ডুঁই-ডুঁই-ডুঁই।
রোজ দু-তিনবার কান ঝালাপালা করে দিচ্ছে শব্দটা। দিঘির পাড়ের মানুষগুলো বড়ই আতান্তরে পড়েছে। গাঁয়ের শেষ মাথায় বিঘা পনেরো এলাকা জুড়ে রায়দিঘি,ভুলাডিহির সব থেকে বড় পুকুর এটা। সেই রায়দিঘিতে রায়দের আর অংশ নেই বললেই চলে,সবই বেঁচেবুচে দিয়ে খেয়ে নিয়েছে। পুকুরের অংশ এখন সেখ,মল্লিক,মন্ডলদের হাতে চলে গেছে। রায়দের অংশ বলতে গেলে এক আনা,আধ আনা করে পড়ে আছে দু’-একজনের। তাও আর থাকলে হয়,সেই শরীকদের অংশগুলোও কেনার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে অনেকে।
এই রায়দিঘির মাছের যা স্বাদ ছিল,আশেপাশের আর পাঁচটা গাঁয়ের মানুষও খেয়ে নাম করত। এক একটা রুই,কাতলার সাইজ হত কমসে কম চার পাঁচ কেজি। পুরনো পুকুর,জল তো সেঁচ করা হত না,ফলে এমন দু’এক খানা মাগুর ছিল,হাঁস নামলেও পা ধরে টেনে নিত। বাচ্চা ছেলেকে একা স্নানে পাঠাতে ভয় পেত মা-রা। একবার জালে আটকা পড়েছিল প্রায় বিশ কেজি ওজনের একটা শ্যাওলা পড়া কাছিম। যেদিন থেকে আশুড়িয়ার লতিব মন্ডলকে লিজে চাষ করতে দেওয়া হল,সেই থেকেই রায়দিঘির বারোটা বাজল।
শব্দটা শুনে ঘাটে কাপড় কাচতে কাচতে পাড়ার মেয়েরা মুখ তুলে তাকাল। পৌরসভার তরফে বাঁধানো চাতাল হয়েছে বছর দেড়েক, সেই ঘাটেই জামা-কাপড় কাচছে মেয়েরা। কিছুটা দূরে আলাল সেখ তার শখের গাঁই গরুটাকে স্নান করাতে এনেছে। পাড়ে বাছুরের গলার দড়ি ধরে দাঁড়িয়ে আছে একটি খোকা,ওটা আলাল সেখের নাতি। ছেলেটা ভয়ে তিকুড়ে গেল।
বাজিটা ফাঁটার সঙ্গে সঙ্গেই পুকুরের যত পানকৌড়ি,বালিহাঁস,আশেপাশের গাছগাছালিতে বসা বক,মাছরাঙা ও আরও পাখপাখালি ছিল, জানের তাড়সে সব উড়ে গেল। একটা ত্রাহি ত্রাহি রব পড়ে গেছে। আতঙ্ক গ্রস্থ হয়ে পাখিগুলো ডাকছে,আর পুকুরের চারপাশে বন বন করে ঘুরছে। জলে চরা পাতি হাঁসগুলোও সমস্বরে প্যাঁক প্যাঁক প্যাঁক করে ডেকে উঠল। এই পাখি খেদানোর দৃশ্য বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে।
শোধরুলের বউ বলল, ‘এমন করে মাছ চাষ বাপের জনমে দেখিনি বাপু,আল্লার সৃষ্টি পাখ-পাখালি, তারা দুটো মাছ খাবেনি! এত বড় পুকুরে ক’টা পানকৌড়ি,মাছরাঙায় মাছ খেলে কী এমন ক্ষতি হবে! যত্তসব!’
আলাল সেখ ফোঁড়ন কাটল, ‘পুকুরের শরীকিগুলো হয়েছে যত বদের হাঁড়ি। কী দরকার ছিল বাইরের লোকের হাতে পুকুরটা তুলে দেওয়ার! শালার ছিপ ফেলে পুঁটি,ট্যাংরা পর্যন্ত ধরতে দেয় না,ছেলেপুলেদের ছাকনি জাল নামাতে দেয় না,আর পানির অবস্থা দেখেছ!’
আক্কাসের মা বুড়ি সামেলা বলল, ‘চশমখোরের হাতে পুকুরটা তুলে দিয়েছে! আমাদের তো বলার মুখ নাই বাপু। আমরা ভাগিদার নয়। পুকুরে কাপড়,জামা কাচতে দিচ্ছে,গোসল করতে দিচ্ছে,এগুলোও বন্ধ করে দিতে পারে। আগে পুকুরে জাল নামালে যাদের ভাগ নাই তাদের ঘরের ছেলেপুলে গিয়ে কাছে দাঁড়ালে দু-একটা করে মাছ হাতে দিত,চোখের পটি ছিল,আর এখন রাতারাতি জাল নামিয়ে মাছ যে কখন তুলে নিচ্ছে বোঝা মুশকিল!’
‘অগত্যে গোসল করতি হচ্চে,নাহলে এই পানিতে কেউ গোসল করে! নাড়ি-ভুড়ি,মরা মুরগী যা খুশি তাই ঢেলে দিচ্ছে। পালক ভাসছে। থালাবাসন তো আর ধোয়ায় যায় না।’ শোধরুলের বউয়ের কথায় ক্ষোভ।
আলাল বলল, ‘সব পুকুরেরই তো এখন এমন অবস্থা গো বউমা,ওই যে ভৌমিকদের পুকুরটাও তো বাইরের চাষিকে চাষ করতে দিয়ে দিয়েছে। লিকার দিয়ে মাছকে দু’ আড়াই মাসের মধ্যে বাড়িয়ে দিচ্ছে চড় চড় করে। সেই মাছের না আছে স্বাদ,না আছে গুন। জেনেবুঝেও টাকা দিয়ে বিষ কিনে খেতি হচ্ছে। এখনকার ছেলেপুলেরা আসল জিনিস চাখতে আর পেলনি। আয়ু আর কতদিন হবে!’
কথপকথনটা যখন চরমে পৌঁছেছে,তখনই দেখা গেল লুঙিটাকে সেঁটে হাঁটতে হাঁটতে কাঞ্চন এগিয়ে আসছে। পুকুরটি যে চাষ করছে সেই লতিব মন্ডল কাঞ্চনকে ‘রাখা’ রেখেছে বেতন দিয়ে। মাসে মাসে বেতন দেয়,জাল নামলে মাছ দেয়,আর কুটুমজন এলে ছিপ ফেলে মাছ ধরতে পায় কাঞ্চন। সারাদিন পুকুরে কড়া নজর থাকে তার। কেউ ছিপ ফেলছে কিনা,কেউ টগি ফেলছে কিনা,ছাকনি জাল নামিয়েছে কিনা নজর রাখতে হয়। সাঁঝ থেকে রাত অবধি সার্চার লাইট ফেলে চক্কর কাটে। পাশ দিয়েই বয়ে গেছে ছোট ক্যানেল। আগে ক্যানেলে পানি ছাড়লে নতুন পানি ঢুকত,ফলে রায়দিঘির পানি ছিল আয়নার মতো ঝকঝকে। পুকুরের ধারে ধারে কলমি,শালুন্ত,শাপলার দল লতিয়ে থাকত। পাড়ার আইবুড়ো মেয়েরা ছাকনি জাল নিয়ে দলগুলো ছেকে ছেকে এক আঁচল করে চুনো-চিংড়ি মাছ আনত। লতিব মন্ডলকে যখন থেকে লিজ দেওয়া হল,তখন জে.সি.বি দিয়ে ধারগুলো খাল করে,দলদামড়া সব পরিস্কার করে পাড়গুলো আরও উঁচু করে বাঁধিয়ে নিয়েছে। নতুন জল আর ঢুকতে পায় না। নতুন জল ঢোকালে নাকি আগাছা মাছে ভর্তি হয়ে যাবে পুকুর। তাই পোল থেকে তার খাটিয়ে একটা মোটর লাগিয়েছে। মাঝে মাঝে সেই মোটরটা চালিয়ে দেয় কাঞ্চন।
কাঞ্চনকে দেখে সামেলা বুড়ি বলল, ‘কাঞ্চনে শুন,একটা কথা বলি বাপ তুকে।’
কাঞ্চন দাঁড়াল। বলল, ‘কী বলবে বলো তাড়াতাড়ি।’
‘বলছি দিনে এতবার করে বোম ফুটোচ্ছিস,বোম কিনতে টাকা লাগে না?’
কাঞ্চন মুখটা গম্ভীর করে বলল, ‘টাকা ছাড়া দুনিয়ায় কুন জিনিসটা মাগনায় মিলে চাচি?’
‘তিনবার চারবার করে বোম ফুটোতে যে টাকাগুলো খরচ করচিস,সত্যি করে বলদিনি বাপ,পাখপাখালিতে সারাদিনে অত টাকার মাছ খায়?’
কাঞ্চন রেগে গেল। বলল, ‘বোম ফুটোলে তুমার এত জ্বালা কীসের! আমি রাখা,মালিক যা অর্ডার করে আমাকে করতে হয়। আর হিসেব দেখাচ্ছ! ডিমপোনার পোয়া কত টাকা করে আইডিয়া আছে? বড় মাছ খাক গায়ে লাগবেক নাই,কত আর খাবেক! কিন্তু ডিমপোনাগুলো একটু না বাড়তে বাড়তেই গল গল করে সব খেয়ে নিচ্ছে,তাহলে বোম না ফুটিয়ে উপায় কী! আর শুধু পানকৌড়ি কেন! হাঁস নামাও বন্ধ করতে বলেছে। গাঁয়ে তো আরও অনেক পুকুর আছে,যত হাঁসের শালার এই পুকুরেই বাথান কেনে!’
‘যা পারিস করগা বাপ,আমি কেনে বাধা দিতে যাব! যারা ভাগিদার তাদের যখন অসুবিধা নাই! আমি এমনিই তুকে বললাম বাপ। আমার কথায় রাগ করিস না।’
ভাগিদারদেরও অসুবিধা যে হয়নি,তেমনটা নয়,কিন্তু সবাই ফেঁসে গেছে। লতিব মন্ডলকে তিনবছরের চুক্তিতে রায়দিঘি তুলে দিয়েছে ভাগিদাররা অনেকটা বাধ্য হয়েই। এত বড় পুকুর থেকে বছরে যা আয় হচ্ছিল,তাতে পোষাচ্ছিল না কারও। খোলামেলা পড়েছিল পুকুরটা। যে সে মাছ ধরছিল,ছিপ ফেলছিল—বলতে গেলে কথা শোনাত ,কুটুমজন এলেও মাছ ধরব না নাকি! তাহলে পুকুরটা রাখা কেন! ভাগিদার ছাড়াও পাড়ার অনেকেই লুকিয়ে ছুপিয়ে ছিপ ফেলে মাছ ধরে নিত। দেখভালের কোনও নির্দিষ্ট লোক ছিল না। তাছাড়া চারাপোনা,ডিমপোনা ফেলার সময় চাঁদা তুললে সেটা দিতে অনেকেই কাঁইকুঁই করছিল। তখন ঠিক হল বাইরের চাষির হাতে লিজ দিয়ে দেবে । বছরে বছরে থোক টাকা একসাথে পেয়ে যাবে তারা,জাল ফেললে খাবার মতো মাছ পাবে, মাছ হল না হল সেটা চাষির যাবে। এত হ্যাপা নিতে হবে না নিজেদের। সেই ভেবেই পুকুর লিজে দেওয়া,কিন্তু লতিব মন্ডল এমন দৌরাত্ম্য করবে কেউ ভাবতেও পারেনি।
দুই.
বর্ষার ভরা জল একটু কমে এলে চিংড়ি মাছের মনে হাউস জাগে। ঢলানি মেঘগুলোর তলপেট দিয়ে রস চুঁয়ানো বন্ধ হয়ে যায় ভাদ্র মাসেই,ফলে পুকুরের পানিও কমে যায় খানিক। গরম কেটে রাতের দিকে যত ঠান্ডা বাতাস বইতে শুরু করে,চিংড়ি মাছেরা ততো ঘাটের দিকে উজিয়ে আসে খাবারের খোঁজে। এঁটোঝেটো ভাত ফেলে দেয় অনেকে। এই সময়টা ডুবো ঘুনি দেওয়ার সময়।
‘ঘুনি’ হল বাঁশ চিরে চিরে সরু কাঠি দিয়ে ডোমঘরে বোনা মাছধরার এক বিশেষ ফাঁদ,কতকগুলি ফুটো থাকে ঘুনিতে,সেদিকে মাছ ঢুকে গেলে আর বেরতে পারে না। যদি সরষের খোল ভেজে ভাত দিয়ে চটকে গোল গোল নাড়ু পাকিয়ে ঘুনিতে ভরে মুখটা খড়ের গুঁজি দিয়ে বুজিয়ে দাও,তারপর সাঁজের বেলা পুকুর ঘাটে ডুবিয়ে দিয়ে এলে সকালে যখন তুলবে,দেখবে চিংড়ি মাছে ঘুনির আখাগুলো ভর্তি হয়ে গেছে।
প্রতি বছরই বছরের এই সময়টা রায়দিঘিতে ডুবোঘুনি দেয় নামোপাড়ার মানুষ। এবছর কাউকে ঘুনি দিতে দেয়নি কাঞ্চন। সাঁঝের বেলা এই নিয়ে একদিন ঝামেলাও হয়ে গেল। ভাগিদারদের মধ্যে কয়েকজন ডুবোঘুনি দিতে এলে কাঞ্চন বাধা দিয়ে ওঠে। স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ‘এসব আর চলবেনি!’
‘চলবেনি মানে! পুকুরটা আমরা বেঁচে দিয়েছি নাকে লতিবেকে।’ শুকুর সেখের ব্যাটা সরুল দাঁতগুলো খিঁচিয়ে রুখে দাঁড়ায় কাঞ্চনের সামনে।
কাঞ্চন কিছুটা পিছিয়ে যায়,তারপর বলে, ‘রাগের কিছু নাই। পুকুরটা লিজে চাষ করতে দিয়ে দিয়েছে সবাই,টাকা গুনে নিয়েছে,ব্যস খেল খতম। এই পুকুর থেকে এখন একটা চুনোপুঁটি মাছও ধরার অধিকার নাই কোনও ভাগিদারের।’
‘খুব বালের রাখা হয়ে গেচিস বে শালা! ক’টাকা পাস,যে এত দপদপানি! ওই চুদির ভাইকে ডাক দেখি, কেমন ডুবোঘুনি দিতে না দেয় দেখছি।’
শুকুরের ব্যাটার সাথে সাথ দেয় রুমজান। সে ভিজে লুঙিতেই উঠে আসে হপর হপর করে,এই সবে ঘুনি বসাচ্ছিল। বলল, ‘কাঞ্চনে তুই একটু বেশিই বাড়াবাড়ি করচিস,ভাগিদাররা ডুবোঘুনি দিয়ে চারটি চিংড়ে মাছ খেলে লতিব ভাইয়ের মতো মানুষ কিছুই বলবেকনি। তুর এত চোখ জ্বালা কেনে!’
‘বাহ রুমজান চাচা! বেশ বললে তো কথাটা! আমাকে মাস গেলে টাকা গুনছে পুকুর আগুলার জন্যে,আর আমি মাছ চুরি করতে দিবো!’
‘কী বললি তুই! চুরি? এতবড় আস্পর্দা তুর!’ রুমজান প্রায় হাতই উঠিয়ে দিয়েছিল। ঘাটে ভিড় জমে গিয়েছিল হাঁকাহাকি শুনে। কয়েকজন টেনে ধরে নিল রুমজানকে। আরও দু’একজন ভাগিদার কাঞ্চনকে চাপ দিল, ‘ফোন লাগা বে তুই,দেখি লতিব মন্ডল কী বলে! তুর গাঢ় পিঁয়াজি বার করে দেব। চাবুলি মারাবি অন্য জায়গায়।’
কাঞ্চন আর বেশি বাকবিতন্ডায় গেল না। ফোন লাগাল লতিবকে। তারপর ফোনের কথা শেষ হলে জানিয়ে দিল, ‘আজ ঘুনি দিতে বারণ করছে। কাল সকালে মালিক আসবেক,তুমরা নিজেরা বুঝাপোড়া করে লিবে।’
তিন.
পুকুরের পাড়েই বলা চলে শেষ মাথায় ময়সিন সেখের ঘর। ময়সিনের ছেলে মারা গেছে গত বছর করোনায়। বুড়ো চোখেও ভালো দেখে না,ছানি পড়ে পড়ে প্রায় অন্ধ। হাঁটা চলাটুকু করতে পারে, গায়ে জোর আর নেই বললেই চলে। গ্রামের সবাই ময়সিনের অসহায়ত্বের কথা ভেবে মসজিদের মোয়াজ্জিনের কাজটা দিয়েছে। রোজ পাঁচবেলা আজান হেঁকে দিয়ে আসে বুড়ো। রাতে বিরেতে একদুইদিন না যেতে পারলেও সেদিন ইমাম সাহেবই দিয়ে দেয় আজানটা। ময়সিন পুকুরের ভাগিদার নয়,তবুও যেদিন রাতে জাল নামে দিঘিতে,ভোরের বেলা পেরিয়ে যাবার সময় কাঞ্চন লুঙির কোচর থেকে দু’একটা মাছ দিয়ে যায় ময়সিনের বাড়িতে। পুকুরের পাড়েই বাড়ি,সারারাত তো আর কাঞ্চন জেগে পুকুর পাড়ে বসে থাকতে পারে না,তাই ময়সিনের বাড়িতে বলা আছে রাতের বেলা কোনও শব্দ শুনলে,বার বেরলে যেন তারা একটু চেয়ে দেখে।
রাত আটটা ন’টা পর্যন্ত উঠোনে খাঁটিয়া পেতে বসে থাকে বুড়োবুড়ি,কাঞ্চন তখন সার্চার টর্চ নিয়ে বেরয়,পুকুরটা এক চক্কর দিয়ে এসে কিছুক্ষন খাটিয়ায় বসে গল্প গুজব করে যায়,আর আড় চোখে ময়সিনের ছেলের বউকে দেখে। খুব ডাকাবুকো মেয়ে সেলিনা। ছাগল পালে,নিজেই জমির আল থেকে ঘাস ছিঁড়ে এনে দেয়,ধানকাটা মেসিন চলে যখন মাঠে,তখন কাঁকালে করে সারাদিন পোয়াল এনে এনে চুড় করে। মাস খানেকের জ্বালানির জোগাড় করে নেয়। নইফুল আচমকা চলে গেল। তখন থেকেই কেমন মুষড়ে গেছে মেয়েটা। মুখের হাসিটিও সরে গেছে। একটিই ছেলে,বছর আটেক বয়স। তার মুখ চেয়েই বুড়োবুড়ির কাছে রয়ে গেছে সেলিনা।
সকালে লতিব মন্ডল এসে পুকুরের পাড়ে ফটফটি বাইকটা দাঁড় করাল। ময়সিনের বাড়ির সামনেই একটা নিমতলা,সেখানেই এসে দাঁড়ায় লতিব। প্যাকেট থেকে ফোন বের করে কাঞ্চনকে লাগাল। ততক্ষণে ময়সিনের বউ দেখতে পেয়েছে,বলল,ঘর দিকে পেরিয়ে এসো ভাই।
মুখে হাসি এনে লতিব বলল,এই দাঁড়ায়, ঘুনি দেওয়া নিয়ে কীসব ঝামেলা হচ্ছে,সেগুলো একটু মিটিয়ে যায়।
কাঞ্চন আসার আগেই দু’তিনজন ভাগিদার হাজির হয়ে গেছে। পাড়ায় লতিব মন্ডল ফটফটি গাড়ি নিয়ে ঢুকলে একটা বাচ্চা ছেলেও বুঝতে পারে। অমন শব্দ উঠা গাড়ি নিয়ে এই পারায় আর কেউ ঢুকে না সাধারণত।
ময়সিনের উঠোন থেকে খাটিয়াটা দু’জন তুলে এনে নিমতলায় নামাল। কাঞ্চন এসে পড়েছে। ভাগিদারদের বেশ কয়েকজনই খবর পেয়ে চলে এসেছে।
লতিব মন্ডল দামি সিগরেট খায়। পাঞ্জাবির প্যাকেট থেকে সিগরেট বের করে ধরাল। বার কয়েক টান দিয়ে বলল, ‘তুমাদের সমস্যা কী খুলে বলোদিনি। কাল আমি শুনেছি,তাও তুমাদের দাবিটা কী?’
রুমজান বলল, ‘এতদিনকার পুকুর,বছরের এই সময়টা আমরা ঘুনি দিয়ে দু’চারটি চিংড়ি মাছ খায়। বেগুন,হুপোর সাথে মিশেল দিয়ে খেতে ভালো লাগে। তুমাকে পুকুর চাষ করতে দিয়েছি বলে একটা করে ঘুনি দিতেও দিবে নাই নাকি?’
লতিব বলল, ‘মাথাটা গরম করো না রুমজান ভাই। তুমি বুঝুক লোক বুঝবে। এত বড় পুকুরে দুটি চিংড়ি খেলে আমার কিছুই এসে যাবে না। কিন্তু একটা কথা ভেবে দেখেছ কী! তুমরা ডুবোঘুনি দিতে শুরু করলেই যাদের ভাগ নাই,তারাও নেমে পড়বে পুকুরে,ঘুনি দিবে। তখন ভাগ নাই বলে ঘুরিয়ে দিতে পারবে ওদের? চোখ শরম লাগবে না?’
‘যাদের ভাগ নাই পুকুরের তারা ঘুনি দিতে আসবেক কেনে!’ জাফর মল্লিক কথা বলল। মল্লিক পাড়া থেকে এসেছে সে।
‘তা বললে হয়! ওরাও তো ডুবোঘুনি দেয় প্রতিবছর,আগে কি বারন করতে ওদের?’
‘সে আগের কথা বাদ দাও। ওটা আমরা বুজে লিব। এখন লিজে দিয়েছি,এখনকার নিয়ম আলাদা। তাছাড়া কাড়ি কাড়ি টাকা দিয়ে কাঞ্চনেকে রাখা রেখেছ,উয়ার কাজটা কী?’
কাঞ্চন বলল, ‘দেখো লতিব ভাই,এই নিয়ে আমি বার বার ঝামেলা করতে পারব না কারও সাথে। এর একটা বিহিত করে যাও তুমি। আমি কেন সবার কাছে দুষী হতে যাব! কী দায় পড়েছে আমার! কাল গায়ে হাত পর্যন্ত তুলতে গেছে।’
লতিব বলল, ‘আমি আর কী বলব! আমাকে চাষ করতে দিয়েছ তিনবছরের চুক্তিতে। সেই হিসাবে পুকুর থেকে আর মাছ ধরা চলে না কারও। তবুও তুমরা বলছ যখন চুনোচিংড়ি মাছ,খেলে আমার কিছুই এসে যায় না। কিন্তু একটা কথা কী জানো,আলগা ছাড়লে এই পুকুরেই তখন কেউ ছিপ নিয়ে বসবে-এই ধরনের আবদার তখন শুনব না কিন্তু।’
‘না না,ছিপ কেন ফেলবে! সেসব কেউ করবে না। তুমি শুধু ডুবোঘুনিটা দিতে দাও। আমরা শুধু ভাগীদাররাই দিবো। যাদের ভাগ নাই,তাদের দিতে দিবো না। কাঞ্চন তো জানে কাদের কাদের ভাগ আছে। কেউ লুকিয়ে মাছচুরি করলে তার কী শাস্তি,সেটা তো গোটা গাঁয়ের মানুষই জানে। দশ হাজার টাকা জরিমানা।’
চার.
সেলিনা চেয়ে চেয়ে কয়েকদিন ধরেই দেখছে সকাল হলেই ভাগিদাররা ঘাট থেকে ঘুনি তুলে নিয়ে যাচ্ছে। জলজ্যান্ত চিংড়ি মাছগুলো চিড়বিড় করে লাফায় ঘুনির আখার ভেতর। তারও ঘুনি আছে একটা। সাজুর বাপ সাঁজ হলেই বসিয়ে দিয়ে আসত। আশুড়িয়ার হাট থেকে কিনে এনেছিল তিন আখার ঘুনিটা। ‘তিন আখা’ মানে হল তিনটা খোঁপ। চুলোশালের মড়কোচায় সেটা এখন ধোঁয়া খাচ্ছে। এখন চেয়ে দেখা ছাড়া উপায় নাই। তার শশুড়ের তো আর পুকুরের ভাগ নেই!
উঠোনের একপাশে হাত খানেক ফাঁকা জায়গা। দুটো পুঁই লতা টালির চালে তুলে দিয়েছে। সারা চাল ঘিরে গেছে পুঁইয়ে। দু’চারটা হুপো বীজ পুঁতে বাঁশের ডগলা দাঁড় করিয়ে দিয়েছে,তাতে হুপো ঝুলে পড়ছে। বটি নিয়ে সবজি কুটতে বসে শাশুড়ি আফসোস করে বলল, ‘হুপো লাগালি,অথচ একদিন হুপো-চিংড়ির চচ্চড়ি খেতে পেলামনি মা। কেউ বেচতেও তো আসে না এদিকে।’
‘বাজার ঘাট কে আর যাচ্ছে। নাহলে হাটে চিংড়ি মাছের অভাব নাকি!’ বুড়ো ময়সিন দাওয়ায় বসে বসে বুলি ঝাড়ছে।
‘এমন গাঁ দেখিনি বাপু। কুনুদিন ভাবিনি রায়দিঘিতে একটা ঘুনি দিতেও দিবেক নাই।’
‘এখন মানুষ স্বার্থপর হয়ে গেছে,নিজের থাকলে খাও,নাহলে আঁটি চুষো।’
‘পুকুরের অংশও তো একটু কিনে রাখোনি। রায়রা তখন হুড় হুড় কম দামে ছেড়ে দিল। যারা খবর রাখে তারা পেল।’
সেলিনা কাপড় কাচতে গেল। অল্প হলে কলতলাতেই কাচা যায়। বালতি ভর্তি জামা-কাপড় ভিজালে তখন পুকুরে যেতে হয়। জলটা ভালো নয়,নোঙরা ভেসে বেড়াই,তবুও চওড়া চাতালটার জন্য অগত্যে পুকুরেই ধুতে হয়। কল টিপে টিপে জল তুলে জামা-কাপড় কাচা খুব হ্যাপা। ভালো করে না ডুবিয়ে ধুলে জুত হয় না।
কাপড়গুলো কেচে জল নিঙড়ে বালতিতে ভরে লদপদ করে বাড়ি ফিরছে সেলিনা,সেই সময়েই কাঞ্চন পাশ ঘেঁষে পেরিয়ে গেল। একবার চোখাচোখি হল। সিলিনার বুক কাঁপে। অমন করে তাকাই কেন তার দিকে! যখন পেরয় ইচ্ছে করেই কাছ ঘেঁষে,সেটা সেলিনা বুঝতে পারে। গায়ে গা ঠেকাতে চায় কাঞ্চন। তার তো বউ ছেলে আছে,তাও এত ছুক ছুকুনি কেন!
আঁজির গাছের ডাল থেকে ওমাথায় চুলোশালের এক দেড় হাত বেরিয়ে থাকা বাঁশের গজালটাই একটা দড়ি বাঁধা আছে উঠোনের মাঝ বরাবর। বালতিটা নামিয়ে ভিজে কাপড়গুলো ঝেড়ে ঝেড়ে দড়িতে মেলতে থাকে সেলিনা। হঠাৎ একটা চিংড়ি মাছ মাটিতে পড়ে ঝাপাতে থাকে। শাড়ির সাথে উঠে চলে এসেছে পুকুর থেকে। সেলিনা হেঁট হয়ে মাছটা তুলে নেয় হাতে। রোদ পড়ে চক চক করছে হিরে কুচির মতো। সাজু মায়ের হাত থেকে মাছটা ছিনিয়ে নেয়। দৌঁড়ে গিয়ে তার দাদিকে দেখায়। -- ‘দাদি দেখ দেখ মাছ চলে এসেছে কাপড়ের সাথে।’
‘তাই তো রে। রায়দিঘিতে এত চিংড়ি হয়েছে, যে মাছ একেবারে ডাঙায় উঠে আসতে চাইছে!’
‘আমাদিকে আর ঘুনি দিতে দিবেকনি,বল দাদি! আব্বা ঘুনি দিতুক,তখন কত মাছ পড়তুক।’
‘চিংড়ি মাছ খেতে মুন যাচ্ছে তুর?’
‘হুম দাদি,আমার হেব্বি লাগে খেতে।’
নাতির মুখের দিকে চেয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল মনসুরা বেগম। বলল, ‘বাজার ঘাট যাওয়ার মানুষও নাই। দেখি কাউকে পেলে কিনে আনা করাব।’
ময়সিন বলল, ‘কাঞ্চন তো আমাদের ঘরে আসে,ওকে বললে আমাদিগে ঘুনি দিতে দিবেক নিশ্চয়ই।’
‘তুমার কী মাথা খারাপ! একদম বলবে না। তুমাকে দিতে দিলে পাঁচজনে পাঁচ রকম কথা বলবেক,আরোও অনেকে ঘুনি দিতে চাইবেক।’
সাঁজের বেলা খোল ভাজার গন্ধ পেয়ে সামসুরা চুলোশালে উঁকি মারল। দেখল বউমা উনুন জ্বেলেছে। কাছে গিয়ে খুঁটি ধরে দাঁড়াল বুড়ি। বলল, ‘খোল ভেজে কী করবি তুই? ঘুনি দিবি নাকি! যদি দেখে ফেলে!’
সেলিনা কিছু বলল না,চুপচাপ খুন্তিতে নাড়া দেয়। আগুনের আঁচে লালটুকটুকে মুখটা ঘামে ভিজে যায়। সামসুরা তাড়িয়ে তাড়িয়ে দেখে মেয়েটাকে। সত্যিই ভাগ্য করে নইফুল এমন বউ পেয়েছিল! মায়ের বুক খালি করে চলে গেল সে,কিন্তু বউটা যায়নি। সারা সংসারটা ওর জোরেই চলছে। সামসুরা কোনও বাধা দিল না, চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। একটু পর সেলিনা বলল, ‘বাটি করে দুটি ভাত নিয়ে আসো যাও।’
সামসুরা বেগম সুড় সুড় করে হেঁসেল ঘর থেকে ভাত এনে দিল। সেলিনা সেগুলো নাড়ু পাকিয়ে পাকিয়ে ঘুনিতে ভরল। তারপর নিজের থেকেই কথা বলল, ‘রাতের বেলা খেয়েদেয়ে ‘বার বসার’ সময় নিয়ে যাব ঘুনিটা,চাতাল ঘাটের এক ধারে বসিয়ে দিয়ে আসব। কেউ টের পাবেকনি। আবার ফজরের সময় নিয়ে আসব।’
পাঁচ.
সাঁজ গড়িয়ে যেতেই রায়দিঘিকে চারপাশ থেকে অন্ধকারটা অজগরের মতো পেঁচিয়ে ধরল। ঝোপে-ঝাড়ে ঝিঁ ঝিঁ ডাকছে। খানিকক্ষন আগে কাঞ্চন একবার সার্চার মেরে চক্কর দিয়ে গেছে পুকুরটা,তখন সেলিনা কলতলায় দাঁড়িয়ে সুযোগ খুঁজছিল। কাঞ্চন তাকে আড়চোখে চেয়ে দেখল,তারপর চলে গেল। কিছু কি বুঝতে পেরেছে! না না,সেলিনা ভাবল,সে তো রোজই উঠোনে থাকে। খাওয়া-দাওয়া সারা হলে সেলিনা ঘুনিটা শাড়ির আঁচলে ঢাকা দিয়ে চুলোশাল থেকে চুপি চুপি বেরল,বেরিয়ে পুকুরের পাড় ধরল। চারিদিকে নিকষ কালো অন্ধকার,পথঘাট কিছুই দেখা যাচ্ছে না। হাতে টর্চ আছে সেলিনার,কিন্তু এখন জ্বাললে অসুবিধা আছে। অন্ধকারেই গা মিশিয়ে সে হাঁটতে লাগল। কাঞ্চন কি এখন থাকবে? থাকলে তো সার্চারের আলো জ্বালাত। এমনিতে সে ছাড়া রাতের বেলা এইপথে সাধারনত কেউ আসে না। কাঞ্চন যদি আসে টর্চ জ্বালবে,আর তখন ঘুনিটা ক্যানেলদিকে ফেলে দিলেই হল,তাকে দেখলেও ভাববে বার বসতে এসেছে।
কিছুটা গিয়েই ঘাট। সামনে একটা ঘাট আছে,সেটা বাঁধানো নেই। ভাগিদাররা অনেকেই ঘুনি দিয়ে গেছে সেই ঘাটে। সেলিনা তাই সামনেরটাই না গিয়ে বাঁধানো ঘাটটার কাছে এল। একবার চারপাশটা দেখে নিল,তারপর টর্চটা চাতালে নামিয়ে নেমে পড়ল জলে। শাড়িটাকে যতটা পারা যায় হাঁটুর ওপর তুলে দাঁতে করে চিপে রাখল,ঘুনিটা জলে বসিয়ে চারপাশে কাদামাটি লাগিয়ে আঁটকে দিতে হবে,উল্টে গেলে মাছই পড়বে না। উবু হয়ে ঘুনিটা বসিয়ে যেই মাথা তুলেছে,সেলিনা দেখল ক্যানেলের পাড়েই কচুবনের আড়ালে আগুনের একটা ছোট্ট লাল বিন্দু। একবার নিভছে,একবার জ্বলছে। ভয়ে পাগুলো সেঁটে গেল সেলিনার।
এবার আড়াল থেকে সুড় সুড় করে বেরিয়ে এল একটা ছায়ামূর্তি। বিড়িটা ফেলে ঘাটের সিঁড়ির দিকে এক পা এক পা করে নেমে আসছে। কাছে আসতেই মুর্তিটা দৃশ্যমান হল। সেলিনার বুকে কাপন ধরল। কাঞ্চন! ঘাপটি মেরে বসে ছিল,টর্চ তো জ্বালেনি! কী হবে এবার!
কট মট করে চেয়ে আছে কাঞ্চন। কোনও কথা বলছে না। সেলিনাও চোখ থেকে চোখ সরাতে পারছে না। পল,অনুপল,সময় সব যেন থমকে গেল কিছুক্ষণ। তারপর সুড় সুড় করে জলে নেমে গেল কাঞ্চন। সেলিনা বোবা হয়ে গেছে,মুখ দিয়ে না করল চিৎকার,না একটু নড়নচড়ন। মাথাটা ঝিম ঝিম করে উঠল। তারপর বুঝতে পারল দুটি বলিষ্ট হাত তাকে পিছন থেকে আঁকড়ে ধরেছে। তার বুকে হাত দিয়ে ডোলা দিচ্ছে। সেলিনা ফিসফিস করে বলল, ‘ছাড় ঢেমনা কোথাকার!’
‘কতদিন লুকিয়ে ঘুনি দিচ্ছিস!’ হাত কিন্তু থেমে নেই কাঞ্চনের।
সেলিনা বলল, ‘আজই। ছেড়ে দে বলছি,নাহলে ভাল হবেক নাই কিন্তু।’
‘তুকে এমনিই ছেড়ে দেব! কতদিন অপেক্ষা করে আছি তুই বুঝিস না,তুর শরীর মরে গেছে নাকি!’
সেলিনা পেরে ওঠে না কাঞ্চনের বাহুমুল থেকে নিজেকে ছিনিয়ে বের করতে। পুরুষমানুষের হাতের ছোঁয়া কতদিন পাইনি সে! শরীরে মাতন লাগে,গা শির শির করে উঠে। ঘন ঘন নিঃশ্বাস পড়তে থাকে তার। কাঞ্চন বুঝতে পেরে ধীরে ধীরে গভীর জলের দিকে তাকে টেনে নিল। জল তখন এক কোমর ছাপিয়ে গেছে। কাঞ্চন ঘাড়ে মুখ রেখে ফিস ফিস করে বলল, ‘বিচার দিলে কী শাস্তি জানিস তো! দশহাজার টাকা। আর মানসম্মান কুথায় যাবেক বুঝতে পারছিস?’ বলতে বলতেই সেলিনাকে জলে বসিয়ে নিল। জল উষ্ণ হয়ে উঠছে। সেলিনা তখন অনুভব করছে তার শরীরের প্রতিটি ফাঁকফোকরে কাঞ্চনের হাতের ছোঁয়া,শরীরের স্পর্শ । বুঝতে পারল ধীরে ধীরে সে চিংড়ি মাছের মতো নিজেকে একটা আস্ত ঘুনির ভেতরে সপে দিয়েছে। ·
লেখক পরিচিতি : হামিরউদ্দিন মিদ্যা' ছোটগল্পকার। প্রকাশিত বই : আজরাইলের ডাক, মাঠরাখা, পঁচিশটি গল্প, নির্বাচিত ২০টি গল্প। পেয়েছেন সর্বভারতীয় সাহিত্য আকাদেমি যুব পুরস্কার, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ইলা চন্দ স্মৃতি পুরস্কার ও কৃত্তিবাস পত্রিকা প্রদত্ত সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় সম্মাননা।


0 মন্তব্যসমূহ