এগারোটি তীব্র হুইসেল: ফেরদৌস নাহার





বিতা আমার প্রিয় বিষয়, তবে গদ্যের হাতছানিও কম ডাক দিয়ে যায় না। ভালো লাগলে লিখে ফেলি নানাধরনের গদ্য, আবার পাঠও করি বিভিন্ন রকমের গল্প ও গদ্যের বই। ২০২৩-এর বইমেলা থেকে এই গল্পের বইটি সংগ্রহ করি। নামের কারণে হাত বাড়িয়ে তুলে নিয়ে উলটে পালটে দেখি। কীরকম গল্প রয়েছে এতে! নামটিও বেশ, বলিউডের একটি চলচ্চিত্রের নামের সঙ্গে মিল রেখে নামকরণ-‘নো ওয়্যান কিল্ড জেসিকা ও অন্যান্য গল্প’। লেখক নাহার তৃণা।

বেশ কয়েকবছর ধরে এই লেখকের লেখালেখির সঙ্গে পরিচিত হয়ে আসছি। নাহার তৃণা একাধারে গল্পকার, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক, আলোচক ও সম্পাদক। তার সম্পাদিত বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ ও পত্রিকা রয়েছে। সুদূর আমেরিকায় বসবাস করেও বাংলাভাষার নানাশাখায় সাহিত্য কর্মকাণ্ড ও সৃষ্টিতে নিমগ্ন রেখেছেন নিজেকে। লিখে যাচ্ছেন দুহাত খুলে। এককথায় তিনি একজন পরিশ্রমী লেখক। বর্ণিল ক্যানভাসে দুরন্ত হাতে এঁকে যাচ্ছেন সময়ের ধারাক্রম এবং কলম-যাত্রার কঠিনতর অভিযান। কাজেই বইটি নাড়াচাড়া করে তুলে নিলাম নিজের ঝুলিতে।

এবার আসি উল্লেখিত বইয়ের কথায়।

সাড়ে সাত ফর্মার বইটিতে মোট এগারোটি গল্প রয়েছে। অতিরিক্ত দীর্ঘ নয়, আবার খাটোও নয়। এই গল্পকার দায়সারা কাজ করতে জানেন না, সেকারণে বর্ণনার বহুমাত্রিক উপস্থাপনা যেমন মেলে, তেমনই বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্যও উল্লেখযোগ্য। নাহার তৃণার বিশাল একটি সচেতন ট্রেজারি রয়েছে, যেখান থেকে সে তার লেখার খাজনা প্রকাশ করেন নিষ্ঠার সঙ্গে।

বইয়ের বেশির ভাগ গল্পের প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ। গ্রামবাংলা, মফস্বল, রাজধানী সব মিলিয়ে সম্পূর্ণ বাংলাদেশকে গল্প-রঙের বিশাল ক্যানভাসে তুলে এনেছেন। শুধু এক কী দেড়বার মাত্র সেই রং টেনে নিয়ে গেছেন উত্তর আমেরিকার দিকে।

প্রথম গল্প ‘নওয়াবালি’, গল্পের নায়কের নামে নাম। হিন্দু মালিকের ‘শ্রীময়ী দেশি শাড়ি হাউজে’ কাজ করে সে। রোমান্টিক, মাথায় তার কবিতা ঘুরে। সাতচল্লিশের পার্টিশন, দাঙ্গা, সাম্প্রদায়িকতা, সামাজিক অনৈক্য, এইসব বিষয়গুলোর দীর্ঘজীবী ফলাফলের রূপায়ণ এই গল্প। নিরপেক্ষ লেখকের হাতে মুক্তকলমের বাঁকে বাঁকে এই বিষয়গুলো যতটা সাবলীলভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব, করছেন। রাজনীতির দুর্নীতিকে বিষয় করে এধরনের গল্প পড়ার পর পাঠকের মনে অনেক প্রশ্ন আসতে বাধ্য। সাতচল্লিশের ভাগাভাগি এককোপে হিন্দু মুসলমানের অন্তর জগত ও পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থাকে যে পর্যায়ে নিয়ে গেছে, তা এই উপমহাদেশের একটি চিরস্থায়ী গভীর ক্ষত ও অসুখ হয়ে বারবার ফিরে আসে, আসবে। নাহার তৃণা সেই বিন্দুটিতে আঙুল রেখেছেন। বইয়ের প্রথম গল্প হিসেবে এই গল্পটিকে নির্বাচন করার মধ্য দিয়ে লেখকের মনোজগতের সংবাদ পেয়ে যায় পাঠক।

‘অদৃশ্য স্রোত’ নামে একটি নিরীক্ষা ধর্মী গল্প রয়েছে। যেখানে বাস্তবতা এবং পরাবাস্তবতার স্রোত নিয়ে খেলেছেন। গল্পের চরিত্র হয়ে এসেছে একটি বিন্দু ও দুটি অদৃশ্য প্রহরী। যারা ধনুক হাতে বিন্দুকে আটকে রেখেছে, ঠিক এভাবে (.)। সমুদ্র নিকটবর্তী জেলেদের জীবন, উদ্বিগ্ন জনপদ, ক্ষমতার মস্তানি, রাজনৈতিক আগ্রাসন। এগুলো থেকে চোখ সরিয়ে নিচ্ছেন না তৃণা। একজন সচেতন লেখক বলেই তার গল্পগুলোতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতি এসে যায় নিজের নিয়মে। এই গল্পে কাহিনির হাত ধরে বাংলা ভাষার বিভিন্ন অক্ষর দিয়ে গল্পটিকে গতিময় করে তুলেছেন। এতে বেশ একটা বুদ্ধিপ্রবণ ইশারা রয়েছে।

প্রায় সব গল্পেই কিছু না কিছু মেসেজ নিয়ে এসেছে। গ্রামের হতদরিদ্র মানুষের হৃদয় ঝাপটানো হাহাকার রয়েছে, রয়েছে গ্রাম্য-পলিটিক্স। ‘আঁধারের গাঢ় নিরুদ্দেশ’ গল্পেও সেই মহাপ্লাবিত শূন্যতা ও আর্তনাদ লুটিয়ে পড়েছে, যা দেখে গাছেরাও নির্বাক! পুকুরে খুঁজে পাওয়া কঙ্কালকে কেন্দ্র করে হিন্দু ও মুসলমান দুটি পরিবারই তাদের হারানো ছেলে এবং মেয়ে শেরালি ও সতীর অস্তিত্বে সন্ধানে উদগ্রীব হয়ে ওঠে। গল্পকার এখানে সহজ মানুষের সরল মনকে অকারণ জটিলাশ্রয়ী না করে, রাজনৈতিক দুরাচারের প্রতি কটাক্ষ ও অসহায় মানুষের প্রতি দরদী হয়েছেন। লেখককে তো দরদী হতেই হবে, না হলে যে চিরকালের সত্য এসে একসময় কৈফিয়ত চাইবে, আর এটাই সেই অনিবার্য ভবিতব্য। যা একজন সৎ লেখক কখনই অস্বীকার করতে পারেন না।

‘অন্য কোথাও অন্য কোনোখানে’ গল্পে একটা ভিন্নতা পেলাম। সারমেয়রাও মানুষের মতো চরিত্র হয়ে ওঠে। তাদের দুঃখ নিয়ে তারাও দিশেহারা। যদিও প্রতীকী, তারপরও এধরনের গল্পে কিছু চিরন্তন প্রশ্ন ও নানামুখি চরিত্র নির্মাণের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসে সমাজের কুটিল অভীপ্সা। যা থেকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো কোনো এক স্বপ্নঘোর চরিত্র। তার আগমন পথ দেখায় কাঙ্ক্ষিত নতুন পৃথিবীর। হোক তা কাল্পনিক, হোক তা জাদুবাস্তব, একসময় সেটাই হয়ে যায় অন্যরকম বেঁচে থাকার প্রেক্ষাপট।

প্রায় সবগুলো গল্পই সচেতন ও মৌলিক অনুসন্ধানের সন্ধান দেয়। পড়তে পড়তে ছলকে যাই। গাছের বুক থেকে লোহার পেরেক তুলে তুলে একজন সত্যিকারের বৃক্ষপ্রেমীক একদিন প্রবল যন্ত্রণায় নিজেই বৃক্ষে রূপান্তরিত হয়। যা কিনা মানুষ ও প্রকৃতির ব্যবধান এবং নিষ্ঠুরতাকে প্রবলভাবে ঝাঁকুনি দিয়ে যায়। কঠিনতার সঙ্গে প্রকৃতির পেলবতার সংমিশ্রণ, নাহার তৃণার গল্পের একটি অন্যতম উপাদান।

গ্রামবাংলার যাত্রা শিল্পীদের জীবন, মৌসুমের যাত্রা আয়োজন, যাত্রার নারীশিল্পীদের প্রতি বিত্তশালীদের নজর ও অধিকার, এ-সবকিছু যতই বহু পুরানো হোক না কেন, এই বিষয়গুলো যে এখনও গল্পের বিষয় হয়ে উঠতে পারে, নবীন দিনের গল্পকার নাহার তৃণা তারই প্রমাণ রাখলেন।

অশরীরী চরিত্র নিয়েও রয়েছে বেশ একটি তির্যক গল্প। এভাবে রয়েছে আরও বেশ কিছু গল্পের সম্ভার। সবগুলোর উল্লেখ না করে বরং পাঠকের জন্য রেখে দিলাম কিছু অনুসন্ধানের আগ্রহ।

চলে আসি একেবারে শেষ এবং এই বইয়ের সবচেয়ে ভিন্নধর্মী গল্প ‘নো ওয়্যান কিল্ড জেসিকা’। উত্তর আমেরিকার পরিবেশ, ভিন্ন দেশ থেকে আসা তিনজন মানুষের চরিত্র, তাদের মনস্তাত্ত্বিক আবহাওয়া, প্রেম-ভালোবাসা-বিরহ-বেদনা, সমকামিতার বিরুদ্ধে প্রতিকূল সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অবস্থান, ঝুঁকি। প্রায় সবকিছু উঠে এসেছে এই গল্পে। ম্যাগনোলিয়া ও ক্রিসেনথিমাম নামের পাশাপাশি দাঁড়ানো বিল্ডিঙে বসবাস করে তিনটি চরিত্র। যাদের একজন দক্ষিণ ভারতীয়, নাম কুমারভীরণ, গান করে, দেশে তার প্রেমিকা রয়েছে। একজন বাংলাদেশী, নাম ওমর শরীফ, নারীদের প্রতি যার কোনো আগ্রহ নেই, আর এ-কারণেই বাংলাদেশের মতো একটি সংস্কারচ্ছন্ন দেশ থেকে নিজেকে বাঁচাতে প্রবাসী হয়েছে। জেসিকা ট্রেভার, গায়ানা থেকে আসা, থাকে ম্যাগনোলিয়ারই চৌদ্দ তলায়। ড্রাগ, দেহব্যবসা কোনোটাতেই অরুচি নাই। সেই জেসিকার হৃদয় দক্ষিণ ভারতীয় কুমারভীরণের প্রতি ঝুঁকে যায়। তারপর কী কী ঘটে সেসব নাহয় পাঠকের জন্য তোলা রইল। পূর্ণ-অপূর্ণ চাওয়া পাওয়ার প্রশ্ন নিয়ে শেষ হয় গল্পটি। ছোটো গল্পের সেই পুরাতনী ঘ্রাণ ‘শেষ হইয়াও হইলো না শেষ’ ভাবমূর্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে যায় গল্পের মেরুদণ্ড। এই গল্পের শেষ পরিণতি প্রশ্নবিদ্ধ নাকি সরল, পাঠক ভেদে তা নানান মতামত রাখবে বলে মনে হয়। ‘নো ওয়্যান কিল্ড জেসিকা’ ভাবনার খোরাক দিয়ে যাবে নিঃসন্দেহে।

লেখকের কাছে একটা কথা জানতে ইচ্ছে করছে, এগারোটি গল্পের মাঝে দশটি গল্পে অনেক কিছুর মিল বা সংযোগ রয়েছে, কিন্তু একেবারে শেষ গল্পটির সঙ্গে আর কোনো গল্পের আবহাওয়ার একেবারেই মিল নেই। তাহলে কেন তিনি এই গল্পটি নির্বাচন এবং বইয়ের নামকরণ করলেন?

বইয়ের পাঁচটি গল্প হিন্দু মুসলমান কেন্দ্রিক ঘটনা প্রবাহ দিয়ে সাজানো। গল্পকার নাহার তৃণার কলম হিন্দু মুসলমান কেন্দ্রিক সমস্যার বিবিধ চিত্রায়ন করেছেন, সংখ্যালঘু নিষ্পেসন, যাতে স্পষ্ট হয় যে সাতচল্লিশের দেশ বিভাগ আমাদের মাঝে যে মানসিক ও রাষ্ট্রীয় দূরত্ব সৃষ্টি করেছে তা সম্পূর্ণই রাজনৈতিক প্ররোচনারই প্রতিচ্ছবি। যা গল্পকার নাহার তৃণার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলেই মনে হয়েছে।

বিষয়বস্তু নির্বাচনে গল্পকার অনেকক্ষেত্রে এই উপমহাদেশের দুই ধর্মকে পাশাপাশি রেখে একধরণের অতৃপ্ত অনুসন্ধানের বোধ তুলে দিয়েছেন। রাজনীতির কুৎসিত দাবাচালে ভেস্তে গেছে এই উপমহাদেশের ধর্মীয় সহনশীলতা ও সহবস্থান। বিনিময়ে পেয়েছি দুর্বিনীত ক্রোধ ও অন্ধত্ব, দূরত্ব ও সংঘাত! এ-থেকে যেন মুক্তি নেই আমাদের।

বর্তমান সময়ের সবকিছু গভীর মগ্নতায় দেখেছেন তিনি। সে মানুষের চেহারাই হোক, কিংবা অন্যকোনো প্রাণীর অস্তিত্ব দিয়েই হোক। বিষয়টি প্রশংসার যোগ্য হলেও কখনো কখনো ক্লান্তি এনে দিয়েছে। তাছাড়া এতসব কঠিন এবং রূঢ় বাস্তবতা একাদিক্রমে গ্রহণ করাটাও বেশ একটা পরীক্ষার বিষয়। বিশেষ করে একজন পাঠক হিসেবে একে এড়িয়ে না যেতে পারাটাও একধরনের অগ্নিপরীক্ষা বটে, আর এখানেই একজন লেখকের শক্তি।

নাহার তৃণার আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয়, গল্পগুলোতে চমৎকার সব বর্ণনা ও উদ্ধৃতি রয়েছে, যেসব পড়তে গিয়ে মনে হলো তার মন কবিতার অন্তর্লোকে ঘুরে বেড়ায়। আর সেজন্যই হয়তো বিভিন্ন কবির কবিতার পঙক্তি থেকে গল্পের নামকরণ করেছেন তিনি। যা কিনা একজন কবিতাশ্রয়ী মানুষ হিসাবে আমার কাছে বেশ চমকপ্রদ লেগেছে।

গল্পগুলো পড়ে একটি কথা খুবই স্পষ্ট হয় যে, গল্পকার নাহার তৃণা ঝুঁকে আছেন আদর্শিকতার দিকে। পৃথিবী অনেক বদলে গেছে, বদলে গেছে সৃষ্টিশীলেরাও, কিন্তু এই লেখক এই বইয়ের মাঝ দিয়ে আমাদের চিরকালের মার খাওয়া হতভাগ্য করুণ সত্যকেই বারবার দাঁড় করাতে চেয়েছেন। এটা একটা বিরুদ্ধ স্রোতের যুদ্ধ, যদিও লেখকের কলম ক্লান্তিহীনভাবে সেই যুদ্ধটাই করে গিয়েছে। আগামীদিনে শক্তহাতে লিখতে পারা একজন লেখক হিসেবে নাহার তৃণার কাছে আমাদের প্রত্যাশা নিশ্চয়ই আরও বিস্তৃত হবে।

নো ওয়ানকিল্ড জেসিকা ও অন্যান্য গল্পের ইবুক প্রকাশিত হয়েছে গত এপ্রিল ২০২৪ এ। ইবুকটির প্রকাশক বইয়ের হাট পাবলিকেশন্স। ক্যানভার মাধ্যমে প্রচ্ছদটি করেছেন নাহার তৃণা। বইটির হার্ড কপির প্রকাশক জলধি। প্রচ্ছদ করেছেন রাজীব দত্ত। গল্পকার নাহার তৃণার ‘নো ওয়্যান কিল্ড জেসিকা ও অন্যান্য গল্প’ বইটি পাঠক-প্রিয়তা পাবে, এমনটি আশা করা বোধহয় অমূলক হবে না।


লেখক পরিচিতি: ফেরদৌস নাহার বাংলা ভাষার একজন কবি, প্রাবন্ধিক ও সংগীত রচয়িতা। জন্ম, বেড়ে ওঠা সবই বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে। এ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে ১৭টি কবিতা ও ৩টি প্রবন্ধের বই। বাংলাদেশ ও ভারত থেকে প্রকাশিত হয়েছে অসংখ্য যৌথ কবিতা সংকলন। আরও হয়েছে ইংরেজি ও ফ্রেঞ্চ ভাষায় অনুবাদ কবিতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর এবং কানাডা থেকে কম্পিউটার ট্রেনিং প্রোগ্রাম কোর্স। কবিতার পাশাপাশি ছবি আঁকেন, মন চাইলে বেরিয়ে পড়েন। বইপড়া, ভ্রমণ ও কফি শপে আড্ডা তার খুব প্রিয়। বাংলাদেশের প্রখ্যাত ব্যান্ড সংগীতের দল ‘মাইলস’-এর অনেকগুলো জনপ্রিয় গানের রচয়িতা তিনি। কবিতার জন্য পেয়েছেন ‘কবি রফিক আজাদ স্মৃতি পুরস্কার ২০২২’এবং অনুপ্রাণন সম্মাননা ২০২২। বর্তমানে কানাডার টরন্টোতে বসবাস করছেন। ভালোবাসেন প্রকৃতি ও মানুষ।







একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ