শনিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২০

সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের আধখানা মানুষ: চেতনাপ্রবাহের উপন্যাস

আহমাদ মাযহার 

সাহিত্যের অধ্যাপক, চিরায়ত ও সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে যোগসূত্র রক্ষাকারী সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম মননশীল গদ্যরচনা ও সাহিত্য সমালোচনামূলক লেখালিখির জন্য অনেক দিন ধরেই খ্যাতিমান। সাম্প্রতিক কালে অবশ্য তাঁর ছোটগল্পগ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু গদ্যরচনা ও সাহিত্য সমালোচনামূলক লেখালিখির জন্য খ্যাতির কারণে অনেকেই হয়তো তাঁর আখ্যান জাতীয় রচনার বা কথাসাহিত্যের চর্চাকে তেমন একটা গুরুত্ব নাও দিতে পারেন।
তাঁর এই ধরনের চর্চাকে কেউ যদি গাম্ভীর্যপূর্ণ মানুষের খেয়ালি কাজ হিসাবে বিবেচনা করেন তাহলে হয়তো তাকে দোষ দেয়া যাবে না। আমি নিজেও তাঁর কথাসাহিত্যিক কর্মকে সেই বিবেচনায় হালকা ভাবেই নিয়েছিলাম। কিন্তু ২০০৫ সালে প্রকাশিত তাঁর বই প্রেম ও প্রার্থনার গল্প প্রথম আলোর বর্ষসেরা বইয়ের পুরস্কার পেলে অনেককেই তাঁর কথাসাহিত্যের প্রতিও কৌতূহলী হয়ে উঠতে দেখা গেছে। তাঁর আধখানা মানুষ বইটা হাতে এলে আমিও অগ্রহী হয়ে উঠি একই বিবেচনায়। পড়তে শুরু করার পর অনুভব করেছি যে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম কথাসাহিত্য চর্চাকে মোটেও হালকা ভাবে নেন নি। সাহিত্য সমালোচনা বা নন্দনতত্ত্বিক বিশ্লেষণধর্মী রচনার পাশাপাশি তিনি গল্প-উপন্যাসকেও তাঁর শৈল্পিক চেতনা প্রকাশের প্রয়োজনীয় মাধ্যম হিসাবে বিবেচনা করছেন। ‘আধখানা মানুষ-এর পেছনে যে দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ছিল, তা এই উপন্যাসের কাঠামো নির্মাণ, চরিত্রায়ন এবং বর্ণনাশৈলী থেকে সহজেই প্রতীয়মান’। আধখানা মানুষ বইয়ের ফ্ল্যাপে উল্লিখিত এই ভাষ্যকে যথার্থ মন্তব্য হিসাবে বিবেচনা করলে ভুল হবে না। 

আধখানা মানুষ-এ একটা সরল গল্পকাঠামো হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে। সংক্ষেপ করলে সেটা অনেকটা এ-রকম দাঁড়ায়: কেন্দ্রীয় চরিত্র আবদুল লতিফের পুরো পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল পদ্মার ভাঙনে। একই সঙ্গে বিলীন হয়ে গেল আড়াই খানা গ্রাম। রক্ষা পেল কেবল সে নিজে। ভাসতে ভাসতে মৃতপ্রায় অবস্থায় গিয়ে উঠল পাঁচ মাইল দূরের গ্রাম বিরামপুরে; আশ্রয় পেল সেখানকার মনু মিয়া নামে এক অপুত্রক ব্যক্তির বাড়িতে। খবর পেয়ে লতিফের এক চাচা মওদুদ আলি তিন ছেলে ও এক মেয়ের জামাইকে নিয়ে এসেছিলেন তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। লতিফ যেতে রাজি হয় নি। মনুমিয়া ও তাঁর স্ত্রী পুত্রøেহে জড়াতে চাইলেও লতিফকে তারা পুরোপুরি বাঁধতে পারলেন না। কিন্তু মনুমিয়ার মেয়ে মিনা তাকে চাইল প্রেমিক হিসাবে পেতে। মিনার এই চাওয়া লতিফের সব হিসাব দিল উল্টে। কারণ পদ্মার ভাঙনের কবল থেকে ফিরে এলেও নিজেকে সে আবিস্কার করেছিল জীবন থেকে অনেক কিছু হারিয়ে ফেলা আধখানা মানুষ হিসাবে। মিনার আহ্বানে তার পক্ষে সাড়া দেয়া সম্ভব নয়। তাই নিজের জীবনচক্র থেকেই পালাতে চাইল সে। কিন্তু নানা কারণে তার পক্ষে তা-ও সম্ভব হয় না। 

আধখানা মানুষ আখ্যানটির ঘটনাবিন্যাস এমন কিছু অসাধারণ নয়। প্রধানত কেন্দ্রীয় চরিত্র লতিফের দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ণিত হয়েছে আখ্যানটি। এতে নেই কোনও আকস্মিকতার অভিঘাত বা চমক। লেখক এর পরতে পরতে গভীর জীবনানুভূতিকে অসাধারণ মুন্সিয়ানায় ভরে দিয়েছেন। লেখকের বর্ণনা বাক্সময় করেছে লতিফের চেতনাপ্রবাহকে। নদীবহুল বাংলাদেশে মানুষের চেতনাপ্রবাহ সঙ্গত কারণেই নদীপ্রবাহের মধ্য দিয়ে প্রতীকায়িত হতে পারে। নদীর মধ্য দিয়ে চরিত্রের চিৎপ্রবাহের ঘটনাকে প্রতীকায়িত করার প্রচেষ্টা একেবারে নতুনও নয়। প্রসঙ্গত কেউ কেউ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর কাঁদো নদী কাঁদো উপন্যাসের কথা মনে করিয়ে দিতে পারেন। যদিও দুই রচনার বিন্যাসে মিল কিছুই নেই। লতিফের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে অংশ এই আখ্যানের উপজীব্য তার নিমিত্ত নদী, পটভূমি গ্রামকেন্দ্রিক বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঘটনাবলি। এই বিন্যাসের আলোকে এই আখ্যানের বিষয়বস্তুকে চিহ্নিত করা যেতে পারে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক-প্রাকৃতিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতি মানুষকে কেবলই সংকটাপন্ন করে। এই সংকট থেকে উত্তরণহীনতা বা নৈরাশ্যই শেষ পর্যন্ত মানুষের নিয়তি। মোটা দাগে এটাকেই এই আখ্যানের বিষয়বস্তু হিসাবে বিবেচনা করা যায়। 

আধখানা মানুষ-এর আলোকে আধুনিকতাবাদী লেখক হিসাবে অভিহিত করা যায় সৈয়দ মনজুরুল ইসলামকে। সফল আধুনিকতাবাদী লেখকদের মতোই অসাধারণ দক্ষতায় তিনি নিরাশার প্রতীককে বিন্যস্ত করেছেন এই আখ্যানে। এই আখ্যানের ঘটনাক্রম সরল ও একরৈখিক নয়। সরল অর্থে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাসগুলোতে যেভাবে একাত্তরের ঘটনাপঞ্জি বর্ণিত হয় আধখানা মানুষ-এ মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গ সেভাবে আসে নি। কেবল লতিফ চরিত্রটি নয়, লতিফের সা মোসলেমা, তার বাবা আবদুল মজিদ, কাজেম মুন্সি বা কাজেম চৌধুরী ইত্যাদি চরিত্রগুলো মুক্তিযুদ্ধকালের ঘটনা বা যুদ্ধোত্তর টুকরো ঘটনাপঞ্জির মধ্য দিয়ে স্পষ্টতা লাভ করেছে। লেখকের রচনাশৈলীর দক্ষতার কারণেই তা সম্ভব হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাও চমৎকার ভাবে স্বল্পায়তনে ও মিতকথনে উঠে এসেছে। এখানে মিতকথন শব্দটির প্রতি একটু জোর দেয়া উচিত। কারণ উপন্যাস রচনার অভিপ্রায় থেকে লেখকেরা যে আখ্যান রচনা করেন তা সাধারণত দীর্ঘ হবে বলেই প্রত্যাশা করা হয়ে থাকে। ১০২ পৃষ্ঠা দীর্ঘ রচনাকে নিশ্চয়ই সুদীর্ঘ বলা যাবে না। সুতরাং এই দিক থেকে উপন্যাস রূপে বিবেচনা করা যায় না আধখানা মানুষকে। অথচ নাতিদীর্ঘ এই আখ্যানটিকে আমরা যদি একটি সম্পন্ন উপন্যাস হিসাবে অভিহিত করি তাহলেও তাকে ভুল অভিধা বলে বিবেচনা করা ঠিক হবে কি না সেটাও জোরালো প্রশ্ন হিসাবে দেখা দিতে পারে। 

সুতরাং আধখানা মানুষ আখ্যানটি উপন্যাস কিনা সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজে দেখা জরুরি। ফ্ল্যাপে একে উপন্যাস হিসাবেই চিহ্নিত করা হয়েছে। সুতরাং প্রশ্নটিকে পুরোপুরি পাশ কাটিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। একটা জনগোষ্ঠীর মধ্যেকার ভৌগোলিক সামাজিক অর্থনৈতিক সাংস্কৃতিক পটভূমিতে ব্যক্তি মানুষের সংকটকে খুঁজে দেখা সাধারণ অর্থে উপন্যাসের প্রধান দায়িত্ব। সে দায়িত্ব এ আখ্যানটিতে লেখক পালন করেছেন কিনা সেটা বিবেচনা না করে আধখানা মানুষ-এর জাত কী সেটা বলা যাবে না। 

সাধারণত বুর্জোয়া সমাজের বিশাল পটভূমিতে ব্যক্তির সংকটকে স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। ফরাসি বিপ্লবের সূত্রে শিল্পবিপ্লবের সময় থেকে ইয়োরোপ জুড়ে বিকশিত হয়েছিল বুর্জোয়া সমাজ ব্যবস্থা। বিশ্বসাহিত্যে তাই উপন্যাসেরও উদ্ভব হয়েছিল ইয়োরোপ থেকে। আধখানা মানুষ-এর ক্ষেত্রে ঐ সূত্র খাটে না। কারণ বাংলাদেশের যে স্থান ও কাল পটভূমিতে আবদুল লতিফ চরিত্রটি বিকশিত হয়েছে তার রূপ ভিন্ন। নদীবহুল বাংলাদেশের প্রশান্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রায় স্থবির জনজীবনে ব্যক্তির সংকটের তেমন বৈচিত্র্য সাধারণভাবে চোখে পড়ে না। উপন্যাসের চরিত্র হিসাবে ব্যক্তি মানুষের উদ্ভব এখানে তাহলে কীভাবে সম্ভব? সেদিক থেকে দেখলে তো বাংলাভাষায় উপন্যাসই অসম্ভব! 

তাহলে প্রশ্নটিকে মনে রেখেই এই আখ্যানের কেন্দ্রীয় চরিত্র আবদুল লতিফকে বিশ্লেষণ করে দেখা যাক। বিশ শতকের প্রথম দিক থেকে বাংলাদেশের মুসলমান সমাজের মধ্যে আত্মজিজ্ঞাসা ও আত্মপরিবর্তনাকাক্সক্ষা জেগে উঠেছিল। তার ফলে ব্যক্তির মধ্যে দেখা দিয়েছিল সংকট। ঔপনিবেশিক শাসক গোষ্ঠী তাদের স্বার্থে বুর্জোয়া সমাজের কিছু বৈশিষ্ট্য আমদানি করেছিল এদেশীয় মানুষের জন্যও। সেই সূত্রে আমাদের সমাজেও বুর্জোয়া সমাজের কিছু লক্ষণ ফুটে উঠছিল। ফলে তৈরি হয়ে গিয়েছিল এই সমাজেও উপন্যাস সৃষ্টির কিছু শর্ত। তা ছাড়া ভৌগোলিক কারণেও বাংলাদেশে ব্যক্তিকে সংকটে পড়তে হয় বারবার। যেমন নদীর ভাঙনের অর্থাৎ নদীর স্বাভাবিক আচরণের শিকার হয়ে সাধারণত ব্যক্তি নানামুখি সংকটে পড়ে। 

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধোত্তর সময় এবং সমকালীন রাজনীতির পটভূমিকায় স্থাপন করে আবদুল লতিফ চরিত্রটির মধ্য দিয়ে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বিচিত্রমুখি সংকটে পতিত ব্যক্তিকেই স্পষ্ট করেছেন। ব্যক্তি এখানে যেভাবে চিত্রিত সে-রকম ভাবে অনেক সার্থক উপন্যাসে তাকে পাওয়া যায়। প্রসঙ্গত আমরা আলবেয়ার কামুর দ্য আউটসাইডার বা আর্নেস্ট হেমিংওয়ের দি ওল্ড ম্যান এন্ড দ্য সী-এর কথা মনে করতে পারি। ঐ উপন্যাসদুটিতেও ব্যক্তিমানুষের সংকটকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল বলে তারা উপন্যাসের পঙক্তিভুক্ত হয়েছিল। সুতরাং এই সব বিবেচনায় আধখানা মানুষকে উপন্যাস হিসাবে অভিহিত করলে নিশ্চয় ভুল হবে না। আমরা বরং বলতে পারি যে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বাংলাদেশের বাস্তবতায় আবদুল লতিফকে স্থাপন করে ঔপন্যাসিক হিসাবে সাহিত্যিক সৃষ্টিশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। 

সাধারণত উপন্যাসে অনেক চরিত্রের সমাহার প্রত্যাশিত। এই আখ্যানেও কয়েকটি চরিত্রের সমাহার ঘটেছে। সবগুলো চরিত্র যে খুব স্পষ্ট হয়েছে তা নয়। আবদুল লতিফ চরিত্রটি ছাড়া অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে মনু মিয়া ও মিনা, আবদুল লতিফের বাবা আবদুল মজিদ, মা মোসলেমা, মোসলেমার বাবা আবদুল মোকাদ্দেস, কাজেম মুন্সি, মমতাজ, মওদুদ আলি, টেপা জামান, আবুল মোমেন, মিনার স্যারÑএইসব চরিত্রও স্পষ্ট বা নাতিস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সবগুলো মিলে আবদুল লতিফ চরিত্রটিকে করেছে সম্পন্নতর। এইসবকিছু তো উপন্যাসের লক্ষণকেই স্পষ্টতর করে। 

বিগত শতাব্দীর তিরিশের দশকে সুধীন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা উপন্যাসে মননশীলতার অভাবকে কঠোর ভাষায় তিরস্কার করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল যে বাংলা উপন্যাসের লেখকেরা মননশীলতার পথে হাঁটতে স্বচ্ছন্দ নয় বলে গৃহিণীদের দ্বিপ্রাহরিক নিদ্রা আবাহনকারী উপন্যাসের চর্চা বেশি হয়েছে। উপন্যাস নামে যা লেখা হয়েছে বা হচ্ছে তার অধিকাংশেরই কাহিনী ঘনঘটায় পূর্ণ। লেখকদের কাছে যেন পাঠকের ইচ্ছাপূরণের জাদুমন্ত্র আছে। এই ধরনের লেখাকে সুধীন্দ্রনাথ একটুও পাত্তা দিতে পারেন নি। সে কথা মনে রেখে আধখানা মানুষ সম্পর্কে বলতে পারি যে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ইচ্ছাপূরণের পথে মোটেও পা মাড়ান নি। অর্থাৎ আধখানা মানুষকে সহজ অর্থে সুখপাঠ্য উপন্যাস বলা যায় না। আধখানা মানুষ কি তাহলে দুষ্পাঠ্য রচনা? এ-কথা বললে অবশ্য আধখানা মানুষ সম্পর্কে কেউ ভাবতে পারেন যে এটা সাধারণ বুদ্ধির পাঠকদের জন্যে লেখা নয়। এ রকম ভবাও ঠিক হবে না। কারণ আধখানা মানুষ আখ্যানটিতে যেসব ঘটনা বর্ণিত হয়েছে তা যেমন অলৌকিক নয়, তেমনই নয় অপরিচিত। যে প্রতীকগুলো আছে তা আবিস্কার করাও খুব কঠিন নয়। কিন্তু তাই বলে তরতর করে বয়ে চলা ঘটনায় ঠাসা কোনও সরল কাহিনিপ্রবাহও নয় এটি। বইটির যথার্থ উপলব্ধির জন্য এর পাঠকের মননশীলতা ও সাহিত্য রুচির উচ্চতর মান প্রত্যাশিত। সে-কারণেই এটি খুব একটা জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারবে বলে মনে হয় না। 

এই ধরনের আখ্যান সৃষ্টিতে লেখককে অনেক সতর্ক থাকতে হয়। তার ভাষারীতিকে হতে হয় পরিশীলিত। তার ওপর চরিত্রের চৈতন্যপ্রবাহকে মূর্ত করতে হয় বলে অনেক সময় চরিত্রের বিচরণ ক্ষেত্রের বা পরিপার্শ্বের বিভিন্ন অনুষঙ্গ এই ধরনের রচনার ভাষারীতিতে ঢুকে পড়ে এবং নতুনত্বের সৃষ্টি হয়। ভাষারীতির দিক থেকে সৈয়দ মনজুরুল ইসলামও নিশ্চয়ই নতুনত্ব সৃষ্টির জন্য একটা স্বতন্ত্র উপায় অনুসন্ধান করেছিলেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে পূর্বসূরী সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রভাব তিনি পুরোপুরি এড়াতে পেরেছেন এ-কথা জোর দিয়ে বলা যাবে না। এমনকী কথাসাহিত্য চর্চায় তাঁর সমকালীন দু একজন লেখকের ভাষারীতির লক্ষণও আধখানা মানুষ-এ দুর্লক্ষ নয়। 


আধখানা মানুষ, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, প্রথম প্রকাশ: বইমেলা ২০০৬, প্রচ্ছদ: মাসুম রহমান, প্রকাশক: মাজহারুল ইসলাম, অন্যপ্রকাশ, ৩৮/২ক বাংলাবাজার, ঢাকা১১০০।





লেখক পরিচিতি
আহমাদ মাযহার 
ঢাকায় জন্ম-- ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দ। প্রবন্ধকার। শিশুসাহিত্যিক। অনুবাদক। সম্পাদক।
নিউ ইয়র্কে বসবাস করেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন