আমাদের পাড়ায় থাকত মাস্টারগিন্নি। ময়লা সাদা শাড়ি, খালি পা। চোখে চশমা আর পিচুটি। সত্তরের বেশি বয়সের থপথপে এক মহিলা। থাকত আমাদের খেলার মাঠের পাশে ছোট্ট একটা ঘরে।
কোনও এক মাস্টারের পত্নী ছিল সে। মাস্টারকে কোনওদিন দেখিনি। অনেককাল আগেই গত হয়েছিল মাস্টার। কেন তাকে মাস্টার বলা হতো সেটাও জানা ছিল না। তখন নেহাতই ছোট আমি। শব্দের উৎস খোঁজার মতো বয়স হয়নি। পরে বাবার মুখ থেকে শুনেছি, মাস্টার আসলে ছেলে পড়াত। মানে টিউশনি করত। জীবিকা নির্বাহে তার আরেকটি সহায় ছিল। বংশ পরম্পরায় পাওয়া পৈতেটি। ব্রাহ্মণ সন্তান। তাই পালাপার্বণে, শনি-মঙ্গলবার পুজোআচ্চা করত। সন্তানহীন দম্পতি। মাস্টারি আর যজমানিতেই দু’টি প্রাণীর চলে যেত। যিনি ওই ব্রাহ্মণপত্নীর নাম মাস্টারগিন্নি রেখেছিলেন তাঁর উচ্চমনের প্রশংসা করতে হয়। তিনি যজমানির জীবিকা অনুযায়ী মাস্টারগিন্নির পরিচয় নির্ধারণ করেননি। না হলে মাস্টারগিন্নিকে লোকে বামুনদিদি বলে ডাকত।
দুই আংশিক সময়ের জীবিকায় দিনাতিপাত হয়ে যেত দম্পতির। যেত মানে যাচ্ছিল আরকী! কিন্তু বেশিদিন কাটল না সে জীবন। সম্পত্তির লোভ পেড়ে ফেলল মাস্টার আর তার গিন্নিকে। মাস্টারের দুই দাদা মিলে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করল ভাইকে। শুধু বঞ্চিতই নয়, ভিটে থেকেও উচ্ছেদ করল ভাই আর ভাইয়ের বউকে। তখন জমিদারি আমল। নায়েবের সঙ্গে দুই ভাইয়ের বেশ ভাবসাব। দু’জনে কলকাতায় চাকরি করে। ছুটিছাটায় নায়েবের জন্য শহর থেকে বিলাতি আনে। ফলে সুবিচার পেল না মাস্টার। তাকে বাড়ি ছাড়তে হল।
সেখানেও এক সামন্ততান্ত্রিক ঘোঁট।
দুই ভাই মিলে আরেক ভাইকে সম্পত্তির একচিলতে ছাড়তে রাজি নয়। কিন্তু নায়েব মাস্টারকে মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই করে দিল। গ্রামের উঠতি এক বড়লোককে বাধ্য করল মাস্টারকে একচিলতে জমি ছেড়ে দিতে। অথচ, জমিদারের দেবোত্তর, চাকরান ভোগ, ঋণের দায়ে প্রজার বাজেয়াপ্ত করা জমির অভাব নেই! ওই উঠতি ধনীর অপরাধ, সে জমিদারের বাড়ির সামনেই পাকা দালান তৈরির স্পর্ধা দেখায়। জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজোর জাঁকের এক মাসের মধ্যে জমকালো কালীপুজো করে।
এসব আমার দেখার কথা নয়। দাদু-বাবা-পাড়ার লোকেদের মুখ থেকে শোনা টুকরো কথার স্মৃতি-জোড়া ইতিহাস।
স্মৃতি সতেজ হল মাস্টারগিন্নির সেই একচিলতে বসত দেখে। অনেকদিন পরে গ্রামে ফিরেছি। যাচ্ছিলাম ওই জায়গাটা দিয়ে। না, সেই দরমার দেওয়াল আর খোলার চালের ঘর আর নেই। সেখানে এখন পাকা দোতলা। পাড়ারই একজন জায়গাটা কিনে বাড়ি করেছে। মাস্টারগিন্নির জমি বেচল কে? কীভাবে? আমার সঙ্গী, প্রতিবেশী ভাইপো জানাল সে ইতিহাস...
সামন্ততান্ত্রিক ঘোঁটের যুগ গিয়াছে। এখন তাহা রাজনৈতিক জোট নামে পরিচিত। জোটবদ্ধ হয়ে এখন অনিয়মকে নিয়মের ছাঁচে ফেলা সম্ভব। জমিদারি আমলের মতোই সজ্জন প্রতিবেশীরা ভয়ে মুখ খোলে না।
দুই
মাস্টারগিন্নির অনেকগুলো ছাগল ছিল। বেশ মনে পড়ে। বুধি, কালি, মংলি, পেঁচো...। মাস্টার বেঁচে থাকতেই ছাগল পোষা শুরু করেছিল মাস্টারগিন্নি। পৈতৃক চাষের জমির ফসলের ভাগ পাওয়া বন্ধ। যজমানি আর টিউশনিতে কটা পয়সা! তখন তো এখনকার মতো স্পেশালিটির যুগ ছিল না। মাস্টারকে অঙ্ক থেকে সংস্কৃত, সবই পড়াতে হতো। আর কোচিংয়ের ধারণাও তখন কোথায়? ফলে বেশি টিউশনের সুযোগ ছিল না। মাস্টার ছাগল পুষে বাড়তি রোজগারের ব্যবস্থা করেছিল। একদিন ছাগল চরাতে গিয়ে পা ভেঙে গিয়েছিল মাস্টারের। চিকিৎসা করাতে পারেনি। ভাঙা পা নিয়ে আর উঠেও দাঁড়াতে পারেনি মাস্টার। বছরখানেকের মধ্যেই মৃত্যু হয় তার।
তারপর থেকে ছাগলগুলোই মাস্টারগিন্নির একাকী জীবনের সঙ্গী। কালি, বুধিদের সঙ্গেই কথা বলা, খাওয়া, খুনসুটি। প্রবল ভালবাসত ছাগলগুলোকে। কোনও সন্ধেয় হয়তো বুধির বাড়ি ফিরতে দেরি হল। আকুল হতো বুড়ি। ‘বুধি, বুধিরে...ঘরে আয় মা’ চিৎকার করতে করতে খুঁজতে বেরোত। বুধি হয়তো তখন বেপাড়ার পোড়ো বাড়িটায় নতুন কোনও রসাল লতার সন্ধান পেয়ে সেসব সাপটে পেটে পুরছে। কিন্তু বুড়ির গলা পেলেই লোভ সামলাত। সাড়া দিত। তারপর শেষ টানে ছিঁড়ে নেওয়া একটা লতা গিলতে গিলতে হাজির হতো বুড়ির পায়ের কাছে।...
নতুন বাড়িটার সামনে দাঁড়িয়ে কত পুরনো ছবি ভেসে উঠল। মাস্টারগিন্নির বাড়ির সামনে ছিল আমাদের খেলার মাঠ। মাঝে মাঝে খেলোয়াড় বেশি হলে ছোটদের খেলতে নিত না বড়রা। দুধুভাতুদের বাদ। সেদিন বসে থাকতাম মাস্টারগিন্নির বাড়ির সামনের ঢিবিটায়। দেখতাম, মাস্টারগিন্নি বিকেল গড়াতেই রুটি বেলতে শুরু করেছে। কেরোসিনের অভাব। লম্ফটা কতক্ষণ জ্বলবে তার ঠিক নেই। তাই বেলাবেলি রুটি তৈরির কাজ সেরে নিত। রুটি বেলতে বেলতে চলছে ছাগলদের সঙ্গে কথা বলা, ‘পেঁচো তুই আজ বনে ঢুকিছিলি কেন? ওখানে সাপ আছে রে হারামজাদা!’ কিংবা ‘কতবার তোদের বলিচি জমিতে নামবিনি। কিছুতেই শুনবিনি আমার কথা?’ কথা বলতে বলতে মাস্টারগিন্নি আনমনা। সেই ফাঁকে কখন একটা ছাগল এসে রুটির লেচি গালে তুলে নিয়েছে। মাস্টারগিন্নিও ‘ওরে মংলি, আমি কী খাব রে’ বলে বিলাপ করে উঠে লেচিটা খাবলা মেরে কেড়ে নিয়েছে। কাড়লে কী হবে? তার অর্ধেক তখন মংলির গালে। সে উদাসীন ভাবে লেচি চিবিয়ে চলেছে। ছোট হয়ে যাওয়া সেই লেচি দিয়েই একটা ছোট মতো রুটি গড়ে নিত মাস্টারগিন্নি।
এই ভালবাসাই আবার বিড়ম্বনা হতো বুড়ির। সকালবেলা ছাগলগুলো তো দলবেঁধে চরতে বেরিয়ে পড়ত। ছাগলদের স্বভাবই হল সবকিছুতে মুখ দেওয়া। তখন আর মাস্টারগিন্নির শিক্ষা ছাগলদের স্মৃতিতে স্থায়ী হতো না। জলায় যেতে না যেতেই কারও বাগানে ঢুকে ফুলগাছ মুড়ো করে খেয়ে নিল। যেগুলো জলায় পৌঁছল তাদের দু’একটা ফসলের জমিতে নেমে পড়ল। ফুল, ফসলের মালিকেরা ক্ষেপে যেত। মাস্টারগিন্নিকে ভয় দেখাত, ‘তোমার ছাগল খোঁয়াড়ে দেব।’ কান্নাকাটি জুড়ে দিতে মাস্টারগিন্নি। কাকুতিমিনতি করত।
অবশ্য বেঁচে থাকাটাই সেইসময় বুড়ির কাছে বিড়ম্বনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তখন বুঝতাম না, এখন বুঝি। বয়স্ক, একা লোকেদের পিছনে লেগে মজা পায় উঠতি, তরতাজারা। মাস্টারগিন্নির পিছনে লাগত বড় দাদারা। কেউ গিয়ে রাগাত, ‘তোমার বুধিকে খোঁয়াড়ে দিয়েছে।’ বুড়ি হাউমাউ করে সারা। কেউ খোলার চালে ঢিল মারত। কেউ সরাসরি বুড়িকেই। একদিন একটা ঢিল বুড়ির কপালে লেগেছিল। ফুলে গিয়েছিল কপালটা। বুড়ি কাঁদতে কাঁদতে পাড়ার বড়দের দেখাচ্ছিল ফুলোটা। কিন্তু বড়রা কেউ কিছু বলেনি। ঢিল ছুড়েছিল যে পাড়ার এক ভদ্রঘরের সন্তান!
শরীরের হেনস্থার সঙ্গে যোগ হতো পেটের খিদে। খাবার জুটত না ভাল করে। কতদিন চোখে পড়েছে, দুপুরবেলায় ঘরের সামনে বসে বসে মুড়ি চিবোচ্ছে বুড়ি। মাঝে মাঝে পুরনো যজমানদের কারও কারও মনে পড়ত মাস্টারগিন্নির কথা। শ্রাদ্ধশান্তিতে ডাক পড়ত। না, পরিবারের পুরনো পুরোহিতের স্ত্রীয়ের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে নয়। নিতান্তই পুণ্য অর্জনের চেষ্টায়। ব্রাহ্মণ সন্তানদের ভোজন করানোর সঙ্গে গরিব ব্রাহ্মণপত্নীকে খাইয়ে মৃত আত্মীয়ের পারলৌকিক পথের বাধা দূর করার ইচ্ছা। দু’একটা নেমন্তন্নে খেতে দেখেছিলাম মাস্টারগিন্নিকে। পা ছড়িয়ে বসে খাচ্ছে। ভাল করে বাবু হয়ে বসতে পারত না। খাচ্ছে মানে খেয়েই যাচ্ছে। চিবোনো খাবার কষ দিয়ে বেরিয়ে আসছে। বুড়ি তার মধ্যেই আবার খাবার ঠুসে দিচ্ছে। খেয়েদেয়ে ওঠার পরে একটা ছাঁদা নিত। সেদিন দেখেছি, ছাগলদেরও খাবারের ভাগ দিচ্ছে বুড়ি।
ওই অসহায় অবস্থায় শ্বশুরকুলের কেউ সাহায্য করেনি মাস্টারগিন্নিকে। বাপের বাড়ির অবস্থা খুব একটা ভাল ছিল না। তবুও আলেকালে এক ভাইপো আসত পিসিকে দেখতে। কিছু চাল-ডাল বোধহয় আনত। তাতে আর ক’দিন চলে। বাপের বাড়িটাও তো ছিল দূরে। সকলেরই জীবন সংগ্রাম আছে। সকলকেই রোজকারের জীবনের সঙ্গে লড়তে হয়। তারাই বা কতদিন আসতে পারবে বাড়ির মেয়েকে দেখতে!
আমরা বড় হচ্ছিলাম। আর স্বাভাবিক নিয়মে মাস্টারগিন্নি বুড়ি হচ্ছিল। বাড়ছিল ওর কষ্ট, বিড়ম্বনা। একদিনের কথা বেশ মনে আছে। মেলায় যাচ্ছিলাম সেদিন। রাস্তায় দেখা। কাঁদতে কাঁদতে থপথপ করে চলেছে বুড়ি। আমাকে দেখে থামল। কাঁদতে কাঁদতেই বলল, ‘চারটে টাকা হবে দাদুভাই? বুচু আর টুকিকে খোঁড়ে দিয়েছে। আমার কাছে পাঁচ পয়সাও নেই।’
অন্য কোনওদিন হলে আমার কাছে টাকা থাকা সম্ভব ছিল না। কিন্তু সেদিন ছিল। আমাদের গ্রামে ফলহারিণী কালীর পুজো উপলক্ষে মেলা বসে। পুজোর দিনের মেলাই জমজমাট। কিন্তু জিলিপির দোকান, নাগরদোলা, বাসনকোসনের দোকান সপ্তাহখানেক আগেই বসে যায়। আমাদের মতো ছোটরা মেলার দিনে খরচ করার জন্য সারা বছর ধরে বোকা ভাঁড়ে কুড়ি পয়সা, চার আনা করে জমাতাম। মেলার দিন ছাড়া ভাঁড় থেকে পয়সা বের করলে মা বকাবকি করত। আজ মা কাজে ব্যস্ত ছিল। সেই ফাঁকে পাঁচ টাকা বের করে নিয়ে মেলায় যাচ্ছিলাম। মেলার আগের দিনগুলোয় নাগরদোলা শস্তা। দু’পাক ঘুরে নিয়ে ঘুগনি খেতে হবে।
বৃদ্ধ মানুষটাকে কাঁদতে দেখে মনটা কেমন হয়ে গেল। চারটে টাকা দিয়ে দিলাম বুড়ির হাতে। কাঁদতে কাঁদতে থপথপ করে খোঁয়াড়ের দিকে চলে গেল মাস্টারগিন্নি। তখন বেয়াদব পশুপ্রাণীদের সামলাতে খোঁয়াড়ের ব্যবস্থা ছিল গ্রামে। খোঁয়াড়ে দিলে ছাগল পিছু ছাড়াতে লাগত দু’টাকা। একদিন পার হলে লাগত পাঁচ টাকা। ছাড়াতে না পারলে পঞ্চায়েত থেকে নিলাম করে দেওয়া হতো খোঁয়াড়ে জমা পড়া প্রাণী।
কারও উপকার করলে উপকৃতের থেকে কৃতজ্ঞতা দাবি করতে মন চায়। ঘুরিয়ে হলেও চায়। সেই কম বয়সে আমারও মন চেয়েছিল। পরদিন উঁকি দিতে গিয়েছিলাম মাস্টারগিন্নির ঘরে। আমাকে দেখে বুড়ি যদি বলে, ‘দাদুভাই, তুই টাকাটা না দিলে কী যে হতো’ শুনে খুব ভাল লাগবে আমার। কিন্তু ঘরের কাছে যেতেই বুড়ির শ্লেষ্মা জড়ানো স্বর কানে এল, ‘আটানাও কম নিতে পারবুনি।’ দাঁড়িয়ে পড়লাম। কিছুক্ষণ পরে ঘর থেকে বেরোল দু’টো লোক। হাতের দড়ির অন্য খুঁটে বাঁধা মাস্টারগিন্নির পাঁঠা, বুচু। তারপরে বেরোল মাস্টারগিন্নি। হাতে এক টাকা, দু’টাকা, পাঁচ টাকার একগোছা নোট। মাস্টারগিন্নির মুখে খুশির একটা ভাব।
ফলহারিণী কালীপুজোর রাতে প্রচুর মানতের পাঁঠা বলি হয়। ফলে পাঁঠার চাহিদা থাকে বেশ। সেই মেলা উপলক্ষেই আমার গ্রামে ফেরা। অনেকদিন আগে যখন এসেছিলাম তখন বউ কোন ফাঁকে মানত করে গিয়েছিল, ছেলে ডাক্তারিতে চান্স পেলে পাঁঠা দেবে মাকে। ইচ্ছেপূরণ হয়েছে। তাই মেলা কমিটির কাছে আমাদের মানতের পাঁঠাটার পরোয়ানা লেখাতে যাচ্ছি। মনে মনে খুব হাসিও পাচ্ছে। রাগও হচ্ছে। মানতের জোরে ডাক্তারি পাওয়া ডাক্তারের রোগীদের হাল কী হবে সে কথা ভেবে। প্রেসক্রিপশনের প্যাডে শ্রী শ্রী ফলহারিণী কালীমাতা সহায় লেখা থাকবে না তো? গৃহশান্তি বজায় রাখতে মুখটা বন্ধ রেখেছি।
পেরিয়ে এসেছিলাম মাস্টারগিন্নির বাড়ি। একবার পিছন ফিরে তাকালাম। মাস্টারগিন্নির বাড়িটা যেখানে থাকার কথা ছিল, সেদিকে। চোখের সামনে এখনও যেন ভাসছে ছবিটা। লোক দু’টো বুচুকে টানতে টানতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। বুচু কালো কুচকুচে। মানে নিখুঁত পাঁঠা। মানতে নিখুঁত পাঁঠার বেশ দাম। মাস্টারগিন্নি সেটা জানে। তাই আট আনা দামও কমাতে চায়নি। ক্রেতারাও ঠাকুরের জিনিসে দরদাম করে পুণ্যের ভাঁড়ারের আমানত কমানোর চেষ্টা করেনি। বুচু মাস্টারগিন্নির বাড়ি ছাড়তে চাইছে না। চার পা মাটিতে গেঁথে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর ক্রেতাদের দড়ির টানের চোটে ব্যা ব্যা আর্তনাদে আপত্তি জানাচ্ছে। কিন্তু সেদিকে মন নেই মাস্টারগিন্নির। ঘোলাটে চোখের কাছে টাকার গোছাটা তুলে গুনে চলেছে বুড়ি। ভালোবাসার ধন বিক্রির কড়ি।
মুখে বোধহয় দিনকয়েক একটু খেয়ে বাঁচার খুশি।


0 মন্তব্যসমূহ