নতুন বর্ষার জল পেয়ে মাটি যেন মাখনের মত বজবজে, পা ফেললে ডুবে যাবে। শেষ বিকেলের সূর্য একটেরে হয়ে তাকাচ্ছে। এখন কিছুটা মারপিট করবে নাছোড়বান্দা, লালচে রক্ত ছিটিয়ে দেবে মাঠ ঘাট বিলের ওপর, নেতিয়ে পড়বে তারপর। কালীতলায় থাকত মানিক ঘোষ, কাপ্তেন লোক। এরকম এক হাঁসের ডিমের গলন্ত কুসুমঝরানো বিকেলবেলায় গদাইবুড়ির মাঠ ভাঙতে ভাঙতেই ওপারের দেবতা তার দিকে মুখ তুলে তাকিয়েছিল। হার্ট বন্ধ হয়ে গিয়ে গ্যাঁজলা উঠে মাঠেই পড়েছিল অনন্তক্ষণ। বুড়ো হয়ে গেলে বেশি হাঁটতে নেই, বুকে চাপ পড়ে, উমানাথ জানে। আজকেও এতটা রাস্তা ভাঙতে তার ভয় করছিল, ভয়ের থেকেও বেশি ক্লান্তি, ক্লান্তির থেকেও বেশি রাগ, কারণ দ্বারিকবুড়ো অকারণ জিদ না ধরলে এতক্ষণে রিকশ নিয়ে নেওয়া যেত।
'আমি হাঁটবই রে বাপা! তোর যেতে হয়, তুই যা রিস্কাতে।' ঘাড় বেঁকিয়ে জবাব দিয়েছে দ্বারিক সরকার। বিরানব্বইয়ের ঠুনঠুনে বুড়ো যদি কুদঘাট থেকে সিরিটি হয়ে নেতাজি সড়ক অবধি হেঁটে যেতে পারে, আটষট্টির উমানাথ কীই বা করে!
হিসেব করে দেখলে, পৌঁছতে গেলে পঁয়তাল্লিশ মিনিটের বেশিই লাগবে, কারণ দ্বারিক সরকার হাঁটছে না, হামা টানছে বলা যায়। দ্বারিককে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে দোকান যেতে সাতটা তো বাজবেই বাজবে। আজ আড়ত থেকে মাল ঢোকার কথা। কাজের ছোঁড়াটা মালিক নেই দেখে টেনে ঘুম দিচ্ছে। উমানাথ মনে মনে খিস্তি করল, 'বেজন্মা বুড়ো! আমার ঘাড়েই চাপে সব!' দ্বারিক গোটা রাস্তা হাঁটতে হাঁটতে বকেই চলেছে, সে অবিশ্রান্ত বকবকানিতে উমানাথের ঘুম পাচ্ছিল।
'শালার বেটা শালা পোদ্দার খুব ভয় দেখাল, বুঝলি তো! নাকি নতুন রঙের ঘরে ঢুকলেই নিমোনিয়া। আমিও দ্বারিক সরকার, বললাম, ঢুকবই শালা। নিজের ঘর, নিজের বাড়ি, নিজের বাগান, কে কী করবে! পোদ্দারের তো মতলব অন্য। কয়েকদিন বাইরে রেখে সেই সুযোগে যতটা হাতিয়ে নিতে পারে। ভাবছে এর মাগ ছেলে নেই, কেই বা ভোগ করবে! বুঝলি কী না!'
'থামো তো! তোমার ওই রঙ করা বাড়িতে এখন শ্যাওলা জমেছে। তিরিশ বছর আগের প্যাচাল আর ভাল লাগে না মাইরি!' বিরক্ত মুখে উমানাথ জবাব দিল।
'একটা জুতো কিনে দিবি? এ টায়ারের চটিতে পেরেক ঢুকে যায় খালি খালি।'
'গেলবার পুজোয় দিলাম তো। সেটাকেও খেয়েছ?'
দ্বারিক দুলে দুলে হাঁটছে, কোমরটা বেশ পাতলা হয়ে এসেছে। হাঁটার ভঙ্গীটাও এলোমেলো, সামনে ঝুঁকে, যেন একটা পা ফেলে পরের পা টা কোথায় ফেলবে বুঝতে না পেরে আপন বাপন চৌকি চাপন করে নিচ্ছে। কুদঘাট মেট্রোর সামনে পড়ন্ত ভিড়, আদিগংগার পাঁক থেকে ভুসভুসিয়ে উঠে আসছে পোকাদের দল। একটা লোক বিরানব্বই বছর বয়েসেও কী করে এতটা হাঁটতে পারে, ভেবে পেল না উমানাথ। তখন ভুস করে সূর্য ডুবে গেল। ক্যাঁচম্যাচ করছে পাখির দল, আদিগংগার ওপর ঝুঁকে পড়া অশ্বত্থর ভরন্ত বুকে অজস্র কলকাকলি। দ্বারিকের একলা বাড়ি এখনও বহু দূর। তার উঠোনে একটা নিমগাছ ভুতুড়ে চেহারা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
'কেন হেঁটে ফিরব বললাম জানিস? এক তো হাওয়াবাতাস খেলবে তপ্ত শরীলটায়। আর ফেরার পথে মাইতিপাড়ার মাঠে বসে যাব ভাবলাম।'
'আবার বসবে?' আঁতকে উঠল উমানাথ। 'আমার দোকান খুলতে হবে কাকা! এই ছ'মাস অন্তর অন্তর তোমার ডাক্তার দেখাবার বাই উঠবে আর আমাকে হাঁটিয়ে মেরে গোটা সন্ধেটা বরবাদ দেবে, এ আর হচ্ছে না। আমি রিকশা ডাকছি।'
'শোন না বাপা ! অনেকদিন পিণ্টুকে দেখিনি। তোরও তো বন্ধু ছিল, না কী!'
উমানাথ কী বলবে বুঝতে পারল না। এ পাগলকে কে মানাবে ! বহুবছর ধরেই পাগলা দ্বারিক বলে আসছে ওই মাঠে পিন্টু থাকে। ওই দেখো, বুড়ো আবার দাঁড়ায় ! টুকটুক করে ফুটপাতের ওপর অযত্নে বাড়া একটা গাছের চারা তুলে নেয় সাবধানে। ঝেড়েঝুড়ে নিজের আধময়লা ঝোলার ভেতর রাখে। এসো কাকা! আড়ত থেকে আমার মাল যখন ঢুকবে, নতুন ম্যাগির প্যাকেট, ঝরঝরে পোস্তদানা, পায়েসের গন্ধওঠা দেবভূমি চাল, তার সুবাস তুমি শালা জন্মেও চেখে দেখোনি। থাকো তোমার পিন্টুকে নিয়ে। কেমন করে ওঠে উমানাথের বুকের ভেতরটা। এত বছর পরেও তার সামনে দ্বারিক কেন যে বারবার পিন্টুর কথা তোলে!
'যদ্দিন দরজির দোকানটা ছিল, মাঠের পাশেই তো, রোজ রোজ ওখেনে যাওয়া হত। তোর কাকিমাও চোখ বুজল, আর আমার হল মরেও মরণ নেই যাকে বলে, বুঝলি কী না! কতকাল বিকেলের আলো দেখিনি উমানাথ! আজ আমি ওখেনে বসে সন্ধ্যে পুকুরের হাওয়া মাখব আর তুই আমার সামনে ঘুরবি, হাঁটবি, দৌড়বি, যেরকম ছোটবেলায় তোরা সবাই করতি।'
উমানাথ দাঁড়িয়ে পড়ে বিরক্ত গলায় বলে, 'আমার সেই বয়েস আর আছে কাকা? কেন যে পুরনো কথা বারবার তোলো ! আমার নাতির বয়েস এখন সাড়ে তিন, বুঝলে? ওর মা দিল্লি বোর্ডে দিতে চায়। বলে, বাচ্চা বয়েস থেকে স্পোকেন ইংলিশের কোর্স না করালে ছেলেপিলে স্মার্ট হবে না। মেয়েটাকে ভাল ঘরে দিয়েছি। জামাইয়ের বেলঘরিয়াতে নিজের তিনতলা বাড়ি। আমি রোজ বিকেলবেলা দোকান খোলার আগে পাড়ার বুড়োদের সংগে ওয়াকে যাই। আমার ভাল লাগে না এসব...' বলতে বলতেই কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে থেমে গেল উমানাথ, কথা খুঁজছিল, 'তোমার এসব—এই, বারে বারে মাইতিপাড়ার মাঠ। আমাকে টেনে নিয়ে যাওয়া। পুকুরে নামানো।' একই সংগে মনে মনে বলল, 'কী পাও এসব করে! পিণ্টু ফিরবে না। ওই মাঠেও থাকে না। আমাকেই কি সারাজীবন এই বোঝা টেনে নিয়ে যেতে হবে?'
দ্বারিক চুপচাপ হেঁটে যায়। মাঝে মাঝে থেমে ফুলের দোকান থেকে গাঁদার দর জিজ্ঞাসা করে। সর্ষের খোল পরীক্ষা করতে গুমটির ভেতর ঢুকে যায়। উমানাথের চোয়াড়ে বুড়ো গাল বেয়ে ঘাম গড়াচ্ছে। আকাশে মেঘ কখন কী মতিগতি দেবে বোঝা ভার। করুণাময়ী মোড় আর অল্প বাকি। দ্বারিক বেরিয়ে এসে টুকটুক করে হাঁটে। ডাক্তার বলে দিয়েছে, বুড়োর হার্ট প্রেশার সুগার সব ভাল। ক্রিয়েটিনিন একটু বেশি, কিন্তু এ বয়েসে আর কিছু করবার নেই। মোদ্দা কথা, আরও অনেকদিন বাঁচবে। দ্বারিকের ঝুলে পড়া গলার চামড়া, অজস্র বলিরেখাময় মুখ, প্রায় বুজে আসা চোখের ওপর হাই পাওয়ারের চশমা, ফিটফাট ধুতি, জামা, কুঁজো হয়ে এলোমেলো হাঁটার মধ্যে উমানাথ কোনও ভরসা খুঁজে পেল না।
তখন দ্বারিক একটু নিচু স্বরে জিজ্ঞাসা করল, 'পিন্টুর কথা তোর আর মনে পড়ে না?'
'পড়বে না কেন ! ল্যাঙটা বয়েসের বন্ধু ছিলাম।'
'ও যেদিন খুন হল, সেদিনকার কথা?'
উমানাথের বুক ঢিবঢিব করে। অনেকদিন পর দ্বারিক সেদিনকার প্রসঙ্গ তুলল।
'প্রায় পঞ্চাশ বছর হতে চলল। আর ওসব কথা কেন কাকা!' উমানাথের সতর্ক ভুরু আকাশের দিকে উঠে যায়। ল্যাতপ্যাতে বৃষ্টি গড়িয়ে এল বলে। তার নিজের বাবা বহুকাল আগে গাড়িচাপা পড়ে মরেছে। তখনও উমানাথ স্কুলে। তখনও হাতে বোম তুলে নেয়নি, ইশকুল বাড়ির দরজায় ছুঁড়ে মারেনি। পিন্টু আর সে আর কানা বাপী আর শ্যামল আর কত কত সবাই, ফুটবল খেলত পদ্মপুকুরের ধারে। ডাক্তারের বাগানে প্রতি বিকেলে পেয়ারা খুঁজতে যেত, ঘাসের ভেতর দেখত পড়ে আছে হলদে টাটকা বাদাম। কানা বাপী অনেকদিন বেঁচে ছিল, চোলাই খেয়ে লিভারটার বারোটা বাজিয়েও। শ্যামল পিন্টুদেরই গ্রুপে ছিল। পেটো বাঁধতে গিয়ে বার্স্ট করে। সেটা সেভেন্টিটু। তার দুই বছর পরে পিন্টু।
'তুই কেন যেতে চাস না ওখেনে, জানি আমি। জানি না ভেবেছিস? তোর ভয় লাগে, পিন্টু যদি এসে গলা টিপে ধরে।'
'ফালতু বকবক কোরো না তো!' উমানাথ তেতে উঠতে চেয়েও পারছিল না। বয়েস বাড়ছে, কোলেস্টেরল হাই। ডাক্তার বলে দিয়েছে, রেড মিট বন্ধ। মাঝে মাঝেই চোখের দুই পাশে হলদেটে আলো দেখতে পায় এখন। সাতাত্তর সালে যখন এলাকায় ফিরেছিল, অনেক কিছু পালটে গেছে। প্রটেকশন দেবে যারা বলেছিল, তারা নিজেরাই এলাকাছাড়া। শেষমেশ লোকাল ক্লাবে গিয়ে ধরনা। তখন উমানাথ চোখ বুজলেই মাথার ঠিক পেছনের ব্লাইন্ড স্পটে নিয়ম করে একজনকে দেখতে পেত, হাতে চপার, অন্ধকারে নিঃশব্দ অনুসরণ করে চলেছে তাকে। ক্লাব বলেছিল, যদি দ্বারিক সরকার মেনে নেয়, তাহলে পাড়ায় থাকতে পারবে। হিমেল আতংকে কলকাতার নাভিমূল তখনো বরফ হয়ে ছিল, গলবার প্রক্রিয়া সবে আরম্ভ হয়েছে। উমানাথের অসহায় লাগল। রাস্তা কিছুতেই শেষ হয় না ।
'ফালতু নয় রে! এখন আমি রাতকানা। বিছানায় বাহ্যি পেচ্ছাপ করে ফেলি। সকালবেলা গোপীর মা গালাগালি দিতে দিতে চাদর কাচে। আমি তোর মুখটা অন্ধকারে দেখতে পাচ্ছিনা কেন রে বাপা? লজ্জায় মুখ লোকালি নাকি? পিন্টুর কথা ভেবে লজ্জা পাচ্ছিস?'
'অনেকদিন আগে চুকেবুকে গেছে সেসব, তুমিও জানো।' বিড়বিড় করল উমানাথ, গলার জোর খুঁজে বেড়াল একটু--'কোনওদিন অযত্ন করেছি তোমাদের? কাকি যদ্দিন বেঁচেছিল, গু-মুত অবধি পরিষ্কার করেছি। কেন! আমারও তো ঘর সংসার ছিল কিছু, সমাজে একটা ইজ্জত ছিল। আজও একই কথা--' দ্বারিক শুনবে না, শুনতে চাইবেই না, জানে সে। এই সব কথাই অনেকদিন আগে ঘটে গেছে আর অনেক অনেক বছর ধরে হয়ে চলতে চলতে ক্লান্তিকর যান্ত্রিক কিছু উচ্চারণে পরিণত হয়েছে। সেই, মাথাপাগলা দ্বারিককে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া, মাঠে বসে পিন্টুকে খোঁজা, উমানাথের নিরুপায় বিরক্তি, এই সবই একঘেয়ে। উমানাথের কানে নিজের স্বর সেদ্ধ জলের মত শোনাল।
ততক্ষণে করুণাময়ী মোড় ছাড়িয়ে তারা ডায়মন্ড সিটির পাশ দিয়ে হাঁটছে। মেঘ ফেটে কিছুটা ভাঙা জ্যোৎস্না গড়াচ্ছিল। দ্বারিক মাথা উঁচু করে দেখে বলল, 'এত বড় বড় ফ্ল্যাটবাড়ি, ঐ গোটা মাঠটাকে দখল করে নিল? তোরা কিছু বললি না? তোদের বলখেলার মাঠ ছিল রে!'
'হ্যাঁ, আমাদের তো এখনও বলখেলার বয়েস আছে! একটা জায়গার উন্নতি হবে না, ঝাঁ চকচকে হবে না, বড় বাড়ি হবে না, সব চলবে তোমার নিয়মে।'
'পিন্টুকে মার্ডার করবার সময়েও তুই কিছু বলিসনি কেন রে? তুইই তো ধরিয়ে দিয়েছিলিস ওকে। পুলিশের হাতে পায়ে ধরতে পারলি না? বলতে পারলি না, বাপ মায়ের একমাত্র ছেলে, ছেড়ে দাও?'
বুকের ভেতর থেকে একটা টকজ্বালা গলার কাছে উঠে আসছে। দুধ চা খেয়ে অ্যাসিড হয়েছে নির্ঘাত। বুড়ো দ্বারিকের গা থেকে পুরনো জামগাছের গন্ধ আসে। সোঁদা, কষটা, ভাপানো। মজার লাগে গন্ধটা। গোটা রাস্তা খিটখিট করতে করতেই সে এই গন্ধটা শুঁকে আসছে। ছোটবেলায় সে আর পিণ্টু রোজ দুপুরে মুচিপাড়ার বড়বাগানে খেলত। তখন রোদেপোড়া ঘাস আর তাজা মাটির ভেতর থেকে এই গন্ধটা দুজন একসঙ্গে নিয়েছে, তারপর হাত বদলা বদলি করেছে। গলার টকসানি ভাবটা এবার মুখে পৌঁছল বলে। উমানাথ ঢোঁক গিলে চাপল, নাহলে বমি হতে পারে। আকাশে মিটমিটে কয়েকটা তারা উঠল, আর ধুনির আগুন জ্বলে উঠল শ্মশানের দিকটায় ।
'তুই আসলে বরাবরের নেমকহারাম। বাপটাকে খেয়েছিলি ছোট থাকতে। ভাইয়ের মত বন্ধুটাকে খেলি। নিজের মা-কে খেলি। কেন রে শালা?' নিজের মনে বকবক করছিল দ্বারিক।
'ঝামেলা বাড়িও না কাকা। আমার শরীর ভাল নেই।'
'সত্যি বললেই ঝামেলা কেন মনে হয় রে খোঁচড়?'
'অনেকবার, কয়েক হাজার বার তোমাকে বলেছি এসব। আমি নিজে খুন হয়ে যেতাম, পিন্টুকে না ধরিয়ে দিলে। তখন পিন্টু আমার মা-কে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যেত আর মনে মনে খিস্তি দিত, এখন যেমন আমি দিচ্ছি। তোমার, কাকির পায়ে ধরে ক্ষমা চেয়েছি কতবার, মনে নেই তোমার? পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে এসে এক কথা বলতে ভাল লাগে না কাকা!' উমানাথের গলা আচমকা তেতো হয়ে উঠল।
'রাগ করিস না বাপা! আমি পাগল ছাগল মানুষ। কদিনই বা আর আছি বল ! তুই রাগ করলি? ও উমানাথ, ওই শালা! রাগ করলি নাকি?' আঁকুপাঁকু দ্বারিক রাস্তার মধ্যেই উমানাথের সারা মুখে হাত বোলায়।
'না রাগ করবে না! ছাড়ো তো! ভাল লাগে না!' দ্বারিকের হাত সরিয়ে দেয় উমানাথ।
'তুই ছাড়া আমাকে কে দেখত বল? কে আছে আমার! সেই কবে পিন্টুর মা চলে গেছে। তুই তো ছেলের মত দায়িত্ব নিস রে! পুজোতে নতুন জামা, পালা পরবে কলাটা মুলোটা, ডাক্তার বদ্যি--তুই না থাকলে কে করবে বল?' ক্ষয়াটে পিচের রাস্তাটা যেখানে সিরিটি মোড়ে গিয়ে মিশেছে, সেখানে একটা ল্যাম্পপোস্টের আলো ভাঙা, উল্টোদিকের পোস্টের আলো এসে পড়ছে দ্বারিকের পিঠে। কালো একটা আদিম জন্তুর মত দেখাচ্ছে বুড়োকে, যার দুই হাত থিরথির কাঁপে। সব পালটে গেল, এই সিরিটির বিশাল আতাগাছের জংগল, পুকুরের জলে গা ডুবিয়ে বসে থাকা মোষের দল, ভাঙাচোরা মাটির রাস্তা, ধোপাদের আড্ডা, সবকিছুই আসলে থাকবে না বলেই আসে। খোঁচর উমানাথ বুড়ো হয়, মুদিখানার দোকান খুলে ভব্যিযুক্ত গৃহস্থ, ছেলে মরে গিয়ে মাথা পেগলে যায় দ্বারিকের, শুধু হারামি পিণ্টুটারই বয়েস বাড়ল না।
আবার দুজন হাঁটে। সিরিটি মোড় পেরিয়ে বাঁদিক ধরে। উমানাথ ভাবে, বংগলক্ষী মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের টিউবলাইটের আলো এসে রাস্তা পিছলে যাচ্ছে, সেখানে বুড়োকে কিছু খাইয়ে দেবে। থাক, আবার পেট ছাড়লে দৌড়তে হবে তাকেই। সাতাত্তরে যখন পাড়ায় ঢুকল, তাকে মার্ডারই করে দিত কেউ কেউ। পুলিশের স্পাই, কে আর ভালবাসবে! তখন ক্লাব নিয়ে গেল দ্বারিকের বাড়ি। বোবাচোখে বসে থাকা পিন্টুর মায়ের পায়ে আছড়ে পড়ে হাউহাউ কেঁদেছিল উমানাথ। একটাও কথা না বলে কাকি ভেতরে ঢুকে গিয়েছিল। যতদিন বেঁচেছিল, উমানাথের সংগে কথা বলেনি। দ্বারিকের অবশ্য কিছু এসে যেত না। সে মাইতিপাড়ার মাঠে তখন থেকেই পিন্টুকে খুঁজে পাচ্ছে।
'তুমি বোঝো না কাকা! আমার বাড়িতে তিন তিনটে বোন ছিল। মা ছিল। আমি ইশকুল গেটে বোমা মেরে নক্সাল হয়ে গেলাম, সে তাও একরকম ঠিক আছে, বেঁচে তো আছি ! কিন্তু প্রাণে মেরে দিলে ওদের কী হত?' ঘাড় গোঁজ করে উমানাথ বিড়বিড় করল। 'আমারও আর শেষের দিকে ভাল লাগত না, অমন প্রাণ হাতে করে ঘোরা। একবার ঠাকুরপুকুর বাজারে পিন্টুর সাথে দেখা, সে চাদর মুড়ি দিয়ে একটা দোকানের পাশে উবু হয়ে বসে চা খাচ্ছে। আমাকে দেখে উঠে এল, হাত ধরে টেনে নিয়ে গেল একপাশে। মা কালির দিব্যি বলছি, তোমার বা কাকির একটা কথাও জানতে চাইল না। তুমি খামোখাই পিণ্টু পিণ্টু করে মরলে কাকা! ওর থেকে অনেক বেশি খেয়াল আমি তোমার রেখেছি। ওকে বললাম, চল সারেন্ডার করি। আর পারছি না এভাবে ঘুরতে। হেসেই উড়িয়ে দিল। চা খাওয়াল। তারপর বলল, 'ভাগ এখান থেকে। আশপাশে স্পাই ঘুরছে।' এদিকে তখন আমি নিজেই স্পাই হয়ে গেছি। তাও, তখনও কিন্তু আমি ওকে ধরিয়ে দিইনি। কীই বা জানবে তুমি এসবের!' এই রাস্তাটার চারপাশে জল জমে তাতে চাঁদের ছায়া ভেঙে যাচ্ছিল। মার্লিনের বড় যে প্রজেক্টটা হচ্ছে, তার একদম ওপরের ছাদে দাঁড়িয়ে থাকলে তবু কিছুটা শ্মশান পদ্মপুকুর ডাক্তারের বাগান ইটখোলার মাঠে মরে পড়ে থাকা নক্সাল ভূতদের দেখতে পাওয়া সম্ভব হতে পারে। আকাশ তখন যাত্রাপার্টির চাঁদোয়ার মত মেঘের ভারে নাকের ঠিক সামনেটায় ঝুলে থাকবে।
কিছু করবার ছিল না। পুলিশ তখন উমানাথকে মারতই। আইবি-র খোঁচড় পেছনে পড়ে গেছে হাত ধুয়ে। বাধ্য হয়ে ইনফর্মার হয়ে গেল উমানাথ। তদ্দিনে এই সিরিটি সোদপুর মুচিপাড়া বেহালা জুড়ে অজস্র শ্রেণীশত্রুর লাশ টপাটপ পড়ছে, সেঁধিয়ে যাচ্ছে মাটির ভেতর ও পুকুরের গহ্বরে, ভোরের হিম কুয়াশায় পদ্মপুকুরের জলে ভেসে রয়েছে মৃতদেহ। উমানাথ দুটো অ্যাকশন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। পাড়ায় ঢুকলে অপোনেন্টরা মারবে, বাইরে থাকলে পুলিশ। পিন্টুই পালাবার আগে ওকে আন্ডারগ্রাউন্ডে যেতে বলেছিল। হেসে বলেছিল, 'আগে বেঁচে থাক ভাই! সব চুকেবুকে গেলে দেখা হবে আবার'। ওর হাসিতে চওড়া একুশ বছরের বুক উমানাথ আজও চোখ বুজলে দেখতে পায়। ততদিনে সংগঠন চুরমার হয়ে গেছে, বিচ্ছিন্নভাবে কিছু গ্রুপ এখানে ওখানে লড়ছে। উমানাথ আর পারছিল না। প্রাণের ভয়ে পুলিশের শর্তে রাজি হয়েছিল। ওকে প্রটেকশন দেবে বলেছিল মাস্তান তপন আর তার দলবল।
কিন্তু মাইতিপাড়ার মোড়ে এসে দ্বারিক খুঁটি পুঁতে দিল। ঠেলা মারলেও এগোয় না। 'আমি মাঠে যাবই। তুই বাড়ি যা।'
এই ঠুনঠুনে মানুষকে একা ছাড়া যায় না। এ কী অবুঝ বুড়ো! আমি তোমার যতই করি, শেষে সেই মাঠেই নিয়ে যাবে, যেন বাঁদরনাচ নাচাচ্ছে! গরম চপ ভাজছিল বক্রেশ্বর মাইতি। আলুর চপ, ফুলুরি, ডিমের ডেভিলের গন্ধ পাশের ফাঁকা পার্কের বিবেকানন্দ মঞ্চ ছাড়িয়ে আকাশের দিকে গোল্লা পাকিয়ে পাকিয়ে উঠছে। দ্বারিকের ছেলেমানুষের মত লোভ আছে ভাজাপোড়ার দিকে। এর আগে অনেকবার উমানাথের দোকানে এসে বসেছে, সে তখন খদ্দের সামলাতে ব্যস্ত।
'কী কাকা সন্ধেবেলা বেরলে কেন? রাস্তাঘাটে কে কোথায় ধাক্কা মারবে!'
'বক্কেশ্বর আজ হিং-ফোড়ন দিয়েছে চপের ভেতর। বুঝলি? লালা চলে আসবে জিভে।' আহ্লাদমাখা হাসিতে জবাব দিয়েছে দ্বারিক।
ড্রয়ার খুলে পাঁচটাকা বার করে তার হাতে দিয়ে উমানাথ বলেছে, 'পেট ছাড়লে আমি দেখতে আসব না।'
'আসবি না কী রে বাপা! তুই না আসলে হবে? তুই ছাড়া আছেটা কে?' বকবক করতে করতে দ্বারিক ততক্ষণে রাস্তা পেরিয়ে গেছে। উপস্থিত খদ্দেরদের মধ্যে পুরনো লোক যারা, কেউ চুকচুক করেছে, 'কী অবস্থা হয়েছে সরকারকাকার!' তারপর টেরা চোখে তাকিয়েছে উমানাথের দিকে। এসব দৃষ্টির সংগে ওঠাবসা স্নানখাওয়া করে করে অভ্যস্ত উমানাথ তখন দোকানের ছেলেটাকে নিরাসক্ত নির্দেশ দিচ্ছে 'পাঁচশো বিউলির ডাল, বাঁদিকের নতুন প্যাকেট থেকে বার কর।' সবাই জানে, খোঁচড় উমানাথ পিণ্টুকে ধরিয়ে দিয়েছিল। আগে আগে, তাও অনেক আগে, উমানাথের ছেলে তখন জন্মায়নি, জন্মালেও হামাগুড়ি দিচ্ছে বলা যায়, ওদের বাড়ির দরজায় চক দিয়ে 'খোঁচড়' লিখে আসত পাড়ার ছেলের দল। তারপর আস্তে আস্তে তারাও বুড়ো হল, মাসের শেষে ধারে চারটে ডিম কি পঞ্চাশ গ্রাম পোস্ত আর কোথায় বা পাবে! উমানাথের ছেলেও স্থানীয় ব্রজমোহন ইশকুলে ঢুকল। পাড়ার আন্ডার ফিফটিন ফুটবল টুর্নামেন্ট হোক কি সরস্বতীপুজোর চাঁদা তোলা, কেউ তাকে বাবা নিয়ে খোঁটা পাড়েনি। পাড়লেও, উমানাথ জানেনি। জানলেও, কীই বা করত!
কিন্তু আজ আলুর চপের লোভ দেখিয়েও হল না। দ্বারিক মাঠে যাবেই। অগত্যা উমানাথকেও যেতে হল। মাঠ এখন ছোট হয়ে এসেছে। সামনের পুকুরের গায়ে ভেসে রয়েছে ডায়মন্ড সিটির ঝকমকে শরীর। বাবলাঝাড়, কাপাস ও কয়েকটা ছোটখাট ঝোপঝাড়। ওপারটায় ইটখোলার মাঠ ভরে গেছে বাড়ি আর ছোট ছোট ফ্ল্যাটে। তাদের মাথার ওপর দিয়ে একটা জোলো হাওয়া ভেসে আসছিল, পুকুরের জলে ভেঙে গিয়ে ছিটকে পড়ছিল মাঠের ওপর। পাশের বস্তিটা থেকে বাংলা সিরিয়ালের টিউন আসছে। রাস্তা আর শেষ হল না। আড়তের লোকও ফিরে যাবে। দোকানের ছোঁড়াটার নাক ডাকানো ঘুম কেউ ভাঙাতে আসবে না।
গোলপোস্টের পাশেই কাদার ওপর একটা কংক্রিটের বেদি, শহিদবেদি করবে যারা ভেবেছিল তারা ভুলে গিয়েছিল, মাথা দিয়ে রড বেরিয়ে আছে। দ্বারিক জুত করে বসে হাত তুলল, 'ডানদিকে ওই যে গোলমত ন্যাড়া জায়গাটা, ওখানে পিন্টুকে মার্ডার করেছিল।'
মাঝে মাঝে মনে হয়, বুড়ো এগুলো বলতে আনন্দ পায়। ও কি ভাবে যে ফেনিয়ে ফেনিয়ে গল্প করলে শোক কাটবে? কেই বা আর মনে রেখেছে, সে কতক্কাল হয়ে গেল! পুকুরপাড়ের দিকে এগিয়ে গেল উমানাথ। ঝোপঝাড় দিয়ে এই সময় সরসর করে গিরগিটি উঠে আসে। তখন পুকুরের জল আরেকটু নীল লাগে, যেন ভরন্ত পোয়াতি আকাশ এবার ঝাঁপিয়ে নেমে আসবে। বুড়ো বকবক করতে চায় করুক, পাত্তা না দিলেই হল।
কিন্তু দিতেই হল। দ্বারিক হেঁকে উঠল, 'তুই কি পুলিশকে বলে দিয়েছিলি, এখানে এনে মারতে?'
'আমি কিছুই বলিনি', তেলেবেগুনে জ্বলে উঠল উমানাথ, আর কাঁহাতক সহ্য করতে পারে একটা মানুষ পাড়ায়, বাড়িতে, চায়ের দোকানে সর্বত্র দ্বারিক সাতকাহন করে বলবে, আর তাকে শুনে যেতে হবে চুপচাপ, এ কি ইয়ার্কি নাকি? তারও তো আটষট্টি হল--'আমাকে বলেছিল, পিণ্টু এলাকাতে আসলে খবর দিতে। আমি তখন তপন মস্তানের প্রটেকশন নিয়ে ঢুকেছি। বুঝলে? পিন্টুর খবর না দিলে প্রথমে মারত তপন, মেরে হাত পা ভেঙে রেখে দিত, তারপর মারত পুলিশ, ওরা প্রাণেই মেরে দিত। বলেছিল শ্যামল মরে যাবার কেসে আমাকে ফাঁসিয়ে দিয়ে শুট করে দেবে। আমার জায়গাতে পিন্টু থাকলে কী করত? কে কত মহান দেখা আছে কাকা! তুমি যে রোজ রোজ কানের কাছে এই এক প্যাঁচাল পাড়ো, সেই তো আমারই খাও, আমারই পরো। আমার হাত থেকে টাকা নিতে লজ্জা করে না? খোঁচড়ের পয়সাতে ডাক্তার দেখিয়ে আসতে তখন ছেলের কথা মনে পড়ে না?'
'তুই দিস কেন টাকা? আমি চেয়েছি?' ভাঙা গলায় বলল। কাঁদছে কি? অনেকদিন হল কান্নাকাটি করেনি তো ! দ্বারিক আস্তে আস্তে হেঁটে কাপাস গাছের ঝুপসি ছায়ায় এগিয়ে গেল। অন্ধকারে তার অবয়ব বোঝা যাচ্ছিল না।
'আমি কেন দিই? তুমি হাত পেতে নাও না? না দিলে অনাহারে মরতে তোমরা। কাকির স্ট্রোক হবার পর, কে বুক দিয়ে আগলেছিল? দিনরাত এক করে ডাক্তার হাসপাতাল ওষুধ রান্নার ব্যবস্থা, করেছিলটা কে? তুমি নির্লজ্জ বেহায়া মাইরি !'
'আর তুই খোঁচড়! পুলিশের পা চাটা কুত্তা একটা!'
'বেশ করেছি! বেশ করেছি আমি!' চেঁচিয়ে উঠল উমানাথ, 'আমাকেই কেন বারবার দোষী থাকতে হবে! সারাজীবন ধরে পাগল ছাগলের দায়িত্ব নিয়ে যেতে হবে! কেউ তো বলেনি আমাকে ! বেশ করেছি শালা খোঁচড় হয়েছি। দরকার পড়লে আবার হব--' উত্তেজনায় মাটিতে পা দিয়ে আঘাত করতে গিয়ে বুঝল পিচ্ছিল এঁটেল জমি। সড় সড় করে পুকুরপাড় দিয়ে নেমে যাবার সময়ে খেয়াল করে দেখল, আশেপাশে ঘাসকেউটের বাসা আছে কী না।
উঠে দাঁড়াতে গিয়ে একবারে পারল না, বুড়োহাড়ে কোথায় কী চোট লেগেছে কে জানে! কাঁটাঝোপে জামা আটকে না গেলে পুকুরেই গিয়ে পড়ত। বুঝভুম্বুল উমানাথ বসে বসেই দেখল মাইতিপাড়ার মাঠ আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে। তারও কি শেষে মানিক ঘোষের দশা হবে? এখানেই ওরা পিন্টুকে এনেছিল। একটাই বুলেট, সোজা মাথায়। হাত বাঁধা ছিল গামছা দিয়ে। উমানাথ দুদিন বাড়ি থেকে বেরয়নি। ঘর অন্ধকার করে চুপচাপ বসে থাকত সারাদিন। তিনদিনের মাথায় তপন এসে বলল, 'এলাকা গরম আছে। টিকিট কেটে দিচ্ছি, পাটনা চলে যা। এরপর কিছু হলে আমি বাঁচাতে পারব না।' পেছনের মাঠ বাড়তে বাড়তে রাস্তায় গিয়ে ঠেকবে নাকি? এ কি অদ্ভুত খেলায় দ্বারিক নিয়ে গিয়ে ফেলল তাকে!
'কাকা!' উমানাথ ফিসফিস করে ডাকল। কাপাসগাছের নিচটায় দলাপাকানো অন্ধকার। দ্বারিক সত্যিই এতদিন কী করে বেঁচে আছে, কেউ জানে না। হয়ত গিয়ে দেখবে ছায়ার মধ্যে ছায়া হয়ে মিলিয়ে গেছে।
দ্বারিক তখন দেখতে পেল, কাদামাখা বুড়োটা উঠতে পারবে না। দুই গাল বেয়ে নামতে থাকা জলের ধারাও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। ঐ লোকটাকে অনেকদিন হল ও চেনে। একটু আগেই হাত ধরে কুদঘাটের রাস্তা পার করিয়েছিল। আপন বাপন চৌকি চাপন করতে করতে দ্বারিক এগিয়ে এল।
তাদের দুজনের মাঝখানে কয়েক বিঘত জমি, সেটুকু পেরিয়ে গেলেই হয়ে যেত। আবছা অন্ধকারে অবয়বটাকে দেখে মনে হল আদিম জন্তু, নড়বড় করছে। উমানাথ ফুঁপিয়ে উঠল একবার। আর তখন পুরনো জামগাছের গন্ধে মাইতিপাড়ার মাঠ, পুকুর, রিয়েল এস্টেট সমস্ত কিছু ভরে উঠল। কষটা, সোঁদা,অনন্ত প্রাচীন।
শহীদবেদী, গোলপোস্ট, কেউটের বাসার ওপর ঝুলে থাকা ভাঙা জ্যোৎস্না দোনোমনো করছিল। চরাচর এখন শান্ত টুপটুপে। কোথাও কেউ নেই। ইচ্ছে করলেই জামকাঠের গন্ধে বুক ভরে নিঃশ্বাস নেওয়া যায়। ·

0 মন্তব্যসমূহ