বৈশাখের ধুধু হাওয়া ধুলো আর শুকনো ঘাসপাতা নিয়ে উড়ছে। ছোট-বড় পোড়া লাল পাথর ছড়ানো ছোট্ট এই মালভূমিটার গায়ে ছিটেফোঁটা ঘাস। সুনির্মল সাইকেল থেকে নেমে গেছে । কেননা চালিয়ে এর ওপরে ওঠা তার পক্ষে সম্ভব নয়। সে সাইকেলটা ঠেলে ঠেলে উঠছে।
বেলা দশটার মধ্যেই রোদের তাপে শরীর চিড়বিড়। তার ওপর রুক্ষ বাতাসে ঠোঁট শুকনো, চোখে জ্বালা। মালভূমির মাথায় আসতেই দূরে গ্রাম দেখতে পেল। সহজাত মাত্রাবোধে গোবর, গৈরিক মাটি আর সাদা মাটি দিয়ে নিকোনো ছোট ছোট খোড়ো- চাল মাটির বাড়ি। দু'একটাতে টালিও আছে। গ্রামটা চারিদিক দিয়ে শাল আর মহুয়া গাছে ঘেরা।
সুনির্মল এবার সাইকেলে উঠে গড়গড় করে মালভূমির ওপর থেকে নামতে থাকে। এটা তার একটা খেলা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায়। প্যাডেল করতে হয়না, নিজে থেকেই কী রকম নেমে যাওয়া। আর নামার শেষদিকে এরকম গতি পায় তার বাহন, যে আপনা আপনি গ্রামটার প্রায় কাছাকাছি চলে আসা যায় ।
এই ব্লকে তাদের অফিস একটা প্রোজেক্ট শুরু করতে চলেছে। প্রোজেক্টের উদ্দেশ্য হচ্ছে গ্রামের মেয়েদের স্বনির্ভর করে তোলা। সুনির্মলকে এই আদিবাসী গ্রামটার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার অফিসারের মতে সেই নাকি ট্রাইবাল বেল্টে কাজ করার পক্ষে ফিটেস্ট। প্রোজেক্ট ডাইরেক্টরের সামনেই সুনির্মলের বিষয়ে পঞ্চমুখ হয়েছিলেন তিনি। দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলার আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতি কিনা কে জানে ।
গ্রামে ঢোকার মুখে, চার বছর আগে তৈরী হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বিরাট বিল্ডিং । চারিদিকে তার মোট সাত একরের বাউন্ডারি। কাঁটাতার। সুনির্মল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পাশ দিয়ে যেতে যেতে দেখতে পেল বাইরে বারান্দায় একটা চেয়ারে বসে কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর দীপক পাণ্ডে খবর কাগজ পড়ছেন একমনে। ভেতরের হলঘরটা থেকে কয়েকজন কর্মচারির গুলতানি আর হাসির আওয়াজ ভেসে আসছে। কী আর করণীয় আছে এই অলস দুপুরে, কপালের ঘাম মুছে সুনির্মল ভাবে।
তিন মাস আগে এই গ্রামে প্রথম মিটিং করেছিল সে। পঞ্চায়েত প্রধান, মোড়ল আর গ্রামের নারী পুরুষদের নিয়ে। পশ্চিম দিকের মহুয়া বাগানে বসেছিল তারা। অনাড়ম্বর সরলতায় প্রোজেক্টের উদ্দেশ্য আর কী ভাবে কাজটা সকলের সহযোগিতায় সংগটিত ভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে, সকলকে বোঝাচ্ছিলো। এমনকি অদূরে কয়েকটা বাচ্চা ছেলে-মেয়েও গাছে হেলান দিয়ে মন্ত্রমুগ্ধ। "সরকার আপনাদের কাছে আসবে" আর "মেয়েদের স্বনির্ভর করাই আমাদের উদ্দেশ্য" এই দুটো কথার উপর পূর্বপরকল্পিতভাবে একটু বেশিই জোর দিতে হচ্ছিল তাকে। জানুয়ারির শীত। মহুয়া বাগানের রোদে এতগুলো আগ্রহে অনুগত প্রার্থীপ্রায় মানুষের মাঝে সুনির্মলের কি কোনও রাজ্যসুখ জাগে। সোচ্চার বুঝতে পারেনা সে। তার পাশে বসে আছেন দীপক পাণ্ডে। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর। তিনি সুনির্মল বক্তব্য মাঝে মাঝে সাঁওতালি ভাষায় বুঝিয়ে দিচ্ছেন সকলকে। ...তখন একজন মাঝবয়সী লোক উঠে দাঁড়ান। একটু আগেও সুনির্মল কথা ও অঙ্গভঙ্গির সাথে সাথে তিনিও নিজের মাথা, হাত ওই ভাবে নাড়াচ্ছিলেন। লুঙ্গি আর ছেঁড়া একটা জামা পরনে। জামাটা যেন তবু তার নয়, তার থেকে শরীরে ছোট অন্য কারও।
লোকটা হাত উঁচিয়ে বলেন—থাম্ বাবু! থাম্ !
সকলে হতচকিত তার দিকে চায়। পুরোপুরি মাতাল হয়ে আছেন লোকটা। দুয়েক জন ধরে বসিয়ে দিতে যায়, কিন্তু পারে না। তিনি তাদের গাল দেন। তারপর পঞ্চায়েত প্রধান আর নির্মলকে ক্রমে ক্রমে দেখে নিয়ে হঠাৎ চেঁচাতে থাকেন- "এ ফালতু মিটিন আছে বাবু! শালা মাদার ইণ্ডিয়া সরকার ! মাদার ইণ্ডিয়া! রোজগার দিবেক ? নিজের ট্যাঙে খাড়া করবে? বাং বাং! তোরা ফালতু বলছিস। সরকার হাথের কাজ শিখাবার ইস্কুল খুললো হামাদের গাঁয়ে , সাহেবরা মোটরে চেপে এল, কঁহে গেল তোরা সেরামিকের কাপ পিলেট আর হাঁথি ঘোড়া বানাবি, রোজগার করবি! সাত একর জমিনে বিল্ডিং মারালো। এই তো বসে আছে ইস্কুলের মাস্টার! সে পাণ্ডের দিকে আঙুল তুলে দেখায় - বলুক! গাঁয়ের কতো জনাকে মাস্টার কাম শিখিয়ে রোজগার দিল বলুক!"
তখন পাণ্ডে তড়িঘড়ি কী একটা বলতে গেলেন। কেবল ফাণ্ড... প্রোজেক্ট - হাইয়ার অথরিটি—এই শব্দগুলো শোনা যায়। মিটিং এর মধ্যে ততক্ষণে জোর কথা কাটাকাটি আরম্ভ হয়ে যাওয়ার পাণ্ডের সমস্ত চেষ্টা চাপা পড়ে যায়। অনেকেই এমনভাবে উত্তেজিত হয়ে ওঠে যেন ধামাচাপা দেওয়া একটা বিষয় যদি কেও টেনেই এনেছে তো খারাপ কিছু করেনি। এসব হচ্ছে সরকারের ভোট নেবার ফন্দি ফিকির আর অফিসারদের লুটেপুটে খাবার রাস্তা। অন্য কিছু না।
...প্রধানের বাড়ির কাছাকাছি সাইকেল থামিয়ে ঝোপের আড়ালে হিসি করে সুনির্মল। সারা শরীর ঘেমে গেছে। গলা শুকিয়ে কাঠ। তার সার্ভে রিপোর্টে প্রধানের আরও কয়েকটা সই নিতে হবে। প্রধানের ঘরের বারান্দায় চেয়ারে বসে কিছুক্ষণ হাওয়ার ঘাম শুকোবে সুনির্মল। তারপর এক ঘটি ঠাণ্ডা জল খেতে হবে তাকে।
প্রধান বন্ধু টুডু বোন্ধু একটু চুপচাপ আর শান্ত স্বভাবের মানুষ। কথা বলেন ভেবে চিন্তে, উত্তেজনাহীন। সে যতবার প্রধানের সাথে দেখা করে, প্রতিবারই সে তাদের প্রজেক্টের খুঁটিনাটি নানা ইনফর্মেশন তাকে দিতে চায়। লোকটা চোখের মধ্যে হাসি নিয়ে তার কথা শুনে যান।
আজ সার্ভে রিপোর্টটা উল্টেপাল্টে বেশ কিছুক্ষণ দেখার পর প্রধান বললেন – আপনি জবাহর রোজগার যোজনার বিষয়ে নিশ্চয় সবকিছু জানেন ?
হ্যাঁ, তা তো জানিই। গ্রামে কত কাজ হচ্ছে...
প্রধান সুনির্মল এর রিপোর্টটা আবার উল্টে পাল্টে দেখেন। এবং সুনির্মলের দিকে না তাকিয়েই বলতে থাকেন - "ধরুন ওই জবাহর রোজগার যোজনার কল্যাণেই আমাদের একটু আপনার বলতে গেলে কি, ইয়ে হয়েছে।" সুনির্মল প্রধানের কথার সমর্থনে মাথা দোলায়। প্রধান তখন আরোও বলেন, "তো, ওই স্কিম-টিস্কিমগুলো থেকে কিন্তু আমরাও একটা পার্সেন্টেজ পাই–হুঁ?
"আচ্ছা...। পার্সেন্টেজ । হ্যাঁ, তা তো পান, জানি।"
প্রধান তার বসার ভঙ্গী বদলান। – এই ধরুন, তা, আপনাদের প্রোজেক্টে কত টাকার এস্টিমেট করেছেন ?
আপনাদের পঞ্চায়েতে, সার্ভে রিপোর্ট থেকে আন্দাজ করছি আরকি, প্রায় বাইশ লক্ষ টাকার মত হবে।
বাইশ লাখ। এতে আপনারা পাশেন্টেজের ব্যাপারটা কিরকম রাখবেন ? বন্ধু টুডু খুবই সহজ সরল ভাবে জানতে চান।
এই কথা শুনে সুনির্মল হৃদ্যতা মাখানো হাসি হেসে ওঠে। আরে টুডু বাবু! আপনাকে বলেছি না, এটা একটু আলাদা রকমের প্রোজেক্ট। এটাতে মানে ঐ আপনার ওসব হয়ত থাকবে না। তাছাড়া আপনার গ্রামের মেয়েরাই তো স্বনির্ভর হবে। কাজটা একটু আলাদা, না কী ?
– সে ঠিক আছে। কাজটা ভালই। টুডু তার অভ্যস্ত লক্ষ্যে নিরুত্তাপভাবে স্থির থাকেন -"তবু তো । এই যে আপনি রোদে রোদে ঘুরছনে, এই যে আমি মাথা খাটাচ্ছি—কাগজ- পত্র দেখছি, আমরাও তো কিছু আশা করব। সব জাগাতেই হয়। আপনিও দেখছেন।"
সুনির্মল আরও শান্তভাবে বলে - ঠিক আছে টুডু বাবু। আরে, সময় আসুক, সব হবে। আপনার কাছে কি কিছু লুকোনো থাকবে নাকি। কাজটা তো আগে আরম্ভ হোক । আপনি নিজের অটোগ্রাফ তো দিন রিপোর্টে। বলে সে অপ্রস্তুত ভাবে হাসে।
।।দুই।।
সুনির্মল একদিন মারাং আর বুধনাকে কথায় কথায় বলেছিল তার সাঁওতালি ভাষা শেখার ইচ্ছের কথা। তোমাদের সাথে কাজ করছি, আর তোমাদের ভাষা জানিনা। শেখাও না একটু আধটু তোমরা। মারাং আর বুধনা তখন নিজেদের মধ্যে সামান্য আলোচনা করে বলে যে একটা মেয়ে আছে গ্রামে। মেরী। মিশনারি স্কুলে কিছুদূর লেখা পড়াও করেছে সে। তার কাছ থেকে সাঁওতালি ভাষা শেখা আপনার পক্ষে সহজ হবে। ও তো লেখাপড়া জানে । তারা সুনির্মলকে গ্যাব্রিয়েলের বাড়ি নিয়ে যায়। সুনির্মল গ্যাব্রিয়েলকে দেখে অবাক। এ তো সেই লোক, যে প্রথম দিনের মিটিঙে মাতাল হয়ে বারোটা বাজাচ্ছিল। গ্যাব্রিয়েল খুব খাতির করে উঠোনের গাছের ছায়ায় খাটিয়া পেতে বসান সুনির্মলকে। একটা তেল চিটচিটে কাঁথা বিছিয়ে দিয়েছেন খাটিয়ায়। তাঁর বউ কাঁসার একটা বড় ঘটি করে জল এনে তার সামনে রাখেন। সুনির্মল বাঁ হাত মুঠো করে ডান হাতের কনুই এ ঠেকিয়ে ডান হাত মুঠি করে নিজের কপালে ছোঁয়ায়। গ্যাব্রিয়েল তার ডান হাত উচু করে অভিবাদন জানান। তার বউকেও সুনির্মল একইভাবে নমস্কার করে। মারাং আর বুধনা সাঁওতালি ভাষায় কী কী সব বলে গ্যাব্রিয়েলকে। তারপর তারা চলে যায়।
গ্যাব্রিয়েল খাটিয়ায় বসে নানান রকমের গল্প শুরু করেন। তার ভাব দেখে মনে হয়, সুনির্মল যেন তাঁর বাড়িতে স্থায়ী ভাবে থাকার জন্য এসেছে, কোনও কাজ নেই, তাড়া নেই, কেবল তার কথা শুনে যাওয়া আছে ।
..."বাবু গাঁয়ে আমার অল্প কিছু জমি আছে। কিছু ভুট্টা হয়, কিছু হয় ধান। বছর ভর তাও চলে না ভালো মতো। আকাশের জল দিয়ে কত আর কী হয় বাবু। বেটা আছে একটা ৷ শালা ঘরে থাকেনা । এম. এল. এ বাবুর পিছে পিছে ঘুরে। পাটি করছে! বলে সন্থাল সমাজের লেগে কাম করছে। নাকি বলে, আদিবাসীদের রাজ চাই। আর ছোট একটা ছেলে আছে, সে আর কত করবে। আমি একা একা খেটে মরি..." গ্যাব্রিয়েল ম্লান হেসে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকেন। কানে গুঁজে রাখা আধপোড়া চুটি বের করে আগুন ধরান। এক বুক ধোঁয়া ছেড়ে আবার শুরু করেন।
..."পাটি তো পারটি। সেই তো খালি মিটিন আর ভোট। আমি বলি বাবু নেতা ছাড়া কারও লাভ নাই।"
পরন্ত বিকেলে খাটিয়ায় নিশ্চিত বসে বসে সুনির্মল শুধু শুনে যায়। গ্যাব্রিয়েল ঘরে ঢুকলেন একসময়। একটা মাটির হাঁড়ি আর ছটো দুটো কাপ নিয়ে বেরিয়ে এসে চোখ নাচান "একদম পিউর, পিউর মহুয়া আছে বাবু !"
দুজনে নিঃশব্দে ধীরে ধীরে মহুয়ার কাপে চুমুক দিয়ে যায়। চরাচরে শুধু প্রকৃতির জীবেদের আবহসঙ্গীত।
"বাবু!" যেন স্বপ্ন থেকে জেগে, ডেকে ওঠেন গ্যাব্রিয়েল। সুনির্মল সামান্য নেশাগ্রস্ত চোখে চমকে তাকায়।
"বাবু! আমি ছোটলোক বাবু। কিন্তু আমার দিল-"
তিনি নিজের বুকে হাত দিয়ে দেখান, "আমার দিল-"
সুনির্মল মাথা নাড়িয়ে কী যেন স্বীকৃত করে। তারপর দুজনই হেসে ওঠে।
সেই সময় তিন-চারটে ছাগল নিয়ে একটা কুড়ি-একুশ বছরের মেয়ে উঠোনে ঢোকে । সুনির্মল কে দেখে তার স্বাভাবিক গতি একটু বিচলিত হয়। বলে, জোহার বাবু!
জোহার ! হুঁ। এই তবে মেরী। মেয়েটি তার মুখচেনা।
মেরী বারান্দায় ছাগলগুলো বাঁধছে। গ্যাব্রিয়েল তাকে নিজেদের ভাষায় কিছু বলেন। মেরী খিলখিল করে হেসে ওঠে "বাবু ! আপনি সাঁওতালি ভাষা শিখবেন!" কালো চিকণ মুখ। ছিমছাম শরীর। লাল রং স্কার্টের ওপর হলুদ আর কালো প্রিন্ট একটা সার্ট পড়েছে। দুপাশে দুটো বেণী। কী যে হলো, কোনও কথা না বলে সুনির্মল টলমল মাথা ঘুরিয়ে দেখছে শুধু তাকে । মেরীর কাচ-ভাঙা হাসি নির্মলের রক্তে ছড়িয়ে যায়।
ঠিক আছে, খাতা-কলম নিয়ে আসবেন, আমি শিখিয়ে দেব। আগ্রহ নিয়ে বলে মেরী । গ্যাব্রিয়েল এমন ভাবে হেসে ওঠেন, যেন খুব মজার কোনও কথা বলেছে মেরী ।
।।তিন।।
প্রথম দুই-তিন মাস পরিশ্রমটা সাধারণত একটু বেশিই করতে হয় এই ধরণের কাজে। ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন খুঁটিনাটি ইনফর্মেশন সংগ্রহ করা, সেগুলো কম্পাইল ও একটি এনালাইসিস করে রিপোর্ট তৈরী করা। সুনির্মল এর ডিপার্টমেন্ট খুব ভালভাবে গ্রামগুলো স্টাডি করবার পর প্রোজেক্টের কাজ আরম্ভ করতে চায়। মূলত গ্রামের মেয়েদের অর্থনৈতিক ভাবে স্বনির্ভর করে তোলাই এই প্রোজেক্টের উদ্দেশ্য। প্রয়োজন মতো হয়ত আরও অনেক সরকারি-অসরকারি সংস্থা কে এই কাজের মধ্যে টেনে আনা হবে। মোট কথা, এটা মাথায় রেখেই এগোনো হবে, যেন কাজটা সামগ্রিক আর নিখুঁত একটা চেহারা পেতে পারে। প্রথম দফার সার্ভের কাজ শেষ করার পর সুনির্মল আজকাল একটু স্বস্তি পেয়েছে। তবু মাঝে মাঝেই এই গ্রামে আসতে হচ্ছে তাকে। তার একদফা সার্ভে শেষ হয়ে গেছে, এখন প্রাথমিক ও পরীক্ষামূলক কাজ আরম্ভ হবার অপেক্ষা। কিন্তু মেরীর কাছে সাঁওতালি ভাষা শিখতে তাকে আসতে হয়। হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর পাণ্ডের সাথেও পরিচয় ক্রমে ঘন হয়ে উঠেছে । সেখানে বসে কখনও খবর কাগজ পড়ে। কোনও দিন অনেকক্ষণ ক্যারাম খেলে দু জনে মিলে।
পাণ্ডে মাঝে মাঝে হা হুতাশ করেন – আর কী বলব মশাই আমার বিভাগের কাজের কথা । উপর উপর চেটে নিচ্ছে সব, নীচে শালা কিছু আসেই না! ফান্ড ঘাঁটাঘাঁটি করতে না পারার হতাশায় উদাস ভাবে, তবুও হাসেন। আর দেখুন না, বলে লোকে, নাকি বসে বসে বেতন নিচ্ছি আমরা। আরে মশাই প্রোডাকশনের স্কোপ দিচ্ছে কই উপরবালারা ? একটা বিল তো পাশ করতে চাচ্ছেনা। আমাদের এই সেন্টারে গত তিন বছরে মাত্র দশ জনকে টেনিং দিয়েছি । পাণ্ডে সিগারেট ঠোঁটে চাপেন- কিন্তু তা দিলে কী হবে ? কাজ আরম্ভ করার জন্য আজও লোন পেল না ওরা। আমাদের হায়ার অথরিটি থেকে নিয়ে ধরুন ওই ব্যাঙ্ক, সব জাগাতেই নানা টালবাহানা আর পয়সার খেলা। সুনির্মল বলে, এতে তো আপনাদের ইমেজ খারাপ হয়েছে!
একশো বার হয়েছে! পাণ্ডে উত্তেজিত হন। গ্রামের লোক আমাদের এখন আর পাত্তাই দেয়না । চীট ভাবে । আর প্রথম প্রথম যে কী খাতির করেছে বলার নয় মশাই। বধনা পরবে গোটা-গোটা মুর্গি খাইয়েছে একেক জনকে। পারে তো মাথায় তুলে নাচে । সেই সুখ-সময়ের স্মৃতি মাথায় নিয়ে পাণ্ডে ক্যারামের স্ট্রাইকার আঙুলে ঠেকিয়ে বিভোর হয়ে যান।
...এরকমই এক উদ্যমহীন দুপুরে সুনির্মল বাধ্য ছাত্রের মত মেরীর কাছে যায় ৷
মেরীর মা ছাগল নিয়ে মাঠে গেছে আর ওর কিশোর ভাই যোশেফ উঠোনের একটা ছোট গাছের সাথে কাচিয়া বেঁধে তাতে একমনে খড় কেটে যাচ্ছে। সিটি বাজিয়ে গানও ধরেছে একটা, শীতের উদাস বাতাসে। উঠোনে কাঁঠাল গাছের ছায়ায় খাটিয়া পেতে বসে আছে সুনির্মল । মেরী স্নান করে খেতে গেছে ঘরের ভেতরে । তখন কোথায় থেকে যেন টলতে টলতে ফিরে এলেন গ্যাব্রিয়েল । পা ঘষে ঘষে চলছেন। সুনির্মল এর সামনে এসে নিঃশব্দে কিছুক্ষণ লক্ষ্য করলেন তাকে। তারপর গম্ভীর ভাবে হ্যান্ডশেক করলেন ।
"আমি ঝাঙা-মাঙা আদমি না! আমি সাফ লোক আছি।" গ্যাব্রিয়েল বলেন এবং দপ করে খাটিয়ায় বসে পড়েন, "তুই বাবু ভিতরে যা! আমি ঘুমাব এখানে!”
সুনির্মল বারান্দায় উঠে দেখল মেরী মাটির দেওয়ালের সাথে গেঁথে রাখা একটা গোল আয়নায় মুখ দেখছে আর তার পুরু ঠোটে আঙুলে করে সর্ষের তেল ঘষছে। তাকে দেখে এক মুহূর্ত কেমন লজ্জায় গুটিয়ে গেল মেরী৷ তারপর স্বাভাবিক হয়ে জিজ্ঞাসা করল "খাতা-কলম এনেছেন?" বলেই, স্বভাব মাফিক ফিক করে হাসে।সেই হাসিতে সুনির্মল এর নেশা হয়। সে একটা মাদুরের ওপর বসে পড়ে। মেরী, আমি বাংলায় বলছি তুমি সেটার সাঁওতালি কী হবে বলো।
আচ্ছা, বলুন। শরীর ভেঙে ভেঙে হাসে মেরী।
"আমি বাড়ি যাব" কি হবে ?
ইন দ ওড়াতে চলাআ।
আমি আজ বাড়ি যাবনা ।
তি'হি ওড়াতে বাং চলাআ।
সুনির্মল প্রশ্ন করতে থাকে, "আবার কাল আসব" কী হবে?
"আরহ গাপা হিযুআ" বলতে বলতে মেরী সুনির্মল এর পাশে এসে দাঁড়ায়। একদম কাছে। বলে, এইভাবে হবেনা বাবু ! প্রথম থেকে শিখতে হবে। সুমির্মল তার খুব কাছে দাঁড়িয়ে থাকা মেরীর আঙুলে টোকা মেরে বলে, ইস! দিদিমনি একেবারে! মেরী খিলখিল করে হেসে তার পাশে এসে বসে।
কিছুক্ষণ কেও কথা বলেনা। কিছু পরে সুনির্মল আবার প্রশ্ন সাজায়, "তুমি দেখতে খুব সুন্দর" এর সাঁওতালি কী ?
ফিক করে হেসে মেরী বলে- আম দো এডি মোজ এলো কানা ।
আর, ইয়ে মানে কি মেরী, ঐ তোমার লাভ, প্রেম ?
"দুলোড়"! বলে সে আবার হাসে ।
"কিস" মানে ? কিস ?
চো..হিহি চো...ভাগ !
সুনির্মল বুক-ফাটা তেষ্টায় কাতর হয়। কণ্ঠ শুকিয়ে কাঠ। উঠোন থেকে যোশেফের ক্যাচ- ক্যাচ খড় কাটার শব্দ। গ্যাব্রিয়েলের বিকট নাক ডাকার
আওয়াজ। আর কাঁঠাল গাছে বসে থাকা পাখির কিচ কিচ। আমাকে একটা চো দেবে? কিস?
মেরী কথাটা সাঁওতালী ভাষায় অনুবাদ করে ।
একই কথা পুনর্বার বলে সুনির্মল।
মেরী আবার কথাটা অনুবাদ করে শোনায় ।
মাত্র একটা ? কিন্তু এবারও যখন মেরী উত্তর না দিয়ে অনুবাদ করে, তখন সুনির্মল তার কাঁধ ধরে তাকে নিজের দিকে টেনে নেয় ।
মেরী বাধা দেয়না। শুধু মাঝে মাঝে বলতে থাকে- হ্যাপে! হ্যাপে ! থাম, থাম!
॥ চার।।
বেশ কিছু দিন পর আজ আবার এই গ্রামে এসেছে সুনির্মল। এর মধ্যে তাদের প্রোজেক্টকে কেন্দ্র করে অফিসে একটা ঝামেলা আরম্ভ হয়েছে। হেড অফিস তাদের পাঠানো রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে কমেন্ট আর গাইড লাইনস পাঠিয়েছে। সেই চিঠি দেখে তো তার মেজাজ খারাপ। আবার নতুন করে সার্ভে করতে হবে। তার আবার আলাদা পরিশ্রম তো আছেই, সাথে নানা রকমের ফ্যাকড়া যোগ হয়েছে। আগের রিপোর্ট অনুযায়ী যারা এই প্রোজেক্ট থেকে বেনিফিট পেতে পারত, তাদের অনেকেরই নাম এবার বাদ যাবে। তার মানে নতুন করে সার্ভে করতে আবার তিন/চার মাস সময় লাগবে। তারপর তা কমপাইল করা হবে, হেডঅফিসে পাঠানো হবে, সেখানে মিটিং হবে দফায় দফায়, তবে গিয়ে হয়ত বাস্তবায়িত হতে পারবে প্রোজেক্টের কাজ। ধরে নেওয়া যায় প্রায় আট-দশ মাস এভাবেই কেটে যাবে । সময় আর পরিশ্রমের অপচয়। এদিকে গ্রামের লোকেদের কাছে তাকে জবাব দিতে হচ্ছে প্রায়ই। তারা জানতে চাচ্ছে কবে থেকে কাজ আরম্ভ হবে।
কী বলবে সুনির্মল। প্রায় প্রতিটা সরকারি প্রোজেক্টেরই তো এই দুরবস্থা। গ্রামের লোকের ক্রমশ জমে ওঠা অবিশ্বাস আর শাসনতন্ত্রের প্রতি উদাসীন অনাস্থার সামনে দাঁড়িয়ে কোনও কৈফিয়ৎ দিতে গেলে নিজেকে কেমন যেন হীন মনে হয় তার। তাছাড়া, বলার মতো জোরালো কোনও আত্মবিশ্বাসও তো তার নেই । কী করে নিশ্চিত ভাবে কিছু বলতে পারবে সে।
ধীরে ধীরে সাইকেল চালিয়ে গ্রামের দিকে চলেছে সুনির্মল। সমস্ত ব্যাপারটাকে তার একটা টেকনিকাল শব্দ নির্ভর লুঠতরাজের আঁতাত বলে মনে হয়। ঠিক কবে তাদের এই প্রোজেক্টের কাজ বাস্তবে আরম্ভ হবে সে জানেনা। গরীব, অক্ষর জ্ঞানহীন এই মানুষগুলো কাজ পেতে চায়। বর্তমান অবস্থা থেকে অবশ্যই পরিত্রাণ পেতে চায়। সুনির্মল নিয়ে এসেছিল ত্রাণপ্রস্তাব । বার্তা। কিন্তু সরকারি তন্ত্রের বিপুল ধীর গতি, আমূল আলসেমি আর লোলুপ পদক্ষেপে হয়ত আরও একটা প্রবঞ্চনার ইতিহাস তৈরি হবে সুনির্মলের মাধ্যমে।
গ্রামে ঢুকে তার মনে পড়ল মেরী এখানে হয়ত নেই । এই সময় তার মামার বাড়ি যাবার কথা ছিল, মামার ছেলের বিয়েতে। তবু যদি না গিয়ে থাকে, কিংবা যদি গিয়ে আবার ফিরেও এসে থাকে এত দিনে। তাই সুনির্মল প্রথমে মেরীদের বাড়িতেই ঢুকল। ...গ্যাব্রিয়েল আজ সাতসকালেই মাতাল হয়ে আছেন। মেরী আজও ফেরেনি। মেরীর মা বারান্দার কাঠের উনুনে রান্না চাপিয়েছেন। গ্যাব্রিয়েল উঠোনে খাটিয়ায় পা তুলে বসে গলা ছেড়ে একটা দং সিরিং গাইছেন, বিয়ের গান ...
"কুড়ি কুড়া মিত সঙ্গে চালা কানা ..."
সুনির্মল কে দেখতে পেয়ে গান থামিয়ে বসতে বললেন। মেরীর মা নিভন্ত কাঠে ফুঁ দেওয়ার মাঝে তাকে দেখে হাসেন । “ঠাণ্ডা চা খাবি বাবু না গরম চা?" গ্যাব্রিয়েল জানতে চান ।
কিছুই খাবনা। সুনির্মল খাটিয়ায় ভাল করে বসতে বসতে বলে। গ্যাব্রিয়েল হাঃ হাঃ করে হাসেন - "ঠান্ডা খেলে একদম পিউর মাল পাবি!"
"না, এখন ইচ্ছে করছে না কিছু।"
"কিছু না? ভাত? চুটি খা তব" বলেই গ্যাব্রিয়েল আবার চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে গাইতে থাকে না : হেণ্ডি টুকুই দিপিল কাতে ...
একটু পরে গান থামিয়ে সুনির্মল এর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন এক দৃষ্টিতে । তাপের ফিসফিস করে বলেন, "বাবু, মেয়ে আমার স্বনির্ভর হয়েছে বাবু! জানিস না? থাম থাম, তোকে দেখাচ্ছি।" বলে তিনি খাটিয়া থেকে নেমে টলতে টলতে ঘরের ভেতর যান। গুনগুন করে তখনও সিরিং চলছে। সুনির্মল অবাক হয়ে তার কাণ্ড দেখে। কী যে দেখাবেন বলে গ্যাব্রিয়েল ভেতরে গেলেন কে জানে ৷ মাতালের কোনও ঠিক আছে। তবু যেন মজা পায় সুনির্মল।
গ্যাব্রিয়েল একটা প্লাষ্টিকের থলে হাতে উঠোনে নেমে আসেন। তারপর উঠোনে দাঁড়িয়ে জাদুকরের মতো কায়দা করে থলের ভেতর হাত ঢোকান। একটা পাউডারের কৌটো বের করে মাটিতে ফেলে দেন- দ্যাখ বাবু!
তারপর একটা শাড়ি বের করে আবার মাটিতে ফেলে দিয়ে উল্লাসে চিৎকার করে উঠেন— এই দ্যাখ! এইভাবে তিনি একে একে তিনটে ব্লাউজ, ছয় খানা ব্রেসিয়ার, একটা চুলের তেলের শিশি, একটা চাঁদির হার, আর একটা ইলেকট্রনিক ঘড়ি উঠোনে ছড়িয়ে ফেলেন। গ্যাব্রিয়েলের বউ উঠোন আর বারান্দার মাঝখানে এসে ফ্যাকাসে মুখে ম্লান হাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছেন । সুনির্মল নির্বাক বসে আছে।
এবার গ্যাব্রিয়েল তার কোমরে গুঁজে রাখা কয়েকটা পাঁচ শো টাকার নোট বের করে শূন্যে নাচাতে থাকেন। তার সমস্ত শরীর টলমল করছে। হো হো করে হেসে ওঠেন- এই দ্যাখ বাবু! মেয়ে আমার কত ভাল। কদিন থাকবে না বাড়িতে তাই সংসার চালানোর খরচও দিয়ে গেছে ! দ্যাখ !
গ্যাব্রিয়েল আবার চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে দং সিরিং গাইতে থাকেন। আর উঠোনে ছড়িয়ে ফেলা জিনিস গুলো থলেতে পুনরায় ভরতে থাকেন।
সুনির্মল নিঃশব্দে রাস্তায় বেরিয়ে আসে।
সে খুব ধীরে সাইকেল চালিয়ে গ্রাম থেকে বেরিয়ে আসছে। আজ আর কোনও কাজ করতে পারবেনা এখানে। সমস্ত চেতনা ভোঁতা হয়ে গেছে তার। শরীরও অবসন্ন মনে হচ্ছে। গ্যাব্রিয়েলের ছড়িয়ে ফেলা জিনিসগুলোর মধ্যে মাত্র দুটো জিনিস সে সনাক্ত করতে পেরেছে । চাঁদির হারটা সেই দিয়েছিল মেরীকে। আর শাড়িটা গতমাসে শহরের দোকান থেকে পাণ্ডে কিনেছিলেন। সেও সঙ্গে ছিল। পাণ্ডে বলেছিলেন বউ এর জন্য কিনছি। আর কোনও কিছু সনাক্ত করতে পারেনা সে। গ্যাব্রিয়েলের হাতের টাকাগুলোকেও না।
...সুনির্মল যখন সাইকেল চালিয়ে গ্রামটার মাঝামাঝি এল, তখন দেখতে পেল রাস্তার মধ্যে
ধুলো নিয়ে একটা বাচ্চা মেয়ে একমনে খেলা করছে। সুনির্মল কাছাকাছি এলে মেয়েটা তাকে দেখতে পেল। এক মুহূর্ত সূর্নির্মল কে দেখে সে হঠাৎ খেলা ছেড়ে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে পালাতে থাকে আর ভয় পাওয়া গলায় চেঁচাতে থাকে — গোগো ! সোরকার হিঞ্জুকানা গো গো ! মেরী থাকলে ফিক করে হেসে অনুবাদ করে দিত— "মা ! সরকার আসছে মা!"
লেখক পরিচিতি
সঞ্জীব নিয়োগী
জন্মঃ ১৯৬৬
জন্মস্থানঃ পাকুড়,ঝাড়খণ্ড (তৎকালীন বিহার)। পৈত্রিক নিবাসঃ কোটাল পুকুর, সাহেবগঞ্জ, ঝাড়খণ্ড।পূর্বপুরুষ দেশ ভাগের অনেক আগেই ভাগ্যান্বেষণে ঢাকা থেকে আগত। পৈত্রিক নিবাস ছাড়াও পরবর্তীকালে মুর্শিদাবাদের লালাবাগে বসতি স্থাপন। বিগত প্রায় এক দশক কর্মসূত্রে মালদহ জেলায় অবস্থান।
প্রকাশিত বইঃ একটি সুইসাইড নোট বা পোস্টমর্টেম রিপোর্ট (নভেলা ১৯৯৩), মোষ একটি বর্ণান্ধ চতুষ্পদ প্রাণী (গল্প ১৯৯৭), সুদূরপ্রসারী লিপস্টিক (কবিতা ২০১১), গড়দূরত্বের স্বরলিপি (কবিতা ২০১২), অগল্পনীয় গল্প ২০১৮), মউলডাঙা (উপন্যাস ২০১৯), প্রেসক্রিপশনের বাইরে ও অন্যান্য গল্প (গল্প ২০২০) , খাঁচা বিষয়ক অন্যান্য গল্প (গল্প ২০২০), স্বাদ বিষয়ক অভিজ্ঞতা (২০২৩)।
সম্মাননা:কবিতা পাক্ষিক ৫০০ সম্মাননা ২০১২।
সঞ্জীব নিয়োগী
জন্মঃ ১৯৬৬
জন্মস্থানঃ পাকুড়,ঝাড়খণ্ড (তৎকালীন বিহার)। পৈত্রিক নিবাসঃ কোটাল পুকুর, সাহেবগঞ্জ, ঝাড়খণ্ড।পূর্বপুরুষ দেশ ভাগের অনেক আগেই ভাগ্যান্বেষণে ঢাকা থেকে আগত। পৈত্রিক নিবাস ছাড়াও পরবর্তীকালে মুর্শিদাবাদের লালাবাগে বসতি স্থাপন। বিগত প্রায় এক দশক কর্মসূত্রে মালদহ জেলায় অবস্থান।
প্রকাশিত বইঃ একটি সুইসাইড নোট বা পোস্টমর্টেম রিপোর্ট (নভেলা ১৯৯৩), মোষ একটি বর্ণান্ধ চতুষ্পদ প্রাণী (গল্প ১৯৯৭), সুদূরপ্রসারী লিপস্টিক (কবিতা ২০১১), গড়দূরত্বের স্বরলিপি (কবিতা ২০১২), অগল্পনীয় গল্প ২০১৮), মউলডাঙা (উপন্যাস ২০১৯), প্রেসক্রিপশনের বাইরে ও অন্যান্য গল্প (গল্প ২০২০) , খাঁচা বিষয়ক অন্যান্য গল্প (গল্প ২০২০), স্বাদ বিষয়ক অভিজ্ঞতা (২০২৩)।
সম্মাননা:কবিতা পাক্ষিক ৫০০ সম্মাননা ২০১২।


1 মন্তব্যসমূহ
সঞ্জীব নিয়োগীর গল্পটি খুবই ভালো লাগল
উত্তরমুছুন