের কলকাতায় কোনও চাকরি যদি ক’রে দিতে পার, ভাব একবার!’ বড়দার শ্বশুরবাড়ির অবস্থা ভাল, বড় বউদির তাই দেমাক আছে। শ্বশুরবাড়ির কাউকে তেমন পছন্দ করে না। অবশ্য কৃষ্ণদাসের ব্যাপার আলাদা। পড়াশুনো শেষ করে কৃষ্ণদাস কলকাতায় এসেছে, সওদাগরি অফিসে চাকরি করে, এখনও বিয়ে করেনি। বরং মেসে থাকে বলেই বড় বউদি আপত্তি করে –কৃষ্ণদাস তো আমাদের লগেই থাকতে পারে। কৃষ্ণদাস বড়দার খাটের ওপর ময়লা মশারির দিকে তাকায়। যেন শামিয়ানা কিন্তু খুবই দৃষ্টিকটু তার চেহারা। মশারি খুলে পাট করে না কেন? দিনের বেলা চারদিকের কাপড় তুলে রেখে দেয়। দু’কামরার আলোহীন ঘর আরও অন্ধকার হয়ে থাকে।

বড়দা প্রকাশচন্দ্র বসে আছে একটা কাঠের চেয়ারে, সামনে ছোট কাঠের টেবিল। সেই টেবিলে অবিন্যস্ত বহু জিনিস। টেবিল ক্লথের আসল রঙ আর বোঝা যাচ্ছে না। চশমা খুলে ধুতি দিয়ে মুছলেন বড়দা। হাতে কৃষ্ণদাসের আনা খবরের কাগজ আনন্দবাজার পত্রিকা। প্রথম পাতায় লেখা –নূতন যুগ সূর্য উঠিল ছুটিল তিমির রাত্রি।

প্রকাশচন্দ্র বিড়বিড় করেন, “ছুটিল তিমির রাত্রি।” সামনে বসে ছোট ভাই কৃষ্ণদাস। লম্বা ঋজু চেহারা। তেইশ বছর বয়েস তবে কৈশোরের সারল্য মুখ থেকে এখনও কাটেনি। চোখে মুখে উত্তেজনার ছাপ। যদিও বড়দার সামনে চুপ করে থাকে। আজ বলল –

‘বড়দা আবার আজ খবরটা ছেপেছে ২৩ নম্বর পাতায়, –রাশিয়া যাইবার পথে নেতাজির মৃত্যু, এটা কি সত্যি? কজন বিশ্বাস করে!’

আজ খবরের কাগজ বেশ মোটা, চব্বিশ পাতার। প্রথম পাতায় অনেকের ছবির সাথে সুভাষ বোসের ছবিও বেরিয়েছে। আর অজস্র বিজ্ঞাপন। প্রকাশচন্দ্রের চোখ পড়ে বিজ্ঞাপনে। এরাও চোখে পড়ার মত ছন্দ বেঁধেছে। দ্বারিক থেকে মনীন্দ্র ব্যাঙ্কিং কর্পোরেশন, মীরা পাদুকালয়। বিড়ি ট্রেডিং কোম্পানি থেকে জাতীয় পতাকা সরবরাহ করার বিজ্ঞাপন দেওয়া ডি এন বসু হোসিয়ারি ফ্যাক্টরি। ‘স্বাধীনতার যুদ্ধে যে বীর দেশপ্রেমিকেরা আত্মদান করিয়াছেন তাঁহাদিগকে স্মরণ করি’ –লিখেছে দি ওরিয়েন্টাল মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। প্রকাশচন্দ্র প্রথম কলকাতায় এসে এই কোম্পানিকে কিছুদিন চাকরি করেছেন। ওই কাজ পোষালো না বলে তালদি বয়েজ হাইস্কুলের চাকরিটায় যোগ দেন। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই ঢাকুরিয়ার বাসায় আসা যায়। তাছাড়া বউবাজার স্ট্রীট বড়ো দূর। ভীড় বাসে যাতায়াত প্রকাশচন্দ্র অভ্যেস করে উঠতে পারেননি এখনও। কলকাতায় সবার খুব তাড়া। এ ওকে ঠেলে সে তাকে ফেলে যে কোনোভাবে যেন এগিয়ে যেতে চায়। ছুটে বাস ধরে আবার চলন্ত বাস থেকে কেমন ছুটে নেমেও পড়ে। ট্রাম অপেক্ষাকৃত সুবিধের। ছুটিছাটা থাকলে সেকেন্ড-ক্লাসের টিকিট কেটে প্রকাশচন্দ্র দরকার পড়লে বেরোন। প্রকাশচন্দ্র তাকান ভাইয়ের দিকে –

‘রাত বারোটায় নেহেরুর ভাষণ শোনোসনি? তোদের মেসে কোনো রেডিও নাই?’

‘আছে। সবাই শুনেছে নিচে গিয়ে। আমি শুনিনি। নেতাজীর আরও একটা খবর আজকের কাগজে আছে বড়দা ---নেতাজী ও আজাদ হিন্দ ফৌজ।’ কৃষ্ণদাস দাদার হাতের কাগজের ওপর দিক ধরে সেই পাতা তুলে ধরে। সেদিকে না তাকিয়ে প্রকাশচন্দ্র বলেন –

‘আজ ঢাকুরিয়ার বাজারে তো শুধু আলোচনা জহরলালের বক্তৃতা নিয়ে’ প্রকাশচন্দ্রের চোখ পড়ে অন্য এক বিজ্ঞাপনে। ধর্মতলা স্ট্রীটের আশুতোষ দাঁ এন্ড কোম্পানির রিভালভারের বিজ্ঞাপন। আজ থেকে সামনের এক সপ্তাহ এরা রিভালভারের জন্য হ্রাসমূল্যে অর্ডার নেবে। লিখেছে ---স্বাধীন ভারতে শিকার ও আত্মরক্ষার প্রয়োজনে দেশবাসী অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহারের অধিক সুযোগ পাবেন। প্রকাশচন্দ্র ভাবেন নিজেদের দেশ স্বাধীন হবার পর আবার কাদের থেকে আত্মরক্ষা করতে হবে? এক বছর আগের ভয়াবহ স্মৃতি মনে পড়ে যায়, প্রকাশচন্দ্র দ্রুত চোখ অন্যদিকে সরিয়ে নেন।

‘রাস্তা-ঘাটের অবস্থা কেমন দেখলি? কোনো অশান্তি নাই তো?’

‘না, আজ তো সব উৎসবের মেজাজে। আপিস, দোকান, বাড়ির ছাদে পতপত করে পতাকা উড়ছে। হৈহৈ, মিষ্টি বিতরণ। ও আমি একটা ওভালটিন এনেছি, আগেরটা খেয়েছিস?’ কৃষ্ণদাসের পাশে রাখা প্যাকেটের দিকে প্রকাশচন্দ্রের নজর পড়েছিল আগেই। আশা করছিল প্যাকেটটি এ-বাড়ির জন্যই হবে, ভাই নিশ্চয়ই খালি হাতে আসেনি, অন্তত আজকের মতো দিনে। প্রকাশচন্দ্রের খারাপই লাগছিল এতক্ষণ, দেশের স্বাধীনতা পাবার দিনে কৃষ্ণদাস বড়ো দাদার সাথে দেখা করতে এলো খালি হাতে! এক হাঁড়ি মিষ্টি না নিয়ে। যাইহোক কিছু এনেছে তাহলে।

‘ওভালটিন খেতে মন্দ না, স্বাদ লাগে। তোর বউদি বিকালে এক কাপ করে দেয় রোজ। কইতেসিল যে ফুরায় গ্যাসে। এটা পান করলে দ্যাশের বাড়ীর লালি গাইয়ের কথা মনে পড়ে।’ প্রকাশচন্দ্র ওভালটিনের কৌটোয় হাত বোলান। কৃষ্ণদাস মাথা নিচু করে থাকে। লালি বাড়ির সবার আদরের, দু’বেলা তিন-চার সের করে দুধ দেয়। তবে সবার হাতে দুধ দেয় না। সবচাইতে পছন্দ সেজদাকে।

‘মিমাংসার জন্য একটা সালিশি ট্রাইবুনাল তৈরি করেছে। ভারতবর্ষ আর পাকিস্তানের মধ্যে দেনা-পাওনার বিভাগ।’ ওভালটিন প্রাপ্তির চেয়েও এই সংবাদ প্রকাশচন্দ্রকে বেশি উজ্জীবিত করে। নিজের মত একটা অর্থ করে ভাবেন তাহলে কী পূর্ব-পাকিস্তানে তাদের ঘর-বাড়ি, জমি-জমা, গরু-বাছুর, গাছ-পালা দাম হিসেব করে এদেশ সমমূল্যের সম্পত্তি পাওয়া যাবে?

‘এ তো খুব ভাল, তুই একদিন ওদের অফিসে যা, গিয়ে ফর্ম-টর্ম কি লাগবে নিয়া আয় গিয়া।’ কৃষ্ণদাসের মুখ শক্ত হয়, তবে বড়দাকে কিছু বলে না। ভাবে এই খবরটা না দিলেই পারত দাদাকে। অবশ্য এখন ভাগাভাগির কথাই মুখেমুখে ফিরবে। সবাই এখন উদ্ভ্রান্ত, দিশেহারা হয়ে ঊঠবে। কেউ চাকরি করে ঢাকায় আর বাড়ি চন্দননগরে, মানে অন্য দেশে। কেউ আসানসোলে কোল-মাইনসে চাকরি করছে, পরিবার বরিশালে। এর পরের অবস্থাটা কী হবে কৃষ্ণদাস কল্পনাতেও আনতে পারে না। এবার তারও চোখ পড়ে এক বিজ্ঞাপনের ওপর। নূতন প্রভাতে নূতন সূর্য, জাগিল নূতন রূপে। বিজ্ঞাপন দিয়েছে ঢাকার ঢাকেশ্বরী কটন মিল। কৃষ্ণদাস ভাবে ---কোন নতুন সূর্যের কথা এখানে বলছে, ভারতের না পাকিস্তানের?




লেখক পরিচিতি:
সুদেষ্ণা দাশগুপ্ত
জন্ম বর্তমান ঝাড়খন্ডের শিল্পনগরী সিন্দ্রিতে। আদিবাড়ি ওপার বাংলার ময়মনসিংহ। তাঁর জীবনের বড়ো অংশ কেটেছে উত্তর ভারতের বিভিন্ন শহরে। পড়াশোনা মূলত ঝাড়খন্ড ও পশ্চিমবঙ্গে। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেছেন প্রায় দু’দশক। এখন পাকাপাকি কলকাতার বাসিন্দা। মূলত ছোটগল্প লেখেন। গত কয়েক বছরে দুই বাংলার ছোট-বড়ো নানা পত্রিকায় ছাপা হয়েছে তাঁর ছোটগল্প। তাঁর একটি গল্প-সঙ্কলনের নাম “গল্প সপ্তদশী”। পাশাপাশি অনুবাদ করে চলেছেন বিদেশি গল্পও। এ ছাড়া সুদেষ্ণা একজন বাচিকশিল্পী ও কলকাতা দূরদর্শনের একজন সঞ্চালিকা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ