মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

বদরুন নাহার এর গল্প আমাদের গ্রামে মালোপাড়া নাই


ভুবনেশ্বর নদ বুক পেতে ছিল সেখানে, ওপার-এপারের দুই গ্রাম আগলে। হাটকেষ্টপুর আর চরবিষ্ণুপুর। তা সে অনেক বছর আগের কথা, এখন সেখানে বালুর মাঠ, বাদামের খেত। যখন পানি কমে চর হলো, তখন কেউ কেউ হাউমাউ কেঁদেছে, কারও কারও সুখও হলো রুপালি চর দেখে, এসবই তো মানুষের মুখের গল্প। তবে সবাই যে মাছের অকালে পড়ে, আর তা যে ভুবনেশ্বরের পানি বালু হওয়ার জন্য, তাও সবাই বোঝে।
বুঝলে কি? সবই তো কপাল! এখন বাদাম বেচো, বালু শহরে পাঠাও। ব্যবসা জমে ওঠে! মাঝি আর জেলের কপাল পোড়ে। কবে? কেমনে? তা কি আর মনে থাকে! মনে থাকে নতুন কাইজা-ঝগড়া, আইন-আদালতে খেতের আইলের কাঠি বদল।

কুয়াশার মধ্যে দিয়ে বাঁক কাঁধে যেতে যেতে জয়েদ আলীর মনটা খারাপ হয়। মাত্র তিন হাঁড়ি রস নিয়ে কেষ্টপুর রওনা দিয়েছে। হাঁড়িগুলো ভরাও না, তাই কেমন ছলাৎ ছলাৎ শব্দে দুলতে থাকে। এর চেয়ে অনেক ভার টানার অভ্যাস তার আছে, তবুও এই সামান্য রসে সে কেমন কুঁজো হয়ে হেঁটে চলে! মেরুদণ্ডের হাড় কি শুধু ভারে নোয়ায়? এসব মাথায় না আসলেও তার মনটা খারাপই। কারণ তো আর এক-দুইটা না, ম্যালা। তাও সব থেকে আগে তার রসের কথাই মনে হয়। কতটুকুন রস নিয়ে সে যাইতেছে! আগে কমসে কম সামনে তিন হাঁড়ি, পেছনে তিন হাঁড়ি থাকত। সকাল সকাল চরবিষ্ণুপুরে বিক্রি শেষে রস নিয়ে যেত কেষ্টপুরে। গেরস্থ বাড়ি থেকে ডেকে ডেকে রস নিত। কুয়াশা পড়লে রস ঘোলা হইলেও মানুষ তা খেত, শীতে কাঁপত, তাও খেত। গ্লাস ভরে, হুড়ুম দিয়ে, আবার চাল দিয়ে ঢেলা পায়েস করেও খেত। তখন কমসে কম ১৫টা বাড়িতে গাছির কাজ! এখন সারা চরবিষ্ণুপুর খুঁজলে ১৫টা গাছ মেলে না। সে কি একা, ছিরু গাছি, মতি গাছি আর বক্কা গাছি মিলে সারা গ্রামের গাছ ঝুড়তেই কেমন বেলাডা দৌড় দিত না, কালের দিন বইলা কথা!

বালুর মাঠ পার হয়ে কেষ্টপুর হাটে যেতে যেতে জয়েদ আলীর রসের জন্য দুঃখ বাড়ে। গাছের জন্য দুঃখ বাড়ে। যেতে যেতেই তার মনে পড়ে, এইডা তো বালুর মাঠ আছিল না, বাদামের খ্যাত আছিল না। এইডা তো ভুবনেশ্বর আছিল। বাজানে নাও নিয়া কেষ্টপুর যাইত, সে কি আর তা জানে না। সব কেমন কমতিছে, খেজুরগাছ কমিছে, রস কমিছে। কেবল কি তা-ই? নিপা ভাইরাসের জন্যি মানুষ কাঁচা রসের গ্লাসে হাতও দেয় না। গ্লাসে গ্লাসে রস বেচলি যে আয়, তা কি আর হাঁড়ি বেচি জোটে? গাছি কাঁধে করে রস না, যেন দুঃখ নিয়ে মৃত নদীর বুকে পা ফেলে যায়।

কেষ্টপুর হাটেও কদিন ধরে দুঃখের বেসাতি। দেশে নির্বাচন হলো কিন্তু কেষ্টপুরের লোকরা কি আর ভোট দিতে পারল? দেশের নেতারাও কমে গেছে! একলা একলা দাঁড়ায়ে ভোট ছাড়াই নির্বাচন হয়ে গেলে মানুষ কষ্ট পায়। সেই জমির ফকিরই এমপি। জমির ফকির হইচ্ছে, কথা তো তা না। কথা হচ্ছে, নির্বাচন নিয়ে গ্রামে যে কায়-কারবারডা হতো, তা কি হলো? এমন সব ভাবনায় গ্রামের মানুষের দুঃখের কোনো শেষ নাই। পেটে ভাত তো সবার সব সময় থাকে না, তা নির্বাচনে ভোটটা তো দিত। জয়েদ আলী খালি হাঁড়ি নিয়ে এসব শুনে বেড়ায়।

কমে যাওয়ার বিষয়টা রইসের চায়ের দোকানে বসে নিজেও বলতে থাকে, এমনতর সব কমি গেলি জেবনটা চলে কেমনি!

রইস জানায় তার দুঃখটা আরও বেশি। নির্বাচন ঘিরে তার চায়ের দোকানে যে বিক্রি, তা কি আর এই ফিরি হলো? মানুষেরা কেমন মনমরা হয়ে রইছে। ইবার শীতে চারদিক এহাবারে জবুথবু।

২.

ভোটের আগে কোনো রা হলো না কোথাও। কিন্তু ভোটের পর গ্রামের মানুষ নির্বাচন নিয়ে কথা শুরু করল। ভোট না দিতে পারার দুঃখ কী আর দুঃখ থাকে, যখন যশোরের মালোপাড়ার খবরটা চরবিষ্ণুপুর আসে। তামাম মানুষের মুখে তখন খালি কথা। সন্ধ্যায় চরবিষ্ণুপুরের শ্রীরামদির হাটে ফজলুর দোকানে সে কথা চলতে থাকে।

তা হিন্দুরা ভোট দিতে গেছিল ক্যা? মোদা মাঝির এমন প্রশ্নে বাউ কাটে মোনতাজ মিয়া, আমাগো গ্রামে ভুট হলি তুই যাতি না?

ভুটই তো হলো না…
ভুট হলি যাতি কি না?
তা তো তুমিও যাতা।
তয় মালোরা যাবি না ক্যা?

এই কথার উত্তর আসে না। মোদা মাঝি বলে, ভুট দেওনের সুম তো গোন্ডগোলটা হলো না, হলো তো তার পরি।

তা তো ভুটের জন্যিই হলো। বলে বিড়িতে লম্বা একখান টান মারে মোজাম্মেল মিয়া। সে ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার। এই সব চাষা-ভূষাদের বুদ্ধির কমতি দেখে তার মাঝেমধ্যে রাগ লাগে।

জয়েদ আলী টোস্ট বিস্কুট চায়ে ডুবিয়ে ডুবিয়ে খাচ্ছিল, চায়ের ঝোল আর বিস্কুটের স্বাদে মুখের মধ্যে থাকা লোলটাকে সুরুত টানে গলায় নিয়ে বলে, তালি কি আমাগো ভুট না হওনই ভালো হইছেনি?

মোজাম্মেল মিয়া বিরক্ত হয়, কিসের মধ্যি কী কস, আমাগো গ্রামে কি মালো আছেনি?

জয়েদ আলী এ কথায় চিন্তায় পড়ে, সে আধখাওয়া টোস্ট হাতে ধরেই হাতড়াতে থাকে—তার ঘরের পরের ঘর ছবির মুন্সির…আক্কাসের বাড়ি…খুনকার বাড়ি…মিয়া বাড়ি…মোল্লাগো ঘর—একে একে ঘরবাড়ি খুঁজে খুঁজে সে কোনো হিন্দুবাড়ি খুঁজে পায় না।

হ, আমাগো গ্রামে তো নমুই নাই!

মোজাম্মেল মিয়া নিজের বিচক্ষণতার পক্ষে কথা বাড়ায়, তয় যে! নমুই নাই, তালি আর গোন্ডগোল কিসের।

মোদা মাঝি মুখে নখের আঁচড়ে চুলকায়, যেন তার মাথায় হিসাবটা মিলতেছে না। বলে, তয় খালি নমু থাকলিই গোন্ডগোল, ক্যা গেছেবার ভুটের পর আমাগো গ্রামের দবির মুন্সি খুন হলো না!

মোনতাজ মিয়া সহজে কিছু ভোলে না, সে তাড়াতড়ি সম্মতি জানায়, হ, তা তো হইচ্ছে…

মোদা মাঝি বোকার মতো হেসে বলে, তালি নমু না থাকলিও গোন্ডগোল হয়।

মোজাম্মেল মিয়া বেশ বিরক্ত হয়, বলে, আরে গর্ধপ, নমু থাকলি বেশি হয়। গ্রাম ধইরা জ্বালাও-পোড়াও হয়।

তাদের তর্ক জমে ওঠে, নির্বাচন না হলেও এখন নতুন ইস্যুতে শ্রীরামদির হাটে মানুষ চা খায়। হাটে আরও আসে মোদাচ্ছের আলী, জয়নাল, বিরু শেখসহ অনেকেই।

তারা বলাবলি করে, দড়িপাল্লা আর ধানের শীষ নমুগের ভুট দিবার না করছিল। নৌকা তাদের ভুটে যাবার কয়। গেলিও দোষ, না গেলিও দোষ! তয় ঘর জ্বালাইল ক্যাডা? নৌকা তহন কই আছিল? ক্যান হেরা তো ভুট গুনবার লাগছিল…হাজারটা প্রশ্নে যশোরের মালোপাড়া তখন শ্রীরামদির হাটে চা খায়।

মোনতাজ মিয়ার ছেলে বখতিয়ার সদ্য উপজেলা বালক উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। স্কুলে ড্রেস ছাড়া আর যাওয়া যাবে না, সে বাপের সঙ্গে তাই এখন শ্রীরামদির হাট। এই সব ক্যাচাল শুনে তার কানটা ষাঁড়ের শিংয়ের মতো খাড়া হয়। সে বলে, ও বাজান, আমগো গ্রামে মালোপাড়া নাই ক্যা?

হুনলি না, আমাগো গ্রামে নমু নাই।

নমু নাইক্যা?

সবার মনে তখন বিষয়টা নিয়ে চিন্তা হয়। সবাই তাদের অতীত খুঁজে ফেরে…কবে শেষ নমুরা ছিল এই গ্রামে। মনে করতে পারে না।

মোদা মাঝির পায়ের গোড়ালি চুলকাতে থাকে, তার চুলকানি বেশি হলেও তা নিয়েই সে বলে, আমার বাজানে কইতো যুদ্ধের আগে আছিল।

মোনতাজ মিয়া বলে, দেশভাগের আগে আছিল। হেই থিকাই সমুস্যা…

মোজাম্মেল মিয়া বলে, আমি শুনি নাই এই গ্রামে নমু আছিল।

তাদের এই নানামতের মধ্যে বখতিয়ার কোনো সঠিক উত্তর খুঁজে পায় না। সে পরের প্রশ্নে চলে যায়, যুদ্ধের আগি থাকলি তাগো ভিটা কই? তারা গেল কই?

রাতের অন্ধকারকে কেরোসিনের আলোয় জড় করা আলাপে মোজাম্মেল মিয়া একটু দাপট তুলে বলে, পোলপাইনের এত কথা ক্যা, আবার ভিটা-মাটিও কয় দেহি? বাপের স্বভাব পাইছোস…

সবাই কেমন অস্বস্তিতে ভোগে, পুরানো ক্যাচাল না শুরু হয়। প্রসঙ্গ থেকে প্রসঙ্গ পাল্টায়। সামনে উপজেলা নির্বাচন হবে সে বিষয়ে মোজাম্মেল মিয়া কথা ছড়াইতে চায়। কিন্তু মানুষগুলো কেমন ভরসা পায় না। বখতিয়ারের মাথায় ম্যালা চিন্তা ঘোরে ফেরে। গ্রামের নাম নিয়েও তার মাথায় চিন্তা ঘোরে। পাখির বাসার মধ্যে না ফোটা ডিম খুঁজে পাওয়ার মতো তার চোখ চকচক করে, তেমনি মাথার মধ্যে জোনাক পোকার পাছা নাচানো আলো জ্বলে। বইতেই তো সে পড়ছে বিষ্ণু ছিল হিন্দু গো দেবতা, কেষ্ট ঠাকুর বইলাও একজন আছিল। খালি মোসলমানের গ্রামে এমনতর নাম আইবার পারে না। বখতিয়ারের মনের কথা শুনল না কি কেউ? হঠাৎ বিরু শেখই বা ক্যান বলে ওঠে, সরকার তো হিন্দু গো ভয়ে দ্যাশ ছাড়বার না করছে। পাকা ঘর তুলি দিচ্ছে!

কেউ সে কথায় রা করে না। তাদের আলাপ—উপজেলা নির্বাচনে নাও আর ধানের শীষ খেলব নাকি লাঙ্গলও খাড়াইব? বখতিয়ারের নাকের নিচে সরু লোমের রেখা, তারও নিচে থাকা ঠোঁটটা বোধ হয় এখনো পাতলা, খালি কথায় কিলবিল, সে বলে, হিন্দু গো ভয় কিয়ের, বাজান?
সবাই আবার বখতিয়ারের দিকে চায়। এবার আর মোনতাজ মিয়ার বসে থাকা চলে না, সে উঠে দাঁড়ায়—চল বাইতে যাই।
মোজাম্মেল মিয়া বলে, পোলায় তো দেহি স্কুলে পইড়া একেবারে নমুগো খুঁজবার লাগছে। কলেজে পড়লি না জানি কী করব!
মোনতাজ মিয়া ছেলেকে নিয়ে চলে যেতে থাকলে সবার মধ্যে একটা উঠি উঠি ভাব চলে আসে। সে রাতে আর আড্ডা জমে না।
৩.
বখতিয়ার বাবার পেছন পেছন হাঁটতে হাঁটতে বলে, কাইল স্কুলে যাইয়া বিলাল স্যাররে জিগামুনে।
কি জিজ্ঞাইবি?
আমাগো গ্রামের মালোরা কই গেছে।
তর অত কাম কি?
না, এমনি, স্যার অনেক কথা জানে...হে তো ইতিহাস পইড়া আইচ্ছে।
কাম নাই অত জানোনের।
মোনতাজ মিয়া গ্রামের সবাইকে বলে পোলার সঙ্গে তার এই পর্যন্ত কথা হইছিল। পরদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরে নাই বখতিয়ার। সারা গ্রাম, আরও দুই চার গ্রাম খোঁজ কইরেও তারে পাওয়া যায় না। এমন কি বিল্লাল মাস্টারও কোনো খোঁজ দিতে পারে না। তবে সে জানায় বখতিয়ার তার কাছে জিজ্ঞাস করছিল, আমাগো গ্রামে মালোপাড়া নাই ক্যা?
৪.
গ্রামের মানুষ দুঃখ করে, আহা রে, মোনতাজ মিয়ার তাগড়া পোলাডা! কেউ কেউ বলে বেড়ায় সে নাকি নমু গো খুঁজতি গেছে! মোনতাজ মিয়া যশোরেরও খোঁজ করে, পোলাপাইন...কওন যায় না, সত্যিই যদি ওইহানে মালোপাড়ায় যায়!
সব খবরই ফজলুর দোকানে কেরোসিনের আলোয় ঘোরে-ফেরে। আড্ডা শেষে মোদা মাঝির সঙ্গে বাড়ি ফিরতে ফিরতে জয়েদ আলী বলে, মোদা ভাই, দেখছোনি, আমাগো গ্রামে খালি নমু নাই, হেইডা না। কেমন সব কইমা কইমা যায়তেছে..
মোদা মাঝি দাঁড়িয়ে পড়ে, কী কস, কি কমছে?
ক্যান এই যে নদী নাইকা, তুমার নামের লগে মাঝি আছে তয় তুমি ছাড়া এই গ্রামে আর কুনু মাঝিও নাইকা।
অসহায় ভঙ্গিতে বলে, হ...
খাইজুরগাছও তো নাইকা, আমি আর বিরু ছাড়া গাছিও নাই।
তুই কি কইবার চাইস?
জয়েদ আলীর গলায় অদ্ভুত আর্দ্রতা মিশে থাকে, না, নমুগো মতো আমরাও না জানি কবে নাই হইয়া যাই।
মোদার গলায় অভিমান, গ্যালে যাইবি...টাউনে গিয়া রিকশা চালাইবি...নমুগো কথা কইস না আর, দেখস না বখতিয়ারটা...। কথা শেষ হয় না, তারা নীরবে যার যার বাড়ি ঢোকে।
Thumbs up
৫.
কিছুদিন ধরে জয়েদ আলীর ঘুমের সমস্যা, একটু আসে তো আবার ভাঙে। আজ তার ঘুমানো চোখে ঘুমের পাহাড়। এর মধ্যেই সে এক আজব স্বপ্ন দেখে! ভুবনেশ্বরের নদীতে কূলভাঙা পানি। সেই খানে কোথা থেকে এক লম্বা লেজওয়ালা হনুমান এসে, একচুমুকেই নদীটার পানি খেয়ে বালুর মাঠ বানায়ে ফেলল! তারপর হনুমান লাফাতে লাফাতে গ্রাম ছাড়ে! তার পেছন পেছন কত মানুষ চলে যায়!
তখনই ঘুমের মধ্যে দাদাজান এসে দাঁড়ায়, জয়েদ, ভাই আমার, দক্ষিণের ভিটায় যাইস না, ভাই।
ক্যান, দাদাজান?
ওই হানে একটা কালীমন্দির আছিল। পাঁঠা বলি হয়।
জয়েদ আলী দেখে, হাফপ্যান্ট পরে সে দাদাজানের কান্ধে উঠে বসেছে। দাদাজানের মুখ দেখা যায় না। আকাশে মেঘ দেখা যায়। সে বলে, যামু। তালি কিন্তু কইলাম আমারে কদমা খাওয়াইবা।
আইচ্ছা ভাই।
ঠিক এমন সময় দরজার কাছে একপাল মুরগি কক কক করলে ঘুমটা ভাঙে। দাদাজান কই, জরির মা মোরগ-মুরগিরে খুদ দিতেছে। সে ধড়ফড় কইরা ওঠে, বেলা হইল। হাঁড়ি নামাইতে হইব। কিন্তু শরীরটা কেমন ভারী লাগে। জোর কইরা নিজেরে দাঁড় করায়। একবার ভাবে স্বপ্নের কথা কি জরির মাইরে কমু? না, থাউক।
মোদা মাঝির অহন আর নাও নাই। সে মাঝি হইয়া তিন চাকার ভ্যান চালায়। তাও তো ভ্যান যাওনের পথ আছে, কিন্তু গাছ না থাকলে সে কি আর গ্রামে থাকবার পারব? স্বপ্নটার কোনো মাথামুণ্ড খুঁজে পায় না। তয় মনে পড়ে, দাদাজান তারে দক্ষিণের ভিটায় যাইবার দিত না। সে কি স্বপ্নের কথা কাউরে বলবে? বখতিয়ারের কথা মনে পড়ে, পোলাডা গ্রাম ছাড়ল! মোনতাজ মিয়া তো কাইন্দা বেহুশ। সে কি স্বপ্নের কথা তারে বলবে? না, থাউক। খালি খালি যেই গ্রামে মালো নাই, তা নিয়া কথা বাড়ায়া লাভ কী? তার খালি মনে হয়, একদিন গাছিও থাকব না এই গ্রামে। এই সব ভাবনায় থাকলেও সে হাঁড়ি কাঁধে নেয়। বালুর মাঠ পার হয়ে যাবে। পথে নেমে আবার ভাবে, নাকি সে শ্রীরামদির হাটে যাবে!

সেখানে গিয়ে কি সে স্বপ্নের কথা বলবে?




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন