রবিবার, ২৯ মে, ২০১৬

আশান উজ জামানের গল্প : মধ্যাঙ্গুলি


হতভম্ব হয়ে গেছে আরিফ। ধড়ফড় করছে বুক। মহিলারটাও। তারটাও। উত্তেজনায়।

হাত কাঁপছে তার। ভয়ে। আর চিন্তায়।

কিছুক্ষণ আগেও যা যা ছিলো, হঠাৎ নেই হয়ে গেছে সব। টিনের চাল। ইটের দেয়াল। দেয়ালে লটকানো সূচিকর্ম। তার নিচে ঢাউস আকৃতির নিপ্পন টিভি। কিছুই যেনো নেই। আরিফ দেখছে না কিছুই। ওই অবিরাম টিক টিক আর পায়রার বাকুম বাক বাকুম বাক আর হাঁস মুরগির গান আর বাঁশঝাড়ে বাতাসের ফিসফিস কিছুই আসছে না কানে।

কানজুড়ে শুধু ভারী নি:শ্বাস। তার। আর মহিলার।


চোখজুড়ে শুধু ঘোর।

ঘোরলাগা চোখদুটো স্থির হয়ে আছে মহিলার উপর।

মহিলার বুকে চোখে ঠোটে মুখে লেপ্টে আছে আহ্বান। পৃথিবীর সবচে’ সরল সবচে’ কোমল সবচে’ প্রবল সে আহ্বান। যেটা এড়ানো কঠিন। সাড়া দেয়া আরো কঠিন। এবং, বিশেষত, লোকটা আরিফ বলেই, এটা প্রায় অসম্ভবের পর্যায়ে পড়ে। কারণ সে উড়ে যাওয়া বাতাসে ঘুরে যাওয়া শুকনো পাতার মতো। নিয়ত দিকহীন। সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। ঠিক করতে পারেনা কোথায় যাবে। বা আদৌ যাবে কিনা। কে যেনো বলেছিলো তার মাথা একটা শানবাধানো পুকুরঘাট। তাতে শ্যাওলা ধরেছে। কোন চিন্তাই সেখানে দাঁড়াতে পারেনা বেশিক্ষণ। পিছলে যায়। তাই সকালের কথা সে বিকেলে ভোলে। সন্ধ্যার কথা ভোরে। এক লাইনের একটা সিদ্ধান্ত নিতে গিয়েও প্রাণান্ত হয় তার। ফলে চিরকাম্য চিররম্য এই আহ্বানে সাড়া দেবে না গিয়ে দাঁড়াবে অন্য মানুষের দলে বুঝতে পারেনা। ঘামতে থাকে। ঘামতে থাকে।


গোঁফের রেখা কেবল গাঢ় হচ্ছে তার। এখনো চাষ হয়নি তাতে। নেহাৎ বাচ্চা একটা ছেলে। এরকম ভয়ানক পরিস্থিতিতে কেন পড়লো সে? চাইলেই কি এড়ানো যেতোনা এই কুরুক্ষেত্র? না, যেতোনা। এটাই হবার ছিলো। নইলে চেষ্টা তো আর কম করেনি!

কতবার ভেবেছে, কোন মেয়ের সাথে জড়াবে না। না তার নাম। না তার মন।

কতবার ভালো লেগেছে একে ওকে। কতজন তারা! কেউ কাছের। কেউ দূরের। কেউ আপু। কেউ ভাবী। কেউ বয়সে ছোট। কেউ বড়। কেউ.. না থাক, তাদের নিয়ে ওরকম ভাবলে জিব কাটতে হয়, তওবা পড়তে হয়! প্রতিবার শান্ত করেছে নিজেকে। নিবৃত করেছে এটা ওটা বুঝিয়ে।

তবু কি রক্ষা হলো শেষে?

লজিং থাকার মাহাত্ম্য বোধহয় এখানেই।

যারাই থাকে, কাৎ হয়ে যায়। আরিফ জানে। তার দুই চাচাও এই দলের। দুই চাচীই চাচাদের ছাত্রী ছিলেন। পড়তে পড়তে আর পড়াতে পড়াতেই প্রেম। তারপর জানাজানি। তারপর বিয়ে।

রকমারি গল্প চালু ছিলো তালেব স্যারকে নিয়েও।

সবারই এক হাল। লজিং থাকা মানুষের। হয় বিয়ে, নয় কেলেংকারি।

এ কালি মাখবে না বলেই পণ করেছিলো সে। ভেবেছিলো থাকবে না লজিং। কিন্তু শহরে পড়ার খরচ অনেক। দিনমজুর বাবা। টানতে পারবে না। বাধ্য হয়েই তাই এ বাড়িতে আসা।

কলেজ থেকে খুব দূরে নয় বাড়িটা। খুব কাছেও নয়। একপা দুপা করে গ্রামটা এগিয়ে যাচ্ছে। শহরের দিকে। বেশ একটা সাবালক সাবালক ভাব তার। শহরটাও দুহাত বাড়িয়ে রেখেছে। কিছুদিন পরই মিলে যাবে। মিশে যাবে। আলাদা করা যাবেনা তাদের।

গ্রামের অধিকাংশ লোক কৃষক। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে খায়। দুএকজন আছেন যাদের বেতন ধরা। মাস গেলেই চেক। কেউ তাদের সরকারি কেউ বেসরকারি। এমনই এক বাড়িতে জায়গা হলো তার। লম্বা একটা স্কুল ঘরের মতো বিল্ডিং। পাশাপাশি চারপাঁচটা ঘর। সামনে পাল্লা দিয়ে লম্বা হয়েছে বারান্দাটা। বারান্দার এক প্রান্তে ইটের দেয়াল তুলে ঘর করা হয়েছে আরেকটা। পকেটের মতো। ওই পকেট ঘরেই থাকে আরিফ।

ছাত্র দুজন। দুই ভাই। বড়টা ক্লাস এইটের। ছোটটা পড়ে থ্রিতে। ছোটটা যত মেধাবী, বড়টা ততই গাধা! একজন বাঁহাতে লেখে। অন্যজন ডানহাতে। একজন ফর্সা। আরেকজন কালো। এক মায়ের পেটে এরকম হয়! বিশ্বাস হয়না আরিফের। তবে দুজনই খুব মিষ্টি চেহারার। দেখলেই আদর করতে ইচ্ছে করে। আরেকটা মিল আছে। পড়তে বসলে দুজনই ঝিমায়।

কলেজ থেকে ফিরে পড়তে বসে আরিফ। বিকেলেই। সন্ধ্যাটা ছাত্রদের জন্য বরাদ্দ। এসময় প্রায়ই লোডশেডিং হয়। হারিকেন দিয়ে যায় ছাত্রদের বড় বোন। হারিকেনের আলোয় জাদু আছে। চোখ বুজে আসে পিচ্চিদের। আরিফেরও। ঢুলে ঢুলে পড়ে। পড়তেই থাকে।

এই ঘুমঘুমপড়া আর পড়াপড়াঘুমের শেষ হয় খাবার সময়। বারান্দায় প্লেট পড়ে ছয়টা। একপাশের তিনটা নিয়ে বসে আরিফ আর তার ছাত্ররা। পাশেই আঙ্কেল। বাড়ির কর্তা। ছোটখাটো গোলগাল শরীর। পাশে আরো মোটা আন্টি। ওপাশে আরিফের দিকে মুখ করে বাড়ির বড় মেয়ে। লাবনী। ক্লাস টেনে পড়ে। ভালো ছাত্রী বলে একটা পরিচয় আছে তার। দেখতে কেমন? জানেনা আরিফ। দেখেনি কোনদিন। না, খাওয়ার সময় মুখোমুখি [দূরত্ব যতই হোক] বসেও না। বিদ্যুৎ গেলে হারিকেন জ্বালাতে এসে হাতে হাতে [অন্ধকারে, অনিচ্ছায়] ঠোকাঠুকি লাগলেও না। দেখেনি কোনদিন। প্রেমে পড়ার ভয়েই মূলত। এসব করলে যে পড়াশোনা শিকেয় উঠবে, তা তো জানা। তাই সব মনোযোগ তার পড়াশোনায়।

সারাদিন কলেজে থাকে। আড্ডায় সে নেই। খেলায় নেই। অকারণ অনাদরে বসে বসে সময় নষ্ট করায় নেই। ক্লাসের বাইরে সময় কাটে পাঠাগারে। পড়া নিয়েই ব্যস্ত সে। সন্ধ্যায় ঘুম পায়। ঘুমোয়। কিন্তু ভোরবেলা ঠিকই ওঠে। পড়তে বসে। কে কি ভাবে, তাই বিদ্যুৎবাতি জ্বালেনা। মোমের আলো সাথি হয় তার। ভীরু মৃদু আলোটুকু জ্বলতে থাকে। জ্বলতেই থাকে। সে আলোয় জ্বলে জ্বলে রাঙা হয় সূর্য। আকাশ রাঙায়। তখন ওঠে ছাত্ররা। পড়তে বসে। আর গুছিয়ে নিতে থাকে আরিফ। কলেজ তাকে ডাকছে। গোছাতে গোছাতেই পড়ায় ছাত্রদের। বোঝায়। বকে। মারে। বোঝায়।

একটা ফাকিবাজি যে হচ্ছে, তা আরিফও বোঝে। কিন্তু তার কাছে তার পড়াটাই আগে। তাছাড়া ওরা তো পড়ছেই। ভালোও করছে। বড় ছেলেটা গতবছর অংকে কুড়ি পেয়েছিলো এবার পেয়েছে চল্লিশ। অত চিন্তা তাই করেনা ও। তারপরও যদি এখানে থাকা না হয়, না হবে। অন্য কোথাও যাবে। কোন পিছুটানতো নেই!

কিন্তু পিছুটান আলাদা চিজ। তার জন্ম নিতে সময় লাগেনা। লাগলোও না।

ওপাড়ার বাবুলের সাথে ভাব হয়েছে আরিফের।

একসাথে বেড়ায়। নামাজ পড়ে। পুজো দেখতে যায়। মেলায় ঘোরে। যাত্রাপালা দেখে। জোছনা মাখে। রাতের আঁধার রাঙায় কবিতায়। আর গানে। আর চুটকির রসে।

অজানা অচেনা জায়গায় থাকা, এমন দুএকজনের সাথে ঘনিষ্ঠতা ভালো। কাজে লাগে।

সেদিন বিকেলেও বেরিয়েছিলো। হাঁটছিলো খালপাড়ে । এ কথায় সে কথায় বাবুলই বললো কথাটা।

লাবণীর জন্য পাত্র দেখা হচ্ছে। ছেলে পাশের গ্রামের।

আরিফের খুশি হওয়ার কথা। উল্টো মন খারাপ হলো। সেদিন থেকে বদলে গেলো সময়। লাবনীর প্রতি আগ্রহ বাড়লো। বোঝা গেলো লাবনীই বরং এড়িয়ে চলে আরিফকে। এটাই তো চেয়েছে আরিফ! বোঝালো নিজেকে। নানাভাবে। নানা যুক্তি দেখালো। নানা পন্থা শেখালো। কিন্ত এমনই ঢেউ এটা, কোন বাধই টেকেনা। টিকলোও না। তার চোখ তার কথা শোনে না। বিরুদ্ধে গেলো তার কান। তার হাত। আর তার নাক।

এ কী হলো? মেয়েটাকে যে সে অনুসরণ করছে! কারণে অকারণে!

তবে কি তাই হলো, যা হওয়ার কথা!

গোপনে লাবনীর দিকে চেয়ে থাকে সে। সুযোগ পেলেই তার শুকোতে দেয়া কাপড়ের গন্ধ নেয়। সবাই যখন টিভিই দেখে, আরিফের চোখে পড়ে লাবনীর ছায়া। মেয়েটার পছন্দের নায়কের মতো চুল কাটায় আরিফ। তার মতো করে হাঁটে। সবমিলে বেশ একটা থইথই ব্যাপার! ফলে পড়াশোনায় জল উঠলো। আর জোরালো হলো গানের গলা। রবীন্দ্রনজরুল আগে গুনগুনাতো, এখন খোলা স্বরে গায়। মিলন হবে কতো দিনের আস্থায়ীটা নিয়ে লালনও হাজির।

তবে? আরিফ এবার পড়েই গেলো। প্রেমে!

তা পড়–ক। এ বয়সে ওরকম একটু মন আনচান না করলে স্বাস্থ্য ভালো থাকেনা। না শরীরের। না মনের।

কিন্তু টনক নড়লো স্বরস্বতীর। আরিফের মা হয়ে তিনি স্বপ্নাদেষ দিলেন! ভালো করে পড়িস বাবা। ভালো হয়ে থাকিস। হুঁশ হলো আরিফের। এ কী করছে সে! না এভাবে আর না। পড়াশোনায় চড়ে বসতে হবে। আবার।

দুদিন খুব চললো পড়াশোনা। পড়া আর পড়া। অন্যদিকে মনোযোগ নেই।

কিন্তু জোর করে কি আর পিরিত হয়? পড়া তাই পড়েই থাকলো। যেই কে সেই হলো আরিফ। আবার।

এর মধ্যেই লাবণীর বড় খালা এলেন।

আন্টির বোন বলে মনে হয়না মহিলাকে। আন্টি তো নাদুশনুদুশ ফর্সা গোলগাল এবং দেখতে বদখৎ। আর ইনি ছোটোখাটো কালো কিন্তু সুন্দর। তবে কপালটা বোধহয় ফাটা। কথা বলতে পারেন না। শোনেনও না। বিয়ে হয়েছিলো। বছরখানেকের মধ্যেই ভেঙেছে সে ঘর। সেই থেকে একা। বাপের সম্পত্তির ভাগ পেয়েছেন। সেসব ভাগ করে দিয়েছেন দুই বোনকে। দুজনের বাড়িতেই থাকেন। ছ মাস। ছ মাস। পালা করে।

যোগাযোগের কাজ সারেন হাত পা নাড়িয়ে। নানা রকম অঙ্গভঙ্গি তার ভাষার বাহন। দুহাত বুকে বেধে একপাশে হেলে দাঁড়িয়ে যে বিশেষ ভঙ্গিটা করেন, সেটা দিয়ে আন্টিকে বোঝান। অনামিকা আর মধ্যমা দিয়ে কানের লতি ধরা মানে লাবনী। বুড়ো আঙুল মুখে দিলে আঙ্কেল। একেকজনের জন্য একেক সংকেত। পরিচিতজন সহজেই বোঝে সব। কিন্তু অন্যদের বেলায় ঝামেলা। খুব বেগ পেতে হয় তাকে।

নামটা কী? শোনা হয়নি কখনো। সবাই বলে গুঙি। আরিফের এটা পছন্দ না। তবু ও গুঙি বলেই ডাকে।

খুব মায়া হয় গুঙির প্রতি। স্বামী সংসার নিয়ে তার সুখে থাকার কথা। অথচ এই শিকড়হীন ভবঘুরে জীবন কাটাচ্ছেন। এত কষ্ট কেন মানুষের? কেন চাইলেই সবাই ভালো থাকতে পারেনা? আরিফ চেষ্টা করে তাকে সাহায্য করতে। যতটুকু সাধ্যে কুলায়, ততটুকু করেও। কিন্তু গুঙি তাকে সহ্য করতে পারেননা। কেন পারেননা? আরিফ যে তার বোনঝির মোহাবিষ্ট, বুঝে ফেলেছেন নাকি মহিলা? বোবাকালাদের অন্য ইন্দ্রীয়গুলো প্রখর হয় বলেই শুনেছে সে। তাই হবে হয়তো। না হলে তার দিকে এমন খটোমটো করে তাকাবেন কেন তিনি!

সেই তাকানো হঠাৎ বদলে গেলো।

খুব অসুখ হয়েছিলো আরিফের। জ্বর। আর মাথাব্যাথা। ঘাড়েরর রগ দপদপ করে। বমি হয়। ইত্যাদি।

আরিফকে যারা চেনে, তারা জানে, ও কেমন। একটু কিছু হলেই নেতিয়ে পড়ে। ফলে দুদিন হুঁশই হলোনা ওর।

এই দু’রাত ঘুমাননি গুঙি। বসে থেকেছেন আরিফের পাশে। বমিটমি পরিস্কার করেছেন। মাথায় জলপট্টি দিয়েছেন। গা মুছিয়েছেন। একা।

সেই থেকে বেশ খেয়াল রাখেন তিনি আরিফের। পানিটা তেলটা এগিয়ে দেন। জোর করেই আরেকটু ভাত আরেকটু তরকারি আরেকটু দুধ তুলে দেন। আগে পাত্তাই দিতেন না। এখন এটা বলেন সেটা বলেন। কথার শেষ হয়না। আরিফ এই ইশারাভাষার আগাও বোঝেনা, গোড়াও বোঝেনা। আন্টিকে দিয়ে অনুবাদ করিয়ে নেয়। এখন ঘুমানো যাবেনা। গোসল করে আসো। ঠিকমতো কাপড় কাচতে পারোনা যেহেতু কেচোনা। আমিই কেচে দেবো। ইত্যাদি ইত্যাদি।

আন্টির মেজো বোনের বড় ছেলের নাম রফিক। অনার্স ভর্তি হয়েছে।

গুঙি বলেন আরিফ নাকি তার মতো। চেহারায়। উচ্চতায়। চলনে বলনে।

রফিকের জন্য গুঙির সংকেতটা দেখেছে আরিফ। মধ্যমা দিয়ে নাকের উপর চাপ। একই সংকেতে তিনি আরিফকেও বোঝান।

খারাপ লাগেনা আরিফের। সদয় এই আচরণটুকু উপভোগই করে সে।

কিন্তু একটা ব্যাপার আর ভাল্লাগছেনা। লাবনী এখনো দূরবাসী।

একপেশে প্রেম আর কত?

ইনিয়ে বিনিয়ে তাই একটা চিঠি লিখেছে সে। ক’দিন ধরে ঘুরছে পকেটে নিয়ে।

সুযোগ মিললো শুক্রবারে।

সকাল থেকেই আয়োজন, চাল কুটা হবে। বাড়িতে ঢেঁকি নেই। যেতে হবে পাড়ায়।

আন্টি যাবে। গুঙি যাবে। তার ছাত্রছাত্রী যাবে। যাবেনা শুধু লাবনী। কাল তার পরীক্ষা। পড়বে।

এই তো সুযোগ। এসপার ওসপার হয়ে যাবে আজ।

চিঠিটা আরো ক’বার পড়ে দেখেছে আরিফ। দুটো বানান ভুল ছিলো। ঠিক করে নিয়েছে। যা লিখেছে, পড়ে দেখলো আবার, পড়লেই ফেঁসে যাবে লাবনী! নির্ঘাত।

কিন্তু সে আশায় ছাই দিয়ে লাবনীও গেলো ওদের সাথে।

মানুষের আশা ফিনিক্স পাখির মতো। মরলেও গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে। বারবার।

নতুন আশায় বসে থাকে আরিফ। নিশ্চয় ও ফিরে আসবে। একা। তখন দেবে চিঠিটা।

দুপুর গড়ালো, তিনবার বিদ্যুৎ গেলো, তিনবার এলো, কিন্তু আসলো না মেয়েটা। কী নিষ্ঠুর!

ঘুমিয়ে পড়েছিলো আরিফ। জাগলো গুঙির ডাকে। এক গামলা চালের গুড়ো নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন আন্টির ঘরের দরজায়। শিকল দেয়া।

খুলে দিলো আরিফ। তারপর ঘরে এলো। চিঠিটা পড়ে আছে বালিশের পাশে। কেউ যদি দেখে ফেলে! লুকোচ্ছে সেটা, এমন সময় আবার গোঙানি। গুঙি ডাকছেন। ছুটলো আবার। মহিলা শুয়ে আছেন। তাকিয়ে আছেন তার দিকে। হাসছেন। তাকে ডাকছেন। নেশাগ্রস্তের মতো কাছে গেলো ও। মহিলা ওর হাতদুটো নিলেন । বুকের উপর রাখলেন। কেঁপে উঠলো আরিফ। মাথা ঘুরে গেলো। নড়তে পারছে না। হাতদুটো তার মহিলার বুকে। একহাতে চেপে ধরে রেখেছেন মহিলা। অন্যহাতে ইশারা করছেন। কী সজীব এই ইশারা! কী গাঢ় এই ডাক! কী মোক্ষম এই সুযোগ! আরিফের মতো মানুষ তা এড়াবে কী জোরে?

কত কিছু চেয়েছে আরিফ। কত কিছু ভেবেছে। কতজনকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছে। আকাশ বুনেছে কল্পনার। কিন্তু এমনটা কখনো চিন্তায় আসেনি ওর।

ঘামছিলো ও। আর কাঁপছিলো।

ঘামতে ঘামতে আর কাঁপতে কাঁপতে নড়ে গেলো ভালোমন্দবোধ।

অনন্ত এক আঁধারের দিকে এগোলো আরিফ। আলো হয়ে যেখানে হাসছে গুঙির দেহটা। যেখানে হারিয়ে যেতে হয় দেহ নিয়ে। পুড়ে যেতে হয়। উড়ে যেতে হয়।

কিন্তু উড়াল দেওয়া হলো না ওর। কার যেনো পায়ের শব্দ এলো বাতাস চেপে।

সাবধান হতে হলো।

বের হয়ে এলো। নিজের ঘরে ঢুকলো। অপেক্ষা করলো। নিশ্চয় কেউ আসছে। খানিকক্ষণ কাটলো এভাবে। না, কেউ নেই। ততক্ষণে বুকের ধুকপুক কমেছে। হালকা হয়েছে শ্বাস। ফিরেছে জ্ঞান।

এরপর কি আর ফেরা যায় ওখানে?

না। তাই বের হলো ও। চোখ পড়লো গুঙির দিকে। দাঁড়িয়ে আছেন দরজায়। চোখে জল। দাঁড়াতে পারলো না আরিফ। পা বাড়ালো। দু’তিন বাড়ি পরেই পথ। পথের গায়ে মাঠ। মাঠের উপর আকাশ। আকাশ জুড়ে আলো। টানা রোদ। গরম পড়ছে খুব!

গেঞ্জিটা খুললো ও। একটু বসা দরকার। বসে পড়লো। পথের উপরেই। কাঁঠালগাছের ছায়ায়।

কোমল পেলব নরম বাতাস ভাসছে। শরীর ঠাণ্ডা হলো। শান্ত হলো মন।

আরিফ তখন অতীতে। ভাবছে। ছুটে বেড়াচ্ছে ঘটনা থেকে ঘটনায়।

ইশারা ইঙ্গিতে অনেক কিছুই বলতেন গুঙি। আরিফ তা বুঝতো না। মাথা নাড়তো শুধু। হাসতো। সেসবের মধ্যেই হয়তো কোন প্রশ্রয় ছিলো।

প্রায়ই তার গা ঘেঁষে দাঁড়াতেন মহিলা। বসতেন। তার দিকে তাকিয়ে থাকতেন। অপলক। জানলা থেকে। দরজা থেকে। উঠোন থেকে।

সেদিনের ঘটনাটা মনে পড়লো।

সন্ধ্যা। পড়ছিলো ও। ছাত্ররাও। বিদ্যুৎ চলে গেলো। হঠাৎ ছুটে এলেন গুঙি। অন্ধকারে। তার হাতটা হাতে নিলেন। নিজের বুকে চেপে ধরলেন। অস্বস্তি বোধ হবার কথা ওর। হলো। কিন্তু খেয়াল করলো বুকটা মহিলার ধড়ফড় করছে। শরীর দুর্বল হলে এমন হয়। কী খাটাখাটনিটাই না করতে হয় তাকে। বেচারা। পাগল মানুষ। মায়া হলো খুব। ওষুধ এনে দিলো পরদিন। বুক ধড়ফড়ের!

গুঙির আর দোষ কী। সম্মতি হয়তো আরিফই জানিয়েছে! না জেনে।

অনেকক্ষণ পর বাড়ি ফিরলো ও। সব সেখানে স্বাভাবিক। কাজ শেষে ফিরেছে সবাই। আন্টি। লাবনি। আঙ্কেলও ফিরেছেন। ইলিশ এনেছেন একজোড়া। কুটছেন আন্টি। আড্ডা বসেছে তাকে ঘিরে। কে কোন অংশটা খাবে হিসাব চলছে। মাথা নিয়ে ঝগড়া বেধেছে তিনভাইবোনের। হাসি হাসি ভাব সবার। শুধু থমথমে মুখ গুঙির। উঠোন ঝাট দিচ্ছেন। সামনে দিয়েই হেঁটে গেলো আরিফ। তাকানোর সাহস হলো না।

পরের সপ্তাহটা খুব বাজে কাটলো। পড়ায় মন বসে না। অপরাধবোধ কাজ করে। কখনো কখনো মনে হয় কীই বা এমন ঘটেছে! পরক্ষণেই মনে হয় অনেক কিছুই ঘটেছে। অস্থির লাগে আরিফের। কাউকে বলতেও পারেনা। লাবনীর দিকেও তাকাতে পারেনা আর। কেমন যেনো লাগে। ওর চিঠিটা ছিঁড়ে ফেললো একদিন। ভেসে গেলো খালে। টুকরো টুকরো কথা হয়ে।

না। এভাবে আর না। পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে খুব। লজিং বদলাতে হবে। যা হবার হয়েছে। এ নিয়ে বসে থাকলে চলবে না।

গোপনে চলছে তার লজিং খোঁজা।

দুটো বাড়িতে কথা হচ্ছে। পাশের গ্রামে। তবে আরিফ চাইছে একটু দূরে যেতে। এদের মুখ আর দেখতে চায়না ও। তবু। হোক না পাশের গ্রাম, হাঁড়ি তো বদলাবে! দুগ্রামের মাঝ দিয়ে খাল বয়ে গেছে একটা। তাতেই হয়তো ভেসে যাবে অস্বস্তির প্রহর।

অগোছালো দিন কাটছে।

এরমধ্যে একদিন রফিক এলো। পরিচয় হলো। ভালো করে খেয়াল করে দেখলো আরিফ। গায়ের রং ভালো। মায়াকাড়া চেহারা। তার মতো কোনভাবেই না। শুধু লম্বায় ছাড়া। কী মিল যে গুঙিটা দেখেছে তাদের মধ্যে, কে জানে!

লাবনীর সাথে খুব ভাব ছেলেটার। ওই তো গল্প করছে ওরা। হাসাহাসি করছে। গায়ে হাত পড়ছে এর ওর। চরম বিরক্তি নিয়ে সব দেখছে সে। সহ্য হচ্ছেনা ছেলেটাকে। ওর সাথে মিশবে কেন লাবনী? এত ঢলাঢলির কী আছে?

সেদিন সন্ধ্যায় পড়তে বসলো না ছাত্ররা। বিদ্যুৎ নেই। ঘাপটি মেরে আছে আঁধার। এখানে ওখানে। লুকোচুরি খেলার আবহ। তাতেই মেতে উঠেছে ছাত্ররা। আর লাবনি। আর রফিক।

উঠোনে হাঁটাহাঁটি করছিলো আরিফ।

রান্নাঘরে চোখ পড়ছে। বাটনা বাটছেন গুঙি। সেদিনের পর থেকে কেমন গম্ভীর হয়ে গেছেন। কথা বলেন না আরিফের সাথে। মুখোমুখি হলে বিব্রত হয় আরিফও। কেমন একটা লাগে। তাই এড়িয়ে চলে।

তখনও চোখ ফেরালো। মনোযোগ দিলো লুকোচুরির দিকে। কী দারুণ সময় কাটছে ওদের! কী অবাক অধীর সময়! তার ভালো লাগা উচিৎ। কিন্তু লাগছে না। বরং রাগ হচ্ছে। এত ঘনিষ্ঠ ওরা! রফিক আর লাবনী। একসাথে লুকোচ্ছে। এক আঁধারে। একসাথে বেরোচ্ছে। এক আলোয়। বারবার।

সহ্য হলোনা। ঘরে গেলো। একটু তাড়াতাড়িই ঘুমিয়ে পড়লো সে রাতে।

শীত আসি আসি করছে। রাত বড় হয়ে গেছে। এক ঘুমে পার হয়না। ঘুম ভাঙে ভোরের আগে। সেদিনও ভাঙলো। তলপেটে প্রচ- চাপ। ঘর ছেড়ে উঠোন। উঠোন হয়ে টয়লেট। বেশিদূরের পথ না। তবু যেতে সাহস হয়না আরিফের। উঠোনের তেঁতুলগাছটাতেই যত ভয়। কী না কী থাকে। একা পেলে ঘাড় মটকাবে। তাই ভোরের আগে ওমুখো হয়না ও। আরেকটু পর আরেকটু পর করছে। উঠতেও ইচ্ছে করছে না। আবার থাকতেও পারছেনা।

এমন সময় চিৎকার শুনলো গুঙির। হাওমাও আওআও করছে। চোরটোর আসলো নাকি?

তাড়াতাড়ি বের হলো। গুঙি তখন বারান্দায়। চিৎকার করেই চলেছে। পাশে লাবনী।

আঙ্কেল আন্টি বের হলো কিছুক্ষণ পর।

ঘটনা মারাত্মক।

গুঙি বাইরে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে শুয়েছেন। প্রতিদিনের মতো। লাবনী শোয় পাশের খাটে। কেমন একটা আওয়াজ আসছে ওখান থেকে। মৃগী রোগী। আক্রান্ত হলোনাতো? ত্রস্ত এগোলেন গুঙি। হাত বুলোবেন। শান্ত করবেন। সাহস দেবেন। কিছুই করা হলোনা। হাত পড়লো যার গায়, সে লাবনী নয়। অন্য কেউ। চমকে উঠলেন তিনি। গলা খাকরালেন। আর ছুটে বেরেলো একজন। পেছন পেছন ছুটেছিলেন গুঙি। ধরতে পারেন নি।

চারপাশে খোঁজা হলো। পাওয়া গেলোনা কাউকে।

আঙ্কেল আন্টি রেগে আগুন। সব রাগ তাদের গুঙির উপর। মেয়েকে একা রেখে তিনি বাইরে গেছেন কেন! ইত্যাদি ইত্যাদি।

ঘটনা থিতিয়ে গেলো। এক এক করে ঘরে ঢুকলো সবাই। বাকি ঘুমটুকু ঘুমিয়ে নেবে।

আরিফ শুলো না। বসে থাকলো কিছুক্ষণ। তারপর পড়তে বসলো। পড়া কি তখন হওয়ার কথা? নানা হিসাব মেলাতে চেষ্টা করলো তাই। মিললো না কোনটাই।

বোমাটা ফাটলো পরদিন।

ফিরতে সন্ধ্যা হয়েছে। হাতমুখ ধুয়ে খেতে বসেছে ও। আন্টি এলেন। এবং চলে যেতে বললেন! কোন রাখঢাক না। সরাসরি। কাল সকালে যেনো আরিফকে আর এ বাসায় দেখা না যায়!

তার আর গুঙির ঘটনাটা জানতে পেরেছে নাকি? কিম্বা চিঠিটা.. না সেটা তো ছিঁড়েই ফেলেছে সে! তাহলে? যেখানে ব্যথা, সেখানেই হাত যায় মানুষের। অন্য কিছুর কথা মনে হলো না তার। তাই জানতে চাইলো কারণটা।

ন্যাকামো, এখন সাদু সাজা হচ্চে, ইত্যাদি বলে তেড়ে এলেন আঙ্কেল। মারবেন।

কে যেনো এসে ঠেকালো। ঘরে ঢুকিয়ে দিলো। দরজা আটকাতে বললো।

ভিতর থেকেই অনুনয় করলো ও। পরিস্থিতিটা বুঝতে বললো। কিন্তু সবাই অনড়। এখনই তার যাওয়া চায়। অগত্যা গুছিয়ে নিলো সব।

কদিন ধরে প্রাণ বেরিয়ে যাচ্ছিলো। চলে যাবে। চলে যাবে। আজ যেতেই হচ্ছে। কিন্তু এমন যাওয়া সে চায়নি। মাথায় পাহাড়। মুখে কালি। বুকে প্রশ্ন। কীভাবে কী হলো, কোথায় যাবে, কার কাছে যাবে, কেন যাবে। কিছুই জানে না। জানে শুধু যেতে হবে।

বাইরে মানুষের ভীড়। কথার চাষ হচ্ছে। এর ওর কথা জোড়া দিলো আরিফ। বোঝা গেলো কাহিনীটা।

সকাল থেকে লাবনীকে ধরেছে সবাই। কে ঢুকেছিলো তার ঘরে?

কিছুই বলছেনা সে। তালা দেয়া মুখ।

তখন গুঙিই ভরসা। সে তো দেখেছে শয়তানটাকে। হ্যাঁ। কিন্তু চিনতে পারেনি নাকি।

লাবনীকে মেরেছে তার বাপ। এবং মা। তেড়ে গেছে গুঙির দিকেও। দিনভর এই নাটকের শেষে মুখ খুলেছেন গুঙি। খুলতে বাধ্য হয়েছেন। মধ্যমা নাকে চেপে দেখানোর সময় যদিও বোঝা গেছে খুব সংকোচ হচ্ছে তার। কিন্তু অপরাধীকে চিনতে তাতে সমস্যা হয়নি কারো।

নিজের কানকে বিশ্বাস হলোনা আরিফের। চিৎকার করে উঠলো। ওঘরে যায়নি ও। অন্য কেউ গেছে। ফাঁসানো হচ্ছে ওকে। কিন্তু ধমকে উঠলো রফিক। শুধু সে মাস্টার, না হলে যা করেছে আরিফ, তার ঠ্যাং ভেঙে দেওয়াই রীতি। তাই কথা না বাড়িয়ে বেরিয়ে যাক সে। ভালোয় ভালোয়।

বের হয়ে যাচ্ছে আরিফ। লোকজন দাঁড়িয়ে আছে। চোখমুখ কঠিন সবার। ঘৃণাভরা। কে যেনো থুথুও ফেললো! গুঙিকে দেখা গেলোনা। কপাল ভালো। সামনে পেলে ছিঁড়েই ফেলতো আরিফ। খানকি মাগি! এমনভাবে ফাঁসালো তাকে!

সন্ধ্যা বুড়িয়ে গেছে। বন বাগান ছেড়ে পৌঁছে গেছে উঠোনে। ঘরে। ঘরের চালে। গায়ে তার ঘন ভারী আঁধার। থিক থিক করছে পঁচা কাদার মতো। আঁধার সাঁতরে পার হচ্ছে আরিফ। মুখে তার কলঙ্কের ভার। বুকে ক্ষোভ রাগ ঘৃণা। আর চোখে অনিশ্চিত পথ। পা দুটো উঠতে চাইছে না তাই। জোর করে চালাচ্ছে নিজেকে।

বিষোদগার ভেসে আসছে পেছন থেকে। মারমুখি আওয়াজ। এও ছিলো কপালে? মাথাটা কেটে পড়ছে না কেন ওর? এতটুকু প্রতিবাদও করতে পারেনি। দুষছে নিজেকে।

বাড়ির পিছনে জোড়া খেজুর গাছ। দুদিকে হেলে আছে। ওর ছায়াটা পার হয়েছে কি হয়নি, থমকে দাঁড়ালো ও। কী যেনো ভাবলো। ঝলমল করে উঠলো মুখটা। সে মুখ দেখাতে লজ্জ্বা নেই। সে মুখ নিয়ে আবার ফেরা যায়। নির্দোষ দাবি করা যায় নিজেকে। যাবে নাকি?

একমন বলছে হ্যাঁ। সবার থোতা মুখ ভোঁতা করা যাবে।

আর মন বলছে ফিরে আর কাজ নেই। মিথ্যেটা নিয়েই বাঁচুক ওরা।

একবার এদিকে তাকাচ্ছে। গায়ে গোবরের ঘুটে ধরে সেখানে দাঁড়িয়ে আছে ন্যাংটো ইটের বাড়িটা। আরবার ওদিকে তাকাচ্ছে। আঁধারালোকিত পথটা বয়ে গেছে সেদিকে। রঙের ঝড় তুলেছে জোনাকিরা।

দূরে, আকাশের গায়, তখন জ্বলজ্বল করছে একটি তারা। ওটা নাকি পথ চিনিয়ে নেয়। আরিফকে চেনাতে পারছেনা যদিও। ও তাই দাঁড়িয়েই আছে। কাঁধে ব্যাগ। দুই হাতে আরো দুটো। একটা বইয়ের। একটা কাপড়ের।

দেখে বোঝার উপায় নেই এটা পথের শুরু না শেষ।

বোঝা যাচ্ছে ও ঠিক করতে পারছেনা কী করবে। যাবে, না যাবে।




লেখক পরিচিতি
আশান উজ জামান

জন্ম ১৯৮৬ তে। খামারপাড়ায়। সোনানদীয়া গ্রাম। যশোর।

লেখাপড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

বাসা।

শিক্ষক, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

গল্পকার ও কবি।

প্রথম আলো তে তিনটা ছোটগল্প প্রকাশিত হয়েছে।







৭টি মন্তব্য:

  1. গল্পটার যে দিকটা আমাকে বেশি মুগ্ধ করেছে, তা এর নির্মেদ গদ্য। এর পাঠে যেন একটা ছন্দ আছে। যেন কোন চপল কিশোরী দাপাচ্ছে ঘরময়।

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. হ্যাঁ আমারো। ছেলেটা লেখে ভালো। ওর লেখা গুলোতে ধাঁধা থাকলেও সুখপাঠ্য।

      মুছুন
    2. ধন্যবাদ হাবিবুর রহমান

      মুছুন
  2. শুরুটা একেবারে নাটকীয়তার ছোঁয়া। পাঠককে কৌতুহলী করে রাখতে লেখকের মুন্সিয়ানা বরাবর। ওঁর 'দুই গল্প' বা 'ফাঁস'এ তেমনটিই দেখেছি। প্রত্যেকটা গল্পে কালে কালে লালিত পালিত পূজীত অভ্যাসের বা সামাজিক আচরণের আস্তরণ খুঁজে পাই। গুঙি'র আচরণ কিন্তু সামাজিক বাস্তবতার আরশি। এটাক অন্যায় বলুন ,পাপ বলুন আর ঘৃণা করুন সমাজ কিন্তু স্বামীবিহীন এ মহিলার আচরণের মতো আচরণ বহু বার দেখেছে। হাজার বার দেখেছে। অগনিত বার দেখেছে। যুগ যুগ ধরে দেখেছে। আরিফের কী দোষ? কোন দোষ ছিলো না। সর্বনাশটা করেছিলো রফিক। লেখক তাকে বাচিয়ে দিয়েছে। আরিফের প্রতি সহানুভূতী দেখাতে পাঠককুল মরিয়া হয়ে উঠবে। আহরে বেচারা না পেলো সু আশ্রয়, না পেলো লাবনীর ছোঁয়া! সব কিছু মিলিয়ে ছেলেটা অবহেলিত নায়কের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। লেখক পেরেছে। আরিফের মুখ দিয়ে " খানকি মাগী" সময়ের পরিস্থিতে বের হওয়া খুবই সম্ভব,খুব সম্ভব। ধন্যবাদ লেখকে এমন একটা সৃজনশীল গল্পউপহার দেবার জন্য। বিশেষ দ্রষ্টব্য- আমি আরিফ কিন্তু এ রকম নায়ক হতে চাইনি বলিয়া রাখলুম।

    উত্তরমুছুন
  3. খুব ভালো লাগলো গল্পটা। আপনার গল্প উপস্থাপনের ভঙিটাও বেশ দারুণ।

    উত্তরমুছুন
  4. অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। আপনার ভালো লেগেছে জেনে আনন্দিত হলাম। শুভ হোক আপনার। এবং সকলের।

    উত্তরমুছুন