বিছানায় এপাশ ওপাশ করছিল মীরা। বাইরে কোথায় একটা কোকিল ডেকে চলেছে নাগাড়ে। শুনতে শুনতে আনমনা হয়ে যায় সে। একই ডাক কখনও খুব ভাল লাগে আবার কখনও কর্কশ। সেটা কি পাখির ডাকার দোষ না কি নিজের মনের, বুঝতে পারে না।
পাশে রাখা ফোনটা তুলে নিয়ে নেট অন করল। বন্ধুদের মধ্যে কয়েকজন পুরুলিয়া গিয়েছিল। বেড়াতে, পলাশ ফুল দেখতে। ফিরে এসেই ছবি পোস্ট করেছে ফেসবুকে। কী সুন্দর সব ছবি! লালমাটির সরু পথ, সেই পথে কোনও বউ আটপৌরে শাড়ির আঁচল কোমরে গুঁজে, জ্বালনের বোঝা মাথায় ঘরে ফিরছে হয়তো। রাস্তার দু’পাশে সার দিয়ে পলাশ গাছ। অল্প পাতা। মাথাভর্তি ফুল আর ফুল! গেরুয়া, লাল। প্রকৃতির রং প্রকৃতিতেই ছড়িয়ে পড়েছে।
ছবি দেখেই যদি মনে মোচড় দেয় তাহলে সেই জায়গায় গিয়ে দাঁড়াতে পারলে না জানি কেমন হত! ছবিগুলোতে লাইক দিয়ে ফোন নামিয়ে রাখল মীরা।
বেড়াতে যাওয়ার আগে বারবার করে বলেছিল ওরা। স্কুলে ছুটি ম্যানেজ করতে পারবে না বলে কাটিয়ে দিয়েছিল মীরাই। বন্ধুরা মাঝেমধ্যেই তাকে ঠেস দেয়। বলে, “ইচ্ছে থাকলে ঠিকই উপায় হত। এইভাবে জীবনের কত রং, রস থেকে যে তুই বঞ্চিত থেকে যাচ্ছিস। মনের মধ্যে শুধু খারাপটাকে পুষে রেখে, সব আনন্দ, সুখ ফিরিয়ে দিতে থাকলে কখন তারাও তোর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, বুঝতেও পারবি না।”
ফোন বেজে উঠল। সুরভি সকাল থেকে কয়েকবার করেছে। কাল সোমবার, দোল। বন্ধুরা মিলে ঠিক করেছে আজ সকলে নন্দনে দেখা করবে। সুরভি, সুব্রত আর মধুরিমা দোল নিয়ে চনমনে। সুরভি, মধুরিমা তাদের প্রেমিকদের আসতে বলেছে। সুব্রতও আনবে তার প্রেমিকাকে। সবাই প্রেমপর্ব সেরে বিয়ের দিকে চলে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে।
রবিবার যত ক্লান্তি আর কুঁড়েমিতে পায় মীরাকে। বেরোতে মন চাইছে না কিছুতেই। যতই ভাবছিল ততই গুটিয়ে যাচ্ছিল। গোটাতে গোটাতে নিজেকে একেবারে একা করে ফেলেছে সে। স্কুল আর বাড়ি। এছাড়া কিছুই নেই। অন্যকিছু ভালও লাগে না। আত্মীয়-পরিজন যার সঙ্গেই দেখা হয়, একটাই কথা “বিয়েটা আর কবে করবি? অত বাছবিচার করলে চলে না। এরপরে আরও অসুবিধে হবে।”
বন্ধুদের থেকেও রেহাই নেই। তারা বলে, “তোর দ্বারা কিচ্ছু হবে না। কেমন গুরুগম্ভীর ভাব। এরকম থাকলে ছেলেরা কাছে আসে কখনও? তার ওপর টিচারি করার ফলে হাবভাব আরওই বিগড়ে ফেলেছিস। ছেলেরা দেখেই কেটে পড়ে। তোকে বুঝতেই পারে না। প্রেম করবে কী!”
মধুরিমা একবার বলেছিল, “আচ্ছা, কেমন ছেলে তোর পছন্দ বল দেখি।”
“রাজসিংহ।”
“মানে? বঙ্কিমচন্দ্রের রাজসিংহ! এবার তুই কিন্তু ছড়াচ্ছিস। তাকে কোথায় পাবি! এখনকার মতো কাউকে বেছে নে। না হলে কিন্তু তোর নামটা চরম সার্থক হয়ে যাবে।”
এই বন্ধুদের মধ্যে বেশিরভাগই কলেজে পড়ার সময়ে বলত, “বাংলা অনার্স। ভবিষ্যৎ নেই। তাড়াতাড়ি বিয়েটা করে ফেলতে হবে।” যে ক’জন এখনও বিয়ে করেনি তাদের বয়ফ্রেন্ড রয়েছে। দেখা হলে সকলের ওই এক কথা।
মীরা কি সত্যিই বুঝে ওঠার বাইরে? কই, তার তো এমন মনে হয় না। বরং ছোট থেকে বাকি সকলকে বোঝার চেষ্টা করে করে এখন মনে হয়, মানুষের ভেতরে ব্রহ্মাণ্ডের রহস্য লুকোনো। তাদের বুঝতে সে ব্যর্থ।
ভাল লাগছে না মীরার। বালিশের পাশে রাখা বই। মাল্যবান। পড়তে পড়তে ভেতরের একটা পাতায় পেন রেখে দিয়েছে সে। সেখানে অন্য মেয়েদের দেখে মাল্যবানের বউ উৎপলা বলেছিল, “নিশ্চয়ই আইবুড়ো এরা সব। বাস্তবিক, যারা বিয়ে করেনি, তাদেরই রগড়।”
দরজার দিকে তাকায় মীরা। পর্দা ঝুলছে। তার ওপাশে কত কিছু। হাওয়া, রোদ, কথা, বাড়ির মানুষগুলোর কতভাবে বেঁচে থাকা। পর্দায় কিছুই আড়াল হয় না।
চার ভাই-বোনের মধ্যে সকলের বড় দাদা। বিয়ে হয়েছে অনেক আগে। বউদি ননদদের সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারল না। দাদা তার পরিবার নিয়ে আলাদা হল। কাছেই একটা ফার্নিচারের দোকানে কাজ করে। কাঠের মিস্ত্রি। দুই ছেলে। ছোটটা থ্রিতে পড়ে। বড়টা এইটে পড়ছিল। এখন আর স্কুলে যায় না। পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে ঘোরে। মাঝে মাঝে গলিতে বিড়ি টানতে দেখেছে মীরা। দাদা তাদের সামলাতেই নাজেহাল। মা, বোনেদের খোঁজ রাখার সময়ই পায় না।
বড়দি সোমার বিয়ে বছর দশেক আগে। দুই মেয়ে। একজনের ছয়, অন্যজনের আট। শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে আসতে হয়েছে দিদিকে। জামাইবাবু অন্য আর একজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিল। সেই নিয়ে অশান্তি। এখন বাপের বাড়িই দিদির পাকাপাকি ঠিকানা। সকাল-বিকেল কয়েকটা বাচ্চা ছেলেমেয়েকে পড়ায়। সবসময়ই তিরিক্ষি মেজাজে থাকে।
একসময়ে মীরার সঙ্গী ছিল ছ’বছরের ছোট বোন মিঠু। হঠাৎই ক্লাস টুয়েলভের পড়া ছেড়ে একটা ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গেল। সম্মান বাঁচাতে তখন ডেকে এনে লোকদেখানো অনুষ্ঠানের ধামা চাপানো হয়েছিল।
গ্র্যাজুয়েশনের পরে এমএ, ডিএলএড করে বসে ছিল মীরা। ছোটবোন পালিয়ে যাওয়ার পর মায়ের সঙ্গে দিদিও উঠেপড়ে লাগল মীরার বিয়ে নিয়ে। যেমন হোক একটা পাত্র পেলেই তখন হয় তাদের। কেউ সিভিক পুলিশ, কারও মুদির দোকান, কেউ বাবার চালের গোডাউন সামলায়, বিএলআরও অফিসের ক্লার্কও ছিল। মীরার মাথায় জেদ চেপে গিয়েছিল। নাগাড়ে টিউশন পড়াচ্ছে। বিএডটাও পড়বে ভাবছিল। পায়ের নীচেটা শক্ত করার জন্য কাজ চাই একটা। বাবা পাশে ছিল তার। বছর চারেক আগে প্রাইমারি স্কুলের চাকরিটা পেয়ে গেল মীরা।
সেই সময়ে দু’বছরের মেয়েকে নিয়ে ফিরে এল মিঠু। যাকে ভালবেসে পালিয়ে গিয়েছিল তার সঙ্গে আর বনিবনা হচ্ছে না। নেশা করে। রোজগারপাতি নেই। সংসার দেখে না। মিঠু আসার পর তার বর কয়েকবার নিতে এসেছিল। যায়নি সে।
কাঠা দুয়েক জমি ভাঙাচোরা ইটের পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। পাশাপাশি দুটো ঘরের বাড়ি। সামনে টানা বারান্দা। উঠোনের মাঝখানে একটা বিশাল মোটা নিম গাছ। একপাশে রান্নাঘর। এটা আগের চেহারা। সে চেহারা ভেঙেছে।
বিয়ে করা বোনেরা একে একে ফিরে এসে বাবার সম্পত্তিতে বসছে দেখে ব্যাপারটা বোধহয় সুবিধের মনে হচ্ছিল না দাদা রঞ্জনের। তাদের আলাদা রান্নাঘর। সেই পুব দিকে টিনের ছাউনি দিয়ে লম্বা করে ঘর তুলল সে। কাঠের জিনিসপত্র এনে সারায়। অন্য ঘরে মীরা, মিঠু আর তার মেয়ে মুনিয়া। বাবা আর মা অনেক আগেই বেছে নিয়েছিল বারান্দার পশ্চিমে রাখা একটা চৌকি। দিদি ছেলেমেয়ে নিয়ে আসার পর উঠোনের দক্ষিণ দিকে তাদের জন্য ঘর তুলতে হয়েছে।
একসময় সাইকেল চালিয়ে কাজে যেত বাবা। মিষ্টির দোকানের কাউন্টারে কাজ। দোকানটা বড় হচ্ছিল। বাবার ততদিনে হাঁপানি। প্রেশার, সুগার। হাঁটাপথে অনেকটা। তবু সাইকেল ছাড়তে হয়েছিল। বাবার কি হার্টে গোলমাল ছিল? জানা হয়নি মীরার। এক দুপুরবেলা খেয়েদেয়ে শুয়েছিল। সেটাই শেষ দুপুর। চৌকির পুরোটাই শিখা বিশ্বাসের জন্য ফাঁকা করে দিয়ে চলে গিয়েছে বসন্ত বিশ্বাস।
তারপর থেকে বাড়ির পরিবেশ আরও দম চাপা হয়ে গিয়েছে। এখন আর মীরার বিয়ে নিয়ে কারও তাড়া নেই। মা, দিদি, বোন বরং কেমন করে যেন তাকায় মীরার দিকে। এই বুঝি সে বিয়ে করে চলে গেল।
“কী রে? বেরোবি বলেছিলি। এখনও শুয়ে আছিস যে।” মা ঘরে এসে দাঁড়িয়েছে।
মীরা নিজেকে জোর করে টেনে বসায় বিছানায়। “হ্যাঁ, এই যাব এবার।”
“শোন না, বেরোবি যখন, মুনিয়াটার জন্য কিছু আবির আর রং আনবি? বাচ্চা মেয়ে, মন খারাপ হবে নয়তো।” ফ্যাকাশে হাসি শিখার মুখে।
মুনিয়া বাইরে দিদি বা দাদার ছেলেমেয়েদের সঙ্গে হুটোপাটি করছে। তাদের হাসি, কথার আওয়াজ আসছে।
মায়ের মুখের দিকে চেয়ে থাকে মীরা। রেখাগুলো পড়ার চেষ্টা করে। বাবা আটষট্টিতে চলে গিয়েছে। মায়ের বাষট্টি হবে। আগে ভাল ছিল স্বাস্থ্য। শ্যামলা রঙে লাবণ্য ছিল। এখন শরীরে হাড় গোনা যায়। মাথার চুলে পাক ধরেছে অনেক। খিটখিটে হয়ে গিয়েছে। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে সবসময় মীরার প্রতি সন্দেহ বয়ে বেড়াচ্ছে।
বোন কিছু করে না। বাড়ির কাজে মাকে হাতে হাতে জোগান দেয়। মুনিয়া, মিঠু আর মাকে নিয়ে সংসার এখন যেন মীরার। খরচখরচা সব তারই।
তুমি না বললে কি আমি মুনিয়ার জন্য রং আনতাম না মা? এ কথা বলা হয়ে ওঠে না তার। মা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যায়।
মীরা জানে মা কোথায় গেল। উঠোন পেরিয়ে দিদির ঘরে। সেখানে মিঠুও আছে। মীরাকে নিয়ে কিছুক্ষণ কথা চলবে। ভাইবোনেরা একসঙ্গে থাকলে আনন্দ হওয়ার কথা। এ বাড়িতে তেমন হয় না। কাছে থাকার সুখ সবসময় সুখ নয় বোধহয়। মীরার রাগ হয়। কেন? সে বুঝতে পারে না। নিজেকেই তখন অপরাধী মনে হয়।
বেরোতেই যখন হবে, গড়িমসি করে লাভ নেই। সালোয়ার-কামিজ গায়ে চাপিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ায় মীরা। তারই মতো আঠাশ-উনত্রিশ বছরের মেয়েদের কত নতুন লাগে। তাদের তুলনায় সে বুড়িয়ে গিয়েছে কি? চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে নিজেকে খুঁটিয়ে দেখে। কানে ছোট দুটো দুল, বাঁ হাতে ঘড়ি। চোখে চশমা। এই হল সাজ। মুখে, চোখে, ঠোঁটে, হাত-পায়ের নখে কোথাও রং নেই। মধুরিমা, সুরভিদের মতো চঞ্চল, চটপটেও নয়। তাদের হাবেভাবে, কথাবার্তায় যেন সমুদ্রের ঢেউ আছড়ে পড়ছে। মীরা সময়ের সঙ্গে বেমানান। বন্ধুরা ঠিকই বলে। কেন কেউ তার কাছে আসবে? চুলে ক্লিপ আটকে আয়না থেকে সরে আসে সে।
“মা, আসছি।”
উঠোন পেরোনোর সময় নিম গাছটার সামনে খানিক থমকে যায় মীরা। সম্পর্কগুলো তেতো হয়ে যেতে দেখছে গাছটা। এখানে যদি একটা পলাশ গাছ থাকত! ফুলগুলো জ্বলজ্বল করত। দোল খেত হাওয়ায়। নাঃ, বাড়িতে কি কেউ পলাশ গাছ লাগায়!
অটো করে কুদঘাট। সেখান থেকে আবার অটোয় টালিগঞ্জ। তারপর বাসে রবীন্দ্রসদন। নেতাজি স্টেশন থেকে মেট্রোতে যাওয়াই সুবিধে কিন্তু মীরা মেট্রোয় চড়তে পারে না। দরজা-জানলা বন্ধ করে ঠান্ডা মেট্রো যখন মাটির নীচে ঢোকে, শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে তার। একবার বন্ধুরা জোর করে তুলেছিল। শরীর খারাপ করে গিয়েছিল মীরার। তারপর থেকে মেট্রোর ধারেকাছেও যায় না সে। স্কুলে যাওয়ার সময় তো অটোতেই রাস্তা পার।
ছুটির দিন হলেও বাসে বেশ ভিড়। প্রথম দুটো ছেড়ে দিতে হল। কত লোক এদিক-সেদিক দৌড়চ্ছে বাস, অটো, ট্যাক্সির পিছনে। অপেক্ষাও করছে অনেকে। তার মধ্যেই দেখা যাচ্ছে ছোট ছোট দল রং মেখে ছুটির আমেজে রয়েছে। গতকাল থেকে দোল খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে। আজও অনেকের গায়ে, মাথায় আবির। লাল, সবুজ, গোলাপি, নীল। তাদের পৃথিবী রঙিন।
আবারও একটা বাস আসছে। এতেও ভিড় কম নয়। তবে একে আর ছাড়লে চলবে না। ফোনে বেশ কয়েকবার তাগাদা এসে গেছে বন্ধুদের।
বাসটা দাঁড়াতেই হুড়োহুড়ি। মীরাও ঠেলাঠেলি করে ওঠার চেষ্টায় ছিল। কোনওমতে ফুটবোর্ডে পা রেখেছে। ঠিক সেই সময় ডান পায়ের চটিটা খুলে পড়ে গেল। বাসটা ছেড়ে দিয়েছে। পিছনের লোকজন গোঁতাচ্ছে একরকম। চেঁচিয়ে উঠল মীরা, “আমার চটি… আমার চটি পড়ে গেছে।” বলতে বলতে ডান পাশের হ্যান্ডেল ধরে সেদিকে সেঁটে গেল। উঠে যাক ধাক্কা দেওয়া মানুষগুলো। সে নেমে যাবে। এক পায়ে চটি নিয়ে যাওয়া যায় নাকি! আবার চেঁচিয়ে উঠল মীরা, “বাস থামান। আমার চটি পড়ে গেছে।”
কন্ডাক্টর গেটে নেই। তাহলে হয়তো গাড়ি থামত। চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে পড়তে তো পারবে না সে। অসহায় চোখে মীরা তাকিয়ে ছিল রাস্তার দিকে।
ঠিক তখনই সে খেয়াল করল, মানুষের ভিড় পাশ কাটিয়ে, ধাক্কা বাঁচিয়ে ছুটে আসছে একটা ছেলে। তার হাতে মীরার সেই একপাটি চটি। ছুটতে ছুটতে এসেই পড়ল সে। ঝুঁকে পড়ে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
“পা বাড়ান, পা-টা বাড়িয়ে দিন আপনার। এই যে, পরে নিন।” সে ছুটছে। হাঁপাচ্ছে।
এরকম কেউ করে নাকি! হতভম্ব হয়ে দেখছিল মীরা। বিশ্বাস হচ্ছে না। তবু বুঝতে পারল, ডান পা গলিয়ে চটিটা পরে নিচ্ছে সে।
বাসের ছোটায় জোর বেড়ে গিয়েছে। দু’হাত কোমরে রেখে দাঁড়িয়ে পড়েছে ছেলেটা। মীরা বাসের ভেতরে যেতে পারল না। তার বদলে সে নিজেকে খানিকটা ঝুঁকিয়ে দিল বাইরের দিকে। সে দেখতে চাইছিল তাকে যে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে। কালো প্যান্ট। নীল আর সাদা চেক শার্ট। লম্বা। ফর্সা। আর কিছু? উল্টে আঁচড়ানো চুল না কি সিঁথি করে পাশে? গোঁফ আছে? বাঁ হাতে ঘড়ি? দেখেছিল তো তাকে মীরা। তাহলে মনে করতে পারছে না কেন! কোথায় যাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে ছিল সে?
“উঠে আসুন। ও দিদি, ভেতরে চলে আসুন। ওখানে দাঁড়ানো যাবে না।”
কন্ডাক্টরের হাঁকানিতেও নড়ল না মীরা। শক্ত হাতে হ্যান্ডেল ধরে সে যেন আরও ঝুঁকে পড়তে চায়। চোখ ভাসিয়ে রাখে আবছা হয়ে আসা দূরের দিকে। হুহু করে মিলিয়ে যাচ্ছে সব। অনেক মানুষের ভেতরে সেখানে দাঁড়িয়ে আছে একজন। সেও কি তাকিয়ে আছে এদিকে?
হাওয়ায় মাথার চুল এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে মীরার। বসন্ত বাতাসে। ·

0 মন্তব্যসমূহ