রেলস্টেশনে এলে কনকনে শীতের মতো পুরনো স্মৃতিভার আচ্ছন্ন করে নেয়ামত আলিকে। এই এখন যেমন, মেয়ের শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যাবেন বলে দুপুরের ট্রেনের জন্য বসে আছেন রাজশাহী রেলস্টেশনে। ট্রেন ছাড়তে ঢের দেরি। আধঘণ্টা সময় হাতে নিয়ে বেরিয়েছিলেন, কিন্তু দশ মিনিটেই স্টেশনে পৌঁছে গেছেন। তিনি অপেক্ষা করছেন। সকালে বাসাতেই খবরের কাগজ পড়েছেন, তবু সময় কাটাতে একটা দৈনিক পত্রিকা কিনলেন; বাইরের খাবার পছন্দ করেন না, তাও স্টেশনের ভ্রাম্যমাণ হকারের কাছে চা খেলেন। সময় তবু কাটতেই চায় না।
নেয়ামত আলির বয়স সাতান্ন। লম্বা নির্মেদ শরীর, চুলে সামান্য পাক ধরলেও টাকের আভাস নেই। দাড়ি প্রায় সবই পেকে গেছে, তবে তিনি নিয়মিত শেভ করেন। রোজ শেভ করলে না পেকে উপায় কী। ঠোঁটের উপর ছোট করে ছাঁটা তীক্ষè গোঁফ; এখনো বুড়ো হয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়নি। চলতি বছরের শুরুতে সরকারি চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছেন। শহরের উপকণ্ঠে তাঁর নিজস্ব ছোট বাড়ি। খুব বেশি দরকার না হলে শহর ছেড়ে তিনি বের হন না।
বিশালায়তনের যে স্টেশনে তিনি বসে আছেন, এর বয়স বেশি নয়। বছর কয়েক আগেও এখানে ব্রিটিশ আমলের ছোট্ট টিনের ঘরের স্টেশন ছিল। যাত্রীদের দাঁড়ানো ও বসার মতো ভালো পরিসরও ছিল না। এখন দৃশ্যপট আমূল বদলে গেছে। ঢাকার কমলাপুরের পর, এটাই হয়ত বাংলাদেশের সুদৃশ্য ও বড় রেলস্টেশন। ঝকঝকে বিশাল স্টেশনে দাঁড়িয়েও হারিয়ে যাওয়া স্টেশনটির কথা ভুলতে পারেন না নেয়ামত আলি। ওই স্টেশন থেকেই তিনি প্রথম ট্রেনে করে বেড়াতে গিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী লতিফার সঙ্গে। সেই কতকাল আগের কথা, আজো মনে গেঁথে আছে।
জামাই, নাতি ও মেয়ে কদিন ধরেই বায়না করছে, বাবা, নীলফামারি এসে কদিন বেড়িয়ে যাও। কাজের চাপ বা সময় নেই; তা নয়। মন সায় দিচ্ছিল না। নেয়ামত এবার অবশ্য নিজেই সিদ্ধান্ত নিলেন, ঘুরে আসবেন।
শীতঋতুতে বড় কষ্ট হয় নেয়ামত আলির। বয়স বাড়ছে; তিনি টের পান। তবু কী এক অজানা কারণে শীতকালই তাঁর ভালোলাগে। রাজশাহীতে কয়েকদিন ধরে জাঁকিয়ে শীত পড়েছে। আজ ভোর থেকেই কুয়াশা। সূর্যের দেখা নেই। নেয়ামত উলের টুপিটা মাথায় ভালো করে পরে নিলেন।
এই সময় স্টেশনে অপেক্ষারত যাত্রীদের মাঝে চাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেল। ট্রেন হয়ত এসে গেছে। দুপুরের ট্রেনে ভিড় একটু কম। কিন্তু এমন নয় যে, আসন ফাঁকা রয়েছে। অন্যদিনের মতো ট্রেনের ভেতরে প্রচুর লোকের দাঁড়িয়ে থাকা, হকারের উৎপাত, বাচ্চাকাচ্চার চিৎকার; এসব নেই।
ট্রেনে, দূরের যাত্রায় অচেনা লোকের সঙ্গে দরকারি কথার বাইরে আলাপ করতে তিনি পছন্দ করেন না। আজ তেমন মানুষও দেখছেন না যে আলাপ করতে চায় বা তিনি নিজেই কথা বলবেন। তাঁর পাশেই একজন বয়ষ্ক বৃদ্ধ বসেছেন। সামনের সিটে বোরকা পরা নারী ও একজন মেয়ে। তরুণী বলাই ভালো। শ্যামলা ও সাধারণ। তবে মেয়েটা লাবণ্যময়ী সন্দেহ নেই। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার, কোনোদিকে সে তাকায় না। কথা বলে না। কাউকে ভ্রুক্ষেপই করে না; এমনই তার ভাব ও গাম্ভীর্য।
জানালা থেকে চোখ সরিয়ে নেয়ামত আলি একবার চোরাচোখে মেয়েটির দিকে তাকালেন। একমনে সে কী একটা বই পড়ছে। ব্যাপারটা তাঁকে কৌতূহলী করলো। একসময় তিনিও বই পড়তে পছন্দ করতেন।
কী বই পড়ছে মেয়েটা? বোঝা যায় না। বইয়ের কোনো মলাট চোখে পড়ে না। কভার খুলে রাখা হয়েছে বা হারিয়ে গেছে।
ঘড়িতে সময় টাটকা দুপুরের, কিন্তু কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকালের আবহ চারপাশে। ট্রেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পেরিয়ে ছুটে চলেছে। এরপর ফাঁকা মাঠ। মাঠ পেরোনোর সময় জানালার বাম পাশে বসা নেয়ামত আলি দেখতে পেলেন, খেজুরের রস সংগ্রহ করতে গাছ কেটে প্রস্তুত করছে এক গাছি। এমনিতে কনকনে শীত, এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কুয়াশা। গ্রামীণ মাঠে সরষে ক্ষেতে ফিঙ্গে আর দুএকটা সাদা বকের ওড়াউড়ি দেখলেন। মাঠে ক্ষেতভরা সরষে ফুলের হাসি। রাস্তার পাশে বিরান ক্ষেতে গরু-ছাগল-ভেড়ার পাল জবুথবু হয়ে আছে। সরষে খেতের পাশ দিয়ে এঁকেবেঁকে চলে গেছে কাঁচামাটির রাস্তা। এমন দৃশ্যে তাঁর চোখ জুড়িয়ে যায়।
বাইরের দৃশ্য দেখতে দেখতে ঝিমুনির মতো আসে। সামনের আসনের মেয়েটিকে তিনি আবার দেখেন। মেয়েটা মনে হয় খুব বইপড়ুয়া। কোনোদিকে নজর নেই; একটিবারও সে জানালার ওপাশে তাকানোর আগ্রহ দেখায় না, চারপাশের মানুষের দিকে তো নয়ই। একবার দুবার চোখ তুলে এদিক ওদিক তাকিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সারাক্ষণই সে বইয়ের পাতায় মুখ গুজে বসে রয়েছে।
বয়স চলে গেছে বলে আগ বাড়িয়ে কথা বলতে পারেন না নেয়ামত আলি। এটা তাঁর স্বভাব বিরুদ্ধ আড়ষ্টতা। হয়ত দ্বিধা। কিন্তু কী জানি কেন তার মন উসখুস করে।
মেয়েটার হাতের বইটি কোনো ফিকশনের বই নয়; কল্পনায় ভাবেন নেয়ামত আলি। গল্প উপন্যাস বা থ্রিলার ধরনের বই হলে পাঠের প্রতিক্রিয়া মেয়েটির চোখেমুখে ফুটে উঠতো। তাহলে কি কঠিন কোনো বিজ্ঞানের বই? আলাপ করার ছলে তিনি এসব শুধানোর কথা ভাবেন। কিন্তু নিজের ব্যক্তিত্ব ও গাম্ভীর্য উৎরে গিয়ে আর শুধাতে পারেন না।
নাটোর স্টেশনে ঢোকার আগে ট্রেনের গতি শ্লথ হয়ে আসে। নিয়ামত আলি সাবধানে জানালাটা খোলেন। হুড়মুড় করে বাতাস ঢুকে পড়ে। শীতের দুপুরেও কনকনে বাতাসে টেকা দায়। ট্রেন ছাড়ার পর, তিনি মাথার টুপিটা খুলে রেখেছিলেন; আবার পরে নিলেন।
বিরতির পর ট্রেন ছুটে চলেছে।
নেয়ামত আলি যাবেন নীলফামারিতে। তিনি যে স্টেশনে নামবেন, সেখান থেকে মেয়ের বাড়ি অল্প একটু পথ। হেঁটেই যাওয়া যায়; রিকসা ভাড়া ছটাকা। সামনে আবার কোনো স্টেশন এসে পড়েছে। ধীরে ধীরে ট্রেনের গতি মন্থর হয়ে আসে।
এরমধ্যে মেয়েটি একবারও তাকায় না। কারো সঙ্গে কথা বলে না। একবার শুধু সাইড ব্যাগ খুলে জলের বোতল বের করলো। এক ঢোক জল খেয়ে আবার বোতলটা রেখে দিল।
বাপরে বাপ; মেয়ে তো নয়, যেন রোবট। মুখ চেপে কথাটা বলেই দূরে চোখ রাখেন নেয়ামত। এমন অল্পবয়েসী নির্মোহ চোখের গম্ভীর মেয়ে তিনি কখনো দেখেননি।
কিছুক্ষণ পর, স্বাভাবিক মন নিয়ে আর একবার যখন মেয়েটিকে দেখেন, স্বস্তিই পান নেয়ামত। এই ভেবে যে, এখনকার ছেলেমেয়েরা একরকম একা ও বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করে। হাতে একটা এন্ড্রয়েড ফোন থাকলে জগতের আর কিছুই যেন চাওয়ার থাকে না। এই সময়েও স্মার্ট ও আধুনিক মেয়েটি বই পড়ছে; অটিস্টিক বাচ্চার মতো গেম খেলছে না। জেদ করে কাউকে কামড়ে দিতে আসছে না। এটা তো চোখ শীতল করা সুন্দরতম কোনো দৃশ্য।
কেউ একজন বলল, আচ্ছা, এটা কি আত্রাই নদী?
নদী দেখার জন্য তিনি বাইরে চোখ রাখেন। তখন বিকেল ফুরিয়ে গেছে। গোধূলি নামছে। নদীতে তার ছায়া পড়েছে। মাছের ঘেরের পাড়ে বসে আছে একটা ছোট্ট মেয়ে। দেখে মনে হয়, স্নিগ্ধ ও স্থির এক ছায়ামূর্তি। সে কারো জন্য অপেক্ষা করছে। একজীবনে মানুষ কতভাবে যে অপেক্ষা করে... ভাবতে গিয়ে তাঁর বুক চিরে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে।
সান্তাহার স্টেশনে এসে ট্রেন বেশ খানিকটা বিরতি দেয়। একটু চা খাওয়ার ইচ্ছে হয় নেয়ামত আলির। জানালা খুলে এদিক ওদিক তাকিয়ে ভ্রাম্যমাণ কোনো চা-ওয়ালাকে খোঁজেন।
এমন সময় চোখে পড়ে, স্টেশন মাস্টারের লালঘরের পাশ দিয়ে যে চিকন পরিসর, সেখানে গায়ে গা জড়িয়ে নিশ্চিন্ত নির্ভার ভঙিতে শুয়ে আছে দুটো বিড়াল। শীতে পরস্পর জড়াজড়ি করে ওম নিচ্ছে। দৃশ্যটা দেখে তাঁর এত ভালোলাগে, মনে হয় এ যেন অপার্থিব কোনো ছবি।
সরকারি দলের কোনো সমাবেশ আছে হয়ত আশেপাশে। অনুষ্ঠান উপলক্ষে দেয়ালে দেয়ালে শোভা পাচ্ছে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পোস্টার; পোস্টারের নিচে স্থানীয় নেতার ঝকঝকে বড় ছবি।
তীব্র শীতে এই এলাকার মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। মানুষের চলাফেরার ভঙ্গি দেখেই তা বোঝা যায়। তবু ঘর থেকে না বের হয়ে যেহেতু উপায় নেই ‘দিন এনে দিন খাওয়া’ মানুষের; তাই ঘর ছেড়ে বেরুতে হয়। দিনভর রিকশা চালিয়ে ক্লান্ত এক চালক কম্বল মুড়ি দিয়ে রিকসার ওপরেই চুপটি করে শুয়ে আছে। পাশেই শীতের গরম পোশাক দেদার বেচাকেনা চলছে। কেউ কিনছে। কেউ দাম শুনেই মুখ বেজার করে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে।
...দৃশ্যগুলো দেখে তাঁর বুকটা ভারি হয়ে আসে।
অল্পবয়সী এক হকার বাদাম নিয়ে এলো। একজন কুষ্টিয়ার তিলের খাজা নেওয়ার জন্য বারবার খাজার গুণকীর্তন করলো। তিনি মাথা দুলিয়ে চোখ সরিয়ে নিলেন।
নেয়ামত সকালে খবরের কাগজে পড়েছিলেন, সন্ধ্যা নামতে না নামতেই শুরু হওয়া ঘন কুয়াশা এবং দুপুর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকার খবর। আজ কুয়াশার সঙ্গে বয়ে যাওয়া হিমেল হাওয়ায় জেঁকে বসেছে শীত। একটা মুশকিল হচ্ছে, বাংলাদেশের উত্তরের জেলাগুলোতে শীতের আগমন ঘটে আগে এবং বিদায়ও ঘটে অনেক পরে। উত্তরাঞ্চলের আরো উত্তরের বিখ্যাত শীতের দেখা তিনি অনেকদিন পরে পেলেন।
আচমকা যেন মগ্নতা ভাঙে মেয়েটির। খুব তাড়াহুড়ো করে সে তার ব্যাগ গুছিয়ে উঠে দাঁড়ায়। ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার আগে আগে শুধু এক মুহূর্তের জন্য, কী যেন কী ভেবে নেয়ামত আলির চোখে তাকিয়ে রহস্যময় হাসি হাসে। খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যাপারটি ঘটে যায়। মেয়েটি কিছু একটা বলতে গিয়েও বলে না। হেসে ফেলে। ওইটুকুই। এরপর একবারও সে পেছন ফিরে আর তাকায় না।
জানালা থেকে চোখ ফিরিয়ে নেয়ামত প্রায় বলেই ফেলেছিলেন, সে কী! নেমে যাচ্ছেন?
জিজ্ঞেস করা হয় না।
মেয়েটিও কিছু বলে না। দ্রুত পায়ে সে তার গন্তব্যে নেমে যায়।
সন্ধ্যা নেমেছে। ট্রেনের কামরার ভেতরে কোথাও হয়ত জানালা খোলা আছে। হাওয়া ঢুকছে ভেতরে। সন্ধ্যার কনকনে বাতাসে টেকা দায়। জানালার পাশে সিট হওয়ায় বেশ সুবিধে হয়েছে। কিন্তু জানালা খোলা ও বন্ধ করার স্বাধীনতা থাকলেও এরপর আর জানালা খোলার সাহস করেন না নেয়ামত আলি।
একটু পরে ট্রেন ছেড়ে দিলে মেয়েটির ফেলে যাওয়া আসনে ইয়া মোটা ধরনের এক ভদ্রমহিলা এসে বসে। নেয়ামত আবারও বাইরে চোখ রেখে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন।
জিনিসটা হঠাৎই চোখে পড়ে নেয়ামতের। এমন তুচ্ছ বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়ার গুরুত্ব নেই; তবু মনের ভেতর খচখচ করে এবং তাঁর ধারণাটা সত্যি হয়।
ট্রেন থেকে নামার সময় ভুল করে মেয়েটা রুমাল ফেলে গিয়েছে। রুমালের নিচে একটি বই, যে বইটি সে পড়ছিল। পরের স্টেশনে আরো কিছু যাত্রী নেমে যায়। মোটা মহিলাটিও নেমে যায়। কিছু নতুন যাত্রী ওঠে।
অনিচ্ছুকভাবে নেয়ামত বইটি হাতে তুলে নেন। চোখ বুলাতে থাকেন।
বইয়ের প্রচ্ছদ বা কোনো মলাট নেই। ভেতরের পাতায় চোখ বুলিয়ে তিনি দেখতে পান, বইটির লেখক জীবনানন্দ দাশ। আরে, এই লোকের কিছু কবিতা তো তিনি পড়েছেন। মনে মনে বলেন নেয়ামত। সেসব অবশ্য অনেক আগের কথা।
নেয়ামত বইয়ের ভেতরে প্রবেশ করেন। তাঁর হাতে ধরা এই বইটি ‘রূপসী বাংলা’ নামের একটি কবিতার বই। অতি পুরাতন সংস্করণ, কিন্তু লেখাগুলো স্পষ্ট। বহুদিন আগের ছাপা, কলকাতার সিগনেট প্রেস থেকে।
একটা সময়ে এই কবির কথা তিনি খুব শুনেছেন। সেটা নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়। এখন নেয়ামতের জীবন ও জগত বদলে গেছে। এসব খবরও আর রাখেন না।
কিন্তু একটা ব্যাপার তাঁকে খুব আশ্চর্য করে। তিনি শুনেছিলেন, নির্জন ও দূরূহ চরিত্রের মানুষ ছিলেন জীবনানন্দ। মারা যাওয়ার আগে তাঁর অত পাঠকও ছিল না। মারা যাওয়ার বহুকাল পরে তাঁর খ্যাতি হয়।
একটা দুটো করে বইটির পাতা উল্টাতে থাকেন নেয়ামত আলি। ট্রেনের আলো অতটা পরিষ্কার নয়, সেই আলোতেই কোলাহলমুখর এই শীতের রাতে কবিতা পড়তে পড়তে তাঁর অদ্ভুত অনুভূতি হয়। বিস্ময় জাগে। তাঁর বিস্ময়ের ঘোর কাটে না। জীবনানন্দর কবিতা পড়ার অবকাশে তাঁর ভেতরে একটা ঘোর তৈরি হয়; ছেলেবেলার কথা চোখে ভাসে; তাঁর প্রথম প্রেম আর গ্রামের কথা মনে আসে। চলন্ত ছবির মতো তিনি যেন সবকিছু দেখতে পান। তাঁর ভেতরে এক ধরনের বিহ্বলতা তৈরি হয়।
চাকরি ও সংসারের পাশাপাশি সারাজীবন তিনি যে কাজটি সবচেয়ে বেশি করেছেন, তা ওই রবীন্দ্রনাথের গান শোনা। বউ মরে গেছে কত বছর আগে। দ্বিতীয় বিয়ের প্রয়োজন অনুভব করলেও তিনি ওমুখে আর পা বাড়াননি। কিন্তু রবিবাবুর গান তাঁকে সময়ে অসময়ে সঙ্গ দিয়েছে। এখন কোনো একটি বিষয়ে লেগে থাকা বা অনুরাগে ভেসে যাওয়া, বিভোর হওয়ার অবকাশ তাঁর নেই। সময় থাকলেও সামর্থে টান পড়ে।
কিন্তু কী আশ্চর্য, জীবনানন্দ দাশের কবিতা, কবিতার শব্দ ও চিত্রকল্পগুলো তাঁর ভেতরে এমন ঘোর তৈরি করে চলে, মনে হয়, কোথাও কোথাও রবিবাবুর গানের চেয়েও জীবনানন্দর কবিতার প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা নিবিড় ও সংবেদী।
নিজেকে বড় অচেনা ও অন্যরকম লাগে নেয়ামত আলির। তাঁর ভেতরে যে এমন ছেলেমানুষী বা অনুভবের গোপন ডালপালা আড়ালে লুকিয়ে ছিল, কখনো সেভাবে টের পাননি।
বুড়ো বয়েসে অল্পবয়েসি একটা মেয়ের সঙ্গে উপযাচক হয়ে কথা বলতে যাওয়াটা বিড়ম্বনা ছাড়া আর কী। তিনি তো প্রত্যাখ্যাতও হতে পারতেন। কী লজ্জা। কী মোহ। কী মায়া। মায়াটা এভাবে যে স্বমহিমায় ঘুরে যেতে পারে, তিনি আন্দাজ করতে পারেননি।
নেয়ামতের নাতি ফোন করে, নানুভাই, তুমি কতদূর?
এই তো নানুভাই, আসছি; বলেই তিনি ফোন রেখে দেন। কিন্তু পরক্ষণেই জীবনবাবুর বইয়ের প্রথম কবিতার শেষ স্তবকে তাঁর চোখ থিতু হয় : ‘চারিদিকে শান্ত বাতি¾ভিজে গন্ধ¾মৃদু কলরব;/ খেয়ানৌকাগুলো এসে লেগেছে চরের খুব কাছে।’
আমাদের ট্রেন কখন যে পৌঁছুবে গন্তব্যে? ভাবেন নেয়ামত আলি। কবিতার ভাবের সঙ্গে নিজের যাত্রাপথের সমান্তরালে কিছু একটা মিলও খুঁজে পান।
বরিশালে কোনোকালেই যাননি নেয়ামত আলি। কিন্তু জীবনবাবুর কবিতা পড়তে পড়তে তিনি যেন বরিশাল শহর আর তার মায়াভরা প্রকৃতি এবং সেই অঞ্চলের পথ ঘাট নদীনালা ঘুরে আসেন। বরিশালের লাশকাটা ঘর কুয়াশা সোনালি ডানার চিল শালিক শঙ্খচিল ভোরের কাক; সব চোখের সামনে টেলিভিশনে দেখা ছবির মতো অবলোকন করতে থাকেন। চিল উড়ছে। কুয়াশা। ভোরের কাক ডেকে উঠছে।
নেয়ামত আলি অপার্থিব চেতনায় আচ্ছন্ন হতে হতে আর একটি কবিতা পড়েন:
পৃথিবীর কোনো পথে : নরম ধানের গন্ধ¾কলমীর ঘ্রাণ¾হাঁসের পালক, শর, পুকুরের জল, চাঁদা সরপুটিদের/ মৃদু ঘ্রাণ, কিশোরীর চাল-ধোয়া ভিজে হাত¾শীত হাতখান/ কিশোরের পায়ে-দলা মুথাঘাস...
কবিতা পড়তে পড়তে তিনি ভাবেন, সময় করে একবার তিনি বরিশালে বেড়াতে যাবেন। কবির বাড়ি ও কবিতায় লেখা ফুল পাখি ও প্রকৃতি দেখে আসবেন।
ট্রেন গন্তব্য অভিমুখে ছুটে চলেছে। কনকনে শীতেও মানুষের কথা, রসিকতা ও কোলাহল থেমে নেই। পেছনে ও সামনের দিকে না তাকিয়েও মানুষের কথা ও গুঞ্জন তিনি অনায়াসে বুঝতে পারছেন। আর যথারীতি এসব পরিস্থিতি উপেক্ষা করে নেয়ামত আর একটি কবিতায় চোখ বুলান: ‘দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;/ দেখিব খয়েরী ডানা শালিখের সন্ধ্যায় হিম হয়ে আসে/ধবল রোমের নিচে তাহার হলুদ ঠ্যাং ঘাসে অন্ধকারে/...দেখিব মেয়েলি হাত সকরুণ¾শাদা শাঁখা ধূসর বাতাসে/ শঙ্খের মতো কাঁদে, সন্ধ্যায় দাঁড়াল সে পুকুরের ধারে।’
কবিতার ছবিগুলো তিনি কল্পনায় দেখতে পান। আর সমস্ত দৃশ্যকল্প সাদাকালো ছবি বা চলচ্ছবি হিসেবেই তিনি দেখতে পছন্দ করেন। এবং এখনো তাই দেখছেন।
স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বাজার থেকে একটি সাদাকালো টেলিভিশন কিনেছিলেন সেই কত বছর আগে। স্ত্রী গত হয়েছে বছর দশেক তো হবেই। এর মধ্যে জীবন ও পরিপার্শ্বের কত কিছু বদলে গেছে। খোয়া গেছে। নতুন বোধ ও বিবমিষা সঙ্গী হয়েছে। কিন্তু পুরাতন সাদাকালো টেলিভিশন আর বদল করেননি।
মেয়েটা তার জামাই ও সন্তান নিয়ে বেড়াতে এলে নেয়ামতকে খুব বকাঝকা করে।
বাবা, টিভিটা তো এবার বদলাও।
না, তিনি বদলান না।
প্রকৃতি বা জগতের কোনো সুন্দর দেখে মুগ্ধ হওয়ার মন থাকতে হয়; তা না হলে মানুষের জীবন পানসে, এমনকি ভোঁতা হয়ে আসে। নেয়ামত আলির জীবনের উপর দিয়ে নানা ধরনের ঝড় ও মন্দ সময় বয়ে গেছে। কিন্তু মনের সংবেদনটুকু এখনো খোয়া যেতে দেননি।
ট্রেনে যেতে যেতে নানা রকম টুকরো দৃশ্য তাঁর চোখে পড়ে। কবিতার বই পড়ার প্রভাবে এমন হচ্ছে কি? তিনি বুঝতে পারেন না। তবে এটা ঠিক, এই পথে তিনি বহুবার ট্রেনে চেপে গিয়েছেন। আজকের দেখা ও না দেখা ছবিগুলো যেন একটু অন্যরকম ব্যঞ্জনায় তাঁর অনুভবে ধরা দিয়ে চলেছে। তিনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন, তাঁর জীবনে এ ধরনের ব্যাপার আগে কখনো হয়নি।
বইটা আবারও তিনি চোখের সামনে খুলে ধরেন:
‘অন্ধকারে জেগে উঠে ডুমুরের গাছে/ চেয়ে দেখি ছাতার মতন বড় পাতাটির নিচে ব’সে আছে/ ভোরের দোয়েল পাখি¾চারিদিকে চেয়ে দেখি পল্লবের স্তূপ/ জাম¾বট¾কাঁঠালের¾হিজলের¾অশ্বথের ক’রে আছে চুপ।’
কতকাল আগে কবি কথাগুলো লিখেছেন, তবু মনে হয় যেন খুব সম্প্রতি লেখা। আর কী অবাক শিল্পমাধুরী নিয়ে এগুলো স্বচ্ছ সুন্দর ভঙিতে তাকিয়ে আছে।
নেয়ামত আলির মুঠোফোন আবার বেজে ওঠে।
মেয়ে ফোন করে শুধায়, বাবা, তুমি কোথায়?
এই তো মা, আছি; আসছি। বলেই তিনি ফোন রাখেন।
জীবনানন্দর কবিতা পড়তে পড়তে নেয়ামত আলির চোখ ছোট হয়ে আসে। মুখ ও মাথা নত হয়ে আসে। কারো চরণধুলি নেওয়ার অভিপ্রায়ে মাথা নত হয়, তা নয়। তিনি চোখ দিয়ে বইয়ের কবিতার অক্ষর, শব্দ ও চরণ পড়ছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর মস্তিষ্ক ও মনের ভেতরে অন্য অনুসন্ধিৎসা কাজ করে চলে। তাঁর চোখের সামনে সাদা কাগজের উপর কালো কালিতে ছাপা অক্ষরের সমুদ্র। অক্ষরের এই সমুদ্রে খোলাচোখে কিছুই দেখা যায় না; শব্দ, বাক্য ও কবিতার ছন্দ ছাড়া। তবে সেভাবে অবলোকন করতে পারলে চোখের দেখার মধ্য দিয়েই ছুঁয়ে দেখার অনুভূতি হয়। নেয়ামতও এখন সেই শিল্পমাধুরী গাঢ়ভাবে অনুভব করছেন।
গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই বইটি পড়া শেষ হয়ে যায়। কোনো একটি বই পাঠশেষে কেবল বইটির কাহিনি বা বিষয়বস্তুই হয়ত মনে সাড়া ফেলে। কখনো প্রচ্ছদ ও ছাপার মান মুগ্ধ করে। বই পড়াশেষে ক্লান্তিও নেমে আসে শরীরে। কিন্তু এসবের বাইরে অন্য এক ভালোলাগার বোধ তাঁকে আচ্ছন্ন করে রাখে।
তাঁর হাতে ধরা এই বই, রূপসী বাংলার ভেতরে লেখা কলমির গন্ধ, চালধোয়া বালিকার হাত, ডুমুরের গাছ, ভোরের দোয়েল পাখি... সপ্রাণ ও সত্যি হয়ে তাঁর অন্তরের চোখের ক্যানভাসে ভাসতে থাকে। কল্পনায়, তবুও যেন সুন্দর, বাস্তব আর মায়ামায়।
কোনো একটা স্টেশনে ট্রেন থেমেছে। বাইরে অন্ধকার। অন্ধকার ও কনকনে ঠাণ্ডা। নেয়ামতের ঘুম ঘুম ভাব হয়। এর ভেতরেই তিনি টের পান, ট্রেন ছাড়ছে। আর ট্রেনের চলার গতি আগের চেয়ে দ্রুততর হয়েছে। ঝাপসা মলাটের কবিতার বইটা বুকের সঙ্গে চেপে ধরে তিনি পেছনের সিটে শরীরটা ছেড়ে দেন। অবচেতনে তখন একটা ভাবনা ও অনুসিদ্ধান্ত তাঁর ভেতরে কাজ করে চলে; বরিশালের মায়াভরা প্রকৃতির নির্জনতায় ডুবে থাকা জীবনানন্দ নামের মানুষটির জন্য খুব মায়া হয় নেয়ামতের। তাঁর মনটা কেমন হু হু করে ওঠে। নেয়ামত শুনেছেন, কবির বউ লাবণ্য তাঁকে ভালোবাসতো না। সংসার ও সমাজে তাঁর সমাদর ও স্বীকৃতি ছিল না। ভালো চাকরি ছিল না। ৫৫ বছর বয়সে, একসন্ধ্যায়, ট্রাম দুর্ঘটনায় কবি মারা যান। সেই মানুষটা এত অসামান্য কবিতা লিখতেন? আহা। ...ধীরে ধীরে চোখ বুজে আসে নেয়ামত আলির।
সামনে ট্রেনের লাইন বোধহয় ভালো নয়। লাইনের স্লিপার এঁকেবেঁকে গেছে। হতে পারে ট্রেনের লাইনে পাথর কম। তাই ট্রেনটা কেমন দুলতে থাকে। এরই মধ্যে, ঘুম ও তন্দ্রার ভেতরে তলিয়ে যেতে যেতে নেয়ামত দেখতে পান, তিনি ট্রেন থেকে নামলেন। হাতের ইশারা করতেই একটা রিকসা এসে তাঁর সামনে দাঁড়ায়। রিকসাওয়ালা নির্ভার ভঙিতে হাসে। নেয়ামত রিকসায় উঠে বসেন। কিছুক্ষণ পর, একটা ছোট গেটওয়ালা বাড়ির সামনে তাঁকে বহন করা রিকসাটা এসে থেমে যায়।
রিকসাওয়ালার নাম বিকাশ। সে হাসি মুখে বলে, স্যার, আইসা পড়ছি। নামেন। এটাই হচ্ছে গিয়া আপনের বরিশালের বগুড়া রোড।
শহরের মাঝখানে হলেও এলাকাটা কেমন গ্রামের মতো; চারপাশে প্রচুর গাছপালা, পুকুর, সবজির দোকান, গরুর দুধের চা পাওয়া যায়। মুখ তুলে একটু দূরে তাকিয়ে দেখলেন একটা ফুলের বাগান। বিচিত্র ফুলের গাছ। পাশেই একটা হাসপাতাল। কিছু মানুষ লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরে বসে আছে। সাইকেল চালিয়ে দ্রুতবেগে চলে গেল এক বৃদ্ধ; তাঁর পরনেও লুঙ্গি, কিংবা ধুতি। এক ভদ্রলোক পান খেতে খেতে গল্প করছে, পথের পাশে দাঁড়িয়ে।
নেয়ামত আলি ভাড়া মিটিয়ে দিতেই রিকসাটা টুংটাং শব্দ তুলে চলে যায়।
একটা লোক এগিয়ে আসছে। নেয়ামত হাতঘড়িতে সময় দেখতে গিয়েও চোখ ফিরিয়ে নিলেন। লোকটি জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা, এখানে ‘ধানসিড়ি’ নামের বাড়িটা কোথায়?
লোকটা কোনো কথা বলে না। হাতের ইশারায় বাড়িটা দেখিয়ে দিয়ে হেঁটে চলে যায়।
নেয়ামত একটু লজ্জা পান। ধানসিড়িকে পেছনে ফেলে তিনি রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন, বাড়ির গেটের উপরে স্পষ্ট করে শব্দটি যে লেখা রয়েছে, তিনি খেয়ালই করতে পারেননি।
কাঁধে ঝোলানো ব্যাগের ভেতর থেকে ‘রূপসী বাংলা’ বইটি বের করেন নেয়ামত আলি। শেষবারের মতো তিনি আর একটা কবিতায় চোখ বুলাতে থাকেন: ...আমি চ’লে যাব ব’লে/ চালতাফুল কি আর ভিজিবে না শিশিরের জলে/ নরম গন্ধের ঢেউয়ে? লক্ষ্মীপেঁচা গান গাবে নাকি তার লক্ষ্মীটির তরে? সোনার স্বপ্নের সাধ পৃথিবীতে কবে আর ঝরে!
কী মায়া ও দরদ মিশিয়ে কবিতার কথাগুলো লিখেছেন জীবনানন্দ দাশ; চোখ বন্ধ করে বুক ভরে শ্বাস নিয়ে তা উপলব্ধি করেন নেয়ামত আলি।
একবার বাড়ির ভেতরে উঁকি দেন নেয়ামত, একবার ধানসিড়ি লেখাটা দেখেন; একবার রাস্তার ওপারে চোখ রাখেন।
অত্যন্ত সুবেশী ও রুচিশীল এক বয়স্ক মহিলা নেয়ামতের সামনে এসে দাঁড়ান; জিজ্ঞেস করেন, আপনি কি কাউকে খুঁজছেন?
নেয়ামত চমকে উঠে পাশ ফিরতেই অচেনা ফুলের সৌরভ তাঁর নাকে এসে লাগে। আর সঙ্গে সঙ্গে একটা অতি ক্ষুদ্র পোকা তাঁর বাম চোখে ঢুকে পড়ে। চারপাশে অনেক আলো, তবু তিনি কিছুই দেখতে পান না। অন্ধকার। তিনি অসহায় ভঙিতে চোখ কচলাতে থাকেন...
এভাবে কত সময় কেটেছে, তিনি ঠিক বুঝতে পারেন না।
খানিকটা তন্দ্রার মতো এসেছিল কি নেয়ামত আলির?
হঠাৎ কারো ডাকে তাঁর চেতনা ফেরে।
কেÑ?
শুধানোর পর উত্তরের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। স্টেশনের ক্লিনারকে দেখেই তিনি সব বুঝে ফেলেন।
ক্লিনার বলল, স্যার, নামিবেন না? ট্রেন তো চিলাহাটি আসি গেইছে।
নেয়ামতের কাক্সিক্ষত স্টেশন থেকে ট্রেন আরো দুটো স্টেশন ক্রস করে গেছে। কখন গেল? সে কথা জিজ্ঞেস করার আর স্বস্তি হয় না। তিনি দেখলেন, ট্রেনের সব মানুষ নেমে গেছে। চিলাহাটি এই লাইনের শেষ স্টেশন।
কিছুক্ষণ পর, চিলাহাটি থেকে ফিরতি ট্রেন ধরে যখন মেয়ের শশুরবাড়ির কাছাকাছি স্টেশনে নামলেন, তখন তিনি অন্য এক নেয়ামত আলি; যার সঙ্গে তাঁর আগে কোনো পরিচয় ছিল না।
নেয়ামত আলির মুঠোফোন বেজে ওঠে। কে ফোন করতে পারে? সেই ভাবনা পাশ কাটিয়ে প্রবল আত্মবিশ্বাসে তিনি র্নিভার ভঙিতে একবার ভাবেন, মেয়েটা তো আমাকে বাঁচিয়ে দিলো। ·

0 মন্তব্যসমূহ