শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৪

মিলান ফারাবী এর গল্প নেকক্ষুন্নি

আইজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতনির রাযিম, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

হ্যালো মাইক্রোফোন টেস্টিং, ওয়ান টু থ্রি ফোর ফাইভ। হ্যালো মাইক্রোফোন টেস্টিং , আলিফ বা তা ছা। হুজুর মাইক ঠিক আছে । আপনি এবার লয়েন।

আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুল্লিাহ। শুকরিয়া মেহেরবান। শুকরিয়া কদরদান।

ব্রাদারেনে ইসলাম। আসসালামু আলাইকুম। ওয়া রহমাতুল্লাহি বারাকাতাতুহু। ফেরীঘাটে উঠবার জন্য বাসে যেসব যাত্রী গন অপেক্ষা করতেছেন; যারা ইতস্তত ঘুরাফেরা করতেছেন; আপনাদের মধ্যে যারা মুসলমান ভাই আছেন, তাদের সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেছি। হে হে হে, সবাই তো মুসলমান। নমশুদ্রগো কথা বাদ। ভাইসব, সবার আগে নিজের ব্যাগের দিকে নজর দেন। নিজের বাক্সপ্যাটরা দেখেন। কোনখানে রাখছিলেন। কোর্চের পেডের মইধ্যে; নাকি উপরে মাথার সাইডে রাখছেন। মাথার সাইডে রাখলে এখনি চাইয়া দেখেন ঠিকমত আছে কিনা।

পেটে রাখলে অবশ্য সমস্যা নাই। সুপারভাইজার সাব অত্যন্ত দায়িত্ববান লোক। সে জায়গামত অবশ্যই নামাইয়া দেবে। কোন অসুবিধা হইবে না। আর যদি কোর্চের প্যাডের মধ্যে না রাইখা বাইরে ঘোরাফেরা করতে থাকেন;তয় একটা কথা। একটা না দুইডা কথা। ভাইসাব, নিজের জিনিসপাতি মালসামাল নজরআন্দাজে রাখা সুন্নতের আমল। রসুলুল্লাহর সুন্নত। যতবার দেখবেন,অর্থাৎ নিজের মালসামাল লইয়া হুশিয়ারিতে থাকবেন- ততবার সুন্নত পালনের সওয়াব পাইবেন।কোন লজ্জাশরম করবেন না। সঙ্গে যদি নিজের বিবিআউরত থাকে; নাবালেগা কইন্যা ,যুবতী জেনানা থাকে;সেই মালসামালও দেইখা রাখা ভাল। সেইটাও সুন্নত। ফেরীঘাট । দুষ্ট লোকের ফিকির সবখানেই আছে।অচেনা আদমীকে কোন বিশ্বাস নাই। বিবি-কইন্যার কাছে হইতে বেশী দূরে গিয়া ঘুরাফেরা কইরেন না। আবার তাগোরেও বেশী দুরে যাইতে দিয়েন না।আউরত লোগ বাসেই থাকবে। দুরে যাইবে কেন! আপনার মাল আপনি হুশিয়ার করে রাখেন।

ব্রাদারেনে ইসলাম, এইবার আরজগুজার হইয়া আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষন করতেছি। আপনি যদি পউট্টাখালির দিকে যাইতে থাকেন, তবে হাতের বাম দিকে তাকান। আর যদি বরিশালের ডেস্টিনেশনে ফেরী দিয়া আগাইয়া যাইতেছেন তবে হাতের ডানদিকে তাকান। পূবদিকে ধানখেত। অজগরের লাহান মাটির রাস্তাটা দেখছেন;সেটার শেষ মাথায় একটা শেওড়াগাছ- সেইখানে একটা ছাপড়া ঘর। দেখতে পাইতেছেন তো ঠিকমত--এই ছাপড়াঘরটা হইতেছে আল্লাহর ঠিকানা। আল্লাহর মঞ্জিল। এই লেওয়াখালি এলাকায় একমাত্র মসজিদ। এই ফেরীঘাট দিয়া প্রতিদিন কত দ্বীনদার, ইমানদার নেককার মুরুব্বি সফরে যাইতেছেন। ফেরীঘাটে আসরের ওক্ত হইয়া যায়। এশার ওক্ত হয়; নামাজের জায়গা নাই। হায়রে, আল্লাহরে ডাকনের জায়গা নাই। আল্লাহর একটা ঘরমঞ্জিল নাই। তাই আমরা কয়জন গরীব বান্দা আল্লাহর ওয়াস্তে এইখানে ইসলাম আবাদ করছি। ইসলামাবাদ কওমী মাদ্রাসা খুলছি। আমাদের সহায় সম্পদ নাই। ধনদৌলত নাই। আল্লার উপর ঈমানআমল ছাড়া কোন ধনসম্পদ নাই। তারপরও নজরদান কদরদান লোকজনের দিকে চাইয়া এই ছাপড়াঘর তুলছি। এইজায়গার যে ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান ইসলামাবাদী ছাহেব ওরফে মইত্তা মেম্বর এই জায়গাখানা দিছেন। তার অতি মেহেরবান দিল। তিনি এই জমিখান দিয়া কত বড় নেককার আমল করছেন- তার ফলাফলও হাতে নাতে পাইছেন;তার বড় কন্যা ঢাকা মেডিকেলে চান্স পাইছে। এমবিবিএস দিয়া বিসিএস এপআরসিএস দিছে। সার্জেন্ট ডাক্তার সোয়ামীর সাথে লন্ডন আমেরিকা যাইতেছে। মইত্তা রাজাকারের .. ..সরি আইযুবিল্লাহির মিনাশ শাইতনির রাজিম; মানে মইত্তা মেম্বরের বড় পোলা সিএন্ডবির বিরাট টেন্ডার পাইছে। চাইর কোটি টাকার কাম।ঢাকা টাউনে গুলশানে বিরাট বাড়ি করছে সে। মিশন মহব্বত। আর ছোট পোলা পউট্টাখালি শহরে একটা মেটারনিটি দিছে। আল্লাহর কি কুদরত। সেই পোলা নিজে ডাক্তার না। কম্পাউন্ডারও না। মেডিসিনের ছোট ফার্মেসি ছিল। সে কি না এখন বিরাট হাসপাতালের মালিক। সবই আল্লাহর মোজেজা। এই মসজিদের জন্য জায়গা না দিলে এই সবের কিছুই মইত্তার হইত না।

ব্রাদারেনে ইসলাম, এতো কইলাম দুনিয়াবি লাভ। মইত্তা মেম্বর আখিরাতের লাভ কত কামাইলেন তার কতা কি কমু। কাইলকে তিনি আইছিলেন এইখানে। জানাইলেন, শেষ রাইতে আসমানী স্বপ্ন দেখছেন। স্বয়ং নবী করীম সাল্লালাহু আলাইহিস সালাম তার সঙ্গে খোয়াবে দর্শন দিয়েছেন। বলেছেন, তুমি মসজিদ করিয়া বড় নেক আমল করিয়াছো।আমার পেয়ারের বান্দা হইয়াছ। আল্লাহর দরবারে তোমার আমল কবুল হয়েছে।রসুল করীম খোশ খবর দিলেন-- মইত্তা মেম্বরের জন্য জান্নাতুল বাকিয়ায় বিশাল জায়গার বন্দোবস্ত হয়েছে। বিশাল সেই জায়গা জমি। জমিনের কোন স্টার্টিং নাই। ফিনিশিং নাই। আমিরিকা মহাদেশ রাশিয়া মহাদেশ , তার লগে অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ যোগ দিলেও নাকি সেই জায়গার সাইজের হবে না।

ভাইসাব, জোরে জোরে আলহামদুলিল্লাহ বলেন। শোকর গোজার করেন।ভাইব্বা কি দেখছেন কান্ডখান। মইত্তা মেম্বর দুনিয়ায় কি দিলেন-- সামান্য কয় কড়া জমি । সামান্য কয়েক ডেসিমেল। তাতে কি তুইলা দিলেন। একখান ছাপড়া ঘর। আল্লাহর রাস্তায় অতি তুচ্ছ দান। এর বিনিময়ে কি পাইলেন। জান্নাতুল বাকেয়ায় দুনিয়ার সাইজের একটা প্লট। তিনি যদি একখান হেলিকপ্টার লইয়াও সেই জান্নাতি প্লটে ওড়াওড়ি ঘুরাঘুরি করেন। একজীবনে তা দেইখা কুলাইতে পারবেন না। বোঝলেন ভাইসাব এই হইছে আল্লাহর কুদরত। তিনি যারে দেন, ছাপ্পর মাইরা দেন। আপনি দুনিয়া জাহানে তার জন্য দশটা টাকা দিলেন, বিনিময়ে তিনি কি দিবেন , কল্পনাও করতে পারবেন না। একশ টাকা দিবেন তার বিনিময়ে কত ফ্রি বোনাস দিবেন, গুইন্না শেষ করতে পারবেন না।

ভাইসাব, মইত্তা মেম্বর কাল আসছিলেন একটা দেন দরবার লইয়া। তিনি আখিরাতের লাইন পাইয়া গেছেন। মজা পাইয়া গেছেন। তিনি আখিরাতের মোজেজা , গোমর জাইনা ফেলছেন। তাই তিনি বলতেছিলেন, তোমাগরে একটু জমিন দিবার কারনে আমার ইহকাল পরকাল আল্লাহর রহমতে ভইরা গেছে। মাইয়া পোলা উপকার পাইছে ইহকালে। আমিও পাইছি পরকালে। বড় পোলাডায় চাইরকোটি টাকার কাজ পাইছে। তাই আমার এরাদা-- এই ছাপড়াঘর আর রাখমু না। এইখানে যতটাকা লাগে আমরা দ্বিতল মসজিদ কইরা দিমু। পাকা ওজুখানা কইরা দিমু। ইলেকট্রিসিটির লাইন আইনা দিমু। পানির জন্য পুকুর কাইটা দিমু। মসজিদের ছাদে পানির ট্যাংকি বানাইয়া দিমু।

ভাইরে ভাই, মইত্তা মুরুব্বির কতা শুইনা চোখে শুকরানির আসু আইসা গেল।আমি কিছু ক্ষণ কাঁদলাম। না কাইন্দা যামু কই। দেখেন অবস্থাÑ যে মুরুব্বি কয়দিন আগে সামান্য একটু জমি দিতে কত গড়িমসি করছে; তিনি এখন লক্ষ লক্ষ টাকা দেওনের জন্য লবেজান। তার খোশ আমদেদি দেখনের লোক কই। কিন্তু আমরা তার দেনদরবার শুনি নাই। তারে ফিরাইয়া দিছি। বলছি-- মুরুব্বি , বিপদের দিনে আপনি জমি দিছেন। আপনি আপনার কাম সাইরা অলরেডি জান্নাতুল বাকেয়ায় প্লটও বাগাইয়া ফেলছেন। আর লোভ কইরেন না। বেশী লোভীরে আল্লায় ও তার রসুলে লাইক করে না। আইজ জান্নাতুল বাকেয়ার প্লটের খোয়াব দেখছেন, বেশী লোভ করলে কালকে সেই প্লট ফেরত লওনের খোয়াব দেখতে পারেন। এইসব কতা কইয়া তারে ফেরত দিছি।

এই কামের মোজেজা তো বুঝছেন ভাইসাব গন। মসজিদ আল্লার ঘর। এই ঘর একলা একটা মুরুব্বির মেহনতে তৈয়ার ঠিক না। এইঘরে তো মইত্তা মেম্বর একলা নমাজ পড়বে না।এইটা পাবলিক পেলেস। মসজিদ তো তার বাপদাদা পোলাপানের সম্পত্তি না। এইফেরীঘাট দিয়া প্রতিদিন হাজার হাজার মুসল্লি , মুসলমান ভাই সফরে থাকেন-- তাদের হক আমরা কেমনে গুমনাম করি। এই যে আপনারা বাসের মধ্যে হাত গুটাইয়া বইসা আছেন-- এখনও হাত খোলেন নাই; আপনাদের হক তো আমি মইত্তা মেম্বরের কব্জায় তুইলা দিতে পারি না।

এই আল্লাহর ঘরে নামাজ পড়ার অধিকার সকলের। সবার দানে খয়রাতে সদকায় ফিতরায় এই মসজিদ আইজ হোক কাইল হোক; বায়তুল মোকাদ্দাসের মত ঝলমলাইয়া উঠবে। এই সওয়াবের কাম তো একজনরে দিতে পারি না।

ও ভাইজান, এহনো হাত খোলেন নাই।এখনও দোজাহানের নেকি হাসিল কইরা লন নাই! হাতটা পেডের মধ্যে লুকাইছেন কেন। বাইর করেন । বাইর করেন।

ওগো আমার আব্বাজান, ওগো আমার মামুজান/ পাচটা দশটা টাকা দিয়া এক লাখ নেকী লইয়া যান।

ওরে আমার খালুজান, ওরে আমার ভাবীজান/ পানজর্দা সিগারেট না খাইয়া সওয়াবগুলা লইয়া যান।

ওরে আমার ফুপাজান, ওরে আমার আম্মাজান/ বোরখার তলে না লুকাইয়া সোয়াব খালি লইয়া যান।

ভাইসাব, বাসের মধ্যে মসজিদের খাদিমদার আছে। গেলমান মলানা আছে। লোকমান মৌলবী আছে। তাগো হাতে যার যেমন পকেটের অবস্থা, টাকা পয়সা দিয়া যান।

এই গেলমান , করস কি , করস কি!! মুই কিন্তু এইহান দিয়া সব দেখতে আছি। ওই সিন্দুঁইরা বেডি কয়টাহা দিছে! পাচ টাহা না দশটাহা। হের টাহা ফেরত দেছস কেন। লইয়া ল। লইয়া ল। হের লগে তুই বাহাসে লাগছোস কেন। হে হিন্দু না মালাউন-- হেয়া বিচার করনের তোর কাম কি। টাহা তুই লইয়া ল।

ও মাসী, ও মাতারি, আপনি কিছু মনে করবেন না। আপনি আল্লাহর ঘরে দান করছেন। কী আশ্চর্য ঘটনা। আইজ টাকা দিছেন। কাইল কলেমা পইড়া আল্লাহর ধর্ম কবুল কইরা নও মুসলেম হবেন। কী কুদরতী ঘটনা।

আলহামদুলিল্লাহ, শোকর আলহামদুলিল্লাহ। ভাইসাব, এই মাত্র আরেকখান আল্লাহর কুদরতি ঘটনা ঘটল। আমি এই খানে বইসা সব দেখলাম। আশ্চর্যি হইয়া দেখলাম। একজন সিন্দুুর লাগাইন্না মহিলা; আউরত; মনে লয় হিন্দু জেনানা; খেরেস্তানও হইতে পারে; সে গেলমানের হাতে একশ টাকার একটা কড় কড়া নতুন নোট তুইলা দিলেন। এইরকম কুদরতি কান্ড প্রতিদিনই ঘটতেছে। মুসলমানের পুতেরা হাত গুটাইয়া থাকে। মসজিদে টাকা পয়সা দিয়া যে লাখ লাখ নেকী আর সওয়াবের ভান্ড ভর্তি কইরা নিয়া যাবে-- তা না। তারা লুকাইয়া থাকে। যেন দেখলে মনে হয়; তারা মুসলমান না; হেরা নমুর চাইতেও বড় নমুশুদ্র। আর ওই যে মাসীজান, দিদিজান; এইখান থেকেও তার কপালে লাল রক্তের মত টকটকে সিন্দুুর দেখলাম-- তিনি একশ টাকা দিলেন। এইরকম ঘটনা প্রতিদিনই ঘটতেছে। মুসলমানে সওয়াব নিয়া বে-ফিকির। আর নমো-মালাউনে সব লইয়া যাইতেছে। ওরে আমার বেহুশ বেদিল ভাই, ওরে আমার নিদ্রায় চক্ষু মুদইন্না মুসলমান ভাই--সিটি সুপার সার্ভিসের এগার নম্বর বাসে এই মাত্র এই কুদরতি ঘটনা ঘটল। আর আবাবিল লাইনের একজন লোকও একটু সওয়াবও এখনও কামাইলেন না। আবাবিলের বাসে কি কোন মুসলমান নাই। সেখানে সবাই কি নমুরা বইসা আছে। দেশে কি নমশুদ্ররা সব ফিরা আইছে ইন্ডিয়া দিয়া! হায়রে আমাগো কওমের এই অবস্থা। দ্বীনের নবী মোস্তফায় রাস্তা দিয়া হাইটা যায়-- কেউ তারে দেখেও দেখলেন না। ছাগল একটা বান্ধা ছিল গাছেরই তলায়; সেই ছাগলে তারে দেখিল। নমুতে দেখিল। আর আপনি আদম সন্তান হইয়াও , মাকামে ইব্রাহিমের কওমে দাখিল হইয়াও তারে নজর আন্দাজ করতে পারলেন না। নাউজুবিল্লা, অসতাফিরুল্লা।

ওরে মোর খোদা, এই কওমের কেমনে কি হইবো বলেন। কেমনে আপনাদের জন্য খেদমত করব বলেন। খোদ খোদার ঘর হইতেছে এইখানে-- আপনারা দশটা বিশটা পঞ্চাশ টাকা হাতে হাতে দিলে রাতারাতি এইটা ছাপড়া ঘর দিয়া মসজিদে মনোয়ারা হইতে পারে; তা না। আপনারা ঠিক করছেন হাত খুলবেন না। হায়রে আমাগো মুসলমানির এই অবস্থা। হায়। হায়। আপনারা হাত বুজাইয়া রাখলে সওয়াবের খালও যে বুজাইয়া শুকাইয়া যাবে; তাও বুঝলেন না। মালাউনে সওয়াব কামাইয়া লইয়া যায়; আপনি তা দেখিয়াও দেখিলেন না।

বেরাদানে ইসলাম , এইটা আল্লার মঞ্জিল। টুয়েন্টি ফোর আওয়ার্স খোলা। আইজকে রাতে না হয় দেন নাই কিছু; কিন্তু কাইলকে সফরে থাকলে অবশ্যই কিছু দানখয়রাত করবেন। আপনারা তো খান্দানি মোসলমানের পোলা। খান্দানে তো দানখয়রাতের অভ্যাস আছে। ঠিক কিনা! যাকাত ফেতরা তো দুই চার হাজার টাকা হয়ই। নাকি। হেয়া দিয়া কিছু মসজিদ আর লিল্লা বোর্ডিংএ দিয়েন।

২.

আয় আয় গেলমান। তোর গামছাডা ঢাল দেহি। কয়টাকা উডাইছো। হেরিকেনডা জ্বালা। তোর এই ল্যাম্পের রোশনাইতে তো কিছু দেখি না। মাইকের ব্যাটারিটা কয়দিন ধইরা ডিসটার্ব। শামসু হালার পো হালায় কি মেস্তরির কাম ছাইড়া দিছে। তারে আইতে কস নাই। মাইকটা খালি ঘস ঘস করে। লোকজন কানে ডিসটার্ব পায়। মাইক যদি ঘেস ঘেস করে; তাইলে কারো কি টাহা পয়সা দিতে দিল চায়। ব্যাটারিডা খুইলা রাখ। আইজ আর মাইকিং করুম না। সিটি সার্ভিসের লাস্টের কোর্চ তো চইলা গেছে। আইজ থাউক। লোকমান পাইছে কয় টাকা। ধুত্তোরি। তোর গামছায় তেমন কিছু তো ওডে নাই। লোকমানের অবস্থাও তো খারাপ।

দুই গামছায় কয় টাহা হইলো। গোন দেহি। কত ! কি কস! মোটে চাইর শ বিশ টাহা। এইয়া দিয়া মোরাও বা নিমু কি। মসজিদের বায়তুল মালেও বা দিমু কি।

--ওস্তাদ মোরে কিন্তু একশ বিশ টাহা দেওন লাগবে। আপনেরে আগেই কইয়া রাখছিলাম। মায়ের বড্ড পেটের বেদনা। খুব শুলাইতেছে। ফার্মেসীর মালিকে কইছে, বেদনার ওষুধ একশ পঞ্চাশ টাহা দাম। মোর লাইগা একশ বিশ টাহায় কনসিডার। লাভ সে রাখবে না।

--হেয়া তুই কি কও বেডা। এই চাইরশ বিশ টাহাই হইল মসজিদের বায়তুল মাল। আল্লাহর ঘরের টাহা। মালিক আল্লায়। শরীয়তের আমল অনুযায়ী মোগো হক হইছে কুড়ি পার্সেন্ট। চাইরশ বিশ টাহার কুড়ি পার্সেন্ট হইল বেয়াল্লিশ দুগুনে চৌরাশি টাহা। এর মধ্যেই মোগো ভাগজোগ কইরা লইতে হবে। বাকি টাহা বায়তুল মালের সিন্দুকে উডাইয়া রাখতে হইবে।শরীয়ত বোঝো বেডা। শরীয়ত হইছে ইসলামের জান। হেয়া না মানলে আখিরাতের দিন মোগোই জাহান্নামের আগুনে পোড়াইবে আনে। রক্তও পুইড়া ছাই অইয়া যাইবে। সারাজীবন আল্লা-বিল্লা করলাম, শেষে গিয়া জাহান্নুমে পুড়মু বেডা! পরকালের কথা তো থুইলাম। এহন মইত্তা মেম্বর আইয়াও চেচামেচি করবে আনে। হেয়া শোনবে কেডা।

--মইত্তা মেম্বরের কতা আর কইয়েন না। হেরে একটা বোজবাজ দেবেন আনে। মোগো পেড চালানের টাকাই ওডে না। হের মধ্যে আবার মইত্তা মেম্বর ঢোকবে কেয়া। শোনেন ওস্তাদ, শরীয়তের পেচগোচ রাহেন। পেডের পেচগোচ আগে ক্লিয়ার করেন। মোগো পেডই যদি না চলে , আপনের মাইকের ডাকন কোদন কেডা দেবে আনে। টাহা উডাইবে কেডা! গেলমানের মায়ের আসলেই সিরিয়াস অবস্থা। তারে আগে একশ বিশ টাহা দিয়া লন। হেয়ার পর বাকি টাকার বিলিবন্টন করেন।

--তুই কিন্তু খুব লায়েক হইছো লোকমান। তোর কতা বার্তা মোর একটুও ভাল ঠেকে না। তুই আইজ তোর গামছায় দেড়শ টাহাও উডাইতে পারস নাই।আর কতা কও লম্বা চওড়া।

--টাহা ওডে না;হেয়া কি মোর দোষ। আপনার ওয়াজ মোটেই জুইতের হয় না। টাহা মানষে দেবে কেন। আপনের খালি ওই একটা হিন্দু সিন্দুইরা মাগির গল্প। কোথায় পাইছেন আপনার হিন্দু বেডির কিসসা। এইডা এতবার কইছেন যে লোকজনের মুখস্ত হইয়া গেছে। এক কীত্তন আর কত শুনবো। তাও আবার হিন্দু মালাউন লইয়া কতা। সাইদী মওলানার ওয়াজ শোনছেন না। সেইরকম ডাইমেনশন আনেন । নতুন কিসসা কন।

-- কি কইলি ডাইমেনশন। এইডা কি কইলি। তুই ফুডুর ফাডুর ইংলিশও কস।

-- ইংলিশ কমু না! সাইদীর ওয়াজ হোনছেন না , হেও তো ইংরাজি কয়। মুই কইলে সমস্যা কি। শোনেন ওস্তাদ। আপনার এই পুরান জমানার বয়ানে চাইরশ বিশ টাকা,হেয়াই বেশী ওডছে। মুই ই তো আপনের কতা শুইন্না একটাকাও দিতাম না।

--তুই আবার কি টাহা দিবি। তুই নিজেই তো একটা ফকিরনীর পুত। খালি আছে তোর ফডর ফডর। ধর তোরেও দিলাম একশ টাহা। গেলমানরে একশ বিশ টাহাই দিলাম। তাইলে আইজ আর বায়তুল মালে কিছু রাখতে পারলাম না।

-- কেয়া কি হইছে। আপনি নিতে আছেন কত। আপনি একলাই দুইশ টাকা লইতে আছেন নাকি!

--হেয়া তো মুই লমুই। তোগো লগে কন্ট্রাক্ট কি ছিল। বায়তুল মালের আয়ের কুড়ি পার্সেন্ট মোগোর হিস্যা। তার মধ্যে আমি যা নিমু, তোরা পাবি তার অর্ধেক। কি ভুল কইছি কিছু। ল। আইজ ওড। হেরিকেনডা নিভা। আয় , এখন দোয়া ধর। যাওনের কালে আল্লার ধারে মাফটা চাইয়া যাই। হের নামে খাই দাই। একটা শোকরানি করা দরকার। খোদায় হইছে মাফি আল্লা। সব দেখতেছেন। বেশী টাকা পয়সা ওডলে তো মোরা হিসাব মত কুড়ি পার্সেন্টের বেশী নেই না। বাকী টাকা তো সিন্দুকেই ঢুকাই। প্রথম প্রথম তো হিন্দু বেডির কথা যখন এস্তেমাল করছি, তখন দুই তিনহাজার টাকা পর্যন্ত ওডছে। কী ওডে নাই! পাবলিকে তখন খাইছে। পঞ্চাশটাকা একশ টাকার নোটও পাইছস। এখন টাকা ওডে না। তোর মত দুধের পোলাও তাই দুই কথা শোনায়। যাউকগা, দেখি কাইল কোন নতুন কথা এস্তেমাল করতে পারি কিনা। দোয়া ধর। দোয়া ধর। ইয়া আল্লাহ। ইয়া রহমানু। ইয়া রহিমু। ইয়া গাফিরু। ইয়া কুদরতু।

৩.

নাহামদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসুলিহিল করীম। আম্মাবাদ। ইয়া আল্লা তুমি মেহেরবান। ইয়া আল্লা তুমি রহমান। হ্যালো, মাইক্রোফোন টেস্টিং। ওয়ান টু থ্রি ফোর ফাইভ। আলহামদুলিল্লাহ । ব্রাদারেনে ইসলাম , আইজকে পরিস্কার শুনতে পাইতেছেন তো। আইজকে তো মাইকে ডিস্টার্ব নাই। ভাইসাব, আইজকে আল্লাহরসুলের কান্ট্রি সুদুর সৌদী আরবের মক্কা মদীনা হইতে আমার ভাইস্তা ফোন দিছিল। সে যা কইল তা অতি ভয়ংকর। সে যা কইলো তা কঠিন আজাব। ভাইস্তা আমার সেইখানে আলহামদুলিল্লা আছে। নবীর দেশে গাড়ি চালায়। মক্কা-মদীনা দিয়া কাচা তেল লইয়া ইয়ামেনে যায়। তার থাকনের জায়গা অতি মনোরম। সেইখানে সব জান্নাতি ব্যবস্থা। ভাইস্তা আমারে খোশ আমদেদেও সঙ্গে কইলো, চাচাজান এইখানে যা আরাম আয়েশের বন্দোবস্ত আছে; বেহেস্তর চাইতে মনে হয় কম না।

ভাইস্তারে কইলাম, তুমি এইরকম নাফরমানি কথা কও কেন। কোথায় দুন্নই; আর কোথায় জান্নাত!

ভাইস্তায় জবাবে কয়-- চাচাজান, বেয়াদবি নিয়েন না। আপনি শরীয়তের লোক। কিন্তু নবীর দেশে আইসা বাস্তব কান্ড কারখানা যা দেখতেছি--তাতে মনে হয় , রসুলের দেশ বইলা কথা। আল্লায় এখনই সব বেহেশতী নিশানা, দোজখের নিশানা এইখানে দেখাইতে আছে।

বোঝতে পারলাম, ভাইস্তা আমার নবীর দেশের দিওয়ানা হইয়া গেছে। কইলাম, কি নিদর্শন দেখলা নাদান ।

তখন সে যা কইল , আমি তাজ্জুব হইয়া ভিরমি খাইয়া গেলাম। তার যে থাকনের ঘর সেইখানে বালির মধ্যেও নাকি ঝরঝরাইয়া ঝরনা ঝরে। বাইরে একশ বিশ ডিগ্রি তাপ। ঘরের মধ্যে জান্নাতের মতন ঠান্ডা। মাইনাস পঞ্চাশ ডিগ্রি। ঠান্ডায় তার সর্দি লাইগা থাকে। তার যে হাগন মোতনের বাথরুম , সেখান দিয়া চব্বিশ ঘন্টা সুবাস আসে। হাগলেও সুবাস। না হাগলেও সুবাস। তখন মোর মনে পড়ল এই বিবরণ মনে লয় , শরীয়তের কেসসা-কাহিনীতে পড়ছি। পয়গম্বরদের মুত্রেও আতর-জাফরানের লাহান সুবাস আসে। কত সাহাবা তো গায়ে গতরে লাগাইয়াও ঘুরছে। তাইলে সেই নবী যে দেশটায় মা আমিনার পেডে তশরীফ আনছেন, সেইখানে সুবাস তো আইতেই পারে।

বেরাদারেনে ইসলাম, এই আরাম আয়েশ বিছনাপাতি খাট পালঙ্কের কথা বয়ানের জন্য আজ মাইক খুলি নাই। আইজকে যা আপনাদের বলব-- আতঙ্কে আপনাদের পশম খাড়াইয়া যাবে। হার্ট স্টোকের রোগী থাকলে দিল থামলাইয়া বসবেন। হার্ট আপনার বাতিল হইয়া যাবে।

বেরাদারেনে ইসলাম, ভাইস্তা আমারে কইল , তার সেই আরাম ব্যারামের খানায় এমন একটা যন্ত্র আছে-- মেশিন আছে সেইটা দিয়া কবরের আজাব দেখা যায়। সেখান দিয়া দোজখের বরজাখ দেখন যায়। শুইনা আমার পশম খাড়াইয়া গেল। ভাবলাম কি আজব কারখানা আল্লায় নবীর দেশে বানাইয়া রাখছে। ভাবলাম, হায় আল্লা, ওই জিনিস নবীর দেশে দিছ কেন। সেইখানে সবাই জান্নাতি মুসলিম। সেই খানে ওই যন্তরের কি দরকার! ওই জিনিস কেন এই পাপী তাপীর দেশে পাঠাইয়া দিলা না। বড় আফসোস করলাম। আল্লার দরবারে কান্নাকাটি করলাম। ভাইস্তা আমারে কইলো সেই যন্তরের নাম পেসবুক। নবীর দেশের লোকজন কয় আদম সুরত। জাপানিরা বানাইছে। এইডা এমন একটা জিনিস, সেইটার মধ্যে দুন্নই জাহানের তামাম লোকজনের ছবি আছে। সুরত আছে। কোন আদম সন্তান নাকি বাদ যায় নাই। হেই যন্তরে যারা মইরা গেছে তাগো সুরত আছে। যারা দুন্নইতে আসতেছে, তাগো পিকচারও আছে। কী একখান জিনিস বানাইছেন আল্লায়। বলেন আলহামদুলিল্লা । বলেন সোবাহান আল্লা । আপনার আমার সব হিসাব কিতাব সেই পেসবুকের মধ্যে মওজুদ। কোরান শরীফে কইছে না মুনকার নাকীর। সেই মুনকার নাকীররে আমরা অবিশ্বাস কইরা কত গুনাহ করছি। কত নাফরমানি করছি মনে মনে। ভাবছি এইডা কিভাবে সম্ভব। কান্ধে উইডা বসবে ফেরেস্তায়, এইডা কেমনে সম্ভব। কই তাগোরে তো দুই কান্ধে হাতাইয়া পাই না।নাউজুবিল্লা। কী খারাপ চিন্তা করছি। আর আল্লার কি কুদরত দেখেন , এখন সেই হিসাবকিতাবের জিনিস আল্লায় জাপানি গো হাতে বানাইয়া দুন্নইতে পাঠাইছে। নবীর দেশে সাপ্লাই দিছে। আমাগো দেশে আইয়া পড়ছে। এখন আপনি ঈমান কবুল না কইরা যাইবেন কই।

বেরাদারেনে ইসলাম, আমার সেই জান্নাতি ভাইস্তা আমারে কইল ভয়ানক আশ্চর্য কথা। ভয়ানক পেরেশানির কথা। সেই যন্ত্রের ভিতরে মাঝে মধ্যেই দোজখে বরজাখের পিকচার ভাইসা ভাইসা আসে। সেই পিকচার বেশীক্ষন দেখন যায় না। এই আসে। এই নাই ।সেই নিশানা আসিয়া বেশীক্ষণ থাকে না। ভাইস্তার কথা শুইনা যেটা বোঝলাম; খোদায় তার নিশানা; রসুলে তার ইশারা; সবই যদি দুনিয়াতে দেখাইয়া দেন, তাইলে ইমান আমল করার দাম রইবে কোথায়।

কি দেখন যায় সেই যন্ত্রে। সব কিছু দেখন যায়। কোন কিছু বাদ নাই। আপনি যদি যন্তরটাকে বলেন, আপনার আইয়ামে কুবুরের হাল হাকিকত দেখাইতে - সে সঙ্গে সঙ্গে দেখাইবে। তাতে দেখাইবে কেমনে কবরে আজরাইল আইসা আগুনের লাঠি নিয়া আপনার মস্তকের পাশে খাড়াইবে। কয় ওক্ত নামাজ পড়ছেন, তার হিসাব লইবে। নামাজ না পড়লে কামারের দোকানের হাপরে পোড়াইন্না লোহার লাল দন্ড দিয়া আপনার পাছায় পিডাইতে আর পিডাইবে থাকবে। আপনার আয়ু কয় বছর। তাতে কত দিন হয়। ধরেন চল্লিশ বছর হইল।তাতে ধরেন চৌদ্দ পনের হাজার দিবস হইল। তারে পাচ ওক্ত নামাজ দিয়া গুন দেন। ধরেন কমবেশী একলাখ ওক্ত হইল। আজরাইল আলাইহিসসালাম প্রস্তুতি নিয়া আসছেন। তিনি যন্তর নিয়া আসছেন। সেখানে সব হিসাব কিতাব লিখা। একলাখ ওক্তের মধ্যে কয় ওক্ত পড়ছেন। আর কয় ওক্ত পড়েন নাই। যেসব ওক্ত পড়েন নাই; লাল আগুনের দন্ড দিয়া আপনারে সেই জন্য শায়েস্তা হিসাবে পিডাইতে থাকবেন। ওক্ত প্রতি কত বাড়ি দিবেন , তার কোন হিসাব কিতাব নাই। তার হিসাব সেই যন্ত্রে লেখা আছে। ভাবেন আল্লার কি কুদরত । তারপরও আমরা নামাজ পড়ি না। আল্লার ঘর মসজিদ বানাই না। জমিনের মধ্যে ধুলায় অবহেলায় আল্লার মঞ্জিল ছাপড়া ঘর হইয়া পইড়া থাকে। সেইটারে সুন্দর করিয়া তৈয়ার করিনা। নিজেরা গুলশান বনানী বরিশাল পউট্টাখালি টাউনে আলীশান ঘর বানাই। বিল্ডিং দালান কোটা বানাই। আর আল্লার ঘর ধুলায় লুটাইতে থাকে। ও মেয়ারা, ও মোসলমানেরা এহনো হাত গুটাইয়া রাখছেন। এখনো দুই চার পাচশ টাকা দেন নাই। যার যেমন সঙ্গতি তেমন করিয়া দেন। হে আল্লা আইজকে তোমার কুদরতি নিশানার কথা সবাইরে কইলাম। আজ নিশ্চয়ই এত টাকা তারা দেবে, কালকেই একতলার বিল্ডিং ফাউন্ডেশন দিতে পারমু। আলহামদুল্লিাহ। ওরে লুকমান, আলহামদুলিল্লা বল। পাচশ টাহার নোট যে দিছে। তার নামটা জিগাইয়া রাখ। তারে কইস, দশ হাজার টাকা ডোনেশন করলে তার নাম মসজিদের মিহরাবের কাছে গোল্ডেন কালার কালি দিয়া লেইখা ঝুলাইয়া রাখব। হাজার হাজার বছর মসজিদ টেকবে । ভুমিকম্প হউক, বইন্না বাদল হউক, সারা দেশ পানিতে তলাইয়া বঙ্গোপসাগরে যাউক,অমাবশ্যা হউক; এই মসজিদের কোন ক্ষতি হবে না। দাতাব্যাক্তির নাম যেখানে লেখা থাকবে সোনা দিয়া বান্দাইয়া- তার কোন ক্ষতি হবে না। হাশরের ময়দানে সেই নাম সাক্ষ্য সাবুদ দিবে। জাপানে প্রতিবছর কত ভুমিকম্প হয়, কিয়ামতের লাহান বইন্না হয়- কিন্তু খোদার কি কুদরত , কোন মসজিদ ভাইঙ্গা পড়ে না। তলাইয়া যায় না। মসজিদে দান খয়রাত অলার নামও আল্লার খাতা দিয়া কোন দিন মুইছা যাবে না।

এইরে, ওরে গেলমান নালায়েক, নাবালেগ- তুমার দিলে কি মায়া মহব্বত নাই। বিবিজানে কত দিছে। তিনশ টাহা। আলহামদুলিল্লাহ। আহারে তার বাচ্চাটা পরীর লাহান সুন্দর হইছে। গেলমাইন্না , পরীবিবির বাচ্চাডারে একটু আদর কইরা দে। সোহাগ কইরা দে। আয়তাল কুরসি পইড়া ফু দিয়া দে। ভাবীজানের এত রহম দিল। তার এত খুব সুরত বদন। তার গর্ভের বাচ্চা পরীর লাহান খুবসুরত তো হইবেই। মা কেডা দেখতে হইবে না। হে হে হে। আলহামদুলিল্লাহ। ভাবীজানে এইবার পাচশ টাহা দিল।

বেরাদারেনে ইসলাম, আমার ভাইস্তা যে আসল বরাত পাডাইছে- সেইটা খোলাসা কইরা বলা হইল না। হেয়া শুনলে তো আপনারা কাঁদবেন। ভয়ে কঁকাইয়া উঠবেন। তার সেই পেইসবুক যন্তরে একটা নয়া জমানার ছবি আসছে। পুরা ভিডিও। লাইফ টেলিকাস্টিং। সরাসরি নাকি দুনিয়ার সব জায়গা দিয়া দেখা যায়। আফ্রিকার তানজানিয়া আছে না। কালা মানুষে ভর্তি। কালা কি কালা। পাতিলের চাইতেও বেশী কালা। রাইতের বেলা তারা যখন চলে, কেউ তাদের দেখতে পায় না। এত কালা। তয় আপনারা প্রশ্ন করতে পারেন ,সেই দেশের মানুষ চলে কেমনে রাইতে। হে হে হে। তারা কি ধাক্কা খায় না! হে হে। তারা দাঁত বাইর কইরা চলে। তারা মানুষ কালা হইলে কি হবে। তাদের অনেক গুন। আমাগো মতন বাইরে হাফ-ফরসা, আর ভেতরে কালা-কুলা কিপ্টা কঞ্জুস লোক তারা না। তাদের দাঁত হাতির দন্তের চাইতেও ফরসা। শাদা। মনে হয় দুধ দিয়া বানাইছে। আল্লার রহমতে আল্লার ধর্মের দাওয়াত সেই তানজানিয়া গিয়াও পৌছাইছে।তারা গরীব হইতে পারে; কিন্তু আল্লার খেদমত করতে কোন কিপ্টামি করে না। সেই দেশে মরুভুমির মধ্যে কী সুন্দর সুন্দর মসজিদ। গুইট্টা সেতুর বগলে বায়তুল আমান মসজিদ আছে না। সেইরকম হাজার হাজার মসজিদ তারা বানাইয়া রাখছে। সবগুলা আফ্রিকানগো এইরকম ফিসাবিলিল্লার টাকায়। সবাই যদি সফরের ফিকিরে থাকার সময় দশটা পঞ্চাশটা টাকা হাতে হাতে মসজিদে দান খয়রাত করি- একটা মসজিদ বানান কোন ব্যাপারই না। আফ্রিকার কালাকোলারা যা পারছে- আর মোরা নবীর দেশের সৈয়দ বংশের লোক হইয়াও পারলাম না। এই দু:খ দিলের মধ্যে কোথায় চুপাইয়া রাখমু বলেন দেখি। সেই তানজানিয়ার টাউন ক্যাপিটাল হইছে আবিদজান। সেইখানে লন্ডনী এক মুসলমান গিয়া এন্তেকাল করলেন। কী তার গায়ের রঙ। দুধের নহরের চাইতেও ফরসা। এত ফরসা যে তার গায়ের রগ পর্যন্ত সব দেখা যায়। তিনি যখন এন্তেকাল করলেন, তানজানিয়ানরা দেখল বৃটিশ লোক। গায়ের রঙ ফেরেশতার মত । তার গলায় ক্রুশ নাই। আছে কোরআন শরীফের মেডেল। খুব সম্মান ইজ্জত কইরা তারে একটা মসজিদের গোসল খানায় আনল। লন্ডনে তার আত্মীয়পরিজন বিবিবাচ্চাদের খবর দেয়া হইল। মসজিদের সঙ্গে বিরাট উঠান। উঠানের কাছে জঙ্গল। লাশ খান সেখানে মসজিদের খাটিয়ায় রাখা ছিল। হঠাৎ মসজিদে আসা মুসল্লিরা দেখল কি, কোথা হইতে একটা বিশাল অজগর সাপ আসছে। এত বড় অজগর পুরা আফ্রিকায় নাই। কোথা হইতে এই সাপ আসল, আফ্রিকানরা ধারনা করতে পারে না। এইরকম তো হওয়ার কথা না। অজগর লাশের দিকে যাইতেছে। আফ্রিকানরা জানে, অজগরে মরা লাশ খায় না। তয় সেটা লাশের দিকে যায় ক্যান। তাজ্জব কি বাত। সাপ গিয়া তার বিশাল শরীলের প্যাচ মাইরা লাশটারে আটকাইয়া-জাপটাইয়া ধরল। পুরা পেচাইয়া এমন টাইট মোলাকাত দিল, পুরা লাশের হাড্ডি গুড্ডি গুড়মুড় কইরা উঠল। সবাই শব্দ শুনল। তানজানিয়ানদেরও গায়ে বল কম না। তারা সাপটারে পিটাইয়া মারল। লাশের গায়ে দিয়া ছাড়াইল। পরে কি দেখে জানেন, লাশ আর লাশ নাই। দুধের মত ফরসা লোকটার পুরা বডি হার্ড গ্রেড প্লাস্টিক হইয়া গেছে। এমন প্লাস্টিক, হেয়া দিয়া গাজী ট্যাংকি বানান যাইবে। আর মুখটা জুতার কালির চাইতেও কুচকুচা কালা হইয়া গেছে। এমন কালা যে, আফ্রিকানরাও অত কালা কখনও দেখে নাই। সবাই ভড়কাইয়া গেল। রহস্য কি! অজগর তারে আইসা মুলাকাত করল কেন। তার বডি কালা প্লাস্টিক হইল কেন। কোন উত্তর মেলে না।

তার বিবি বাচ্চাদের কাছে বরাত গেল। তারা বিরাট বড় লোক। তারা লন্ডন থেকে জেট প্লেন রিজার্ভ কইরা সেখানে গিয়া হাজির। বউ বালবাচ্চা অতি পর্দানশীন। হুরীদের মত খুবসুরত। উচাঁলম্বা সোমত্ত আওরত। স্বাস্থ্য ভাল। কিন্তু সেইসব মাল বাইরে দিয়া ঢাকা। সবাই নামাজি। পাচ ওক্ত নামাজ পড়ে। তাদের চেহারা পরপুরুষে কখনও দেখে না। সবসময় কালো বোরখার তলে তাম্বু কইরা থাকে। তাইলে এই বেডারে অজগরে আলিঙ্গন দিল কেন। জানা গেল,

সেই লোক খান্দানি মুসলমান ঠিকই। নামাজরোজাও করত। তবে সে রেগুলার ছিল না। সেই জন্য আল্লার তরফ থেকে আসমানী ওই শাস্তি। আফ্রিকার সেই কালা কোলার দেশে তো রসুলের পায়ের ছাপ পড়ে নাই। তাই আল্লায় এইভাবে তার নিশানা দেখাইলেন। তার আত্মীয় -স্বজন তখন কি করলেন। আফ্রিকার যে বড় মওলানা- তারে সেখানে ডাকলেন। বললেন সব ঘটনা। মওলানা ছাহেব এস্তেখারা কইরা দেখলেন। পথ বাতলাইলেন। বললেন, এই দেশ থেকে মুর্দা নেওনের আগে একটা মসজিদের এন্তেজাম কইরে যান। আপনাদের টাকাপয়সা ডলার পাউন্ডের সীমা নাই।সদকা-জাকাত আদায় কইরা যান। দানখয়রাত কইরা যান।

মুসল্লি পর্দানশীন সেই হুরপরীরা তখন একটা মসজিদ বানানোর যাবতীয় খরচ সাফ কবলা দিল। যেই না টাকা পয়সা দিল মসজিদের জন্য , আল্লার কি কুদরত। আল্লার কি অপার মহিমা। সেই কালা কুইচ্চা বেডা আবার দুধের মত ফরসা হইয়া গেল। তার প্লাস্টিকের দেহের বদলে তার পরিবার আসল রক্তমাংসের বডিটা ফেরত পাইল।

বেরাদারেনে ইসলাম, বোঝেন তাইলে অবস্থা। ও ভাইজান , ও ভাবীজান, এখনও হাত গুটাইয়া রাখছেন। কী আশ্চর্য। আপনাদের কি ভয় ডর নাই। যারা বেনামাজী তাদের আখিরাতের ভয় ডর নাই। মরনের পর কী অবস্থা হইবে বোঝছেন। আপনারা কি মউতের পর এই মাটির দেহে থাকতে চান না। প্লাস্টিক হইতে চান। প্লাস্টিক কবরে পচবে না। কয়েকশ বছর পরও যদি আপনার লাশ উঠাইয়া দেখে কেউ, প্লাস্টিকই থাকবেন। আপনার কবরের ফয়সালা হবে না। আপনি আর আল্লার দরবারে ডেলিভারি হবেন না। দুনিয়ায় কিয়ামত হইয়া যাবে, আপনি প্লাস্টিকই থাকবেন। আপনার যে কি সিদ্ধত হবে , তাতো বুঝতে পারছেন। আর দেখতে তো আপনি ব্রিটিশ গো মতন ফরসা না । বেশীর ভাগই আধা কালা। কোয়ার্টার কালা। ব্রিটিশগো ধারে কাছে আমরা ধলা-ফরসা নাই। আপনেদের মুখ কিন্তু সেই বেডার চাইতেও কালা কুইচ্চা হবে।

ব্রাদারেনে ইসলাম, কী ভাবতেছেন। আপনিও কি মরণকালে আস্তা মসজিদ বানাইয়া দেবেন। সেইটা কি সম্ভব! কোটি কোটি টাকা কি আপনার আছে। আব্বাজানরে আব্বাজান , খালুজানরে মামুজান- হাতটা পকেটে নেন। মানিব্যাগটা লয়েন। দুইশ পাচশ টাকা উঠান। তাড়াতাড়ি খেদমতগারদের দেন। বিলম্ব কইরেন না। আখিরাত এই আইসা পড়ছে। বেশী দেরী নাই। নামাজ কালামের হিসাবপাতি পাই পাই দিতে হইবে। বৃটিশরাই রেহাই পায় নাই। আমরাও রেয়াত পামু না।

৪.

ওস্তাদ, আইজ জবর দিছেন।

-আপনের জওয়াব নাই হুজুর। কাইল যা কইছি, মাফি কইরা দিয়েন। আপনি আল্লামা দেলোয়ার সাইদীর চাইতে কোন অংশেই কম না।

-ওস্তাদ, ঠিক কইছে গেলমান। আইজকা কি যে মাশাল্লা ওয়াজ দিলেন, সাইদী ফেল। আপনে একটা কাম করেন। মহফিল করেন। মইত্তা রাজাকারকে কই , সে এইখানে ওয়াজ মাহফিল দেউক। আপনের ওয়াজ শুনবার জন্য সারা পউট্টাখালি ভাইঙ্গা লোক আসবে আনে। তিন রাইতের মাহফিল দিলে দোতলা মসজিদের টাকা ওঠবেই ওঠবে।

- হে হে। তোরা হালার পুতেরা হইছো দুই মুইখা সাপ। আগায় বিষ নাই। মধু । তয় লেজে বিষ। টাকা পয়সা তাইলে আইজ ভাল আমদানি হইছে মনে হয়। যেদিন জবর আমদানি হয়, সেইদিন তোগো মুখে খই ফোটে। আমদানি না হইলেই মুই খারাপ। আরে বোকাচোদা, অনেক মেন্নত কইররা এই বয়ান ঠিক করতে হয়। শরীলডা অনেক দিন ধইরা ভাল না, হেয়াতো জানই। তার লাইগ্গাই তো ভাল ওয়াজ দিতে পারি না। মাথাডারে ভাল খেলাইতে পারি না। নইলে ওই সাইদী মওলানা কোন ব্যাপার নাকি। হে তো খালি আছে বুকের ওপর দুই নোকতা। পাছার তলে আর পেটের নীচে এক নোকতা লইয়া। নাউজুবিল্লা। অসতাগফিরুল্লাহ। হের ওয়াজ শোনলে তো বেপর্দা আউরতকে জ্বেনার গুনাহ হয়। হেরে তো মুই কোরান হাদীসের ভাল কতা কইয়াই টেক্কা দেতে পারি। জেনানার শরীল লইয়া মোর কু কথা কওন লাগে না। যা বেডা ,এসব বাদ দে। মোর শরীলে কুলায় না। সেই দিলের ব্যারাম তো আছেই। পউট্টাখালির কোন ডাক্তার তো কিছু করতে পারলো না। বরিশাল মেডিকেলে যাওন লাগবে মনে হয়। শরীল দিন দিন বেশী খারাব হইতেছে বুঝলি। এই কামই কয়দিন চালাইতে পারি কে জানে। নইলে তোগো লইয়া অবশ্যই ওয়াজের লাইন ধরতাম। ওই লাইনে নাকি টাহা আর টাহা। সৌদী টৌদী লন্ডন ফন্ডন যাওনেরও মওকা হয়। আইজকে এখন টাহা কত ওঠছে হেইয়া ক।




- ওস্তাদ, আকথা কুকথা কইবেন না তো । আপনে অসুস্থ হইবেন কেয়া। আপনের শরীল বইসা গেলে তিনটা-চাইরটা ফেমিলি পথে বসবে। মোর মায়ের ব্যারামের আর কোন চিকিৎসা হবে না। প্রতি সপ্তাহেই তো চাইরশ-পাচশ টাহার মেডিসিন লাগে। হেয়া মুই পামু কই।

-আল্লার ওপর ভরসা রাখ বেডা। আল্লায় মালিক। হেই তো খাওয়াইতেছে। মোর গলা একটা উসিলা। হে কওনের জবান দেয় বইলাই ভাল বয়ান দিতে পারি। আল্লায় সব দেইখা রাখবে আনে।

- হুজুর , আইজ তো মোরা মালামাল। মুই একলাই তো তিন হাজার টাকার বেশী তুলছি। আর লোকমান ছিল ডাইরেক্ট কোচগুলায়। ওর তো আরও বেশী হইবে।


-হয়। মুই হাজার চাইর কাছাইয়া আনছি। দাঁড়া, একটু গুইন্না লই। তুইতো অঙ্কে হাফেজ। টাকা লইতে লইতে লগ লগ গুইন্না ফালাও। হে হে।


- আলহামদুলিল্লাহ। মাশাল্লাহ। আইজকে তাইলে আল্লাহর দরবারে শরমিন্দা হইতে হবে না। আইজকে আমরা শরীয়ত অনুযায়ীই ভাগবন্টন করতে পারমু আনে। আইজকে তোমার বায়তুল মাল থেকে একটা টাকাও বেশী নিমু না । হে আল্লা, তুমি বড়ই মেহেরবান। প্রত্যেকদিনই এই রকম মেহেরবান থাকিও। তোমার দয়ার সীমা নাই।

টাহা গোনা তাড়াতাড়ি শেষ কর। তাড়াতাড়ি আজান দে। আজানডা একটু সুর লাগাইয়া দিস। তোর জবানে যেন শুকরিয়া থাকে। বেলাল আলাইহিসসালামের মতন যেন শুনায়। শোন, ফরজ সুন্নত আদায়ের পর সবাই আজ চাইর রাকাত শুকরী সুন্নত আদায় করবি। আমার লাইগ্গা দোয়া করিস বাপ। এই জবান দিয়া কত আজব গুজব কথা কই। আল্লায় যেন মাফি কইরা দেয়।


৫.

আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতনির রাজিম। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আম্মাবাদ। বেরাদারেনে ইসলাম। আসসালামু আলাইকুম। ফেরীঘাটের সম্মানিত যাত্রী ভাইগন। আইজকে একটা সাহায্য সহযোগিতার কাতর আরজ গুজার লইয়া আপনাদের সামনে মাইকিং করতেছি। আপনারা একটু দিল লাগাইয়া শোনেন। পূর্বদিকে তাকায়েন। আজগর সাপের লাহান প্যাচাইয়া গুজাইয়া যে রাস্তাখান গেছে; সেইডার মাথায় যে কাচা ইটের মসজিদখান দেখতেছেন, হজরত মাওলানা শাহ সুফী মোমতাজ আলী পউট্টাখালি ছাহেব ইহার তৈয়ার কর্তা। আপনাদের খয়রাত ভিক্ষায় এই মুসাফির মজসিদখান উঠতেছে।গত কয়েক বছর ধইরা দিনের পর দিন রাইতের পর রাইত যে হুজুরে মাইকিং কইরা এই মজসিদ খান আইজ খাড়া করাইছে সেই আল্লাওলা আল্লামা মুমতাজ ছাহেব বড় বিমারীতে পড়ছেন। তার ওয়াজ আপনারা শুনছেন। কত সুন্দর ওয়াজ করতেন তিনি। কিরাত কইতেন তিনি। তিনি আইজ কঠিন বিমারীতে পইড়া ঘরের মধ্যে মওতের জিল্লতিতে আছেন। তার বিমারী সারাইবার জন্য বিপুল পরিমান অর্থ সাহায্য দরকার। আল্লার ওয়াস্তে তার জন্য দান খয়রাত করেন। খেদমতগার, খাদেমদার আপনার কাছে বাসের মধ্যে যাইবে। দয়া কইরা মজসিদের জন্য দিবেন। আর আলাদা কইরা আল্লামা মুমতাজ ছাহেবের জন্য দিবেন। খাদিমগারকে কইয়া দিয়েন কিসের লাইগা দিলেন।

দ্বীনের নবী মোস্তফায় ছাগল লইয়া হাঁইটা যায়, কাটা কন্টক মওজুদ ছিল গাছেরই তলায়।

বেরাদানে ইসলাম, বাসের জানলা দিয়া পূর্বদিকে তাকায়েন। আগে ছিল ছাপড়াঘর। এখন আপনাদের টাকা পয়সায় বিল্ডিং হইতেছে। মেস্তরিরা কাম করতেছে।

হ্যালো হ্যালো মাইক্রোফোন টেস্টিং..ওয়ান টু থ্রি ফের ফাইভ।

হ্যালো, আমি আপনাগো লোকমান মৌলভী বলতেছি। ভাইজান , খালুজান, মামুজান, আমাগো হুজুরে এই মজসিদ তোলার জন্য নিজের জান কুরবান করছেন। হের কতা শুইনা আপনারা টাকা দিছেন। হে বড় ওয়াজিন হইতে পারতো। সাইদী তার কাছে ফেল। হেরে সবাই এই ফেরীঘাটের সাইদী মলানা কইয়া ডাকত। হে চাইলে লাখ লাখ টাকা ওয়াজ কইরা কামাইতে পারত। সৌদী আরব যাইতে পারত। তানজানিয়া যাইতে পারত। আব্বাদজান,দুবাই যাইতে পারত। হেইসব জায়গায় তার ওয়াজের কত দাওয়াত আসছে। লোকজনে ডলার লইয়া সাধিছে। পাসপোট ভিসা পাডাইছে। সে এই মজসিদের নিয়ত লইয়া পইড়া রইছে বইলা যায় নাই। হের আইজ কঠিন বিমারী। আপনারা সাহায্য করেন ভাইসব। আল্লার রাস্তায় যে লোকটা কোরবান করছে নিজেরে , তারে দয়া করেন। হে আপনাদের জন্য দোয়া করবে। হুজুরে মৃত্যুর শয্যায় থাকলেও আপনাগো লাইগা দোয়া আজকার করতেছে। হে আপনার লাইগা দোয়া করলে আপনার মাইয়া বরিশাল মেডিকেলে ডাক্তারি পড়তে পারবে। আপনার পোলায় কোটি কোটি টাহার টেন্ডার পাইবে। আপনার ছোট পোলায় বরিশাল টাউনে হাসপাতাল দিতে পারবে। বিরাট হাসপাতালের মালিক হইবে। ভাইসব। ভাইসব।

৬.

-নারে লোকমান, মোরা জুইত মারাইতে পারতেছি না। তোমার বয়ান জুইতের হয় না। মোর ওয়াজও জুইতের হইতেছে না। কী করন যায় দোস্ত কও।


-জুইতের কেমনে হইবে। মোরা কই আর আল্লামা হুজুরে কই। মোগো লগে হের তুলনা হয় নাকি! হের আওয়াজ হইছে আল্লার কুদরতি নিশানা। তার ওয়াজ শুইন্না লোকজন চোখের আঁসু ফেলত। হে একখান মাল। মোরা হইছি ফেলনা। হেরে আল্লায় এই মজসিদ খান বানানের মতলব দিয়াই পাডাইছে। হের উসিলায় মোরাও পেড চালাইতে পারতেছিলাম। এখন তো দেখি কোন টাকা পয়সাও ওডে না।


-বোজলা দোস্ত, এই লেউয়াখাইল্লার লোকজন হইছে হারামী। টাকা পয়সা কি কাউরের কম আছে । কম নাই। ওই দেখো, চাইরটা কোল্ড স্টোরেজ আছে এইখানে। হেরা টাকা পয়সা দিলেও তো হুজুরের বাচনের রাস্তাডা খোলে। হুজুরে না বাচলে তো মোগো সকলের পেডে লাত্তি পড়বে আনে।

-ওই হারামীর পুতেগো কতা কইয়ো না। কত কইরা কইলাম-হুজুররে বাচান। হে বাঁচলে এলাকার সুনাম হইবে। কি কইছিল হেরা। বালের সুনাম। চ্যাডের সুনাম। তোরা আছোস না। তোরা মাইকিং কইরা পাবলিকের ধার দিয়া টাকা উডাইয়া ল। নাউজুবিল্লা, অসতাগফিরুল্লা। হেরা তো কোল্ড স্টোরেজ লইয়া কবরে যাইবে। আল্লার গজব পড়বে ওই কোল্ড স্টোরেজের ওপর। আল্লায় সবগুলা ভাইঙ্গা নদীতে মিলাইয়া দিবে। হারামীর পুত। তখন বুজবি মজা।

- দোস্ত, আইজ তো টাহা পয়সা বিশেষ ওডে নাই। চাইরশ ষাইট টাহা। এর মধ্যে হুজুরের চিকিৎসায় দিমু কি। নিজেরা লমু কি। আর বায়তুল মালে কয়টাহা রাখমু।

-লোকমান, মোর মায়ের চিকিৎসায় কিন্তু দুইশ টাহা লাগবেই। মুই তো দোস্ত বায়তুল মাল দিয়া যা নেই, তার সব টাহাই মায়ের বিমারীতে যায়। খাওন দাওন কইতে গেলে না খাইয়াই থাকি।

--এখন তোমার মায়ের বিমারীর কথা টাইনো না। হেরে কোন কবিরাজি দেখাও। কম পয়সায় সারোন লাগবে। অবস্থাখান দেখতেছ না। টাকা পয়সার আমদানি দিন দিন কমতেছে। হুজুরে না বাচলে মজসিদও ওডবে না। মোগো আমদানি লেনদেনও হইবে না। তোমার ধারে মায়ে বড় না কি আল্লামা হুজুরে বড়।

--দেখ, মায়েরে লইয়া খারাপ কতা কবি না। তোরে কাচ্চা চাবাইয়া খামু।

-- খা। কাচ্চা চাবাইয়া খাইয়া ফালা। তাইলে মুইও বাচি। তুইও বাচো। সব জ্বালা যন্ত্রনা শেষ হইয়া যায়। হে হে হে। খেপস ক্যায়া দোস্ত। মুই তোর মায়েওে লইয়া কোন লজ্জার কতা কই নাই।

--না, মায়েওে লইয়া কিছু কবি না।

--আচ্ছা কমু না।

-মনে রাখিস। কী করন যায় তাইলে। হেইডা ক।

-- কাইলকে কঠিন ওয়াজ দিতে হইবে। হুজুরের ওই তানজানিয়ার কালা কুইচ্চা লাশের মার্কা ওয়াজ। পাবলিক যেন ভিমরি খাইয়া টাকা পয়সা দেয়। সারারাইত আইজ ঘুমাইও না। হুজুরে বাচলে মজসিদ বাচবে। হুজুরে বাচলে তোমার আম্মাজানেও বাচবে বোজলা।

৭.

নামাদুহু নুসাল্লি আলা রাসুলিহিল করীম। আম্মা বাদ। বেরাদারেনে ইসলাম, আসসালামু আলাইকুম ওয়া বারাকাতুহু। ভাইসব , ভাইসব, একটা অত্যাশ্চর্যর মাজিজা । একটা খোদার ফরমান। আপনারা শুনিয়া অবাক হইবেন যে গতকাল রাইত সাড়ে তিনটার দিকে বিরাট একখান চান্দ উঠিয়াছিল। সেই চান্দের বুকে আশ্চর্যের ব্যাপার হইল আমাগো আল্লামা মোমতাজ আলী হুজুরকে দেখা গিয়াছিল। পুরা লেউয়াখালি, পউট্টাখালি , চরফ্যাশন হইতে তারে দর্শন করা গেছে। আমাগো গেলমান মলানাও তারে রাইতের বেলা চান্দের মধ্যে দেখছে। তার লগে মুইও দেখছি। হুজুরে চান্দে বইয়া ওয়াজ মাহফিল করছে। বয়ান করছে। তিনি বিমার হইলেও আল্লার অসীম কুদরতে এই ওয়াজ করতে পারছেন। আল্লায় হেরে এই ক্ষমতা দিছে। বেরাদারেনে ইসলাম, আমাগো হুজুরে বিমারী ঘরে পইড়া আছে। তার জানখানা আপনাগো খেদমতে আসিবার জন্য ছটফট করতেছে। সেইজন্য তিনি কুদরতির দর্শন দিছেন। আপনাদের কাছে সাহায্য খেদমত চাইছেন। তার বিমারীর চিকিৎসা হইলে তিনি আবার আপনাদের খেদমত করতে আসতে পারবেন।

ভাইসব, এই কুদরতি জিনিস কেউ অবিশ্বাস করিয়েন না। এই জিনিসে ঈমান না আনলে দোজাহানে বড় মুসিবতে পড়বেন। ভাইসব, আপনার কাছে বাসের মধ্যে খাদিমগার গেছে। হের হাতে সাধ্য মত টাকা পয়সা দেন। হুজুরে কইছেন, আরও কয়েকবার তিনি চান্দের মধ্যে দিয়া আপনাদের দেখা সাক্ষাৎ দিবেন। যারা তারে দেখবার চাহেন, তারা দয়া করিয়া রাইত সাড়ে তিনটার দিকে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করিয়া আকাশে চান্দের মধ্যে তাকাইবেন। ইনশা আল্লাহ তারে দেখবার পাইবেন। তাহাজ্জুদের নামাজ না পড়লে তারে দেখবার রোশনী আপনার চোউখে পয়দা নাও হইতে পারে।

ভাইসব, আমি বানাইয়া কথা কইতে আছি না। আল্লামা হুজুরের বড় ভাইস্তা সৌদী আরবে বালাখানায় থাকে। তার বিরাট আলীশান বাড়িঘর। দশতলা বিল্ডিং দালানের সে মালিক। সেই বিল্ডিং-এর ছাদে থেইকাও ভাইস্তায় চাচাজানরে দেখছে। সে এখন হু হু কইরা কানতেছে। তার চাচাজানে যে এতবড় নেককার দ্বীনদার আলেম সে কল্পনাও করতে পারে নাই। ভাইসব, ভাইস্তার কাছে বিরাট একখান প্যাচবুক আছে। টিভির চাইতে বড়। তার মধ্যেও চান্দের ওয়াজের বিবরন দেখা গিয়াছে।

--এই হালার পো হালা, মাইকটা বন্দ কর। কি বালছালের গেজাইন্না লাগাইছো। লোকজনে তোরে লাডি লইয়া পিডাইতে আইতে আছে। তুই এইডা কি ওয়াজ করতে আছো। থামা থামা। জামাইত্তা মলানা সাইদ্দা রাজাকারের চান্দের গল্প তুই এই লেওয়াখালিতে কইতে আছো। কোন বালচোদনের গপ্প বানাইছো। থামা।

-- কেন কি হইছে। সমস্যা কি! তোরে কুত্তায় কামরাইছে কোথায়! পাছায় নাকি আগায়। খারাপ কি কইলাম। কাইল তোরে কইছিলাম না; জবর ওয়াজ দিমু।

-- থো তোর জবর ওয়াজ। সাইদ্দা রাজাকারের চান্দের গল্প এই পউট্টাখালির লোকে খাইবে না। তুই কি জানস না, এইডা আমেলীগের এরিয়া।আর সাইদ্দা একটা মহাহারামী। সে একই জবানে আল্লার ওয়াজও করে। আবার সেই জবানে বেপর্দা আওরতের সঙ্গে জ্বেনা, মাগিবাজি করে। লোকজনে খালি হাসতেছে। তোর বয়ান শোনে আর হাসে। মোরে জিগায়; চান্দের কোন হাইন্দা দেখছ। পাছার মইধ্যে দেখছো। নাকি বালের মধ্যে দেখছো। এখন তুই যাইয়া বস্তা বস্তা টাকা উডা। মুই এখন বয়ান দিতাছি। আরে বলদের বলদ, ওস্তাদের ভাইস্তার সৌদীতে দশতলা দালান; এইডা তুই কি কইলি। তোর কি মাথা-মোতা সব গেছে ! আরে দশতলা বিল্ডিং থাকলে হে আইসা বিমারীর এলাজ করায় না কেন! লোকজনে তোরে খোঁজতেছে। মইত্তার পোলারাও ঘর দিয়া দৌড়ায়া আসতেছে।

-- হায় আল্লা , মুই তো এই কতাটা ভাবি নাই। মুই ভাবতেছিলাম, মানুষজনরে বিশ্বাস করান যায় কেমনে।

--বিশ্বাস করাবি আনে পরে , হেয়ার আগে মাইকটা বন্ধ কর। মোগো সব কথা ব্রডকাস্টিং হইতে আছে মনে হয়।


.

হ্যালো হ্যালো, মাইক্রোফোন টেস্টিং, একটি জরুরি এলান। আপনারা যারা মোমতাজ আলী হুজুরের পানি পড়া খাইতে চান তারা জরুরি এই মজসিদের কাছে আসেন। আমরা এইখানে পানি সংগ্রহ করতেছি। আর পুরান পানি ডেলিভারি দিতাছি। বিমারির শয্যা হইতে হুজুরের ফুঁ দেওয়া পানি পড়া। হুজুরের নিজের বিমারীর সুচিকিৎসা না হইলেও আপনাদের খেদমতের কথা তিনি বেভুল, বে-ফিকির হন নাই। এই পানি সর্বরোগহর। সব রোগের জন্য বড় কবিরাজির কাজ করতেছে। ক্যানসার, বাতের শুলবেদনা,হাটতে ব্যাথা, বইতে ব্যাথা; সব সারাইবে । রেডিমেড পানি পড়াও পাইবেন। প্রতি বোতল পানি মাত্র একশ টাকা। অত্যন্ত ধন্বন্তরি। দুর্বল যৌবন সবল করিতে সক্ষম। খাইবেন আর সবল হইবেন লগে লগে। কোন বিলম্ব নাই। আসেন, আসেন, একটা বোতল ফুঁ দেওয়া পানি লইয়া যান। বিবাহিত হইলে রাইতের বেলা বিশেষ কাজে দিব।আপনি অঅরবদেশের ঘোড়ার মতন বলশালী হইবেন। সারা রাইতে বিবি-সোয়ামী আর ঘুমাইতে পারবেন না। অবিবাহিত হইলে বাড়িত নিয়া উঠানে মাটির মধ্যে গর্ত কইরা রাইখা দেন। যখন বিবাহ করিবেন, বাসর রাইতে উডাইয়া খাইবেন। বেহেশতী শরাবান তহুরার মত কাজ দিব।

৯.

দোস্ত ,কোন মতলবই তো কামে লাগতেছে না। এইভাবে দিন চালামু কেমনে। মোর মায়ের চিকিৎসা লাটে উঠছে। এলোপ্যাথির এলাজ হোমিওপ্যাথিতে হয় না। কবিরাজ হারামজাদারা সব দুই নম্বর। মোগো হুজুরের পানির মধ্যে তো তবু ফুঁ দেওয়া আছে। কবিরাজির ষোল আনাই মিছা। গাছের শিকড়; কোন বালের গাছের শিকড়। সব ফক্কিরি। সব ধান্দাল। মোর মায়ের এলোপ্যাথি না হইলে হইবে না।

--তোমার তবু মায়েরে লইয়া কেস। তোমার মায়ে আর কয়দিন। আইজ আছে ।কাইল নাই। ওষুধ খাইলেও কাইত। না খাইলেও কাইত। মুই আছি অন্য বিপদে। মোর তো ছোড বুইনরে বিয়া দেওন দরকার। বাবায় হের লাইগা টাকা রাইখা গেছিল। হেয়া দিয়া মোর বড় শালারে দোকান বানাইয়া দিছি। এখন মায়ে সেই টাকা ফেরত চায়। যা টাহাপয়সা জমাইছলাম; সব তো এই কয়দিন ভাইঙ্গা খাইছি। আর তো কোন টাকা জেবে নাই। হুজুররে এখন যে কইরা হউক, বিছনা দিয়া উঠান দরকার। হেরে ছাড়া কোন আমদানি হইবে না। ফক্কিরি সবই তো করলাম। কই মানষে তো মোগো কতা বিশ্বাস লইতে চায় না। চান্দে নিলাম, পানি পড়া বেচতে চাইলাম , কোন ফক্কিরির ফায়দা নাই। বরিশাইল্লা , পউট্টাখালির লোকজন হইছে হাড়ে হাড্ডিতে শয়তান। এইখানে ফক্কিরির বাজার নাই।

-- এখন কি করন যায় , হেইডা কও। সারিন্দা থুইয়া আসল গান গাও। হুজুররে ভাল করি কেমনে! হে মাইকে বইলে মসজিদও ওডবে। মোগো পেটও বাচবে।

--মোর মাথায় অবশ্য একটা প্লান আছে। তুমি আপত্তি দেবা নাতো। হুজুররে বাচানোর টাহা তো মোগো ধারে আছে।

--কোন টাহা।

--সেই টাহা। বোঝলা না। টাহা গেলে টাহা পামু। সিন্দুক আবার ভরতে পারমু। কিন্তু ওস্তাদে ইন্তেকাল করলে তো ওস্তাদ পামু না। ওইরকম দরদী গলা পামু না। কি দরদী আওয়াজ। হে যা কয়; হেইডাই মানুষ বিশ্বাস করে। এইডাই হইতেছে আসল কুদরতি।

-- হুজুরে যদি আপত্তি দেয়।

--দেলে দিবে; মোরা হের সব কতা শুনব কেন। তার সব কতা শুনতে হইবে নাকি।


১০.

তোরা এত টাহা কই পাইছস হেইডা আগে কও। কার কাছ হইতে টাকা আনছো- হেইডা আগে শুনি। তারপর আমার এলাজ করামু।

-- দেহেন ওস্তাদ, কোতায় পাইছি, কেমনে পাইছি , বিস্তারিত বিবরণ দিতে পারমু না। তবে একটা জবান দিতে পারি, টাকাগুলা হারাম না। চুরি ডাকাতি করি নাই। কোল্ড স্টোর দিয়া লুট কইরাও আনি নাই।

--টাকার কতা জিগাইয়া সময় নষ্ট করণের কাজ নাই ওস্তাদ। আগে মাইক্রোতে গিয়া ওডেন। বরিশাল মেডিকেলে ভর্তি হন। দরকারে বরিশালে ক্লিনিকে ভর্তি দিমু। আপনার সুস্থ হওন লাগবে। সারা লেওয়াখালির মানুষ আপনারে খুঁজতেছে। সবাই আপনার আওয়াজ শুনতে চায়। আপনে মাইকে না বইলে কেউ ফুডা পয়সাও দিতে চাইতেছে না।

--তার আগে ক টাহা পাইছো কই।

-- দেখেন হুজুর, আপনি ছাড়া মোরা বেকার। মোরা সবাই পথে বসছি। না খাইয়া আছি। মোর বুইনের বিয়া বন্ধ। ওর মায়ের এলাচ বন্ধ। আপনি ছাড়া গতি নাই।

--এই লেউয়ার পুতেরা, তোরা আবার মসজিদের বায়তুল মালের সিন্দুকের টাকা লুইট্টা আনস নাইতো। দেখ। ওই টাহা আল্লার মাল। ওই টাকা মসজিদ উন্নয়নের জন্য রাখছি। হেই টাকা আইন্না মোরে দিতে আছোস নাতো। ওই টাকা ধরা নাজায়েজ। হারাম। হারামের ওপর দশ গুন হারাম। তোরা শেষে আমারে আল্লার ঘর লুটের ভাগীদার করতেছ নাকি।

--ওস্তাদ, আপনি লুটের ভাগীদার হইবেন কেন। হইলে আমরা হইবো।পাপের সব ভাগ মোগো দুইজনের ।

-- ওরে হারামজাদারা, তাইলে সেই কাজই করছো। আল্লার সৈনিক হইয়া আল্লার ঘর লুট করছো। ওরে হারামজাদা; তোরা মোর জন্য বিমারী সারানের টাহা আনছো নাকি জাহান্নুমের খাটিয়া নিয়া আসছো। তোগো পাল্লায় তো ডাইরেক্ট জাহান্নুমের টিকেটের বন্দোবস্ত হইছে।

--দেখেন , জাহান্নুমে গেলে সেই রিস্ক আমাগো। আমরা জাহান্নুুমে যামু। আপনারে ছাড়া তো দুন্নইটাই জাহান্নুম হইয়া গেছে আমাগো জন্য। পেডের মধ্যে, ঘরের মধ্যে জাহান্নুমের আগুন জ্বলতেছে।

--ওরে , হালার পো হালা। কাব্য মারান বাদ দে। বায়তুল মালের সিন্দুকের টাকা বায়তুল মালে রাইখা আয়। মোর এলাজ দরকার নাই।

-- আপনার দরকার নাই, বোজলাম। মোগো আছে। ওই আল্লার ঘর যদি একতলা দুই তলা করতে হয়, তাইলে আপনারে সেই আল্লার মঞ্জিলেরও দরকার আছে। আপনারে ছাড়া ওই আধা দালান আধাই রইয়া যাইবে। এখন কোনটা চান। আপনার বাইচা উইঠা সবাইরে বাচাইতে হইবে। এখন আসেন, দোয়া ধরি। মাফি চাই। হে আল্লা তুমি সুমহান। হে আল্লা তুই সুবাহান।

## সত্যি বিস্ময়কর এক দৃশ্য। মওলানা মমতাজ আলী, তার পর্দানশীন স্ত্রী রাজিয়া, লোকমান , গেলমান আলী , সোলেমান, কদর আলী লেওয়াখালি নদীর কাছেই জীর্ন এক কুটিরে বসে মধ্যরাতে আকুল হয়ে কাঁদছে। আকাশে তখন পূর্নিমার পূর্ন চাঁদ। সারা পারাপার , লেউয়াখালির আদিগন্ত নদী জোসনায় অমল ধবল। মওলানার বাড়ি ধুয়ে যাচ্ছে রুপালি ধারায়।

মমতাজ কাঁদছেন যুগপৎ আনন্দে। তার শিষ্যদের কাছে থেকে এত ভালবাসা কখনও পাবেন তিনি ভাবেন নি। তিনি কাঁদছেন অবিমিশ্র ভয়েও। তার শিষ্যরা সত্যিই নির্মান-স্থগিত মসজিদের বায়তুল মালের সিন্দুক ভেঙ্গে সব টাকা তার চিকিৎসার জন্য নিয়ে এসে।

মমতাজ কাঁদছেন যুগপৎ আনন্দে।তার শিষ্যদের কাছে থেকে এত ভালবাসাকখনও পাবেন তিনি ভাবেন নি। তিনি কাঁদছেন অবিমিশ্র ভয়েও। তার শিষ্যরা সত্যিই নির্মান-স্থগিত মসজিদের বায়তুল মালের সিন্দুক ভেঙ্গে সব টাকা তারচিকিৎসার জন্য নিয়ে এসেছে। অনেক টাকা। এখনও গোনাগুনতি হয় নাই। এ নিয়ে থানা পুলিশ হতে পারে। মইত্তা রাজাকার টাকার ভাগ না পেয়ে সামাজিক ভাবে হুজুরকে হেনস্থাও করতে পারে। চোর সাব্যস্ত হতে পারেন তিনি।
সেসবের অবশ্য ভয় তিনি করেন না। তার মধ্যে অদৃশ্য অন্য এক আতঙ্ক কাজ করছে। একথা সত্য, আল্লার ঘরের টাকা এর আগেও তারা সরিয়েছেন: কিন্তু বায়তুল মালের সিন্দুকে ঢোকানোর পর কখনও এত বড় বেশরীয়তি কাজ করেন নি। রোজ হাশরের ময়দানে কেমন করে এই কাজের জবাবদিহি করবেন।
গেলমান ও লোকমানের দোয়া আজকারেও শামিল হয়েছিলেন তিনি। তারা আকুল হয়ে খোদার দরবারে কবুল করেছে- চৌর্যবৃত্তির কথা। একই সঙ্গে এই জবানও দাখিল করেছে যে-- মুমতাজ আলী অচিরেই সুস্থ হয়ে উঠলে তারা কয়েকগুন পরিশ্রম করবে। আবার ফেরীঘাটে মসজিদের হাদিয়া বেশী বেশী আদায় হবে। কোন বাস তারা বাদ দিবে না। দৌড়ে দৌড়ে কাজ করবে। আবার ভরে উঠবে বায়তুল মাল। আবার শুরু হবে মসজিদের অসমাপ্ত কাজ। তারপরও মুমতাজ সংশয়ে-- শরীয়তের এই বরখেলাপ আল্লা সহ্য করবেন তো। ক্ষমাসুন্দর নজরে দেখবেন তো তিনি।

গেলমান, লোকমান এ নিয়ে মোটেই অনুতপ্ত নয়। তারা বরং স্বপ্ন দেখছে– হুজুর সুস্থ হলে ফেরীঘাটে আবার আমদানি জমজমাট হবে। তারা ভাল হিস্যা পাবে। মায়ের সুচিকিৎসা হবে। বোনের বিয়েশাদী দিতে কোন সমস্যা হবে না। তাদের সংসারের অভাব অনটন নিরসন হবে।




লেখক পরিচিতি
মিলন ফারাবী

বরিশাল জেলার সাবেজ পিরোজপুর মহকুমায় বাড়ি।
জন্ম ১৯৬৬ সাল।
গল্পকার।

1 টি মন্তব্য:

  1. গল্পটির শেষাংশ কোন কারণে বাদ পড়েছে। অনুগ্রহ করে মিলিয়ে পড়বেন সহৃদয় পাঠক। --মিলান ফারাবী


    মমতাজ কাঁদছেন যুগপৎ আনন্দে।তার শিষ্যদের কাছে থেকে এত ভালবাসাকখনও পাবেন তিনি ভাবেন নি। তিনি কাঁদছেন অবিমিশ্র ভয়েও। তার শিষ্যরা সত্যিই নির্মান-স্থগিত মসজিদের বায়তুল মালের সিন্দুক ভেঙ্গে সব টাকা তারচিকিৎসার জন্য নিয়ে এসেছে। অনেক টাকা। এখনও গোনাগুনতি হয় নাই। এ নিয়ে থানা পুলিশ হতে পারে। মইত্তা রাজাকার টাকার ভাগ না পেয়ে সামাজিক ভাবে হুজুরকে হেনস্থাও করতে পারে। চোর সাব্যস্ত হতে পারেন তিনি।
    সেসবের অবশ্য ভয় তিনি করেন না। তার মধ্যে অদৃশ্য অন্য এক আতঙ্ক কাজ করছে। একথা সত্য, আল্লার ঘরের টাকা এর আগেও তারা সরিয়েছেন: কিন্তু বায়তুল মালের সিন্দুকে ঢোকানোর পর কখনও এত বড় বেশরীয়তি কাজ করেন নি। রোজ হাশরের ময়দানে কেমন করে এই কাজের জবাবদিহি করবেন।
    গেলমান ও লোকমানের দোয়া আজকারেও শামিল হয়েছিলেন তিনি। তারা আকুল হয়ে খোদার দরবারে কবুল করেছে- চৌর্যবৃত্তির কথা। একই সঙ্গে এই জবানও দাখিল করেছে যেÑ মুমতাজ আলী অচিরেই সুস্থ হয়ে উঠলে তারা কয়েকগুন পরিশ্রম করবে। আবার ফেরীঘাটে মসজিদের হাদিয়া বেশী বেশী আদায় হবে। কোন বাস তারা বাদ দিবে না। দৌড়ে দৌড়ে কাজ করবে। আবার ভরে উঠবে বায়তুল মাল। আবার শুরু হবে মসজিদের অসমাপ্ত কাজ। তারপরও মুমতাজ সংশয়েÑ শরীয়তের এই বরখেলাপ আল্লা সহ্য করবেন তো। ক্ষমাসুন্দর নজরে দেখবেন তো তিনি।

    গেলমান, লোকমান এ নিয়ে মোটেই অনুতপ্ত নয়। তারা বরং স্বপ্ন দেখছে– হুজুর সুস্থ হলে ফেরীঘাটে আবার আমদানি জমজমাট হবে। তারা ভাল হিস্যা পাবে। মায়ের সুচিকিৎসা হবে। বোনের বিয়েশাদী দিতে কোন সমস্যা হবে না। তাদের সংসারের অভাব অনটন নিরসন হবে।

    উত্তরমুছুন