৮ ফুট বাই ১০ ফুটের ছোটো কক্ষটির এক কোণে চুপচাপ বসে আছেন জনাব রফিকুল ইসলাম। বয়স তার মধ্য-পঞ্চাশ পেরিয়ে গেছে। সৌম্য চেহারা, মুখে সাদা দাড়ি আর চোখে কালো ফ্রেমের চশমা—দেখে কেউ কল্পনাই করতে পারবে না, তিনি একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। আগামীকাল ভোরেই তার ফাঁসি।
কিছুক্ষণ আগে পরিবারের সদস্যরা এসে দেখা করে গেছে। স্ত্রী রোমেনা, একমাত্র ছেলে ইকরাম, তিনজন আত্মীয় এবং দুজন ছাত্র। তাদের অভিব্যক্তিই তাকে জানিয়ে দিয়েছিল, এটাই তাদের শেষ দেখা। অর্থাৎ, এই রাত্রিই তার জীবনের শেষ রাত্রি।
বিদায়ের সময় সবাই কান্নাকাটি করলেও রফিক সাহেবের চোখ ছিল শুকনো। শুধু তার স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে আবেগভরা গলায় বলেছিলেন, ‘এটাই হয়তো আমাদের শেষ দেখা। একটা কথা জেনে রেখো, খুনটা আমি করিনি। কে করেছে তা আমি কোর্টে বলেছিলাম। কিন্তু আমার কথা কেউ শুনতে চায়নি। আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ।’
হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন রোমেনা। রফিক সাহেব কিছু বললেন না। এমনকি সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টাও করলেন না। ঘরের কোণে রাখা স্ট্যান্ড ফ্যানটার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। তার মনের ভেতর কী চলছিল, চেহারা দেখে তা বোঝা যাচ্ছিল না।
ছোটো একটি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ছেলের হাতটা কাছে টেনে নিলেন তিনি। বাবার মতোই শক্ত মনের ছেলে ইকরাম। শান্তভাবে রফিক সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘বাবা, আমি জানি তুমি কোনো অপরাধ করোনি। আমি আগেও তোমাকে নিয়ে যেমন গর্ব করতাম, আজও একইরকম গর্ব করি। বিনা দোষে তোমার মতো একজন মানুষের সাথে এত বড় অবিচার হলো। এই কি আল্লাহর বিচার?’ গলা ধরে এল ইকরামের।
রফিক সাহেবের ঠোঁটের কোণে একটা ম্লান হাসি দেখা গেল। ছেলের হাতটা আরও শক্ত করে চেপে ধরলেন, ‘তিনি যখন কোনো কিছু কেড়ে নেন, বিনিময়ে একশোটি ফিরিয়ে দেন। তোমার বিবেচনা ও যুক্তি দিয়ে তাঁর কাজের বিচার করতে যেও না। সব কার্য-কারণ তোমার জানা নেই। এটি জানেন কেবল আল্লাহ। তিনিই সত্য—তুমি তাঁর মতো পরিপূর্ণ সত্যের মধ্যে বাস করো না।’
এরপর ছোটো একটি বিরতি দিয়ে বললেন, ‘জীবনকে সবসময় বড় পরিসরে দেখতে চেষ্টা করবে। তাতে পথচলা অনেক সহজ হবে। সব সময় সৎ থাকবে। অন্যায়কে প্রশ্রয় দিয়ো না। আমি জানি, এ কারণেই আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। কিন্তু এটাই শেষ কথা নয়।’
রফিক সাহেব পেশায় শিক্ষক ছিলেন। ঘাটাইল কলেজের প্রিন্সিপাল। দৈবক্রমে একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সত্যটা জেনে ফেলেছিলেন তিনি। মুখ বন্ধ রাখার প্রস্তাব এসেছিল, সঙ্গে মোটা একটা খাম। ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। ঠিক এগারো দিন পর ঘাটাইল থানার ওসি আফজাল নিজে এসে তাকে গ্রেফতার করেন—সেই হত্যার অভিযোগেই।
আজ তার নিজেকে ভারমুক্ত মনে হচ্ছে। বিনা অপরাধে মৃত্যুদণ্ড তাকে যতটা বিচলিত করেছিল, তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি কষ্ট পাচ্ছিলেন তার স্ত্রী ও সন্তানের কথা ভেবে। কেবলই মনে হতো ওরা কি তাকে অপরাধী ভাবছে? আজকে তাদের চোখের দিকে তাকিয়ে সেই আশঙ্কা কেটে গেছে।
চৌকির ওপর থেকে একটা বই তুলে নিলেন রফিক সাহেব। বইয়ের নাম—‘সেই চোখ’। একটা রহস্য উপন্যাস। পড়তে ভালো, তবে কলেবরে বেশ বড়—প্রায় পৌনে তিনশো পৃষ্ঠার বই। গত তিন দিন ধরে বইটি পড়ছেন, তবে আজ তার হাতে সময় বেশি নেই। রাতেই বইটি পড়ে শেষ করতে হবে। সেলের সামনে করিডোরের আলো নিভিয়ে দেওয়াতে ঘরের ভেতরেও আলো অনেক কমে গেছে। বই পড়তে সমস্যা হচ্ছে।
উঠে গিয়ে লোহার গরাদে কয়েকবার জোরে আওয়াজ করতেই, প্রহরী প্রায় ছুটে এলো। আজ তার শেষ দিন বলেই হয়তো এই বিশেষ খাতির।
‘কিছু বলবেন স্যার?’
‘একটা টেবিল ল্যাম্প দিতে পারো? অথবা করিডোরের আলোটা জ্বালিয়ে দিলেও হবে। বইটা শেষ করতে হবে।’
সেলের ভেতরে চৌকির উপরে চোখ পড়তেই চমকে উঠলো প্রহরী। গল্পের বই! শেষ রাতে কোনো বন্দিকে সে কখনো ধর্মীয় বই ছাড়া অন্য কোনো বই পড়তে দেখেনি। তবে, বিস্ময় চেপে রেখে আদবের সঙ্গে বলল,
‘স্যার, করিডোরের সব বাতি জ্বালিয়ে রাখার নিয়ম নেই। তা ছাড়া সেলে টেবিল ল্যাম্প দেওয়ারও নিয়ম নাই।’
রফিক সাহেব মৃদু হেসে বললেন, ‘আজকেই তো আমার শেষ রাত। সামান্য নিয়ম ভাঙলে কী হবে? জেলার সাহেবকে একটু বলে দেখো না।’
প্রহরী কিছু বলল না। সেলের সামনে করিডোরের লাইটটা জ্বালিয়ে দিয়ে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর টহলে এসে বাইরে দাঁড়িয়ে সে দেখল, রফিক সাহেব বইয়ের পাতায় ডুবে আছেন। যেন তার সামনে কোনো ফাঁসির মঞ্চ নেই, মৃত্যুর প্রহর নেই, অতীত নেই, বর্তমান নেই, কিছুই নেই—আছে শুধু গল্পের জগৎ।
সেলের বাইরে ভারী বুটের আওয়াজ। মাথা তুলে তাকালেন রফিক সাহেব। জেলার এসে বাইরে দাঁড়ালেন। চোখাচোখি হতেই তিনি বললেন, ‘ওসি আফজালকে পাওয়া গেছে। তিনি রওনা দিয়েছেন। সময়ের আগেই পৌঁছে যাবেন।’ ‘ফাঁসির আগে’ কথাটা সন্তর্পণে এড়িয়ে গেলেন তিনি।
রফিক সাহেবের ঠোঁটের কোণে ক্ষণিকের জন্য এক চিলতে হাসি দেখা দিয়ে, সঙ্গে সঙ্গে মিলিয়ে গেল। তিনি শান্তভাবে বললেন,
‘ধন্যবাদ, জেলার সাহেব। আমি ভাবিনি আমার এই ইচ্ছা পূরণ হবে।’
পরিবারের লোকেরা দেখা করে চলে যাওয়ার পরপরই জেলার সাহেব তাকে ফাঁসি কার্যকর করার সময়ের কথা জানান, এবং তার শেষ ইচ্ছা জানতে চান। রফিক সাহেব তাকে জানিয়েছিলেন, ফাঁসি কার্যকর করার সময় ওসি আফজাল যেন মঞ্চের সামনে হাজির থাকেন। এরপর, তিনি আরও দুটি অনুরোধ করেছিলেন—ফাঁসির সময় তাকে যেন যমটুপি (কালো টুপি) পরানো না হয়, এবং রাতে তাকে যেন কেউ বিরক্ত না করে। এমনকি তওবা পড়ানোর ইমাম সাহেবও না। নিজের তওবা তিনি নিজেই পড়তে পারবেন।
জেলার সাহেব খুব অবাক হয়েছিলেন। ফাঁসির আসামির কাছ থেকে এহেন শেষ ইচ্ছার কথা তিনি কখনো শোনেননি। যমটুপি ছাড়া ফাঁসি নিয়মের বাইরে—আইজি প্রিজনসের সঙ্গে ফোনে কথা বলে অনুমতি আদায় করতে হয়েছে। তবে, তার চেয়েও বড় কথা, হাতে খুব বেশি সময় নেই, এই অল্প সময়ের মধ্যে ওসি আফজালকে খুঁজে জেলখানায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে তিনি বেশ দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তার ভাগ্য ভালো। ওসি আফজালের পোস্টিং মোটামুটি কাছাকাছি ছিল, নারায়ণগঞ্জ সদর থানায়। তাই এ মুহূর্তে তিনি বেশ নির্ভার বোধ করছেন।
রফিক সাহেব কথা বলছেন না দেখে জেলার সাহেব ঘুরে চলে যাচ্ছিলেন। কিন্তু তার হাতের বইটা দেখে তিনি থমকে দাঁড়ালেন। প্রহরীকে ডেকে সেলের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলেন জেলার সাহেব। রফিক সাহেবের চৌকিতে তার পাশে গিয়ে বসলেন। বিনীতভাবে বললেন, ‘আপনাকে একটা প্রশ্ন করতে পারি?’
‘আপনি কি জানতে চাচ্ছেন, এই সময়ে আমি কেন বই পড়ছি?’
জেলার একটু অপ্রস্তুত হলেন, তারপর মাথা নাড়লেন। ‘এ সময় সবাই নামাজ পড়ে, বা কোরআন পড়ে। কিন্তু আপনি একটা গল্পের বই পড়ছেন। কেন?’
রফিক সাহেব চোখ তুলে তাকালেন, একটু হাসলেন। ‘এই বইটা শেষ করতে চাই। আমি কোনো অপূর্ণতা নিয়ে মরতে চাই না। আক্ষেপ আমার জীবনে অনেক আছে, কিন্তু ওগুলো আমার হাতে নেই। এটা তো অন্তত শেষ করতে পারি, তাই না?’
মনে মনে বড় ধরনের ধাক্কা খেলেন জেলার সাহেব। এমন মৃত্যুপথযাত্রী তিনি কখনো দেখেননি। প্রশ্নটা তিনি করেই ফেললেন,
‘আপনার কি মৃত্যুর ভয় নেই?’
‘আছে। তবে সেটা মৃত্যুর ভয় নয়। এক ধরনের অনিশ্চয়তার ভয় আর কিছুটা কৌতূহল। দেহ হয়তো নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু আত্মা এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তরিত হয়—এমনটাই মনে হয় আমার। তাই ভয়টা অনিশ্চয়তার, মৃত্যুর নয়।’
‘তারপরও, আপনার স্ত্রী, সন্তান—এদের রেখে যাওয়া, কষ্ট হয় না?’
‘আমরা যে অবস্থাতেই থাকি না কেন, তা অস্থায়ী। বেশ কিছুদিন আগে একটা উদাহরণ পড়েছিলাম—কল্পনা করুন, আপনি একটা মাছ, ছোটো একটা পুকুরে সাঁতরে বেড়াচ্ছেন, আর সেই পুকুরটাকেই মনে করছেন গোটা মহাবিশ্ব। হঠাৎ কেউ আপনাকে পুকুর থেকে তুলে আনল। আপনি দেখলেন আপনার চারপাশে আরও অসংখ্য পুকুর, গাছপালা, বিশাল আকাশ। তখন বুঝতে পারলেন, আপনি যাকে মহাবিশ্ব ভাবছিলেন সেটা আসলে অতিক্ষুদ্র একটা বিন্দু। আমাদের জীবনও ঠিক তেমন। তাই, যে জীবন সম্পর্কে কিছুই জানি না, তার জন্য এত মায়া থাকার কি কোনো যুক্তি আছে?’
জেলার সাহেব কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর নিচু গলায় জিজ্ঞেস করলেন, ‘ওসি আফজালকে কেন ডাকলেন? কিছু বলবেন তাকে?’
বইটা আবার কোলে টেনে নিলেন রফিক সাহেব। উত্তর দিলেন না।
জেলার সাহেব কথা খুঁজে পেলেন না। চোখাচোখি হতেই প্রথমবারের মতো তিনি লক্ষ করলেন, রফিক সাহেবের চোখ অস্বাভাবিক রকমের উজ্জ্বল। রীতিমতো জ্বলজ্বল করছে। প্রায় অতিলৌকিক সেই দৃষ্টি!
রাতের শেষ প্রহর। সূর্য উঠতে এখনো খানিকটা সময় বাকি।
কারাগারের গলিপথ ধরে রফিক সাহেবকে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দৃঢ়পায়ে শান্তভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তার চেহারায় কোনো উত্তেজনা বা অস্থিরতার ছাপ নেই। তিনি নির্বিকার। মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও যেন এক গল্পের চরিত্র!
গলিপথের শেষে বাম দিকে ঘুরতেই ফাঁসির মঞ্চের উপর তার চোখ পড়ল। মঞ্চের উপরে আড়াআড়ি কাঠে ঝুলছে ফাঁসির দড়ি। দড়িটাতে চোখ পড়তেই এক মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়ালেন রফিক সাহেব, তারপর আবার হাঁটতে শুরু করলেন।
মঞ্চে দাঁড়িয়েই তিনি অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টি নিয়ে তাকালেন সামনে দাঁড়ানো কারা-কর্মকর্তাদের দিকে। পেছন দিকে চোখ যেতেই তার ঠোঁটের কোণে সূক্ষ্ম একটা হাসির রেখা ফুটে উঠল।
ওখানে দাঁড়িয়ে আছে ওসি আফজাল।
দুজনের চোখাচোখি হতেই কেঁপে উঠলেন ওসি আফজাল। রফিক সাহেবের চোখের কোণে মৃদু হাসি। চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছে। মনে হচ্ছে তিনি যেন কোনো আনন্দের দৃশ্য দেখছেন!
জল্লাদ যমটুপি হাতে এগিয়ে আসতেই রফিক সাহেব জেলারের দিকে তাকালেন। জেলার হাত নেড়ে জল্লাদকে টুপি পরাতে নিষেধ করলেন।
রফিক সাহেব আবারও ঘুরে তাকালেন। ওসি আফজালের ভেতরটা থরথর করে কেঁপে উঠল। হাতটাও তিরতির করে কাঁপছে। কিছুতেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। তিনি চোখ নামিয়ে নিলেন। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই কোনো এক অপ্রতিরোধ্য শক্তি যেন তার মাথাটা আবার তুলে ধরল।
... সেই চোখ!
শেষ মুহূর্তে জল্লাদ জিজ্ঞেস করলেন, ‘শেষ কোনো কথা বলতে চান?’ রফিক সাহেব মৃদু হেসে বললেন, ‘গল্পটা শেষ করতে পেরেছি। আমার আর কোনো কিছু বলার নেই।’
দূর থেকে জেলার সাহেবও সেই হাসি আর অপার্থিব দৃষ্টি লক্ষ করলেন। তিনি চোখ সরিয়ে নিলেন। ওসি আফজাল পাথরের মতো জমে গেছেন। চোখ সরাতে পারছেন না।
জেল সুপার সাদা রুমালটা ফেলে দিতেই জল্লাদ লিভারে টান দিলেন।
রফিক সাহেবের দেহটা দড়িতে ঝুলে পড়ল।
ওসি আফজালের মাথা ঘুরছে। হঠাৎ সেই রাতের কথা মনে পড়ে গেল তার—থানার পেছনের অন্ধকার ঘরে খামটা হাতে নেওয়ার মুহূর্ত। মেয়ের অপারেশনের খরচ জোগাড় করতে না পারার ভয়, নাকি প্রভাবশালী মহলের রোষে পড়ার ভয়—দুটোর মধ্যে কোনটার ভয়ে তিনি সেদিন হাত বাড়িয়েছিলেন, আজ আর ঠিক মনে নেই।
ফাঁসির দড়ি গলায় নিয়ে একজন নিরপরাধ লোক জ্বলজ্বলে চোখে হাসিমুখে তার দিকে তাকিয়ে আছে। তার শ্মশ্রুমণ্ডিত সৌম্য চেহারা দৃশ্যটিকে সহজ করার বদলে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে। অনেক চেষ্টা করেও কিছুতেই এই ভয়ানক দৃশ্যটি তিনি চোখের সামনে থেকে সরাতে পারছেন না। অমোঘ নিয়তি হয়ে চোখজোড়া পেন্ডুলামের মতো দোল খাচ্ছে তার সামনে। এই চোখ থেকে তিনি আর কখনোই মুক্তি পাবেন না।
অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার আগ মুহূর্তে একটি কথাই তার মনে হলো—
মাত্র তিন লক্ষ টাকার জন্য...!
হেমায়েতপুরের পাগলাগারদে একটি সেলের দেয়ালে নিবিষ্ট মনে আঁকিবুঁকি করে চলেছেন ওসি আফজাল। সারা দেয়ালজুড়ে প্রতিটি স্থানে লেখা শুধু দুটি শব্দ—‘তিন লক্ষ’। আর প্রতিটি লেখার পাশে আঁকা একজোড়া খোলা চোখ। ·

1 মন্তব্যসমূহ
ভালো লাগল। শেষ রহস্যটা ভালো ছিল।
উত্তরমুছুন