দেবর্ষি সারগীর গল্প : হারানো শহর



প্রথম দেড়দিন সে অধিকাংশ সময় দৌড়ে দৌড়েই নদীটার তীর দিয়ে এগিয়ে গিয়েছিল। তারপর থেকে ক্লান্ত হয়ে আস্তে আস্তে হাঁটতে লাগল। সে নিজের শহরটা হারিয়েছে, এবং সেটাকে খুঁজে চলেছে। তার মনে হচ্ছে এই নদীটা যেন একটা পথ, যার তীর দিয়ে হেঁটে গেলে এক সময় তার শহরটা খুঁজে পাবেই। উঁচু আকাশে উড়তে থাকা পাখিদের চোখে হয়ত নদীকে পৃথিবীর ধমনীর মতো দেখায়, সে ভাবছিল। বা উঠোনের গায়ে হওয়া একটা অস্পষ্ট দাগের মতো। সে অবশ্য এখন পর্যন্ত একটাও পাখির ডাক শোনেনি, একটাও পাখি আশপাশে দেখেনি। রাতেও সে হাঁটে। এক ত্রয়োদশীর রাতে (সঠিক তিথিটা তার আশ্চর্যজনকভাবে মনে ছিল, অথচ এরকম নৈঃশব্দ্যে তার অনেক স্মৃতিই লোপ পাওয়ার কথা) আবছা নদীটার পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে তার মনে হয়েছিল সে যেন অনেক বছর জলপথে ভ্রমণ শেষ করে আজ বাড়ি ফিরছে। এবং ভোরের আগেই বাড়ি পৌঁছে যাবে। পরদিন ভোরে সে বরং দেখতে পায় নদীটা ঢুকে পড়েছে একটা দুর্গম জঙ্গলের ভেতর, যার অসংখ্য গাছের প্রতিবিম্বে জল হয়ে গিয়েছে গভীর সবুজ।

এই জঙ্গলটা আর শেষ হল না। নদীটাও। হাঁটতে হাঁটতে একদিন সে ক্লান্ত হয়ে ভাবল, একটা জায়গা হারাবার মতো উদ্ভট ও অবিশ্বাস্য ঘটনা পৃথিবীতে আর কিছু হতে পারে না। জায়গাটা তো নিজের জায়গাতেই আছে। সেটা হারাতে পারে কী করে? তার বাড়িটাও বাড়ির জায়গাতেই আছে। তার গোটা শহরটাই । তার চেয়ে বড় কথা, কোথায় কার শহর বা জায়গা হবে সেটা শেষপর্যন্ত ঠিক হয় আকস্মিকভাবেই, কারণ একজন মানুষ তো পৃথিবীর যে কোনও জায়গাতেই জন্মাতে পারে। এই অর্থে, যে কোনও জায়গাতেই থাকা যায়, যে কোনও জায়গাই নিজের জায়গা হতে পারে! জায়গা হারাতে পারে না ।

সে আর হাঁটল না। জঙ্গলে একটা জায়গা বেছে নিয়ে সেখানে থাকতে লাগল। সেখানে কিছু ফলের গাছ ছিল। একদিন এক জায়গায় একটা পরিত্যক্ত ঘরের কাঠামো দেখে অবাক হয়ে গেল। এখানে এক সময় যারা থাকত তারাই হয়ত ফলের গাছগুলো লাগিয়েছে, সে ভাবল। সে সেদিনের রাতটা ওই ঘরটার মধ্যে কাটাল। আশ্চর্য হলেও এটা সত্যি যে সে আরামে সারারাত ঘুমিয়েছিল।

খুব মিশুকে সে কখনওই ছিল না বলে একা থাকতে তার খারাপ লাগছিল না। তাছাড়া, একজন মানুষকে একটু বুঝলেই সব মানুষকে বোঝা হয়ে যায়। ফলে সে চিরকাল নিজেকেই বুঝতে চেষ্টা করত। এখানে অন্যেরা আসত তার স্মৃতিতে, যা ফিকে হবার বদলে আরও উজ্জ্বল হয়ে জ্বলতে লাগল তার মাথায়, কারণ আরও নতুন নতুন স্মৃতির ভিড়ে এগুলোর চাপা পড়ার সম্ভাবনা আর ছিল না। এখানে কোনও কাজ নেই বলে সে মাঝেমাঝে ক্লান্ত হত। তারপর ভারত, জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য কাজ করা নয়, বেঁচে থাকা, আর কাজ যেগুলো করতে হয় সেসব বেঁচে থাকার জন্য। বা সময় কাটানোর জন্য। এখানে সময় তার আপনিই কাটছিল।

সবচেয়ে তার ভাল লাগত ঘরটার মধ্যে বসে ঘুঘুর ডাক শুনতে। পাখিদের মধ্যে সম্ভবত ঘুঘুর ডাকই সবচেয়ে অলস বৈরাগ্যে ভরা। ওই ডাকে কোনও চাঞ্চল্য নেই, উচ্ছ্বাস নেই, কাতরতা নেই। সীমাহীন সময়কে শুধু চুপচাপ উদাসীনভাবে অনুভব করে যাবার কথাই সম্ভবত ঘুঘুরা বলে। আস্তে আস্তে সাপ দেখে ভয় পাওয়া সে ছেড়ে ছিল। নিজের শহরটার সবচেয়ে বেশি যা তার মনে পড়ত সেটা একটা রাস্তার বাঁক। ওই বাঁকটা তার দোতলা বাড়ির পুরনো জানলা দিয়ে দেখা যেত। একটু সোজা গিয়ে সামনের পীচ রাস্তাটা হঠাৎ দুটো বড় বড় বাড়ির আড়ালে বাঁদিকে ঘুরে গিয়েছে। ফলে কোনও কিছু তার দৃষ্টি থেকে ওই রাস্তায় আস্তে আস্তে মিলিয়ে যেত না। আচমকা অদৃশ্য হয়ে যেত। ওই বাঁকটাকে তার মনে হত জীবত কিছু, যা সব কিছুকে হঠাৎ গিলে নিচ্ছে। জীবনমৃত্যুর গোটা রহস্যটা যেন ওই বাঁকটুকুতে আটকে আছে। আর তার মনে পড়ত সেই অচেনা মানুষগুলোর কারও কারও মুখ, যাদের সে আর দ্বিতীয়বার দেখতে পায়নি। এজন্য সে শহরের বাসে বা ট্রেনে কোনও আকর্ষক মুখ দেখলে মনে মনে সেটাকে নিজের স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে গেঁথে নেবার চেষ্টা করত, কারণ সে জানত আর কখনও ওই মুখটা সে হয়ত দেখতে পাবে না। একবার মেট্রোতে তার পাশে বসে থাকা এক বালিকার সঙ্গে সে কিছুক্ষণ খেলা করেছিল। ওর বাবা-মা যখন ওকে নিয়ে নেমে যায়, তার চোখ ভিজে উঠেছিল। সে জানত আর কখনওই এই

বালিকার সঙ্গে তার দেখা হবে না। হয়ত অনেক বছর পর তারা আবার ট্রেনে পাশাপাশি বসবে। কিন্তু তখন আর সে তাকে চিনতে পারবে না। কখনও কখনও সে শহরটার সেই অতিকায় বাড়িটার কথা ভাবে, যার সাদা গায়ে রোদ পড়লে বাড়িটা একটা হীরের মুকুটের মতো জ্বলজ্বল করে। ওই বাড়িটা যেন আকাশটাকেও সুন্দর করে তোলে, ওটা না থাকলে যেন আকাশটাই একটু গরিব হয়ে যেত। আর তার মনে পড়ে তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর (তার অকস্মাৎ ও অনিচ্ছাকৃত এই অনুপস্থিতিতে তার বন্ধুটি হয়ত মন খারাপ করে) পড়ার ঘর। যতক্ষণ খুশি সেখানে বসে বই পড়া যায়। এবং সেখানে ঢুকলে মনে হয়, আর দুশ্চিন্তার কিছু নেই, কারণ এত বড় বড় মনীষার সমাবেশ এখানে, ফলে যে মানসিক সংকটেই পড়ি না কেন, কেউ না কেউ হাত ধরতে এগিয়ে আসবে। সেখানে সব বিষয়েই কিছু না কিছু বই আছে। এবং একটা বই এরকমও আছে যা বই পড়তেই মানা করে। ওটার মতে, সত্য লাভ করতে হলে মনকে অপরের দেওয়া জ্ঞান থেকে আগে সম্পূর্ণ পরিষ্কার করতে হবে। তার পড়ার ঘরে, লোকটা কখনওই ভোলেনি, ব্রোঞ্জের একটা ছোট, আধভাঙা কুড়োল আছে। নকল যদি না হয় তবে ওটার বয়স হবে প্রায় তিন হাজার বছর। কিছু অর্থের বিনিময়ে বন্ধু ওটা সংগ্রহ করে হাঙেরির এক ভবঘুরের কাছ থেকে। হারাবার ভয়ে ঘনিষ্ঠ দু-একজন ছাড়া আর কাউকে সে ওটা দেখায় না।

এই সব নানা স্মৃতির মধ্যে নিজের বাড়ির কথাও তার মনে পড়ে। গ্রীষ্মে বাড়িটার নানা ছায়াময় কোণগুলোর কথা। সেখানে সে তো ভালই ছিল। হঠাৎ ওটা হারিয়ে গেল কী করে? বাড়িটার দুঃখ ভোলার জন্য নিজেকে নানাভাবে সান্ত্বনা দিলেও মাঝেমাঝে সে অস্থিরও হয়ে পড়ে। ভাবে এই দীর্ঘ, স্তব্ধ, নদীটার তীর ধরে ক্রমাগত হেঁটে গেলে একদিন না একদিন সে তার হারানো শহরে পৌঁছবেই। একদিন মেঝে থেকে ওঠার সময় এই ঘরের দেওয়ালের একটা ইট ধরতেই ইটটা খসে নিচে পড়ে গেল। প্রায় প্রতিটি ইটই আলগা হয়ে গিয়েছে। যেন জোরে ফুঁ দিলেই ঘরটা জলের ফোঁটার মতো করে ভেঙে যাবে।

একদিন হলও তাই। ঝড়বৃষ্টি সাধারণত বিকেলে শুরু হয়, কিন্তু সেদিন খুব ভোরে ঝড় উঠল। অদূরে নদীটার জল যেন বাতাসের সঙ্গে মিশে উড়তে লাগল। গাছের প্রতিবিম্ব পড়া ওটার জল আর সবুজ দেখাচ্ছিল না। জলের রঙ ছিল কালো। গাছ মাটিতে ভেঙে পড়ছিল। লোকটা দৌড়ে ঘরটার মধ্যে এসে আশ্রয় নেয় । কিন্তু কিছুক্ষণ পর সে দেখে ঘরটার ইটগুলো ঝরা পাতার মতো দেওয়াল থেকে বেরিয়ে উড়ে যাচ্ছে। ছাদটা তার মাথায় পড়ার কয়েক মুহূর্ত আগে সে বেরিয়ে আসে ঘরটা থেকে।

মরিয়া, অভিমানী হয়ে সে ঝড়ের ভেতরই হাঁটতে লাগল নদীটার তীর দিয়ে। তার জামাকাপড় ছিঁড়ে উড়ে গেল। মাথার চুলগুলো উপড়ে উড়ে গেল। সে তবু হেঁটে যাচ্ছিল অস্পষ্ট, ধূসর, গর্জনরত নদীটার পাশ দিয়ে, যেন এভাবে হেঁটে যাওয়াই তার নিয়তি, এরকম উলঙ্গ শরীরে, অদ্ভুতদর্শন একটা মুখ নিয়ে। শুধু কিছু স্মৃতি ছাড়া আর কোনও পুঁজি তার ছিল না। বাতাসের দাপটে একবার তার মনে হল তার হাত-পাও হয়ত খসে গিয়ে উড়ে যাবে।

এক সময় ঝড় থেমে যায়। কিন্তু সে তার হাঁটা থামায়নি। উলঙ্গতার জন্যও তার কোনও লজ্জা হচ্ছিল না। নিয়তির নির্দেশে হাঁটতে হচ্ছে---এরকম ভাবছিল বলেই হয়ত হাঁটতে তার কষ্টও হচ্ছিল না। সে হাঁটছিল রাত্রির কালো, নিশ্ছিদ্র দুর্গমতা ভেদ করে। দিনে সূর্যের তীব্র জ্বালা সহ্য করে। কষ্ট খুব বেশি হলে তার কোটরগত চোখদুটো শুধু অশ্রুতে উজ্জ্বল হয়ে উঠছিল। আর চারপাশের প্রায় ধূসর দৃশ্যের মধ্যে তাকে সঙ্গ দিচ্ছিল তার কিছু রঙিন স্মৃতি। একবার নিজের শৈশব মনে পড়ল তার। যে লাল ইটের বাড়ির একটা ঘরে তার জন্ম হয় তার দরজার উল্টোদিকের দালানে ছিল একটা হাতে গম পেষাইয়ের কল। ঠাকুমা ও মা খুব ভোরে উঠে ওটায় গম পিষত। মেঘ ডাকার মতো অদ্ভুত শব্দ উঠত বাড়িতে। আর বাড়ির মধ্যে ছিল ইঁদারা, যার জল গভীর কালো, আর ওই কালো জলে দড়ি বাঁধা একটা বালতি দুলতে দুলতে নিচে নেমে যেত, আর জল ছুঁয়ে ঝুপ করে শব্দ তুলে জলের ভেতর অদৃশ্য হয়ে যেত, দড়িটা তখনও নামছে, আর সে মায়ের কাপড় জাপটে ধরে ব্যাকুলভাবে জানতে চাইছে যদি আরও আরও আরও দড়ি বালতিতে বাঁধা যায়, তবে বালতিটা জলের ভেতর কোথায় গিয়ে শেষ হবে। ভয়ে ভয়ে মা বলত কোথাও শেষ হবে না। যত দড়ি দেবে, বালতি ও তত নামতে থাকবে।

আর বাড়ির একটা দেওয়ালে ছিল একটা কুলুঙ্গি, যাতে মা রোজ সন্ধেয় প্রদীপ জ্বালাত ।

কতদিন পর সে জানে না, নদীটার তীর দিয়ে টলতে টলতে হেঁটে একদিন এক অদ্ভুত সন্ধেয় সে একটা শহরে এসে পৌঁছল। কেমন নিঝুম শহর। আকাশে ঘরবাড়ির ত্রিকোণ ছাদের ছায়া। চারপাশে চাপ চাপ অন্ধকার। হাতে লম্ফ ধরে কেউ কেউ অলিগলিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সে আর একটু ভেতরে যেতেই একটা লোক তার কাছে এগিয়ে এল।

'বহুকাল পর আবার এলে,' শহরবাসীটা তাকে বলে ।

সে অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকে।

‘আমি আমার নিজের শহরটা হারিয়ে ফেলেছি, ' সে বলে, 'ফলে খুঁজতে খুঁজতে এখানে চলে এসেছি।'

‘ঠিক উল্টো,' শহরবাসীটা হেসে বলল। কোনও অদ্ভুত মায়ায় যেন অধীর হয়ে উঠছে তার মুখ। ‘এই শহরটাই একদিন তোমাকে হারিয়ে ফেলেছিল। আজ আবার ফিরে পেল।'

লোকটার হাত ধরে শহরবাসীটা তাকে একটা লম্বা ঘরে নিয়ে গেল । লক্ষের আলোয় দেখা গেল সেখানে দেওয়ালের গায়ে সারি সারি এবং মেঝোয় এলোমেলোভাবে রাখা কিছু খুব প্রাচীন অবয়ব। মানুষ ও পশুর। সময়ের প্রভাবে ওগুলোর ধাতুর রঙও পালটে গিয়েছে। একটা অবয়বের দিকে এগিয়ে গিয়ে শহরবাসীটা তাকে বলল, 'এটাকে চিনতে পারছ?”

নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে সে লক্ষ্য করে ওই মুখটা অবিকল তার মুখের মতো। বাইরে এসে হাঁটাহাঁটি করার সময় সে শহরটাকে যেন একটু একটু করে চিনে ফেলে।

*****

লেখক পরিচিতি: দেবর্ষি সারগী নির্মাণ করে চলেছেন একটি নিজস্ব গল্পভুবন। কয়েকটি বাক্য পড়ার পরেই পাঠক বুঝতে পারে সে আস্তে আস্তে যে ভূখণ্ডে, যে দেশে, যে আবহে, যে আনন্দ বেদনা ও বিস্ময়ে, এবং আশ্চর্য নরনারীদের যে আবছা স্নায়ুমণ্ডলীতে প্রবেশ করতে চলেছে সে সব দেবর্ষির জগতের। বস্তুত, এই লেখকের পটভূমি যেন গোটা ব্রহ্মাণ্ড, আর চরিত্র পৃথিবীর সব মানুষ। অন্য ভাষায়, গল্পগুলি যেন বাংলার, ভারতবর্ষের এবং বিশ্বের। আর কালটাও শুধু সমকালীন নয়, জগতের জন্মলগ্ন থেকে, মানুষের গুহাবাস থেকে আধুনিক সময় পর্যন্ত এই কাল বিস্তৃত। পুরাণ, প্রাচীন দর্শন, ইতিহাস, নৃতত্ত্ব, মানুষের আশ্চর্য সব স্বপ্ন, আশ্চর্য সব কল্পনা, এবং আশ্চর্য সব বেদনা ভাবনা ও আকুতি গল্পগুলিতে বোনা হয়েছে কোনও বর্ণাঢ্য মাকড়সার জালের মতো। অথচ কোনও গল্পই নিছক বৌদ্ধিক, ক্লান্তিকর জটিলতায় ভারাক্রান্ত নয়। পাঠে যেন রূপকথার স্বাদ। ভিন্ন অথচ সুখপাঠ্য: বাংলা ছোটগল্পে এই দুই বৈশিষ্ট্যকে অর্জন করার দুরূহ সাধনা করে চলেছেন দেবর্ষি সারগী।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ

  1. একদম ভিন্ন ধারার গল্প! এ গল্প কোন গল্প নয়, যেন জীবনের অস্তিত্ব, যেন দর্শনের উৎস খুঁজতে বেরিয়ে কোন মানুষ জগতের সীমাহীন পথ ধরে আজীবন হেঁটেই চলেছে!

    উত্তরমুছুন