বুধবার, ১১ মার্চ, ২০১৫

মুরাদুল ইসলাম এর গল্প আবু তুরাবের স্ত্রী নিখোঁজ হবার পর

আবু তুরাব বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছে কারণ এইমাত্র সে একটা ব্যাখ্যা পেয়েছে কেনো সে তার স্ত্রীকে খোঁজে পাচ্ছে না। যদিও ব্যাখ্যাটা তার কাছেই মনে হচ্ছে অযৌক্তিক কিন্তু অবস্থার প্রেক্ষিতে এবং যেহেতু আর কোন ব্যাখ্যা সে পায় নি তাই এটাই তার মস্তিষ্কে গৃহীত হয়েছে। আবু তুরাব কিছুক্ষণ তার শোবার ঘরের বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে সবুজ ব্যাঙটাকে দেখল। ব্যাঙটি বিছানায় বসে স্থির ভাবে তার দিকে তাকিয়ে আছে।

বসার কক্ষে মোবাইল ফোন বাজছে। আবু তুরাব গিয়ে ফোন রিসিভ করল। তার মা ফোন করেছেন।

উদ্বিগ্ন কন্ঠে মা জিজ্ঞেস করলেন, “কি করতাছস? বউমার খোঁজ পাইলি?”


দ্বিধাগ্রস্ত কন্ঠে আবু তুরাব উত্তর দিল, “না পাই নাই।”

“হের ভাইয়েরা কি কয়? ওইখানে খোঁজ নিছস?”

“আম্মা তোমারে কইছি তো। সব জাগাতে খোঁজ নিছি। যায় নাই কোনখানে। ওর ভাইয়েদের ঐখানেও না।”

“তাইলে গেলো কই মাইয়াটা?”

আবু তুরাব এর কোন উত্তর দেয় না। নিশ্চুপ থাকে। মা অন্যপাশ থেকে প্রায় খেঁকিয়ে উঠেন, “কি কথা কস না ক্যান?”

আবু তুরাব হতাশ ও বিষাদমাখা কন্ঠে বলে, “কি কমু?”

“কি কবি মানে? পুলিশরে জানাইছস?”

“না।”

“ক্যান? জানাছ নাই ক্যান?”

“আগে খুইজা দেখি। পুলিশরে জানাইলে সারা শহর জাইনা যাবে। তুমি চাও তোমার পোলার বউ ভাইগা গেছে এইটা পুরা দুনিয়ার লোক জানুক?”

এইবার মা চুপ মেরে যান। আস্তে করে বলেন, “যা ভালো মনে অয় কর বাপ। দেখ মাইয়াটারে পাস কি না। চিন্তায় চিন্তায় আমি অস্থির। পেশার বাইড়া গেছে। পায়ে বাতের ব্যথা।”

“আম্মা তুমি চিন্তা কইরো না। আমি দেখতেছি।”

ফোন রেখে দিয়ে আবু তুরাব নিশ্চুপ হয়ে বসে রইল।

প্রায় তিন বছর আগে তার স্ত্রীর সাথে তার বিয়ে হয়। এই তিন বছরে তার স্ত্রী তাকে না বলে কোথাও যায় নি কখনো। দুয়েকবার বাপের বাড়িতে গিয়েছিল যখন আবু তুরাব অফিসে ছিল। বাড়িতে এসে দেখেছে চিরকোট। তাতে কোথায় গিয়েছে, কেনো গিয়েছে সব বিস্তারিত লেখা আছে।

তার স্ত্রী মোবাইল ব্যবহার করত না। তার কোন বন্ধুবান্ধবও তেমন ছিলো না। কারো সাথে মিশত না। একা একা থাকত। অন্যদিকে আবু তুরাব ছিলো মিশুক প্রকৃতির। তার বন্ধুবান্ধবের সংখ্যা ছিল অনেক। কলেজ ভার্সিটি লাইফে বন্ধু বান্ধবদের সাথে উচ্ছ্বল সময় কেটেছে তার। জনা তিনেক প্রেমও করেছিল। কিন্তু ঠিকে নি কোনটাই। আবু তুরাব পড়ালেখা শেষ করে যখন কাজে ঢুকল তখন সে কিছুটা গম্ভীর হয়ে পড়েছিল। বন্ধু বান্ধবদের সংখ্যা আগের থেকে অনেক কমে যায়। এবং বিয়ে করার পর সে আরো ঘরমুখী হয়ে পড়ে।

আবু তুরাবের স্ত্রীকে নিয়ে অনেকের অনেক অভিযোগ ছিল। তার মা, বন্ধুবান্ধব সবারই। তার মা বলতেন, “চোরের জাত! আমাদের এক মেয়ে দেখাইয়া আরেক মেয়ে দিয়া দিছে!”

যদিও আবু তুরাব এই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত না তবুও তার মনে হয় অভিযোগটি সত্য না। যেদিন আবু তুরাবের জন্য কনে দেখতে যাওয়া হয় সেদিন অন্যান্য কিছু আত্মীয় স্বজন, মুরুব্বীদের সাথে আবু তুরাবের মাও ছিলেন। আবু তুরাব যায় নি। এমনকী বিয়ের আগে তার স্ত্রীর ছবিও সে দেখে নি। ইচ্ছা করেই দেখে নি।

প্রথম যেদিন সে তার স্ত্রীকে দেখল সেদিনও তার খারাপ লাগে নি।

কিন্তু তার পরিবারের খারাপ লাগল। তার মায়ের খারাপ লাগল। তার বন্ধুবান্ধবদের খারাপ লাগল।

মা সারাক্ষণ মুখ কালো করে রইলেন। বন্ধুবান্ধবেরা আকারে ইংগিতে বুঝিয়ে দিলো “এই মেয়ে তোর লগে যায় না”।

কিন্তু আবু তুরাবের ভাবভঙ্গীর কোন পরিবর্তন হল না। তার কোনভাবেই মেয়েটিকে খারাপ লাগলো না।

বিয়ের কয়েকমাস পরে বন্ধুদের আড্ডায় তার কাছে বন্ধু শামসুজ্জামান শামসু বলল, “দোস্ত এইটা তুই করলি? বিয়ের আগে একটু দেখবি না, ছাগল!”

আবু তুরাব বিরক্ত হয়ে জবাব দিল, “ভাগ্যের ব্যাপার। হ্যাংগিং এন্ড ওয়াভিং গোজ বাই ডেস্টিনি। শেক্সপিয়র বলেছেন।”

“দূর! তুই তো আগে এত বোকা কিসিমের ছিলি না। আমাদের সবার মধ্যে তোর বউ-ই সবচেয়ে বেখাপ্পা।”

“আমার বউয়ের প্রসঙ্গ বাদ দে দোস্ত। অন্য প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বল।”

“তোর বউ নিয়া কি আর সাধে কথা কই। সেইদিন গন্ধ সাইফুর বলতেছিল, আবু তুরাবের বউরে তার পাশে ছোটখাট হাতির মত লাগে। কালো হাতি।”

আবু তুরাব বিরক্ত হল। গন্ধ সাইফুরের পুরো নাম সাইফুর রহমান জামিল। তার মুখে উদ্ভট গন্ধ থাকতো মাঝে মাঝে, এজন্য নাম দেয়া হয়েছিল গন্ধ সাইফুর।

আবু তুরাব বলল, “আমি উঠি। আমার কাজ আছে।”

সেদিন তার কোন কাজ ছিলো না। কিন্তু তবুও উঠে এসেছিল আড্ডা থেকে। তার যে খুব খারাপ লেগেছিল বা রাগ হয়েছিল এমন না। মূলকথা, তার ভালো লাগে নি এবং ঘরে তার স্ত্রী একা ছিলো।

আবু তুরাবের স্ত্রী ছিলো অত্যন্ত নিরব প্রকৃতির। সে প্রয়োজন ছাড়া একটাও কথা বলত না। আবু তুরাব তাকে কখনো হাসতে দেখে নি। সে প্রচন্ড গম্ভীর হয়ে বসে থাকত। তাকে নিয়ে বিভিন্ন দিকের কথাবার্তার কিছু নিশ্চয়ই তার কানে যেত। কিন্তু মনে হত সে এতে সামান্যতম পাত্তাও দিচ্ছে না। সে তার নিজের ভিতরেই যেন আবদ্ধ ছিল। সেখানে অন্য কারো দরকার ছিলো না। আবু তুরাবকেও দরকার ছিলো না।

সে তার নিজের মত করে একা একা থাকত। আবু তুরাব ঘরে থাকলেও কখনো তার সাথে কোন ব্যাপারে কথা বলতে আসত না। একান্ত প্রয়োজন হলে দুয়েকটা বাক্যে কথা সেরে নিত।

কিন্তু আবু তুরাব তার প্রতি ভয়ানক দূর্বল হয়ে পড়ল। কোন মেয়ের প্রতি কখনো সে এতটা দূর্বলতা অনুভব করে নি। সে প্রতিদিন অফিস শেষ হলেই বাসায় চলে আসত। তারপর অফিসের গল্প, তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের গল্প, ছোটবেলার গল্প ইত্যাদি বিষয়ে তার স্ত্রীর সামনে একটানা কথা বলে যেত। তার স্ত্রী কথা শুনতে শুনতে কখনো কোন কিছু জিজ্ঞেস করত না। শুধু নির্বিকার ভঙ্গিতে শুনে যেত।

গতকাল সন্ধ্যায় অফিস থেকে বাসায় এসে আবু তুরাব দেখতে পায় তার স্ত্রী বাসায় নেই। সে কিছুটা অবাক হয়েছিল কারণ তার স্ত্রী কোথাও যায় না সাধারণত। আবু তুরাব কোন চিরকোটও পেল না বেডরুমে। সুতরাং, তার স্ত্রীর ভাইদের ফোন দিল। তারা জানাল ওখানে সে যায় নি।

আরো কিছুক্ষণ যাবার পর আবু তুরাব বিভিন্ন দিকে খোঁজা শুরু করে দিলো। কয়েকজন বন্ধুর সাহায্য নিলো। বিভিন্নদিকে খোঁজা হল। কিন্তু কোথাও তার বউ নেই।

মোটামোটি কাছের বন্ধুবান্ধবদের সবাই জেনে গেছে তার বউকে পাওয়া যাচ্ছে।

খোঁজাখোঁজি ও দুশ্চিন্তায় আবু তুরাব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। সে ড্রয়িং রুমে শুয়ে পড়ল। শোবার কক্ষে গেল না। কারণ সেখানে ব্যাঙটি বসে ছিল এবং আরো ঘাপটি মেরে বসেছিল তার হঠাৎ করে হারিয়ে যাওয়া বউয়ের স্মৃতি।

পরদিন সকালে আবু তুরাব যথারীতি অফিসে গেল। তার মনে হয়েছিল শুধু বাসায় বসে অপেক্ষা করার মানে হয় না। যত জায়গায় খোঁজ নেয়ার তা তো নেয়া হয়ে গেছে। এছাড়া আরেকটি বিশ্বাস আবু তুরাবের ছিলো। হয়ত সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে দেখবে তার স্ত্রী বাসায় চলে এসেছে।

অফিসে যাওয়ার পর আবু তুরাবের কলিগ শামীমা এসে বললেন, “তুরাব ভাই, একটা খবর শুনছেন?”

“কি খবর?”

“আমাদের বসের পায়ে ব্যাঙ কামড়ে দিয়েছে।”

“ব্যাঙ কামড়ায় নাকী?”

“না কামড়ালে বসকে কামড়ালো কীভাবে?”

“আপনি কীভাবে জানলেন?”

“শুধু কি আমি? অফিসের সবাই জানে।”

একটু পরে আবু তুরাব লক্ষ করল আসলেই বসকে ব্যাঙে কামড়ানোর খবর সবাই জানে। এটাই অফিসের ব্রেকিং নিউজ আজ। আবু তুরাবের ডাক পড়ল বসের রুমে। বস আমজাদ সাহেব স্বাস্থ্যবান লোক। তার বিশাল ভুঁড়ি, মুখে গাঢ় গোঁফ। উচ্চতা হবে ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি।

আবু তুরাব রুমে ঢুকতেই আমজাদ সাহেব বললেন, “আসেন তুরাব সাহেব, বসুন। আমি পড়ে গেছি এক বড় সমস্যায়। আপনার কাছে এর সমাধান চাই।”

আবু তুরাব জিজ্ঞেস করল, “কি সমস্যা, স্যার?”

“সমস্যা তেমন কিছু না। এই ব্যাঙ নিয়ে একটা কাজ করছিলাম। গবেষণার মত। এই পুরুষ ব্যাঙদের ভোকাল কর্ড নিয়ে। জানেন তো ব্যাঙই প্রথম ল্যান্ড এনিম্যাল যাদের ভোকাল কর্ড ছিল।”

আবু তুরাব মাথা নাড়ল।

“তাদের যে ভোকাল স্যাকস থাকে, বেলুনের মত ওটা সাউন্ড রেজোনেট করে মেগাফোনের মত। ক্রোক ক্রোক।”

“জ্বী স্যার।”

“ওটা নিয়ে কাজ করছিলাম। এর মাঝে একটা বেয়াড়া ব্যাঙ আমার পা কামড়ে দিয়েছে। এখন জলাতংক হয় কি না ভয়ে আছি।”

“স্যার, আমি যতদূর জানি ব্যাঙ কামড়ালে জলাতংক হয় না। কিন্তু মেয়ে ব্যাঙ কি ডাকতে পারে না?”

উৎসাহী হয়ে আমজাদ সাহেব বললেন, “না, অবশ্যই না। মেয়ে ব্যাঙ ডাকে না, ডাকে হচ্ছে পুরুষ ব্যাঙ। ক্রোক ক্রোক।”

আবু তুরাব সেদিন সন্ধ্যায় অফিস থেকে বাসায় গেল। গিয়ে দেখলো তার বউ আসে নি। সে সব রুমে খুঁজল। শেষে বেডরুমে গিয়ে দেখলো গতকালের দেখা সবুজ ব্যাঙটাও নেই।

সন্ধ্যার পর আবু তুরাবের এক বন্ধু আসল বাসায়। সে বলল, “পুলিশরে খবর দিতে হইব বন্ধু। যা খোঁজার তা তো আমরা খুইজা ফেলছি। এখন পুলিশরে খবর না দিলে ঝামেলা হয়ে যাবে।”

“কি ঝামেলা?”

“পুলিশ তোরে সন্দেহ করতে পারে?”

“আমাকে সন্দেহ কেনো? আমি কি আমার বউরে লুকাইয়া রাখবো?”

“না। তুই মেরে ফেলতে পারিস। এরকম ঘটনা তো অনেক হয়। তাই পুলিশ সন্দেহ করতে পারে। এছাড়া বেশ কিছু কারণও আছে সন্দেহ করার। সন্দেহটা একেবারে অমূলক হইবে না।”

“কি কারণ?”

“যেমন ধর, খালাম্মা কিংবা তোর পরিবারের কারোরই তোর বউরে পছন্দ হয় নাই। তোর বউ দেখতে সুন্দর আছিল না। তোর লগে মানায় নাই এইটা সবাই কইছে। ফলে তুই হতাশাগ্রস্ত হইয়া এই কাম কইরা ফেলতে পারোস। এছাড়া উর্মি আর তুই এখন এক অফিসে। এইটা একটা পয়েন্ট?”

“উর্মি ক্যামনে পয়েন্ট হয়?”

“মিলাইতে চাইলেই পয়েন্ট হয়। উর্মির লগে তোমার প্রেম আছিল। পুলিশ কিন্ত এসব ঠিকই মিলাইব। আচ্ছা সত্যিই কি বন্ধু এরকম কিছু? আমারে কইতে পারস।”

আবু তুরাব এক দৃষ্টিতে বন্ধুর দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপর বললো, “চল, থানায় যাই।”

আবু তুরাব রাত আটটার দিকে থানায় গেল। থানার ওসি সাহেব মধ্যবয়স্ক লোক। মাথার চুলে সামান্য পাক ধরেছে। তার নাক মোটা এবং কানগুলো খাড়াখাড়া।

আবু তুরাব থানায় অভিযোগ করে, তার স্ত্রীর ছবি জমা দিয়ে বাসায় ফিরে এল রাত দশটার দিকে। তার ঘর নিরব, নিস্তব্ধ। সে তার স্ত্রীর অভাব অনুভব করতে লাগল। আবু তুরাবের এরকম অনুভূতি কারো জন্য কখনো কোনদিন হয় নি।

থানা পুলিশ করার পর চারিদিকে জানাজানি হয়ে গেল আবু তুরাবের বউকে পাওয়া যাচ্ছে না।

পরদিন অফিসের ব্রেকিং নিউজ ছিলো আবু তুরাবের বউ হারিয়ে গেছে। সবাই এসে তাকে সমবেদনা জানিয়ে গেল। তার কলিগ সামিউল হক এসে বললেন, “চিন্তা করবেন না তুরাব সাহেব। সব ঠিক হয়ে যাবে। অস্থির হবেন না। দেখেন না, স্যারের পায়ে ব্যাঙ কামড় দিলো। কি অস্থির হয়ে পড়লেন। আজ আবার সব ঠিক।”

“আমি অস্থির হই নি, শুধু খুঁজে যাচ্ছি।”

“পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছেন?”

“না দেই নি।”

“কি বলেন! পত্রিকায় বিজ্ঞাপন না দিলে কীভাবে খুঁজে পাবেন।”

“আজই দিয়ে দেবো।”

স্বান্তনা দেয়ার জন্য অফিসের বস আমজাদ সাহেবও আবু তুরাবকে ডেকে রুমে নিয়ে গেলেন।

তিনি বললেন, “দুশ্চিন্তা করবেন না তুরাব সাহেব। দুশ্চিন্তায় কোন লাভ নেই। আমাকে ব্যাঙ কামড় দিয়েছিল। আমি দুশ্চিন্তা করি নি। আজ দেখেন সব ঠিক।”

আবু তুরাব বলল, “স্যার, আমি দুশ্চিন্তা করছি না।”

“কখনোই করবেন না। আমি আপনাকে একটা গল্প বলি। ব্যাঙের গল্প। শুনবেন?”

“জ্বী, বলেন।”

“এক দেশে এক রাজকন্যা ছিল। অপরুপ সুন্দরী। কিন্তু সারা রাজ্যে তার যোগ্য কোন পাত্র নেই। আশপাশের রাজ্যেও নেই। এদিকে রাজনকন্যার বিয়ের বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে। রাজকন্যা দুঃখে বনবাসী হলেন। বনে তার সাথে দেখা হল এক ব্যাঙের। সবুজ রঙের ব্যাঙ। ব্যাঙ রাজকন্যার রূপে মুগ্ধ হয়ে গেল। সে রাজকন্যাকে জিজ্ঞেস করল, “ডো ইউ ওয়ানা কিস মি?”

রাজকন্যাকে এরকম কথা কখনো কেউ বলে নি। রাজকন্যা ব্যাঙকে কিস করে বসলেন। তার সাথে সাথেই ব্যাঙ পরিণত হল আশ্চর্য সুন্দর এক যুবকে। অতঃপর রাজকন্যা এবং সে যুবক মহাসুখে বসবাস করতে লাগলেন।”

আবু তুরাব বলল, “সুন্দর গল্প।”

আবু তুরাব সেদিন পত্রিকায় নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি দিলো। তাতেও যদি পাওয়া যায়। কিন্তু তার বউকে আর পাওয়া গেলো না।

এখন প্রতিদিন আবু তুরাব নিয়ম মত অফিসে যায়। অফিস থেকে ফিরে আসে। তার জীবন আগের মতই আছে। শুধুমাত্র তার স্ত্রী নেই। সে জায়গায় এখন তার সাথে আছে একটি সবুজ ব্যাঙ। ব্যাঙটি যেদিন তার স্ত্রী নিখোঁজ হয় সেদিন থেকেই বাসায় আছে। আবু তুরাব অফিস থেকে ফিরে এসে এখন এই ব্যাঙের সাথেই গল্প করে। অফিসের গল্প, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের গল্প, ছোটবেলার গল্প, তার স্বপ্ন এবং হতাশার গল্প। ব্যাঙটিও মনযোগী শ্রোতার মত শুনে যায়। সে কখনো “ক্রোক ক্রোক” শব্দ করে না। হয়ত এই শব্দ করার জন্য ভোকাল কর্ড তার নেই। এছাড়া আরেকটি ব্যাপার এর চোখের পাশের টাইপেনাম চোখ থেকে ছোট। তাই বলা যায় এই ব্যাঙটি স্ত্রী ব্যাঙ। প্রচন্ড শক্তিশালী তার চোখের দৃষ্টি। আবু তুরাব যখন তার সামনে বসে কথা বলতে থাকে তখন সে তার নিজের ভেতরের শূন্যতাকে অনুভব করতে পারে। আবু তুরাব অনুভব করতে থাকে নিজের ভেতরে কিছুই নেই, শুধুমাত্র অসীম সংখ্যক বাতাসের কনা ছাড়া।





লেখক পরিচিত
মুরাদুল ইসলাম

জন্মসাল ১৯৯০।

প্রকাশিত গল্পসংকলন “মার্চ করে চলে যাওয়া একদল কাঠবিড়ালী”।

২০১৪ কলকাতা বইমেলায় সৃষ্টিসুখ প্রকাশন থেকে প্রকাশিত।
সিলেটে বসবাস করেন।

1 টি মন্তব্য:

  1. সুন্দর গল্প কিন্তু বউ কিভাবে ব্যাঙ হলো সেটা আর জানা গেল না।

    উত্তরমুছুন