সোমবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৬

শিবরাম চক্রবর্তী'র গল্প | স্বামী মানেই আসামি

বীরেনবাবু ধীরে ধীরে বাড়ি ঢুকলেন–চোরের মত পা টিপে টিপে। রাত ১০টা বেজে গেছে–একজন স্বামীর দণ্ডলাভের পক্ষে এই যথেষ্ট প্রমাণ–বীরেনবাবুর তাই এই চোরের দশা।

আসলে চোরের পক্ষে অবশ্যি রাত ১০টা কিছুই নয়, আসলে তারা যখন খুশি আসতে পারে, যাতায়াতের ব্যাপারে তারা অনেকটা স্বাধীন এবং আপ্যায়ালি। একটা চোরের ‘পরগৃহ প্রবেশের’ বেলায় যে স্বাধীনতা আছে, অতটুকুও তার নিজ গৃহে নেই এই কথা ভেবে বীরেনের দীর্ঘনিশ্বাস পড়ল।

বীরেনের বউ সেলাই করছিল, চাইল চোখ তুলে, কিছু বলল না। বীরেন কোটটা খুলে রেখে একটু তেরি হয়েই বসল সোফাটায়। ঝড় যে আসন্ন, মাথার উপর দিয়ে বইবে এক্ষুণি, অবহাওয়া-তত্ত্বে অভ্যস্ত হয়ে সেটা জানার তার বাকি ছিল না।
‘আপিসফেরতা সোজা বাড়ি আসবে ভেবেছিলুম।’ বৌয়ের গলায় গুমোট।
-‘জরুরি কোনও কাজে আটকা পড়ে আসতে দেরি হল বুঝি?’
‘আটকা পড়েছিলাম তা সত্যি, তবে বিশেষ যে কোনও কাজে তা না-’ তানা-নানায় সুর হয় বীরেনের-‘অনেকদিন পরে হরিপদর সঙ্গে দেখা হলো। হরিপদ আমার স্কুলের বন্ধু-তাই তার সঙ্গে গল্প করতে করতে-’
‘বুঝেচি।’ একটা ঝটকা এল নৈঋত কোণ থেকে।-‘তোমার মুখ দেখলেই তা বোঝা যায়। হরিপদ সেখানে জড়িত। আজ হরিপদ, কাল নিরাপদ, পরশু তারাপদ- পদে পদেই ওরা রয়েছে! নাও গেলো এসে, গিলে কৃতার্থ করো।’
বীরেন বোয়ের পিছু পিছু খাবারঘরে যায়। স্ত্রীর কাছে বীর কেউই নয়- বিশেষত খাবারঘরে। বড় বড় বক্তৃতা-বাজও ভাতের গ্রাস মুখে তুলে নীরবে অপর পক্ষের বাক্যবাণ হজম করে-করতে বাধ্য হয়। প্রলয়মূর্তি নটরাজও অন্নপূর্ণার কাছে এসে কিরূপ নম্র হয়ে পড়েন (একেবারে স্পীকটিনট!) তার দৃষ্টান্ত কে না দেখেছে?
থালাবাটির ঝনৎকার তুলে দেয় বীরেনের বৌ, ‘আচ্ছা, ফি দিনই কি এম্নি এক একটা আপদ-হয় ইস্কুলের নয় কলেজের নয়তো আপিসের-তোমার বাড়ি ফেরার পথের সামনে পড়ে হোঁচট খায়? আশ্চর্য!’
বীরেনও বিস্মিত হয়-বৌয়ের বলার ধরনে। তিলমাত্র জিনিসকে কি করে যে ও তালমাত্রায় এনে ফ্যালে যা সামলাতে বীরেন দিশে পায় না-তার কানে তালা লাগে-ভাবলে অবাক হতে হয়।
‘প্রত্যেক দিন নয়।’ প্রতিবাদচ্ছলে সে বলতে যায় : ‘কোনও কোনও দিন। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে দেখা হলে কি করব? দেখতে পাইনি ভান করে পাশ কাটিয়ে চলে আসব? তুমি তাই বলো?’
বীরেনের বৌ কিছু বলে না, ভাতের থালা ধরে দেয়। বীরেনকে হাতমুখের ব্যাপারে বিব্রত করে। তারপরে বলে-‘মনে করো আমিও যদি প্রত্যেকদিন এমনি বেরিয়ে যেতুম আর ফিরতুম অনেক রাত করে? আমারও কি বন্ধু-বান্ধব নেই? তুমি তাহলে কী বলতে আমায় শুনি?’
বীরেন গ্রাসটা কোঁৎ করে গিলে এক ঢোঁক জল খেয়ে নেয়–কিচ্ছু না। ‘যাওনা কেন বেড়াতে? আমি তো তাই বলি। চুপচাপ বাড়িতে এমনি মনমরা হয়ে বসে না থেকে সই-টইদের বাড়িগেলে কি সিনেমা দেখে এলে–মন্দ কি?’
‘যাবার মত কোনও চুলো আছে নাকি আমার? থাকলে আর একথা তুমি আমায় বলতে না।’ ঝড়ের সঙ্গে বৃষ্টির আমেজ দেখা দেয় এবার।
বীরেন অস্থির হয়ে ওঠে-‘ওই তো! মেয়েদের ধরনই ওই! একটুতেই কান্না!’
বীরেন বৌয়ের বায়না সইতে পারে, রান্না সইতেও রাজি, কিন্তু কান্না ওর অসহ্য। গর্জনে সে কাহিল নয়, কিন্তু বর্ষণে সে কাতর।
বীরেনের বৌ উদ্গত অশ্রু দমন করে অন্য ভূমিকা নেয় : ‘তাছাড়া যাব যে সিনেমায় তার সময় কই আমার? সেই সকাল থেকে এই এতটা রাত অব্দি তো তোমাদের দাস্যবৃত্তিই করছি! আমি সিনেমায় গেলে গুষ্ঠির পিন্ডি কে রাঁধবে শুনি? ছেলেমেয়েদের ইজের ফ্রক-এ সবই বা সেলাই করবে কে? তারপর ঘর-দোর ঝাড়ামোছা-’
‘আমি বলি কি, এর কিছু কিছু বাদ দিলে বোধহয় ভাল হয়। বড্ড যেন বেশি বেশি করা হচ্ছে।’
‘তাই নাকি?’ বীরেন বাধা দিয়ে জানায় : ‘এই যেমন ধরো,ঘর-দোর ঝাড়মোছার কাজ! এটার যেন একটু বাড়াবাড়ি করা হয় আমার ধারণা। এই সেদিন আমি দরজার পাশে দাঁড়িয়েছিলাম হয়ত তুমি দেখতে পাওনি, তুমি ঝুলঝাড়া ঝাড়নটা দিয়ে মায় দরজা আমার আগাপাশতলা ঝেড়ে দিলে! তাতে আপাদমস্তকে আমার অনেক আবর্জনা সাফ হয়ে গেল তা সত্যি, কিন্তু মানুষ পরিষ্কার করার রীতি বোধহয় ও নয়।’
বৌকে এবার নিরুত্তর হতে হয়-‘বধূ জীবনে বোধহয় এই প্রথম এবং জীবনের এই প্রথম সুযোগে বীরেনও আরও কিছু বলে নেয়-‘তাছাড়া সেলাইয়ের কাজ বলছ, তার জন্য বাজারের দরজি আছে- তাদের অন্ন মারা কেন? আর পিন্ডি রাঁধার কথা যা বললে, কথাটা নেহাত মিথ্যে বলোনি। আমার মনে হয় ঠিকে ঝিকে আরও গোটা কয়েক টাকা বেশি দিলে সে রেঁধে দিয়ে যাবে এবং এর চেয়ে বেশি খারাপ সে রাঁধতে পারবে বলে আমি আশা করি নে।’
‘তা তো বলবেই। তা তো বলবেই তুমি।’ বৌয়ের চোখের বিদ্যুৎ এবার বর্ষা হয়ে নামল। ‘আমি যা করি সব খারাপ, সমস্ত অকাজ! আমার রান্না মুখে তোলা যায় না। আমি কিছু না করলেই তোমার ভালো হয়। ঘরদোর গোল্লায় যাক, কী হবে ঝেড়ে মুছে, বেশ, তবে আর আমি কিচ্ছুটি করব না।’ ঝমাঝম বর্ষা!
বর্শাবিদ্ধ হয়ে বীরেনকে এবার চুপ করতে হয়। রোরুদ্যমানকে কে রুখবে? বৌ বলেই চলে-‘কেন যে তুমি আর সবার স্বামীর মতো নও আমি তাই ভাবি! আর সব স্বামীরা নিজের ঘরদোর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন দেখলে খুশি হয়, বাড়িতে থাকতে ভালোবাসে, নিজের বৌছেলেমেয়ের সঙ্গে গল্প করতে চায়, মিশতে চায়-তুমি তাদের মতো নও। পাশের বাড়ির নিবারণবাবু দ্যাখো তো? কেমন চমৎকার লোক! সন্ধ্যের আগেই বাড়ি ফিরবেন, কেবল আপিসটুকুই যা বাইরে, নইলে বাড়িতেই সরাক্ষণ। আর কিরকম বৌয়ের বাধ্য!- সর্বদা কাছে কাছে রয়েছেন। নিবারণবাবুর মত হতে কেন যে তুমি পারো না, কোথায় যে তোমার আটকায়-’
বীরেনের গলায় আটকাচ্ছিল, তাড়াতাড়ি জল খেয়ে বাধাকে তলায় পাঠিয়ে,অন্নগ্রাসমুক্ত হয়ে চট করে সে উঠে পড়ল। নিবারণবাবুর প্রসঙ্গ ওঠার প্রায় সময় হয়েছে সে টের পেয়েছিল, সে-ঢেউ একবার উঠলে শ্রীমতীকে নিবারণ করা অসম্ভব সে জানত। কথার চেয়ে দৃষ্টান্ত তীক্ষè। কথার খোঁচা তবু সওয়া যায়, কিন্তু দৃষ্টান্তের খোঁচা অসহ্য। তার সূচিমুখ থেকে বাঁচতে হলে কান হাতে করে দৃষ্টির বাইরে যেতে হয়। বীরেন হাত-মুখ ধুয়ে একটা সিগারেট ধরিয়ে বারান্দার দিকে পালিয়ে গেল। যতক্ষণ না বৌ ঠাণ্ডা হয়, সে না হয় এই ঠাণ্ডাতেই কাটাবে।
খোলা বারান্দাটার ওধারেই নিবারণদের বাড়ি। একেবারে কোণাঘেঁষা–কানঘেঁষা! বারান্দার গায়ে হেলান দিয়ে যে একটুকরো আকাশের দেখা মেলে সেই দিকে একদৃষ্টে চেয়ে রইল বীরেন। তারাদের পানে তাকিয়ে তাকিয়ে ভাবতে লাগল সে–মেয়েদের মন পাওয়া দায়। তার বৌয়ের কথাই ধরা যাক না! অতি তুচ্ছ কারণে, এমন অকারণে সে উত্তাল হয়ে ওঠে যে ভবতেই পারা যায় না। হয়তো সব দোষটাই বৌয়ের নয়, তার নিজেরও কিছুআছে। বাস্তবিক, ভেবে দেখলে দিনের পর একঘেয়ে খালি ঘরকন্না চালিয়ে কতটা আমোদ পেতে পারে মানুষ? মেয়ে হলেও মানুষ তো! পুরুষের তবু একটা পা বাড়ির বাইরে থাকে, এই একঘেয়েমির অরণ্য থেকে তবু তার বেরুবার পথ আছে, সরাদিনের কোনও না কোনও সময়ে সে মুক্তির স্বাদ পায়। একবারও অন্তত ঘরোয়া বানপ্রস্থ থেকে বেরিয়ে বাইরের জনারণ্যে সে নিজেকে হারাতে পারে। প্রতিদিনই সিনেমা, রেস্তোরাঁ, প্রিয়সঙ্গ–অতটা না হোক তবু রাস্তায় বেরুলে অনেক নতুন মুখ চোখে পড়ে তো। নতুন মুখ আর অচেনা মুখ যত! সব মুখই কিছু অসুন্দর নয়। ফিরে দেখবার মতও কেউ কেউ থাকেই বইকি তার মধ্যে–ফিরে দেখা আর নাও যদি হয়! শুধুই মুখ দেখা–পাকা দেখায় নাই বা পাকলো, তাই কি কম?
তার বৌও তো ইচ্ছে করলে বেরুতে পারে! এধার-ওধার ঘুরেটুরে আসতে পারে একটু-আধটু। তার দিকে তো কোনোই বাধা নেই। লাইব্রেরি থেকে বই আনিয়ে পড়তে পারে, কত নাচগানের জলসা হয়, সিনেমায় কত ভালো ভালো ছবি আসে–গিয়ে দেখতে দেখতে পারে তো! একলাই বা কাউকে সঙ্গে নিয়ে- কে আপত্তি করছে? তা না, কেবল সেলাই আর সেলাই! কে বলেছে তাকে এত এত সেলাই করতে আর দিনরাত কেবল ঘরদোরের ঝুল ঝাড়তে- শুনি?
অবশ্যি, তার বৌ যে আরও অনেক বৌয়ের মত নয় এজন্যে সে মনে মনে খুশিই। তার বৌ যে ঘরকন্না নিয়ে জড়িয়ে থাকে সুখী থাকে সেটা সেটা একপক্ষে ভালই। কোনও কোনও মেয়ে যেমন প্রজাপতির মত খালি উড়ছেই, দিন রাতই কেবল ফুর্তি- স্বামীর দিকেও নজর নেই, গেরস্থালির দিকেও না, কেবল তার কষ্টার্জিত টাকা উড়িয়েই খালাস- তার বৌ তেমন নয়। হ্যাঁ, এর জন্য তার বৌকে ধন্য বলতে হয়- বীরেন নিজের মনে মনে বলে। সে নিজেও কম ধন্য নয় একথাও সে মানতে বাধ্য হয়।
এতদূর ভেবে এতক্ষণে বীরেনের বিবেক টন টন করতে থাকে। দূরের তারকালোকের দিকে তাকিয়ে একটু আগেই নিজের গৃহকে সে তাড়নালোক জ্ঞান করেছে, কিন্তু এখন দেখল, না তা নয়, অতটা নয়। দূরবীন না লাগিয়েও অদূরে যাকে দেখা যায় সে নিছক তাড়কারাক্ষুসী না, বরং ধ্রুবতারার সগোত্রীয়াই তাকে হয়তো বলা চলে।
না, এরপর থেকে সে বৌয়ের কথামতই চলবে। আর তার অবাধ্য হবে না। আপিসের ফেরৎ সোজা বাড়ি এসে তার সান্ধ্যকৃত্য! তারপর
আর বাড়ির বার নয়। বৌয়ের রূপসুধা, কথামৃত, শ্রীহস্তলাঞ্ছিত খাদ্যাখাদ্য ইত্যাদির পানাহারশেষে লক্ষ্মীছেলের মত শুতে যাওয়া, তারপরে ঘুম থেকে উঠে বাজার সেরে নিয়ে খেয়েই ফের আপিস! এবার থেকে এই হল তার নিত্যক্রিয়া। এবং নৃত্যক্রীড়া।
বৌয়ের খাতিরে বন্ধুবান্ধব সব বর্জন করবে। রাস্তায় তাদের কারও সঙ্গে দেখা হলে প্রথমেই পাওনাদারের মত না দেখার ভান দেখাবে, তাতেও যদি তারা না মানে, ঘাড়ে পড়ে জমাতে আসে, সে চোখ তুলে না চেয়ে ব্রীড়াবনত মুখে সরে পড়ার চেষ্টা করবে। যদি তবুকেউ তাড়া করে– তাকে উপদেশ দেবে, যাও নিজের বৌয়ের কাছে যাও। আমাকে বখিয়ো না।…সত্যি, বৌয়ের চেয়ে আপনার তার কে আছে? কার কে আছে?
এইরূপ সমাধানে পৌঁছে, অনুতাপ-বিদগ্ধ বীরনে বৌয়ের কাছে মার্জন-ভিক্ষা করে আরও মার্জিত হবার আশায় যখন বারান্দা ত্যাগ করতে যাচ্ছে সেই সমায়ে অপ্রত্যাশিতরূপে আরেক সমস্যা দেখা দিল! আরেক দাম্পত্য সমস্যা।
পাশের নিবারণবাবুর ঘর থেকে শ্রীমতী নিবারণীর কলকণ্ঠ কানে এল। তিনিও স্বামীকে শায়েস্তা করতে লেগেছেন।
‘বলিহারি যাই তোমায় (বলছিলেন নিবারনের বৌ) কি করে যে দিনের পর দিন এমনি করে বাড়ি কামড়ে পড়ে থাকতে পারো তাই আমি অবাক হয়ে ভাবি! এমন ঘরকুনো মানুষ আমি জন্মে দেখিনি! কেন, সন্ধ্যের পরে একটু বেড়ালে, হাওয়া খেতে বেরুলে কী হয়? বন্ধুবান্ধব পাঁচজনের সঙ্গে মিশলে, আড্ডা দিলে, এখানে-ওখানে গল্পগুজব করলে খানিক-তাও কি তোমার ভালো লাগে না? কেবল আপিস আর ঘড়, ঘড় আর আপিস! আপিস ফিরে নির্জীব হয়ে শুয়ে পড়লে! এমন করলে বাতে ধরবে যে-’
‘কেয়াবাৎ!’ বারান্দার অন্ধকারের মধ্যে বীরেনের মুখ উজ্জল হয়ে উঠল। -‘বেচারা নিবারণেরও দেখছি সেই দশা। তারও স্বস্তি নেই। যদিও তার অপরাধ আমার ঠিক উলটো বলেই যেন বোধ হচ্ছে।’
নিবারণ কী সদুত্তর জানবার জন্য পরের কথায় আড়ি পাতা অন্যায়- এবং আড়ি পাততে গিয়ে অধঃপতন লাভ আরও অন্যায়- তা জেনেও, বারান্দা থেকে অনেকখানি সে ঝুকল। কিন্তু এত ঝুঁকি নিয়েও কোন লাভ হল না। প্রত্যুত্তরে নিবারণ আমতা আমতা করে কী যে বলল কিচ্ছু বোঝা গেল না।
সঙ্গে সঙ্গে ওর বৌয়ের গর্জন তেড়ে এল। -‘বৌয়ের এত আঁচল ধরা হওয়া কি ভালো? এরকম ন্যাওটা মানুষ মোটেই আমি ভালোবাসিনে। আমার দু-চক্ষের বিষ! সারাটা সন্ধ্যে বাড়িতে বসে থেকে আমার প্রত্যেক কাজে বাগড়া না দিয়ে একটু বেড়িয়ে- টেড়িয়ে এলে কি হয় না? তাতে কিছু মহভারত অশুদ্ধ হবে না। একটু পুরুষ মানুষের মত না হয় হলেই! পাশের বাড়ির বীরেনবাবুকে দ্যাখো দিকি। ওরকম কি তুমি হতে পারো না? না কি, ওরকম না হবার জন্যে কেউ তোমাকে মাথার দিব্যি দিয়ে পায়ে ধরে সেধেছে?…’
এই পর্যন্ত শুনেই বীরেনের মাথা ঘুরতে লাগল। বারান্দা থেকে পা টিপে টিপে ঘরের মধ্যে ফিরল সে, কিন্তু বৌয়ের কাছে মার্জনালাভের সঙ্কল্প নিয়ে নয়। সে সাধু ইচ্ছা তার উড়ে গেছে তখন। কী লাভ? মেয়েদের রহস্য তার সামান্য; বুদ্ধির বাইরে। তবে এটুকু সে বুঝেচে যে, মেয়েদের কাছে মার্জনা নেই; কখনই না, কোনও ক্ষেত্রেই নয়। আছে সম্মার্জনা, সর্বদা এবং সর্বত্র; এবং এই বোঝাই তার যথেষ্ট। সেই বোঝা আরও বাড়িয়ে আর কী লাভ হবে তার?

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন