রবিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

তমাল রায়'এর গল্প: পর্যটক


মানুষের কাছে থাকলে
মানুষ
পাখির কাছে থাকলে
পাখি
নদীর কাছে নদী
তানিয়ার কাছে কেউ নেই
তানিয়া নেই

ডক্টর অর্ক তো চেষ্টাই করেছে এত গুলো দিন। চিকিৎসক হয়ে মানুষের রোগ সারানোর আগে দরকার এ অসুস্থ সমাজটার চিকিৎসাটা জরুরী খুউব বলতেন মেডিকেল কলেজের ডাঃ ভৌমিক স্যার।
অর্ক জলের কাছে জল হয়ে উঠতে,পাহাড়ের কাছে ঋজু, তারপর যখন মরুভুমির কাছে এলো,ও থামেনি,ভয় পায় নি,যেমন হেঁটে চলতে হয় আর সব কিছু উপেক্ষা করে ও হেঁটে যাচ্ছিলো। রাত নামলে যখন পূর্ণ চাঁদের মায়ায় চারদিক টলমল ও চুপ করে ভাবছিল এই সুন্দর অথচ ভয়ানকের কথা।সে আকাশে মেঘ এসে পৌঁছলো,আর মেঘ অর্কর দিকে,অর্ক মেঘের দিকে অকিঞ্চিৎকর দৃষ্টি বিনিময়,পাশ দিয়ে ছুটে যাচ্ছে একের পর এক ক্যাকটাস বাহিনী,ও থামেনি প্রায় মূক,প্রায় অন্ধ এ পৃথিবীর বুকের ওপর পঁইত্রিশ বসন্ত কাটিয়ে ফেলা অর্ক যে কোনো প্রিয় সম্ভাষণেই সাড়া দিতে পারতো,দেবে কিভাবে? ভাসানের বাজনার মধ্যেই তো সে খুঁজতে বেরিয়েছিল পথ,কিন্তু তানিয়া,কোথায় সে??? তানিয়া- শুধু এক নাম ? রক্তে দোলাচল আনা এক চরম উষ্ণতা? গ্লাসে গ্লাসে উছলে পড়ছে তরল,যা কিছু রঙীন তবু রঙহীন এ দুনিয়ায় চিতাগ্নির কাছে দাঁড়িয়ে হাত সেঁকতে সেঁকতে অর্ক খোঁজ করেছে আজীবন প্রবাহমানতার বিরুদ্ধে যা কিছু উচ্চ যা কিছু সঠিক অথচ যা সাধারণ পাতি মধ্যবিত্ত এড়িয়ে যায়,সেই বিপ্লব অথবা প্রেমের। অর্কর হাতে তুলি, প্যালেটে আজ আর তেমন রঙ কই ! ওতো রঙেরই সন্ধানে.. টার্কিশ ব্লু গহীন অরণ্য , কি করে যেন ডার্ক ব্ল্যাকে কনভারসন প্রসেস এ... ক্যানভাসে ধীরে অরণ্যের মধ্যেই নির্মাণ হচ্ছিল উঁচু উঁচু পাহাড়,আর ধূসর গিরিপথ ।

একদিন দেখা হবে,পালাবার পথ নেই। ‘এসো সুসময় আয়ূস্মান হও’। অর্ক ক্যানভসের গিরিপথে পা রেখেই বুঝেছিলো এ যাত্রা আদতে সময় থেকে সময়ের মধ্যে অন্তর্গত যাত্রা। ও আঁকছিলো সেতু।অতীত আর বর্তমানের,ভালো বা মন্দের মধ্যে কানা উঁচু জেগে থাকা এই কচ্ছপের পিঠে অতি সন্তর্পনে এগিয়ে চলেছিল । ক্যানভাসে মেঘ নামছে,মেঘের আড়াল থেকে ভেসে আসছে কোনো এক বিপজ্জনক আলো হাতছানি,আলোর বুদবুদ দু হাত দিয়ে ধরতে খিলানের পর খিলান ভাঙ্গতে অর্ক শরীর কে হালকা করে আনলো,রক্তের ছলাৎ শব্দ ভেসে আসছে,পর্যটক নাকি শরণার্থী নাকি মেঘ,দ্রিদিম দ্রিদিম শব্দ-আফ্রিকা আফ্রিকা... অর্ক ভেসে উঠছে ওপরে...প্রেম নাকি রক্ত নাকি বিপ্লব অর্ক ওপরে উঠছে,নিহিত কিছু আসন্ন মুহুর্ত কে স্পর্শ করতে একটা ছোট জার্ক,আর অর্ক এখন মেঘের মাঝে,মেঘের কাছে থাকলে মেঘ...চরৈবতী।



একটু আগেই অর্ক সাক্ষী ছিল এক দৃশ্যের ।এ জীবন আদতে এক কার্নিভাল। সেখানে সবাই যার যার খেলা,আর খেলনার পসরা নিয়ে হাজির হয়। অর্ক তাকিয়ে ছিল সেই পাগড়ীপরা গুঁফো লোকটার দিকে,যে আগুণের খেলা দেখাচ্ছিল। মুখে কি এক তরল পুরলো,হাতে জ্বলন্ত মশাল। হাতের আগুণটা মুখের কাছে নিয়ে এলো। মুখ দিয়ে মুখের মধ্যে রাখা তরল ছুঁড়ে দিল বাতাসে,বেরিয়ে আসছে আগুণ,অনেকটা উঁচু হয়ে সে আগুণ আবার মিলিয়ে যাচ্ছে। আগুণ তো আগুণই। আর তাতে আগ্রহ খুব জনগণের। তাই খুব ভীড়। একটা বামন এগিয়ে এলো তার কাছে, গুঁফো লম্বা সে বামনের দিকেও আগুণ ছুঁড়লো। বামনদেরই তো পৃথিবী! তাদের বুদ্ধি প্রবল। বামন দূর থেকে ছুঁড়ে দিল লজেন্স না চিউংগামের মত কি একটা। আগুণমুখো লোকটার মুখে গিয়ে তা পড়ল,অবাক কান্ড ! আর আগুণ নেই,এবার বরফ বেরোচ্ছে। বাকি লোক অবাক হয়ে দেখছে। কি করবে এবার প্রমিথিউস? বরফ দুনিয়ার নির্মাণ দেখবে? অর্ক চড়ে বসেছে কোনো এক মেঘ বাহনে। অন্য মেঘেদের পাশা পাশি সেও ভাসছে। নীচের শহর এখন এক অমোঘ ঘুমে,এক প্রবল আচ্ছন্নতায়,এখন বা এই সমস্ত বেঁচে থাকা কাল জুড়ে সে এমনটাই দেখে এসেছে। হ্যাঁ অর্কর শহর ঘুমন্ত। প্রবল নিদ্রায় আছন্ন। অর্কর কি আদতে নিজের কোনো শহর আছে? লুনার,লুনাসি,লুনাটিক অর্ক এখন ভাসতে ভাসতে চাঁদের থেকে একটু দূরে, চাঁদ কে পাশে রেখে মেঘবাহনে চড়ে ও ভেসে চলেছে কোনো এক অনিয়ন্ত্রিত দূরত্বে। সেখানে পৌঁছনো জরুরী কিনা অর্কর জানা নেই। কেবল এ যাত্রায় তার মাথায় রয়েছে এক ঘুমের দেশ থেকে এক জাগ্রত দেশ বা সময়ে তার এ যাত্রা,তা সফল বা ব্যর্থ,সে কথা আগামী বলবে,আপাতত চরৈবতি...

ওয়ান্ডারল্যান্ডের এলিস সে নয়, হুএন সান নয়,অতীশ দীপঙ্কর বা কলম্বাস ও সে নয়। সে পর্যটক না শরণার্থী তাও অর্ক ভালো বোঝে না। কেবল জানে এ তার প্রবল এক তাগিদ যা বেশ কিছুদিন ধরে নিজের ভেতর অনুভব করছিল। অঙ্ক টঙ্ক নয় জীবন হবে কবিতার মত,পাগলের মত,হিসেব কষবে আর্যভট্ট,ফুকো,দেরিদা, অর্কর কি দায় হে। সে আপাতত নতুন মিলেনিয়ামের টাইম ফ্রেমে,সন ২০০০ এর দরজায় খট খটানো নেই, স্রেফ ঢুকে পড়া। না হাই, না হ্যালো, আপাতত এই ফ্রেমে এক ধুতি পড়া অভিজাত পলিতকেশ প্রবীণের বাঙলায় অর্ক। নীচে কেমন যেন ঘোলাজল,গঙ্গা? নাকি অন্যকিছু ? বুঝছে না ঠিক। সিনেমার পোস্টারের মত লাগছে সব।কেমন যেন ফিকে লাল নীচটা। বুঝছেনা ঠিক অর্ক কি ও কেন। বিশাল লাইন। মেঘ একটা জার্ক মেরে নীচে নামলো। একটা ঘচাং শব্দ ,আর মেঘ দাঁড়িয়ে গেল জলে ভাসা ধানক্ষেতের ওপর। সেপ্টেম্বর মাস। এত জল! আর অত জলের মধ্যেও ফিকে লাল পতাকা পোঁতা। কে কিভাবে পুঁতলো এত জলের মধ্যে কে জানে,বাপরে। ধুর! নিজেকে চাঁটি মারতে ইচ্ছে করে।এ তো আর নদী নয়।নদীর জল এসে ভাসিয়েছে আশপাশ সব। অর্ক এখন সূক্ষদেহী।কেউ ওকে দেখতেও পায় না।ফলে ওর সুবিধাই হয়েছে। ও ধাঁই করে চলে গেল একটা মুদির দোকানে। সেখানেও দোকানের নীচ অবধি জল ঘাই মারছে,দোকানের চাতাল টায়।দু একজন লোক দাঁড়িয়ে,মাল পত্তর কিছুই নেই। একটা খবরের কাগজ এর পাতা গুলো আপন মনে উড়ছে। কাগজটা উড়ে এসে পড়ল অর্কর কাছে।দোকানীর ভ্রুক্ষেপ নেই। প্রথম থেকে আটের পাতা অবধি শুধু বন্যার খবর। ৯০৮ জন মারা গেছেন এখন অবধি। বুড়ো রাজা বলেন কম,তিনি যত না বলেন তার থেকে অনেক বলেন পারিষদ। ডায়ালগ তারাই দেয়। -আমরা এত্ত এত্ত ত্রাণ দিয়ে চলেছি,অমুক ত্রাণ,তমুক জায়গায়,আমাদের কমরেডরা দিন রাত পরিশ্রম করছে,ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে। হারাধন সামন্ত ,দোকানীর নাম। অর্ক এ গুণটা রপ্ত করেছে ভালোই, নাম ধাম জেনে নিতে পারছে দিব্যি। -অনুকুল মিদ্যা,পরেশ মিশ্র,আর মধু দিন্দার সাথে আলাপ করতে অর্ক দেহ ধারণ করল।

- ত্রাণ পাচ্ছেন ? মধু বলল- না ,শালার দল নিজেরাই সব খেয়ে দেয়ে শেষ করে দেয়,এত দূর তেরাণ এসে পোছয় না’কি । তা আপনি কে? আপনারে তো দেখিনি আগে। অর্ক বললো – তা অই বুড়া কি কয়? হারাধন জিভ কাটছে।বলে - না উনি একে বড় মানুষ তায় সাহেব।আর বাপ জেঠার মুকে শুনেছি উনার মত মানুষ হয় না।উনি মিথ্যে বলতি পারেন? পাজি হল উনার হালার কমরেড রা। তারা সব লুটে পুটে নিতিছে। অর্ক মুখ ফসকে বলে ফেলল – তো চলেন আমরা প্রতিবাদ করি,যাবেন? ওরা পেত্থমে কিছু বলল না, কেবল অনুকুল মিদ্যা বলল - ‘যাবো তো কিন্তু আর কেউ কি যাবে?’ অর্ক বলল- আর কেউ না গেলে যাবেন না? ওরাও যদি একই কথা বলে,তাহলে?

ভীড় বাড়ছিলো আসতে আসতে, যারা ত্রাণ পায়নি ঘোট পাকাতে পাকাতে এদিক পানেই আসছিল, তারা ও ভীড়ে গেল ওদের সাথে। ভীড় বাড়ছে,কমরেডদের নেটওয়ার্ক প্রবল,খবর পেয়েছে। তিন জন এসে পুরো পরিস্থিতি জরিপ করে একবার ঘুরে গেল । এবার বেশ বড় দল একটা এলো। এসেই অর্কর কলারে হাত,অর্ক মিটি মিটি হাসছে, অর্ক কে মারতে শুরু করল, অর্ক হাসছে।পরেশ মিশ্র প্রথম প্রতিবাদ করল- ‘কি হল এনাকে মারছ কেন,ইনি কি করেছেন?’ পরেশের দেখা দেখি বাকিরাও গলা মেলাচ্ছে,এবার ভয় পেয়েছে পচা কমরেড গুলো। পালাচ্ছে। আর পরেশ এর নেতৃত্বে একটা দল এগিয়ে চলেছে রিলিফ বাবু দের ক্যাম্পের দিকে। অর্ক হাসছে, ওর এখন তানিয়াকে খুঁজতে হবে মেলা কাজ বাকি,

পাগলী তোমার সঙ্গে মাংস ভাত জীবন কাটাব,ঝোল ভাত কাটাবো জীবন।তানিয়া তুমি কোথায়?

মাঝে মাঝে এই বাংলা দেশ কে বড় অসহায় লাগে এই ২০০০এও। নিজের জীবন ,বীজের জীবন নিয়েই তো ব্যস্ততা। তবু মানুষের দুঃখ কে অনুভব করার নাম ও তো জীবন। ইলেকশন তো কবেই ধুয়ে মুছে গেছে,যা পড়ে আছে তা সিলেকশন। শাসকের কেবল ভোটের আগে মনে হয় প্রজার কথা,বাকি পাঁচ বছর নিজের কথাই ভাবলে ক্ষতি কই ! টাকার গদি,বাড়ি গাড়ি। অর্কর কেবল হাসি পায় খুব। কেবল লাল পতাকা কে আজ জলের মধ্যে দেখে হাসি পেয়েছিলো অর্কর। ফিকে লাল । আহারে ।সত্যি বোধ হয় জলেই নইলে মানুষের রক্তের রঙ এত ফিকে হয় না’কি। এখন প্রচূর লোক দলে দলে চলেছে নদীর ধারে। চোয়াল শক্ত হল অর্কর । এত লোক এইটুকু ত্রাণ! ভন্ডামী আর ভন্ডামী। কই কোনো জেশাশ আছে নাকি এই ত্রাণ ভুটভুটিতে? যেমন একটুকরো রুটি আর দুটো মাছ দিয়ে জেশাস সক্কল কে খাইয়ে দিয়েছিলেন। আছে কোনো অলৌকিক? মানুষ কি কুকুর? যে কামড়া কামড়ি করে একে ঠেলে ওকে সরিয়ে নিজের টা বুঝে নেবে। শাসক তার প্রজা কে যে দেশে এমন চোখে দেখে সে লাল হোক বা নীল সে দেশ বড় অমঙ্গলের ধ্বজাবাহী। অর্কর মন খারাপ হচ্ছে এবার, আবার সূক্ষদেহী হও অর্ক,ওপরে ওঠো অনেক কাজ। কিন্তু তানিয়া কই?

অর্ক ওপরে উঠছে,বন্যার জল বাড়ছে প্রবল। বাড়ির ছাদে ছাদে ও মানুষ। মন্ডল পাড়ার বাড়ির ছাদে দেখল কয়েকটি শিশুর সাথে গোটা পাঁচ গোরু আর এক যুবতীও। শিশুরা কাঁদছে খিদেয়,নাক দিয়ে সিকনি পড়ছে, আর এক যুবতী এক মনে নীচের জলের দিকে চেয়ে আনমনে কি বিড় বিড় করছে। কি বলছে কবিতা? কেমন যেন মন উদাস হল, বুকের মধ্যে কি যেন কষ্ট। নেমে এলো যুবতীর কাছে।মেয়েটি একটা কাটি দিয়ে শ্যাওলা পড়া ছাদে কার যেন মুখ আঁকছে,পারছে না,আবার আঁকছে আর কেটে দিচ্ছে বার বার কাঠি দিয়েই। অর্ক ওর চুলে ফুঁ দিইয়ে ডাকলো – তানিয়া। এলো চুল উড়ছে,মেয়েটির শুকনো ঠোঁটে আলতো হাসি খেলা করছে, অর্ক ওকে ডাকলো – পাগলী তুমি কি খুব কষ্টে আছো? মেয়েটি মুখ তুলে তাকালো,কাউকে খুঁজে পেলো না। দু হাত দিয়ে চুল ঠিক করছে নিজের। কি জানি কেন সম্মতি সূচক মাথা নাড়ল। পাগলী এ নাও আমার উত্তাপ নাও এত জল চারদিক জুড়ে, উষ্ণতা না থাকলে কি করে বাঁচবে,কিভাবে বাঁচাবে?

অশান্তি চরমে তুলব,কাকচিল বসবে না বাড়িতে
তুমি ছুঁড়বে থালা বাটি,আমি ভাঙব কাঁচের বাসন
পাগলী বঙ্গভঙ্গ জীবন কাটাব
পাগলী তোমার সঙ্গে ৪২ কাটাব জীবন।

কি জানি কেন মনে হল এ লাইন গুলোই। তোমায় ছেড়ে চলে আমি যাইনিগো,গেছিলাম কাজে, তোমার জন্যই তো এতগুলো দিন অরণ্যবাসী আমি, ‘এসো সুসময় আয়ুস্মান হও’। কষ্টে তুমি খুব ? তানিয়া @লিয়াস পাগলী উত্তর করল না। অর্ক বিড় বিড় করল পাগলী তুমি কষ্টে থাকবে,আর রাণাঘাটের কবি তোমায় নিয়ে কবিতা লিখে একাডেমি পুরস্কৃত হয়ে রাজধানীতে সেটলড হবে। সিনিয়র মেঘ এর দল এবার অর্ক কে হাঁক মারছে ।অর্ক বুঝলো ও বোধ হয় বেশী ইমোশনাল হয়ে পড়ছে। অর্কর মেঘ ্রখন অটোমোডে ,আবার ফ্লাইট নিলো। উঁচু তে উঠছে আরো,ওরা ভেসে চলেছে পূব দিকে।আসন্ন সূর্যের দেশে...

‘প্রেম বা বিপ্লব তো আর গাছে ধরা আপেল নয় যে পাকবে আর পড়বে, বিপ্লব অর্জন করতে হয়।”

মেধা,শ্রম,আত্মত্যাগ আর ক্রমিক অধ্যবসায়ই কেবল তাকে অর্জন করার পথ।



‘নতজানু হয়ে সারা জীবন বাঁচার চেয়ে আমি এখনই মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত’

এ জীবন আদতে এক কার্নিভাল। সেখানে সবাই যার যার খেলা,আর খেলনার পসরা নিয়ে হাজির হয়। অর্ক তাকিয়ে ছিল সেই পাগড়ীপরা গুঁফো লোকটার দিকে,যে আগুণের খেলা দেখাচ্ছিল। মুখে কি এক তরল পুরলো,হাতে জ্বলন্ত মশাল। হাতের আগুণটা মুখের কাছে নিয়ে এলো। মুখ দিয়ে মুখের মধ্যে রাখা তরল ছুঁড়ে দিল বাতাসে,বেরিয়ে আসছে আগুণ,অনেকটা উঁচু হয়ে সে আগুণ আবার মিলিয়ে যাচ্ছে। আগুণ তো আগুণই। আর তাতে আগ্রহ খুব জনগণের। তাই খুব ভীড়। একটা বামন এগিয়ে এলো তার কাছে, গুঁফো লম্বা সে বামনের দিকেও আগুণ ছুঁড়লো। বামনদেরই তো পৃথিবী! তাদের বুদ্ধি প্রবল। বামন দূর থেকে ছুঁড়ে দিল লজেন্স না চিউংগামের মত কি একটা। আগুণমুখো লোকটার মুখে গিয়ে তা পড়ল,অবাক কান্ড ! আর আগুণ নেই,এবার বরফ বেরোচ্ছে। বাকি লোক অবাক হয়ে দেখছে। কি করবে এবার প্রমিথিউস? বরফ দুনিয়ার নির্মাণ দেখবে? শিরদাঁড়া বেয়ে ঠান্ডা নেমে যায়। ভয় লাগে।

ডক্টর অর্ক এমনটাই বিশ্বাস করে। আর তাই মেরুদন্ড সোজা করার প্রস্তুতিতে...এখানে কিছু নেই, না নদী না পাহাড় না সমুদ্র। এটা কি তাহলে ‘নেই’ রাজ্য? সোজা সাপটা কথা বলাও নেই। অর্কর মেঘ-ক্যাব এখন দাঁড়িয়ে ২০৩৫ এর আকাশের ওপর। আকাশ ভরা সূর্য তারা অবশ্য আছে। স্পষ্টত একটা মুন বিম এর ল্যাডার বেয়ে অর্ক নেমে এলো আলিপুর রোডের অপরাজিতা এপার্টমেন্ট এর ২০ তলায়,এক বাঙালী বিজ্ঞানীর আবিষ্কার এই মুন বিম ল্যাডার। সেই যখন অপ্রচলিত শক্তি নিয়ে জোরদার গবেষণা শুরু হল ২০২৭ এর শেষের দিকে,তখন তিনি মুন বিম নিয়ে লড়ে যাচ্ছিলেন। এখন অর্ক আলিপুর রোডের এই ফ্ল্যাটের আঠারো তলায় । জানলার ধারে হাল্কা আলো,আর লাইট ব্লুজ ভেসে আসছে। ঘরে বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষ জনা ছয়েক। তারা পরস্পরের দিকে পেছন ফিরে যে যার মোবাইল স্ক্রীন এ ব্যস্ত। আই জেনারেশন শেষে এটা কিউ জেনারেশন -ফোর ফোন। কোয়ান্টাম থিওরির ওপর লেটেস্ট গবেষণা ঋদ্ধ এই ফোনে ট্র্যাকার শুধু নেই, সেই সময়ে ইউজার এর মুড ও ইউজার এর ইমোশনাল ওয়েদার ও এই ফোন প্রেডিক্ট করে দেয়। বলে নেওয়া ভালো রাষ্ট্রিয় পরিসংখ্যান পরিষদ এর শেষ সার্ভে রিপোর্ট অনুযায়ী দুই বা তিন অক্ষর বিশিষ্ট নামের অধিক অক্ষর বাড়তি বলে পরিগণিত হওয়ায় শবনম এর নাম শব,অলোকপর্ণা - অলো এভাবেই এই ঘরের ও সবাই দুই বা তিন এ সীমায়িত। এটা যার ফ্ল্যাট তার নাম আসলে কুলদারঞ্জন সমাদ্দার হলেও তাকে সবাই কুল বলেই ডাকে। তিনি অবশ্য সত্যিই কুল। যদিও গত ক’দিন খুব ডিসটার্বড তিনি। কুলের স্ত্রী হলেন,(এখনো স্ত্রী কনসেপ্ট ওঠেনি, তবে উঠবে উঠবে করছে) পর্ণমোচী। তাকে শ্বাভাবিক ভাবেই পর্ণ বলে ডাকা হয়। অবশ্য গুলিয়ে যাবার কোনো সম্ভাবনাও নেই,কারণ সেই পর্ণোগ্রাফি তো কবেই পানু। পর্নকে নিয়েই চিন্তিত তার বন্ধুরা আজ। বয়স বছর আটত্রিশ। মেনোপজ আসতে ঢের দেরী,তবু সে উদাসীন বেশ কিছুদিন যাবৎ। খায় না,ঘুমোয় না। কেবল গালে হাত দিয়ে ভাবে। সেই যে গ্লাসনস্ত পেরস্ত্রৈকা এলো। তারপর থেকেই তো রাষ্ট্র নয় ব্যক্তি এই তত্ত্ব চালু হয়েছিল তার আগে থেকেই মার্কিনি ভোগবাদের আদলে । এখন আবার ফিরে আসছে রাষ্ট্রের ক্ষমতা আবার। সেই যে বেলবটম,চোস্ত প্যান্ট ঘুরতে ঘুরতে আবার বেলবটম...এ অনেকটা তেমনই। রাষ্ট্র প্রবলতম উদ্বিগ্নতায় লক্ষ্য করেছে উদাসীনতা এক ভয়াবহ ভাইরাসের মতই সংক্রামিত করছে পাশের তার পাশের তার পাশের জনকেও। তাই কবিতা ও শিল্প চর্চার ওপর তারা আনতে চলেছে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা। আপাতত রাষ্ট্র যেভাবে তার মেসিনারি কাজে লাগায় সেভাবেই এই ঘরেও রয়েছে তাদের লোক। আর সেটা বাকিরা অবশ্য জানেনা । ইনটেলিজেন্স সার্ভিসে আছে কুল এর বন্ধু আন @লিয়াস আনন্দময়, সে এই খবরটা প্রথম জানায় কুল কে। কারণ পর্নোর সাথে তার একটা চম্পুক্রীড়ার সম্পর্ক আছে(এক্সট্রা ম্যারিটালকে এখন এ নামে ডাকা হয়)। সো ,সে কুল কে খবর দেয়। আর তাই আজ পার্টির নামে,এক সাথে বসা। আর ওরা সতর্ক ও। যে যে কোনো মুহুর্তে স্টেট তার লোক পাঠিয়ে ধরে নিয়ে যাবে পর্ন কে। তাই অর্ক ঢুকতে – ‘হ্যান্ডস আপ’। অর্ক ভ্রুক্ষেপ করেনি। কিন্তু ও খুব জোরসে বলে চলছিল - নিভন্ত এই চুল্লী তে মা একটু আগুণ দে,আর একটু ক্ষণ বেঁচেই থাকি বাঁচার আনন্দে’। বাকিরা কিছু বোঝেনি কে, কি বা কার। বোঝার কথাও নয়। কেবল পর্ণ তাকিয়ে ছিল স্থির দৃষ্টিতে। অর্ক এলো। ডাকলো – তানিয়া। তানিয়া @লিয়াস পর্ণ হাত বাড়ালো । অর্কর হাত ধরল। এবার ফ্যান্টমের মতই তাকে পাঁজাকোলা করে ঝাঁপ দিলো শূন্যে। আর ভ্যানিস। ও আর পর্ণ উড়ে চলেছে আকাশে। নীচ থেকে রাষ্ট্রিয় চাকর বাহিনী গুলি চালাচ্ছে। কিন্তু কিছুই হচ্ছে না। পাখিরা পাখিই,সে তুমি মারো আর যতই ধরার চেষ্টা কর।

তানিয়া এখন মেঘের সাদা ক্যানভাসে লিখে চলেছে তার কবিতা। উড়িয়ে দিচ্ছে আকাশে। ডক্টর অর্ক তানিয়াকে নিয়ে ভেসে চলেছে আর্জেন্টিনা থেকে কঙ্গো হয়ে বলিভিয়ার পথে। ভেসে চলেছে কোলকাতা থেকে বীরভূম,বাঁকুড়া । পাখীর মত সে কবিতা ডানা মেলছে । স্টেটের ডেঞ্জার র‍্যাডারে তা ধরা পড়েনি তেমনটা নয়,তবু অর্ক হাসছে। এ তো ঠিক কবিতা নয়,আগুণের গোলা, প্রমিথিউস এর কাছ থেকেই তো শেখা এই আগুণের ব্যবহার,সে কি পরাক্রমশালী জিউস কে ভয় পেয়েছিলো? তাহলে অর্ক কেন পাবে, অর্ক যেখান দিয়ে ভাসছে সেখানে বাতাস কম। নট লাইক ফ্রিজিং তবে টেম্পারেচার বেশ কম, তবু ঘাম দিচ্ছে তার,হাতে ধরা পর্ণর হাত, আর হাতে হাত রাখলেই তো জন্ম হয় উষ্ণতার। আর পর্ণর হাতে ধরা নিষিদ্ধ ইস্তেহার,যেখানে পড়বে সেখানেই তো আগুণ জ্বলবে। জ্বলুক আগুণ।

কি অদ্ভূত পর্ণ এখন চলে যেতে চাইছে। মানুষ কি তাহলে প্রকৃত চাকর হয়েই থাকতে ভালবাসে? অর্ক হাসলো। এ হলোস্টিক ড্রামাবেস-এ কোনো কিছুই কি পার্মানেন্ট? অর্ক এখানে বিশুদ্ধ তেঁতুলের আচারের মতই ক্যাটালিস্ট মাত্র। অর্ক মুনবিম ল্যাডার বেয়ে ওকে নামিয়ে দিলো ফ্ল্যাটে। ওপর থেকে অর্ক দেখতে পাচ্ছে পর্ণ স্বসল্পকালীন ইতস্ততার পর মিশে গেল বাকি পাঁচের সাথে। তার শরীরও দুলতে শুরু করল ব্লুজ এর সাথে। মানুষ বা কুকুরের এই শুধু আপনারটুকু বোঝার হীন ফিলিংটা এখনো যায়নি,যায়নি দুর্বল কে সরিয়ে সবলের বেশী রুটি খাবার গল্পটাও। রাষ্ট্র হল এইসব মানুষ বা কুকুরদের সর্দার,সেও তো সুবিধা নিতেই চায়,আর কি। পর্ণ এখন ক্ষমা চাইছে । বলে নিচ্ছে ভুল করেছিল ও। না মুখে বললে হবে না,তাই ওকে সোসাল সাইটে হলফ নামাও দিতে হল। এটাই দস্তুর। রাষ্ট্রও হাঁফ ছেড়ে বাঁচল।

অর্কর মেঘ উড়লো আবার। পর্ণ আকাশের দিকে চেয়ে। চোখে জল।

অর্ক কি প্রেমে না’কি আগুণে? ও উড়তে উড়তে বিড়বিড় করছে,-নিভন্ত এই চুল্লীতে মা একটু আগুণ দে...রাষ্ট্রের সাশেপটিবল অডিও এনালিসিস সেন্টারে ভেসে আসছে বিপ-বিপ-বিপ বিপদ সঙ্কেত। চিফ এনালিস্ট কেন যে কলম আর কাগজ খুঁজছে ! আর্কাইভ থেকে নিয়ে আসতে হল,২০২৫ এ পেপার এবং কলম, সে ডট বা জেল বাতিল বলে ঘোষণা হয়েছিল। তিনি এখন কি সব লিখছেন। সহকারী এনালিস্ট কিন্তু এলার্টেড। পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন,ডেকে নিয়েছেন চিকিৎসক। প্রয়োজনে বিকৃত মস্তিষ্ক আখ্যা দেওয়া হবে। র‍্যাডারের এরিয়ার বাইরে চলে গেল অর্ক। এখন মেঘে মেঘে বিদ্যুৎ এর আঁকিবুকি।

‘প্রেম বা বিপ্লব তো আর গাছে ধরা আপেল নয় যে পাকবে আর পড়বে, বিপ্লব অর্জন করতে হয়।

অর্ক বলছিল –‘চুড়ান্ত বিজয় অর্জিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত লড়াই, সবসময়।”



কে যেন বলেছিল জীবন আসলে বাঁধা পাকস্থলীতে,সে কথা অর্ক মানে না,ও বলে জীবন আদতে এক কার্নিভাল। সেখানে সবাই যার যার খেলা,আর খেলনার পসরা নিয়ে হাজির হয়। অর্ক তাকিয়ে ছিল সেই পাগড়ীপরা গুঁফো লোকটার দিকে,যে আগুণের খেলা দেখাচ্ছিল। মুখে কি এক তরল পুরলো,হাতে জ্বলন্ত মশাল। হাতের আগুণটা মুখের কাছে নিয়ে এলো। মুখ দিয়ে মুখের মধ্যে রাখা তরল ছুঁড়ে দিল বাতাসে,বেরিয়ে আসছে আগুণ,অনেকটা উঁচু হয়ে সে আগুণ আবার মিলিয়ে যাচ্ছে। আগুণ তো আগুণই। আর তাতে আগ্রহ খুব জনগণের। তাই খুব ভীড়। একটা বামন এগিয়ে এলো তার কাছে, গুঁফো লম্বা সে বামনের দিকেও আগুণ ছুঁড়লো। বামনদেরই তো পৃথিবী! তাদের বুদ্ধি প্রবল। বামন দূর থেকে ছুঁড়ে দিল লজেন্স না চিউংগামের মত কি একটা। আগুণমুখো লোকটার মুখে গিয়ে তা পড়ল,অবাক কান্ড ! আর আগুণ নেই,এবার বরফ বেরোচ্ছে। বাকি লোক অবাক হয়ে দেখছে। কি করবে এবার প্রমিথিউস? বরফ দুনিয়ার নির্মাণ দেখবে? শিরদাঁড়া বেয়ে ঠান্ডা নেমে যায়। ভয় লাগে।

‘আমি জানি তুমি আমাকে হত্যা করতে এসেছো, গুলি করো কাপুরুষ, তুমি শুধু একজন মানুষকেই হত্যা করবে (তার বিপ্লবী চেতনাকে নয়)’।

অর্ক তো তাই বিশ্বাস করে। আর তাই ও এখন উড়তে উড়তে সাতষট্টির দরজায়।

এখন উড়তে উড়তে সরু সব গলি আর তস্য গলির মাঝে। সেন বাড়ির রকে বসে অর্ক আড্ডা মারল, ফেলুদা তখনো পূজোবার্ষিকী আনন্দমেলায় আসেননি, সানি গাভাসকার তখনও মাঠে নামেন নি। প্রবল দৈত্যসম পরাক্রমশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর মাঠে বেঁটে ভারতীয়র দৌরাত্ম্য দেখেনি পৃথিবী বাসী।তবু খেলা আছে,খেলোয়াড় আছে। ছ ফুটের ওপর লম্বা,ফর্সা ব্যারিস্টার সিধু বাবুর তখন ওয়ার্ম আপ প্রসেস চলছে। খেলাটা তিনি ও ভালোবাসেন। তিনি বামের জ্যোতি ও ডানের ইন্দিরার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বড় ম্যাচে নামার আগে যেমন ছোট ম্যাচ,যেমন চোখ কান খোলা রাখতে হয় তেমনটাই রাখা হচ্ছে। অজয় মুখুজ্জে অল্প কদিনের জন্য ক্যাপ্টেন। অনেক জলঘোলা।অনেক কিছু। র‍্যাডারে ধরা পড়ছে উত্তর বঙ্গ চা বাগান,সান্যাল,মজুমদার আর নকশাল বাড়ি। অর্ক উত্তরের চা বাগানের মাথায় এক চিলতে মেঘ হয়ে ঝুলে। রাত বাড়লে সেখানে লোকের আনাগোনা বাড়ে। অর্ক মিটি মিটি হাসে। কাট-পেস্ট তখনো শুরু হয়নি। অরিজিনাল কিছুর তখনও যে দাম দেয় আশপাশের মানুষ। অর্ক দেহ ধারণ করে ঢুকে পড়েছে ওই সব গোপন আস্তানায়,আর মিশে যাচ্ছে তাদের সাথে।ওর ও পাঠ হয়ে যাচ্ছে প্রবলতম বিপ্লবের। আর দেখতে পায়,ঢেউ উঠছে,কারা ভাঙ্গছে...এক ,দুই ,পাঁচ দশ জোড়া...পা বাড়ছে বাড়ছে।

সারা রাত পাহারা
আকাশ তার চোখ উল্টে দেখছে
কোথায় কোন গ্রামে
খানাতল্লাশীর রক্ত আর্তনাদ
কখনো তারায়
কখনো চাঁদের গায়ে লেগে
ফিরে আসছে পৃথিবীতে আজ আর ঘুম আসবে না

এখানে বলাবাহুল্য রঙের খুব প্রাচুর্য্য। অর্ক তো ঘুমায় না কতদিন। রঙ গুলো তার নিজস্য ড্যাব এন্ড ড্যাব প্রসেসে সমস্ত রেজোন্যান্স নিয়ে কেবল ওপর দিকে উঠছে। আর চার মৌলিক রঙের মিশ্রণে আরো কত রঙ, বহুদিন পর রঙিন লাগছে এই বাংলাকে। জায়গাটার সুবিধা এই যে প্রতিবেশী দেশ গুলো আর একটু দূরেই। ফলে এ এক বাফার জোন । পালানো বা অস্ত্র আমদানির সুবিধা আছে। অর্কর গা গরম হয়। প্রফুল্ল নামের এক জন ক্যাপ্টেন হল আর তাকে সরিয়ে আবার অজয়, টালমাটাল মাটি, দুলছে দেশ। পা এর সংখ্যা বাড়ছে উত্তরে,উত্তুরে হাওয়া ছড়াচ্ছে ধীরে ধীরে। এ উত্তুরে হাওয়ায় ঠান্ডা নয় গরম বেশী। অর্ক ঠিক ততটা নিরপেক্ষ নয়। রক্ত থাকলে তা গরম ও হয়।

অর্ক হেঁটে চলেছে সত্তর পেরিয়ে একাত্তরে । একাত্তুরে বুড়োর যা হয় আর কি। নড়বড় করছে সারাক্ষণ নাকি এ আসলে নতুন কিছু ঘটতে চলার পূর্বাভাস। পৃথিবীর ইতিহাস মনে পড়ে অর্কর। যখনই মাৎসন্যায় অবস্থা চলেছে তখনই নতুন কোনো শক্তির উত্থান। আর শাসকের দাঁত নখ, সেভাবেই ক্যাপ্টেন সিধুর আগমন। অর্ক কে মেঘেরা, ডাকে অর্ক চল। অর্ক তখন নেশায় মেতেছে । উত্তর থেকে অর্কর মেঘ তখন উড়ছে কোলকাতার গলির গলি তস্য গলির ওপর। ও টুপ করে নেমে পড়ছে একফাঁকে। গলি গলিতে তখন যুদ্ধ,বরানগর- বেলঘরিয়া- সোদপুর - সিঁথি রক্তে ভাসছে চারদিক । সন্ধ্যের পর কেউ বাইরে থাকেনা। কাঁপছে গোটা অঞ্চল। শাসক আরো নখ দাঁত বার করছে। পুলিশরা সব ফুলিশ হয়ে গেল নাকি ভাবছিল অর্ক। পরে মাথায় এলো পুলিশ তো আসলে রাজ পেয়াদা। রাজার নির্দেশ ক্যারি করাই তার একমাত্র কাজ। অর্ক ইতিমধ্যে একদিন লাল পতাকার মিছিলে হেঁটেও ফেললো। সাথে ভাবছে এত রক্ত ঝরা ও কি ঠিক। কিন্তু রক্ত না ঝড়লেও কি সে আসে যার অপেক্ষায় এতগুলো দিন। আর এই এক জাত,এক হতেও পারেনা কখনো। এত গ্রুপ,দলাদলি। অর্কর কাছেও অন্য দল থেকে প্রস্তাব এলো সেই দলে যাবার। যা ভেবেছিল নতুন কিছু শুরু হয়েই আবার ধোঁয়াশা আক্রান্ত। কথা হচ্ছে কই, হতাশ লাগছে এবার। কিন্তু তা লাগতে দিলে তো চলবে না। ক্যাপ্টেন সিধু কি একটা রুনু না কাকে নিয়ে শুরু করল সাঁড়াশি আক্রমণ। সব ঠান্ডা হয়ে আসছে। কাঁটা দিয়ে কাঁতা তোলার পুরনো খেলা। আর যে ভাল লাগছে না। এবার পালাতে হবে। কেবল মনে ধরেছে রক্ত সূর্য ওঠার সপ্নে বিভোর তানিয়া @লিয়াস মাধবীলতা কে। অর্কর সাথে ওর আলাপ হল কলেজস্ট্রীটের বসন্ত কেবিনে। অর্ক ওর চোখে তাকিয়ে বুঝতে চাইছিল হে প্রেম হে নৈশব্দকে। ‘নীরবতা একধরনের যুক্তি যা গভীর তথ্য বহন করে’

ডক্টর এখানে বুঝতে চাইছিলো আসন্ন আগামীর ভবিষ্যৎ। বড় শূন্য দৃষ্টিময় সে চক্ষুযুগল ছিল ব্যথায় ভরা।কিন্তু অর্ক ? সেতো তার শরীর আর আত্মার খোলস নিয়ে এই স্পর্ধার সত্তরে। কেবল ঘুম আসছে না। এত রক্ত কেন বলে ও চীৎকার করেনি তা বলে। রাস্তা গুলো সব কিউবান রাস্তার মত লাগে। সিঁথি বা সোদপুর কি তবে বলিভিয়ার জঙ্গল, অর্ক গাছে হেলান দিয়ে বসে কবিতা লেখে। বাকিরা শোনে। আর তানিয়া @ মাধবীলতা? কোথায় পথ হারালো? তানিয়ার প্রতি এ মোহ কি আদতে ব্যক্তির প্রতি প্রেম? না’কি সমষ্টির প্রতি প্রেম । নইলে বাঁচা কেন হে। উত্তর না দক্ষিন? এ প্রশ্ন আর তার উত্তর ভাববে সাবধানী পলিতকেশ,তারুণ্য তো শোনে ফুটন্ত রক্তের গান। অর্কর কানে ভেসে আসছে – দীর্ঘদূর যাত্রায় কিসের ভয়,এগিয়ে চল...

আমি থমকে দাঁড়ালাম
ওরা কি আগুণ জ্বালিয়েছে
এমন সাঁঝবেলায় আমার,বলতে হবে
বাইরে নয়
আগুণ গুলো ভেতরে জ্বালাও।

বারাসতের কাছাড়ি ময়দানে ওরা পেছন থেকে গুলি চালালো ,অর্কও ছিল সে প্রিজন ভ্যানে। না ও দৌড়য়নি বাকিদের মত। বন্ধুদের ভ্যান থেকে নামানোর আগে বলা হয়েছিল - যাও পালাও। ওরা একটু থমকে গেছিল প্রথমবার,তারপর দৌড়, হয়ত বলিভিয়ার জঙ্গলের দিকে ছিল সে দৌড়, যারা ভাবছে এ দৌড় মিথ্যে ছিল তাদের উদ্দ্যেশ্যে অর্কর মেঘ উড়াল দেবার আগে আবার বলল- আজ আর ঘুম আসবে না। জেগে থেকো তানিয়া জেগে থেকো মাধবীলতা।

‘বাস্তববাদী হও,’অসম্ভব’কে দাবী কর’

অসম্ভব শব্দটা বোকাদের অভিধানে থাকে। আর অসম্ভব কে অর্জন করতে লাগে সাহস।অর্ক সাহসী হতে চাইছে আরো। ‘হেই সামালো হেই সামালো... গান ভেসে আসছে।

‘প্রেম বা বিপ্লব তো আর গাছে ধরা আপেল নয় যে পাকবে আর পড়বে, বিপ্লব অর্জন করতে হয়। 



প্রতিটি পর্যটনের আগে যেমন অর্ক করে এবার ও তাই করলো। অর্ক জীবনকে আদতে কার্নিভালই ভাবে।

সেখানে সবাই যার যার খেলা,আর খেলনার পসরা নিয়ে হাজির হয়। অর্ক তাকিয়ে ছিল সেই পাগড়ীপরা গুঁফো লোকটার দিকে ,যে আগুণের খেলা দেখাচ্ছিল। মুখে কি একটা পুরলো,হাতে জ্বলন্ত মশাল। হাতের আগুণটা মুখের কাছে নিয়ে এলো। মুখ দিয়ে মুখের মধ্যে রাখা তরল ছুঁড়ে দিল বাতাসে,বেরিয়ে আসছে আগুণ,অনেকটা উঁচু হয়ে সে আগুণ আবার মিলিয়ে যাচ্ছে। আগুণ তো আগুণই। আর তাতে আগ্রহ খুব জনগণের।তাই খুব ভীড়। একটা বামন এগিয়ে এলো তার কাছে, সে বামনের দিকেও আগুণ ছুঁড়লো, বামনদেরই তো পৃথিবী। তাদের বুদ্ধি প্রবল।সে দূর থেকে ছুঁড়ে দিল।কি একটা আগুণমুখো লোকটার মুখে গিয়ে তা পড়ল,অবাক কান্ড।আর আগুণ নেই,এবার বরফ বেরোচ্ছে।বাকি লোক অবাক হয়ে দেখছে। কি করবে এবার প্রমিথিউস? বরফ দুনিয়ার নির্মাণ দেখবে?

”আমরা কিসের জন্য বাঁচব সেটা আমরা নিশ্চিত হতে পারি না যতক্ষণ না আমরা তার জন্য মরতে প্রস্তুত থাকি”

ডক্টর অর্ক প্রস্তুত। সে আপাতত সন ২০৬৫ এর দরজায় কড়া নাড়ছে। এ জীবনে আপাতত দীর্ঘশ্বাস এর কোনো স্থান নেই এই বাংলায়। অকেজো বাঙ্গালীকে আপাতত বাকী দুনিয়ার সাথে পাল্লা মেলাতে কেজো হতে হয়েছে,এটা এক ডিজিটাল দুনিয়া। অর্কর নিজের ও এখানে নাম নেই কোনো। সে এক ডিজিট মাত্র। এত নাম, পদবী নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় কই,তাই সে এক ডিজিট।মোবাইল এর যে নাম্বার দিয়ে ইবল(ible) একাউন্ট খোলা হয়েছিল,সেটিই তার পরিচয়। বলা হয়নি গুগল এর পর এসেছিল হুবল,তার নেক্সট জেনারেশন হল ইবল।মানে ধর তোমার নাম্বার ৯৮৭৪৮২৩৪৫১। তোমার নাম ধাম পরিচয় এখন ওই শেষ চারটে ডিজিট। মানে ৩৪৫১। প্রথম ৯৮ হল তোমার রাজ্যের পরিচয়। ও বলা হয়নি এটাও যে খন্ড বিখন্ড হতে হতে ভারত নামক রাষ্ট্র এখন ১০০টি রাজ্যে বিভক্ত,আর পশ্চিম বাংলা উন্নতির খতিয়ানে তলায় ঠেকতে ঠেকতে শেষের দুই আগে। এর পরের দুটি ডিজিট হল তোমার জেলার পরিচয়। এভাবেই এলাকার কোড। সে যাই হোক,মাসতুতো,পিস তুতো মানে তুতো -কেস আর নেই কিস্যু। মানুষের অত সময়ই নেই।পুরোটাই ভার্চুয়াল।যেমন মিস্টার ৩৪৫১ এর স্ত্রী মিসেস ৪৫৮৭। ওরা পরস্পর নিজেদেরকে ওয়ান আর সেভেন নামেই ডাকে।আর ইউ আই এন নাম্বারের মতই প্যান কার্ড ও ইবল একাউন্ট নাম্বারও আসলে জন্মের নথিভূক্তিকরণের সাথেই করে নিতে হয়। এটা বাধ্যতামুলক। খাবার মানে হাতে বা জিভে ফিল করার কিছু নেই। দেশে সন ২০৩৪ এ প্রবলতম খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ায় চিপস তৈরী করেন ন্যাশনাল রিসার্চ উইং এর লোক জন। চিপ জলে ভিজিয়ে পান করলেই বারোঘন্টা সজীব থাকা যায়। রাতেরটা আলাদা। রবি ঠাকুর ও ডিজিটালাইজড। তার গান গুলো ছোট্ট চিপে পাওয়া যায়,কিন্তু গান শোনা এখানে নিষেধ। বর্তমান সরকার সত্যিই কাজের,তাদের ইনিশিয়াল টার্গেট হল এ রাজ্য কে পাঁচ ধাপ আগে নিয়ে যাওয়া,মানে ৯৩ তে। তাই গান শোনা,থিয়েটার বা সিনেমা দেখার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। যদি কেউ তা করতে চায় তাকে হলফ নামা দিয়ে বলতে হয় যে সে ছুটিতে যাবে বা মানসিক ভাবে অসুস্থ। প্রেম নিষিদ্ধ। প্রচূর টাইম ওয়েস্টিং । ক্রাশ ডেটিং চালু হয়ে গেছে ও হ্যাপায় আর কে যায়। তাই ওসব বন্ধ হয়ে গেছে খুব সাভাবিক ভাবেই। বই পড়া আগেই নিষিদ্ধ হয়ে গেছিল সাত বছর আগে মানে ২০৫৮ সালে। গ্রীন ট্রি ও জলাভূমি সংরক্ষণের নতুন আইন জারি হয় সেই বছর,আর কে না জানে কাগজ তৈরীতে গাছের ভূমিকা,তাই পেপার প্রিন্ট আগেই বন্ধ হয়,বাচ্চারা সব পেন ড্রাইভ ঝুলিয়ে স্কুলে যায় গলায়,একদিক দিয়ে ভালই হয়েছে অর্ক বলে,উফফ শেষ দিকে বইএর ওজনে বাচ্চা গুলোর শৈশব নুয়ে পড়েছিল,ও হ্যা বলা হয়নি রবি ঠাকুর , শরৎ বাবু আর তিন বাঁড়ুজ্জের বই পাওয়া যায় চিপে। আর বাকি সব আছে কোনো বিবলিওলজিকাল স্যাংচুয়ারিতে। বই পড়া এক মাত্র সমাজের খুব উচ্চশ্রেণীর বিষয়। আর বাকীদের অর্থ চিন্তাও প্রবল ,আর প্লাস অত স্বাধীনতাও নেই। পার্ক বা খেলার মাঠ নেই। ফলে বাচ্চাদের খেলা ধূলার সুযোগ কই। মোবাইলে তাদের এপস দিয়ে দেওয়া হয়েছে। মন সংযোগ বাড়াতে তারা খেলে বিলিয়ার্ড বা স্নুকার,উন্মাদনা পেতে তারা খেলে ফুটবল কিন্তু সবই এপস। আর এগুলি জাতীয় শিক্ষাক্রমের অংশ বলে নির্ধারিত হয়েছে। স্কুলে স্কুলে এই গেমসের প্রতিযোগিতা ও হয় আগেকার টিম ভিউয়ার এর মত কোনো এক সফটওয়ারের মাধ্যমে।

সে যাই হোক অর্ক এসেছিলো কোলকাতা ময়দান দেখতে,ওমা নেই,সেখানে সেক্টর টেন চালু হয়েছে,তথ্য প্রযুক্তি থেকে প্রো -মেডিকো টেকনোলজির ঝাঁ চকচকে সব এক ছাতার তলায়,মি.৩৪৫১ এর সাথে ওখানেই আলাপ তার। লোকটা কাজ পাগল কিন্তু কিছু খেপাটেপনাও আছে,অফিস ছুটির পর,মানে ২০১৫ তে যেমন একটা লোক কে ৮ ঘন্টা কাজ করলেই হয়ে যেতো এখন তা হয় না।কাজের সময় সীমা বাড়ানো হয়েছে,প্রায় ১২ ঘন্টা। শ্রী ৩৪৫১ কিন্তু তাতে দমেনি সেটাই আশ্চর্যের। অফিস,তো সাবেক ইডেন গার্ডেনের (ইডেন গার্ডেন এখন মিউজিয়াম,ক্রিকেট এর মত অত সময়ের খেলা দেশের সরকার আগেই নিষিদ্ধ করেছিল) কাছে সেখান থেকে বেরিয়ে ছোটো একটা কেবল ক্যাপ এ চড়ে(তার বাহিত,রোপ ওয়ের মত) চড়ে ওরা পৌঁছলো ময়দানের কাছে,ও বলা হয়নি পায়ে হাঁটা নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে আগেই,শহরের গতি বাড়াতে। যেখানে খিদিরপুর টেন্ট ছিল,সেই যে পাঁউরুটি আর চিকেন স্যুপ খাওয়া চলতো খুব সেখানে ওরা নেমে ভেতরে ঢুকে গেলো একটা টিমটিমে আলো জ্বলা অঞ্চলে। অর্ক অবাক দু জন লোক মিলে নবারুণ ভট্টাচার্য পড়ছে,তার পাশের জন পড়ছে চে’র গ্রীন ডায়েরি। অর্কর খুব আনন্দ হল,ও বসে পড়লো।ওদের সাথে,ওমা ভাস্কর চক্রবর্তী পড়ছেন যিনি তিনি একজন মহিলা,৩৪৫১ আলাপ করিয়ে দিলেন ৪৫৮৭ এর সাথে,ইনিই শ্রীমতি না ওরা বিয়ে করেনি,বিয়ে একটা বাতিল কাগজের মতই বিষয়,ও বলা হয়নি মিস্টার ৩৪৫১ জানেনা অর্ক চুটিয়ে প্রেম করছে তানিয়া @লিয়াস শ্রীমতী ৪৮৫৭ এর সাথে। ওরা তিনজনে উঠে পড়লো একটু পরই। অর্কর তো আর তাড়া নেই,কিন্তু ওরা অর্ক কে নিয়ে গেলো লাল শালুতে মোড়া এক অঞ্চলে,অঞ্চল মানে দুটো গুমটি ঘর,আগের সোনাগাছিতে যেমন ঘর ছিল তেমনই সব ঘর,সেখানে সুর করে কারা যেন রেড ডায়েরি পড়ছে। আর বাকিরা মন দিয়ে শুনছে। ওরাই বলল বিপ্লব নাকি আসন্ন,অর্ক শুনে প্রথমটা বমকে গেছিল। রাজনীতি এখন এক বাতিল শব্দ। ইলেকশন হয়না,হয় রেফারেন্ডাম। মানে ধরাযাক ৩৪৫৩ আর ৪৫৬৩ মূল প্রতিদ্বন্দ্বী, এদের কোড আছে। আপনার মোবাইল থেকে ওই কোড প্রেস করলেই তিনি ম্যান্ডেট পেলেন। যিনি বেশী পাবেন তিনি জিতবেন।আর হ্যা এতে দুর্নীতি ও হয়।করাপশনে ভারত শ্রেষ্টত্বের শিরোপা পেয়েছে কদিন আগেই।এ তো এমন সময় যে পুরো দশ মাস মা’কে গর্ভবতীও থাকতে দেওয়া হয় না। কারণ তাতে সময় নষ্ট। ঠিক সাত মাসে বাচ্চা বের করে এনে ইনকিউবেটরে বড় করা হয়। সেখানে বিপ্লব? বলতেই অর্ককে কে যেন পেছন থেকে ঠেলা দিলো...পুলিশ,শুয়ে পড়ুন। অর্ক শুয়ে পড়ল। ধরা পড়ল,কয়েক জন। ওমা দেখে প্রিজন ভ্যান নেই এদের পায়ের তলায় রোলার স্কেতিং শু লাগানো হল,পেটে ম্যাগনেট বাঁধা হল,আর যেভাবে ক্রেন লাগিয়ে গাড়ি টানা হত সাবেকি আমলে সেভাবেই এদের লাইন করে নিয়ে যাওয়া হতে লাগলো,অর্ক বেরিয়ে এসেছে স্কাই লাইন এখন রেডিশ, পাশ থেকে ৩৪৫১ বলে উঠলো – ওদের বাঁধন যতই শক্ত হবে ততই বাঁধন টুটবে,অর্ক চীৎকার করে উঠলো রবি ঠাকুর। মুখ চেপে ধরল ৪৮৫৭। কি জানি কেন মনে হচ্ছে এরা অনেকটা মানুষ,আর বিপ্লব কি সত্যি আসছে?

জানা নেই,অর্ক আপাতত মেঘের ওপর আবার,নীচের শহর গ্রাম সব যেন কেমন এক হয়ে যেতে লাগলো, দীর্ঘশ্বাস নয় আজ অর্কর বুক কাঁপছে ,দ্রিদিম দ্রদিম,আফ্রিকা আফ্রিকা। আর্জেন্টিনা,কিউবা বলিভিয়া,কোলকাতা বাঁকুড়া, বীরভূম ... অর্কর গান ধরেছে –হে নূতন দেখা দিক আর বার,

অর্ক এখন উড়ছে,ওপর থেকে ধনী,গরীব গ্রাম শহর কোনো ফারাক নেই,সাম্যবাদী আকাশে আপাতত অর্ক ভাসছে টাইম ট্রাভেল এ।

ঘুমহীন শহরের ওপর দিয়ে টাইম ট্রাভেল এ যেতে যেতে অর্ক আউড়াচ্ছে

একজন লিখেছিল
দুঃখের সময় বন্ধুরা থাকেনা
এতো স্বাভাবিক
কিন্তু মজার কথা হচ্ছে
আমার সুখের সময়েও আমি একলা ছিলাম
আমাদের সুখ দুঃখগুলো
যমজ বাচ্চার মত আমাদেরই
স্বার্থপর কবিতা আমার ভালো লাগে না।

এ ক্রমিক পর্যটনে অর্ক একবার সামনে আর একবার পেছনে ট্রাভেল করছিল। আরো অনেক সফর তার বাকী। আপাতত সে এখন এক ছোট্ট ঘরে বন্দী। একটু পর শাসক তার নখ দাঁত আর উদ্ধত সমরাস্ত্র প্রয়োগে কেটে ফেলবে তার হাত পা,সে গুলি প্রদর্শিত হবে বড় শহর গুলির মোড়ে মোড়ে। আর গোটা শরীর উধাও করে দেবে তারা। আপাতত ডক্টর অর্ক হাসছে। কারণ সে জানে তাকে আটকে রাখার সাধ্য এদের নেই। তানিয়ার কাছে যেতে হবে। আসন্ন সূর্যের দেশের অভিমুখে তাদের এ যাত্রাকে রোধ করবার কোনো শক্তি কারো নেই। কারণ - ‘আমরা কিসের জন্য বাঁচব সেটা আমরা নিশ্চিত হতে পারি না যতক্ষণ না আমরা তার জন্য মরতে প্রস্তুত থাকি’

জীবন আদতে এক কার্নিভাল। কত রঙ,কত প্রাণের স্ফুরণ। খেলা বা খেলনার পসরা নিয়ে যেই আসুক না কেন সেই আগুণ মুখো লোকটা তার মুখ থেকে সরিয়ে ফেলেছে বামনের ছোঁড়া ব্রম্ভাস্ত্র। আর বরফ নয় ।আবার আগুণ বেরিয়ে আসছে। জয় প্পমিথিউসের জয়।

‘প্রেম বা বিপ্লব তো আর গাছে ধরা আপেল নয় যে পাকবে আর পড়বে, বিপ্লব অর্জন করতে হয়’।

মেঘেদের ছুটি দিয়েছে অর্ক। এখন পায়ে হেঁটে ও ঘুরবে শহর কোলকাতা,বলিভিয়া বা সারান্ডার জঙ্গল মহলে। আপাতত অপেক্ষা আপাতত প্রস্তুতি। আরো এক বড় যুদ্ধের।তানিয়া প্রস্তুত হও।



ঋণ- চে – স্বপন রায়
মোটর সাইকেল ডায়েরিস – চে গুয়েভারা
ব্লগ বিডিনিউজ 24x7








কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন