রবিবার, ১০ মার্চ, ২০১৯

মাঠরাখা-হামিরউদ্দিন মিদ্যা

আলোটা ভাসতে ভাসতে আঁকড়গোড়ে, ভাড়ালগোড়ে, জিওল নালার মাঠ ঘুরে চক্কর দিয়ে মাঝের-দাঁড়ার মাঠে এসে মিলিয়ে গেল। মেঘগুলোকে নীচে ফেলে চাঁদটা অনেকটা ওপরে উঠে এসেছিল। এখন আবার চাপা পড়েছে। কুঁড়ের বাঁ-পাশে লেউল ঘোষের বিঘে চারেক বিয়েন ধানের খেত থেকে পাঁইশে রঙা শিয়াল দুটো বেরিয়ে নাসেরের পানে মুখ তুলে তাকালো, টর্চটা আবার জ্বালতেই শিয়াল দুটো লাড়াবাড়ির ওপর মশ্ মশ্ শব্দ তুলে ভিং ভিং দৌড় দিল।

এ বছর মাঝের-দাঁড়ার মাঠে কুঁড়ে বেঁধেছে নাসের। আগের বারে মোষমরার জমিতে ছিল। সব থেকে সুবিধা এখান থেকে। মাঝ মাঠ। দাঁড়ার পগারের ওপর দাঁড়ালে গোটা মাঠটা নজর রাখা যায়। এখনও সব ধান মাঠ থেকে ওঠেনি। যারা মেশিনে কাটিয়েছে, তারা নতুন চালের ভাত খেতে কখন শুরু করে দিয়েছে। মাঠগুলো এখন বুক চিৎ করে শুয়ে আছে। আবছা আলো-আঁধারে ধানের গাদাগুলো দলমার হাতির মতো দাঁড়িয়ে। সব ধান মাঠ থেকে চাষিদের খামারে উঠে গেলেই নাসেরের ছুটি। ছুটি বলতে রাখাগিরির।

নাসেরের বাপ জমির আলি ছিল ভূমিহীন। সারাজীবন মাঠের পাহারাদারের কাজ করেছে। শরীরে তাকত ছিল খুব। মাঠের আলের ওপর দাঁড়িয়ে পোঁ পোঁ করে লাঠি এমন ঘোরাত, ছেলেপুলের দল শীষ কুড়োতে নামতেও ভয় পেত—চুরি তো দূরের কথা। সেই লাঠি এখন নাসেরের হাতে। চুরিচাপটা এখন খুব কমে গেছে। ক্লাবের ছেলেদের ভয়। ফিস্টি করার জন্য দু-এক গাদা তুলে নিলেই চাষির মাথায় হাত। তাই গ্রাম ষোলোয়ানার তরফ থেকে সইসাবুদ দিয়ে মাঠে পাহারাদার রাখতে হয়। বিঘে প্রতি ছয় আঁটি ধান লাগে। কাটা থেকে খামারে তোলা পর্যন্ত চাষি নিশ্চিত বোধ করে। 

এবছর নাসেরের বরাত খুব খারাপ। অন্য বারে মাঠ পাহারা দিয়ে চার-পাঁচটা বড় বড় ধানের গাদা হয়। এবারে অর্ধেক ধান মাঠ থেকে খামারে উঠে গেল, অথচ দুটো ধানের গাদাও ভর্তি হয়নি। মেশিনে ধান কাটার হিড়িক লেগেছে। বড় বড় চাষিরা গোরু-মোষের খাবার খড়ের জন্য কম সম কাস্তেয় কাটিয়ে, মেশিন নামাচ্ছে মাঠে।

যেসব চাষি মেশিনে ধান কাটিয়েছে, নাসের তাদের কাছেও গেছিল। বলেছিল— গোটা মাঠটা আমি পাহারা দিই, আর তুমরা সব সুবিধা বুঝে মেশিনে কাটিয়ে নিচ্ছ। তাইলে আমার পাওনাটার কী হবেক?
সবার একটাই বক্তব্য, ধান কাটার আগে তো মাঠরাখার দায়িত্ব নয়, তখন মাঠে দৌরাত্ম্য নাই কুনু। কীসের তুর পাওনা শুনি?
—কেনে,আমি যে মাঠরাখা। গোটা মাঠটা পাহারা দিই। আমার পাওনা লাগবেনি?

কথাটা শুনে গ্রামের বড় চাষি সাবের আলি, লোহার পাড়ার অবনী রেগে হিশ্ হিশ্ করে ওঠে, কানের গোড়ায় ফ্যাচর ফ্যাচর করিস না দিনি! আমাদের কাছে ল্যাং ল্যাং না করে যারা কাস্তেয় কাটছে তাদের কাছে যা না!

বানে ভেসে যাওয়া কুটোর মতো নাসেরের অবস্থা। ওদের কথাতেও যুক্তি আছে। তা বললে নাসেরের চলবে কী করে? এবছর কত স্বপ্ন দেখেছিল। একটা বড় খড়ের পালুই বাঁধবে। বউয়ের শখ দুটো বাছুর পালার। ঘরে গোরু থাকলে ঘুঁটে হবে, খড়গুলো পোড়াতে হবে না তাহলে। সেই স্বপ্ন ঝুরঝুর করে ভেঙে অঘ্রাণের শিশির হয়ে ঝরে পড়ছে মাঠে।

সবে মাস চারেক বিয়ে হয়েছে নাসেরের। এই সিজনটা রাখাগিরি করতে মন সায় দেয়নি। নতুন বউকে ছেড়ে মাঠে শুতে কার ইচ্ছা জাগে? সংসারের কথা চিন্তা করে এবং গ্রাম ষোলোয়ানার চুক্তি অনুযায়ী নাসের তার ইচ্ছাকে জলাঞ্জলি দেয়। একমাসের মতো বউয়ের পাশ খালি রেখে কুঁড়েতে শুতে হচ্ছে নাসেরকে।

কুঁড়ের ভেতরে হ্যারিকেনের শিখাটা টিম টিম করে জ্বলছে। বাইরে কাঠ-কুটোর বোঝা। সেখান থেকে কতগুলো কাঠিখোঁচা বের করে নাসের আগুন জ্বালাল। খোলা আকাশের নীচে শীতটা তিরের ফলা হয়ে গায়ে বিঁধছে। হাত পা-গুলো আঁচে সেঁকতে বসে। জমির আলির যখন ইন্তেকাল হয়েছিল,তখন গ্রাম ষোলোয়ানায় মিটিং ডাকা হয়।
—আমাদের মাঠরাখা তো মরি গেল গো! এবার কাকে রাকবে?

কাজটা খুব দায়িত্বপূর্ণ। এখনকার ছেলেছোকরারা ওসব কাজ করতে চায় না। ভিড়ের মধ্যে কে যেন চেঁচিয়ে উঠল, কেনে গো, কেনে। জমির আলির তো একটা জোয়ান ব্যাটা আছে। বাপের কাজটা ছেড়ে দিবেক কি? 

সম্মিলিত জনতা সায় দেয়, হ্যাঁ হ্যাঁ। তুমি ঠিক কথাই বলেছ বাপু। নাসেরকে একবার যাচিয়ে নিয়া দরকার। 

নাসেরের মন ছিল না। মা তাকে বুঝিয়ে ছিল, তুই অমত হোস না খোকা। তুর বাপ মাঠ পাহারা দিয়ে ভাতের, মুড়ির চাল কুনুদিন কিনেনি। জমি জায়গা তো আমাদের নাই বাপ। মিলের চালের ভাত খেয়ে গায়ে লাগবেনি। যতই হোক, ঘরের চালের ভাত খাবি, মুড়ি খাবি—তার স্বোয়াদ কত! 

মায়ের কথাটা মনে ধরে নাসেরের। তাছাড়া বাপ জমির আলির গ্রামে অনেক সুনাম ছিল। গ্রামের মানুষের সামান্য এ আবদার না রাখলে বাপকেই অসম্মান করা। তাই রাজি হয়ে যায়। 
বাপ তাকে প্রায় বলত, বড় হয়ে তুই কী হবি খোকা? আমার মতো মাঠরাখা?
—না, হব নাই। যে জমির আমরা মালিক নই, সে জমি পাহারা দিব কেনে?

কথাটা শুনে বাপ হেসেছিল খ্যাক খ্যাক করে।—ধুর খ্যাপা! জমির মালিক হয়ে কী হবেক রে! গোটা মাঠটার মালিক হয়ে যাবি। আলের ওপর লাঠি হাতে যখন দাঁড়াবি, সেই মাঠটা তোর। কেউ এক আঁটি ধান তোর সামনে চুরি করতে সাহস পাবেনি।

ছোট থেকেই বাপের মুখে কথাটা শুনে এসেছে নাসের। কিন্তু বাপ তাকে এটা বলেনি, রাতের মালিক মাঠরাখা। দিনের আলো ফুটতে ফুটতেই মালিকানা বদলে যায়। চাষিরা গাড়ি বোঝাই করে ধান তুলে নেয়। তখন বাপের মুখে শোনা কথাটা রূপকথার গল্পের মতো লাগে। 

আগুন পোহাতে পোহাতেই নাসের টর্চটা জ্বেলে মাঠের চারিদিকে ঘোরালো। তাতেই টের পেয়ে যাবে মাঠরাখা জেগে আছে। রাখাদের ঘুমালে চলে না। চোখগুলো বুজলেও কানগুলো খোলা রাখতে হয়। 
একটা বিড়ি ধরাল নাসের। আগুনের আঁচ কমে গেছে। চাঁদটা মেঘের পেটফুঁড়ে বেরিয়ে পড়েছে। জ্যোৎস্নায় ভেসে যাচ্ছে মাঠ। চারিদিকেই অনেক দূরে দূরে গ্রাম। পশ্চিম পানে তাকালো নাসের। 

গাছপালায় ঘেরা মিশকালো অন্ধকার রেখার মতো পড়ে আছে গ্রামটা। ইলেক্ট্রনিক পোলে বাল্ব জ্বলছে মিটমিট করে। যেন আকাশ থেকে দু-একটি তারা খসে গিয়ে গাছের ডালে আটকে গেছে। নাজমা কি এখন ঘুমিয়ে পড়বে? নাকি বিছানায় ছটফট করছে? বউয়ের কথা মনে পড়তেই নাসেরের বুকে কোথা থেকে এক ঝাপট উষ্ণ বাতাস এসে ধাক্কা মারল। বাতাস, নাকি নাজমার শ্বাস প্রশ্বাস! 

কুঁড়ের ভেতরে ঢুকল নাসের। খড়ের ওপর খেজুর পাতা বিছানো। একটা মোটা কম্বল এনে রেখেছে। ভেতরে ঢুকে গেলে ঘুমের আবেশে তলিয়ে যায়। শুলেও টর্চ জ্বেলে মাঠগুলো চক্কর দিয়ে আসতে হয়। 
ছেলেবেলায় বাপের সঙ্গে মাঝেমধ্যে কুঁড়েতে শুতে আসত নাসের। বাপ তাকে মাঠপরীর কথা শুনিয়েছিল। জ্যোৎস্নার রাতে নাকি আসমান থেকে ডানা মেলে পরী নেমে আসে মাঠে। সাদা ধবধবে গায়ের রং। দুই ডানায় জ্যোৎস্না ঝরাতে ঝরাতে এ মাঠ থেকে সে মাঠ নেচে নেচে বেড়ায়। মাঠের মধ্যে কেউ কোনও অন্যায় কাজ করলে, মাঠপরী ছলনা করে কাছে ডেকে আনে। পিঠে চাপিয়ে উড়িয়ে নিয়ে যায় ভাড়ালগোড়ের বিলে। বিলে নেমে পানি ছিটিয়ে খেলা করে। একসময় গলা ধরে ডুবিয়ে মেরে ফেলে। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই আবার উড়াল দেয় আসমানে। বাপের মুখে কথাটা শুনে ছোট্ট নাসের কতবার ভয়ে ভয়ে মাঠের পানে তাকিয়েছে। কোনওদিন সেই আশ্চর্য আলোর দেখা মিলেনি। 

আজ শুলেও চোখে ঘুমের বন্যা নামল না। বরঞ্চ ভাটা জেগেছে বুকে। সেই চোরা স্রোতে নাসেরের মন পৌঁছে যায় নাজমার পাশের বালিশে। নাসের উঠে বসল। হ্যারিকেনের সলতেটা বাড়িয়ে দিয়ে কুঁড়ের বাইরে বাঁশের খোঁচাতে ঝুলিয়ে দিল। বেশ কয়েকদিন ধরেই ফন্দিটা মাথায় খেলছে, কিন্তু কাজে লাগাতে সাহস পায়নি। আজ উটকো নেশাটা কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে নাসেরকে। কিছুতেই স্বস্তিতে থাকতে দিচ্ছে না।

কয়েকটা মাঠ পেরিয়েই নাসের থমকে দাঁড়াল। কে যেন পিছু নিয়েছে মনে হচ্ছে। মাঠপরী নয়তো? নাকি বাপ জমির আলি! জমির আলি তো এখন গোরস্থানে শ্যাওড়া গাছের তলে অন্ধকার কবরের ভেতর চিরঘুমে ডুব দিয়েছে। ছেলে বিপথে হাঁটছে, তাই বোধহয় বাপটা গোঁসা করে বেরিয়ে এসেছে। পিছন ফিরে তাকাল নাসের। কেউ নেই। শুধু কুঁড়ের বাইরে টাঙানো হ্যারিকেনের হলুদ শিখাটা দুলছে। যেন বলছে,যা,যা। ভয় কি! আমি তো আছি।

মাঠ শেষ হতেই ডুমুরজলার দিঘি। দিঘির পাড়ে কাদু শেখের বাঁশঝাড়। পাড় ধরে হাঁটতে হাঁটতে নাসের তাহের শেখের খামারবাড়িতে পৌঁছে যায়। এখন গ্রামের কারও চোখে পড়ে গেলে, ফাঁকিবাজির শাস্তি গ্রাম ষোলোয়ানার তরফ থেকেই আচ্ছা করে দিয়ে দেবে। মুখ পোড়া কুকুরটা ঘেউ ঘেউ করতে করতে উঠে এল। চেনা মানুষের গন্ধ পেতেই চুপ করে শুয়ে পড়ল। খামারের পেছনেই নাসেরের বাড়ি।

মাটির দু-কুঠুরি ঘর। উত্তরের মেঝেটাই নাসেরের মা ঘুমচ্ছে। আর রান্নাশাল লাগোয়া মেঝেতে নাজমা। এতক্ষণ খেয়ালই হয়নি নাসেরের, যে ভেতর থেকে হুড়কো তুলে দেবে। নিজের বাড়ির দরজা ঠেলতেও চোর চোর লাগছে। বার দুই দরজায় টোকা দিল নাসের। কোনও সাড়াশব্দ নেই। এবার সুড়ুৎ করে বসে দরজার নীচের ফাঁক দিয়ে উঁকি মারল। কচি লাউয়ের মতো নাজমার দুটো পা লেপের বাইরে বেরিয়ে পড়েছে। ফিসফিস করে ডাকল, বউ, ও বউ।
সামান্য নড়ে উঠল নাজমা। নাসেরের সম্বিত ফিরে এল। পাশের ঘরে মা ঘুমচ্ছে। উঠে পড়লে লজ্জায় কান কাটা যাবে।

উঠোনে নেমে এদিক ওদিক খুঁজতেই মুরগি তাড়ানোর লম্বা কঞ্চিটা চোখে পড়ে। হাতে তুলে নিল নাসের। মাথায় এক অন্য বুদ্ধি খেলে যায়। দরজার নীচের ফাঁক দিয়ে গলিয়ে নাজমার পায়ে খোঁচাতে লাগল। হঠাৎ পায়ে সুড়সুড়ি লাগতেই ‘কে?’ বলে তড়াক করে উঠে পড়ল নাজমা। নাসের কঞ্চিটা বের না করেই এক লাফে উঠোনে নেমে আসে। খুট শব্দ করে কে যেন দরজা খুলল। কেলেঙ্কারির আর শেষ নেই! নাজমার চিৎকার শুনে মা নিশ্চয় উঠে পড়েছে! নাসের রান্নাশালের দেওয়ালের আড়ালে গা মিশিয়ে দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকল। দরদর ঘামছে। এবার টর্চের ফোকাস ফেলে একটা নারী মূর্তি নেমে এসেছে উঠোনে। তাকাবার সাহস পেল না নাসের। যদি মা হয়,আর ঘাড় ঘোরাতে গেলেই দেখে ফেলে! মূর্তিটা এবার গট গট করে কাছে এসে ভূত দেখার মতো চমকে গেল। সঙ্গে সঙ্গে নাসেরের মুখে আলো ফেলল। নাসের দাঁত ফেঁড়ে হাসল।

নারী মূর্তিটা এবার ঝাঁঝিয়ে উঠল, ভীমরতি ধরেছে তুমার? এত রেতে কী মনে করে?
—চুপ, চুপ। এতো টুঁটি ফাঁড়ছিস কেনে?
নাজমা চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে। নাসের কাছে গিয়ে দাঁড়াল। ফিস ফিস করে বলল, চল বউ ঘরের ভেতর যাই।
—নাঃ। তা হয় না। বলে নাসেরকে ঠেলে সরিয়ে দিল নাজমা—তুমি ফাঁকি মেরে মাঝ রেতে বউ সোহাগ করতে আইছ! সুড়সুড় করে মাঠে যাও বলে দিচ্ছি! মা উঠে পড়বেক এখুনি!
উঠোন থেকে সরে এসে তাহের শেখের খামারে দাঁড়াল দু’জন। নাসের বলল,আমি সে ব্যবস্থা করে আইছি বউ। হ্যারিকেনটা জ্বেলে বাইরে ঝুলিয়ে দিইছি। সবাই ভাববেক জমির আলির ব্যাটা জেগে আছে। মাঠ পাহারা দিচ্ছে। 
—জমির আলিরর ব্যাটা মাঠ পাহারা দিচ্ছে, তো তুমি কে?
নাসের নাজমার চিবুকটা হাতে করে তুলে ধরে, কেনে, আমি তোর স্বোয়ামী।
—খুব হইছে, যাও। স্বোয়ামী তো লুকিয়ে ছুপিয়ে কেনে এসেছ? এখন মাঠের লক্ষ্মীকে পাহারা দেওয়া তোমার কাজ। কেউ দেখে ফেললে কী হবেক বলো তো? 

নাসের আর কোনও কথা বলল না। খামারের বেড়ার একপাশে কুকুরটা শুয়ে শুয়েই মুখ তুলে দেখল, দুটো নারী-পুরুষ এতকাছে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে একে ওপরের মুখে মুখ লাগিয়ে মিলিয়ে গেল। খানিক বাদেই পুরুষটা হেঁটে হেঁটে চলে যাচ্ছে, নারীটা তখনও দাঁড়িয়ে।

ডুমুরজলার দিঘির পাড় ধরে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ কী মনে করে নাসের পেছন ফিরে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। নাজমা এখনও দাঁড়িয়ে আছে! হলুদ শাড়ির ওপর চাঁদের আলো পড়ে সারা গা থেকে জ্যোৎস্না ঝরছে। অমন আলো দেখে নাসেরের গা-হাত শির শির করে উঠল। মনে পড়ল ছেলেবেলায় বাপের মুখে শোনা গল্পটা। তাহের শেখের খামারবাড়িতে দাঁড়িয়ে মেয়ে মানুষটি যেন নাসেরের বউ নয়। আকাশ থেকে ডানা মেলে নেমে এসেছে কোনও পরী। কাছেই তো ডুমুরজলার দিঘি। নাসের আর পেছন ফিরে তাকাবার সাহস পেল না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাকে মাঠে ফিরে যেতে হবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন