সারমেয়ীর হাহাকার কিংবা তাকে থামানো বা তাড়ানোর জন্য লোকটার হাম্কি-ধাম্কি, তাড়া অথবা এ সবই তার জরায়ুর রক্তক্ষরণ এবং যন্ত্রণাকে আরো উসকে দেয় যেন। সারমেয়গুলোর জবরদস্তিমূলক পিরিতির পরিণতিতে গেল ভাদরে যারা পোয়াতি তাদেরই এক ও। এখন তার হারিয়ে যাওয়া বাচ্চাদের জন্য কাঁদছে। লোকে কয়, এরা এমন কুই কুই কান্নায় জানান দেয়, এই তল্লাট অভিশপ্ত—ওই, ওই আসছে বালাই। ফলশ্রুতিতে তারা কিনা তাকেই তাড়া করে!

গত বছরও এটি তিন-চারটা বাচ্চা দিয়েছিল; এবং নিরাপত্তা অফিসার যে এখন চিৎকার করছে, যাকে জেনির নির্দয় এক পশুই মনে হয়, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক ও এর আবাসিক এলাকা কুকুরমুক্ত করতে তার কয়েক নিরাপত্তা প্রহরিকে ওই কুকুরি ও তার বাচ্চাদের বস্তাবন্দি করে বস্তাটি এই শিল্প নগরীর মাঝ বরাবর বয়ে চলা নদীতে ফেলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু প্রহরিরা শুধু বাচ্চাদেরই বস্তাবন্দি করতে পারে, ওদের মাকে নয়। তখনও কুকুরি তার বাচ্চাদের রক্ষার জন্য যুদ্ধে নামে, পারে না। অতঃপর তার হারিয়ে যাওয়া বাচ্চাদের জন্য তার অবিরাম কু-ই-কুই কান্না; তবে সেবার সে কান্না—হাহাকার তাকে এমন ভাবে আক্রান্ত করে নি।

ইতিমধ্যে, জেনি গর্ভধারণ করে এবং একটি সন্তানের স্বপ্ন দেখে, কখনও ও একটি মেয়ে, কখনও ও ছেলে;  মেয়ে বা ছেলে—শিশুটি হাসছে, কাঁদছে, ঘুমাচ্ছে, তার বুকের দুধ খাচ্ছে; পরে সে অনুভব করে কেউ তার পেটের ভিতর থেকে হাত-পা ছুঁড়ছে—তখন সে শিশুটির প্রতি দারুণ মায়া অনুভব করে। কিন্তু আল্টাসনোগ্রাফির পর রিপন যখন জানতে পারে যে এটি এক কন্যা শিশু, যেহেতু আদতে মেয়েই তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয় তাই এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা এবং ঘটনাক্রমে জেনির পেটে তার খুব জোরে একটি লাথি কষা।

জেনি জ্ঞান হারায়। মা এবং তার গর্ভের সন্তান উভয়ের বাঁচা-মরার সঙ্কট, ক্লিনিকে সার্জন বলেন, মাকে বাঁচাতে হলে সিজার করে বাচ্চাকে বের করে ফেলতে হবে।

অতঃপর সিজাররের পর তার বাচ্চা কোথায়—জীবিত নাকি মৃত! সে কি গোরস্থানে, না ড্রেনে, নাকি ডাস্টবিনে? কাক, কুকুর কী শেয়াল কি তার শরীর দিয়ে ফিস্ট করছে! সে কি সুন্দর এক মেয়ে হতে পারত না!

এরই মধ্যে, সারমেয়ীটির পাঁচ-পাঁচটা আশ্চর্য সুন্দর সন্তান প্রসব। এমন দুর্দান্ত সব সন্তানের জনক নিশ্চয়ই পরাক্রমশালী কোনো পরদেশি! কিন্তু ক’দিন যেতে না যেতে, একদিকে কর্তৃপক্ষকে সন্তুষ্ট করার জন্য অত্যোৎসাহী কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর কুকুর ও তার ছানাগুলোকে বস্তাবন্দি করার অভিযানে নামা, অন্যদিকে কুকুরির নিজেকে এবং তার বাচ্চাদের রক্ষায় শত্রুদের উপর হামলে পড়া। বেশ কিছু কুকুর তার সাথে যোগ দেয়, তাদের সঙ্গে বাচ্চাদের বাবাও থাকতে পারে—প্রাণীরাজ্যে অনেক পুরুষও তো অভিভাবকত্বে অংশ নেয়! তারা ঘেউ ঘেউ চিৎকারে বিক্ষোভে ফেটে পরে, প্রতিপক্ষকে তাড়া করে । তবে কর্মচারীরা কৌশলে ছানাদের বস্তাবন্দি করতে পারে।

তারা তাদের পাশের পাহাড়ের গুহায় ফেলে আসে। তারপর শেয়াল যখন নাদুসনদুস বাচ্চাদের পেয়ে ভোজন উৎসবে মত্ত, আনন্দে হোক্কা-হোয়া গায়, তখন সারমেয়ীটি চিৎকার করে, কাঁদে।

এরই মধ্যে তার স্তন দুধে ওভারলোড! এখন ও কী করবে ওই দুধ!

ডাক্তার জেনিকে তার স্তন চেপে নিয়মিত দুধ ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে, না হলে ক্যান্সার হতে পারে, এখন সে দুধের অতিরিক্ত চাপের জন্য বুকে গুরুতর অস্বস্তি বোধ করছে, কিন্তু সে স্তন চেপে চেপে বুকের দুধ বের করে দেয়ার মতো মানসিক বা শারীরিক দশায় নেই! রিপন বা অন্য কেউ নেই তাকে সাহায্য করার! তা ছাড়া যদিও ও ডাক্তারের পরামর্শ মতো ওষুধ খাচ্ছে কিন্তু জরায়ুর রক্তপাতও যে বন্ধ হচ্ছে না! এবোর্শনের পর এই ধরনের রক্তপাতের জন্য তার রিমা খালা নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এবং তিনি আর কখনও কনসিভ করতে পারেন নি।

নারীজন্মে, তা সে যে প্রাণিই হোক, জীবনভর এ ভাবে শাপগ্রস্ত হতে থাকাই কি স্বাভাবিক!

কিন্তু প্রায় বছর পঁচেক আগে, এই জীবনই তো তার ছিল না! কীভাবে এটা তার হয়! বংশ পরম্পরায় বংশগতি, যোগ-বিয়োগ করে, নানাভাবে জীবন পরিবর্তনের এমন হরমোন তৈরির জন্য শরীরের এই উর্বর ভূমি তাকে দেয়!

তখন এক সকালে যথারীতি ঘুম থেকে উঠে টয়লেট করতে করতে নুনুর দিকে তার চোখ যায় আর মনে হয় এবং মনে হতেই থাকে এটা ছোট হয়ে গেছে—ভেন্টিলেটর দিয়ে আসা সকালের রোদ যেখানটায় যোনির ছাঁচ হয়ে পড়ে আছে তার স্বচ্ছ আলোয় বারবার ও তার নুনুটাকে নেড়েচেড়ে যাচাই করে, ঠিক যেন তা-ই! সহসাই এও মনে পড়ে, অনেকদিন তার হস্তমৈথুন করা হয় না—কিন্তু কেন! তার কণ্ঠও বদলে কেমন মেয়েলি বাঁক নিচ্ছে যেন! বয়ঃসন্ধিতে ছেলে শিশুর গলা ভেঙ্গে যেমন পাল্টায়, এ যেন তার বিপরীত!

কয়েকদিন ধরে এমন একটা দুশ্চিন্তা চেপে রাখতে রাখতে ও ভাবে, এমন ঘটনা কিভাবে, আর কতদিন চাপা বা গুটিয়ে রাখা! আর এটা কি ঠিক! কাউকে না বলার শর্ত আদায় করে তা সে প্রথম রুমমেট রিপনকে তা বলতে লাগে। চোখমুখে সিরিয়াস ভাব নিয়ে শুনতে শুনতে চাপা কৌতুক তার মেকি ভাব চিরে ঝিলিক মারে।

স্বাগতম, অবশেষে রিপন বলে, আমি মনে করি তুমি যদি একজন নারীই হও তাইলে তুমি একজন খুব সুন্দরী যুবতী হইবা!

শরীরে-চেতনে এমন গূঢ় রসায়ন, তার অদ্ভুত সব প্রকাশ—কীভাবে ও মোকাবেলা করে, সে কিংকর্তব্যবিমূঢ়!

এবং ওদিকে বিষয়টি যেন একটি ওপেন-সিক্রেট হয়ে উঠছে! হতে পারে, এতে মুখ্য ভূমিকায় রিপন। তাকে সমস্যাটি বলার পর পরই ও অনিশ্চয়তা এবং ঝুঁকি বোধ করে। এবং ও তাকে এটি কাউকে না বলার ওয়াদা করার জন্য আবারো চাপ দেয়। রিপন প্রতিশ্রুতি দেয় এবং হয়ত সে চেষ্টাও করে কিন্তু নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। প্রথমত, সে কাউকে হয়ত বলে, আমি তোমারে একটা মজার গোপন কথা বলছি, অবশ্যই কাউরে বলবা না কিন্তু। সেই মেয়ের মতো, যে তার প্রেমিককে বলে, আমি শুধু তোমাকেই ভালোবাসি; এবং তারপরে সে তার ১০ প্রেমিককে এটিই বলে, রিপনও তাই!

এরই মধ্যে, তার এই দৈহিক পরিবর্তন নিশ্চয়ই নিয়ন্ত্রণের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে! তার কণ্ঠ, চলন-বলন-তাকান তার হোস্টেলের—কলেজের ছাত্রদের কেমন পরিহাসে প্ররোচিত করে। তাতে তার ওপর যে কেবল আরো লাজ-শরম আছর করে এবং ওরা তা দেখে আরো মজা পায় তা-ই নয়, সে বোঝে, তারা চকিতে দেখে, দেখে উপভোগও করে তার চোখের চকিৎ চাহনির চিকন বিদ্যুৎ।

এই ধরনের বিষয় কীভাবে মোকাবেলা করা যেতে পারে—ও সমস্যাটির সঙ্গে সম্পর্কিত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সন্ধান করে এবং এক পর্যায়ে একজন প্রখ্যাত গ্রন্থি ও হরমোন বিশেষজ্ঞের সন্ধান পায়।

ইস্ট্রোজেন! এগুলো সবই এমন হরমোনের একশন! যৌবনদীপ্ত এন্ডোক্রিনোলজিস্ট তার কয়েক লাইনের ভূমিকা থেকেই যেন বিষয়টি পুরো বুঝেন এবং বলেন, সেক্স-চেঞ্জের এই হরমোন যাতে তোমার বডিতে গ্রৌ করতে না পারে তার জন্য এই এন্টি-ডোজগুলি দিলাম। আর সাইকোলজিক্যাল ট্রিটমেন্ট—মেয়েদের আপন ভাবনা থেকে দূরে রাখ, বিশেষত তাদের স্তন, যোনি, পাছা মাথায় আনবা না। যদি আন তাইলে কিন্তু সেইসবের বিকাশ ঘটবে তোমার শরীরে—যথাস্থানে। আর সেক্স করার চিন্তা তো করবাই না—তোমার কোন গার্লফ্রেন্ড আছে?

তার সহপাঠী আনিকার প্রতি তার প্রবল ক্রাশ ছিল। কল্পনায় ও তার সঙ্গে আড্ডা দেয়, আদর করে, চুমো খায়—এর মধ্য দিয়ে হস্তমৈথুনও করে। সম্প্রতি তা আর করা হয় নি। বিশেষজ্ঞের প্রশ্নের মুখে এখন সে চুপ।

যদি এমন কোনো মেয়ে থাকে যাকে তুমি ভালোবাস, সেক্স করেছ, যদি তুমি এই আপদ থেকে বাঁচতে চাও, তাকে ত্যাগ কর এবং মুছে ফেল মন থেকেও।

নারীর প্রতি আকর্ষণ পুরুষত্বের মৌলিক বৈশিষ্ট্য—ও দ্বিধায়, কিন্তু এ যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ, নিশ্চয়ই এ তার অধিত—অর্জিত বিদ্যার প্রয়োগ!

পরের সেশনে এন্ডোক্রিনোলজিস্ট তাকে নগ্ন করে দেখে, দেখে পরামর্শ দেন, শক্ত, পুরুষালি কণ্ঠে কথা বল: ভাব তোমার লিঙ্গ এখনও ততটা বড়, ততটা শক্তিশালী যতটা এটা উত্তেজিত অবস্থায় আগে।

এ পরামর্শ যে তার আগের কাউন্সিলিঙ ধারার বিপরীত! ও কি তার গিনিপিগ! হতে পারে, তার মন ও শরীরে পৌরুষ জাগ্রত এবং সক্রিয় রাখার জন্য এ পর্যায়ে এই অনুশীলনই যথার্থ!

কিন্তু তার এমন পরস্পর বিরোধী ট্রিটমেন্টের জন্যই হোক কিংবা হরমোনের আধিপত্যের জন্যই হোক তার আগের অবস্থায় ফিরতে থাকা দূরে, স্ত্রীলিঙ্গমুখি মনোদৈহিক যাত্রা যেন তার মধ্যে বেগবান। তো নির্ধারিত পরের সেশনের আগেই সে বিশেষজ্ঞটির স্মরণাপন্ন হয়।  

তিনি তাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেন, তুমি কি যুবতী হতে চাও?

হয়ত! কিন্তু সে কিছুই বলতে পারে না। তবে ডাক্তার নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন বিষয়টি এখন যে পর্যায়ে তার আসলে বাধা দেয়ার সুযোগ নেই। কিংবা তিনিও তারই মতো তার মধ্যে এক সম্পন্ন নারীকেই দেখতে চান!

যদি তুমি পরিপূর্ণ নারী হতে চাও, আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি। কিছু সার্জারির প্রয়োজন হবে। ভ্যাজিনোপ্লাস্টির মাধ্যমে তোমার বিদ্যমান যৌনাঙ্গের টিস্যু ব্যবহার করে যোনি, ভগাঙ্কুর, ল্যাবিয়া মেজোরা এবং ল্যাবিয়া মাইনোরা তৈরি করা যেতে পারে। এছাড়াও, অন্যান্য পরিবর্তন সম্ভব কিন্তু এর জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন!

এমন কাটা-ছেঁড়ায়ই তার আতঙ্ক। তার ওপর এত অর্থের যোগান তার পক্ষে অসম্ভব।

তার পরের সেশনেই বিশেষজ্ঞ বলেন, এখনই যদি প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার না করা হয় যাতে তুমি এক পূর্ণাঙ্গ নারী হতে পার, তাইলে কিন্তু বিষয়টি জটিল দিকে মোড় নিতে পারে। তুমি কি বৃহন্নলা শব্দের মানে জান?

তিনি কি তাকে ভয় দেখাচ্ছেন! কোনো বাব-মার সন্তান নপুংসক, হিজড়া, খোজা হলে তারা তাকে ওদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ছেড়ে আসে। এক অমানবিক পরিবেশে শিশুটি ধীরে ধীরে মূল ভুলে ওই সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিশে নাচ-গান, ভিক্ষে, নানা ছ্যাঁচড়ামি করে জীবন চালায়। হিজরা নাচ—হিজরা সংস্কৃতি বলে টার্ম আছে। ‘জাতীয় লোক-সংস্কৃতি উৎসবে’ তৃতীয় লিঙ্গের উপস্থাপনার জন্য একটি সন্ধ্যাও আছে। গত বছর রিপনের সঙ্গে ও এটি উপভোগ করেছিল। তো তার ভাবষ্যৎ যে কী!

একবার সিরিয়াল নিয়ে যখন সে বিশেষজ্ঞটির সঙ্গে দেখা করার জন্য ওয়েটিং রুমে প্রতীক্ষমান তখন এক যুবতী তার পাশের যুবককে বলছে, লোকটা মনে হয় কসাই!

ঠিক তাই, যুবক সায় দেয়, হরমোন বিশেষজ্ঞ হলে কী হবে টাকার জন্য রোগীকে সিজারের দিকে ঠেলে দেয়।

এরপর ও অন্য এক এন্ডোক্রিনোলজিস্টের দ্বারস্থ হয়।

নো, আপাতত কোনো প্লাস্টিক সার্জারি নয়, যদি না ফের তুমি পুরুষই হতে চাও, এখন পর্যন্ত যেহেতু কোনো সমস্যা দেখা যাচ্ছে না, তিনি বলেন, তবে তোমার নিয়মিত আমার পর্যবেক্ষণে থাকা জরুরি।

এখন সে সব সময় তার পরিবর্তনগুলি লক্ষ্য করে এবং একটি মেয়ে হওয়ার চিন্তা করে।

এরই মধ্যে বিষয়টি অতি-সংবেদনশীল এক উত্তেজনায় পরিণত হয়ে তা এই ছাত্রাবাস এবং কলেজ সীমা ছাড়িয়ে আশপাশের সমাজে এক মুখরোচক গল্পের সৃষ্টি করে; এবং নিছক তা নয়, তারা তাকে দেখতে এসে তাকে ঘিরে ভারি বিব্রতকর দশার সৃষ্টি করে।

এদিকে তার মধ্যে যেন স্ত্রী হরমোনের একচ্ছত্র আধিপত্য—কোনো বাধা-বিপত্তি তার গতিপথে দাঁড়াতে পারে না। কোনো অস্ত্রোপচর, বাহ্যিক কোনো প্রভাবকের ধার না ধেরে তা এক পূর্ণাঙ্গ বিপ্লবের দিকে, তবে ধীরে!

যখন তার মধ্যে এমনটি ঘটছে, তার মনে হয়, তখন তার রুমমেট রিপন নিদ্রায়-অনিদ্রায়, জাগরণে সারাক্ষণ এক কামস্বপ্নের ঘোরে। বছর দেড়েক আগে, রিপন একবার তাকে পতিতালয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়, সেখানে তারা একজন পতিতাকে হার অনুযায়ী টাকা দেবে শুধুমাত্র তার যোনি, স্তন এবং শরীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য—কীভাবে সব এমন এক উপভোগ্য উৎস হিসাবে কাজ করে। সেটা তাদের করা হয়ে ওঠে নি, এখন তাকে ঘিরে রিপনের সেই ইচ্ছা নিশ্চয়ই দুর্দম্য প্রতীক্ষায়—তা বিবর্তিত এক সম্পন্ন নারী দেহ ভোগ পর্যন্ত গড়াচ্ছে!

এদিকে তার পুরুষাঙ্গ বিলুপ্ত হতে চলেছে। দেহময় ঘটছে এক নারীত্বের উত্থান।

তুমি নারীজন্মকে গ্রহণ কর, এ পর্যায়ে বিশেষজ্ঞের কাউন্সিলিং, নতুন জীবনকে স্বাগত জানাও। কল্পনায় উপভোগ কর—যুবক তোমার কোমল স্তন মন্থন করে ছড়িয়ে দিচ্ছে অসীম আনন্দ, দেবতা যেমন সমুদ্র মন্থন করে পান করে অমৃত, মনে কর হেঁট-মুণ্ডু-ঊর্ধ্বপদ এক ভ্রুণ তোমার জরায়ুতে, অনুভব কর সেখানে তোমার শিশুর নড়াচড়া,...

তিনি স্ত্রী-হরমোন উৎপাদনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে এমন ঔষধর দেন। কিন্তু ও তা খায় না—তার মনে হয়, লেট দ্য ন্যাচার টু টেইক ইট ওউন কোর্স।  

এরই মধ্যে কলেজ ও হোস্টেলে শিক্ষার্থীদের কৌতূহল এমন অদ্ভুত পর্যায়ে যে তার মলত্যাগও কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা কেবল তার বেড বা বাথরুমে উঁকিঝুঁকিই দেয় না, একজন তো একবার আৎকা ধাক্কায় লাগানো টয়লেটের ছিট্কানি বাঁকিয়ে দরজা খুলে এক ঝলক দেখে নেয় তার রূপান্তরশীল যৌনাঙ্গ! এই অবস্থায় হোস্টেলে কী করে থাকে ও!

তার মনে হয়, আমি যদি আত্মহত্যা করতে পারতাম—এটা যৌক্তিক। কিন্তু আত্মহত্যা মানেই তো নির্বাণ নয়—আত্মীয়স্বজন, পরিচিত জন, পত্র-পত্রিকা তা মুখরোচক স্টোরি করে তার পুনর্জন্ম ঘটাবে। তাহলে সে যে নারী হতে চায়, সেই ভাল।

কিন্তু এখন আশ্রয়! যদি সে তার নিজের বাড়ি ফিরে যায়—তার বাবা-মা-পরিবার এ পর্যায়ে তারা তাকে কীভাবে নেবে? যদি এমন দুর্ভাবনাকে উপেক্ষা করে ও সেখানে ফিরেই—মফঃস্বল শহর, সেখানে যে ও কোনো বিশেষজ্ঞের দেখভালের মধ্যে থাকতে পারছে না—যদি তা কোনো জটিল দিকেই বাঁক নেয়—পরিনামে ও কোনো তৃতীয় লিঙ্গ-হিজরা-খোজা-নপংসুক! সে মনবেতর জীবন, ঘরহীনতার আতঙ্ক তাকে ঘুণপোকার মতো কুড়ে কুড়ে খায়!

হোস্টেল ছেড়ে ও এই রাজধানীতেই তার মামার বাসায় আশ্রয় নেয়। মামা তার জন্য চিন্তিত। মামী এটাকে যৌন বিকৃতির মতো অত্যন্ত এক নোংরা বিষয় বলেই মনে করেন যেন! তিনি তার ছেলেদের নিয়ে শঙ্কিত—তারা এর নতুন যৌন অঙ্গ সম্পর্কে যেমন আগ্রহী হতে পারে তেমনি উপভোগে! হলে তাদের চরিত্র, জীবন ধ্বংস হয়ে যাবে। 

যাতে ঠিকমতো ও এইচএসসি পরীক্ষাটা দিতে পারে, সেই অজুহাতে রিপন এ বাসায় আসা শুরু করে। কিন্তু ও বুঝতে পারে রিপন আসলে চায় না তার পড়াশোনাই চলুক!

সব বৈপরিত্যের মধ্যেই ও পরীক্ষা দেয়।

এদিকে রিপন একজন দায়িত্ববান বন্ধুর মতো তার সঙ্গে বিশেষজ্ঞের চেম্বারেও যায়, গভীর আগ্রহ নিয়ে বাইরে প্রতীক্ষায় থাকে—বেরোলে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তার সব ডেভেলপমেন্ট জানে!

আপন ডেভেলপমেন্ট—গতিপ্রকৃতি দেখে ও এই পর্যায়ে অনেকটা আস্বস্ত বোধ করে—অন্য কোনো দিকে নয়, তার সবকিছু মসৃণভাবে নারীত্বের দিকেই ধাবিত।   

এক সন্ধ্যায় বিশেষজ্ঞ উপর্যুপরি তার তার স্তন টিপেন, তা করায়ত্ত করার চেষ্টা করেন। তারপর আঙুল দিয়ে যোনি পরীক্ষা করতে করতে তার চোখে-মুখে—দেহে প্রতিক্রিয়া লক্ষ করেন, এবং শেষে হাসিমুখে বলেন, এটা ডরিস লেসিং এর সেই ‘ফাটল’!

ঋতুস্রাব, দাড়ির বিলুপ্তি, জরায়ুর নিখুঁত গঠন নিয়ে কিছু জটিলতা সত্ত্বেও ও মূলত এক যুবতীতে রূপান্তরিত।

তার স্তনের বিকাশেও কিছু সমস্যা—তার বুকে সুপ্ত স্তনের দুই বোঁটা ঘিরে মাংস ধীরে ভাপা পিঠার মত ফুলে ওঠে, ও চাইছিল তা গম্বুজের মতো সুঠাম আকার পাক, কিন্তু তার গ্রৌথ যেন থেমে গেছে।

তুমি যখন পূর্ণ নারীত্বের প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়বে, বিশেষজ্ঞ বলছেন, যেমন একজন পুরুষের হাত তোমার স্তন টিপে আদর করবে—পেষণ-মন্থন করবে, সেক্স করবে, পূর্ণ ঋতুস্রাব হবে, এগুলো স্তনকে পুষ্ট করতে প্রভাবিত করবে। আর তুমি যখন কনসিভ করবে তখন জন্মেই যেন সে বাঁচার সঞ্জিবনী মুখে পায় সেইজন্য গর্ভের জাইগোট লগ্ন থেকেই তোমার সন্তান তোমার স্তন পুষ্ট হতে প্রণোদনা জোগাবে। তারপর ব্রেস্ট-ফিডিং... দেখবে তোমার জীবনের সোনালি সময়ে তুমি একজোড়া নরম, সুন্দর দুর্দান্ত আপেলের মতো নিখুঁত স্তনে কেমন স্তনবতী হয়ে উঠেছ!

এন্ডোক্রিনোলজিস্টের মনে কী! মধ্যবয়স পেরিয়ে বার্ধক্যের দিকে হেলে পড়তে থাকা লোকটি মনে হয়, তার সঙ্গে কথা বলে, তাকে স্পর্শ করে তার যৌবন পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন—সে বিব্রত ও বিরক্ত। পুরনো—রংজ্বলা প্রিন্ট থেকে যেটুকু  পৌরুষ তার উঁকি দেয় তাতে তাকে তার আপন টাইপ বলে বোধ হয় না।

বরং রিপন যখন তার সঙ্গে দেখা করতে আসে আর সেই অতিচেনা রিপনই প্রেমেপড়া যুবকের মতো নার্ভাস ভঙ্গিতে কথা কয়, তার দেহে কী এক শিহরণ খেলে যায়! রিপন যদি সাহস করে তাকে জড়িয়ে ধরে চুমো খেত!

এখন দৃশ্যতও ও যখন এক নারী, ও আর হোস্টেলে ফিরে যেতে পারে না; সর্বোপরি, তার এ পর্যায়ের পড়াশোনাও তো শেষ! রাজধানী ছেড়ে ও তার নিজ শহরে, তার বাবামার কাছে ফিরে যেতে বাধ্য।

সব গুছিয়ে সে নিজ বাসায়ই ফেরে।

উদিত সমস্ত সমস্যা তাকে তার পুরানো বাসায়, চির পরিচিত সমাজে এক নতুন এবং অদ্ভুত আকারে অনুসরণ করে।

এটা তার জন্য খুবই বিব্রতকর যখন সে কারো সামনে উপস্থিত হয়; তারা কৌতূহলী চোখে তার পুরো শরীরে খানাতালাস চালায়। সে সবসময় মানুষের হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করে। এই সময়ে উস্মুক্ত দিগন্ত নামের একটি দৈনিক যখন প্রকাশ করে ‘লিঙ্গ পরিবর্তন—এক যুবক যুবতী হয়েছে’ সে সীমাহীন জন-উপদ্রপের শিকার হয়। লোকজন তার বাড়ির সীমার চারপাশে অপেক্ষা করে এবং যদি সে বারান্দায় আসে, এমনকি জানালার কাছে দাঁড়ায়, তারা তাকে উত্যক্ত করে। ল যাইগা, এমনও বলে। বাধ্য হয়ে তার মা তার চারপাশে একের পর এক পর্দা তুলতে থাকে।

এরা ত দেখতাছি একশভাগই পুরুষ! তার মা তাকে বলে, এবং তারা তোমারে দেখতে পাগল কারণ তুমি একজন বেগানা হইয়া গেছ! আহা, তুমি যদি মেয়ে থেকে ছেলে হইতে তাইলে এত উৎপাত সহ্য করতে হইত না!

তারা যদি যুবতী হিসেবে তার লাবণ্য দেখতে চায় তাহলে দোষ কোথায়! জেনি ভাবে।

এমনকি তাদের অন্দরমহলেও যে তাকে সীমাহীন লজ্জা ও বিব্রতকর অবস্থায় জীবনযাপন করতে হয়!

চারপাশে এত সমস্যা থাকা সত্ত্বেও এখন তার মন পুরুষ কামনা করে। হোস্টেলের পাশের বেডের রিপন তো তার সে-চাওয়ারই অধীর প্রতীক্ষায় ছিল—কবে ও পরিপূর্ণ নারী হয়ে উঠবে! একদা সে তাকে প্রশ্ন করেছিল, তুমি যদি মেয়ে হও আমি তোমারে কি জেনি বলে সম্বোধন করতে পারব! আজ সে তার রুমে দূরে, এক শহরেই নয়! কিন্তু আজ ও তার জেনি ডাক শোনার অধীর প্রতীক্ষায়, কিন্তু... এছাড়া সে আর কি করতে পারে?

তাকে তার চুল কাটতে হবে, কিন্তু নিজের হাতে ক্রমাগত কাটার মধ্য দিয়ে কীভাবে যে তা ববক্যাট স্টাইল হয়ে যায় সে বুঝতে পারে না! আগের পোশাকে যখন ও নিজেকে আয়নায় দেখে—যেন এক আদিবাসী যুবতী, যেমনটা ফ্যাশন সোতে! তার কি শাড়ি পরা উচিত? মা অবশ্য তাকে দুটি ব্যবহৃত শাড়ি দেন।

একদিন রিপন তাদের বাসায় হাজির। সে এতটাই নার্ভাস হয়ে যায়, এত ভয় পায় যে সে শামুকের মতো নিজের মধ্যে কুঁকড়ে যায়। কারণ, প্রায় তিন বছর আগে শুক্রবার দুপুরে তাদের ডোরবেল বাজলে তার বাবা দরজা খুললেন এবং একজন অচেনা যুবককে দেখতে পেলেন যে স্মার্ট পোশাক পরে এসেছে—ইস্ত্রি করা শার্ট-প্যান্ট, শ্যাম্পু করা চুল এবং যুবকটি যখন জানতে চায় নাইমা আছে কি না বাবা কোনো জবাবই দেন না!

আমি নিমার ক্লাস ফ্রেন্ড, বাবার হাবভাব দেখে সে ঘাবড়ে গিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করে, ও ত দুদিন কলেজে যায় নাই, তাই আমি ওই দুইদিনে নোটগুলা দিতে আসছি।

পাড়া-প্রতিবেশিরা যদি দেখে তাহলে... তা যথার্থ প্রয়োজনেই হোক, উছিলাই হোক, এভাবে বাসায় এসে হাজির হওয়াটাকে বাবা ইজ্জত-সম্মান নিয়ে বাদরামি বিবেচনা করেন। এবং তিনি যে নাইমাকে কেবল যুবকের সঙ্গে দেখা করতে দেন নি তা নয় বরং তাকে কঠোরভাবে তার পড়াশোনা বন্ধ করার হুমকিও দেন।

এখন রিপনের সঙ্গে কী ঘটবে!

কোনো আপত্তি বা মিসবিহেভ তো দূরে, তার বাবা ও মা উভয়েই রিপনের সঙ্গে এমন সুন্দর ব্যবহার করেন যেন তারা যথার্থই প্রগতিশীল। তারা তাকে মাঝে মাঝে বেড়াতে আসতে বলে।

রিপন কয়েকদিনের মধ্যে আবার আসে। ও কীভাবে যেন তুই থেকে তুমিতে এসে পড়ে এবং হয়ত একটা প্রস্তুতি নিয়েই তাকে জনের বদলে জেনি বলে ডাকে। এই ডাকে খুব লজ্জাবোধ করে ও। রিপনকে মা-বাবা, বাবা-মাকে অন্যরা ফলো করে—রিপন তাকে জেনি নামের ভূষণ পড়ায়। 

বর্ষার এই দিনগুলোয় প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে, তার মনে হয়, আমি যদি গোলাপী জিন্সের প্যান্ট বা স্কার্ট এবং টপস পরতে পারতাম! কিন্তু যৌবনের শুরু থেকেই ও যে নীল পছন্দ করত।

রিপন তার টিউশানির উপার্জন থেকে তাকে বিচিত্র প্রিন্টের পাজামা, কামিজ, ওড়না এবং একটি হিজাব উপহার দেয়।

নিছক এমন উপহার নয়, জেনি বোঝে, রিপন যদি তাকে নিয়ে সে কেটে পড়ত তার বাবা-মা কী উদ্ধারই-না হত!

এরই মধ্যে রিপন তার অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ততার কথা বলে। ঘন কোয়াশায় রোদ আটকে কীভাবে সময় চলে যায় অনেকে যেমন বুঝতে পারে না, এও যেন তেমনই! তারও তো আজ লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা ছিল! অথচ তার যে পড়াই হচ্ছে না!

ও তার মাকে বলে, ইতিমধ্যে আমি আমার পড়াশোনায় অনেক পিছায়া গেছি!

কলেজের পরীক্ষায় তুমি রিপনের চে অনেক ভাল করছিলা কিন্তু এটা খুবই দুঃখের... 

যা হোক, এখন কি মা আমি ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হইতে পারি?

তোমার পড়ালেখার আর কী দরকার!

আমি স্বাবলম্বী হতে চাই।

না, তার মা গুরুতর বিরক্ত।

পড়াশোনা শেষে আমি একটা চাকরি করব আর সামর্থ্য অনুযায়ী আমাদের পরিবারকে।

তার দরকার নাই বরং তুমি একটা স্বামী খুঁইজা নিয়া আমরারে উদ্ধার কর।

রিপন এলে তার বাবা-মা ওকেও আভাসে-ইঙ্গিতে তাকে বিয়ে করতে বলছে। এমনকি সে রিপনকে ভজিয়ে কেটে না পড়তে পারার জন্য তাকে হিজড়া বলে গাল দিতে কসুর করছে না।

অতিষ্ট হয়ে সরাসরি ও রিপনকে বিয়ের কথা পাড়ে।

রিপনের অভিমত, এমএ পরীক্ষার পর বিসিএসের মাধ্যমে চাকরি পেয়েইনা আমি বিয়ে করতে পারি।

এভাবে তোমার আসা-যাওয়ায় পড়ায় আমরার খুব বদনাম রটতেছে, মা রিপনকে সরাসরি বলে, বরং যখন ওরে তুমি বিয়ে করতে পারবা তখন একবারেই আস।

এরপর কিছু দিনের মধ্যেই কি হয়, তাকে উদ্ধার করতে কিংবা তা তারই ভিতরের তাড়া, রিপন তাকে গোপনে বিয়ের প্রস্তাব দেয়!

ওরা মাকে সালাম করে যথারীতি বিয়ে করতে যায়।

বিয়ে হয়ে গেলেও মা-বাবার মাথা থেকে ভূত নামে না—রিপন কবে ওকে তুলে নিয়ে দায় মুক্ত করবে, রিপনের ফ্যামেলি জেনিকে গ্রহণ করে কিনা বা শেষে রিপনেরই কী মতিগতি হয়!    

রিপন শুধু তার সাথে গোপনে সেক্স করে, এটা ছাড়া, এই পর্যায়ে, সত্যিই, তার কিছু করার নেই!

কিন্তু তার বাবা-মা তাকে তাড়া করা বন্ধ করে না এবং তাকে ছেড়ে স্বামীর সাথে বসবাস করতে গালিগালাজ করে। নিজের ভালোবাসা ও ব্যর্থতা ভুলে যাওয়ার জন্য বাংলা সিনেমার ব্যর্থ প্রেমিক যেমন নেশায় মত্ত হয়, জেনিও সব কষ্ট উপেক্ষা করে বইয়ের মধ্যে ডুবে থাকার চেষ্টা করে।

মাস্টার্স পরীক্ষার পরপরই রিপনের চাকরি পাওয়ার অনেক দিনের প্রচেষ্টা একটা ফল দেয়। সমৃদ্ধ সংসার—সস নামের এনজিও তাকে তার ক্ষুদ্র দাদন গছায় এবং তার সুদাসল আদায়ের চাকরি দেয়।

তার অফিসের কাছেই রিপন একটা সরকারি বাসার একরুম সাবলেট নেয় এবং তারা তাদের দাম্পত্য জীবন শুরু করে।

এ পর্যায়ে রিপনের পরিবার তার রূপান্তরিত এক যুবতীকে বিয়ে করার কথা জানে। তারা এটাকে একটা ক্রাইম বলে মনে করে।

এই বিয়ে আমার সম্মান নষ্ট করেছে, তার বাবা ফতোয়াবাজের মতো ঘোষণা দেন, আমি কখনই তাদের মেনে নেব না। আমি নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ওরে ত্যাজ্যপুত্র করব। আর আমার অন্য ছেলেদের সমস্ত বিষয়-সম্পত্তি লেইখা দিয়া দিব।

এদিকে, জেনি বুঝতে পারে এখানে কেউ তার অতীত জানে না। সে এক অদ্ভুত স্বাধীনতা অনুভব করে: তাদের এক ঘরের সংসার থেকে চারপাশে তাকিয়ে ও মনে করে, এখন সে ঐ রাস্তাগুলোতে হেঁটে যেতে পারবে, বাজারে যেতে পারবে এবং মানুষ ও প্রকৃতি দেখতে পারবে।

সাবলেটের এক রুমের এই সংসারে জেনি আবিষ্কার করে ক্লেদ-গ্লানি-যন্ত্রণার মধ্যে এই জীবন আসলে সুখ এবং সৌন্দর্যে পরিপূণ, তার অতলে আছে অমৃত। তার চরম দুর্দশায় ও যে এতদা আত্মহত্যাকেই নির্বাণ বলে বিবেচনা করত তা ছিল চরম এক ভুল, তখন যদি সে আত্মহত্যা করে বসে আখেরে তা হয় পরিত্রাণহীন চরম পরিতাপের। যথাযথভাবে চললে নারীর জীবন মনে হয় পুরুষের চেয়ে বেশি আনন্দময়, সৌন্দর্যমণ্ডিত!

এখন আমি অন্য স্টুডেন্টের মতো ইউনিভার্সিটিতে যেতে পারি, জেনি ভাবে, তারপর রিপনকে বলে, আমি অনার্সে ভর্তি হব।

মনে হচ্ছে, তুমি নিজে নিজেই সিদ্ধান্ত নিছ!

তাইলে তোমার মতামত!

রিপনের চোখ-মুখ কঠিন এবং সে নিরুত্তর।

এখন রিপন তার যৌন বিকাশের বিষয়ে আরও কৌতূহলী হয়ে উঠেছে।

ও জীববিজ্ঞান পাঠে যোনির একটি অঙ্কন খোলে এবং তার লিঙ্গ পরীক্ষা করে—তার আঙুল দিয়ে সে ভগাঙ্কুর, ল্যাবিয়া মেজোরা এবং ল্যাবিয়া মাইনোরাকে নাড়ায় এবং একজন গবেষকের মতো তার অভিব্যক্তিগুলি পর্যবেক্ষণ করে। তার যৌন অনুভূতির মাধ্যমে জেনি মনে করে সব ঠিক আছে কিন্তু রিপন কী মনে করছে তা সে বুঝতে পারে না।

জেনিও এটা লক্ষ করে, রিপন শুধু তার যৌন অঙ্গে নয়, তার শরীরের উপরও কিছু অনুসন্ধান করে। সে কি তার শরীরে লালিত্যের ঘাটতি খুঁজে পায়, যা নারীর মধ্যে জন্মগতভাবে থাকে, আর সে মনে করে সে বঞ্চিত!

তুমি কি আমাকে নিয়ে অতৃপ্ত? রিপনকে ও প্রশ্ন করে।

নারীর স্তন একটি ক্লাসিক স্থাপত্যের গম্বুজের মতো। যখন আমি তোমার পাশে শুই তখন আমার মনে হয় আমার পাশে শুয়ে আছে এক প্রমোদবালক। এবং আমি তার সঙ্গে সংসার করি, সেক্স করি। আমি এক সমকামী!

তবে আমার বিশ্বাস, আমি আমার ঘাটতি কাটায়া উঠব, হয়ত সময় লাগবে।

কিন্তু ডাক্তার বলেছেন, তোমার স্তনের বিকাশের জন্য তোমার গর্ভধারণ করা উচিত এবং শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত, রিপন তাকে মনে করিয়ে দেয়।

প্রথমত, আমি আমার পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করতে চাই, জেনির কণ্ঠ রিপনের কাছে একটি আল্টিমেটামের মতো শোনাচ্ছে, তারপর আমি আমাদের পরিবারকে কিছুটা সংগঠিত করব, এর মাধ্যমে আমরা ১-২ বছর স্বাধীনভাবে আমাদের জীবন উপভোগ করব। এবং তারপর...

নারী কাজ করলে অর্থ উপার্জন হয়, এটা ঠিক, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়।

এটা মোটেও ঠিক নয়।

স্বামী-সংসারের সেবা ত হয়ই না, ছেলেমেয়ে উচ্ছন্নে যায়, কারণ সময় ম্যানেজ করতে না পারা।

আমি রাঁধব, চুলও বাঁধব, জেনি একটি চ্যালেঞ্জিং বেস থেকে প্রশ্ন করে, তাইলে ঠিক আছে?

রিপন বিব্রত, ভাবে, তারপর বলে, ভর্তি! তার আগে সন্তান জন্ম দিয়া প্রমাণ দেও, তুমি একজন পরিপূর্ণ নারী।

তারপরে রিপন বেডরুমের দেয়ালের চারপাশে প্রদর্শনের জন্য কিছু নিটোল ছেলে শিশুর পোস্টার এবং ছেলে বার্বি ডলের একটি নতুন সংস্করণ কিনে আনে।

রিপন জানে পুরুষ বার্বি ডল তাকে পুরুষ সন্তান জন্ম দিতে প্রভাবিত করবে। জেনি লক্ষ করে, এই বার্বি ডলটি জাপানী তথা পূর্ব এশীয় ককেশীয় মানুষের একটি ছোট সংস্করণ, যার ছোট চোয়াল, লম্বাটে ডিম্বাকৃতির মুখ, গালের হাড়গুলিও নিচে চাপানো, ক্ষুদ্র চোখ—চোখে সেই কুঁতকুতে চাওনি; আজকাল যারা কিনা তাদের নারীদের ছোট স্তন, ছোট চোখ এবং এর কুঁতকুতে দৃষ্টির জন্য তাদের মেয়েদের পছন্দ করে না। এবং সুগঠিত শরীর এবং সূক্ষ¥ নাক, গাল, ঠোঁট, চোখের বিস্তৃত সৌন্দর্যের চিত্তাকর্ষক চেহারা তারা বহু জাতির আমেরিকায় সন্ধান করে এবং পেয়ে গেলে বিয়ে করে। তাই আজকাল জাপানি নারীদের বিয়ের বড় আকাল। তারা স্বজাতির স্বামী পেলেও হচ্ছে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার—সংসার টিকছে না। সে জন্য নারীদের মধ্যে বিয়ে না করে একসাথে থাকার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। কিন্তু সেখানেও নারী পুরুষটির শোষণ-নির্যাতন শিকার। তাহলে নারীরা কী করবে! তো তারা ঝুঁকছে লিভ-টুগেদারের দিকে। কিন্তু সেখানেও পুরুষের আধিপত্য—যা তারা মানতে নারাজ। তবে কি তারা একা থাকবে? কিন্তু সেক্স? তাইলে কি তারা সব লেস্বিয়ান হবে! এমন ভোগান্তি, বিতৃষ্ণা, সংকটের মধ্য দিয়ে আসলে তাদের যৌন-চেতনা গিলে খাচ্ছে গ্লানি, বিতৃষ্ণা আর ক্ষয়ে যাচ্ছে দেহজ-উত্তাপই! আর এরই মধ্যে ধাওয়া করে রিপন তাকে কোথায় পৌছে দেবে!

আমি একটা বাচ্চা চাই, রিপন তাকে চাপ দেয়, আর সেই বাচ্চাটি হবে ছেলে।

তার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী!

তারা যখন সেক্স করত তখন সে সবসময় কনডম ব্যবহার করত। ও ইউনিভার্সিটিতে তার ভর্তির ইচ্ছে জানানোর পর থেকে রিপন এর ব্যবহার স্থগিত করেছে! সে নিশ্চয়ই ভেবেছে, ও মা হলে সর্বদা তার সন্তানদের নিয়ে ব্যস্ত থাকবে, পড়াশোনা ও চাকরির কথা ভাববে না!

কিন্তু গোপনে সে জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খায়।

আজকাল, সে যতই তার ভর্তির কথা বলে তার বিপরীতে তার উপর সন্তান জন্ম দেওয়ার চাপ বাড়ে।

তার সব প্রচেষ্টা কি সন্তানের জন্য নাকি তাকে গৃহবন্দি করার জন্য, নাকি উভয়ই!

যাইহোক, যখন তারা হাঁটতে বা মার্কেটিঙের জন্য বাইরে, তখন সে লক্ষ করে রিপন নারীদের পর্যবেক্ষণ করছে—সে কি নিখুঁত নারীর সন্ধানে!

অন্যদিকে যুবকরাও যে তার কমনীয়তা উপভোগ করে, এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাকে কামুক দৃষ্টিতে দেখে। রিপনও বিষয়টি বুঝতে পারে এবং তাকে হিজাব পরার জন্য চাপ দেয়, এমনকি বাইরে যাওয়ার আগে বোরকাও! কোনো নারী হয়ত এগুলো উপভোগ করতে পারে, সেই সব দৃষ্টি এবং তার চাপ, কিন্তু তার উপায় কী!

এই পর্যায়ে, রিপন তার রাজনৈতিক নেতার তদবিরে একটি পোশাক শিল্পে বেটার একটি চাকরি পায়। তার দায়িত্ব শ্রমিক পরিচালনা, যেখানে ৮০% শ্রমিকই মহিলা।

সান্ধ্য ও রাতের শিফটের শ্রমিকদের তদারকির দায়িত্ব নিয়ে রিপন শিল্প এলাকার সঙ্গে সংযুক্ত পাঁচটি ভবনের একটি থেকে একটা অ্যাপার্টমেন্ট বরাদ্দ পায়।

ও আজকাল প্রায় সবসময় ইন্ড্রাস্টির কাজে ব্যস্ত এবং তার সঙ্গে বাইরে যাওয়ার সময়ই দিতে পারে না। কিন্তু সে তাকে একা বাইরে যেতেও দেয় না। সপ্তাহান্তে কখনো তাকে নিয়ে কিছু সময়ের জন্য বের হলেও সে তাকে অন্তত হিজাব পড়তে বাধ্য করে।

দিনের পর দিন এভাবে বাসায় থেকে থেকে বৌর ফিল করলে শেষে ও একাএকাই বেরোয়, এবং বিনাহিজাবে ।

পুরুষ দেখতে বাইর অইছিলা? সকালে বাসায় ফিরে রিপন তাকে চার্জ করে।

হাঁটতে হাঁটতে ও লেবার-লাইন পর্যন্ত গেছিল, এক কর্মচারীর চোখে পড়লে সে তার স্যারকে রিপোর্ট করে, ম্যাডামরে দেখলাম...

হয়ত এটুকুই! কিন্তু রিপন এমন রি-অ্যাক্ট করছে যেন ও খদ্দের খুঁজতে গেছ্ল। এইরকম ভাবছ যে?

কী রকম ভাবব! তাইলে তুমি আমারে না-লইয়া, আমারে না-কইয়া গেছ কেন?

তুমি কি বুঝতে পার না, এ ফ্লাটটা ইতিমধ্যে কেমনে আমার কাছে জেলখানা হইয়া উঠছে! সে বলে, তুমি বলতে পার আমি এখানে কিভাবে বাস করতে পারি!

আর আমি যে তোমার জন্য আমার আত্মীয়-স্বজন-পরিচিত জগৎ-সংসার সব ছাইড়া একটা অভিযুক্ত পলাতক আসামীর জীবন যাপন করতাছি!

আমি তাইলে সারা জীবন তোমার জন্য তোমার ঘরে বন্দি হইয়া থাকব!

তোমার জন্য কী সেক্রিফাইস আমি করছি সেইটা চিন্তা কইরা দেখছ একবার!

কিন্তু তোমার এত আধিপত্যের মধ্যে আমি তোমার সঙ্গে বাঁচবো কেমনে! তুমি ধার্মিক না, কিন্তু তুমি আমার সঙ্গে যে আচরণ করছ তা এক কট্টর মৌলবাদীর।

দ্যাখ, আমি নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি কিন্তু সেইটা শুধু আমার স্ত্রী বাদ দিয়া।

জেনি ভাবে, পুরুষ জীবনে সে কতটা স্বাধীন ছিল, তার জন্য জমি, জল, বন, আকাশ কোথাও বাধা ছিল না, সে তার ইচ্ছামতো দৌড়াতে, সাঁতার কাটতে, উড়তেও পারত যেন। কিন্তু তখন যে ও আনিকাকে নিয়ে ভবিষ্যৎ রচনা করত তার স্বরূপ কেমন ছিল! আশ্চর্যÑসেখানে যে সেও রিপনের মতো এক আধিপত্যকামী পুরুষ! আর আনিকা তার ভালবাসার শিকলপড়া এক টিপিক্যাল নারী! তো এ শিকল ভাঙার কী উপায়! সে যদি স্বাধীনতার জন্য রিপনের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নামে তখন সে নিশ্চয়ই ব্যঙ্গ করবে, এখনো তুমি পুরুষ না কি হিজড়া!

রিপন কি এখন ইন্ড্রাস্টির অন্য নারীদের সঙ্গে এনগেজ্ড! তাকে সামলাতে হয় বিপুল সংখ্যক নারী শ্রমিক।

তার ওপর, ইতিমধ্যে ও ইংরেজিতেও দক্ষতা অর্জন করেছে। বিদেশী ক্রেতা, এমনকি বিদেশী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মিটিং বা কথা বলার সময় কর্তৃপক্ষ তাকে ডাকে। আর এই শিল্পের প্রধান স্বত্বাধিকারী যিনি একজন মহিলা তিনিও তাকে বাংলোতে ডাকেন।

তার ইয়ং’স গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি—ইজিআই’র মালকিনকে প্রায়ই জেনি দেখে কুকুরসহ ইন্সপেকশন বাংলোর বারান্দায়, তার সামনের লনে—স্টাফ নিয়ে ডেটল সাবান দিয়ে তার কুকুরকে গোছল থেকে নিজ হাতে ফরাসি পারফিউম স্প্রে করছে, সব মিলিয়ে কুকুর সঙ্গ নিয়ে এমন ব্যস্ত মনে হয় পুরুষের চে কুকুরই তার বেশি প্রিয়। আদর করে তিনি এটিকে ‘ম্যাক্স’ বলে ডাকেন। মার্কিন মুল্লুুকে এক জরিপে দেখা যায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী তার স্বামীর চে পোষা কুকুরই বেশি পছন্দ করে। এই যে কয়দিন বাদে-বাদেই এই মালকিন এখানে আসেন সফরসঙ্গী ওই মর্দা পশুটাই, স্বামী নন। তবে তিনি কিনা মার্কিনী না, কোরীয়। হয়ত শিল্পায়ন এবং বাজার অর্থনীতির সঙ্গে তাদের স্বভাবের প্রভাবও গ্রাস করেছে তাকে।

কুকুরছানাগুলিকে বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দেওয়ার পর, দিনে দিনে, মা সারমেয়ীটি তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। এরই মধ্যে আবার তাদের প্রজনন ঋতু। তল্লাটের সারমেয়গুলোকে দেখা গেল তারা বেশ সমাজিক, মনে হল তারাও মানে রুশোর সোসাল কন্ট্রাক্ট কিংবা সংঘম স্মরণং গুচ্ছামি। সুন্দরী পোষা কুকুরী বা অন্য কোনটিকে আকৃষ্ট করতে পুরুষটি তার শরীরে কমনীয় ত্বক এবং সূক্ষ্ম পশম লোমে নিজেকে সজ্জিত করে। তারা সব এ ওর গন্ধ শোঁকছে—যে যার কামগন্ধে উতলা সে তার পিছু নিচ্ছে। এরই মধ্যে দ্বিতীয় প্রেমিকের নজর—ঈর্ষা, প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে লড়াইয়ে নামে—একে অপরকে মারাত্মক কামড়া-কামড়ি। এই পর্যায়ে তারা বরং অত্যন্ত নৃশংস। এরই মধ্যে মাদিটা কিনা পাশকেটে কেটে পড়তে তৎপর, এই অসংযমের-অর্গাজমের দায় যে তাকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গর্ভে ধারণ করতে হয়! উপরন্তু, সন্তান প্রসব থেকে লালন-পালন ওইসবও তারই। এইসবের মধ্যেই তৃতীয় প্রেমিকের আবির্ভাব! এই কামচক্করের এক পর্যায়ে নারীও উত্তেজিত; সুপ্ত চেতন থেকে বাৎসল্যবোধও কি উঁকি দেয়! ইচ্ছা-অনিচ্ছার টানাপোড়েনের মধ্যে তৃতীয় প্রেমিক তাকে পশ্চাতাবদ্ধ করে—আটকে ফেলে যোনির ভিতর পুরুষাঙ্গ স্ফীত করে।

ওদিকে, মালকিনের অভিজাত কুকুরটিও জাত-পাতের তোয়াক্কা না করে বেওয়ারিসগুলোর সঙ্গে সেক্স করতে মরিয়া। সে এতটাই মরিয়া যে সে তার শৃঙ্খল ভাঙার চরম চেষ্টায় লিপ্ত—ডু অর ডাই। ভদ্রমহিলা ওটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে অক্ষম।

তিনি এমন কণ্ঠে রিপনকে ডাকেন যেন তা অতৃপ্ত লালসায় বিকৃত! চার্জ করেন, আমার শিল্পাঞ্চলে রাস্তার কুকুর কী করে এডালচারে লিপ্ত হয়?

তার মানে কি ইতিমধ্যে ওটা কোনোভাবে কোনোটাকে রেপ করে ফেলেছে!

যাক, রিপনের নেতৃত্বে নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিরাপত্তারক্ষীদের নিয়ে মালিকহীন বা রাস্তার কুত্তার পাল শিল্প এলাকায় ঢোকা প্রতিহত করতে যুদ্ধে নামে। কিন্তু রিপন কেন! জেনি তা ভাবে আর অনিয়মিত ঋতুশ্রাবের দুশ্চিন্তায় ক্রমশ অসহিষ্ণু, বদমেজাজি আর সন্দেহগ্রস্ত হয়। রিপন কি তাকে অসম্পূর্ণ বিবেচনা করে সম্পন্ন নারীর স্বাদ নিতে তার মালকিনের সঙ্গে শোয়! সে যে বলেছে, শীঘ্রই ইন্ডাস্ট্রি তাকে তার এজিএমের চেয়ারে বসাচ্ছে—এটা নিশ্চয়ই মালকিনকে তার দেহ দানের পুরস্কার! রিপনকে এখন আর রাতের ডিউটি করতে হয় না কিন্তু মাঝে মাঝে রাতে যে ও বাসায় ফেরে না।

কাইল রাইতে তুমি কোথায় ছিলা? সে তাকে সরাসরি প্রশ্ন করে।

তুমি নিশ্চয়ই মনে কর আমি এক পুরুষ পতিতা হয়ে গেছি!

তার মানে, ঠাকুর ঘরে কে রে? আমি কলা খাই না!

কী! রিপন সহসাই তার চাপায় কঠিন একটা থাপ্পর কষে।

এই আঘাতে তার মাথা ঘুরে যায় এবং সে দেখতে পায় তার বাবার টিনের ছাউনি দেওয়া বিল্ডিং। কিন্তু এক মুহূর্তের মধ্যে, এটি অদৃশ্য হয়ে যায়, সে এর সঙ্গে কোনো যোগসূত্র খুঁজে পায় না—নিঃসীম শূন্যতা। ওই বাড়িতে বাবা এখন পেনশনের টাকায় বাকি দুই ছেলে রনি ও স্বপনের লেখা-পড়া চালাচ্ছে বড় কায়ক্লেশে। সেখানে ও গলগ্রহ হবে? জামাই নিয়ে সে সেথায় বেড়াতে যায় তা-ই তিনি বরদাস্ত করতে পারেন না, তাতে যে এই জেনিই যে রফিক সাইবের ওই জন সেই কলঙ্ক আবার তাদের তল্লাটে সরব হয়।

এরই মধ্যে জেনি লক্ষ্য করে ইউজিআই এর স্বত্বাধিকারীর সঙ্গে ইন্সপেকশন বাংলোয় তিন-তিনটা কুকুরসহ আরো তিন রমণী। তারা ইউরোপীয়। তার বিশ্বাস, এরা কতিপয় আমলা বা সেনা কর্মকর্তাদের অকর্মন্য স্ত্রীদের মতো কোনো কাজ না পেয়ে পরপুরুষ চর্চায় লিপ্ত নয়, তারা এখানে এসেছে স্বামীদের বা উভয়ের যৌথ ব্যবসায়িক স্বার্থে এবং বেড়াতেও! তবে স্বামী নয়, পরপুরুষ তো নয়ই কুকুর নিয়ে এসেছে সমুদ্র সৈকত সমৃদ্ধ নগরীতে। হয়ত আধিপত্যবাদী স্বামী বা তার সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়াতে পারে এমন যে কোনো পুরুষের চে তার  কাছে কুকুরই বেশি নিরাপদ, বিশ্বস্ত, সুন্দর এবং উপভোগ্য।

রিপন আর ও যখন কলেজে পরস্পর ছেলেবন্ধু হোস্টেলে গোপনে একবার তারা একটি পর্নো ভিডিও উপভোগ করে, তারা দেখে, একটি কুকুর তার জিভ দিয়ে একটি সুঠাম যুবতীর যৌনাঙ্গ চাটছে। দেখে দেখে নিজেকে সেক্সি পুরুষ ফলাতে রিপন তাকে কামকাতর ভঙ্গিতে জড়িয়ে ধরে, বলে, ওফ্! এমন সুন্দরী সেক্সি মেয়ে যদি আমি পাইতাম!

এমন কি হয়রে! রিপনকে ও প্রশ্ন করে।

অবশ্যই, ও উত্তর দেয়, না হলে এমন ভিডিও রেকর্ড হয় কীভাবে!

হয়ত মেয়েটিকে জোর করে কাজটা করা হইছে বা মেয়েটি মানসিকভাবে বিকৃত।

যুক্তির মধ্য দিয়ে অবশেষে রিপন স্বীকার করে, এটা নিছক পর্নোগ্রাফি।

রিপনের পাশে শোয়ে এখন আর তার শরীর জাগে না। ঘোরের মধ্যে যখন তার শরীর শরীর চায় এবং ও তাকে জড়িয়ে ধরে তখন যদি কোনোভাবে ঘোর চিড় খায় বা পাতলা হয়ে আসে তার গা কেমন ঘিন ঘিন করে।

তবে রিপনও ইদানিং তার গা ঘেঁষে না বললেই হয়। এর মধ্যে ব্লু-ফিল্মের কুকুর ও যুবতীর কামসহ কুকুরপ্রেমী নারীদের জীবন যাপন নিয়ে তার কৌতূহল—চিন্তা কেবলি গাঢ় হতে থাকে। মডেল, অভিনেত্রী, গায়িকা অবিবাহিত মার্কিন যুবতী প্যারিস হিল্টনের কুকুর প্রেম আর বেপরোয়া গাড়ি চালানোর নানা খবর তাকে কেবলি ভাবায়—কেন ও সাহসী প্যারিস হিলটন হতে পারে না! এই সুযোগে অদ্ভুত এক স্বপ্নভূত বুঝি তাকে আছর করে—

ও দেখে ইন্সপেকশন বাংলোয় দেশি-বিদেশি অনেক মহিলা এসেছে, যাদের প্রত্যেকের সঙ্গে একটি করে পুরুষ কুকুর, কোনো পুরুষ মানুষ নেই। আর সব মিলিয়ে তাদের যা হাবভাব, আশ্চর্য, এ যেন পর্যটন নগরীতে কুকুর আর মানবীর সেক্সট্যুর।

বেড-রুমে একা শোয়ে আছে ও। বাসায় দরজা খোলা—রিপন নয়, এখন কার যেন আসার কথা! সহসাই চোখে পড়ে ইন্সপেকশন বাংলোর একটা ক্রেজি কুকুর তাদের ঘরে ঢুকে পড়েছে—অসাধারণ সুন্দর এক কুকুর এবং এমন শ্রেষ্ঠত্বকে তার অতিপ্রাকৃত বলে বোধ হয়। কুকুরটা তাকে দেখে, বিছানায় উঠে আসে। তার গা থেকে যৌন উত্তেজক ফরাসি পারফিউম প্লে-বয়ের গন্ধ আসে। সারমেয়টা তার শরীর শোঙ্গে। এমনভাবে শোঙ্গে জেনি বোঝে, মানবীর স্পর্শকাতর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চেনা ওর। তার শরীর জাগে। ঘুম থেকে ওঠার আগেই কিংবা এক বোবাধরা দশায় ও তার যোনি লেহন করতে শুরু করে! সে বুঝতে পারছে না কুকুরটা তার শাড়ি আর পেটিকোটটা মুখ দিয়ে খুলে ফেলেছে নাকি পাখার বাতাস সেগুলো উল্টে দিয়েছে! সহসাই জেনির মনে হয়, সে মনিটরে চলমান ব্লু-ফিল্মের চরিত্র মাত্র, রক্তমাংসের কেউ না। এরপর সে বুঝতে পারে, সে সেই সুন্দরী মেয়ে, পর্নো ছবির নায়িকা—বাস্তব। এরই মধ্যে গভীর যৌন সংবেদনের মাধ্যমে, সে এই সমস্ত চিন্তাভাবনা ভুলে যায় এবং অর্গাজমে পৌঁছে!

এরই মধ্যদিয়ে জেনি উপলব্ধি করে, সঙ্গমকালে এমন সুখ রিপন তাকে দেয় না, কখনো দিতে পারে না! শুধু রিপনের সঙ্গম কেন, এতো সুখ তার পুরুষজন্মের কোনো স্বপ্নদোষ কিংবা হস্তমৈথুনেও জোটে নি।

কিন্তু ও বিব্রত। এ সব কী হচ্ছে তার মধ্যে! বিকৃতি?

না—তার থেকে উদ্ধার পেতে হলে তাকে পূর্ণ নারীত্ব লাভের প্রয়াস নিতে হবেÑতাকে মা হতে হবে।

এরই মধ্যে যখন দরজার বেলের অধৈর্য আওয়াজ। সে বুঝতে পারে যে এটি মাতাল রিপনের উন্মাদনা।

রুমে ঢুকেই ও বমি করতে লাগে। বিয়ের পর থেকে বিনাপয়সার গিলার সুযোগ পেলে ও দোচুয়ানি গিলে, তবে সাধারণত পরিমিত মাত্রায়। আজ মনে হয় দামী মদ পেয়ে বেমামাল হয়েছে।

ওয়াশরুমে যাও, কড়া গলায় বলে জেনি।

তুমি যে আচরণ করছ, তাতে প্রমাণ হয় তোমার মধ্যে পুরুষ হরমোন তৈরি হইতাছে।

আরে তুমি কী করেছ, তার জন্য তোমার কী হইতাছে তার বিচার আগে কর।

কী দুঃসাহস—আমারে... রিপন তার দুই হাত জেনির দুই কাঁধে রেখে ঝাঁকি দেয়।

জেনি তার হাত ছাড়িয়ে তাকে বাথরুমে ঠেলে দিতে চাইলে সে তাকে পাল্টা ধাক্কায় বিছানায় ফেলে, বলে, আমার ওপর আধিপত্য ফলাও!

রিপন বিছানায় তার উপর হামলে পড়ে, বলে, দেখাইতাছি মজা।

সে তার সঙ্গে সেক্স করার চেষ্টা করে। কিন্তু সে তা করতে পারে না। অতঃপর সে তার চুল খামচে ধরে এমন জোরে টানে ও লড়াই করার সমস্ত শক্তি হারিয়ে ফেলে। হ্যাঁ, রিপন জানে কীভাবে নারীকে আয়ত্তে নিতে হয়!

তুমি আমারে ধর্ষণ করতেছ, জেনি দাবি করে।

তাইলে আদালতে যাও।

জেনি খবরের কাগজে পড়েছে, এক নারী তার স্বামীর বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতে ধর্ষণ মামলা করেছে।

এখন জেনি বুঝতে পারে, কী করে একজন নারী পুরুষ বিদ্বেষী হয়ে ওঠে এবং পুরুষকে পাগলা কুকুর, বিষাক্ত সাপ, নোংরা শোওর, এমনকি রাক্ষস বা শয়তান ভাবে। তার সমারসেট মমের ছোট গল্প ‘রেইন’ এর সমাপ্তির কথাও মনে আসে; স্যাডি থম্পসনের মতো তারও যে অট্ট হাসিতে ফেটে পড়ে বলতে ইচ্ছ করে, “তোমরা পুরুষ! তুমি নোংরা, নোংরা শূকর! তোমরা সবাই একই, তোমরা সবাই।”

কুকুর প্রেমী নারীর জীবন, কুকুরীর ছানাদের হারানো, বিছানায় ভরা মদ ও অপাচ্য মাংসের বমির মধ্যে তার ধর্ষনের ঘটনা, বিভিন্ন ঋতু পর্বে অনিয়মিত ঋতুস্রাবের মধ্যে এবার মাসিকের সময়সীমা অতিক্রম—মগজে ইত্যাকার কিলবিলানিতে তার বিবমিষা লাগে।।

কিন্তু অদম্য বমি তাকে ঠেলে বেসিনের উপর দাঁড় করালে বমির চাপের সঙ্গে সহসাই তার ভিতর থেকে প্রশ্ন উঠে আসে, আমি কি তবে কন্সিভ করেছি!

বিষয়টা রিপনকে কওয়া দরকার। কিন্তু যদি তার অনুমান সত্যি না হয় ও পরিহাস করবে। তবে গোপনে টেস্ট... যদি সে গোপনে পরীক্ষা করায় এবং রেজাল্ট পজেটিভ হয়, তাকে তার ব্যভিচারিণী ভাবতে—বলতে বাঁধবে না। তারচে বরং ওকে বিষয়টা বলা যাক।

লক্ষণ শুনে রিপনের মধ্যে কেমন চিত্ত-চাঞ্চল্য ঘটে। একি সন্তান লাভের আশা-নিরাশায়, নাকি...

সকালে রিপন তার ইউরিন নিয়ে যায় কোনো ডায়গনস্টিক সেন্টারে। সন্ধ্যার পর যখন ফিরে তখন তার মুখ দেখে আনন্দ, হতাশা কোনোটাই সনাক্ত করতে পারে না ও। সে কোনো প্রশ্নও করতে পারে না—কী যে শুনতে হয়!

এক সময় রিপন রিপোর্টটি তার দিকে বাড়িয়ে দেয়। ও দেখে, প্রেগনেন্সি +

জেনি আনন্দে আত্মহারা।

রিপন দুর্বোধ্য!

ধীরে ধীরে রিপনের নানা মনোভাব প্রকাশ পায়, কিছু অনুমান করা যায়—কন্সিভ করলেও তার শরীর কি ভ্রুণ সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে দিতে সমর্থ হবে, যদি গর্ভপাত নিয়ন্ত্রণ করা যায় তাহলে সে কি সুস্থ ও নিখুঁত সন্তানের জন্ম দিতে পারবে? তার সন্তান প্রতিবন্ধী, হিজড়া বা নপুংসক হতে পারে। আর এই ধাপে তেমন কোনো সমস্যা না হলেও রিসেসিভ ক্যারেক্টার হিসেবে তার বংশধারায় থেকে গেল এবং তার কোনো এক জেনারেশনে তা প্রকাশ পেল! সৌভাগ্যবশত, যদি সেগুলির মধ্যে একটিও না হয় কিন্তু যদি সে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়—ফাটল!

কিন্তু জেনি তার মাতৃত্ব অনুভব করে। ভ্রুণটি তার জরায়ুতে বিকাশ লাভ করছে।

রিপন এমব্রায়োটিকে পুরুষ হওয়ার জন্য প্রভাবিত করতে আরও কিছু ছেলে পুতুল আর ছেলে শিশুর পোস্টার নিয়ে আসে! পুতুল বিছানায়, সোফায়, টেবিলে রাখে, দেয়ালে দেয়ালে সাঁটে পোস্টার।

পুরুষ কী নারী—জেনির প্রার্থনা, আমি নিখুঁত এবং সুস্থ এক শিশু চাই।

কিভাবে সে তার সময় পার করতে পারে শুধু রান্না করে, টিভি দেখে, পুরুষ শিশুর পোস্টার এবং বার্বি ডলের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে! সে স্থানীয় কুত্তা এবং তাদের বাচ্চাদের দেখে। এবার, হয়ত ওই কুকুরীই তিনটি অসাধারণ বাচ্চার জন্ম দিয়েছে। এদের ত্বক বেশ কোমল, পশম সূক্ষ্ম-নরম এবং এদের কান স্থানীয় রাস্তার বা বিপথগামী কুকুরের মতো খাড়া নয়, ঝুলন্ত। তারা বিদেশী কুকুরের ক্রসে হাইব্রিড নিশ্চয়ই। এ শুধু তিনটি বাচ্চার জন্মই দেয় নি, এদের দায়-দায়িত্বও নিয়েছে এবং এদের গভীরভাবে ভাল তো বাসেই। এখন প্রতিদিন সে খাওয়ার জন্য বাইরে যায় এবং বুকের দুধ নিয়ে ফিরে আসে। সে শুধু তাদের খাওয়ায় না, যত্ন করে, খেলা করে, জিভ দিয়ে চেটে সন্তানের দেহ পরিষ্কার করে, এমনকি তাদের কামড়ও আনন্দে সহ্য করে। কিন্তু তাদের বাবা কোথায়! গেলবার যখন তার বাচ্চাদের নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছিল তখন সে তার মানব শত্রুদেরকে কামড়াতে তাড়া করে। তবে জেনি অনিশ্চয়তাও ভোগে—কর্তৃপক্ষ এবার কুকুরছানাদের সঙ্গে কী আচরণ করে! বার্বি ডল নয়, যদি সে এইসব কুকুরছানাদের আদর করতে পারত, তাদের সঙ্গে খেলতে পারত এবং তাদের খাওয়াতে পারত!

মানুষ তার একাকীত্বে পাশে প্রথম কুকুরকেই পায়। কুকুর এখন পশ্চিমের দেশে এত গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী যে তাদের পণ্যের জন্য আলাদা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর আছে, একঘেয়ে খাবার থেকে বিরতির জন্য চাইনিজ রেস্টুরেন্টের মতো বিশেষ হোটেল এবং আছে চিকিৎসার জন্য ক্লিনিক। এর আউটপুট হল যারা কুকুরের সঙ্গ উপভোগ করে তারা কুকুরহীনদের তুলনায় বেশি চাপমুক্ত, এবং কুকুর প্রেমীরা বেশি দিন বাঁচে। ও নিজে একটি কুকুরছানা পোষার কথা রিপনকে বলে।

পশুর ইমেজ এবং প্রভাব বিকৃত, তার জবাব, এই নোংরা শখ জলাতঙ্কের অভিশাপ ডেকে আনতে পারে।

তা যাতে না হয় তার জন্য কুকুর-বেড়ালের তো ভেকসিন আছে! জেনি বলে, তবে যা ও ভাবে বলে না, জলাতঙ্কের ভয় না থাকলে কুকুর পুরুষের চে খারাপ কী!

এবার তার শরীরে কিছু পরিবর্তন ঘটছে। তার পেট, নিতম্বের অবকাঠামো তার গর্ভের শিশুর জায়গা করে দিতে প্রসারিত হচ্ছে এবং শিশুর প্রয়োজনীয় দুধ নিঃসরণের জন্য স্তনেরও গ্রৌথ হচ্ছে।

গর্ভধারণ করে, মনে হয়, ও পূর্ণাঙ্গ মেয়ে বা নারীত্ব পেয়েছে। যখন ও একজন পুরুষ ছিল, ও ছিল মাঝারি উচ্চতার, সুস্থ ফিগারের এবং উজ্জ্বল বাদামী চামড়ার, যা এক যুবতীর জন্য তাদের নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় আদর্শ বিবেচনা করা যেতে পারে। ইতিমধ্যে তার মধ্যে আরও নারীঘটিত সৌন্দর্য যোগ হচ্ছে। এখন সে লক্ষ করে, তার সুন্দর মুখ, স্তন, নিতম্ব, সর্বোপরি তার ফিগারের চুম্বকত্ব পুরুষদের কেমন টানে। কিন্তু কিছুতেই এসব বিকাশ রিপনের নজরে আসে না! তার এই শরীরের প্রতি কেন যে সে উদাসীন!

আপনি কি জানেন, এরই মধ্যে কয় ডজন নারী শ্রমিক আপনার হাজবেন্ডের শারীরিক সম্পর্কের শিকার হইছে, এক মেয়ে তাকে ফোনে বলে, ফাঁদে ফেলতে যে আমারেও হয়রানি করছে!

জেনি লা জবাব।

ইদানিং তাকে অনেক অপ্রত্যাশিত—আপত্তিকর ফোন রিসিভ করতে হচ্ছে!

রিপন স্যারের মতো বড় সাহেব যখন আমার মতো একজন গরীব লোকের বউরে প্রপোজ করে তখন সে কেমন করে প্রতারিত না হয়ে পারে, এবার এক পুরুষ তার কাছে জবাব চায়, বলুন ম্যাডাম!

ফোনে লোকটা কান্না সামাল দিতে পারে না, আম্রার দাম্পত্য প্রেম, বিশ্বাস সবতা ত গেছেই শুধু আমার সন্তানগুলার দিকে চাইয়া তারে ঘরে ফিরতে দেইন।

এজিএম হওয়ার পর নানা কৌশলে নাকি রিপন এই ইন্ডাস্ট্রিকে তার গোপন বৃন্দাবন বানিয়ে ফেলেছে।

জেলাসি। এর জন্য ও রিপনের কোনো কারণ দর্শানো প্রত্যাশা করে না কিন্তু সে ব্যাখ্যা দেয়, যোগ্যতা দিয়া আমার ঠেকাইতে না-পাইরা দাম্পত্য সম্পর্ক ভাঙতে লাগছে।

আর এদিকে ও তাদের অনাগত শিশুর খোঁজখবরও রাখে।

ও জেনির সঙ্গে তার নিয়মিত চেকআপের জন্য ডাক্তারের কাছেও যায়।

তার সন্তান পুরুষ না নারী ও জানতে খুব আগ্রহী!

এরই মধ্যে জেনি অনুভব করে যে তার শিশু তার গর্ভ থেকে হাত-পা ছুঁড়ছে—ও অনন্ত সুখ অনুভব করে! সে কি বের হতে চায়!

রিপনকে জানালে সে বুঝতে পারে শিশুটি লিঙ্গ নির্ধারণের পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ও তাকে নিয়ে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যায়। সে যে তার শিশুটি নারী না পুরুষ তাও জানতে চায় তা ডাক্তার তথা আল্টা-সোনোগ্রাফারকে বিশেষ গুরুত্বসহ বলে।

এটা বেআইনি, অনৈতিকও। আপনি কি জানেন না সারা বিশ্বে মেয়ে শিশু নিধনের পরিসংখ্যান, আল্টা-সোনোগ্রাফার বেশ কঠোর কণ্ঠে বলেন, আমি কখনই এটা করতে পারব না।

কিন্তু আমি জানতে চাই কারণ এই শিশুটি হিজড়া বা নপুংসক হতে পারে, কারণ এর মা পুরুষ থেকে এক রূপান্তরিত নারী।

রিপন জেনির সামনেই তার অতীত এমন খোলাখুলি বলে যে ও খুব বিব্রত বোধ করে।

সে বলে, এই জানানোটা কোনো অপরাধ হবে না কারণ এটা জানা জরুরি এ জন্য যে তা জানলে আগাম কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া যাবে।

আল্টা-সোনোগ্রাফার শেষ পর্যন্ত কঠিনই থাকেন। কিন্তু রিপন আল্টা-সোনোগ্রাফি করায়।

পরদিন রিপন রিপোর্ট পায়।

রিপোর্টে কী আছে, জেনি জানতে চায়।

তুমি এক হিজড়ার জন্ম দিতে যাচ্ছ, ও বলে, ভেরি সেড!

আমারে রিপোর্টটা দেখাও, জেনি চ্যালেজ্ঞ ছোঁড়ে যেন।

এই নেও—দেখ, রিপন রিপোর্টটি তার দিকে বাড়িয়ে বলে, রিপোর্টে তো এইসব লেখে না। তুমি তো আমার লগেই ছিলা, দেখলা তো ওরা কেমন করে! কিন্তু আমি মাল দিয় গোপনে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেইকাই জানছি।

কিন্তু জেনির তাকে চ্যালেজ্ঞ করে না, মনিটর পর্যবেক্ষণ করতে করতে আল্টা-সোনোগ্রাফার যে খুব সন্তোষজনক সুরে রিপনকে বলেছিল, ফাইন—বেবির সবই ঠিক আছে, আপনি অযথা টেনশন করেছেন!

তাই তার সন্দেহ, ও কন্যা সন্তানের জন্ম দিতে যাচ্ছে, তারই জন্য এমন আচরণ করছে রিপন।

রিপন বলে, আমরা হিজড়া, নপুংসক বা প্রতিবন্ধী সন্তানের বাবা-মা হতে পারি না।

তাইলে! জেনি বিব্রত।

এবোর্শন করে ফেলতে হবে।

কিন্তু তৃতীয় লিঙ্গেরও যে বাঁচার অধিকার আছে তা তুমি জান নিশ্চয়ই!

কিন্তু সমাজ, রাষ্ট্র কি তাদের নূনতম মৌলিক অধিকার দিতে পারছে? এর মধ্যে আমি কী ভাবে তার সব ভার নিব।

সেপারেশন, ডিভোর্স বা অন্য কোনো সমস্যা, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তো নারীকেই তাদের সন্তানদের দায়িত্ব নিতে হয়—তো জেনি বলে, হিজড়া, নপুংসক বা প্রতিবন্ধী যাই হউক এ আমার সন্তান, আমি আমার উত্তরাধিকারকে লালন-পালন করব।

তা কী ভাবে করবে সেইটা? রিপনের পরিহাস।

মা-বাবা, অতপর রিপন তাকে ইউনিভার্সিটিতে ভর্তিই হতে দিল না—সন্তান নিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ায় কী ভাবে! আবার যে সন্তানও নিতে হল! এসবের আর কোন উপায় কী বিকল্প কি ছিল!

এই পর্যায়ে এবোর্শনও যে আইনত নিষিদ্ধ তা তুমি জান নিশ্চয়ই! জেনি বলে।

সেই দায় আমার, রিপন আল্টিমেটামের সুরে জানায়, আমি গোপনে একটা ক্লিনিকে ব্যবস্থা করেও ফেলেছি।

আমি জানি, এটা তোমার চালাকি, আমার পেটে তৃতীয় লিঙ্গ বা প্রতিবন্ধী না, তুমি আসলে ঘুষ দিয়া বা কোনো কৌশলে জাইনা ফেলছ ও আসলে মেয়ে তাই...

ধরলাম তাই। কিন্তু আমার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।

ও এখন এক পরিপূর্ণ মানুষ!

হউক।

এইটা খুন! তুমি খুনি হবে? তাও নিজ সন্তানের!

হ্যাঁ, আমি মেয়ে চাই না।

মেয়ের বাবা হওয়ার বিষয়টাকে রিপন জেনির পর আরেক দুর্ভাগ্যের কবলে পড়া বিবেচনা করছে। সে বলে, নারী হয়েও তুমি বুঝ না নারী জন্ম কী!

আমি তারে একটা সুন্দর জীবন দিব। জেনি তার দুই হাত দিয়ে তার পেট ঢেকে রাখে।

তোমারে অবশ্যই আমার সঙ্গে ক্লিনিকে যাইতে হবে। গিয়ে তো দেখ তোমার পেটে আসলে কী অভিশাপ বড় হইছে। সে জেনির হাত ধরে জোরে টান দেয়, চল।

নিজেকে মুক্ত করতে জেনি তাকে জোরে ধাক্কা দেয়। সে মুক্ত হয় বটে কিন্তু রিপন ছিটকে দরজায় লেগে কপালে আঘাত পায়।

কপালে ফেটে রক্ত ছোটে।

রিপন ফিরে তীব্র এক লাথি কষে। লাথি জেনির পেটে আঘাত করে।

জনি মেঝেতে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যায়।

যখন সে জেগে ওঠে, সে তাকে একটি ক্লিনিকে দেখতে পায়। তার তলপেটে অসহ্য যন্ত্রণা, জরায়ু থেকে অবিরাম ঝরছে তাজা রক্ত!

আমি তোমারে মরতে দিতে পারি না, রিপন বলে।

আপনি এবং আপনার শিশু উভয়েই গুরুতরভাবে বিপন্ন, ডাক্তার বলছেন, এখন আমরা কেবল আপনাকে বা আপনার মেয়েকে বাঁচাতে পারি।

তাহলে আমার মেয়েকে বাঁচান।

তোমারই বেঁচে থাকা উচিত, রিপন বলে, তুমি বাঁচলে নিশ্চয়ই ছেলে সন্তানের মা হতে সক্ষম হবে।

মেয়ে শিশুকে কেন এত ভয় রিপনের! ও কি ভাবতে পারে, তার মেয়েকেও জেনির মতো নির্যাতনের শিকার হতে হবে? কিন্তু তার অচেতন গ্রাস করে আছে নারীর অপহরণ, ধর্ষণ, নির্যাতন, হত্যা। কেন আরবরা মধ্যযুগে নারী শিশুদের জীবন্ত কবর দিত, কেন এবং কীভাবে আফ্রিকায় নারীদের খৎনা করাতে বাধ্য করা হয়, আজো কিভাবে এই দক্ষিণ এশিয়ায় নারীরা যৌতুকের বলি... আর এসবই কিনা তাকে এমন বিপথে ঠেলে দিয়েছে!

কিন্তু আমাকে আমার মেয়ের জন্য লড়াই করতেই হবে। পৃথিবীর ইতিহাসে কেউ একা একা মহাযুদ্ধের মুখোমুখি হয় নি। কিন্তু নারীর মাতৃত্বের যুদ্ধ একার। এখন তাকে একাই এই মহাযুদ্ধের মুখোমুখি হতে হবে। সে চিৎকার করে, আমার সন্তানকে বাঁচাও...

ক্লিনিকের কর্মকর্তা জেনির অপারেশনের জন্য রিপনের মোচলেকা নেয়।

তারপর ডাক্তার বলছেন, এখন দায়িত্ব আমাদের।

তারা অপারেশন থিয়েটারের ব্যবস্থা নেয়।

আমার মেয়েকে বাঁচান, কসাই হবেন না। জেনির চিৎকার, কান্না, অনুরোধে মধ্যেই ডাক্তার তাকে অ্যানেস্থেসিয়ার ইনজেকশন পুশ করে।

তার আর কিছু করার থাকে না। যা করার ডাক্তাররা করে।

 

অপারেশনের পর জেনি অ্যানেস্থেসিয়া থেকে জেগে উঠছে।

আমার বেবি কই! সে বলে, তারে তাড়াতাড়ি আন, শালদুধ খাওয়াতে হবে যে। এইটা তারে কতো রোগ-বালাই থেকে যে বাঁচাবে। কই তারে আন।

নিরাপদে এবং সফলভাবে এবোর্শনটা করতে পারছে, রিপন বলে, এখন আর টেনশনের কোনো কারণ নাই।

কী! আমি আমার বুকে আমার বাচ্চা চাই! তুমি কি জান ওর জন্য আমার মধ্যে কী যন্ত্রণা, কষ্ট!

শান্ত হও, রিপন বলে, ধৈর্য ধর।

ওরে যে ওর স্কুলে যাইতে হবে, জেনি বলে, ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নাচব। সে একটি ছোট পরী...

কিন্তু সে যে চিরতরে উড়ে গেছে।

না। আমার সন্তান অবশ্যই আছে।

তোমার যে তোমার নিজেরে বোঝাতে হবে।

প্লিজ, আমারে আমার মেয়েরে ফিরায়া দেও, আমি এমন জায়গায় পালায়া যাব যেখানে তুমি থাকবে না, কখনোই!

টেনশন করবেন না, ডাক্তার রিপনকে জানায়, এই হ্যালুসিনেশন মাত্র কয়েক ঘণ্টার।

 ধৈর্য ধর, রিপন তাকে বলে, এখন রাইত দুইটা, ভোর হওয়ার আগেই তুমি ঠিক হইয়া যাইবা।          

দূরে কোথাও শিয়াল ডাকছে; কাছেই কোথাও কুকুরের হাহাকারÑযে তার সন্তানদের হারিয়েছে, ও শুনতে পায়!

আমার বাচ্চা, ও জীবিত কি মৃত আমারে ফিরায়া দেও। আমি মনে করি, যদি ও এখনও বেঁচে থাকে, ও এখন ভয়ানক যন্ত্রণায়—অন্তত ক্ষিধায়...

বিশ্বাস কর, এরই মধ্যে সে জান্নাতবাসী হইছে—সে যে কোনো পাপ কামাই করে নাই।

তাইলে এইটা একটা ষড়যন্ত্র—তোমরা সবাই কসাই, আর এই ক্লিনিকটা একটা কসাইখানা!

আমি তো তোমারে একটা ছেলে সন্তান দিব।

না। আমি আবার সন্তান ধারণ করতে পারি কিন্তু ঠাণ্ডা মাথার গুপ্তঘাতকের না!

ধৈর্য ধর, সময় সবাইরে সব দুঃখ-কষ্ট ভুলায়া দেয়।

ওহ কসাই, আমারে আমার খুন করা মেয়ের কাছে যাইতে দেও, সে চিৎকার করে ওঠার চেষ্টা করে, আমি প্রায় দশ মাস তারে আমার গর্ভে লালন-পালন করেছি, আমি কি তারে একবার দেখতে পারি না—তার চোখ, নাক, ঠোঁট, কপাল! আমি তারে জড়ায়া ধইরা চুমা খাব! ·