বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৪

কার্লোস ফুয়েন্তেসের সাক্ষাৎকার

অনুবাদ- এমদাদ রহমান


কার্লোস ফুয়েন্তেস বলেছেন রাজনীতি হতে থাকে মতাদর্শগত, তার ঝোঁক আদর্শবাদ, ধর্ম হচ্ছে মতবাদসংক্রান্ত, অন্ধবিশ্বাস, কিন্তু সাহিত্য সব সময় অনিশ্চিত অর্থ কিংবা অভিপ্রায় বিশিষ্ট। পাবলিশার্স উইকলি’র পক্ষে রবার্ট জেমস এই লেখকের সঙ্গে কথা বলেছিলেন বিশেষ করে ব্লাদ উপন্যাসটি নিয়ে। এটাই ফুয়েন্তেসের শেষ সাক্ষাৎকার।


কার্লোস ফুয়েন্তেসের জন্ম ১১ নভেম্বর ১৯২৮, মেক্সিকোয়। দ্য ডেথ অব আর্টেমিও ক্রুজ, আত্তরা, ক্রিস্টোকার আনবর্ন, টেরা নস্ত্রা, ডিস্ট্যান্ট রিলেশনস, দ্য ওল্ড গ্রিঙ্গো, দ্য ক্যাম্পেইন, দ্য ইয়ার্স উইথ লরা দিয়াজ, দ্য ঈগলস থ্রোন এবং ডেসটিনি অ্যান্ড ডিজায়ার, ব্লাদ ইত্যাদি তাঁর শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। তিনি বেশকিছু স্মরণীয় ছোটগল্প ও নাটক রচনা করেছেন। সমসাময়িক সাহিত্য, লেখক, নিজের পাঠ আর লেখালেখির কলাকৌশল নিয়ে অজস্র গদ্যও রেখে গেছেন তিনি। মৃত্যুবরণ করেন ২০১২ সালের ১৫ মে।


রবার্ট জেমস— আপনার উপন্যাস ‘ব্লাদ’ সম্পর্কে বলুন।
ফুয়েন্তেস— ব্লাদ আসলে রক্তচোষার গল্প। পিচাশকাহিনি। ব্লাদ ইউরোপে রক্ত সরবরাহ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে, নিঃশেষ হয়ে মেক্সিকোয় ফিরে আসে। আমি আসলে উপন্যাসের প্লটকে খুব বেশি বিস্তৃত করতে চাইনি। ইতিহাসের সত্যটা হল, এই ব্লাদ ছিল বলকানদের এক বিশেষ রাজনৈতিক শক্তি— এক খুনি কিন্তু ভ্যাম্পায়ার নয়।

রবার্ট জেমস—উপন্যাসটা কেন লিখলেন?
ফুয়েন্তেস— পিচাশদের নিয়ে পুরনো সিনেমাগুলো আমার খুব প্রিয়। যখন ছোট ছিলাম, তখন বেলা লুগেসির ছবির সঙ্গে বরিস কারলের ছবি দেখতাম একসঙ্গে। যেন একসঙ্গে অতিকায় এক দানবকে দেখতাম। আপনি তো জানেন ড্রাকুলা কখনই তার পোশাক পালটায় না। কখনই না। ড্রাকুলা সন্ধ্যার পোশাকেই তার কফিনে ঘুমাতে যায়, পরের রাতে সেই একই পোশাকে কফিন থেকে বের হয়ে আসে।


রবার্ট জেমস— এইসময়ে ড্রাকুলা নিয়ে লেখা সাহিত্য আর সিনেমাগুলি সম্পর্কে আপনার ধারণা কী?

ফুয়েন্তেস— হ্যাঁ, এখনকার রক্তচোষারা বয়সে তরুণ, এমনকি তাদের বয়স তের থেকে উনিশ বছরের ভিতর। তবে আমি বয়স্ক অর্থাৎ পুরনোদের পছন্দ করি।


রবার্ট জেমস— উপন্যাসের পটভূমি হিসাবে কেন মেক্সিকোকেই বেছে নিলেন?
ফুয়েন্তেস— এখানে দশ মিলিয়ন মানুষ আছে যারা ব্লাদকে উপভোগ করতে পারবে, মানে ব্লাদের রক্তপানের উৎসবকে। আর এখানেই আছে অ্যাজটেকদের সঙ্গে মানুষের আত্মাহুতির একটি ঐতিহ্য। সব মিলিয়ে বলব যে আমি এই দেশটাকে বেশ ভালভাবেই জানি, আজ যদি আমি আরহেন্তিনার মানুষ হতাম, উপন্যাসটিকে সেখানেই স্থাপন করতাম।

রবার্ট জেমসআপনি কি লেখালেখির ক্ষেত্রে খুব নিয়ম মেনে চলা লেখক? নিজের লেখালেখি নিয়ে কি কোনও পরিকল্পনা বা ছক তৈরি করেন?
ফুয়েন্তেস— আমি আসলেই নিয়ম মেনে চলা লেখক। আমার দাদীমা ছিলেন জার্মান। অনেক হিস্পানিভাষী লেখক বলেন যে তারা অনুপ্রেরণা দ্বারা তাড়িত হন। আমার সব অনুপ্রেরণা আসে কাজ থেকে। আমার কাজ শুরু হয় সকাল সাত’টায়, কাজে কাজে চলে যায় পরবর্তী পাঁচ ঘণ্টা। কাজ আমার কাজে অশেষ আনন্দের ব্যাপার। লেখালেখির কাজ আসলেই খুব নির্জনতার আর আনন্দের। কাজ আমাকে কাবু করতে পারে না। রাতে কাগজে আমি কিছু ভাবনা টুকে রাখি আর পরের দিন এগুলি দেখে আমি বিস্মিত হয়ে দেখি যে, কী আশ্চর্য সব কথাই না লিখেছি!

রবার্ট জেমস— আপনি কি লেখার কাজে কম্পিউটার ব্যাবহার করেন?
ফুয়েন্তেস— লেখালেখির ক্ষেত্রে আমি আসলে সারভেন্তেসের মত, কাগজ আর কলমই আমার সঙ্গী। যখনই অন্য কোথাও লিখতে যাই, চরমভাবেই ব্যর্থ হই।

রবার্ট জেমস— আপনি আসলেই সারভেন্তেসের একজন বিশাল ভক্ত!
ফুয়েন্তেস— হিস্পানি ভাষার তিনি একজন বড় মাপের আধুনিক লেখক। প্রতি দুই বছর অন্তর তার দন কিহোতে আমি পড়ি। দন কিহোতে হল উপন্যাসের উপন্যাস, উপন্যাসের ভিতরের উপন্যাস।

রবার্ট জেমস--আপনি তো বেশ কিছু চিত্রনাট্য আর মঞ্চনাটকও লিখেছেন।
ফুয়েন্তেস—এইসব কাজ এখন পুরোপুরিই ছেড়ে দিয়েছি। এই মাধ্যমগুলো আপনার কাছে দাবি করবে যে আপনি চারপাশের বস্তুজগতটাকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করবেন, দেখবেন। তারপর... কীভাবে আপনি একটি দরজার বর্ণনা দেবেন... এইসব। আপনি হবেন একজন লেখক কিংবা সিনেমা নির্মাতা। কিন্তু দুটো নয়। সাহিত্য হল সিনেমা তৈরির সম্পূর্ণ বিপরীত ব্যাপার।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন