বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

মুজিব ইরমের গল্প : জোয়ানকি

বানিয়াচঙ্গী মোড়া ইছা দিয়ে রাঁধতে গিয়ে লতিফার চোখ ভিজে ওঠে। এমনিতেই এই সকালবেলায় উমতানি শুরু হওয়ায় বুক-পিঠের ঘামাছিগুলো জানান দিতে শুরু করেছে। রান্নাঘরের ভ্যাপসা গরম তেমন স্বস্তি দিচ্ছে না। ভোরবেলায় গোসল করেও শান্তি নাই। অবশ্য গোসল করার কোনও দরকার ছিল না। কিন্তু গোসল না-করলে উঠানে কাপড় শুকাতে দেয় কী করে? আর ভেজা চুল না-হলে ঠোঁটকাটা বিলকিস বুড়ি তো বলেই বসবে--কাপড় ভিজা তে, চুল ভিজা নায় কেনে, ভাবি? ভাউরে কিতা আইজ নাড়া দিছইন না নি? এত সুন্দর ডাবগাছ, তা কিতা এমনে এমনে নড়বো নি? জোয়ানকি বয়সর গরম, তোফান না-দিলে কোনও কাম অইবো নি, কও চাই? তুমি হাছা কথাখান কও চাই ভাবি, ভাউরে কিতা...


লতিফা কি আর বুড়িকে আগানোর সুযোগ দেয়, দিলে কি আর রক্ষা আছে? চট করে অন্যদিকে চলে যায় সে। কেনো যে এই বয়সেও মহিলার মুখ বেফাস হয়ে থাকে-- লতিফার সহ্য হয় না! অথচ দেখো, মহিলার ছোট মেয়েটিও তার বয়সি। সম্পর্কে ভাবি হলে কী হবে! সে কি আর জানে না, বুড়ি কেনো তাকে এত দিগদারি করে? বেফাস কথা কয়? দেখা হলেই কথা নাই, বার্তা নাই, বিছানার গপ ছাড়া আর যেন কোনও কথাই হতে পারে না। তবে জয়দুল মিয়া ঘরে থাকলে মহিলা এদিকমুখী হয় না। ছোট ভাইয়ের বউ বলে কথা, ভাশুরের সামনে আসে কী করে? হোক না পড়তি বয়স, আদব-লেয়াজ বলে তো একটা কথা আছে! অবশ্য জয়দুল মিয়া এখন ঘরে নাই, বানিয়াচঙ্গী মোড়া রেখেই আবার বেরিয়ে গেছে। বুড়ি হয়তো এসে পড়বে। লতিফা তটস্থ থাকে। এমনিতেই রাতে জয়দুল মিয়াকে ইশারা-ইঙ্গিত করেও কোনও সাড়া পায়নি। এত করে সেজেগুজে, মিষ্টিপান মুখে দিয়ে বিছানায় গেলো, আর দেখো বুড়া একেবারে চিৎপটাং। নাক ডাকাতে ডাকাতে ঘুমে কাই। রাত কাটলো তার বিছানায় এপাশ-ওপাশ করে।

এই সকালবেলায় বুকের দলা-হওয়া কান্না কি সব বেরিয়ে আসবে?

বানিয়াচঙ্গী মোড়ার তরকারিতে সে মন বসাতে চায়। জয়দুল মিয়া এসেই খেতে চাইবে। লোকটার কতো খায়েস! সেই ভোরবেলায় ধানকাটা-লোকদের নৌকা থেকে মোড়া নিয়ে হাজির- তুমি তো মোড়ার দেশর মানুষ। রান্ধ চাই একবার। কতো দিন খাই না! লন্ডন হকলতাই পাই কিন্তু বানিয়াচঙ্গী মোড়া তো আর পাই না!

লতিফার চোখ আবার ভিজে ওঠে। জয়দুল মিয়া এত এত ভালো খাবার রেখে খায়েস করে বানিয়াচঙ্গী মোড়া খেতে চায়, অথচ সেদিনও তার মুখে তুলতে ইচ্ছে করতো না। ঘরে নাই ভাত, তেলমরিচ আসবে কোখেকে যে মোড়া বাগারি রেঁধে খায়েস করে খাবে? হাওরবিল থেকে মাছ ধরে আনতে পারলে কোনও মতে মোড়া জোগাড় করে মাছে-শুঁটকির লাবড়ায় ওয়াক্ত চালিয়ে নেওয়াই যেখানে দায়, খায়েশের কথা সেখানে আসে কী করে?

এতসব মাছমাংসের তরকারি রেখেও জয়দুল মিয়ার জন্য বানিয়াচঙ্গী মোড়ার শুটকি তরকারি রান্না করতে হচ্ছে। ইশ, মা যদি আজ পাশে থাকতো! ভাইবোনগুলো সারাদিন খালি খাই খাই করে, বাবাও পিত্তবিষে ককায়, মাংস ভুনা দিয়ে যদি এই বেলা খাওয়াতে পারতো! এই বেলা ওরা খেয়েছে কি না, কে জানে!

লতিফার চোখের জল এবার আর বাঁধ মানতে চায় না। হঠাৎ বুড়ির বাজখাঁই গলা সকল দুঃখ গিলে ফেলতে বাধ্য করে- কিতা গো ভাবি, উঠানো দেখলাম কাপড় মেলা, কাইল তো মনে হয় বিছনা লড়ছে! এত সুন্দর বুক দেখলে আর জোয়ান-বুড়া লাগেনি! কিন্তু এক্কান হাছা কথা কও চাই ভাবি, ভাইসাবর কিতা...

-কিতা কররায়, রান্না তোমার শেষ অইছেনি, এক কাপ চা দেও চাই?

জয়দুল মিয়ার গলা শুনে বুড়ি ঘুমটা টেনে পড়িমরি করে পাকঘর ছেড়ে পেছনের দরজা দিয়ে পালায়। লতিফা হাফ ছেড়ে বাঁচে। জয়দুল মিয়া ফ্যান ছেড়ে আরাম করে বিছানায় পা তুলে বসে। ভাদ্র মাসের উঠতি রোদ তাকে মনে হয় কাবু করে ফেলেছে, তা না-হলে এখনই ফেরার কথা নয়। গিয়েছিলো পুবের বন্ধে, চান্দিনা ক্ষেত দেখতে। ধান পাকতে শুরু করেছে। দেখেও আরাম। যদিও ভাগিদাররা করে, তবুও ক্ষেতের আশপাশে ঘোরা এ কয়দিনে তার অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেছে। বানিয়াচঙ্গ থেকে নৌকা করে ধান কাটার কামলারা এসেছে। তারা চুক্তিতে ধান কাটে। নৌকাভর্তি কচুর মোড়া নিয়ে এসেছে, যাবে নৌকাভর্তি ধান নিয়ে। ওদের দল আজ জয়দুল মিয়ার ইরিক্ষেতে ধানকাটা শুরু করেছে। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে রোদের উমতানি সহ্য করতে না-পেরে বাড়ি ফিরেছে সে। এমনিতেই এবার কোথাও গিয়ে আরাম পাচ্ছে না। মসজিদে যাও বাজারে যাও, সকলেই কানাঘুষা করে, টিটকারি মারে। আর দেখো, ক্ষেতের কামলারাও কেমন মুখ টিপে হাসে। বলে কি না শ্বশুর-দেশের লোক- চুতমারাউনির পুয়াইন!

জয়দুল মিয়ার রাগ ফ্যানের বাতাসে নাই হলে লতিফা চা নিয়ে আসে।

-বুঝছোনি, তোমারে কই, খাইবায় কিতা আর পরবায় কিতা! লন্ডন অইলো গিয়া শান্তির জেগা। খালি খাও, আর ঘুমাও। কিতা না-মিলে! ফল খাইতায় চাও? কোন দেশি মনে চায়? মাছ কও, মাংস কও, আর যিতা-যিতাই কও, খানির আর আরামর কিতা শেষ আছেনি? তুমি গেলে দেখবায় নে, ইতা এক এলাহি কাণ্ড!

জয়দুল মিয়ার পাকা দাড়িতে গপের আনন্দ পাক খায়। লতিফা দেখে চারদিকে শুধু ভাত আর ভাত। ছোটছোট ভাইবোনগুলো আর উপাসী নাই, মার মুখ আর ময়লা দেখায় না। বাবাও মাথায় হাত দিয়ে বসে নাই। আহারে উপাস! লতিফা লন্ডনের দোকানে দোকানে শুধু খাবার দেখে। এত খাবার যখন নিজের হবে, তখন ভাইবোনদেরকে কি আর সামান্য হলেও পাঠানো যাবে না? জয়দুল মিয়াও-তো বলেছে ওরা আর না-খেয়ে থাকবে না। তার কি আর টাকা-পয়সার কমতি আছে? এ-বয়সে বউটা হঠাৎ মারা গেলো। মেয়েগুলো সংসার পেতে পর হয়ে গেলো চোখের নিমেষে। এখন এই বাড়িগাড়ি নিয়ে শেষ বয়সে একা একা কী করবে সে? দেশেও তো জাগাজমি মাশাআল্লাহ কম করেনি। কে এসব ভোগ করবে? এলাকায় তো কেউ বউ দিলো না। বলে কি না- এত বুড়া-লেতরের কাছে মেয়ে দেবে কে? জয়দুল মিয়া কি আর বউ পায় নি? কমবয়সী একেবারে গাউসুন্দরী বউ পেয়েছে। এতদিন না-হয় অযত্নে-উপাসে ছিলো, কিন্তু এ কয়দিনেই লতিফা কেমন আলো হয়ে উঠছে, পাড়া-পড়শিরা কি আর এসব দেখেও দেখে না?

জয়দুল মিয়াকে অন্যমনস্ক দেখে লতিফা আবার চা দেবে কিনা জিজ্ঞেস করে। চা না-খেয়ে একটু জিরিয়ে নিতে চাইলে বিছানাপত্র ঠিক থাকা সত্ত্বেও লতিফা আবার ঝেড়েমুছে পরিপাটি করে দেয়।

জয়দুল মিয়া বানিয়াচঙ্গী কচুর মোড়া দিয়ে আয়েশ করে খেয়ে দূরের শহরে গেছে। ফিরতে আর সন্ধ্যা হবে। লতিফা দরজা-জানালা সব বন্ধ করে ঘরের ভিতর নাই হয়ে থাকে। বুড়িকে আর সহ্য হয় না। কেনো যে এত পিছু ধরলো! সেই পয়লা দিনেই বলেছিলো- কেমলান তোমার মা-বাপ গো, বুড়ার গেছে আগুনর লাখান পুরি বিয়া দিলাইলো? এত সুন্দর শরীলো খালি ভাত পড়লে অইবো নি, আর কিছু লাগতো নায় নি?

জামাই-তো এ-বয়সেও মরুভূমিতে পড়ে আছে। শরীরের রক্ত পানি করে টাকা পাঠায়। আছে তো আরামে, খালি খায় আর ঘুমায়। খাইতে খাইতে ধুমছি অইছে। তাই ইতা বুঝবো কেমনে? বুঝে-তো খালি শরীর। বুড়ির বুড়ি, হারামজাদি!

গালি দিয়ে লতিফা মনে বড়ো শান্তি পায়।

দরজার দিকে কান খাড়া রাখে সে। দুবার দরজা ঠেলে গেছে। আবার উছিলা পেলেই চলে আসবে। এ-বয়সে এত নোংরা কথা বুড়ি বলে কী করে! এমনিতে তো বুড়ি খালি নামাজ-রোজার কথা বলে, পালনও করে। কিন্তু তাকে পেলেই বুড়ি কেনো যে এসব কথা বলে, কে জানে! প্রতিরাতেই বুড়া না কি স্বপ্নে এসে জ্বালাতন করে। বয়স কী আর আছে যে বুড়ার লগে ঝাপটা-ঝাপটি করে! সারাদিন বুড়াকে খালি গালাগালি করে, আর চিল-কাউয়া তাড়ায়। সুযোগ পেলেই লতিফার বুকের দিকে তাকায়, আর নিজের জোয়ান বয়সের বুকের কথা, বুড়ার লগে রাতের কান্ডকারখানার কথা আয়েস করে বলে। এসব কি আর সহ্য হয়?

লতিফা নিজের শরীরের দিকে তাকায়। মা বলেছিলো- লন্ডনে গিয়া তুই সুখে থাকবে রে মাই! জামাই মিয়া বুড়া অইলে কিতা অইবো, মানুটা ভালা আছে। এমলান ঘরো বিয়া দেওয়ার সামর্থ আছেনি আমরার, ক চাই?

বাপ তো কিছুই বললো না। কী বলবে! বিছানায় পড়ে বিষ-ব্যামারে দিনরাত খালি ককায়। ভাইবোনগুলি খালি খাইখাই করে। গাউসুন্দরী হয়ে কী করবে সে? ঘরে ইটা মারতে আসে সকলেই, কিন্তু দায়িত্বটা নেয় কে, শুনি? বাপটা যে উপাস দিতে দিতে পেটে বিষ বাঁধিয়ে বিছানা নিলো, দিনের পর দিন যে উপাস দিতে হলো, তখন তো কোনও হারামি চোখ তুলে তাকায়নি। দেখে তো খালি শরীর। আসবে না কি কেউ হুদাহুদি বিয়া করতে? বাপেরও কি সাধ্য আছে যে, মেয়েকে মানুষের মতো পাত্রস্ত করে? আইবুড়ি হয়েই মরতে হতো। অভাব আর উপাসে শেষ পর্যন্ত কোন পথ যে ধরতে হতো- কে জানে!

লতিফা আর ভাবতে চায় না।

এখন তো সবই হলো, কিন্তু মন আর শরীর এত ছাতায় কেনো? বুড়ির মুখ না-হয় বন্ধ করা গেলো, নিজের মন বন্ধ করে কেমনে?

সে দরজায় শব্দ পেয়ে আরও নাই হয়ে থাকে। একসময় গলা শুনে বুঝে বুড়ি নয় জয়দুল মিয়া ফিরেছে। সে দরজা খুলে দেয়।

জয়দুল মিয়া টাউন থেকে লতিফার জন্য দামি শাড়ি নিয়ে এসেছে। শ্বশুড়বাড়ির সবার জন্যও কাপড়-চোপর আনা বাদ পড়েনি। কয়দিন পরে বউকে নিয়ে নাইওর যাবে। লতিফা খুশি হয়ে ওঠে।

রাত বাড়ে। নয়া শাড়ি পরে বিলাতি সুগন্ধি মেখে সে বিছানায় আসে। জয়দুল মিয়া আয়েস করে ঘুমায়। গা তার মেজমেজ করে। লতিফাকে হাত পা টিপে দিতে বলে চোখ বুজে থাকে। লতিফা হাত-পা টিপতে টিপতে স্বামীকে জাগাতে চায়। জয়দুল মিয়ার নাক আরও জোরে ডাকতে থাকে।

ভোরবেলা লতিফা গোসল সেরে উঠানে কাপড় শুকাতে দেয়। আতাফল গাছের নিচে দাঁড়িয়ে হাঁটু সমান লম্বা চুল গামছার শব্দে ঝাড়তে ঝাড়তে বুড়ির দরজার দিকে আড়চোখে তাকায়। জয়দুল মিয়া বাড়ি নাই। ফজরের নামাজ পড়তে পাড়ার মসজিদে গেছে, ফিরবে হয়তো বেলা করে। গামছার শব্দে বুড়ি বেরিয়ে আসে। মুখে তার চোরাহাসি- কিতা গো ভাবি, কাইল হুনলাম পালংকে বড়ো শব্দ করের, ভাশুরর জোয়ানকি আরবার নয়া করি আইছে না কিতা? আইচ্ছা, এক্কান হাছাকথা কও চাই ভাবি, তাইন কিতা হাছাই ইতা পারইন নি?

-কিতা যে মাতো তুমি-তাইন! পারতা না কেনে, তাইন জোয়ান মানুষ থাকিও জোয়ান আছইন!

লতিফা তার দীর্ঘ চুলে আরও জোরে শব্দ তোলে।


...........................................


লেখক পরিচিতি
মুজিব ইরম
এর জন্ম বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার নালিহুরী গ্রামে, পারিবারিক সূত্র মতে ১৯৬৯, সনদ পত্রে ১৯৭১। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাসাহিত্যে স্নাতক সম্মান সহ এমএ। 
এ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে তার ১১টি কাব্যগ্রন্থ: মুজিব ইরম ভনে শোনে কাব্যবান ১৯৯৬, ইরমকথা ১৯৯৯, ইরমকথার পরের কথা ২০০১, ইতা আমি লিখে রাখি ২০০৫, উত্তরবিরহচরিত ২০০৬, সাং নালিহুরী ২০০৭, শ্রী ২০০৮, আদিপুস্তক ২০১০, লালবই ২০১১, নির্ণয় ন জানি ২০১২, কবিবংশ ২০১৪। 
এছাড়া প্রকাশিত হয়েছে শিশুসাহিত্য: এক যে ছিলো শীত ও অন্যান্য গপ ১৯৯৯। 
উপন্যাস/আউটবই: বারকি ২০০৩, মায়াপির ২০০৪, বাগিচাবাজার ২০০৫। 
গল্পগ্রন্থ: বাওফোটা ২০১৫। 
সম্প্রতি ধ্রুবপদ থেকে বেরিয়েছে মুজিব ইরম প্রণীত কবিতাসংগ্রহ: ইরমসংহিতা ২০১৩, বাংলা একাডেমী থেকে নির্বাচিত কবিতার বই: ভাইবে মুজিব ইরম বলে ২০১৩, 
এবং Antivirus publications, Liverpool, England থেকে প্রকাশিত হয়েছে নির্বাচিত কবিতার অনুবাদ গ্রন্থ: Poems of Mujib Erom 2014.


পুরস্কার: মুজিব ইরম ভনে শোনে কাব্যবান-এর জন্য পেয়েছেন বাংলা একাডেমী তরুণ লেখক প্রকল্প পুরস্কার ১৯৯৬। বাংলা কবিতায় সার্বিক অবদানের জন্য পেয়েছেন সংহতি সাহিত্য পদক ২০০৯, কবি দিলওয়ার সাহিত্য পুরস্কার ২০১৪। কবিবংশ কাব্যগ্রন্থের জন্য পেয়েছেন ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার ২০১৪।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন