দুই দিনের মিঠে বসন্ত পেরিয়ে দ্রুত পায়ে ঠান্ডা বাতাস সাঁতরে ছুটছি অফিসের দিকে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে প্রাণে যে অদ্ভূত আরাম পাই, সেই অবস্থাকে এই বয়সে বসন্তকাল ছাড়া অন্যকিছু মনে হয় না। গত দুই দিন ঘুম ভেঙে মনে মনে বলেছি, তুমি আমারি, তুমি আমারি। কর্ম দিবসের প্রথম দিন ভোরে মোবাইলে এলার্ম বাজতেই ভুলে গেছি, আজ বর্ষা না বসন্ত। যাই হোক, থারটি ফোর স্ট্রিট পেন মেট্রো স্টেশন থেকে তিনটি রাস্তা পেরিয়েই আমার অফিস। তড়িঘড়ি অফিসে ঢুকে চারপাশে মানুষের মুখ না দেখেই মিসাইলের গতিতে ক্লক ইন ডিভাইসের সামনে লাইনে দাঁড়াই। আটটা বাজতে দশ মিনিট বাকি, এবং এই দশ মিনিটের মধ্যে ক্লক ইন করতে হবে। ক্লক ইনের আগে একটা কুইক টাস্ক থাকে, সেটাও সম্পূর্ণ করতে হবে। ঘড়িতে মিনিটের কাঁটা আটটার ঘর পার হলে আবার লেট কাউন্ট করবে। লাইনের শেষে দাঁড়ানো আমি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে শিরদাঁড়া বেয়ে একটা শীতল স্রোত বয়ে যাওয়া টের পাই। তীব্র শীতের মধ্যেও ঘামতে থাকি। আমেরিকার জীবন শান্তিপূর্ণ, কিন্তু তারা খুবই সময়ানুবর্তী। এক মিনিট দেরি হলে বসের মুখ কালো হয়ে যায়। ঘড়ি ধরে যেমন ক্লক ইন করি, তেমন ক্লক আউটও করি। বিষয়টি খারাপ না।
নিজের নাম পৃথিবীর মধুরতম শব্দ। সুপারভাইজার আমার নাম ধরে ডেকে হাতে ক্লক ইন ডিভাইস তুলে দিলে বুকের ধুকপুক বন্ধ হয়। শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হই নি, আটটার মধ্যেই ক্লক ইন, নির্ধারিত টাস্ক শেষ করি। সপ্তাহে পাঁচ দিনই আমার নাম, আমার নাম, নামাবলি গায়ে জড়িয়ে কয়েক মিনিট আত্মা থেকে ঘাম ঝরাতে হয়, যে ঘাম উর্ধতন কর্মকর্তারা বোধ হয় দেখেন না। এক মিনিট দেরি হলে তাদের থেকে তিন মিনিটের লেকচার শুনতে হয়।
ক্লক ইন শেষে সকলে যার যার নির্ধারিত কাজে মনোনিবেশ করে। রিসেপশন ডেস্ক থেকে দেখছি, অফিসের বস মিস কেনিয়া সারা মুখে কেমন একটা বিহবল ভাব নিয়ে ফোনে কথা বলছেন, আর এলোমেলো পায়চারি করছেন। কেনিয়াকে ঘিরে সারি সারি মানুষ, তারা মৃদু স্বরে কথা বলছে। এই ট্রানজিশনাল শেল্টার হোমের লবিতে সবসময় রেশনের লাইনের মতো মানুষের বিশাল লাইন লেগে থাকে। কেউ কেস ম্যানেজার, কেউ দোভাষী, কেউ সোশাল ওয়ার্কার, কেউবা সদ্য আগত অতিথি। অফিশিয়াল লোকজন তো আছেই। দীর্ঘদিন একই অফিসে কাজ করার সুবাদে এই তেইশ তলা বিল্ডিংয়ে বসবাসরত পৃথিবীর নানান প্রান্ত থেকে আসা ক্রান্তিকালীন আশ্রয় প্রার্থী বেশীরভাগ পরিবারের মুখগুলো আমার চেনা। রোজ সকালে বাচ্চারা বাবা-মায়ের হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার সময় কেউ কেউ এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে। ভারি ভালো লাগে। মানুষের ভাষা বুঝতে না পারলেও অন্তত বাচ্চাদের ভাষা বুঝি। এদেশে নতুন আসা অনেক বাচ্চারা ইংরেজি পারে না, কিন্তু জুলজুল করে তাকিয়ে যখন জড়িয়ে ধরে তখন ওদের বুকের আশ্চর্য ওমে আমার সকল ক্লান্তি কেটে যায়। ওদের শরীরের ঘ্রাণে আমি পুরো পৃথিবীর আকাশ, প্রকৃতির ছায়া পাই। ভোরবেলায় আমার চারপাশে যখন জগতের শত শত ভাষা উড়তে থাকে, তখন মনে হয় ওই ভাষারা এই শেল্টার হোম নয়, ওরা একটা স্থায়ী বাসা খোঁজে। যে বাসা থেকে খোলা আকাশ দেখা যাবে, জানালা দিয়ে ফুরফুর বাতাস আসবে। যে বাসার দাওয়ায় বসে বাচ্চারা পাখীর ডানার মতো মায়ের নরম আদরে খেলবে, পছন্দের খাবার খাবে, গল্প করবে।
আমার অফিসের পরিবেশ এবং এই চাকরিটা আমি উপভোগ করি। পৃথিবীর যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা, আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়া, অনেক ঝড় সওয়া বিঃধ্বস্ত মানুষগুলো এই সাময়িক নীড়ে আশ্রয় পেয়ে ওদের রিক্ত মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠে, চোখে খুশীর অভ্র চিকচিক করে উঠে, দৃশ্যটি আমার কাছে অপার্থিব মনে হয়। তবে আজকের পরিবেশটা একটু ভিন্ন, থমথমে লাগছে। কেনিয়া তাঁর অধীনস্থ আমাদের সঙ্গে কাজের বিষয়ে কিছুটা কঠোর হলেও বিল্ডিংয়ে অবস্থানরত মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকেন। এই বিষয়টা আমার ভালো লাগে। কারণ, জন্মভূমি, ভিটে বাড়ি, স্বজনের সঙ্গে বাঁধন ছিন্ন হওয়া ওঁদের মমতা বড় প্রয়োজন।
দোভাষী পারিসার সঙ্গে কেনিয়ার কথোপকথন শুনে শেষ অবধি বুঝতে পারি, আজকের অফিসের থমথমে অবস্থার হেতু। আফগানিস্তানের কাবুল থেকে আসা উম্মে হাবীবা ও তার মায়ের মাঝখানে তৈরি হওয়া সমস্যা সমাধানের বিষয়ে তাঁরা আলোচনা করছিলেন। হাবীবার কথা শুনে দাঁড়কাকের মতো ঘাড় ঘুরিয়ে এদিক-ওদিক তাকে খুঁজতে থাকি। মাছের ঝাঁকের মতো আসা-যাওয়া মানুষের সরোবরে তাকে দেখতে পাই না। হঠাৎ চোখে পড়ে হাবীবার তিন বছর বয়সের পুত্র উসমান বেবি স্ট্রলার থেকে মাথা বের করে উঁকিঝুঁকি মারছে, লবিতে নেমে খেলতে চাইছে। এক সময় চঞ্চল প্রকৃতির উসমান স্ট্রলারের বাঁধন খুলে মুক্ত বিহঙ্গের মতো লবিতে হইহই নাচতে থাকে, অনর্গল কথা বলতে থাকে, হাতের আঙুলে শূন্যে ছবি আঁকে, গাইতে থাকে ৷ মনে পড়ে, শিশুরা কথা বলার আগে গায়, হাঁটতে শেখার আগে হাত-পা ছুঁড়ে নাচে, লিখতে পারার আগে মনের মাধুরী মিশিয়ে আঁকে। আদতে, প্রতিটি মানুষই শিল্পী, আর শিল্পই মানুষের অন্তর্নিহিত আবেগ প্রকাশের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। ডেস্কের আড়ালে থাকা হাবীবা পুত্রের পেছনে বেরিয়ে এলে ওর ক্লান্ত, পান্ডুর মুখ দেখে আমার সর্বাঙ্গ শিউরে ওঠে। আকাশের মতো নীল যার চোখ, পাহাড়ের মতো স্থির চাহনি, নদীর কলতানের মতো সুললিত কন্ঠস্বর, তার অবয়বজুড়ে বইছে অস্থিরতা, কান্নার ঢেউ।
হাবীবার সঙ্গে কয়েক মাস আগে আমার সখ্য গড়ে উঠে উসমানের মাধ্যমে। শেল্টার হোমে পাখীর বাসার মতো ছোট্ট কক্ষে উসমান একদম থাকতে চায় না। ও সদা ঘাস ফড়িংয়ের মতো খোলা আকাশের নিচে লাফাতে চায়। পার্কে কিংবা বাইরে আসা যাওয়ার পথে হাবীবা পুত্রের পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে হাঁপিয়ে যেতো। চোখের সামনে দেখেছি, হাবীবা এবং তার মা দু'জন মিলে উসমানের দুই হাত শক্ত করে ধরেও ওকে সামলাতে হিমশিম খেতো, ও তখন চিৎপাত শুয়ে পড়তো মেঝেতে, তখন আমিও হাত বাড়িয়ে দিতাম। হাবীবার মুখে শুনেছি, কাবুলে তাদের বিরাট বাড়ি ছিল, সামনে, পিছনে খোলামেলা অনেক বড় জায়গা ছিল। রোদ পড়লে ওদের নিটোল উঠোনটা সোনার খনি হয়ে উঠতো, সেখানে উসমান যখন খেলতো তখন ওর বাবা বাঁশি বাজাতো।
কাবুলে হাবীবা সুপ্রিম কোর্টে ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিল। তালেবানরা যখন ঘোষণা দিয়েছে, মেয়েদের ঘরের বাইরে যাওয়া নিষেধ, কাজ, পড়াশোনা করতে পারবে না, তখনও স্বামীর সহযোগিতায় ও নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছিলো। তালেবানরা এই খবর পেয়ে হুমকি দিলে ওর স্বামী কাবুল ছাড়ার জন্য পরিবারের পাসপোর্ট করতে দেয়। হাবীবা এবং উসমানের পাসপোর্ট দ্রুত হাতে পেলেও তাঁর পাসপোর্ট পেতে বিলম্ব হয়। এর মধ্যেই তালেবানের হাতে তিনি নিহত হন। যেদিন তাঁর স্বামীকে হত্যা করা হয় সেদিনই ওদের বাড়িতে তালেবানরা হামলা করলে হাবীবা ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে তার মায়ের কাছে চলে আসে। অত:পর, মা, ভাইয়ের সঙ্গে ইরান, তুর্কমেনিস্তান সহ আরো দেশ হয়ে খড়কুটোর মতো ভাসতে ভাসতে এখন নিউইয়র্কে। তার ভাই রয়ে গেছে ইরানে। অসুস্থ বৃদ্ধ মা এবং সন্তানকে নিয়ে এদেশে হাবীবার সরকারি আশ্রয় জুটলেও ও যেনো অথই সাগরে ভাসছে।
মাস খানেক আগে হাবীবার মা স্ট্রোক করে শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলেন। আশ্রয় পাওয়ার প্রথম নয় মাস সরকার থেকে মাসিক যে অর্থ পেতো তা দিয়ে মায়ের ওষুধ, উসমানের খাবার, খেলনা, শখ আহ্লাদ কিছুটা পূরণ করতে পারতো। মায়ের কাছে ছেলেকে রেখে হাবীবা ইংরেজি শেখার ক্লাসেও যেতো। ইতোমধ্যে, হাবীবার ওয়ার্ক পারমিট হলে শর্তানুযায়ী সরকারী মাসিক অনুদান বন্ধ হয়ে যায়। ও এখন কাজ খুঁজছে, কিন্তু পাচ্ছে না। এদিকে উসমানকে মায়ের কাছে রাখাও নিরাপদ নয়, কারণ, ও দরজা খুলে বেরিয়ে যায়। মা-মেয়ের মাঝখানে উসমান এখন মস্ত বড় একটা দেয়াল তুলে দাঁড়িয়েছে। হাবীবার মা বলছেন, উসমানকে অনাথ আশ্রমে পাঠাতে, হাবীবা কোনভাবেই রাজি হয় না। মা-মেয়ের সমস্যা নিরসনে কেনিয়ার অনুরোধে উসমানকে শেল্টার হোমের রিক্রিয়েশন ডিপার্টমেন্টে রাখার ব্যবস্থা হলেও সমস্যার সমাধান হয় না। রিক্রিয়েশন ডিপার্টমেন্ট বন্ধ হয় পাঁচটায়। চাকরির সন্ধানে ছুটে বেড়ানো হাবীবা বেশীরভাগ সময় পাঁচটার মধ্যে এসে পৌঁছায় না। বিষয়টির সুরাহা করতে না পারা, এবং হাবীবার ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে অনর্গল কান্নার ফলস্বরূপ অফিসের সবার মন খারাপ হয়। সেদিন হাবীবার সমস্যা অমীমাংসিতই থেকে যায়।
সময় হাঁটতে থাকে আপন নিয়মে। গায়ের ঘা লুকিয়ে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হাবীবা মাকে শেল্টার হোমে, আর উসমানকে দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়ের বাসায় রেখে প্রতিদিন ভোরে চাকরির চেষ্টায় বেরিয়ে পড়ে। শুনেছি, হাবীবার প্রেমের বিয়ে ছিলো। ‘প্রেমের মূলে আছে ভিটামিন’ লিকলিকে হাবীবার দিকে তাকিয়ে শীর্ষেন্দুর লাইনটা আমি মনে মনে আওড়াতে থাকি। অকালে স্বামী হারা চব্বিশ বছরের হাবীবার পুত্র উসমান তার ভিটামিন বৈকি অন্য কিছু নয়। নয়ত, পুরো সিস্টেমের সঙ্গে লড়াই করে উসমানকে কাছে রাখার শক্তি এই ভিনদেশে ও কোথায় পেতো!
একদিন দুপুরের রোদে ঘামতে ঘামতে সমস্ত মুখেচোখে খুশির ফুলঝুরি জ্বালিয়ে হাবীবা বলে উঠলো, ‘আমি চাকরি পেয়েছি!’ তার চাকরি পাওয়ার সংবাদে অফিসের সবার মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। হাবীবা আমাকে জড়িয়ে হাত চেপে ধরে বললো, ‘উসমান আমার অক্সিজেন, বাঁচার আশ্রয়। তালেবান হামলায় সব হারিয়ে ক্ষুরধার বাস্তবতার সামনে যখন ঠকঠক কেঁপেছি, তখন উসমানকে জড়িয়ে বেঁচে থাকার শক্তি পেয়েছি। ওকে অনাথ আশ্রমে পাঠালে আমি আর বাঁচব না। উসমানের হাসি, চঞ্চলতা, শ্বাসপ্রশ্বাসে আমি ওর বাবাকে পাই। এই আমার গোপন সুখ।’ সেদিন হাবীবার চোখেমুখে অপার স্বপ্ন দেখেছি, যে স্বপ্নের আলো এসে পড়েছিলো আমার মুখেও। আমার, আমাদের হৃদয়ে দাগ কেটে হাবীবা এক সপ্তাহ পর শেল্টার হোম ছেড়ে নতুন গন্তব্যে পাড়ি জমায়।
সময় বদলেছে, বদলেছি আমিও। ইদানীং, অফিস শেষে আমার হার্ট এবং ব্রেনের মধ্যে তীব্র একটা যুদ্ধ টের পাই। ব্রেন বলে, তুমি ক্লান্ত, তাড়াতাড়ি বাসায় যাও! হার্ট বলে, অফিস আর বাসার শিকলেই জীবন কাটিয়ে দিবে! হার্ট নাকি ব্রেন, কার সঙ্গে সমঝোতা করবো, ভেবে এলোমেলো হয়ে পড়ি। আগামী দুই দিন ছুটি বিধায় শেষ পর্যন্ত হার্টের সঙ্গেই সমঝোতা হয়।
ঘরমুখো ট্রেনে না চেপে মানুষের স্রোতে হেলেদুলে হাঁটতে হাঁটতে থার্টি ফোর স্ট্রিট থেকে ফরটি সেকেন্ড টাইমস স্কয়ারে চলে আসি। শীতের হাওয়ায় হু হু টান, ঠোঁট, গলা শুকিয়ে এসেছে। উদ্দেশ্যহীন আর কতক্ষণইবা হাঁটা যায়! আলোর ঝালরযুক্ত মূল সড়ক পেরিয়ে সরু গলির ধারে একটা পাবে ঢুকে চেয়ারে ক্লান্ত শরীর এলিয়ে দিই। মানুষের উচ্চকিত হাসি, কথা, আনন্দে ক্লান্তি কমে আসে। পাশের টেবিলে মনের কপাট খুলে দু'জন কথা বলছে। তাদের শিশুয়ানি আদর, ফূর্তি থেকে চোখ সরিয়ে টেবিলে রাখা মেন্যুতে মনোযোগ দিই।
অর্ডার নিতে আসা মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে স্পষ্ট মনে হলো, ও আমার চেনা, কিন্তু কোথায় দেখেছি, মনে পড়ে না। মেয়েটাও কী এক মোহগ্রস্ততায় চেয়ে থাকে আমার দিকে। ‘আমাকে চিনতে পারো নি বুঝি?’ তার কন্ঠস্বর, চোখ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে এতক্ষণে আমার হুঁশ হয়, চিনতে পারি।
আমার অর্ডার নিয়ে মেয়েটি প্রস্থান করে। থাই স্যুপের ট্রে হাতে ফিরে এসে ও বলে, ‘আমার পবিত্র ধর্মগ্রন্থে লেখা আছে আমার জন্মের পঞ্চাশ বছর আগেই আমার নিয়তি লেখা হয়ে গেছে, এবং এটাই আমার নিয়তি।’ লক্ষ্য করি, তার চোখের পাড় চুঁইয়ে খসে পড়ছে অন্ধকার।
‘মিস লিন, দয়া করে এদিকে আসো!’
সহকর্মীর ডাকে ও চলে যায় আমার টেবিল ছেড়ে। পাবের সবাই যখন দেখছে শর্ট স্কার্ট, হ্যাট, হাই হিল পরা পুতুলের সাজে সজ্জিত মিস লিনকে, তখন আমি দেখি জীবনের বেদনায় জর্জরিত আলখাল্লা পরা একাকী এক জীবন যোদ্ধা, উম্মে হাবীবাকে।
***
লেখক পরিচিতি: পলি শাহীনা। গল্পকার। জন্ম বাংলাদেশ। বর্তমান নিবাস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। পলি শাহীনার প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য বই: বৃত্তের বাইরে, হৃদয় এক অমীমাংসিত জলছবি, ধূসর নির্জনতা, হৃদকথন, গভীর জলের কান্না ইত্যাদি।


0 মন্তব্যসমূহ