বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

মৃন্ময় চক্রবর্তী'র গল্প : চৈত্রক্ষ্যাপা

কাটোয়ায় পদ্মপাতায় ভাত খেলাম পাইস হোটেলে। চমৎকার, এমনটা হোটেলে কোনোদিন খাইনি। সবজিভাত, কিন্তু অমৃত। এবার ভেন ধরে যেতে হবে গঙ্গার ঘাটে।

সবাই উল্টোপাল্টা ভাড়া হাঁকাচ্ছে বলে ভেনে না উঠে পায়ে হেঁটেই চললাম। যেতে যেতে সঙ্গী বন্ধু বললেন, দেরি হয়ে যাবে,এখান থেকে ভেন ধরা হোক, আশাকরি স্ট্যান্ড থেকে এতটা দূরে ভাড়া কমই হবে। হলও তাই অনেক কম ভাড়ায় কাটোয়ার ঘাটে এসে গেলাম। পৌঁছেই দেখি ভুটভুটি প্রায় ছেড়ে দেয় দেয়! তাড়াতাড়ি ভেনের ভাড়া মিটিয়ে উঠে পড়লাম ভুটভুটিতে।

ছোট নৌকোর গায়ে মেশিন বসিয়ে ভুটভুটি বানানো হয়েছে। ভুটভুটি ঘাট পেরিয়ে ভেসে পড়ল গঙ্গায়। মৃদু হাওয়া বইছে। কিন্তু মাথার উপর চাঁদি ফাটানো চৈত্রের রোদ। গামাছা দিয়ে মাথা ঢেকে বসলাম।

চলেছি নৈহাটি। এ উত্তর চব্বিশ পরগণার শহর নৈহাটি নয়, বর্ধমান জেলার নৈহাটি গ্রাম,প্রাচীন নবহট্ট। দেখতে চলেছি বোলান, নির্দিষ্ট করে বললে পোড়োবোলান। ভুটভুটিতে এক বৃদ্ধর সঙ্গে আলাপ হল আমাদের গন্তব্য ইত্যাদি জিজ্ঞাসা করলেন। আমরা বলতে তিনি বললেন, আগে যা হত এখন আর সেসব তেমন হয়না! একবার নাকি একজন চোতক্ষ্যাপা( গাজন সন্ন্যাসী) মড়ার মাথা যোগাড় করতে না পেরে নিজের জামাইয়েরই মুন্ডু কেটে পোড়োবোলানে নেচেছিল। সে এক বীভৎস ব্যাপার। গল্প শুনে আমরা ঘাবড়ে গেলাম। আমার সঙ্গী ওনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এখনও এসব মুন্ডু কাটাকাটি হয় কিনা। উনি বললেন, না না এখন আর এসব হলে রক্ষে আছে নাকি?প্রচুর পুলিস টুলিশ থাকে। আর মানুষও অমন আনাড়ি নেই আগেকার মত।

-উদ্ধামপুর উদ্ধামপুর কে নামবে? মাঝির সাঙাত হাঁক পাড়ছে। আমরা গল্প শুনতে শুনতে ভুলেই গেছি যে উদ্ধারণপুর নামতে হবে আমাদের! দাঁড়াও ভাই, চেঁচিয়ে উঠলাম, আমরা নামব!

আগে বলবেন তো,সাঙাত গজগজ করতে করতে লগি ফেলল । আমরা ভুটভুটি ঘাটে ঠেকতেই লাফ দিয়ে নেমে পড়লাম। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে দেখলাম উদ্ধারণ ঠাকুরের সিমেন্টের আবক্ষ মূর্তি। জমিদার উদ্ধারণ দত্ত শ্রীনিত্যানন্দের কাছে দীক্ষা নিয়েছিলেন। তিনি এখানে গৌরাঙ্গ বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর প্রয়াণ দিবসে পৌষ সংক্রান্তিতে এখানে বিরাট মেলা হয়। এই ঘাট এই অঞ্চলে অতি পবিত্র। বহুদুর থেকে উদ্ধারণপুর শ্মশানে দাহ কাজের জন্য লোকজন আসে।

আমরা গেলাম শ্মশানে। দেখলাম একটি মৃতদেহ দাহ হচ্ছে। শ্মশানযাত্রীরা কারণসেবায় ব্যস্ত। এখান থেকে একটুদূরে একটা গাছ ছিল সেটা সম্ভবত গঙ্গাগর্ভে, তার নিচে বিখ্যাত সাহিত্যিক সন্ন্যাসী কালিকানন্দ অবধূত সাধনা করতেন। তাঁর লেখা 'উদ্ধারণপুর ঘাট', 'মরুতীর্থ হিংলাজ' বাংলা সাহিত্যে স্মরণীয় লেখা!

আমাদের একজন বলল ভুটভুটি থেকে আমাদের নামাটা ঠিক হয়নি পরের ঘাটই নৈহাটি। কি আর করা চৈত্রের দুপুরে কোথাও কোনো ভেন বা রিক্সা কিছুই না পেয়ে পদব্রজেই চললাম।

মিনিট বিশেক হাঁটার পর আমরা নৈহাটির কালারুদ্র তলায় এসে পৌঁছে শুনলাম গতকাল রাত্রে বোলান হয়ে গেছে আজ নীলপূজা। হাতাশার চূড়ান্ত হল। প্রচুর ভক্ত আর সন্ন্যাসী বসে আছে সেখানে। সন্ন্যাসীদের পরনে লালপাড় ধুতি, হাতে বেতের যষ্টি। কালারুদ্র দর্শন করে ফিরে চললাম, নিরাশ হয়ে।

নৈহাটি ঘাটের কাছে এসে শুনলাম গঙ্গার ওপারে নদীয়ায় নাকি আজরাত্রেও বোলান হবে। খবরটা সত্যি কিনা যাচাই করার আগেই দেখলাম ওপার থেকে ভুটভুটি বোঝাই লোকজন আসছে। তার মধ্যে শিব-দূর্গার সঙ চোখে পড়ছে বেশ কয়েকটা। ওরা নামতেই গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। কেউ বলল হবে কেউ বলল আর হবেনা। অদ্ভুত দ্বিধায় পড়ে গেলাম দুই বন্ধু। কি করব, যাব না যাবনা!

অবশেষে সিদ্ধান্ত হল যাওয়া হবে। ভুটভুটিতে চড়ে বসলাম ঘাট পারের কড়ি মিটিয়ে। ঘাটে একজোড়া করে নৌকোর উপরে বাঁশের বাখারি দিয়ে তৈরি পাটাতনে করে মোষ, ধান এসেছে, সেগুলো সরানো হচ্ছে, না হলে ভুটভুটি ছাড়া যাচ্ছেনা। সেসব মিটে যাবার পর খেয়া ছাড়ল। বিকট শব্দে ভুটভুটি আড়াআড়ি ভাবে গঙ্গা চিরে এগিয়ে চলল। ভুটভুটিতে সাইকেল, বাইক, বোলানের দল, নিত্যযাত্রী।

ঘাটে এসে থামতেই নামার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে গেল। বালিমাটির চড়া। পা দিতেই বালিতে পা ভরে গেল। ঘাট থেকে বেশ উঁচুতে জনপদ। হেঁটে হেঁটে চললাম শিবের সন্ধানে।

গ্রামের মধ্যস্থলে এসে তাকে পেলাম। মন্দির চত্বরজুড়ে শুধু ভক্তদের ভিড়। নানা আচার অনুষ্ঠানাদি চলছে। বিপুল উদ্যমে ঢাক বাজাচ্ছে ঢাকি। বকের পালকে তৈরি ঢাকের ঝালর তালে তালে নাচছে।

কিছু কৌতুহলী চোখ আমাদের নজরবন্দি করল। কারণ এখানে সমবেত গাঁ-জনেরা পরস্পর পরিচিত। কেবল অনাহুত আমরাই এখানে আদ্যন্ত আলাদা। তারা কাছে এসে ছোট জটলা করে জিজ্ঞাসা করল আমরা কে, আসার উদ্দেশ্য কি? বললাম পূর্বাপর। কেউ কেউ ভেবেছিল আমরা কোনো নিউজ চ্যানেল থেকে বোধহয় এসেছি, তাদের ভ্রান্তি নিরসন করতে হল।

খানিক পরে একজন এসে আমাদের নিয়ে গেল একজন প্রবীণ বোলান শিল্পীর কাছে। সেখানে যাবার পর একে একে অনেক শিল্পীকে দেখা গেল। তাদের সাথে কথা হল বেশ খানিক। কাটোয়ায় প্রথম টকি আসার পর যে বোলান গান লেখা হয় তেমন মজার একটা গানও শুনলাম।

ওদিকে মন্দির প্রাঙ্গণ সরগরম। বৃদ্ধরা ছাড়া একে একে সবাই চলে গেলেন। বুঝতে পারছিলাম না আমাদের পোড়োবোলান দেখার কী হবে! একটু ভিড় এড়িয়ে পিছনদিক চলে এলাম। মুদিখানা থেকে মুড়ি কিনে খেতে খেতে দুজনে আলোচনা করতে লাগলাম, কি করা হবে, এখনো শেষ ভুটভুটি আছে, তারপর এই বিদেশ বিভুঁইয়ে থাকব কোথায়, খাব কী! এসব নিয়ে আমার ভাবনা বড় একটা কোনোকালেই নেই। বন্ধুটি দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন, কিন্তু তিনিই বললেন, থেকেই যাওয়া যাক এত লোক আছে সারারাত বোলান হবে, বানামো হবে এই দেখব, একটাতো ভারি রাত। আমি তো এটাই চেয়েছিলাম। অন্ধকার অঞ্চল থেকে আলো আলো মন্দির প্রাঙ্গণের দিকে এগিয়ে গেলাম। যেতেই সবাই ছেঁকে ধরল কোথায় গেছিলেন আমরা খুঁজছি আপনাদের! এই অঞ্চলে যিনি বোলান গান লেখেন তিনি এসেছেন কথা বলুন।

দেখলাম যমদূতের মত কালো একটি লোক জোড়হাত করে আমাদের সামনে দণ্ডায়মান। আমরা প্রতিনমস্কার করে কথা শুরু করলাম। তিনি তাঁর রচনার বৃত্তান্ত শোনাতে লাগলেন। অনেক গানই শুনলাম। বেশ কিছু গান চমৎকার কমেডি এবং প্যারডি। বর্ধমান নদীয়া মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন গ্রামের বোলান দল তাঁর কাছে বায়না নিয়ে আসে আর গান তৈরি করে নিয়ে চলে যায়। সুরের জন্য ভাবনা নেই সিনেমার চটুল গানের সুরেই সেসব গাওয়া হয়। হঠাৎ ভদ্রলোক প্রস্তাব করে বসলেন, তাঁর বাড়িতে আমাদের খেতে হবে। নিরুপায় আমরা নিমরাজি ভাব দেখিয়ে রাজি হয়ে গেলাম।

আমাদের পোড়োবোলান দেখার ইচ্ছের কথা জেনে সেই কবি আর উপস্থিত জনেরা জানিয়েছিলেন, নীলের বাতির আগের রাতে এই বোলান হয়ে গেছে। এই নাচ এবছর দ্বিতীয়বার করা নিষেধ। কিন্তু আমাদের অবাক করে দিয়ে হঠাৎ পোড়োবোলান দলের মূল গায়েন হাজির হয়ে জানালেন, আমাদের সম্মানে নাকি আবার নতুন করে পোড়োবোলান গাওয়া হবে। আমরা অবাক হয়ে গেলাম, কে তাদের রাজি করাল, কখন রাজি করাল বুঝতে পারলাম না। গাঁ-জনদের আতিথেয়তায়, সৌজন্যবোধের চূড়ান্ত দেখে মন ভরে উঠল।

প্রথমে সঙবোলান বা পালাবন্দি বোলানের নানা পালা দেখলাম। কী চমৎকার অভিনয়! শহরের গ্রুপ থিয়েটার, আর বেঢপ সিরিয়ালের বেঢপ অভিনেতারা এদের কাছ থেকে শিখতে পারে।

সবশেষে শুরু হল আমাদের আকাঙ্ক্ষিত পোড়োবোলান। অসাধারণ বললেও কম বলা হবে। প্রত্যেক কুশীলব শিবানুচর প্রেত সেজে নাচছে। পালার নাম হরিশচন্দ্র। পুরো পালা তারা করছেনা, শ্মশানের অংশটুকু করছে। একটি মড়ার মাথা নিয়ে শিয়াল ও শকুনের কাড়াকাড়ি এই হল মূল নৃত্যবিষয়। এত নিপুণ ভঙ্গিমায় তারা উপস্থাপন করল যে মুগ্ধতার ঘোর কাটতে বেশ সময় লেগে গেল।

নাচ শেষ হলে দলপ্রধান খুলিটিকে হাতে নিয়ে বলল এনাকে আজ তুষ্ট করতে হবে নইলে বিপদ হবে। বুঝলাম কিছু অর্থ সাহায্য চাই! সামর্থ মত দিলাম। ওদিকে কবি ডাকছেন, তাঁর বাড়ি যেতে হবে। আমরাও প্রস্তুত।

কবির পিছনে চলেছি। ঘোর অমাবস্যার রাত। প্রায় বিদ্যুতহীন গ্রাম। আলোকিত প্রাঙ্গণ পার হতেই অন্ধকার আমাদের যেন গ্রাস করে নিল। কবির সঙ্গে গল্প করতে করতে চলেছি, কিন্তু নিকষ অন্ধকারে বুকের ভেতর আশঙ্কারা নৃত্য করছে বুঝতে পারছি। হঠাৎ একটা সাইকেল আমাদের পিছনে এসে গতি শ্লথ করে চলতে লাগল। আমার এবং আমার বন্ধুর মনে তখন চোতক্ষ্যাপা খড়গ নিয়ে নৃত্য করছে।

কতদূর চলেছি কোথায় চলেছি বুঝতে পারছিনা, তবে গঙ্গার প্রান্ত ধরে চলেছি বোঝা যাচ্ছে। হঠাৎ রাস্তা বাঁক নিতেই দেখি একটা গ্রাম। মিটমিটে ল্যাম্পপোস্টের আলো পেয়ে একটু নিশ্চিন্ত মনে হল। কবি তার বাড়িতে নিয়ে এসে পরম যত্নে আমাদের আটার লুচি আর ডাল দিয়ে আপ্যায়ন করলেন। খাওয়া দাওয়া হল। রাত তখন একটার কাঁটা ছুঁয়েছে। শরীর এবার বিশ্রাম চাইছে। কবি আমাদের জন্য পরম আদরে বিছানার আয়োজন করে শুতে ডাকবেন এমন সময় বাদ সাধলেন তাঁর মা। তিনি হাতজোড়ে এসে দাঁড়িয়ে বললেন, বাবারা কিছু মনে করবেন না আজ বাড়িতে অতিথি আছে থাকতে দিতে পারবনা! ছেলে আমার ক্ষ্যাপা কিছু না জেনেই আপনাদের কথা দিয়েছে। আমরা অস্বস্তি বোধ করলাম। মুখে বললাম, না না মনে করার কিছু নেই আমরা চলে যাচ্ছি। বুঝলাম সংসারের প্রধান কর্ত্রী মা জননী আমাদের মত অচেনা বিদেশি লোকদের ঠিক নিরাপদ মনে করতে পারেননি। যা দিনকাল এটাই স্বাভাবিক এই ভেবে সান্ত্বনা দিলাম মনকে।

কবিকে যদিও লজ্জিত দেখাল। তিনি আমাদের বাঁশবনের পথ ধরে গ্রামের ভেতর দিয়ে অন্য একটা মন্দির প্রাঙ্গণে নিয়ে এলেন। বললেন আজ আপাতত এখানেই থাকুন,আমি মূল মন্দির প্রাঙ্গণে যাচ্ছি, এখানে আপনাদের কোনো অসুবিধা হবেনা।

সেখানে একটা দল বোলান করছিল,আমরা পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই শেষ হয়ে গেল। সবাই এবার মূল মন্দিরে যাবে কিছু আচার পালন হবে সেখানে। তারপর ভোরে আগুনখেলা হবে।সেটা শুধু সন্ন্যাসীরাই দেখতে পাবে।

আমাদের সঙ্গে বোলান দলটির প্রমটার কিছুক্ষণ গল্প করলেন। আমি তাঁকে পোড়োবোলানের খুঁটিনাটি জিজ্ঞাসা করছিলাম। তিনি বললেন আজকাল মড়ার মাথা সচরাচর পাওয়া যায়না। ডোমকে বলে রাখতে হয় তবে যদি এক আধটা পাওয়া যায়। কারণ আগে যেমন যেত, এখন আর আধপোড়া মড়া রেখে কেউই যায়না।

আমি জিজ্ঞাসা করলাম আচ্ছা অনেকে বলে যে মড়া নাকি হেসে ফেলে, ব্যাপারটা কী?

ভদ্রলোক শিক্ষিত মানুষ, শুনে হাসলেন। হ্যাঁ অনেক আচার বিচার আছে। গাত্র বন্ধন করে মড়া খুঁজতে বের হওয়ার ব্যাপার আছে। আসলে চোতক্ষ্যাপারা সব নেশাভাঙ করে থাকে তো, মড়ার গলায় ছুরি দিয়ে চাপ দিলে চোয়াল হাঁ হয়ে যায়, তাই দেখে ঘোরগ্রস্ত কেউ এসব ভেবে থাকবে। চোতক্ষ্যাপা নিয়ে এই অঞ্চলে অনেক কথার চল আছে। এরা চৈত্রমাসভর অজয় নদের পাড়ে পাড়ে ঘুরে বেড়ায় মড়ার মাথার খোঁজে। গ্রামদেশে বাচ্চাদের এইসময় দুপুরে বেলায় এখনো বেরোতে দেয়না মায়েরা। ভয় দেখায় চোতক্ষ্যাপা ধরবে!

ভদ্রলোকও বেশিক্ষণ থাকলেন না,তিনিও চলে গেলেন মূল মন্দির প্রাঙ্গণে। রাত অনেক হয়েছে , এবারে আমরা নিছকই একা। পোঁটলা মাথায় নিয়ে শুয়ে আছি। আমার বন্ধুটি বহুক্ষণ নীরব, তার ঘাবড়ে যাওয়ার তীব্রতা বেড়েছে বুঝতে পারলাম। বাইরে ফটফট করছে কৃষ্ণপক্ষের জোৎস্না।দূর থেকে ঢাকের শব্দ ভেসে আসছে," ধর ধর ধর মড়ার মাথা কদ্দুর দূর যায়! "

কখন চোখ লেগেছে জানিনা, হঠাৎ বন্ধুর ডাকে ধরমড়িয়ে উঠলাম,আরে চল চল আর নয় ভোর হয়ে গেছে পৌনে পাঁচটা বাজে!



পোটলা ঘাড়ে নিয়ে প্রায় দৌড় দিলাম,যদি পাঁচটার ভুটভুটি ছেড়ে যায়। গিয়ে দেখি সবজির ঝুড়ি তোলা হচ্ছে ভুটভুটিতে। উঠে জায়গা করে বসলাম। ফুরফুরে গঙ্গার হাওয়া নির্ঘুম চোখে এসে লাগছে। বন্ধুর দিকে তাকালাম তার আশঙ্কামুক্ত মুখে হাসি ফুটেছে। আমাকে আঙুল দিয়ে পাড়ের দিকে নির্দেশ করলেন। দেখলাম এক মহাদেবের অবতার সারারাত গান করে, কারণ সেবা করে বাঘছাল খসিয়ে গভীর নিদ্রায় মগ্ন। অবস্থা দেখে না হেসে পারলাম না। মাঝি হেসে গালি দিয়ে বলল, শালা ল্যাংটেশ্বর!

৪টি মন্তব্য: