"আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে,
আমার মুক্তি ধুলায় ধুলায় ঘাসে ঘাসে।" মুনিয়ার খুব পছন্দের রিংটোন । বন্ধুরা বলে,এটা শুনে শুনে কান পচে গেল। মুনিয়া এসবে পাত্তা দেয় না। বাকিটা গুন গুন করতে করতে ব্যাগ থেকে ফোনটা বের করে ধরে।
হ্যাঁ মা, বলো।
এখন কোথায় রে?
ট্রেনে।
আর কতক্ষন ?
বুঝতে পারছিনা। এখন মনে হচ্ছে বেনাপুর টুর হবে।
এখানে টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে। এত দেরি কেন রে।
ট্রেন লেট।
কী বললি?
বললাম তো, ট্রেন লেট।
খুব চিন্তা হচ্ছে। ভয় ভয় করছে। মেয়ে হয়ে জন্মেচ্ছু। ঘর বাইর পদে পদে বিপদ। দিনকাল খারাপ । দেখেশুনে চলবি রে, মা।
না, এসব বলা যাবে না। যা হোক, বলিনি। চেপে গেছি । গলার কাছে এসে গেছল। আর একটু হলে–---। মুনিয়া খ্যাঁক করে উঠত। মা, কতবার বলেছি ওই আবর্জণাগুলো কখনও মুখে আনবে না। ভাগ্যিস মুনিয়াই পট করে কাটল।
উফ! কী মেজাজ হয়েছে? যেন মহারানি।আর আমি হলাম হুকুমের দাসী। এটা করবে না। ওটা করবে না।এটা খাবে না।ওটা খাবে না।
হবে না,নাস ম্যাডাম যে। দিনে হাজার বার হাত ধুয়ো, মোছ, পোশকার কর। এদিকে হাতে হাজা লেগে গেল। হুঁকথায় স্যানিটিজার দিয়ে হাত ধুয়ে ভাইরস,জীবানু হঠাও। ডাক্তার হলে কী না হত! মাটিয়ে পা পড়ত না। পান থেকে চুন খসলে মহারানির মেজাজ। আবে, তোর মেজাজ কে ধারে?
আমি হলাম ধান ব্যবসায়ী হলধরের একমাত্র আদরের কন্যা। দশ বিঘে ধানজমি,চারটে গোলা,তিনটে পুকুর,সব্জি বাগান। বড় মাছের মুড়া আমার জন্য তোলা থাকত। আমার বাপ আমকে কুন দিন অদা চাপড় মারে নি।
মুনিয়া মেদিনীপুরে একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে চাকরি করে। তিন বছর হল সরকারি কলেজে নার্সিং ট্রেনিং শেষ করেছে। ছুটি ছাটা তেমন নেই। সপ্তাহে একবার বাড়ি আসে। একদিন ছুটি। সন্ধে পর্যন্ত ডিউটি করে। তারপর ট্রেন।বাড়িতে মা বীণাপাণি সারা সপ্তাহ ধরে চৌকাঠ এঁটে ।মুনিয়ার পছন্দের নানা পদ রাঁধে। আদর করে খাওয়ায়। সপ্তাহের জমানো কথা শিশুর মতো গল গল বলে যায়। মুনিয়া চোখ বন্ধ করে শোনে।এক সময় কান থেমে যায়। কিন্তু বীণাপাণির মুখ থামে না।
তোমার বাবা অত বড় ব্যবসায়ী। হলধরেরর সামান্য বেতনের কর্মচারীকে বিয়ে করলে কেন?
এই রে। ধরে ফেলেছে।
বীণাপাণি দাঁতে জিব কাটে।মুখে আঙুল চাপা দিয়ে কুলুপ আঁটে। সাবধান, আর কথা না।মা'র কথাগুলো ভাবতে ভাবতে মুনিয়া হাসে।
খুব মাথা ব্যথা করছে। চোখ দুটো টনটন করছে। মাথার ভারটা অসহ। এক দু'মিনিট চোখ বন্ধ করে বসেছিল। মায়ের জন্য আবার মনটা কেমন ব্যথিয়ে উঠলো।ঠাম্মি মাকে বলত, মা হওয়া কি মুহের কথা গো বৌমা? মা যে ধাত্রী।
জীর্ণ মাটির বাড়ি। দেয়ালে ফাটল। বীণাপাণি একলা টলমল।চকলাওঠা দেয়ালে খড়ি দিয়ে দাগ কাটে। মাস দিন ভুলে যায়।বুড়বুড়ি কাটে।কাচা কাপড় আবার কাচে। চৌকাঠের এপাশ ওপাশ। মুনিয়ার যা যা বলে ঘুরে ফিরে দ্যাখো। টিকটিকি ডাকলে গাল দেয়। পলে পলে রাত বাড়ে! রাত শ্মশানে বীণাপানি একলাটি মাটি কামড়ে ।
অদূরে কৃষ্ণচূড়া গাছটায় পেঁচা ডেকে ওঠে । ডাকটা কর্কশ ।বীণাপাণির বুকে কাঁপন ধরায়।ঘুপচি আঁধার চিরে টর্চের আলো এগিয়ে আসে। যত কাছে আসে আশা ক্ষীণ হয়।
সীমানায় করবী ফুলের গাছটা থেকে একটা ফল পড়ে। মুনিয়া ছোটবেলায় একটা ফল খেয়ে ফেলেছিল। বিষ ফল।সে কী বমি!মুনিয়ার বাপ ছুটে গিয়ে ডাক্তার নিয়ে এল।ডাক্তার পেছনে। মুনিয়ার বাপ ডাক্তারের কালো ব্যাগ বগলদাবা করে হন্তদন্ত। ডাক্তার খুব বকল। মুনিয়া বোঁটা থেকে ফুল ছিঁড়ে মধু খেত।সেই মধু নিশ্চয়ই ফলে জমেছে। বিণাপাণি গাছটাকে কেটে ফেলতে চায়। মুনিয়া কান্না জুড়ে দেয়।লাল,নীল,হলুদ,বেগুনি প্রজাপতি ডানা মেলে । মধু খায়। ক'টা টুনি এডাল ওডালে তালে তালে নেচে বেড়ায়।মুনিয়া খুকিবেলায় গাছ তলায় রান্না বাটি খেলত।জামার কোঁচড়ে ভরে লুকিয়ে আনত ছোলা,মুগ মুড়ি, ক্ষুদ ।টুনিদের আদর করে খেতে দিত।
কে রে?
আমি হারা গো, জেঠি।
কোথায় যাবি এই বাদলায়?
বামুন পুকুরে মাছ ধরতে ।
মুনিয়া এসেছে?
না রে।
রাস্তার দিকে তাকিয়ে দুটি ক্ষীণ চোখ । অস্থির কান জেগে থাকে। মুনিয়ার সাইকেল ক্রিং ক্রিং। না, ভ্রম।
ট্রেনের তীব্র বাঁশির শিস,দুলুনি, যাত্রীদের হল্লা ফেরিওলাদের হাঁকডাক ছাপিয়ে মা'র অস্ফুট ধ্বনি মুনিয়ার কানে।
বেলদায় নেমেছিস ?
মা,এখনও ট্রেনে । চিন্তা করো না।
আমি ঠিক পৌঁছে যাব।
ঠিক আছে, রাখ।এবার বীণাপাণি ফোন কাটল।একলা থাকলে মায়ের কথাই কেমন ঘুরে ফিরে আসে।
মুনিয়া যেদিন প্রথম বেতন পেল একটা ছোট প্যাকেট বীণাপাণির হাতে দিল।
এটা কী রে ?
খুলে দ্যাখো।
পারব না।আমার ভয় করছে। তুই খোল।
মুনিয়া প্যাকেটটা খুলল। ছোট ফোন দেখে বিণাপাণি তো একেবারে হেসে কুটিকুটি।মুনিয়া অনেক সাধ্যসাধনা করে প্রথমে ফোন ধরা শিখিয়েছে। একটাই নম্বর সেভ করে। নির্দিষ্ট বোতামটাকে বালিকা নববধূকে পুকুর ঘাটের ধাপ চেনার মতো চিনিয়ে দেয়। বীণাপাণি একটাই বোতাম জোরে চেপে ধরে।
এই তো, তুমি পেরেছ। এবার বলো।
বীণাপাণির বুক ধড়ফড় করত। ঘনঘন শ্বাস নিত। এখন সারাদিনে শ'বার ওই বোতামটাতে চাপ দেয় । বকা খায়। মুনিয়া মাকে বুঝিয়ে বলে, মা ডিউটি আওয়ারে ফোন ধরা বারণ।তাছাড়া আমি কাজে মনোযোগ দিতে পারব না।প্রয়োজনে আমি করে নেব,কেমন?
বিণাপাণির কানে রিংটোন অহরহ বেজেই চলে। কাজ ফেলে বার বার ছুটে যায়।মুঠোয় নিয়ে কানে চেপে ধরে। ধুর,বরফ!
আজ ট্রেনে ভীড় নেই।বসবার সিটগুলোয় দু'তিন জন। বসে, ঝিমিয়ে, শুয়ে, পা ছড়িয়ে। বাইরে ঝেঁপে বৃষ্টি। বৃষ্টির দানা মুনিয়ার গায়ে ।গা শির শির করে । ওড়নাটা গায়ে জড়িয়ে নেয় । পাশের সমান্তরাল সিটটাতে দুজন রকস্টার ।স্মার্ট ফোনে ইতিউতি। লোলুপ চাউনি মুনিয়ার দিকে। মুনিয়ার হাত পা, আঙুল, নখ, চোখ, চুল,পোশাক লুকিয়ে জরিপ করে।
মুনিয়া যখন ফোনে বীণাপানির সাথে কথা বলছিল, মনে হল ওদের কান খাড়া। আড়ি পাতার মতো। একটু অস্বস্তি হচ্ছিল। মুনিয়া সজাগ থাকার চেষ্টা করল। ফোনটা আবার হাতে নিল। মা'কে আরেকবার রিং করার কথা ভাবল। না। মা অস্থির হয়ে উঠবে। ছোট হাত ব্যাগটাতে ফোন রেখে দিল। কখন ভয় নামক জোঁক মনের মধ্যে জেঁকে বসে । ইতিমধ্যে ট্রেন কেশিয়াড়ি রেল ক্রসিং পার হল। উঠে দাঁড়ালো। এগিয়ে গেল দরজার দিকে। আট দশ জন নামার জন্য মনোযোগ দিল। বেলদা ট্রেন থামল। নেমেই দেখল ট্রেনের ওই দু'জনকে। একটু তফাতে নিজেদের মধ্যে ফিসফাস। মুনিয়া একটু ঘাবড়ে গেল।স্টেশন সংলগ্ন জায়গায়টা ফাঁকা। বাজারে যাওয়ার দুটো রাস্তা আছে। স্টেশন থেকে বাজার পর্যন্ত প্রায় এক দেড় কিমি। লাস্ট বাসে গন্তব্যে নেমে,বাকিটা সাইকেলে।
ঝিরঝির বৃষ্টি পড়ছে।ব্যাগ থেকে ছাতাটা বের করল।
যে ক'জন যাত্রি নামল,তারা মুহূর্তে এদিক ওদিক চলে গেল। মুনিয়ার হঠাৎ খেয়াল হল হাতের ব্যাগটা হাতে নেই। সর্বনাশ! ফোন, পার্স সব কিছু ওখানেই তো ছিল।কাঁধের ব্যাগটা হাতড়াল।না ফোন বা পার্স কিছু নেই।ডাইরি, একটা ফাইল, কিছু কাগজপত্র,দু'একটা জামা কাপড় । মুনিয়া দ্রুত পা চালাল। একজন সামনে তরতরিয়ে হাঁটছে। জোরে পা চালানোর চেষ্টা করল। পা দুটি ক্রমশ ভারী হয়। পেছনে টেনে ধরে। লোকটা দ্রুত দৃষ্টির বাইরে চলে যায়।
পাশের সব দোকানগুলোয় ঝাপ ফেলা। মনে হল কারা যেন ওকে ফলো করছে। পায়ের শব্দ ঝড়ের গতিতে ধেয়ে আসছে । স্পষ্ট শুনল ওই দিকে। মুনিয়া দেখল রাস্তাটা যেখানে বাঁক নিয়েছে সেখানে একটি ছোট চা দোকানের মতো। একপাশ ঝাপ ফেলা।পাশে একটা টিনের দরজা আধ খোলা। এক মুহূর্ত ভাবনা তারপর ফাঁক গলে ঢুকে পড়লো। ভেতরটা অন্ধকার। কাউকে দেখতে পাচ্ছে না।ইতিমধ্যে ওই পায়ের শব্দ বাঁকের কাছে এসে থামলো।মুনিয়ার বুক ঢিপঢিপ । আবে,শালি গেল কোন দিকে। চল, ওই দিকটা একবার দেখি।ওরা আরেকটা গলি পথে ধাবিত হল।
সামনে থেকে একটি বাইক আলো ফেলে গেল। হেডলাইটের তীব্র আলো মুনিয়ার মুখে পড়ল।
ভাবল ওরা হয়ত ঘাপ্টি মেরে আছে। এভাবে মিনিট দশেক। মুনিয়া দোকানে আঁধার আঁকড়ে। এক বিপদ থেকে আর এক বিপদের আশঙ্কায়। থরথর করে কাঁপছে।ভয়ে গলার থুতু শুকিয়ে কাঠ। ব্যাগ হাতড়ে জলের বোতল থেকে দু ঢোক জল খেল। মিনিট দশেক পরে কেউ একজন দোকানে ঢুকলো। মুনিয়ার মরিয়া চেষ্টা। শ্বাস চাপে। পারে না।লোকটা আধবুড়ো। আলো জ্বালল। লোকটাকে দেখার চেষ্টা করে । হাতে ধরা কিছু । নিচে রাখল। আতঙ্কিত মানুষের নিশ্বাসের শব্দ শুনে বলল,কে ওখানে? লোকটা স্পষ্ট দেখল, মাচাটার নিচে মাটি কামড়ে একটি মানবী মূর্তি।হাঁটু মুড়ে কুঁকড়ে । মুখ গুঁজে।
কে ওখানে? থর থর করে কাঁপছে। লোকটা এগিয়ে যায়। স্থির চোখে ওকে দেখে। কে তুমি?
মুনিয়া দাঁতে দাঁত চেপে হাতের মুষ্টিতে বল আনার চেষ্টা করে। লোকটার দু'হাত ওই মানবী মূর্তির দিকে এগিয়ে যায় । মানবী মূর্তিটির মুখ দিয়ে হঠাৎ বেরিয়ে এল 'বাবা'। ভেতরের স্তব্ধতা খান খান।লোকটার বুকে অনুরণন।
খুব চেনা এই ডাক । অনেক কাল হারিয়ে যাওয়া 'বাবা ডাক' লোকটার মধ্যে প্লাবন সৃষ্টি করল। লোকটা মুনিয়ার দিকে আরও, নিবিড় ভাবে চেয়ে থাকে। কোথায় ছিলিরে 'মা'? মুনিয়া তার কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না। লোকটা ওকে' মা' বলে ডাকছে। মুনিয়ার দু' চোখ দিয়ে তপ্ত অশ্রুধারা নামতে লাগলো । লোকটা মুনিয়াকে অভয় দেওয়ার চেষ্টা করল। এখানে আশ্রয় নিয়েছিস কেন? ভয় পাচ্ছিস কেন,বল?
কাঁপা স্বরে ও ইঙ্গিতে মুনিয়া ওর আশু বিপদের কথা বলল। মা রে, এই বুড়ো বাপ থাকতে কেউ তোর কোন ক্ষতি করতে পারবে না।
একটি ধারালো টাঙি হাতে নিয়ে বলল, এই হাসনচাচা এককালে কশাই ছিল। এটা দিয়ে সব জানোয়ারকে ঘায়েল করব। মুনিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল।চোখ মুখ মুছে দিল।আর তোর কোন ভয় নেই রে, মা। এই বুড়ো বাপ তোকে সমস্ত বিপদ থেকে জান দিয়ে রক্ষা করবে রে মা। 'বাবা' বলে যখন ডেকেছিস, তখন আমি যা বলব,তাই শুনবি।এখানে হাত ধুয়ে নে। তোর আপত্তি না থাকলে আয় এই খাওয়ার বাপ বেটিতে ভাগ করে খাই। মুনিয়া ঠায় বসে থাকল। নে, ধর।
মুনিয়া ইতস্তত করে। কী হল? মুনিয়া একটা রুটি নিল। বাড়িতে মা একা আছে। একটা খবর দিতাম।আমার ফোনটা ট্রেনে –------।
আমার তো ফোন নেই মা।অনেক রাত হয়েছে। আশপাশে সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। দিনের আলো ফুটুক । হাসানচাচা মুনিয়ার কাছে শিশুর মতো বসল।দুচোখে অপার স্নেহ।
'বাবা ডাক' হাসানচাচাকে এক ঝড় জলের ভয়ঙ্কর রাতে নিয়ে গেল ।খানিক চুপ থেকে বলল, জানিস তোর মতো আমার একটা মেয়ে ছিল। নাম মুন্নি।অবিকল তোর মতো দেখতে। ছোটবেলায় ওর প্রিয় খেলা ছিল লুকোচুরি। এমন ভাবে নিজেকে লুকোত, কেউ সহজে খুঁজেই পেত না।খুব দুষ্টু ছিল। ওর মা বকলে মাকে বলত,এমন ভাবে লুকিয়ে যাব, খুঁজেই পাবে না। একদিন এমন ভাবে লুকিয়ে গেল,ওর মা হাউ মাউ করে কাঁদতে লাগলো । গোটা পাড়া ছুটে এল। আর তখনই গোপন জায়গা থেকে বেরিয়ে এল।হি হি করে হাসতে লাগলো। খুব পাজি।হাসানচাচার চোখ দুটো চক চক করে।
মুহূর্তে আবার চোখের পাতা ভিজে গেল ।একদিন কলেজ থেকে ফিরে টিউশনি পড়াতে গেছিল। সাইকেলে ফিরছিল।নির্জন রাস্তা। সবে আঁধার নেমেছে। আঁধার নামলে হায়নারা দাঁত নখ বের করে বেরিয়ে আসে মদের ঠেক থেকে । রাত দখল নেয়। গ্রামের ইশকুলের পাশে প্রাচীরের গায়ে আমার মুন্নিকে একলা পেয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে । টেনে নিয়ে যায় প্রাচীরের ওপারে ঝোপের আড়ালে। মুন্নিকে ওরা –----। সব শেষ –-----!
আর কিছু বলতে পারল না। ডুকরে কেঁদে উঠলো।বিচারের আশায় নেতাদের পায়ে হাতে পায়ে ধরেছি। থানা পুলিশ সব জায়গায় । সর্বস্বান্ত হয়েছি। আমার মুন্নি এখনও বিচার পায় নি।ওর মা'টা শোকে পাথর হয়ে গেল।নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দিল।রোগে ভুগে সে ওর কাছে চলে গেল। ঘরের সব আলো নিবে গেল।আমার মুন্নিরা কি বিচার পাবে না রে, মা ?আর কত মুন্নি'র বিসর্জণ হবে বলত, মা?
হাসানচাচার এমন ব্যাথতুর কাহিনি শুনে মুনিয়া বাকরুদ্ধ। কী যন্ত্রণা মানষটা একাকী বয়ে বেড়াচ্ছেন!বুকের ক্ষতটা কী গভীর! যা কখনোই নিরাময় হবার নয়।স্তব্ধতা কাটাতে মুনিয়া বলল, আজকের কথা আমি কোনদিন ভুলব না। আমার নাম মুনিয়া। মুন্নি ও মুনিয়া। কী অদ্ভুত মিল তাই না!আমি হয়ত তোমার সেই হারিয়ে যাওয়া মুন্নি ।
হাসানচাচা ছল ছল চোখে চেয়ে থাকে মুনিয়ার দিকে । এক সন্তানহারা বাপ তার হারানো সন্তানকে ফিরে পেল।হাসানচাচার দুটো কাঁপা হাত মুনিয়ার মাথায় নেমে এল।
*****
লেখক পরিচিতি: অভিজিৎ জানা। জন্ম ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮০। পেশা :শিক্ষকতা। নেশা:দেশ বিদেশের সাহিত্য পাঠ। ছোটগল্পের শরীরে অবগাহন করে মুক্ত খোঁজার চেষ্টা। সামাজিক সমস্যা ও তার উত্তরণের গল্প পড়তে ও লিখতে পছন্দ করি ।দিকচিহ্ন,পথিকৃৎ, পত্রপুট,প্রত্যুষ, বর্ণদীপ, আগামী, ইত্যাদি লিটল ম্যাগাজিনে গত পাঁচ বছর যাবত নিয়মিত লিখছি। প্রান্তিক মানুষের টানাপোড়েন, পরিযায়ী শ্রমিকের আর্তনাদ, তরুন, তরুনির স্বপ্নিল চোখে স্বপ্ন ভঙ্গের আকুতি মনে আঁচড় কাটে।আমি মনে করি,ব্যক্তিবিশেষে নিজের সৃষ্টি থেকে মোহমুক্তি হলে সেই সৃষ্টি সর্বজনীন হবে। সামাজিক দায়বদ্ধতা একজন লেখককে সৃষ্টিশীল করে।


0 মন্তব্যসমূহ