রাশেদ রহমান
আমি যৎসামান্য লেখালেখির সাথে সংযুক্ত। সাহিত্যের সব শাখায় কিঞ্চিৎ বিচরণ আছে, তবে কথাসাহিত্য, বিশেষ করে ছোটগল্পই আমার সাহিত্যচর্চার মূল ক্ষেত্র। সাহিত্যের কিংবা কথাসাহিত্যের নিজের জীবনে কি সমাজ-রাষ্ট্রে কী প্রয়োজন কিংবা এসব ক্ষেত্রে সাহিত্যের গুরুত্বটাই বা কী—এই দর্শনবিদগ্ধ চিন্তা করে লেখালেখির জগতে আসিনি। সাহিত্য, বিশেষত গল্প-উপন্যাস এবং পুথিসাহিত্য পড়তে ভালো লাগত, এখনো আমি সর্বভুক পাঠক; এই পড়তে পড়তেই, সাহিত্য পড়ার ভালোলাগা থেকেই মূলত আমার লেখালেখির জগতে পদার্পণ। কী লিখি—ভালো না মন্দ, ধ্রুপদি নাকি সাধারণ মানের—এই হিসেবও কখনো করিনি। যদ্দুর পারি লিখছি।
আমার দাদা নিরক্ষর কিন্তু স্বশিক্ষিত ও সাহিত্যের প্রগাঢ় সমঝদার মানুষ ছিলেন। হাটবাজার থেকে তিনি পুথিসাহিত্যের বই—যেমন: মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, দাতা হাতেম তাঈ, সোহরাব-রুস্তম কিনে আনতেন। এমনকি একবার শহরের বইয়ের দোকান থেকে তিনি কিনে আনলেন—‘বিষাদসিন্ধু’—এসব বই আমি দাদাকে পড়ে শোনাতাম। শৈশবে, যখন কেবল বাংলা পড়তে শিখেছি, দাদাকে বই পড়ে শোনানো আমার যেন ‘চাকরি’ ছিল! দাদাকে বই পড়ে শোনাতে শোনাতে, অর্থাৎ বই পড়তে পড়তেই একদা আমার মনে সাধ জেগে উঠেছিল—আমিও লেখক হব। আমার দ্বিতীয় গল্পের বই ‘সুন্দর পাপ ও বিলাসভূমি’র উৎসর্গপত্রে লিখেছিলাম—‘আমার দাদা/ যাঁকে পুথিপাঠ করে শোনাতে শোনাতে মনে হতো/ আমিও যদি এরকম লিখতে পারতাম...!’
যৎসামান্য লিখেছি, কিন্তু লেখালেখির বয়স ৪০ বছর ছাড়িয়ে গেছে। এখন মনে হয়, পৃথিবীতে এই যে এত লেখালেখি—ছড়া-কবিতা, গল্প-উপন্যাস, নাটক—সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বিস্তর রচনা রচিত হয়, বই প্রকাশিত হয়; নিশ্চয়ই এর একটা নিগূঢ় কারণ আছে। শুধুই ভালোবাসা-ভালোলাগা থেকেই বোধহয় সাহিত্য রচিত হয় না। যুগ যুগ ধরে নিছক হৃদয়-উৎসারিত বেদনাবোধ প্রশমনের জন্যও কেউ লেখালেখি করেন না। মানুষের ব্যক্তিজীবনে, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অবশ্যই সাহিত্যের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব আছে বলেই কাল থেকে কালে সাহিত্যচর্চা অব্যাহত ও সজীব রয়েছে।
প্রখ্যাত সাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরী বলেছেন—‘সাহিত্যের মাধ্যমে আমাদের জাত মানুষ হবে।’ ‘আমাদের জাত’—অর্থাৎ আমরা, মানুষ—আমাদেরই ‘মানুষ’ হতে হবে; কীভাবে? সাহিত্যের মাধ্যমে। অর্থাৎ মানুষ পদবাচ্য মানেই মানুষ নয়; আমাদের ‘মানুষ’ হতে হয়। প্রমথ চৌধুরীর এই বক্তব্যের মধ্যেই স্পষ্ট ইঙ্গিত—আমরা সাহিত্যের প্রয়োজন কেন অনুভব করব?
শুধু খেয়ে-পরে বেঁচে থাকা এবং বংশবিস্তারের মধ্যে মানুষের জীবনের সার্থকতা নেই। জীবনকে সুন্দরভাবে, মহৎভাবে গড়ে তোলা না গেলে, নিজের জীবনকে অপরের তরে ব্যবহার করা না হলে, জীবন যদি সমাজ-রাষ্ট্রের কোনো কাজেই ব্যয়িত না হয়—তবে সে জীবন নিরর্থক। সাহিত্য পড়তে পড়তে, চর্চা করতে করতে এখন আমার বোধোদয় ঘটেছে—জীবনকে গড়ে তোলার জন্য সাহিত্যের গুরুত্ব অপরিসীম।
‘তরুলতা সহজেই তরুলতা, কিন্তু মানুষ প্রাণপণ চেষ্টায় মানুষ...।’ এই যে মানুষ হয়ে ওঠার প্রাণপণ চেষ্টা—তা সম্ভব হয় সাহিত্যের মাধ্যমে। কারণ সাহিত্য মানবজাতির সব ধরনের চিন্তা-চেতনা এবং চিত্তাকর্ষণের উর্বর মাটি। এই মাটি কর্ষণ ও পরিচর্যার মাধ্যমেই মানুষের মনন, সৃজনশীলতা, উদারতা ও মানবতা বিকশিত হয়; মানুষ হয়ে উঠতে পারে ‘মানুষ’। সাহিত্যে ইতিহাস, অর্থশাস্ত্র, নৃতত্ত্ব, রাষ্ট্রচিন্তা—মানবমনের নানা অনুভূতির বিকাশ ও প্রতিফলন ঘটে। কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ—বিস্তৃত অর্থে ছোটগল্প ও উপন্যাস—সর্বোপরি কথাসাহিত্যে ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র তথা মানুষের পূর্ণতার সাক্ষাৎ মেলে।
সাহিত্যপাঠ মূলত সংস্কৃতিচর্চারই অন্যতম ও অপরিহার্য অংশ। মানুষের প্রধান অনুষঙ্গ সংবেদনশীলতা। সাহিত্যপাঠের মাধ্যমেই মানুষ সংবেদনশীল হয়ে ওঠার পথ নির্ণয় ও নিশ্চিত করতে পারে। গল্প-উপন্যাস বা নাটকে আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা শ্রেণির জীবনচিত্র তুলে ধরতে গিয়ে অসংখ্য চরিত্র নির্মাণ করতে হয়—যেগুলো মানুষের মনোজগৎকে আলোড়িত করে, আন্দোলিত করে; মানুষ অনেক ক্ষেত্রে এইসব চরিত্রের অভিঘাতে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করে।
কথাসাহিত্য মানুষের চেতনাবোধ এবং জাতীয়তাবোধ সজীব ও জাগ্রত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। মানুষের যাপিত জীবনের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ কথাসাহিত্যে চিত্রিত হয় বলে আমরা তা থেকে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করতে পারি। কালজয়ী কথাসাহিত্য পাঠে আমাদের মানসিক ও হৃদয়বৃত্তিক বুনন ও প্রেক্ষিতের সম্প্রসারণ ঘটে, অন্যের সুখ-দুঃখকে আপন করে গ্রহণ করার মর্মসৃজন ঘটে। মোটকথা, সাহিত্যপাঠে মানুষ সংস্কৃতিবান হয়ে ওঠার অবকাশ পায়।
এই যে সাহিত্যপাঠে (কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক—যাই হোক না কেন) মানুষের চেতনাবোধ ও জাতীয়তাবোধের সম্প্রসারণ ও বিচ্ছুরণ ঘটা, সাহসী হয়ে ওঠা—এ তো নতুন নয়; যুগ যুগ ধরে চলছে। দু-চারটে কালজয়ী বইয়ের উল্লেখ আমরা করতেই পারি। যেমন একটি উপন্যাস—রুশ লেখক ম্যাক্সিম গোর্কির ‘মা’। সোভিয়েত রাশিয়ায় জার-শাসনামলে গোর্কির ‘মা’ উপন্যাসটি ঘরে ঘরে গোপনে পঠিত হতো। উপন্যাসের ‘মা’ এবং তাঁর ছেলে ‘পাভেল’ ছিলেন রাশিয়ানদের বিপ্লবের প্রতীক। পাঠকরা ‘মা’ পড়তেন আর মনে মনে বিপ্লবের শপথ নিতেন।
আরেকটি উপন্যাস শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’। ব্রিটিশবিরোধী কোনো ভারতীয় বিপ্লবী পুলিশের হাতে ধরা পড়লে তাঁর ঝোলায় অবধারিতভাবে পাওয়া যেত—‘পথের দাবী’ উপন্যাস। কেন? বিপ্লবীরা সবাই নিজেকে ‘পথের দাবী’র নায়ক ‘সব্যসাচী’ মনে করতেন।
কিঞ্চিৎ বলি কবিতার কথা। কাজী নজরুল ইসলামের অনেক কবিতাই তো ছিল ব্রিটিশরাজের কাছে বোমার মতো। ‘কারার ঐ লৌহকপাট/ ভেঙ্গে ফেল/ কররে লোপাট’—এই কবিতা পড়লে কার মনে না জাতীয়তাবোধ জেগে উঠবে?
আমাদের আনিসুল হকের একটি উপন্যাসের নামও ‘মা’। এই মা সাফিয়া বেগম মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আজাদের মা। আজাদের মা ১৪ বছর একদানা ভাত খাননি—আমরা ‘মা’ উপন্যাস পড়ে জানতে পারি। কেন ১৪ বছর ভাত খাননি আজাদের মা? আমরা ‘মা’ পড়ে আবিষ্কার করি—মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ৩০ আগস্ট রাতে পাকিস্তানি হানাদাররা আজাদকে ধরে নিয়েছিল। কয়েক দিন তাঁকে রেখেছিল রমনা থানায়। মা এক দিন দেখা করতে গেলে আজাদ ভাত খেতে চেয়েছিল। মা পরদিন ভাত নিয়ে গেলেন থানায়; কিন্তু আজাদ থানায় নেই। নেই তো নেই-ই। আর কোনো দিন আজাদকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ছেলেকে ভাত খাওয়াতে না পেরে মা যে সেই ভাত খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন—আর কোনো দিন তিনি ভাত খাননি।
আনিসুল হকের ‘মা’ পড়ে কার না চোখ সজল হয়ে ওঠে? পাকিস্তানি হানাদারদের প্রতি কার মনে না ঘৃণার উদ্রেক ঘটে! এই যে সজল চোখ, ঘৃণা—এ তো অবশ্যই জাতীয়তাবোধ ও দেশপ্রেম থেকে উৎসারিত।
আমারও দু-চারটি ছোটগল্প আছে, যেগুলো পড়লে যেকোনো পাঠকের দুচোখ সজল হয়ে উঠতে পারে; শুধু পাকিস্তানি হানাদার নয়, দেশীয় ‘হানাদারদের’ প্রতিও ঘৃণার আগুন জ্বলতে পারে। এ তো অবশ্যই জাতীয়তাবোধ, অবশ্যই মানবতাবোধ।
১৯৮৭-৮৮ সালে, যখন লেখালেখির জগতে আমার দুর্বল পা রেখেছি, তখন বাংলাদেশে লেখালেখির ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার বলতে গেলে শুরুই হয়নি। ২০০০ সালের পর থেকে সামান্য শুরু হয়। কিছুদিন পর জানতে পারি কবি নির্মলেন্দু গুণ মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে কবিতা লেখেন। সম্ভবত ২০০৭ সালে তাঁর কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়—‘মুঠোফোনের কবিতা’—যেসব কবিতা তিনি ফোনে লিখেছেন, এগুলোর সংকলন। ‘মুঠোফোন’ শব্দটিও কবি নির্মলেন্দু গুণের কল্যাণেই জনপ্রিয় হয়।
যা হোক, প্রযুক্তি এল, সর্বক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার শুরু হলো, লেখকদেরও অধিকাংশই কম্পিউটারে অভ্যস্ত হয়ে উঠলেন। এখন তো কথাই নেই—সব কবি-লেখকই ল্যাপটপ ব্যবহার করেন; বোধহয় ব্যতিক্রম রাশেদ রহমান। আমি কম্পিউটারের ‘ক’-ও জানি না—ল্যাপটপ তো দূরের কথা! অর্থাৎ সাম্প্রতিক প্রযুক্তিতে আমি অভ্যস্ত হতে পারিনি; এখনো যৎসামান্য যা কিছু লিখি—কাগজে-কলমেই লিখি। ফলত, ওয়েবম্যাগ সম্পর্কেও আমার ধারণা খুবই সীমিত। ফেসবুকের যেটুকু ব্যবহার জানি, তাতেই দেখি—দেশ-বিদেশে এখন প্রচুর ওয়েবম্যাগ প্রকাশিত হয়। খেয়াল করি, এসব ওয়েবম্যাগে নবীন-প্রবীণ অসংখ্য লেখকের লেখা প্রকাশিত হয়। লাইক, শেয়ার, কমেন্টস দেখেও অনুমান করতে কষ্ট হয় না—ওয়েবম্যাগের সাথে লেখক-পাঠক-শুভানুধ্যায়ী (লাইকদাতা)—অসংখ্য মানুষ যুক্ত। এসব দেখতে দেখতে একটা সময় অনুভব করতে শুরু করি—সাহিত্যের প্রকাশ-প্রচার ও পাঠের ক্ষেত্রে ওয়েবম্যাগের গুরুত্ব কম নয়; অপরিসীম বললেও বোধকরি অত্যুক্তি হবে না।
না, একথা বলব না যে বর্তমান অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যুগে ওয়েবম্যাগের একধরনের জনপ্রিয়তা তৈরি হলেও আকাশচুম্বী জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এসব পত্রিকা। আমরা ছাপা পত্রিকায় লিখেছি, এখনো লিখছি, আরও অনেকেই লিখছেন—তবে ওয়েবম্যাগ যে বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার একটা বড় অংশ দখল করে নিয়েছে, তা স্বীকার করতেই হবে। এবং এই মাধ্যমটির গুরুত্বও বাড়ছে দিন দিন। ওয়েবম্যাগ প্রকাশ প্রথাগত পত্রিকা প্রকাশের ধরন থেকে আলাদা। বলা যায়—সহজসাধ্য, সহজলভ্য এবং সাশ্রয়ী; বড় ধরনের যন্ত্র লাগে না, কাগজ-কালি লাগে না, সীমিত লোকবলেই কার্যোদ্ধার; পাঠককে পত্রিকা কিনতে হয় না, পত্রিকা সংরক্ষণের জন্য গুদামঘরের প্রয়োজন হয় না; সমস্ত পৃথিবীর পত্রপত্রিকা হাতের মুঠোয় রাখা যায়—এত সব সুবিধা; এ কারণেই দিন দিন ওয়েবম্যাগের গুরুত্ব ও বিকাশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
খানিকটা বলেছি, কম্পিউটার বা ল্যাপটপে লেখা কিংবা ওয়েবম্যাগে লেখা প্রকাশে আমার একটা ভীতি ছিল। এই ভীতি কাটিয়ে উঠতে, বিশেষ করে ওয়েবম্যাগে লেখা প্রকাশের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছেন প্রিয় কথাশিল্পী স্বকৃত নোমান। তাঁর উদ্যোগ, উৎসাহ ও নিরন্তর তাগাদার ফলেই ওয়েবম্যাগ ‘গল্পপাঠ’-এর জন্য একটি গল্প দিয়েছিলাম—‘অসাম্প্রদায়িক মাংস’। গল্পটি ‘গল্পপাঠ’-এর জুন (২০২৬) সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। গল্পটি প্রকাশিত হওয়ার পর দেখলাম অসংখ্য পাঠক গল্পটি পড়েছেন, তাঁদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। প্রশংসা এবং কঠোর সমালোচনা—দু জাতের প্রতিক্রিয়াই দেখেছি। এসব দেখে খুব ভালো লাগল, প্রীত হলাম, আনন্দ পেলাম। কারণ, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ প্রচারিত দৈনিকের সাহিত্য পাতায়ও আমার গল্প ছাপা হয়—কোনো পাঠকের ভালো-মন্দ—কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়াই দেখি না। ‘গল্পপাঠ’-এ প্রকাশিত নিজের গল্পের পাঠক-সমালোচক-প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হলো আমি বোধহয় এরকম একটা প্ল্যাটফর্মই এতদিন খুঁজছিলাম!
‘গল্পপাঠ’ আমাকে লেখালেখির ক্ষেত্রে একটা নতুন পথের সন্ধান দিয়েছে। আমি এটাও বিশ্বাস করি, শুধু আমাকে নয়—‘গল্পপাঠ’ আমাদের মতো আরও অনেক ‘ব্যাকডেটেড’ লেখককে স্মার্ট করে ছাড়বে। কারণ ‘গল্পপাঠ’ নিজে স্মার্ট। এর পথচলা, ধারণক্ষমতা ও সৃজনশীলতা—সবখানেই সে সবার চেয়ে অগ্রগামী।
জয়তু ‘গল্পপাঠ’! ·

0 মন্তব্যসমূহ