আমাদের গ্রামে একটা চোর আছে। একটা চোর ঘরের নিরাপত্তাহীনতাকে স্মরণ করিয়ে দিলে আমরা আমাদের ঘরের নিরাপত্তা বিষয়ে শংকিত থাকি। একটা চোর সর্বদা অন্যের ঘরের অন্তর জানলে চোর বিষয়ে আমাদের আনন্দ ও আগ্রহ তৈরি হয়। আমরা আমাদের গৃহের উদ্বিগ্নতা ও অন্যের গৃহের অন্তর জানার আগ্রহে চোরকে সব সময় প্রশ্রয় দিই। এবং এই চোর যেনো কখনো আমাদের কাছে কিংবা অন্য কারো কাছে ধরা না পড়ে সে ইচ্ছা পোষণ করি। আমাদের ঘরে আমাদের প্রয়োজনীয়, আমাদের শখের সকল কিছু না থাকলে চোরের কথা চিন্তায় আনি। চোর একটা গৃহের সকল নির্মাণ কৌশল, সকল দুর্বলতা জানলে বিস্ময় জাগে এই ভেবে যে, একটা চোরের গৃহবিদ্যা আয়ত্ব করতে কতো কতো রাতের নির্জনতার ভেতর কতো কতো গৃহকে ভাঙার ও জোড়া লাগানোর নিয়ম জানতে হয়।
আমাদের সমাজ থাকলে, রাষ্ট্র থাকলে আমরা সমবেতভাবে আমাদের চোরকে সমর্থন দিতে অপারগ হই। তবে কথা এই যে, আমাদের পাখীর মাংশ খাবার সাধ হলে আমরা সমাজ থেকে রাষ্ট্র থেকে বেরিয়ে যাই রাতের বেলা। রাত তো সমাজের বাইরে, রাষ্ট্রের বাইরে, প্রার্থনা পুস্তকের বাইরে। একা একা আমরা তার নিকটে বলি পাখী চুরি করার কথা। সে তখন জানায় কোথাও সমস্যা নাই যেহেতু তার চুরির ভেতর পাখী চুরিও আছে। তার এই বিবৃতিতে আমরা পুলকিত বোধ করি। নেশা তৈরি হয়, নেশার ঘোর তৈরি হয়। আমাদের ভাল লাগে এ কারণে যে, আমাদের আহারের ভেতর থাকছে পাখীর ওড়াউড়ি।
চোরটি জানায় একদা আমাদের গ্রামের সকল মানুষ নির্ভয়ে পাখীর মাংশ খেতো। তারপর পাখীরা অতি দৃশ্যমান আকাশের আশ্রয়কে অপর্যাপ্ত জ্ঞান করলে মানুষের গৃহের বাইরে যেতে থাকে তারা। কিন্তু একজন চোর সকল আকাশ ও গৃহের কারিগরী বিদ্যা ও সন্ধান জানলে পাখীরা উড়ে আর কতো দূর যাবে মানুষের সীমানার বাইরে। পৃথিবীর সকল কিছু গৃহমূখী হলে দেখি আমাদের গ্রামের চোরটি চেনে পাখীর গৃহ, পাখীর পলায়ন, পাখীর ছদ্মবেশ। যদি সে চোর জানে পাখীর সকল গোপন তবে আমরা তাকে বলি যেনো সে আমাদেরকে শীতকালের ক্ষুধার ভেতর, শীতকালের খাদ্যের ভেতর পাখী সরবরাহ করে।
আমাদের গ্রামের নাম থাকলে, আর আমাদেরও নাম থাকলে চোরের নাম কেনো অজানা তবে। তবে আমরা চোরের নাম উচ্চারণে কুন্ঠিত হলে আমরা আমাদের নামও হারিয়ে ফেলি। আরেকটু বলি এভাবে, আমাদের গ্রামের চোরের নাম ছিলো, নাম বলতে গিয়ে দেখি আমাদের নামের সংগে তার নামের বানানের চমৎকার মিল। তার নামের বানানের সংগে আমাদের নামের বানান মিলে গেলে তার নাম উচ্চারণে আমাদের জড়তা আসে, দ্বিধা আসে। তবে তাকে বলি পাখী চোর।
যদি পাখি চোর আমাদের গ্রামের সকল বাড়ির সকল কক্ষ জানে তবে এক শীতকালে সে জানায় আমাদের গ্রামের সর্বশ্রেষ্ট পাখীর কথা। একদা শীতকালে পাখীর উড়াল আমাদের থালার উপর দেখতে চাইলে তাকে বলি, কি সন্ধান সে পাখীর। তার কাছে, যেখানে রাত আমাদেরকে আশ্রয় দেয় সে সময় জানতে চাই, কোথায় আমাদের গ্রামের সর্বশ্রেষ্ঠ পাখী। যদি প্রতিটি চুরির আগে একটা আকাশের মৃত্যু হয়, একটা মেঘ অনাথ হয় তবে সে জানায় এ গ্রামের সর্বশ্রেষ্ট পাখী আকাশের গৃহে নয়, আমাদের গ্রামের কোনো এক মানুষের গৃহে বাস করে। আমরা তার এই কথায় বিশ্বাস আনি। পাখীদের আকাশ উড়াল অস্থায়ী, ক্ষণজীবি তা আমরা অনুধাবন করি তার কথায়। তবে সে বলে তার ধর্মের কথা, ধর্মের দোহায় তার এরূপ, ধর্মের নিষেধ এই পাখী ধরা। সে বলে এই পাখী পাখা খুলে রেখেছে। পাখা দিয়ে যাবে না জানা যাকে। সে জানায় সর্বশ্রেষ্ঠ এ পাখীকে খুঁজে বের করতে সে কোনো সাহায্য করবে না। তবে এই এইটুকু জানায় সে সর্বশ্রেষ্ঠ পাখী আমাদের গ্রামের মাঠের কাছে যায়, মাঠের আছে গম; পথের কাছে যায়, পথের আছে নানান ঠিকানা; বাগানের কাছে যায়, বাগানের আছে নানা সৌরভ; মানুষদের কাছে যায়, মানুষদের আছে জল। যদি সে সর্বশ্রেষ্ঠ পাখী ওড়ে, তবে জলের ওপর আকাশের ছায়া দেখা যায়।
প্রতিটি ঋতু আমাদের গ্রামে সূর্য বাজাতে বাজাতে, চাঁদ বাজাতে বাজাতে, রঙ বাজাতে বাজাতে, বৃষ্টি বাজাতে বাজাতে প্রবেশ করে জিজ্ঞেস করে, সে বসবে কোথায়। আমাদের গ্রামের অথবা প্রতিটি গ্রামের বসার জায়গা থাকলে আমরা তাদেরকে বলি দেখো নদী, দেখো পাহাড়, দেখো শস্য ক্ষেত, দেখো চলন্ত আকাশ - এ সকল জায়গায় আসন গ্রহণ করো। সে ঋতুগুলো যদি গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত বলে চিহ্নিত - তবে তারা আসন গ্রহণ করুক যোগ্যতামতো। তারা আসন গ্রহণ করলে আমাদের পছন্দ থাকে অপছন্দ থাকে তাদের প্রতি। একবার গ্রীষ্মের কথা বলি। গ্রীষ্মের কাছে কিছু দাবী থাকলে পাখী চোরকে বলি কিছুটা গরম উড়িয়ে দাও। পাখী চোর গরম উড়িয়ে বলে দেখো ঘামের ভেতর আমাদের গ্রামের কেমন সংগ্রাম ছিলো। আমরা দেখি তাইতো আমাদের এতো সব ঘাম, এতো সব সংগ্রাম তবে তৈরি করেছে, নিয়ে এসেছে গ্রামের প্রথম ঋতু গ্রীষ্মকাল। বর্ষাকাল আকাশপথে, স্থলপথে, জলপথে আমাদের গ্রামে প্রবেশ করলে পাখী চোরকে বলি জলের এতো যে কলরব কি করবো তাকে নিয়ে। পাখী চোর তখন জল থেকে পাখি, পাখি থেকে স্নান তুলে এনে দেখায়। আমাদের গ্রামের সকল শুদ্ধতা দেখো জলে মিশে থাকে। শরৎ এলে পাখি চোর বলে আমাদের গ্রামের কতো যে পাখনা আছে দেখো। হেমন্ত এলে পাখী চোর বলে সকল ক্ষুধা হত্যা করো এবার। বসন্ত এলে পাখী চোর বলে দেখো প্রসাধিত গ্রামের হৃদয়। শীতকাল আমাদের শেষ ঋতু হলে আমরা ক্ষুধার্ত। পাখী চোরকে বলি শীতে এবার হত্যা চাই। হত্যা আনো। হত্যা ব্যতীত আমরা জীবন উদযাপন করি কীভাবে। চোর তবে জিজ্ঞেস করে কোথায় হত্যা সংঘটিত হলে আমরা উল্লসিত হবো। আমরা শাস্ত্রীয়ভাবে স্বীকার করি জলহত্যা, স্থলহত্যা, আকাশহত্যা। এই শীতে আমাদের আকাশ হত্যা ইচ্ছা হলে আমরা পাখীর মাংশ খাই। পাখী চোর পর্যাপ্ত পাখী সরবরাহ করে আমাদের রান্নাঘরে। কতোসব আকাশের সন্ধান জানে পাখী চোর। তার কাছ থেকে আমরা জানি নানারূপ আকাশ, তাদের অধিবাসী, তাদের হত্যা। এই শীতে পাখীর মাংশ খাবার পর আমাদের অনুভবে আসে পাখীর মাংশের চেয়ে স্বাদ ধারণ করতে পারে না কোনো কিছুই। আকাশকে আমরা বলি সে থাকুক পাখীর অনিঃশেষ সরবরাহকারী হয়ে।
চোর যদি বলেছিলো একবার এ গ্রামের সর্বশ্রেষ্ট পাখী আমাদের গ্রামের কোনো এক গৃহে বাস করে তাহলে এই শীতে কিংবা কোনো এক একা শীতে আমরা পাখী অন্বেষণে যাবো। কোনো এক শীতকে বলি আমরা তার ভেতর গ্রামের সর্বশ্রেষ্ট পাখীকে দেখতে চাই। শীতের পোশাক পরে পাখি চোর আবারো জানায় সে আকাশের সকল পাখী এনে দিতে পারলেও এ পাখী সরবরাহ করতে পারবে না। এরপর আরো সমস্যা এই যে গৃহে বসবাসকারী পাখী একটা অথচ তার দাবীদার অনেক। আমরা নিজেরাই সে পাখীর সন্ধানে যাই। পাখী
চোর জানিয়েছিলো এ পাখী ডানা খুলে রেখেছে। আমরা আমাদের বিদ্যালয়ের জ্ঞান কাজে লাগাই তার অন্বেষনে। ডানা কাটা পরী যদি মেয়ে হয় তবে ডানা খুলে রাখা পাখীও তবে মেয়ে। যে মেয়ে পাখীর মতো সুন্দর ও আকাশজয়ী, তবে তার কথা বলেছে পাখী চোর। আমরা এখন সে পাখী মেয়ের সন্ধানে আমাদের গ্রামের সকল গৃহ চেনার চেষ্টা করি। হয় এটা কী বিস্ময় যে, আমরা আমাদের গ্রামের গৃহগুলো কতো কম চিনি কিংবা হয় এটা কী বিস্ময় যে, আমরা আমাদের নিজেদের গৃহকেও চিনিনা। পাখী মেয়েটিকে খুঁজতে গিয়ে দেখি আমরা কতো কতো বিষয়ের ভেতর বাস করি সে সকল বিষয় না জেনে। আমাদের গৃহেরও কতো কতো পথ। কোন পথে আমরা আমাদের গৃহে প্রবেশ করছি বা করবো তা বুঝতে গিয়ে আমাদের বিদ্যা ও বিদ্যালয় ধ্বসে যায়। আমাদের গ্রামের দিকে, গৃহের দিকে যেতে যেতে যদি মরুভুমি আবিষ্কার - তবে বালির ভেতর খুঁজি সে পাখী মেয়েটিকে ; যদি নদী আবিষ্কার - তবে জলের ভেতর খুঁজি সে পাখী মেয়েটিকে; যদি আকাশ আবিষ্কার - তবে তার পতনের ভেতর খুঁজি সে পাখী মেয়েটিকে; যদি বন আবিষ্কার - তবে তার বৃক্ষে বৃক্ষে খুঁজি পাখী মেয়েটিকে। অতঃপর গৃহের নিকটে এসে দেখি প্রতিটি গৃহের আছে ফুল বাগান জয় করার ইচ্ছা। ফুলের বাগানের কাছে পাখী মেয়েটিকে খুঁজতে খুঁজতে দেখি সে মেয়েটি হেঁটে আসছে আমাদের দিকে। আমাদের সবার দিকে। আমরা সবাই তার দিকে যাচ্ছি তাকে পাবার জন্য। কিন্তু সে তো একজন। আমরা সবাই তাকে পেতে গেলে আমাদের গ্রামডুবি হবে। আমরা সবাই কেনো দেখবো, কেনো পাবো তাকে। যদি ভাবনা এরকম, তবে আমরা লুকাই আমাদের নিজস্ব বৃক্ষের কোটরে। আমরা আমাদের বৃক্ষের কোটর থেকে দেখি পাখী মেয়েটিকে- যেহেতু সে দাঁড়ায় প্রতিটি বৃক্ষের সামনে। পাখী মেয়েটির সকল বৃক্ষ প্রিয় হলে সে সকল বৃক্ষের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। আর আমরা এবার পাখী মেয়েটির বর্ণনায় যায়। তার সামান্য বর্ণনায় আছে আমাদের অসাধারণ সাধনা। আমরা তার সামান্য বর্ণনা করতে গিয়ে ব্যর্থ হবো অসামান্যভাবে। তার দৃশ্যমান শরীরে আছে অবিরাম কম্পিত জলের সৌন্দর্য, জলের আনন্দ। আমরা তাকে বর্ণনা করার পর বলবো কোনো বর্ণনার ভেতর, কোনো নামের ভেতর সীমিত হবার মত সুন্দর সে নয়। তার সৌন্দর্যে গ্রামের দশ দিক কতো আগে যে ভেঙ্গে গেছে, ভেসে গেছে, বৃক্ষের কোটর থেকে জানি আমরা এতোদিন পর। পায়ের সৌন্দর্য কিভাবে বর্ণনা হয়, ব্যাখ্যা হয় যখন তার পা থেকে অনবরত প্রকাশিত অনিঃশেষ নাচ। তার শরীরের রং কিভাবে বর্ণনা হয়, ব্যাখ্যা হয় যখন সে রং আমাদের সকল উৎসবের আয়োজন। আমরা আমাদের ভাষা ও তার ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা টের পেলে তার সৌন্দর্যের বর্ণনা থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখি । কিন্তু দেখি হয় কী, শুধু তার ওষ্টপুটের বর্ণনা আমরা স্মৃতির ভেতর লিপিবদ্ধ করি। তার পুরো শরীরের সৌন্দর্য আমরা আমাদের ভাষায়, চিন্তায়, স্মৃতিতে ধরে রাখতে না পারলে কেবলি তার ওষ্ঠদ্বয়ের সৌন্দর্য আমরা আমাদের সাধনায় রাখি। দেখি সে পাখী মেয়ে মাঝে মাঝে আমাদের বৃক্ষের নিকটে যেয়ে তার ওষ্ঠপুটে কম্পন সৃষ্টি করে। এই ওষ্ঠপুটের কম্পনে আমরা ডুবতে থাকলে আমাদের উদ্ধার কোথায় কোন সাঁতারে।
আমরা সবাই তবে এক সাথে তার প্রেমে পড়ে গেছি। আমাদের শরীর আমাদেরকে কতো বিপদে যে ফেলে। আমরা আমাদের অতীত সম্পর্কের সকল অর্জন হারিয়ে ফেলি। নিজেদেরকে সর্ম্পকহীন পাথর জ্ঞান হয়। আমরা আমাদের জলের ভেতর পাথরের টুকরা ফেলে কম্পন তৈরি করার চেষ্টা করি যদি সে জলের কম্পনে থাকে পাখি মেয়েটির ওষ্ঠপুটের কম্পন। তারপর সে জলে পাখী মেয়েটির ওষ্ঠপুটের কম্পন রেখা মিললে আমরা আমাদের ওষ্ঠপুটে চুম্বন অনুভব করি। এই অনুভুতি আমাদের প্রাক্তন সকল প্রেমানুভুতি, যৌনানুভুতিকে তুচ্ছ করে দিলে বুঝি গৃহের ভিত্তি কতো যে দূর্বল।
শীতকালে আমাদের বৃক্ষের পাতা শুকিয়ে গেলে, ওষ্ঠদ্বয় শুকিয়ে গেলে আমরা আদিম হয়ে উঠি। পাখী চোরকে বলি পাখী সরবরাহ হোক। আমাদের রান্নাঘর মাংশের গন্ধে গৌরব বোধ করলে আমরা আহলাদিত হই। পাখী চোরকে বলি পাখী সরবরাহ হোক অনিঃশেষ। পাখীর মাংস আহার করে আমরা আমাদের ওষ্ঠদ্বয়ে চুম্বনের স্বাদ অনুভব করি। আর এ চুম্বন অনুভুতি আমাদের শরীরে যৌন মিলনের অনির্বচনীয় তৃপ্তি আনে। যদি শীত ফুরায়, যদি পাখী ফুরায়, যদি যৌনতা ফুরায়, সঙ্গম অনুভুতি ফুরায় তবে আমাদের শরীর নিয়ে কী করবো। আমরা আমাদের শীতকালের শরীরের দিকে তাকাই। দূর থেকে, নিকট থেকে । বিছানা থেকে, বিছানার বাইরে থেকে। কী আর্শ্চয, সকল কাল সেখানে শীতকাল হয়ে শুয়ে আছে। সকল ইচ্ছা সেখানে যৌন ইচ্ছা হয়ে শুয়ে আছে। এবার আমাদের মনে হয় আমাদের সবার শরীর কেবলি পাখীর ওষ্ঠদ্বয়ের চুম্বন আর সেখান থেকে প্রবাহিত যৌনতার জন্য অস্তিত্বশীল। আমাদের অস্তিত্বকে, আমাদের শরীরকে, আমাদের যৌনতাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য শীত বাঁচুক, বাঁচুক পাখী আর বাঁচুক আমাদের গ্রামের পাখী চোর। পাখী চোরকে একবার মনে হয় পাখী পীর। সকল পাখী তার মুরিদ। আমরা বলি খুব মধুরভাবে, আমরা ভালোবাসি আমাদের ওষ্ঠদ্বয়, শরীর, শীত, শীতের পাখী। মাঝে মাঝে দূর থেকে, দূর যদি সাইবেরিয়া, দূর যদি অজানা ভুগোল, দূর যদি দূরের শীত, পাখী আসে উড়তে উড়তে আমাদের কামনার জলে। তারা তো অতিথি পাখী আমাদের শরীরের, আমাদের জলের গন্ধ চিনে চিনে আমাদের শরীরে অনুভুতি হবার জন্য আকাশপথে উড়ে আসে আমাদের গ্রামে, আমাদের শরীরে লীন হওয়ার জন্য। অতঃপর আমরা অনুভব করি আমাদের শরীর সীমাবদ্ধ হলেও শীত কিংবা শীতের পাখী অনিঃশেষ। আমরা শরীরের আবিষ্কারক হয়ে দেখি আমাদের সবার শরীরের ভেতর কিছু নদী আছে, কিছু বিল আছে, কিছু পাত্রহীন জল আছে। আর এই জল পাখী ছাড়া বাঁচে না। পাখীর প্রেম ছাড়াও বাঁচে না।
আমরা একা একা চুরি করে করে পাখী চোরের কাছে যাই। তাকে বলি মেয়ে পাখিটির ওষ্ঠপুটের কম্পন অধিকার করতে চাই। তার ওষ্ঠপুটের কম্পন পাওয়ার উপায় কি জানার জন্য যেতে যেতে দেখি আমরা নিজেরাই চোর হয়ে গেছি। পাখি চোর যখন পাখী পীর হয়ে যায় আমরা তখন পাখী চোর। চুরি বিদ্যার প্রতি আমাদের ভক্তি ধর্মভক্তির পর্যায়ে গেলে আমরা আমাদের গাছের কোটর থেকে সবাই পাখী মেয়েটিকে দেখতে পাই। কি বিস্ময় এই যে একটা পাখী মেয়ে কিভাবে সকল বৃক্ষের নিকট যায়। আমরা বৃক্ষের কোটরে চির জাগরণে পাখী মেয়েটির ওষ্ঠপুট কম্পন আয়ত্ব করতে চাই। আমরা চোরের মতো তার ওষ্ঠ খুঁজি, গৃহ খুঁজি রাতের বেলা। রাতের আকাশে যে চাঁদ, যে নক্ষত্রপুঞ্জ তাদের সাথে আমাদের পরিচয় হয় চুরি বিদ্যা আয়ত্ব করার পর। সে পাখী মেয়ের বিষয়ে আমাদের তথ্য সংগ্রহ হলে জানি তার নাম পাখী। সে তার পাখা খুলে বিয়ে করেছে। তার একটা সন্তান হয়েছে স্বামী সর্ম্পকে। তবে এই কথা এই যে, তার স্বামী তার সাথে থাকে না, তার সন্তান তার সাথে থাকে না। তার স্বামী, তার সন্তান তার পাখার ভাষা বুঝতে না পারলে এরূপ ঘটনা ঘটে। সংসার উড়ে যাবার ভয় মানুষেয় ভেতর চিরকাল অবস্থান করলে তারা সে ভয়ে ভীত হয়েছে। আর তার তো পাখা ছিলো পোশাকের অন্তরালে। এ সকল তথ্য জানার পর তার ওষ্ঠপুটের কম্পনে অবগাহন করতে আমাদের দ্বিধা জাগ্রত হয় না। তার ওষ্ঠপুটে স্বামী সন্তান অলিখিত থাকলে আমাদের মনে হয় তার ওষ্ঠপুট দিন রাতের আলো অন্ধকার, সন্তান স্বামীর আলো অন্ধকার ধারণ করে না। আমরা আবারো আমাদের ওষ্ঠপুটকে স্মরণ করি। প্রথম উচ্চারণ, প্রথম হাসি থেকে কতো কতো সময় দূরে এসে দেখি ওষ্ঠপুট জমা রাখে না কোনো নৈতিকতা, কোনো প্রতিজ্ঞা, কোনো সম্পর্ক।
যদি পাখী মেয়েটি পুরোপুরি পাখি কিংবা পুরোপুরি মেয়ে না হয় তবে তার জীবিকার বিষয়ের দিকে তাকাতে হয়। তার স্বামী তার জীবিকার সংগে যুক্ত না থাকলে সে একটা কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিশুদের ক্লাস নেয়। এ তথ্য শ্রবণে, হায় বাল্য প্রেম, আমাদের সবার তবে স্কুল জীবনে ফিরে যাবার বড় সাধ হয়। সে কিন্ডারগার্টেনকে আমাদের ফ্লাওয়ার গার্ডেন বলে মনে হয়। ফুল কবে থেকে যে ভালোবাসার অনুসঙ্গ হয়েছে ! আমাদের মনে হয় সে পাখী মেয়েটির কিন্ডারগার্টেন যাকে আমরা এখন বলছি ফ্লাওয়ার গার্ডেন, সে গার্ডেনে ফুলগুলো শিশু হয়ে কিংবা শিশুগুলো ফুল হয়ে কাঠের বেঞ্চে বসে আছে। কী কী শেখানোর বিদ্যা আছে তার। সে কি গণিত জানে- যে গণিত ব্যর্থ হয়ে জানায় কোনো ফুলকে গণনা দিয়ে যায় না ধরা। প্রতিটি ফুল কী বিস্ময় যে সে থাকে গণনার বাইরে। পাখিমেয়েটি, যে কিনা শিশুদের শিক্ষক, জানে কোন ভাষা- যে ভাষা মানুষের সংগে যোগাযোগে ব্যর্থ। প্রতিটি ভাষা কী বিস্ময় যে সে থাকে যোগাযোগের ব্যর্থ মাধ্যম হয়ে। সে কি তবে শেখায় কেবল কম্পিত ওষ্ঠপুটের নি:শব্দ হাসি। যে হাসি শিখে শিশুরা ছাড়িয়ে যাবে সকল বিদ্যা ও বিদ্যালয়।
যখন আমরা দেখি পাখি মেয়েটি কখনো আমাদের আয়ত্বে আসবে না, কখনো তার কম্পিত নি:শব্দ হাসিকে আমাদের আয়ত্বে আনতে পারবো না, তবে পাখী চোরকে বলি সে আমাদেরকে পোষার জন্য পাখি এনে দিতে পারবে কি না। আমরা রূপকথা থেকে এই তথ্য আহরণ করেছিলাম অনেক সওদাগর সাত সমুদ্র তের নদী পাড়ি দিয়ে পাখী আনতো, যে পাখী ওষ্ঠ কম্পিত করে হাসতো। যে পাখী জানতো ঘরের ভেতর যে ঘর আছে তার কথা। মনের ভেতর যে মন আছে তার কথা। পাখি চোর জানায় সে তো কখনো সাতসমুদ্র তের নদী পাড়ি দেয় নাই তবে কীভাবে সে সমর্থ হবে পোষা পাখী সরবরাহে। সে কেবল মাংস খাওয়ার উপযোগী পাখী এনে দিতে পারবে। এই বাক্য সে আরো জানায়, চুরি করা পাখি পোষ মানে না। তাছাড়া হয়তো কোথাও তো সে সকল পাখীর মালিক রয়েছে। খুব খারাপ লাগে আমাদের এই ভেবে যে কোনো ক্রমেই আমরা আমাদের গৃহে পাখী মেয়ে কিংবা পাখী আনতে পারছি না। পাখী ছাড়া একটা গৃহ কি তবে স্থবির। এতদিন পর আমাদের মনে হয় পাখী মেয়েটি কিংবা পাখী ছাড়া একটা গৃহ সৌন্দর্য প্রদর্শনে যেতে পারে না। আমাদের গৃহে পাখী মেয়েটি কিংবা পাখী না থাকলে আমরা গৃহ পুড়ে যাবার মতো বেদনায় মুষড়ে পড়ি। আমরা গৃহের দিকে তাকিয়ে দেখি তার উড়াল ক্ষমতা নাই। আমাদেরকে এই বোধ কে দেয় প্রতিটি গৃহের থাকা উচিত উড়াল ক্ষমতা। উড়াল ক্ষমতাহীন একটি গৃহে বাবার হাত ধরে মা কোথায়, মা’র হাত ধরে বাবা; ভায়ের হাত ধরে বোন কোথায়, বোনের হাত ধরে ভাই; আমার হাত ধরে সে পাখী মেয়েটি কোথায়, আর পাখি মেয়েটির হাত ধরে আমি। আমি অথবা আমরা কেনো তবে পাখী মেয়েটি কিংবা কেনো একটা পাখী আয়ত্ব করতে চাচ্ছি তার ব্যাখ্যা দাঁড় করালে দেখি সে ব্যাখ্যা কোনো সত্য মিথ্যা ধরতে পারুক না পারুক যে কোনো ব্যাখ্যা মানুষকে জানায় জীবনের পৃষ্ঠা উল্টাও। আমরা পৃষ্ঠা উল্টাই। কী আর্শ্চয পরবর্তী পৃষ্ঠার কাছে যেয়েও আমরা পূর্ববতী পৃষ্ঠার ব্যাখ্যা আবারো চাই। পাখী মেয়েটি কিংবা পোষার জন্য একটা পাখী কেনো আমরা আয়ত্ব করতে পারছি না সে ব্যাখ্যা আবারো দাবী করি আমরা আমাদের নিকট। আমরা পুনরায় পাখী চোরের কিংবা পাখী পীরের শরণাপন্ন হই। যেনো শেষবার। তার কাছে মিনতি করি আমাদের শূন্য গৃহ পূর্ণ করার কৌশল জানতে। একটা পাখী চোরের শেষ সীমানা যদি উড়ে যাওয়া পাখী হত্যা তাহলে সে বলে একটা গৃহ ভালোবাসাহীন, পাখীহীন থাকতে পারে না যাবৎজীবন। গৃহ ভালোবাসার জন্য একজন যেতে পারে হত্যার সীমানায়। আমরা তার কথায় উদ্বুদ্ধ হই। আমাদের গৃহে, আমাদের জীবনে ভালোবাসা আমদানী করতে হলে পাখী মেয়েটি কিংবা একটি পাখী আবশ্যক। আমরা ছদ্মবেশ নিই ভলোবাসার জন্য- বৃক্ষের ছদ্মবেশ। আমরা আমাদের ডালে ডালে পাতার কম্পন তৈরি করি, মিষ্টি ফলের লোভ তৈরি করি পাতার আড়ালে, ডালের আড়ালে রাখি ব্যক্তিগত অস্ত্র। আমরা অপেক্ষায় থাকি যেভাবে একটা দিন ক্লান্ত হয়ে অপেক্ষায় থাকে রাতের, একটা রাত ক্লান্ত হয়ে অপেক্ষায় থাকে দিনের। রাত দিন যায় আমাদের ফাঁদের সীমানায়, হত্যার সীমানায়। আমাদের ফাঁদের সামনে খাদ্য রাখি, পোশাক রাখি, পুস্তক রাখি। পাখী মেয়েটি কিংবা কোনো পাখী আসে না। আমরা বস্তু থেকে অবস্তুতে যাই। লিখি ভালোবাসার কবিতা পাতায় পাতায়। সে সকল পাতা উড়ে যায় আমাদের গৃহ ছাড়িয়ে, আমাদের গাছ ছাড়িয়ে। কিংবা কী যে আমাদের ব্যক্তিগত বন ছাড়িয়ে। আমরা পাখী মেয়েটি কিংবা কোনো পাখী আনতে আবারো ব্যর্থ হলে সে লোকটির সন্ধানে যাই যার আয়ত্বে একদা ছিলো পাখী মেয়েটি কিংবা একটা পাখী। কোনো পাহাড়ী চুম্বক তার গৃহে ছিলো যেখানে পাখী মেয়েটি একদা জ্বালিয়েছিলো বিবাহ প্রদীপ। একটা প্রদীপ একটা গৃহে কী কী উপহার দেয় জানতে চাই আমরা। আমরা সে পাাখী মেয়েটির ওষ্ঠদ্বয়ের কম্পিত হাসি আয়ত্বকারী ব্যক্তির সন্ধানে ভীষন হত্যা নিয়ে বেরিয়ে পড়ি।
পাখী মেয়েটি কতোটি বৃক্ষে বাসা বাঁধতে পারে। এই্ গ্রামের সকল বৃক্ষ তাকে বাসা বাঁধার প্রলোভন জানালে সে কোনো সমর্থনে না গিয়ে ওষ্ঠপুটে নির্মাণ করে নিঃশব্দ হাসি। এই হাসি পাখী হয়ে বসুক সকল বৃক্ষের ডালে ডালে, পাতায় পাতায়। আর সে থাক নিঃশব্দ হাসির বর্মে সুরক্ষিত।
আমাদের গ্রামের শীতকালের সুনাম সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে পৃথিবীর নানান শীতপিপাসু পাখী আসে আমাদের গ্রামে। আমাদের গ্রামে তাদের আসন থাকে জলে, জলের ঢেউয়ে; বৃক্ষে, বৃক্ষের স্থিরতায়; পাহাড়ে, পাহাড়ের অহংকারে । তারা জলের, বৃক্ষের, পাহাড়ের আসন পূর্ণ করলে জলের, বৃক্ষের, পাহাড়ের অপার্থিব অহংকার আমাদের ভেতর স্থির হয়। এতোসর পাখী ভ্রমনের উদ্দেশ্যে, শীত উপভোগ করার উদ্দ্যেশ্যে, শরীর দেখানোর উদ্দেশ্যে আমাদের গ্রামে এলে আমরা একদা বিকেলে আমাদের গ্রামের নদীটির কাছে যাই। একটা নদী কতোটা ভাসমান পাখী ধারণ করার ক্ষমতা রাখে দেখতে চাইলে দৃষ্টি-গণিত জানতে হয়। দৃষ্টি-গণিতে দক্ষ না হলে এ সকল ভ্রমনকারী ভাসমান পাখী থাকে অগননীয়। যেখানে নদী সামান্য দাঁড়ায়, তারপর বাঁক নেয়, আমরা তার নিকটে এলে কী সৌভাগ্যবান হই। নদী যেখানে থাকে, পাখী যেখানে প্রথম জল স্পর্শ করে, মেঘ যেখানে প্রথম জল হয়ে পতিত হয়, মাছ যেখানে জলের প্রথম বন্ধুত্বে যায়, চাঁদ যেখানে প্রথম প্রতিবিম্বিত হয়-- হায় সে জলের পাশে দু’পা ডুবিয়ে পাখি মেয়েটি যেনো কবেকার চাঁদ, কবেকার চোখের জল । আমি দেখি, আমরা দেখি, দেখি তাকে কতো কালের জমে থাকা দেখা দিয়ে। দেখতে দেখতে বিকালটা অপার্থিব হয়, পাখিগুলো অপার্থিব হয়, দূরের সূর্য আরো একটু আলো দেওয়ার জন্য সূর্যাস্তের কথা ভুলে যায়। এভাবে কতোক্ষণ! যতোক্ষণ না সে আমাদেরকে খেয়াল করে ততোক্ষন ! অনেকক্ষণ পর আমরা আমাদের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে সচেতন হই। আমাদের সবার পকেটে হত্যা। পাখী মেয়েটির হত্যা চাই। যেহেতু একজনকে সবার পাওয়া সম্ভব না তাই হত্যা নিরক্ষর সমাধান। হত্যার আগে তার আরেকটু সৌন্দর্য আমরা আমাদের সহস্র চোখ দিয়ে, সহস্র দাঁত দিয়ে, সহস্র মাংশ দিয়ে উপভোগ করতে গিয়ে দেখি তার কম্পিত ওষ্ঠপুটে তখনো নিঃশব্দ হাসি। আমরা এই হাসির কম্পন ব্যাখ্যা করতে পারি না। আমাদের একবার মনে হয় যেনো এই হাসিটা একটা চিরকালীন নিঃশব্দ বিকাল। কী আশ্চর্য আমাদের সবার এক সংগে মনে হয় তার এই কম্পিত হাসিটা রেনেশ্যান্স শিল্পীর আঁকা বিকালের ছবি। আমরা যাকে পৃথিবীর কোনো এক মিউজিয়ামের ভেতর দেখতে গিয়েছিলাম। একটা হাসি কিভাবে একটা বিকেল হয় তা আমরা ইহকালে জানিনি কিন্তু এখন নিশ্চিত হই তার হাসিটা চিরকালের বিকেল। কী আশ্চর্য একটা মেয়ে, পাখী মেয়ে, কতো শক্তিশালী হলে একটা চিরকালের বিকেল ওষ্টপুটে ধারণ করে থাকে। আমরা অতঃপর একটা হত্যার দিকে যাই। আমাদের গ্রামে একটা বাঘ ছিলো। এখন নাই। তবে তার হুংকার আমাদের নিকট জমা থাকলে আমরা হুংকার দিই। এতোটুকু ওষ্ঠপুটের হাসি বা বিকেল কেনো নির্ভীক হবে। হাসি থেমে যায়। বিকেলটা পালাতে থাকে সূর্যাস্তের বেগে। আর আশ্চর্য কী এই যে, পাখী মেয়েটির বক্ষের পোশাক খুলে যায় সে বাঘের গর্জনে। তারপর অজস্র পাখির উড়ালের শব্দ। ভ্রমনকারী পাখীরা উড়ে যাচ্ছে, যাক। কতোদূর যাবে তারা আমাদের শীতের বাইরে। আমাদের জলের বাইরে। আমাদের কাছে শীত আর জল থাকলে তারা আবারো ফিরে আসবে। পাখির শেষ নিয়তি শীত হলে, জল হলে তারা শীতে আর জলে। আশ্চর্য আর কী যে, পাখী মেয়েটির বক্ষের কাপড় বাঘের গর্জনে উড়ে গেলে কিংবা খসে গেলে তবে তার স্তন কোথায়। আমরা তার স্তন দেখতে কতো জায়গায় গিয়েছি। একবার তো খাজুরাহতে, একবার তো মেঘদূতে প্লাবিত হয়েছিলাম। আর কতো কতো জায়গায় স্তনের সন্ধানে ভ্রমনকারী হয়েছিলাম। ইবনে বতুতা হয়েছিলাম। ইবনে বতুতা তার স্তন সন্ধানে এ গ্রামে এলে বুঝি স্তন পৃথিবীর প্রথম ও শেষ আশ্রয়। পাখি মেয়েটির বুকে স্তন নেই সেখানে কেবল একটুকরো খাঁচা। স্তনের খাঁচা অথবা পাখির খাঁচা। আমরা কোথায় যাবো। আমাদের সকল অন্বেষণ, সকল ভ্রমন, সকল খুন এভাবে খাঁচার সামনে থেমে গেলে আমরা বলি, কী বলি, কিছুই বলি না।
আমাদের পাশে পাখী চোর ছিলো। তার চোখে জল। সে জল গৃহ পুড়ে যাওয়ার পরের, সে জল গৃহ হারিয়ে যাওয়ার পরের, সে জল মানুষের সকল গোপন উন্মোচিত হয়ে যাওয়ার পরের। পাখী চোরের দিকে তাকিয়ে পাখী মেয়েটির কন্ঠ থেকে বাবা ডাক উচ্চারিত হয়। পাখী মেয়েটির দিকে তাকিয়ে পাখি চোরের কন্ঠ থেকে কন্যা ডাক উচ্চারিত হলে পাখীসমুহের উড়ে যাওয়ার শব্দের ভেতর বাবা কন্যার দারুন মিলনের মৃত্যুদন্ড দৃশ্য নির্মাণ হয়। ইহকাল পরকাল পর জানি পাখী মেয়েটির বুক থেকে, স্তন থেকে পাখী চোর পাখী সরবরাহ করার কারণে পাখী মেয়েটির বুক পাখি হারিয়ে, স্তন হারিয়ে কেবলি এক টুকরো খাঁচা।
*****
[লেখকের বানানরীতি অক্ষুন্ন রাখা হয়েছে]
লেখক পরিচিতি:কবীর রানা জন্ম কুষ্টিয়া, বাংলাদেশ। বর্তমানে চাকরির সূত্রে বগুড়া। অধ্যাপক, ইংরেজি, সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া। লেখার ক্ষেত্র: গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ। প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ : জল আসে মানুষের দীঘিতে, মানচিত্রকর, আমাদের গ্রামে একটি পাখি চোর আছে, বিড়াল পোষা প্রতিবেশীনিরা, কোথায় কোথায় ঘুমিয়েছিলাম, মেয়াদোত্তীর্ণ নিরাপত্তাসমূহ, বিজ্ঞাপন চুরি হয়ে যাচ্ছে। উপন্যাস: কেউ মরছে না ।


0 মন্তব্যসমূহ