বিপ্লব বিশ্বাসের গল্প: সোহাগ ছুটের আশাবরি







সে সময় তোমাতেই আমার দিনরাত ছেয়ে ছিল অর্ক। সেইসব উড়ুউড়ু দিনগুলিতে। ইউনিভার্সিটিতে পাম সারির আঙিনা বেয়ে আলো - আঁধারি মাড়িয়ে তুমি নিস্তরঙ্গ হেঁটে গেলে একরাশ ঢেউ উঠত আমার থমকে যাওয়া নদীপটে। শতবর্ষ বাড়িটির সিঁড়িকোণে বসে বসে দেখতাম বন্ধুদের চোখ ছাপিয়ে। ডিপ মেরুন আলিগড়ি পাঞ্জাবি আর শাদা চোস্ত। ঘাড়ে বর্মা সুতোর হালকা মেরুন ব্যাগ। বইভারে বেয়াড়া। গালজুড়ে ছাঁটহীন কাস্ত্রো দাড়ি। চুল পাটেও আঙুলের চিরুনি -চালান। সব মিলিয়ে একটা কেয়ারলেস বিউটি। সে সময় কথাটি চলত খুব। মেয়েমনের গভীরতা মাপতে এই অস্ত্র চালানো হত। সটান বিঁধে গেলেই কাজ হত। যেমনটি হয়েছিল আমার বেলায়। বৃষ্টিভেজা শুন- দুপুরে রাখালদার ক্যান্টিনের এক কোণে বসেছিলে তুমি। হাতে পুড়ছিল চারমিনার। শাদা পাথরের টেবিলে কালো চা ধোঁয়াচ্ছিল। আলাপের ছুতোয় কাছে যেতেই তুমি বসতে বললে। ইশারায়। কেননা তুমি তখন ডুবে ছিলে একটা চটি ইংরেজি বইয়ের শব্দ-সাগরে। মলাটে ছিল পূর্বরাগের কাঁচা লাল। জিজ্ঞেস করতেই জানলাম হথর্নের ‘স্কারলেট লেটার্স’। পড়ে শোনালে। চায়ের ধোঁয়া উবে জল। হাতের আঙুলে আগুনের ছ্যাঁকা। তুমি পড়ছিলে। একমনে। আমিও দেখছিলাম। একদৃষ্টে। তোমার একমুখী নিষ্ঠায় বিবশ হচ্ছিলাম। সামনে আমি। শ্রাবণধারায় পুষ্ট ফনফনে বানপুঁই। তার কাঁচা রং, কাঁচা বাস। তা যেন কোনওমতেই তোমাকে নাড়া দিচ্ছে না। তুমি পড়ছিলে। আমি বাধ্য হচ্ছিলাম চোখ ফিরিয়ে মন বসাতে। উঁকি মারছিল হলুদ বসন্তের নয়না চৌধুরী। জাঁকশীতের খাস্তা দুপুরে বালিশ- বুকের বয়সপাঠ। আমার দৌড় তো ওই। মোল্লাবাড়ির মুরগি।… সেদিন ওই পর্যন্তই। এরপরেও তোমার নিষ্ঠা দেখেছি তোমারই মেসঘরে। শ্রীগোপাল মল্লিক লেনের সেই বিশ্রী সোঁদা ছয়- বাই- চারে। যে ঘরে কোনওদিন আলো ছিল না। ভোর থেকেই আগ্রাসী রাত। সাহেবি কেতায় এ হেন ঘরকেই তো কিউবিকল বলে। তা এমন রাতঘোরকেও পালটে দিতে তুমি। কখনও টোড়িতে, কখনও বা দিনান্তের মুলতানিতে। সাততারের সুরপটে তোমার দ্রুত্‌ আঙুলের ঝালা মজিয়ে দিত সব। কোনও কোনও বিকেলে এভাবেই থমকে গেছি তোমার দোরগোড়ায়। দেহমন আবিষ্ট হয়েছে বারবার। একান্তে চেয়েছে অন্য সুর, ভিন্ন ঘ্রাণ। তুমি আভোগে আড়পে নাওনি তেমন করে কখনও। তোমার এই কুসুমকে। লজ্জার ঘেরাটোপ ভাঙতে তাই সে সময় নিয়েছিল অনেক ; কিন্তু ভাঙল যখন… তখন…!

হঠাৎই ডোরবেলে অসভ্য চাপ। সুরমূর্ছনায় অসুরের দাপট। গাঁ…আ…আ…। ছিটকে উঠে দরজা খুলতেই মূর্তিমানা। সামনের ফ্ল্যাটের ধুমসো বউটা।

আসতে পারি? মিসেস কিরণ? গোটামুখ বিছড়ানো হাসি। সৌজন্য অনুমতির তর সয় না। হুড়মুড়িয়ে ঢুকে সামনের সোফায় সেঁটে বসে। জানেন ভাই, আমরা স্বপ্নেও ভাবিনি কিরণ কখনও বিয়ে করবে! ওর জন্য রম্ভা, মেনকাও কম মনে হত। বাব্বা,পেটে পেটে অ্যাতো! যাক ভাই, আপনার কপাল ভালো - বলেই একটা আস্ত পান বাঁ গালে ঠেসে দিল। আমি মৃদু হাসলাম। মহিলা বকেই চলে - তবে এটা কিন্তু ওর ভারী অন্যায়। একটুও জানাল না। তলে তলে… আমরা কি সবই খেয়ে নিতাম? যাক, আসলে বরাবরই ও খানিক অন্যরকম, খাপছাড়া। যাক ভাই, কিছু মনে নেবেন না। একটু ঠাট্টা করলাম আর কি। গমকা হাসিতে ওর ভারী বুকটায় ভুঁইকাঁপন ওঠে। এখানেই শেষ নয়। আবার শুরু হয়- আচ্ছা ভাই, আপনাদের বিয়ের অ্যালবামটি আনুন না। দেখে চোখ জুড়াই। কী বললেন, এখানে নেই?

না, পাইনি এখনও।

তাতে কী? বিয়ের বেনারসিটি তো আছে? গয়নাগাটি কী পেলেন? আনুন না। এই ধরনের মেয়েছেলে কী গায়েপড়াই না হয়! বাব্বাঃ। শাড়ি, গয়না, এইসব মোটাদাগের বাইরে যেতেই পারে না।… মনে পড়ছে অর্ক, গড়িয়াহাটের সেল মার্কেটে প্রফেসর মুনসি ম্যাডামকে শাড়ির ডাঁই বগলে চনমনে দেখে তুমি বলেছিলে, এখনও মেয়েদের শিক্ষা সংস্কৃতি সব ওই মাকুর টানেই জড়িয়ে আছে। তখন তোমার ওপর হামলে পড়েছিলাম। আজ বুঝছি, আসলে তোমার ধারণাটি বরাবরই স্বচ্ছ ছিল। মেয়েদের বিষয়ে ভাবনাচিন্তা হতাশায় ভরা হলেও শ্রদ্ধাবোধ ছিল টনটনে। একবার বাসে করে আমতলা যাচ্ছিলাম, মনে পড়ে? আমি, শ্বেতা আর তুমি। বাস কন্ডাকটরের যেই না বলা, আপনার মেয়েছেলের ভাড়া…অমনি তুমি ক্যাঁক… মেয়েছেলে কী হে? এঁরা কি তোমার আমতলা হাটের কাপড়ের বস্তা? মহিলা বলতে পারো না? থাবড়ে দাঁত ফেলে দেব। যত্তোসব… সেদিন বাসের অনেকেই তোমার পক্ষ নিয়েছিল। বুঝেছিলাম প্রতিবাদ আছে। নেই ঘন্টা বাঁধার শক্তজন। রাগ দেখেছিলাম সেদিন বটে! নিরাগীর রাগ। চণ্ডাল। আর এ সবই তোমার কাছে আমাকে টেনেছিল। ডাক্তার, এঞ্জিনিয়র,আমলা নয়। সবই ঠিক ছিল। শুধু তোমার ওই সাপ- শীতলতা!...আর…

কী ভাই? কী হল? কই আনুন? আমার আবার…

ও হ্যাঁ,ব্যাপারটা কী হয়েছে জানেন? ওগুলো না…

কী?

মায়ের কাছে রেখে এসেছি।

এভাবেই মিথ্যে বলতে বাধ্য হলাম। ভাবলাম শেষ হবে। কিন্তু না। সামান্য দমে গেলেও মহিলা ফের শুরু করলেন - সেকী! নতুন বউ। গয়নাগাটি গায়ে ঝুলিয়ে এদিক ওদিক ঘুরবেন। নতুন নতুন বাসনা ছাড়বে। তবেই না…

একটু কফি করব?

না ভাই। ওসবে আমার টান নেই। চা হলে চলতে পারে। না হলেও… থাক না। তবুও চা বানালাম। মহিলা সুড়ুৎ সুড়ুৎ পান করল। কিন্তু গেল না।

আরে দেখি দেখি, আপনার বাউটিটি তো বেশ। ক’ভরি আছে?

ঠিক জানি না।

ও, তবে খাদ খানিক চড়াই মনে হচ্ছে। এখনই কেমন ম্যাটমেটে। একটু পালিশ করে নিয়েন না?

মনে হল বলি, মানুষের সম্পর্কও কি এমন পালিশে চকচকে হয়? কিন্তু না। কথা বাড়াতে ইচ্ছে করল না। যত্তোসব…

শেষ পর্যন্ত মহিলা গা তুলল। আমিও যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। কিন্তু দরজা পেরিয়েই আবার এক প্রস্থ- আপনি ভাই খুব চাপা। কিরণের ঠিক উলটো। ও তো সব সময়ই বকবকম। এরপর হঠাৎই ঝপ করে গলা নামিয়ে মহিলা বলে। কথায় গিন্নি- স্বর। মনে তো হচ্ছে, দেরিতে বিয়ে। তা পঁয়ত্রিশের এদিকে তো নয়ই। নাকি? দেখবেন ভাই, দেরি করবেন না। প্রথমটি টুকুন তাড়াতাড়ি… বলেই সেই গমকা হাসি, আচ্ছা আসি ভাই। একদিন আসুন।

বাধ্য হয়ে মুখের ওপরেই দরজা বন্ধ করলাম। ঘুরেই সটান বিছানায়। হা ঈশ্বর, আমাকে বলে কিনা মিসেস কিরণ। আবার আমার প্রথম সন্তানের বিষয়েও জ্ঞান দেয়। আচ্ছা, আমি কি মিসেস কিরণ, না মিসেস অর্ক! সব সময় অন্যের লেজুড় হয়ে আমার পরিচয় কেন? আমাদের এই বিবাহিত মেয়েদের? আমার নাম কুসুম। কুসুমকলি বিশ্বাস। ব্যস। অন্যের পরিচয়ে, অপরের সম্পত্তি হয়ে গর্বে বুক চিতিয়ে জানান দিতে আমার একবুক ঘেন্না। ছিঃ। মাথা ছিঁড়ে যাচ্ছে যেন। আমার নিজস্ব কি কিছুই নেই! একান্ত ব্যক্তিগত!পরিচয় দেবার মতো।

ডোরবেলে আবার ডাক। কে এল!

বিরক্তিতে দরজা খুলতেই দেখি কিরণ।

কী ব্যাপার? আজ এত আগে?

ইয়েস ডারলিং। আর একটা দিন সবুর করো। কাল বাদ পরশু। এই সময় ট্রেনের কামরায়। হুশহুশ করে নৈনিতাল। এল টি সি ম্যানেজ। রিজার্ভেশন কমপ্লিট। কী মজাই না হবে, না? পুরো একটি মাস… বলেই কিরণ অ্যাটাচি ফেলে আমাকে ধরে। মাজা জাপটে আকাশে তুলতে চায়।

আরে, ছাড়ো, ছাড়ো,লাগছে…

ছেড়ে দিয়েই কেমন থমকে যায় কিরণ। খানিক থেমে জামা- জুতো খোলে। হাতমুখ ধুয়ে বসতেই কফির কাপ হাতে হাজির হই। কিরণের হাতে কফি। চোখমুখে রুদ্ধ আবেগ। সে বলে :

তুমি কি খুশি হওনি কুমু? এই শহরের ধুলো - ধোঁয়া। হিসেবের পা ফেলা। সব ছাড়িয়ে একটি মাস… পাহাড়, বরফ, দিগন্তহীন আকাশ, বুকভরা বাতাস, মজাদার ট্রেকিং… উফ,পুরো একটি মাস। তুমি কি একটুও খুশি হওনি, কুমু?

আমি ঘাড় নাড়লাম মৃদু। একটু হাসতেও হল। জোর করে।

কুমু, অর্ককে ছেড়ে এসে তোমার কি কোনও আপশোশ হয়?

না।

মেয়েকে ছেড়ে হয় নিশ্চয়ই?

তা হওয়াটা কি অন্যায়, অস্বাভাবিক?

না, তা নয়। তবে নিজেকে মধ্যেমাঝে অপরাধী মনে হয়। মনে হয়…

তা কেন? তুমি তো জোর করে আনোনি। আমিই তো স্বেচ্ছায়…

তবে এখানে তোমার আদরযত্নের কোনও…!

সে অভিযোগ করেছি কখনও?

তা অবশ্য করোনি। তবে তোমাকে মনমরা দেখলে… আমার ভালোবাসার দিব্যি কুমু, তুমি একটু সহজ হও। দিনভর খাটাখাটনির পর ঘরে এসে তোমার ওই গোমড়া মুখ দেখতে কারই বা…

না ভালো লাগলে দেখো না।

আবার রাগ করছ। শোনো কুমু, তুমি তো জানো না, সারাটা দিন আমার কেমন ছটফটানিতে কাটে! কখন ছুটি হবে, কখন আসব… এই কুমু, আমরা কি পারি না?

কী?

পুরনো স্মৃতি ধুয়েমুছে, নতুন করে… পিছন দিকটা বড্ড অসহ্য…

এ কথার কোনও উত্তর জোগাল না। আমার মুখে। শুধু অবাক হয়ে কিরণকে দেখতে থাকলাম। মনে হল, একটা অচেনা ময়াল। গ্রাস মেলে খাড়িয়ে আছে।

আচ্ছা অর্ক, ফেলে আসা জীবন ধুয়েমুছে ফেলা যায়? পুড়িয়ে ছাই করা যায়, সেইসব দিনক্ষণ? এ সব কি এতই সোজা! স্মৃতি যে পার্থেনিয়ামের বীজ। ভয়ংকর আগাছা হয়ে খাক করে দেয় সব। বাঁজা করে চারদিক। আগত সময়। একে উসকে দেবার প্রশ্নই আসে না। এ যে ফিনিক্স পাখি। যতই অতলে চালান করো না, বুড়বুড়ি কেটে উঠে আসবেই।

আমার নীরবতা কিরণকে মুষড়ে দেয়। সিগারেট ধরিয়ে দমটান দিয়ে নেয়। ফের শুরু করে :

কুমু, ভেবেছিলাম, এখানে আগের চেয়েও হাসিখুশি থাকবে তুমি। সুখী হবে ; কিন্তু দিনকে দিন তুমি কেমন মিইয়ে যাচ্ছ। মনমরা থাকো। তোমার ভিতরের টানাপড়েন বুঝি কুমু। কিন্তু এভাবে চলে কী করে? এক পা এগিয়ে, দু পা পিছিয়ে কি চলা যায়! অর্কর জীবন থেকে চলে এসেছ তুমি। তেমনি তোমার জীবন থেকেও তো নেমে গেছে সে, নাকি? এখন বাকি জীবনটা তো আমার সঙ্গেই কাটাতে হবে। তাইতো বলি, এস, রঙিন প্রজাপতির পাখনায় ভর দিয়ে উড়ে যাই ফুরফুরে…

বেচারা! আমাকে জীবনমুখী করবার কতই না কসরত!

আমাকে আবারও চিলতে হাসির মুখোশটা পরে নিতে হয়। বলতে হয়, না কিরণ। আমি এখনও ঠিক নিজের ছাড়িয়ে আনতে পারিনি। দ্বৈত সম্পর্কের জাদু আবর্ত থেকে মুক্ত করতে পারিনি নিজেকে। মধ্যেমাঝে মনে হয়, ভুল করেছি। হুট করে একটা ভুলকে জাপটে নিয়েছি। একটা দ্বিধা, একটা ভয় কুরে কুরে খাচ্ছে। কিরণ, সামলে নিতে খানিকটা সময় তো লাগবেই। প্লিজ একটু সবুর করো। কটা দিন মাত্র। প্লিজ…

ঠিকাছে কুমু, ঠিকাছে। গোছগাছ করে নাও। কাল বাদ পরশুই যাওয়া। বাক আপ। আর হ্যাঁ, কড়া করে এক কাপ চা করো তো। স্রেফ লিকার।

কিরণ এখন স্যুটকেস নিয়ে বসে গেছে। আমাকে গোছগাছ করতে বলেও তর সইছে না ওর। আবার যে কোনও সময় ফেটে পড়তে পারে। কিন্তু কী যে করি, অর্ক। ভেবেছিলাম কিরণের সঙ্গে চলে এসে তোমাকে ভুলতে পারব। কিন্তু তা আমার ভুল, চরম ভুল। এ এক অদ্ভুত পাপচক্র। কিছুতেই পারছি না। তোমার স্মৃতি আমাতে ভর করে আছে। নিশিতে পেয়েছে যেন। মনে হয়েছিল, কিরণ আমাকে ভরিয়ে তুলতে পারবে। কিন্তু না। তোমাকে কেন ভুলতে পারছি না অর্ক ! কেন তোমার কাছেই আবার ফিরে যেতে মন চাইছে! তোমাকে মন থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েও আমার স্বস্তি নেই কেন! কেন? কেন?

পরদিন কিরণ তখনও অফিস থেকে ফেরেনি। হঠাৎই মনটাকে শক্ত করে বাঁধলাম। এক দুটি শাড়ি ব্যাগে নিলাম। তারপর একটা ছোট্ট চিরকুট লিখলাম : কিরণ, তোমাকে স্বস্তি ভেবে ভুল করেছি। দুঃখিত। পারলে ক্ষমা কোরো- কুসুম। ত্বরিতে ব্যাগ ঘাড়ে ফেলে পা চালালাম। স্টেশনের পথে।

বর্ধমান স্টেশনে নেমে দেখি ঘড়িতে সাড়ে আট। রেলের ঘেরাটোপের বাইরে পা রাখতেই মনের টান- ধকলটা কাটতে লাগল। পুরনো জায়গাটা নতুন মনে হল। জোর শ্বাসে হারানো সুবাস ভরে নিলাম। সঙ্গে ঢুকে গেল টাটকা দালদার মউবাস। বড়ো রাস্তার ওপাশের বিখ্যাত দোকানের আঁচ- কড়াইয়ে শাদা রঙের সীতাভোগ। বড়ো খুন্তির নড়াচড়ায় এপাশ ওপাশ করছে। থমকে দাঁড়ালাম কিছুক্ষণ। নিয়েই নিলাম হাফকিলো। টাটকা। অর্কর খুব পছন্দের। পাপড়িও ভালোবাসত। তবে মেয়েটি হয়তো এখানে নেই। কোনও এক বোর্ডিং স্কুলে নাকি- দার্জিলিঙে বোধ হয়। আমাকে দেখেই একটা রিকসা প্যাঁকস্বরে ডাকল। ইশারায় না করলাম। এই তো কাছেই। হাঁটতেই ভালো লাগছে।

‘ মেঘমল্লার’ আবাসনের তিনতলায় অর্কর ফ্ল্যাট। আমারও নয় কি! হয়তো নয়। আরে! হয়তো কেন! নয়ই তো। আজ যদি অর্ক আমাকে ওর চৌকাঠ মাড়াতে না দেয়! সত্যিই তো। সে মুখ তো আমার নেই। তবুও তো চলে এলাম। আসলে ওর ওপর ভরসার রেশটি আমার মধ্যে থেকেই গেছে। আর তার জোরেই তো…

হঠাৎই কানে এল, তারগমকে নি- রে- গা- রে- সার গোমড়ানো পকড়। চলনের তীব্রতা বারবার আঘাত হানছে। কখনও কখনও কল্যাণের শুদ্ধতা ছুঁয়ে যেতে চাইছে। তেমনভাবে পারছে না। কোনও এক অচেনা খামতি রাশ টেনে ধরছে। দরজা খোলাই ছিল। আধুনিক ফ্ল্যাট প্রথায় এটা বেয়াড়া তবুও অর্ক এভাবেই রেখেছে। রাখে হয়তো। কিন্তু কেন!

অর্কর মগ্নতা আর খোলা দরজার হাতছানিতেও পা ভারী হয়ে ওঠে। দরজায় হেলান দিয়ে অর্কর আঙুলের চলন পরখ করছিলাম। ঝাঁকড়া চুলদাড়ির ওপারে দীর্ঘকাল চেপে বসা কাতরতা ঠিকরে ফুটছিল যেন। ঘরের জোরালো আলোটা নেভানো ছিল। বদলে জ্বলছিল জমাট আকাশনীল নাইট ল্যাম্প। এই রং অর্কর বরাবর পছন্দ। এর স্বপ্নিল মেদুরতায় এক শীতল শান্তি ধরা থাকে। প্রায় মিনিট পনেরো এভাবে থাকার পর অস্থির হতে থাকলাম। হাতের প্যাকেট আর ঘাড়ের ব্যাগ দুটোই পাথর বোধ হতে লাগল। এরমধ্যে অর্ক একবার দরজায় চোখ ফেলেও সরিয়ে নিয়েছে। মন দিয়েছে ঝালায়। আমার কানে তা হাজারো হর্নের আওয়াজ। ছুটে গিয়ে অর্কর হাত চেপে ধরি, আমাকে দেখতে পাচ্ছ না? কখখন থেকে…

আস্তে করে সেতার পাশে সরিয়ে রাখে অর্ক। সিলিংফ্যানের দিকে তাকিয়ে জোরালো নিশ্বাস ছাড়ে। বলে, কখন এলে?

চলে এলাম অর্ক। কিরণকে ছেড়ে। ভুল করেছিলাম। হিসেবের ভুল। জীবনটাকে অ্যাডভেঞ্চার ভেবে চরম হঠকারিতা করেছি। জানি, সময় আমাকে ক্ষমা করবে না। তবুও ভুলকে মাড়িয়ে এসেছি অর্ক। তুমি কিছু বলবে না? অর্ক? সে স্থবির। ওর দুচোখে চিকচিক করছে প্রত্ন-অশ্রু। বেশ কিছুক্ষণ পর কথা বলে অর্ক: কুসুম, আমি আজও জানি না আমার দোষটা কোথায় ছিল। হয়তো ছিল। নইলে দশ দশটি বছরের বাঁধন ছিঁড়ে… বাঁধন বললাম না! হুঁ।…তা আজ আবার…

আমার মুখে কোনও কথা জোগাল না। আজ বুঝি, আমার কাছে খামতিটা ঠিক পরিষ্কার নয়। অর্ককে জেনে-বুঝেই সঙ্গী করেছিলাম। উটকো আধুনিকতার শিকার ছিল না ও। ক্ষমতা থাকলেও ইঁদুরের মারণ দৌড়ে অংশ নেয়নি কখনও। জীবন মানে ও বুঝত ভরা দিঘির তলদেশ। ওর কাছে সংস্কৃতি ছিল স্থির জলের বুকে সঠিক ঘা। জানান দিত না। অথচ ছড়িয়ে পড়ত দিগ্বিদিক। অন্তস্তল থেকে উপচে পড়ত সুরুচির ধূপবাস। যৌবনপথের গৌরচন্দ্রিকায় তা যেন কাঁচা মহুয়ার কুঁড়ি। সবার মাঝে আলাদা ভাবার এই মোহ ছিল দুর্বার। অন্ধ কাজল। বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুলে মাস্টারি নিয়ে কলকাতা ছেড়েছিল ও। দমভর শ্বাস নিয়েছিল এই স্মৃতির শহরে। আমিও একটা প্রাইভেট ফার্মে স্টেনোর কাজ ছেড়ে এক কথায় ওর সঙ্গে এসেছিলাম। মন দিয়ে সংসার করব বলে। আমাদের ছিল টইটম্বুর ভালোবাসার সংসার। তবুও রাতটানের খাঁক তো স্বাভাবিক। সেই জৈব পথ ধরেই পাপড়ি এসেছিল। আমাদের আত্মজা। তবুও মনে হয়, অর্কর পূর্ণতা ছিল নিজেকে নিয়েই - ছাত্র,বই, কলম আর সাধের সেতার। অন্তর্মুখী মন নিয়ে ডুব সাগরে মজে থাকাটাই ছিল ওর স্বভাব। আর আমার ছিল শতমুখী বিস্তারের ঝোঁক। একেবারেই আটপৌরে নারীমন। অর্কর সান্নিধ্যে থেকে জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে পারিনি। তাই আকাঙ্ক্ষা, অভাববোধ ইত্যাদি শব্দের তাড়না ছিল খুব। বিষ- বাসনায় জারিত মন কিরণের গনগনে আঁচে বিবশ হল। অচিরে তা কেটেও গেল। খামতির রূপান্তর ঘটল। কিন্তু তা কি…!

বলো কুসুম, আমাকে বলো। দ্বিতীয়বার এখানে যখন পা রেখেছ তখন তোমাকে সব বলতেই হবে। আমি আজ না শুনে ছাড়ছি না।

হঠাৎই অর্কর গলায় গোমরানো উত্তেজনা। জমে থাকা বদরক্ত যেন ছলকে ছলকে আসে। ওর এই চেহারা আমাকে ভয় পাইয়ে দেয়।

দ্রুত সীতাভোগের প্যাকেট খুলে একটা বাটিতে খানিকটা দিই। বলি, তুমি তো খুব ভালোবাসতে, তাই নিয়ে এলাম। খাও। বাটিপানে একবার দৃকপাত করেই চোখ সরিয়ে নেয় অর্ক। সে চোখে কোনও ভাববৈকল্য নেই। ও স্পষ্ট বলে, ওতে আর রুচি নেই কুসুম, সরিয়ে রাখো। বদলে কিছু বলো।

অর্কর এই প্রত্যাখ্যান আমাকে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। ভাবি, বলতেই তো এসেছি। হাট করে মেলে দিতে এসেছি সব আঁটো দরজার খিল কপাট। কিন্তু কোত্থেকে যে শুরু করি! এদিকে অর্কর থিতু জলে আজ বান- গর্জন। ঠেকানো দায়। তাই শুরু করতেই হয়:

আমাদের শুরুটা কিছু খারাপ ছিল না অর্ক। তোমার খাপছাড়া আধারে আলতো বসিয়েছিলাম নিজেকে। তোমার ওই গ্যাজেটছুট স্বরচিত জীবনেরও একটি আলাদা টান ছিল। অতি সরল যাপিত জীবন। বহির্মুখী উগ্রতা নেই। আন্তঃসৃজনের খুশবু বাস্তুসাপের কাঁঠালিচাঁপা গন্ধে মাতিয়ে রাখত সব। ভেবেছিলাম এই জাতীয় পুরুষের সঙ্গে ঘর করা সহজতর হবে। তোমার সহজাত পার্থক্যে গর্ব ছিল আমারও। বদখত নেশার দাস ছিলে না কখনও। আবার আমাতেও তোমার নেশা জমেনি তেমনভাবে। তুমি অন্তর্লীন থাকতে তোমাতেই। আমার সেভাবে লীন হবার ছিল না কিছু। এভাবেই যখন পাপড়ি এল, কিছুটা মশগুল হলাম। নির্মাণের নেশা। এ অবস্থায় মেয়েরা স্বামীর কাছ থেকে কিছুটা দূরেই সরে যায়। শুধুই শরীরী নারীত্ব মাতৃত্বের মর্যাদায় উত্তরিত হতে থাকলে পুরুষপুঙ্গব অভিমানের গোটা হয়ে ওঠে। তুমি সেখানেও পৃথক থেকেছ। সাবলীল। তখন থেকেই তোমার এই চেহারা আমার কাছে ভয়ংকর হয়ে উঠতে থাকে। তোমার ভিতরের এই বাউল- ঔদাস্য আমার বিরক্তির কারণ হয়ে ওঠে। পাপড়ি বাড়তে থাকে। কমতে থাকে তোমার দায়। মেয়ের স্কুলে দাখিল। পড়াশোনা, দেখভাল সবেতেই তোমার রামকৃষ্ণভাব। কেবল পিতৃপরিচয়েই কাজ শেষ। যথার্থ অর্থেই তুমি ছিলে পাঁকাল মাছটা। এভাবেই যখন নিয়মতান্ত্রিক চলনে পিষ্ট হচ্ছিলাম, একটু একটু করে উবে যাচ্ছিল বাঁধনের গিঁট- রাশ ঠিক তখনই দেখা পেলাম কিরণের।

তারপর? প্রশ্নটা ছুঁড়ে বিছানায় টান হয় অর্ক। সিগারেটে আগুন দিয়ে উগরে দেয় বগবগ। ধোঁয়া কাটানোর দায় যেন আমারই। তারপরই তো সব… উলটে গেল। পালটে গেল। কিরণ তোমার দূর সম্পর্কের ভাই হলেও বন্ধু স্থানীয়। এস বি আইয়ের আর এম ও অফিসে পি ও হিসেবে যোগ দিলে তুমি এখানেই ওকে থাকতে দিলে। সহজিয়াঢঙে। খোলামেলা। কিরণের ধাত ছিল আলাদা। তোমার মাঝে যখন বিসর্জনের বাজনা ওর ভিতর তখন বোধনের শুরুয়াত। তুমি যখন লয়কারী শেষ করে নির্বিষ তেহাইয়ে থামতে চাইছ, ও ঠিক তখনই তুফানি পকড়ে জড়াতে চাইছে আষ্টেপৃষ্ঠে। ওর কাছে নতুন করে জীবন পাঠের বোধোদয় হল। পাপড়িও সাহারা পেল যেন। অফিস শুরুর আগে হইহই, রইরই ; অফিসফেরত বৈকালিক গমকচাল - কখনও গোলাপবাগ তো কখনও রসুলপুরের আকাশগাঙ ছুঁয়ে যাওয়া উদার মেঠোপথ। তার মাঝেই নিবিড় হওয়া, তার মাঝেই কাছে আসা, হারিয়ে যাওয়া দিকশূন্য। খুঁজে পাওয়া বাঁচনরস।

ব্যস,চুপ করো। স্টপ ইট।

অর্ক দুহাতে মুখ চেপে ধরে। নিজের। হাতের শিরায় ঠান্ডা রক্ত উত্তপ্ত চারিয়ে যায় যেন।

কিন্তু আমি তো থামতে পারি না অর্ক। দীর্ঘ দশটি বছরের টানা সুতো কেটে আমার চলে যাওয়, কিরণের এই দখলদারি, আবার মজার ব্যাপার সেখান থেকেও ছিটকে আসা - এ সবের গোড়াপত্তনে তোমারও তো হাত ছিল, ছিল না? পুরুষ হয়েও বুঝতে চাওনি আমার এই তুচ্ছ জীবনকে। তার ভিতর ছড়িয়ে যাওয়া খাঁক করা আগুনকে। তুমি পারোনি। কিরণ তাকে খুঁচিয়ে চাগিয়েছিল। পুড়িয়েছিল। সমাজের বেড়ার ধার ধারেনি। আমারও তো ছিল নিরুক্ত প্রশ্রয়। কিরণের আনকোরা ধারাপাত আমাকে নিষিক্ত করছিল। অনাবিল, জোরালো। আমি জেনে-বুঝেই বিবশ হলাম। আমার আবিষ্ট দেহমনে তখন কিরণের ছড়ানো পরম সুখিতা। আমি পরাস্ত হলাম। আসলে এভাবে হেরে যেতেই তো চেয়েছিলাম। জীবনভর। এভাবে হেরে যাবার মাঝ দিয়ে আমার অস্তিত্ব যা ছিল একান্ত ব্যক্তিগত, যা তোমার অবহেলায় সংকটাপন্ন হচ্ছিল দিন দিনই, তা প্রকট হয়ে উঠল। আমি আপনাতে বেড়ে ওঠার রসদ খুঁজে পেলাম। চাকরিটা ছেড়ে দেওয়াতে এক সময় নিজের ওপর প্রচণ্ড ক্ষোভ হল। বাইরেটা বন্ধই হয়ে যাচ্ছিল প্রায়। যদি না কিরণ…

কী হল, থামলে কেন?

থামলাম কেন? থামতে হল। এপার থেকে ওপারের চেহারাটা বুঝতে পারিনি। কেউই পারে না - তাৎক্ষণিক অমিল থেকে সময় টানের মিল খুঁজে নিতে। আসলে রেহাই পাবার চটজলদি উচাটন মন আশু কূট গন্ধের পরিচয় পায় না। যখন পায় তখন অনেকটাই দেরি হয়ে যায়। অনেকেরই।

তোমার? অর্ক ঘা দিতে চায়।

হয়তো আমারও। হয়তো বা নয়। সে কথা পরে। সেই যেদিন টাঁড়- কুহকের নিশিটানে কিরণের পায়ে পা মেলালাম, নতুন ভোরের পথে, তোমাকে ছেড়ে, পাপড়িকে বিছানায় রেখে, তখন যে জীবনের মানে খুঁজে পেয়েছিলাম তার চেহারা ছিল ভিন্নতর। কিরণের সঙ্গে ওর ফ্ল্যাটে দু রাত নির্বিরোধ কাটানোর পর তৃতীয় রাতেই ও আলগা হল। আমাকে পাঁজাকোল করে কার্ল অন-এ ফেলে যখন মন্থনের সনাতন প্রেক্ষিত নিয়ে সটান ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইল তখন আমার ভিতর থেকে বেরিয়ে এসেছিল, না, কিরণ, না… এ হয় না। সেদিন ‘ ঢ্যামনামো’ শব্দটা অতর্কিতে কিরণের গলাছুট হতেই বুঝে নিয়েছিলাম - ব্যাঙ গেলা সাপের চিরায়ত হাঁ। ক্ষণিকের জন্য হলেও ঘরোয়া নীতিবোধ দংশন করেছিল সেদিন। ভিতর ভিতর দ্বিতীয় পতনের শব্দ ঘা দিতে লাগল। তাতেই তো…

দেওয়ালঘড়িতে হারমোনিয়ামের সুর গমকে রাত্রি এগারোটার জানান দিল। মনে হল, ঘড়ির এই সুর কি হারিয়ে যাওয়া জীবন - ছন্দের ফাঁকটাকে ভরিয়ে দিতে পারে! হঠাৎই রাতের খাবারের কথা মনে হতেই অর্ককে বললাম। সে টিনের মুড়ি আর কৌটোর চানাচুর দেখিয়ে আমাকে নিবৃত্ত করল। আমার মুড়িপ্রিয়তাকে ভোলেনি দেখছি। সময়ের কটুবাসেও তার সুবাস পচে যায়নি। ওর নিজের খাবার ব্যাপারেও খুব একটা আগ্রহ দেখাল না। কয়েক টুকরো স্লাইস টেবিলের ওপরেই পড়ে ছিল। তা মশমশিয়ে গিলে ঢকঢক জল হাফ জাগ। পরক্ষণেই একটা সিগারেট ধরিয়ে ঢেকুর তুলল। ওটা বরাবরই ওর হজমির কাজ করে। বিছানায় কাত মারার ধরনে মনে হচ্ছে ও শুতে চাইছে। আর কোনও কথা হল না। ঘুমের পর্দা শরীরে বিছানোর আগে দেওয়ালে হেলানো খাটিয়ার দিকে ইঙ্গিত করল। ক্লান্তির দেহমনে রাত নামল।

রাত কত, জানি না। হঠাৎই বুকে চাপ অনুভব করলাম। পরিচিত অথচ অপরিচয়ের গেরো। শুরু হল দুর্দম নিষ্পেষণ। দীর্ঘ সুপ্ত ক্রোধলালায় ভিজে একাকার হল ঠোঁটমুখ। দেহমন্থনের সনাতন ছাঁচটা আমাকে আর একবার চরম নাড়া দিল। আমি ঘেন্নায় বিবশ হলাম।

… অর্ক এখন গভীর ঘুমে। সেতারটা ছিটকে নিচে। ওর গোটা দেহময় ন্যাতানো আবেশ। গণ্ডদেশে আটকে আছে ব্যূহভেদের চিকঝিলিক। ওর দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারলাম না। বমির উদ্রেক হল। ওর ঊষা - উত্থানের লাল জুড়ে যেন পূর্ণগ্রাসের রাহু। অসহ্য। হঠাৎই ঘড়ির শব্দে নিজেকে ফিরে পেলাম। অঙ্কুরিত ভোর। কোনও মোহময় সুর নয় - ঘড়ি সমঝে দিল টানটান সময়। চোখমুখে জলের ঝাপটা মেরে তৈরি হলাম। ছেড়ে গেলাম চিরকুট :

অর্ক, চললাম। তোমাদের দুজনের দেখানো পথে নিজেকে খুঁজে পেলাম। অর্ক বা কিরণ - বাহ্যিক প্রভায় কুসুমের প্রয়োজন ফুরিয়েছে। এখন তার দৃঢ় সম্বল অন্তর্লীন ব্যক্তিপ্রভা। চাকরিটি হয়তো ফিরে পাব। পাপড়িকেও আমার ছায়ায় রাখতে হবে। ওকে জাত- লালসার শিকার হতে দেব না- কুসুমকলি বিশ্বাস।
-------------

লেখক পরিচিতি: বিপ্লব বিশ্বাস ( জন্ম: ১৭.০১.১৯৫৪) মৌলিক তথা ভাষান্তরিত গল্প আঙিনায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতাপুষ্ট। ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ও অবসৃত প্রধানশিক্ষক। নির্জন সৃজনে আস্থাশীল গল্পকারের ১৯৭৬-এ প্রথম লিখিত গল্পই ' সমতট ' আয়োজিত সারা বাংলা গল্প প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিল। তিনি কেন্দ্রীয় সাহিত্য অকাদেমির নথিভুক্ত অনুবাদক। এ রাজ্য,ভিনরাজ্য তথা ভিনদেশের ছোটো, বড় সাময়িক ও দৈনিক পত্র পত্রিকাতে তার গল্প প্রবন্ধ সসম্মানে প্রকাশিত। নানাবিধ টানাপড়েনে তার কলমচারিতা নিয়মিত হতে পারেনি। তার চারটি মৌলিক, একটি প্রবন্ধ, দুটি অনূদিত গল্পগ্রন্থ ও একটি অনূদিত উপন্যাস প্রকাশিত। প্রকাশিত বইগুলি :১.এবং গণ্ডারের শোক ( গল্পগ্রন্থ/ পাণ্ডুলিপি) ২. ক্ষোভ বিক্ষোভের গল্প( গল্পগ্রন্থ / খোলা বারান্দা)৩. বাছাই ছাব্বিশ ( নির্বাচিত গল্পগ্রন্থ / দি সি বুক এজেন্সি) ৪. ইচ্ছেখাম ( গল্পগ্রন্থ / দোসর) ৫. দক্ষিণ ভারতীয় ছোটগল্প(অনুবাদ, ভাষাবন্ধন)৬. পড়শি ভাষার গল্প( অনুবাদ, দি সি বুক এজেন্সি) ৭)সামরিক সারমেয় কথা ( অনূদিত উপন্যাস / সন্দেশ, ঢাকা) ৮. আহারের আড়কথায় শ্রীরামকৃষ্ণ ( প্রবন্ধগ্রন্থ / দি সি বুক এজেন্সি) ( আরও তিনটি যন্ত্রস্থ)।













একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ