গল্প বলা মানে মানুষকে ভাবতে বাধ্য করা—এরপর কী হবে : একা কুর্নিয়াওয়ান


অনুবাদ : ঝরা সৈয়দ

একা কুর্নিয়াওয়ান ইন্দোনেশীয় লেখক, চিত্রনাট্যকার ও গ্রাফিক ডিজাইনার। জন্ম ২৮ নভেম্বর, ১৯৭৫। লিখেছেন একাধিক উপন্যাস। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ২০০২ সালে প্রকাশিত Cantik Itu Luka [Beauty Is a Wound এবং ২০০৪ সালে প্রকাশিত Lelaki Harimau [Man Tiger]. লিখেছেন বহু ছোটগল্পও। ২০১৬ সালে Man Tiger–এর ইংরেজি অনুবাদ ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজের জন্য মনোনীত হয়। সম্পাদক কারমেন ব্রাউয়ার ও আইরিস কোলের সঙ্গে কথোপকথনে একা কুর্নিয়াওয়ান কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দেন। সেখানে তিনি বলেন তাঁর দর্শন ও গ্রাফিক ডিজাইনের পটভূমি এবং গল্প বলার পদ্ধতি নিয়ে।

প্রশ্ন :
আপনি যোগ্যাকার্তায় দর্শনশাস্ত্র পড়েছেন। সেখানে আপনি প্রামোদ্যা অনন্ত তোয়ের ওপর থিসিস লিখেছেন। একাডেমিক ও সাহিত্যিক—দুই ক্ষেত্রেই এই লেখকের প্রতি আপনার আগ্রহ কীভাবে তৈরি হলো?
উত্তর :
আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে প্রামোদ্যার কোনো বই পড়িনি। এমনকি তাঁর নামও জানতাম না। তখন তাঁর বই নিষিদ্ধ ছিল। একদিন এক বন্ধু আমাকে প্রামোদ্যার Bumi Manusia [This Earth of Mankind] (১৯৮০)–এর একটি ফটোকপি দেয়। সেই বইটি আমার আগ্রহ জাগিয়ে তোলে। এরপর আমি তাঁর যত বই পেতে পারি, সব পড়তে শুরু করি।

আমি যখন থিসিস লিখতে শুরু করি, তখন আমার মনে হয়, যা কিছু দরকার, সব আমার সামনে ইতিমধ্যেই আছে। প্রামোদ্যা আমাকে ইন্দোনেশিয়া নিয়ে কল্পকাহিনি লিখতে অনুপ্রাণিত করেছেন। অবশ্য ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কে আমার দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আলাদা। আমার সাহিত্যিক যাত্রায় আরও অনেক লেখক গভীর প্রভাব ফেলেছেন। এর মধ্যে আছেন আবদুল্লাহ হারাহাপ ও আসমারামান এস খো পিং হু–এর মতো স্থানীয় লেখকরা, আবার বহু আন্তর্জাতিক লেখকও আছেন।

প্রশ্ন :
দর্শনশাস্ত্র পড়ার পাশাপাশি আপনি গ্রাফিক ডিজাইনের পেশার কথাও ভেবেছিলেন। এই দুই চর্চা আপনার লেখাকে কীভাবে প্রভাবিত করে?

উত্তর :
দর্শনশাস্ত্র পড়া অবশ্যই আমার লেখাকে প্রভাবিত করেছে, যদিও আমি সচেতনভাবে তা নিয়ে ভাবি না। আমি গল্প পড়ার সময় বিশ্লেষণাত্মকভাবে পড়তে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আমি গল্পের ভেতরের মূল ধারণা খুঁজে দেখি। আবার দর্শনের লেখা পড়ার সময় আমি সেগুলো উপন্যাসের মতো পড়ি। আমি দার্শনিকের চিন্তার গতিপথকে একটি কাহিনির মতো অনুসরণ করি। এই দ্বৈত পাঠাভ্যাসই সম্ভবত আমার লেখার ধরন তৈরি করেছে।

গ্রাফিক ডিজাইনের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। দুটি কাজ একে অপরের থেকে আলাদা, কিন্তু তারা পরস্পরকে প্রভাবিত করে। আমি লেখার সময় প্রায়ই খাতায় বা কাগজে কিছু স্কেচ করি। এতে গল্পটি চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আবার আমি যখন কোনো ডিজাইন করি, তখন আমি তার পেছনের গল্পটি ভাবি।

প্রশ্ন :
আপনি যেসব নতুন বিষয়ে আগ্রহী হন, সেগুলোকে কীভাবে ধরেন? অন্যভাবে বললে, আপনার শিল্পীসত্তার গবেষণার ধরন কেমন?

উত্তর :
আমার লেখার প্রকল্প সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট বিষয় দিয়ে শুরু হয় না। আমি নানা রকম আকর্ষণীয় ঘটনা বা মানুষ সংগ্রহ করি। আমি সেগুলো নোট করে রাখি। আমি সেগুলো নিজের জীবনে অনুভব করি, দেখি, কারও কাছ থেকে শুনি, কিংবা সংবাদ বা বইয়ে পড়ি। এই ঘটনাগুলো আমার মনে নানা ব্যাখ্যার জন্ম দেয়। পরে সেই আপাতদৃষ্টিতে সম্পর্কহীন ঘটনাগুলো মিলেই একটি গল্প হয়ে ওঠে।

বিষয়টি সাধারণত একেবারে শেষে তৈরি হয়। সেটি হয় এই ঘটনাগুলোর প্রতি আমার ব্যাখ্যার ফল। তাই আমার নির্দিষ্ট কোনো অনুপ্রেরণার উৎস নেই। আমি স্বাভাবিক জীবনই যাপন করি। কাজের প্রয়োজনে বা ছুটিতে কোথাও যাই। লেখালেখি আমার কাছে একটি দীর্ঘমেয়াদি কাজ। এটি একটি খোলা প্রকল্প, যা সময়ের সঙ্গে বদলাতে থাকে।

প্রশ্ন :
নেদারল্যান্ডসে আমরা আপনার লেখা অনুবাদের মাধ্যমে পড়ি। কিন্তু ইংরেজি বা ডাচ ভাষায় অনুবাদের ক্ষেত্রে ইন্দোনেশীয় সাহিত্য ও অন্যান্য বিশ্বসাহিত্যের মধ্যে সংখ্যাগত বড় পার্থক্য আছে। আপনার কাজ এবং তার সামাজিক সমালোচনা কি আন্তর্জাতিক পাঠকের কাছে পৌঁছানো আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর :
আমি শুরুতে এমন চরিত্র ও বিষয় নিয়ে লিখি, যেগুলো একেবারেই ইন্দোনেশীয়। কিন্তু অধিকাংশ উপন্যাসের মতোই অনুবাদের মাধ্যমে আমার লেখা মূল ভাষার বাইরের পাঠকের কাছেও পৌঁছাতে পারে। তখন উপন্যাসগুলো ভিন্নভাবে কাজ করে। অইন্দোনেশীয় পাঠক দূরের মানুষ ও জায়গার গল্পের মধ্যে নিজেদের জীবন ও সমস্যার প্রতিচ্ছবি দেখতে পারেন। অনুবাদ না হলে এটি সম্ভব হতো না।

এ ছাড়া একটি সাহিত্যকর্মের বহু ভাষায় পড়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদিও প্রতিটি পাঠকগোষ্ঠী উপন্যাসকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করবে। যেমন, অনেকে আমার লেখাকে ম্যাজিক্যাল রিয়ালিজম বলে চিহ্নিত করেন, যদিও এটি আমার নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নয়। ইন্দোনেশীয় সাহিত্যে জাদুকরী উপাদান যুক্ত করার দীর্ঘ ঐতিহ্য আছে। আমি আসলে সেই প্রচলিত ধারাটিই এগিয়ে নিচ্ছি।

প্রশ্ন :
আমরা পড়েছি, আপনার গল্প বলার অভিজ্ঞতায় প্রতিবেশীর কাছ থেকে শোনা পুরোনো কিংবদন্তিগুলোর বড় প্রভাব ছিল। ভালো গল্প বলার কোনো শিক্ষা, নিয়ম বা নির্দেশনা কি আছে, যা আপনার মতে আরও বেশি মানুষের জানা উচিত?

উত্তর :
গল্প বলার সবচেয়ে মূল্যবান শিক্ষা হলো, যদি কোনো গল্প শেষ পর্যন্ত শ্রোতার মনোযোগ ধরে রাখতে না পারে, তবে সেই গল্পের কোনো মূল্য নেই। গল্প বলা মানে হলো একের পর এক ঘটনা দিয়ে মানুষের কৌতূহল বাঁচিয়ে রাখা। গল্প বলা হলো মানুষকে ভাবতে বাধ্য করার শিল্প—এরপর কী হবে?

৩১ আগস্ট ২০১৫
··············

একা কুর্নিয়াওয়ানের ২০০২ সালের উপন্যাস Cantik Itu Luka–র ইংরেজি অনুবাদ করেছেন অ্যানি টাকার। ইংরেজি অনুবাদের নাম Beauty Is a Wound। এই উপন্যাসে এক পতিতা দেবী আয়ুর গল্প বলা হয়েছে। দেবী আয়ু ২১ বছর মৃত থাকার পর কবর থেকে উঠে আসে। বইটি দেবী আয়ু এবং তার চার মেয়ের জীবন অনুসরণ করে। গল্পটি ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাসের ভেতর দিয়ে এগোয়—ঔপনিবেশিক সময়, জাপানি দখলদারিত্ব, এবং স্বাধীনতার সময়কাল পেরিয়ে। ইন্দোনেশীয় লোককথা ও জাদুর উপাদান বইটিতে যুক্ত হয়েছে। বইটি কখনো খুব সহিংস, কখনো যৌনভাবে স্পষ্ট, আবার বহু জায়গায় ভীষণ হাস্যকর। মেলবোর্ন রাইটার্স ফেস্টিভ্যালে অংশ নেওয়ার আগে Indonesia at Melbourne একা কুর্নিয়াওয়ানের সঙ্গে কথা বলেছিল।

প্রশ্ন :
Beauty Is a Wound একটি মহাকাব্যিক উপন্যাস। এতে ডাচ ঔপনিবেশিক শাসনের শেষ সময়, জাপানি দখল, ১৯৬৫ সালের সহিংসতা এবং নিউ অর্ডার শাসনকাল ধরা পড়েছে। আপনি বইটিকে কীভাবে বর্ণনা করবেন?

উত্তর :
আসলে, আমি যখন বইটি লিখতে শুরু করি, তখন আমি একটি ভূতের গল্প লিখতে চেয়েছিলাম। প্রথম অনুচ্ছেদ পড়লেই বোঝা যায়, এটি একটি ভূতের গল্প। কিন্তু আমি যখন লিখতে লিখতে এগোই, তখন গল্পটি আরও বিস্তৃত হয়। তখন এটি একটি ঐতিহাসিক পটভূমিসহ ভূতের গল্পে পরিণত হয়।

প্রশ্ন :
আপনার লেখায় কোন লেখকদের প্রভাব সবচেয়ে বেশি?

উত্তর :
আমার লেখায় সবচেয়ে বড় প্রভাব এসেছে ইন্দোনেশীয় লেখকদের কাছ থেকে। যেমন প্রামোদ্যা অনন্ত তোয়ের, আসমারান এস খো পিং হু (যিনি চেরিতা সিলাত, অর্থাৎ মার্শাল আর্টভিত্তিক কাহিনির লেখক), এবং আবদুল্লাহ হারাহাপ (একজন ভৌতিক কাহিনির লেখক)। তবে আমি ইন্দোনেশিয়ার বাইরের লেখকদের বইও অনেক পড়েছি। সেসব লেখাও অবশ্যই আমাকে প্রভাবিত করেছে। যেমন গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস, সালমান রুশদি এবং টনি মরিসন।

প্রশ্ন :
আপনাকে প্রায়ই রুশদি ও মার্কেসের সঙ্গে তুলনা করা হয়। Beauty Is a Wound–এ আপনি কি সচেতনভাবে ম্যাজিক্যাল রিয়ালিজম ব্যবহার করেছেন?

উত্তর :
আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন আমি তাঁদের বই পড়তাম তাঁদের কাছ থেকে শেখার উদ্দেশ্যে। এখন আমি তাঁদের বই পড়ি শুধু পড়তে ভালো লাগে বলে। অবশ্যই আমার লেখায় ম্যাজিক্যাল রিয়ালিজমের অনেক উপাদান আছে। তবে একই সঙ্গে আমি সেগুলো স্থানীয় প্রভাবের সঙ্গে মিশিয়েছি। যেমন মার্শাল আর্টের উপন্যাস, ভৌতিক গল্প এবং পাল্প ফিকশন।

প্রশ্ন :
আপনি সাহিত্যে ‘গ্রোটেস্ক’–এর গুরুত্বের কথা বলেছেন। Beauty Is a Wound–এ গ্রোটেস্ক উপাদান স্পষ্ট—যেমন পশুকামিতা বা মলভক্ষণ।

উত্তর :
গ্রোটেস্কের ব্যবহার ইন্দোনেশীয় লোককথা ও শিল্পের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। আমি মনে করি, এটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এক ধরনের কৌশল। উদাহরণ হিসেবে ওয়ায়াং (পুতুলনাট্য) ধারার গল্পগুলো মহাকাব্যিক। সেখানে চরিত্ররা হয় ব্রাহ্মণ, না হয় ক্ষত্রিয়। কিন্তু ইন্দোনেশীয় ঐতিহ্যে আমাদের আছে সেমার বা পেত্রুকের মতো গ্রোটেস্ক চরিত্র। এরা অভিজাতদের ভারসাম্য রক্ষার জন্য থাকে। এখানে সুন্দর ও কুৎসিতের মধ্যে এক ধরনের ভারসাম্য রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার অন্যান্য লোককথাতেও আমরা এটি দেখি। যেমন সুন্দানিজ লোককথায় সি কবায়ানের গল্প। এই কৌশল সংস্কৃতিকে ও সাহিত্যকে আরও ন্যায্য করে তোলে, যাতে তা শুধু অভিজাতদের সম্পত্তি না হয়ে ওঠে।

প্রশ্ন :
Beauty Is a Wound–এ অন্ধকার উপাদান অনেক, আবার একই সঙ্গে বইটি খুব মজার। এটিও কি ইন্দোনেশীয় বৈশিষ্ট্য?

উত্তর :
হ্যাঁ, এটি আমি ইচ্ছাকৃতভাবেই করেছি। আমি ওয়ায়াং প্রদর্শনী থেকে এই কৌশলটি শিখেছি। ওয়ায়াংয়ে বিষয় সবসময় গুরুগম্ভীর। মহাভারত বা রামায়ণের মতো কাহিনির ব্যাপ্তি সবসময় মহাকাব্যিক। গল্পে নৈতিক বার্তা থাকে। কিন্তু পুতুলনাট্যের শিল্পী সবসময় গল্প বলেন হাসি ও আনন্দের সঙ্গে। এটি আমাকে খুব প্রভাবিত করেছে। আমি চেয়েছি, অন্ধকার ও মহাকাব্যিক একটি গল্প বলতে, যেখানে অনেক নৈতিক প্রশ্ন থাকবে, কিন্তু বলার ভঙ্গি হবে হালকা ও হাস্যরসপূর্ণ।

প্রশ্ন :
আপনি উপন্যাসে হাস্যরস আনতে কথোপকথন ব্যবহার করেন, কিন্তু Beauty Is a Wound–এ সংলাপ খুব বেশি নেই।

উত্তর :
আগে আমার সংলাপ লিখতে খুব সমস্যা হতো। আমার মনে হয়, এর কারণ ইন্দোনেশীয় ভাষা। ইন্দোনেশীয় ভাষা খুবই নতুন। ভাষাটি খুব দ্রুত বদলাচ্ছে। এটি জাভানি, সুন্দানি বা বিদেশি ভাষার প্রভাবে সহজেই রূপ বদলায়। ১৯৮০–এর দশকের উপন্যাস আর এখনকার উপন্যাসের ভাষা একেবারেই আলাদা। কিন্তু ইংরেজিতে একশ বছর আগের উপন্যাস আর এখনকার উপন্যাসে তেমন পার্থক্য নেই। ইন্দোনেশীয় ভাষায় লিখিত ভাষা আর দৈনন্দিন কথ্য ভাষার মধ্যে বিশাল ফারাক রয়েছে। কথ্য ভাষা খুব দ্রুত বদলাচ্ছে। এই কথ্য ভাষাকে সংলাপে লিখে ধরা খুব কঠিন। এটি ইন্দোনেশীয় লেখকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাই এই উপন্যাসে এবং Lelaki Harimau–এ আমি কম সংলাপ ব্যবহার করেছি। তৃতীয় উপন্যাসে গিয়ে আমি ব্যাকরণ নিয়ে খেলতে পেরেছি, যাতে সংলাপ আরও স্বাভাবিক শোনায়।

প্রশ্ন :
আপনার অনুবাদক অ্যানি টাকারের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন? এটি কি তাঁর ব্যাখ্যা?

উত্তর :
আমরা খুব ঘনিষ্ঠ নই, কিন্তু অনুবাদের পুরো সময়জুড়ে আমাদের যোগাযোগ ছিল। শুরুতে তিনি একটি অধ্যায়ের নমুনা পাঠান। আমি দেখি, তিনি আমার অন্ধকার হাস্যরস ধরতে পেরেছেন। প্রথম অধ্যায় দেখার পর আমি তাঁকে কাজ চালিয়ে যেতে দিই। পরে প্রতিটি অধ্যায় শেষ হলে তিনি আমাকে পাঠাতেন। কিছু জায়গায় তিনি সামান্য ভুল বুঝেছিলেন। আমি সেগুলো ঠিক করে দিতাম। মোটের ওপর আমি মনে করি, অ্যানি ইংরেজিতে আমার উপন্যাসটি নতুন করে ‘তৈরি’ করেছেন খুব ভালোভাবে।

প্রশ্ন :
ইন্দোনেশীয় সংস্করণ প্রকাশের ১৩ বছর পেরিয়েছে। এই সময়ে আপনি নিশ্চয়ই বদলেছেন। কিছু বদলাতে ইচ্ছে হয়েছিল?
উত্তর :
না, আমার তেমন ইচ্ছে হয়নি। আমি অতীতে লেখা জিনিসে ফিরে যেতে আগ্রহী নই। এখন লিখলে বইটি অবশ্যই আলাদা হতো। কিন্তু একটি বই তার সময়েরই পণ্য। ২০০২ সালে যা লিখেছি, সেটিকে সেই সময়েই থাকতে দেওয়া জরুরি। অনুবাদ পর্যালোচনার সময় আমি নিজেকে জিজ্ঞেস করেছি—২০০২ সালে আমি এটি লিখে কী বোঝাতে চেয়েছিলাম।

প্রশ্ন :
ইংরেজি ভাষার পাঠকের প্রতিক্রিয়া কি ইন্দোনেশীয় পাঠকের থেকে আলাদা?

উত্তর :
আমি দেখেছি, ইন্দোনেশীয় পাঠকরা বেশি সমালোচনামুখর। কিছু অংশ তাঁদের কাছে খুব অশ্লীল লেগেছে। অনুবাদটি মূল লেখার প্রতি খুবই বিশ্বস্ত হলেও, ইংরেজিতে সেই দৃশ্যগুলো ইন্দোনেশীয় ভাষার মতো অশ্লীল শোনায় না।

প্রশ্ন :
আপনি সমসাময়িক কোন লেখকদের প্রশংসা করেন বা সুপারিশ করেন?

উত্তর :
ইন্দোনেশিয়ায় অনেক দারুণ লেখক আছেন। যেমন গুনাওয়ান মারিয়ান্টো, ইন্তান পারামাদিথা, উগোরান প্রসাদ, এবং আচেহ অঞ্চলের লেখক আজহারি। তাঁরা সবাই খুব প্রতিভাবান। তাঁরা খুব নতুন ও আকর্ষণীয় কাজ করছেন। ইন্দোনেশিয়ায় তাঁরা জনপ্রিয়, কিন্তু দেশের বাইরে ততটা পরিচিত নন।

প্রশ্ন :
বিশ্বসাহিত্যে ইন্দোনেশীয় সাহিত্য কেন এত কম প্রতিনিধিত্ব পায়?

উত্তর :
আমার মনে হয়, এর দুটি কারণ আছে। প্রথম কারণ ভাষাগত। ইন্দোনেশীয় ভাষা খুবই নতুন। ১৯৪৫ সালে এটি রাষ্ট্রভাষা হয়েছে। বাহাসা ইন্দোনেশিয়া বা বাহাসা মালয় ভাষায় লেখা সাহিত্য একশ বছরের বেশি পুরোনো নয়। দ্বিতীয় কারণ সামাজিক ও রাজনৈতিক। ১৯৬৫ সালে অসংখ্য বুদ্ধিজীবী নিহত বা কারাবন্দি হন। এর ফলে সাহিত্যের বড় ক্ষতি হয়। তার আগে চেয়ারিল আনোয়ার বা প্রামোদ্যা অনন্ত তোয়ের মতো প্রতিভাবান লেখক ছিলেন।

প্রশ্ন :
আর ইন্দোনেশীয়রা বড় পাঠক হিসেবে পরিচিত নন। বছরে ৩০,০০০–৫০,০০০ কপি বিক্রি হলে একটি বই বেস্টসেলার ধরা হয়।

উত্তর :
এটি অবশ্যই প্রভাব ফেলে। সাক্ষরতার হার ৯৩ শতাংশের বেশি হলেও মানুষ বই পড়ে না। সংস্কৃতিগতভাবে আমাদের আরও পড়তে উৎসাহ দরকার। একই সঙ্গে অবকাঠামোও প্রয়োজন। বইয়ের দোকান ও লাইব্রেরি মূল শহরেই সীমাবদ্ধ। জাকার্তায় অনেক বইয়ের দোকান আছে, কিন্তু শহরের বাইরে গেলেই কিছুই নেই। সুকাবুমির মতো জায়গায় কোনো বইয়ের দোকান নেই, এমনকি লাইব্রেরিও নেই। আমার বিশ্বাস, আগ্রহ আছে। মানুষ গণবিনোদনের উপন্যাস পড়তে চায়। কিন্তু বইয়ের দোকান বা লাইব্রেরি না থাকলে পড়া সম্ভব হয় না।

প্রশ্ন :
আপনি তাসিকমালায়া নামের একটি ছোট শহর থেকে এসেছেন। সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ কীভাবে তৈরি হলো?
উত্তর :
আমি ঠিক জানি না, আমার আগ্রহ কীভাবে শুরু হয়েছিল। আমি তাসিকমালায়ায় থাকতাম, পরে আরও ছোট শহর পাঙ্গানদারানে থাকি। সেখানে প্রায় কোনো বইই ছিল না। একটি ছোট পাঠাগার ছিল। সেখানে মার্শাল আর্ট, ভৌতিক গল্প, প্রেমের উপন্যাসের মতো গণবিনোদনের বই পাওয়া যেত। এসব বই পড়তে গিয়ে ধরা পড়লে শিক্ষকরা বকতেন। অনুবাদ থাকলে সাধারণত বারবারা কার্টল্যান্ড বা নিক কার্টারের গোয়েন্দা কাহিনি থাকত। এগুলোর কোনো নৈতিক বা শিক্ষামূল্য নেই বলে ধরা হতো। আমি সেগুলো পড়তাম, কারণ আমি পড়তে ভালোবাসতাম। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যোগ্যাকার্তায় গিয়ে লাইব্রেরিতে তথাকথিত ‘গুরুত্বপূর্ণ’ লেখকদের বই পড়ি। শুরুতে আমি বুঝতেই পারিনি যে আমি বিশ্বসাহিত্যের ক্যানন পড়ছি। আমি শুধু পড়েছি এবং ভালোবেসেছি। পরে সাহিত্য-জানা বন্ধুদের সঙ্গে পরিচয় হয়ে আমি একটু অবাক হই। ছাত্রজীবনে আমি বন্ধুদের কাছ থেকে, লাইব্রেরি থেকে শিখেছি। ধীরে ধীরে বিশ্বসাহিত্যের মানচিত্রটি বুঝতে শিখেছি।

প্রশ্ন :
আপনি কীভাবে এবং কেন কথাসাহিত্য লিখতে শুরু করলেন? আপনার লেখার রুটিন কেমন?

উত্তর :
প্রথমত, বিষয়টি ছিল নিছক মজা। আমি কিশোর বয়সে কিছু গল্প পড়ি। তারপর আমি নিজের মতো করে গল্প লেখার চেষ্টা করি। আমি সেই গল্পগুলো কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে ভাগ করে নিই। বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনশাস্ত্র পড়ার সময় পড়াশোনায় মাঝে মাঝে বিরক্ত লাগত। তখন আমি ক্লাস ফাঁকি দিয়ে লাইব্রেরিতে যেতাম এবং প্রচুর ক্লাসিক উপন্যাস পড়তাম।

এরপর আমি নুট হামসুনের Hunger বইটি পাই। বইটি পড়ার পর আমার মনে হয়, আমি একজন লেখক হতে চাই। তখন থেকেই আমি সিরিয়াসভাবে গল্প লেখা শুরু করি।

আমার লেখার রুটিন? আমি প্রতিদিন লিখি না। আমি সবসময়ই মনে করি, আমি একজন লেখকের চেয়ে বেশি একজন পাঠক। আমি প্রতিদিন যেকোনো কিছু পড়ি। আমি তখনই কিছু লিখি, যখন আমার লিখতে ইচ্ছে করে।

প্রশ্ন :
কোন লেখকেরা আপনাকে প্রভাবিত করেছেন?

উত্তর :
আমি আগেই বলেছি, নুট হামসুন। তাঁর নির্লিপ্ত রসবোধ এবং চরিত্র আবিষ্কারের ভঙ্গি আমি খুব ভালোবাসি। এরপর আছেন তিনজন মহান ইন্দোনেশীয় ঔপন্যাসিক—প্রামোদ্যা অনন্ত তোয়ের, আবদুল্লাহ হারাহাপ এবং আসমারামান এস খো পিং হু। শেষের দু’জন মূলত জনরাভিত্তিক লেখক। তাঁরা ভৌতিক ও মার্শাল আর্টধর্মী উপন্যাস লিখতেন। আমি চাইলে প্রভাবশালী লেখকদের একটি খুব দীর্ঘ তালিকা করতে পারি। তবে এখানে আমি আরও তিনজনের নাম যোগ করতে চাই—মিগেল দে সেরভান্তেস, হারমান মেলভিল এবং ফিওদর দস্তয়েভস্কি।

প্রশ্ন :
আপনার গল্প বলার ভঙ্গি এতটাই দৃশ্যমান যে অনেক সময় তা নাট্য মঞ্চে কিছু দেখার মতো শারীরিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। লেখার সময় পাঠকের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আপনি কতটা সচেতন থাকেন?

উত্তর :
আমি পাঠকের কথা খুব সচেতনভাবেই ভাবি। তবে সেই পাঠক আসলে আমি নিজেই। আমি যখন কিছু লিখি, তখন একই সঙ্গে নিজেকে একজন পাঠক হিসেবেও সেখানে বসাই।

প্রশ্ন :
‘ম্যাজিক্যাল রিয়ালিজম’ এবং ‘ঐতিহাসিক উপন্যাস’—এই দুইভাবে আপনার বইগুলোকে বর্ণনা করা হয়। আপনি নিজে আপনার গল্প বলার এই বিশেষ ধরনকে কী নামে পরিচিত করতে চান?

উত্তর :
আমি এ নিয়ে কখনো ভাবি না। মানুষ চাইলে আমাকে যেকোনো লেবেল দিতে পারে। কিন্তু সত্যি বলতে গেলে, আমার উপন্যাসে শুধু ঐতিহাসিক বা জাদুকরী উপাদানই নেই। সেখানে আছে রোমান্স, সাগা, লড়াই, ভৌতিকতা, অ্যাডভেঞ্চার, এমনকি রাজনৈতিক ও সামাজিক সমালোচনাও। আমি নিজেকে একজন অভিযাত্রী হিসেবে দেখতে পছন্দ করি। আর আমার মানচিত্র হলো সাহিত্যের সব ঐতিহ্য।

প্রশ্ন :
আপনার গল্পগুলোতে মৌখিক গল্প বলার ধারার ওপর অনেকটাই ভর করা হয়েছে। এই কাঠামো আপনাকে বিবরণ বাড়াতে, পুনরাবৃত্তি করতে এবং অতিলৌকিক উপাদান ঢোকাতে স্বাধীনতা দেয়।

উত্তর :
এটি আসলে এড়ানো সম্ভব নয়। আমি ছোটবেলায় গ্রামের একজন গল্পকারের মুখে গল্প শুনে বড় হয়েছি। এরপর রেডিওতে নাটক হতো, সেগুলোও একজন নির্দিষ্ট গল্পকার বলতেন। আমি এই সব গল্পে ভীষণভাবে মুগ্ধ ছিলাম। বিশেষ করে তখন আমি খুব অল্প বই পড়েছি। সেই গল্পগুলো সাধারণত গ্রাম্য কিংবদন্তি নিয়ে হতো। সেখানে থাকত দানব, জিন, সুন্দরী নারী আর সাহসী পুরুষ। এই গল্পগুলোর অনেকটাই আমি পরে আমার উপন্যাসে নতুন করে বলেছি। এর মধ্যে আছে সেই রাজকন্যার গল্প, যে একটি কুকুরকে বিয়ে করেছিল।

প্রশ্ন :
আপনার গল্পে যৌন সহিংসতার অনেক নিষ্ঠুর দিক উঠে আসে। কেন?

উত্তর :
প্রথমত, আপনি যদি ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাস দেখেন—বা বলা যায়, বিশ্বের ইতিহাস দেখেন—তাহলে এই ধরনের সহিংসতার মুখোমুখি না হয়ে উপায় নেই। এই সহিংসতা যৌন, শারীরিক, মানসিক বা রাজনৈতিক—যেকোনো রকম হতে পারে। 

দ্বিতীয়ত, আমি আমার প্রথম উপন্যাস লিখি সুহার্তোর স্বৈরতন্ত্র পতনের মাত্র দুই বছর পরে। তখন সময় ছিল আরও সাহসী হয়ে লেখার। আমাদের ইতিহাসের সব ক্ষত খুলে দেখার এবং তার মুখোমুখি হওয়ার সময় ছিল সেটা। 

তৃতীয়ত, আমি বরাবরই এক ধরনের ‘যেমন আছে তেমন’ ভঙ্গিতে লিখেছি। আমি কিছু লুকোতে চাইনি।

প্রশ্ন :
আপনি নারীর অনুভূতি ও দৃষ্টিভঙ্গি এত সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরেন যে অনেক সময় আপনার লেখা নারীবাদী বলে মনে হয়। অথচ গল্পের গতিপথে পুরুষ দৃষ্টিও প্রবল। এটি কি সচেতন সিদ্ধান্ত?

উত্তর :
হ্যাঁ, এটি সচেতন সিদ্ধান্ত ছিল। আসলে আমার প্রথম দুটি উপন্যাস কিছু নারীর দ্বারা অনুপ্রাণিত। সেই নারীরাই আমার উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দু। আমি চেষ্টা করেছি তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নিজেকে স্থাপন করতে। একজন লেখক হিসেবে আমার কাছে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ—তাঁরা কী অনুভব করেন, তাঁরা চারপাশের পৃথিবীকে কীভাবে দেখেন, এবং কোনো ঘটনার প্রতি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানান—এসব জানা।

প্রশ্ন :
Man Tiger এবং Beauty is a Wound–এ শক্তিশালী নারী চরিত্ররা এমন সিদ্ধান্ত নেয়, যেগুলো অনুসরণ করার পর সমাজ তাদের ‘পাগল’ বলে দাগিয়ে দেয়। আপনি কেন এবং কীভাবে এই নারী চরিত্রগুলো তৈরি করলেন?

উত্তর :
আমার মনে হয়, তারা আমার সামনে এমনিতেই হাজির হয়েছিল। এই দুই চরিত্র একে অপরের থেকে খুব আলাদা। তারা শক্ত, অনমনীয়, কিন্তু তাদের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন। আমি কখনো পরিকল্পনা করে গল্প লিখি না। সাধারণত আমার কাছে খুব ছোট একটি ধারণা থাকে। আমি সেটিকে ধীরে ধীরে বিকশিত করি। চরিত্ররা একে একে বেরিয়ে আসে। আমি গল্পটি বহুবার নতুন করে লিখি। শেষে এই দুই নারীসহ সব চরিত্রই আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং তাদের নিজস্ব ব্যক্তিত্ব তৈরি হয়।

প্রশ্ন :
Beauty is a Wound–এর দেবী আয়ু বলে, ‘সবচেয়ে ভালো গল্পগুলো ধর্মীয় গ্রন্থে আছে।’ আপনার গল্পে হিন্দু মহাকাব্য, বাইবেল ও কোরানের গল্প বলার উপাদান দেখা যায়। এই গল্পগুলো আপনাকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে? ধর্মনিরপেক্ষ সাহিত্যে জনপ্রিয় ধর্মীয় কাহিনি ব্যবহার করতে গিয়ে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ আসে?

উত্তর :
আমার দাদি আমাকে কোরানের গল্প শোনাতেন। আমার বাবা আমাকে কোরান পড়তে শিখিয়েছিলেন। তাই এই গল্পগুলোর সঙ্গে আমি খুব পরিচিত। বাইবেলের গল্পও আমি পরে পড়েছি। সেগুলোর সঙ্গেও আমার পরিচয় আছে। আমি হিন্দু মহাকাব্যগুলোর সঙ্গে পরিচিত হই ওয়ায়াং বা পুতুলনাট্যের মাধ্যমে। সেখানে সাধারণত মহাভারত বা রামায়ণের কাহিনি ব্যবহৃত হতো।

চ্যালেঞ্জ আসে এই কারণে যে এই গল্পগুলো অত্যন্ত জনপ্রিয়। বহু লেখক ও গল্পকার এগুলো বারবার বলেছেন। আমি কেবল তাদের মৌলিক ধারণাগুলো নিয়েছি। তারপর সেগুলোকে আমার নিজের গল্পে নতুন করে বলেছি। সেই গল্পগুলোর সঙ্গে ধর্মীয় দিকের সরাসরি সম্পর্ক নেই। তবে তাদের সঙ্গে এক ধরনের সমান্তরাল ইঙ্গিত রয়ে গেছে।

প্রশ্ন :
ইংরেজি অনুবাদগুলো কি মূল বাহাসা লেখার প্রতি বিশ্বস্ত? অ্যানি টাকার ও লাবোদালিহ সেম্বিরিংয়ের সঙ্গে আপনি কতটা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন? আর দুটি বইয়ের জন্য আলাদা অনুবাদক বেছে নেওয়ার কারণ কী? সাধারণত লেখক ও অনুবাদক দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

উত্তর :
প্রায় পুরোপুরি বিশ্বস্ত বলা যায়। আমি অনুবাদকদের সঙ্গে খুব কাছাকাছি কাজ করেছি। আমরা মূল লেখাকে যতটা সম্ভব সঠিকভাবে ইংরেজিতে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। অবশ্য ব্যাকরণ ও শব্দের সূক্ষ্ম অর্থ নিয়ে কিছু সমস্যা হয়েছে। কারণ ইন্দোনেশীয় ও ইংরেজি ভাষা একেবারেই আলাদা। আমরা এসব নিয়ে অনেক আলোচনা করেছি। দুটি বই দুটি ভিন্ন প্রকাশক কিনেছিল। Verso এবং আমি অনেক অনুবাদক চেষ্টা করার পর Man Tiger–এর জন্য লাবোদালিহকে বেছে নিই। একই সময়ে অ্যানি টাকার Beauty is a Wound অনুবাদের প্রস্তাব দেন। পরে সেটি New Directions প্রকাশ করে। এ কারণেই আমার দুইজন অনুবাদক।

প্রশ্ন :
আপনার উপন্যাসগুলো প্রথম প্রকাশের অনেক পরে ইংরেজিতে আসে। ২০১৫ সালের ফ্রাঙ্কফুর্ট বুক ফেয়ারে ইন্দোনেশিয়া সম্মানিত অতিথি হওয়া কি সমসাময়িক ইন্দোনেশীয় লেখকদের আবিষ্কার ও ইংরেজিভাষী বিশ্বের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে বলে আপনি মনে করেন?

উত্তর :
সত্যি বলতে কী, ২০১৫ সালের ফ্রাঙ্কফুর্ট বুক ফেয়ারের আগে আমি এ বিষয়ে কিছুই জানতাম না। আমার বইগুলোর ইংরেজি অনুবাদ ওই বছর প্রকাশিত হয়। কিন্তু আমরা সেগুলোর প্রস্তুতি নিয়েছিলাম ২০১২ সালেই। তবে ২০১৫ সালে সম্মানিত অতিথি হওয়ায় অবশ্যই আমাদের সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হয়। আমার বইসহ অনেক ইন্দোনেশীয় লেখা নতুন করে নজরে আসে। প্রকাশকেরা ইন্দোনেশীয় সাহিত্য নিয়ে ভাবতে শুরু করেন।

প্রশ্ন :
দেশে বা প্রবাসে থাকা কোন ইন্দোনেশীয় লেখকদের আপনি আন্তর্জাতিক পাঠকের জন্য সুপারিশ করবেন?
উত্তর :
অবশ্যই প্রামোদ্যা অনন্ত তোয়ের। আর সানো গুমিরা আজিদার্মা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ