শনিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০১৫

রফিকুর রশিদের গল্প : পালাবদল

এবার এই হাড়কাঁপানো শীতেও যে দজ্জাল মশার উৎপাত কমে নি, সেকথা মনেই ছিল না তাঁর। রাতে ঘুমানোর সময় বাড়ীতে মশারি টাঙানো হয় না বেশ কিছুদিন থেকেই। এমন কি পাঁচবেলা বাড়ীর পাশে মসজিদে গিয়েও মশার দৌরাত্ম্য তেমন টের পান না। কিন্তু আজ এই ঘুটঘুটে অন্ধকারে এ কোন নরকে এসে দাঁড়িয়েছেন-ঝাঁকে ঝাঁকে তেড়ে আসছে দজ্জালের দল! মাফলারে-চাদরে কানমুখ মোড়ানো বলে ওদের রণসঙ্গীত কানে আসছে না, সেই সঙ্গে মাইক্রোফোনের তীব্র শব্দও খানিক প্রতিরোধ করেছে বটে, কিন্তু পা দুটোতে তারা চালিয়ে যাচ্ছে আক্রমণ। এদিকে যাত্রাপালার দৃশ্য তো থমকে দাঁড়ায় না, আপন গতিতে চলতেই থাকে।

সহসা জ্বরতপ্ত মানুষের মতো সারা শরীর শিউরে ওঠে। অন্ধকারেই জিভে কামড় দেন। তওবা কাটেন মনে মনে। ঠোঁটে বিড়বিড় করেন। নাউজুবিল্লাহ মিন জালেক।

এতক্ষণ পর নিজের গায়ে চিমটি কেটে নিজেকেই শুধাতে ইচ্ছে করে-এখানে কী করতে এসেছেন তিনি? মাঘরাত্রির এই ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে এভাবে অন্ধকারে একাকী দাঁড়িয়ে থাকার কোনো মানে হয়? স্মরণ করার চেষ্টা করেন, কতক্ষণ দাঁড়িয়ে আছেন এখানে? ঘুটঘুটে অন্ধকারে বাড়ী থেকে বেরিয়ে তিনি যখন এখানে এসে দাঁড়ান, তখন তীব্র শীতে নাকি প্রচণ্ড ক্রোধে তাঁর শরীর কাঁপছিল? না না, প্রথমেই তিনি তো এইখানে এই নির্জনে এসে দাঁড়ান নি। অস্পষ্ট হলেও প্রাইমারি স্কুলের এই খোলা বারান্দায় দাঁড়িয়ে সব দেখা যায় এবং সব শোনা যায় বটে, তবু তিনি গোঁয়ার মোষের মতো ফুঁসতে ফুঁসতে সোজাসুজি ছুটে যান যাত্রাপালার প্যান্ডেলের কাছে। টুপি-মাফলারে ঢাকা হলেও তাঁর মাথার চাঁদিতে এখন দাউ দাউ আগুন-এক কুলাঙ্গার পুত্রের বেয়াড়া কর্মকাণ্ডের জন্য সৈয়দ বংশের মানসম্মান এভাবে ধুলোয় লুটিয়ে যাবে! নেই নেই করেও কূলগৌরবের শুষ্কপ্রায় ধারাটি তিনি এখনো আগলে রেখেছেন। অর্থবিত্ত প্রতিপত্তি আজ তাঁর নেই বললেই চলে, তবু শরীরে বইছে সৈয়দ আশরাফ হাজীর রক্তপ্রবাহ; এই বাঁশতলি বলে তো শুধু নয়, দশদিগরের মানুষ আজো সেই বহমান রক্তধারাকে সম্মান করে। সহায় সম্পদ বিশেষ কিছু না থাক, ইমাম সাহেব হিসেবে সারা গ্রামে তাঁর সম্মানের আসন ঠিকই আছে। পেটের দায়ে নয়, বাড়ীর পাশের মসজিদে তিনি পাঁচবেলা ইমামতি করেন মানুষের শ্রদ্ধাভক্তি সম্মান ধরে রাখার জন্য। তাঁর ছেলে যায় যাত্রা করতে!


বাঁশতলি প্রাইমারির পাশেই হাইস্কুল প্রাঙ্গণে সাজানো হয়েছে যাত্রার মঞ্চ। এই গ্রামেরই শিক্ষিত ছেলেরা জোটবেঁধে গঠন করেছে ক্রীড়া ও সামাজিক সাংস্কৃতিক ক্লাব। ক্লাবের উদ্যোগেই সারাদিন নানান কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে বিজয়দিবস। রাতের বেলা নাটক। এই নাটক নিয়েও গত কয়েকদিনে বেশ নাটক হয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক রক্তের স্বাক্ষর মঞ্চায়নে স্থানীয় প্রশাসনের আপত্তি, ওই নাটকে রাজনীতি আছে। একেবারে শেষবেলায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পারিবারিক নাটক নামানো হচ্ছে-‘সংসার কেন ভাঙ্গে’। বাঁশতলি হাইস্কুলের নুরুল স্যারের লেখা। ফলে তাঁর উৎসাহ আকাশছোঁয়া। অনেকদিন পূর্বে স্কুলের পক্ষ থেকেও এ নাটক একবার নামানো হয়েছিল। তখনকার ছাত্রদের অনেকেই এখন বড় হয়েছে, গ্রামের ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ‘রক্তের স্বাক্ষর’ মঞ্চায়নের অনুমতি না পেয়ে শেষ পর্যন্ত নাটকের জিদ পূরণের জন্যে তারাই মেতে ওঠে এই নাটক নিয়ে। গ্রামের লোক ওই নাটককেই বলে যাত্রা।


সৈয়দ আশরাফ হাজীর বংশধর হয়ে মধ্যবয়স পেরুনোর পর ইমামসাহেব কি রাতের আঁধারে যাবেন যাত্রা দেখতে? মাথা খারাপ! তাই বলে নিজেকে তিনি গোঁড়া মওলানা-মৌলবির কাতারেও ফেলতে চান না। তাঁর একমাত্র পুত্র আসলাম মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাসের পর কলেজে ভর্তি হতে চাইলে তিনি বাধা দেন নি। এমন কি দু’এক মাসের মধ্যে পুত্রের পোশাক পরিচ্ছদ এবং চলাফেরার পরিবর্তনও তাঁর নজরে পড়েছে, তিনি চোখ রগড়ে তাকিয়েছেন, কিন্তু এসবের কিছুতেই কখনো আপত্তি জানান নি। তাই বলে সেই ছেলের এতটা অধঃপতনও তাঁকে নীরবে মেনে নিতে হবে? তাঁর ছেলে হয়ে আসলাম নামবে যাত্রাপালায়! এতটা স্পর্ধা সে পায় কোথায়? পাঁচ মেয়ের পরে একমাত্র ছেলে পাওয়া গেছে বলে এমন লাগামহীন আশকারা দেবে আসলামের মা? একদিন নয়, একাধিক দিন তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ওই ছেলের জন্য মা-বাপকেও দোজখের আগুনে পুড়ে খাক্‌ হতে হবে।

আজও এশার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বেরিয়ে মাইক্রোফোনের শব্দ শুনে তিনি চমকে ওঠেন। বলা যায় বুকের মধ্যে হাতুড়ির পিটুনি টের পান। স্কুল-পাড়ায় মাইক বাজছে সকাল থেকেই। নানান রকম গান বাজছে, খেলাধুলার ধারাভাষ্য শোনা যাচ্ছে, কখনো বা মাইক্রোফোনের ভেতরে সম্মিলিত কোলাহলও ভেসে আসছে; কিন্তু শিশির ভেজা রাতের ইথারে এ কোন ঘোষণা?

‘আসলাম, তুমি যেখানেই থাক, অতিসত্ত্বর গ্রীনরুমে এসে দেখা কর।’

একই ঘোষণা বারবার এসে কানের দরজায় করাঘাত করে। কেঁপে ওঠে তাঁর দেহের খাঁচা। সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না কী করবেন তিনি! এতবার নিষেধ করেও তাহলে ঠেকানো গেল না ওই অকালকুষ্মাণ্ডকে! রাগে গরগর করতে করতে দ্রুতপায়ে বাড়ী ফিরেই তিনি তম্বি চালান স্ত্রীর উপরে।

শুনছ তো, তোমার গুণধর ছেলের নাম ঘোষণা হচ্ছে মাইকে! কী রত্ন যে পেটে ধরেছিলে! ওই শোনো...।
না, এবারের ঘোষণা খানিকটা পরিবির্তত। সমস্যা হয়েছে আসলাম নামটা নিয়ে। এ পাড়াতেই আরও এক আসলাম আছে, রহিম বঙ মণ্ডলের বড় ছেলে। দুই আসলামকে পৃথকভাবে শনাক্ত করার জন্যেই হয়তো বা নিরুপায় ঘোষক বলছে-ইমাম সাহেবের পুত্র আসলাম, তুমি যেখানেই...।

কানের ভেতর দিয়ে আগুনের হলকা ঢুকে মগজের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়। হিতাহিত জ্ঞান এক নিমেষে লুপ্ত হয়ে যায়। সহসা এক ধাক্কায় সামনে দাঁড়িয়ে থাকা স্ত্রীকে উঠোনে ফেলে দিয়ে ইমাম সাহেব হনহন করে বাড়ী থেকে বেরিয়ে যান। মাত্র কয়েক কদম এগিয়ে যাবার পর আবার ফিরে আসেন। আসলামের মা তখন উঠোনের ধুলোয় লুটিয়ে বুক চাপড়ে আহাজারি শুরু করেছে। মায়ের এ মাতন যেন ক্রোধের আগুনে ঘি ঢেলে দেয়। ইমাম সাহেব উবু হয়ে স্ত্রীর চুলের মুঠি ধরে টানতে টানতে ঘোষণা দেন-তোমার ছেলেকে আমি ত্যাজ্যপুত্র করব, হ্যাঁ। কেটে টুকরো টুকরো করে নদীতে ভাসিয়ে দেব।

কিন্তু বাস্তবে সে নদী কোথায়? গ্রামের পাশে ক্ষীণকায়া কাজলা নদী, সে নদীর বুকে এখন ধানের আবাদ; পা ডোবানোর পানি নেই, মানুষ ভাসাবে কেমন করে! তাছাড়া তাজ্যপুত্র ঘোষণার পর তাকে কেটে টুকরো করা কিংবা নদীতে ভাসানোরই বা কী দরকার! এ সব যৌক্তিক প্রশ্ন ইমাম সাহেবের অন্তরে আদৌ উদয় হয় কি না কে জানে! স্ত্রীর উপরে হুমকি ঝাড়ার পর বাড়ী থেকে বেরিয়ে তিনি সোজা চলে আসেন স্কুল পাড়ায়। এসে তাঁর চক্ষু ছানাবড়া। এত মানুষের ভিড়! এ নিশ্চয় শুধু বাঁশতলির মানুষ নয়, আশপাশের আরও পাঁচ গ্রামের মানুষজন শীতরাত্রির বারণ উপেক্ষা করে ছুটে এসে নরক গুলজার করে তুলেছে। ইমাম সাহেব কিছুতেই ভেবে পান না এখন এই মানবপ্রাচীর টপকে কীভাবে তাঁর পুত্রের কাছে পৌঁছুবেন। কাছে পৌঁছুতে না পারলে তো তার কান ধরে টেনে বের করে আনা যাচ্ছে না। ভিড়ের মধ্যে ঠেলাঠেলি করতেও ভীষণ সংকোচ হয়-কেউ যদি চিনে ফেলে! ইমাম সাহেবকে যাত্রার আসরে দেখে কী ভাববে লোকজন! এরই মাঝে কে একজন জুতোঅলা পা তুলে দেয় তার পায়ে। মুখ দিয়ে একবার কাতরানি বেরিয়ে পড়ে-‘উহ্‌!’ কিন্তু জুতোঅলা যুবক ভ্রূক্ষেপই করে না। সে খুঁজছে একটু নিরাপদ জায়গা, যেখানে দাঁড়িয়ে নির্বিঘ্নে মঞ্চের দৃশ্য দেখা সম্ভব। এদিকে যাত্রা শুরু হয়ে গেছে। ছটফট তো করবেই। সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে সে দিব্যি সরে যায়। ইমাম সাহেবও যন্ত্রণাদগ্ধ পায়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ফাঁকফোকর খোঁজেন। অবশেষে নিরুপায় হয়ে তিনি খানিকটা পিছিয়ে আসেন। তখন ভাবেন, তেমন পরিচিত কাউকে পেলে তাকে দিয়ে খবর পাঠাবেন-তোর বাপ এসেছে, জন্মদাতা বাপ। বাপের ব্যাটা হলে এক্ষুণি বেরিয়ে আয় যাত্রা প্যান্ডেল থেকে। বুকের পাটা থাকে তো সামনে এসে দাঁড়া। আয়, সামনে আয়!

কিন্তু কাকে বলবেন এ কথা! কাকে দিয়ে খবর দেবেন? ইতস্তত ছুটাছুটি করছে যে সব লোকজন, এই আলো আঁধারিতে তাদের কাউকেই বিশেষ চেনা যাচ্ছে না। অবাক ব্যাপার তো! এতো সব মানুষজনের মধ্যে একটা চেনা মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না? তাহলে এত মানুষ ভিনগ্রহ থেকে এলো নাকি? আরো কয়েক পা পিছিয়ে এসে কাঁধ উঁচু করতেই তাঁর দৃষ্টি গিয়ে পড়ে মঞ্চের উপর। কে একজন অসহায় বৃদ্ধ তখন আবেগরুদ্ধ কণ্ঠে সংলাপ উচ্চারণ করছে, ‘তুমি আমার সাজানো বাগান এভাবে ভেঙ্গেচুরে তছনছ করে দিয়ো না বউ মা। এই সংসারের বড় বউ তুমি। তোমার উপরে কত আশা কত ভরসা আমার। আর তুমি কিনা শেষ পর্যন্ত...।’ সংলাপ শেষ না হতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বৃদ্ধ। বউমা ক্যানকেনে কণ্ঠে কী জবাব দেয়, স্পষ্ট বুঝা যায় না। তবে বৃদ্ধের এক ছেলে, সম্ভবত বড়ছেলেই হবে, বেশ কর্কশ কণ্ঠে উচ্চারণ করে, ‘তুমি এভাবে একতরফা বিচার করলে তো চলবে না বাবা!’

বৃদ্ধের কণ্ঠে মর্মরিত হয় সেই হাহাকার, ওরে তুই এ কথা বলতে পারলি মানিক! এত বড় আঘাত ধর্মে সইবে না বাপ!

ইমাম সাহেবের বুকের ভেতরে কী যে হয়, মঞ্চ থেকে চোখ সরিয়ে নেন, নিজেকে। আরও খানিক পিছিয়ে নেন। মঞ্চের অভিনেতাদের কাউকেই ঠিক চিনতে পারেন না। ভাবনা হয়, আসলামকে তাহলে শনাক্ত করবেন কী করে? দাড়ি গোঁফ, গালে মোটা আঁচিল লাগিয়ে, রং মাখিয়ে এক একজনের যে চেহারা বানিয়েছে, সহজে কি চেনার উপায় আছে? মঞ্চের দিকে তাকাতে না চাইলেও একজনের কণ্ঠশুনে আবার দৃষ্টি চলে যায় মঞ্চে। এক যুবক সেই বড় বউকে বলছে, খুব ছোটবেলায় আমি মাকে হারিয়েছি ভাবী। মায়ের আদর কাকে বলে জানি না। ভেবেছিলাম, তোমাকে পেয়ে...

ন্যাকামো রাখ তো রতন! খুব হয়েছে।

রতন! ইমাম সাহেব এবার চোখ মেলে তাকান, ওই বৃদ্ধের ছোটছেলের নাম রতন নাকি? কণ্ঠটা কেমন চেনা চেনা মনে হয়। কিন্তু না, ঠোঁটের উপরে গোঁফ, চোখে চশমা; তিনি যা ভেবেছিলেন, তাতো ঠিক মিলছে না। তবু তিনি চোখ সরিয়ে নেন। ওই অভিনেতারও যদি চোখে চোখ পড়ে যায়, কী কাণ্ড হবে তখন!

পিছু হটতে হটতে ইমাম সাহেব এক সময় প্রাইমারী স্কুলের নির্জন বারান্দায় উঠে দাঁড়ান। এখান থেকে মঞ্চের অভিনয় স্পষ্ট দেখা যায় না, পুতুল নাচের দৃশ্য বলে মনে হয়; তবে উন্নত মাইক্রোফোনের কল্যাণে সংলাপ ঠিকই শোনা যায়। নাটকের কাহিনী সেই চিরকালে মধ্যবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের ভাঙনের কাহিনী। বড় বউ বড়লোক বাপের সহায়সম্পদের অহঙ্কারে দেবর-ননদের সঙ্গে দুর্ব্যহার করে, এমন কি বৃদ্ধশ্বশুরকে অপমান করতেও বাধে না। মানিক সব দেখেও প্রতিবাদে সাহসী হয় না। বৃদ্ধের আহাজারি কখন অগোচরে ইমাম সাহেবের অন্তরে বেদনার সঞ্চার ঘটায়, নিজের অজান্তে চাদরের খুঁটে চোখের কোণা মোছেন। এভাবেই চলছিল বেশ। দজ্জাল মশার কামড়ে এক সময় তাঁর চৈতন্যোদয় ঘটে। নতুন করে তাঁকে স্মরণ করতে হয়-এখানে তিনি কী করতে এসেছিলেন? ‘নাউজুবিল্লাহ...’ পড়তে গিয়ে এবার মাঝপথে তাঁর কণ্ঠ থেমে যায়। দাঁতে জিভ কাটেন তিনি। এতক্ষণে টের পান, তাঁর ক্রোধের বেলুন হাওয়া শূন্য হয়ে চুপসে গেছে অনেক আগেই। শীতার্ত মধ্যরাতে এবার তিনি বাড়ীর পথে পা বাড়ান। নাটক প্রায় শেষের পথে। আসলাম বাড়ী যাবার আগেই তিনি পৌঁছুতে চান এবং লেপের তলে ঢুকে পড়তে চান। আসলাম যেভাবে জন্মদাতা বাপের চোখে ধুলো দেয়, আজ তিনিও সেইভাবে ছেলের চোখকে ফাঁকি দিতে চান।০


লেখক পরিচিতি:
রফিকুর রশীদ



 কথা সাহিত্যিক, গীতিকার, শিক্ষাবিদ। মেহেরপুর জেলার গাংনী থানার গাঁড়াডোব গ্রামে ১ জানুয়ারী ১৯৫৮ তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি গাংনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৭৩ সালে মাধ্যমিক, মেহেরপুর কলেজ থেকে ১৯৭৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৯ সালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য স্নাতক সম্মান ও ১৯৮০ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ন অবস্থাতেই কথা সাহিত্য জগতে বিশেষ অংশ গ্রহণ এবং বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় ছোটগল্প প্রকাশ। তার গল্প হৃদয়কে স্পর্শ করে। বিশিষ্ট কথাশিল্পী গীতিকার হিসেবে তিনি বিশেষ খ্যাতি লাভ করেছেন। তিনি বাংলাদেশ বেতারের ‘ক’ শ্রেণীর একজন গীতিকার।


কথা সাহিত্যিক রফিকুর রশীদ দেশের প্রধান প্রধান পত্র-পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে নিয়মিতভাবে গল্প ও উপন্যাস রচনা করে ও বেশ কিছু সংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশ করে জাতীয় পর্যায়ের সাহিত্যের ধারায় তাঁর নামকে সমুজ্জ্বল করতে সক্ষম হয়েছেন।


১৯৮২ সালে সিলেটের এক চা বাগানে সহকারী ম্যানেজার হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৮৩ সাল থেকে তিনি মেহেরপর জেলার গাংনী ডিগ্রী কলেজ বাংলা বিভাগে অধ্যাপনায় রত। তিনি গাংনীর মুক্তিযুদ্ধের শহীদ স্মৃতি পাঠাগরের সভাপতি ও বাংলা একাডেমীর সদস্য। এলাকায় সাহিত্য-সাংস্কৃতিক আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছেন।


তার প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হচ্ছে গল্প: হলুদ দোয়েল ( ১৯৮৯), মুক্তিযুদ্ধের গল্প (২০০০), অন্যযুদ্ধ (২০০৩), দিন যাপনের দায় (২০০৩); উপন্যাস: হৃদয়ের একুল ওকুল (১৯৯৬), দাঁড়াবার সময় (১৯৯৯), পাপী পিয়া এবং পদ্মফুল (২০০৪); শিশু সাহিত্য(ছড়া): জন্মদিনের ছড়া (১৯৯৬), যুদ্ধদিনের ছড়া (১৯৯৬), নূর হোসেন এক কাব্য লেখা (১৯৯৬), ভাষার লড়াই ছড়ায় ছড়াই(২০০৩), শিশু সাহিত্য(গল্প): প্রভাতফেরি (২০০২), মশা (২০০৩), প্রজাপতি (২০০৩), ইচ্ছে পুতুল (২০০৪), নির্বাচিত কিশোর গল্প (২০০৪); চার গোয়েন্দার কান্ড (২০০৫), নজরুল জীবনের গল্প (২০০৫)। ইতিহাস: মেহেরপুর জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস (প্রকাশিতব্য)।





পুরস্কার ও সম্মাননা : প্রভাত ফেরি গ্রন্থের জন্য এম নূরুল কাদের শিশু সাহিত্য পুরস্কার (২০০৩), সাতক্ষীরা সাহিত্য একাডেমী থেকে ‘সাতক্ষীরা সাহিত্য একাডেমী স্মরক ও সম্মাননা (২০০৪) সহ আরো পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন