শনিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২০

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এর গল্প : পাতামৃগ

আকাশে মেঘ, বাতাসে শীতল ভাব, নদীর জলে অশান্তি। বাবু সাহেব বলেছেন, ঝড় হবে। তিনি যা বলেন, তা-ই হয়। আমি ধরে নিয়েছি, আজ বিকেলে ঝড় হবে এবং বাবু সাহেবের নৌকা প্রচণ্ড দুলবে। তার মাঝিমাল্লার একটা কঠিন সময় যাবে নৌকা ও বাবু সাহেবকে সহি-সালামতে রেখে ঝড়টা পার করে দিতে। 

বাবু সাহেব যখন আইনের হাত গলিয়ে কিছুদিন আড়ালে থাকতে সিদ্ধান্ত নেন, তিনি তার নৌকায় ওঠেন। দুই তলা নৌকা—দুই তলা খাস, নিচতলা আম।

খাসমহলে ঢোকার অধিকার হাতে গোনা কয়েকজনের, তার মধ্যে আমি একজন। ছয় মাস আগেও আমি আম ছিলাম, এখন খাস। আমার প্রমোশনের কারণ, বাবু সাহেবের ইন্দিরা রোডের সম্পত্তি থেকে লোকজনকে তাড়িয়ে সেটি সোনামণি ডেভেলপারকে বুঝিয়ে দিয়ে বিনিময়ে পাওয়া চব্বিশ কোটি ক্যাশ টাকা হুন্ডি করে মালয়েশিয়ায় তার সেকেন্ড হোম তহবিলে পাঠিয়েছি। পরিষ্কার, চাঁচাছোলা কাজ; যে কাজ শেষে কোনো বিরক্তিকর, অপরিচ্ছন্ন সুতো ঝুলে থাকে না। 

বাবু সাহেব আজ নৌকায়। কারণ, ইন্দিরা রোডের সম্পত্তির আসল মালিক/দাবিদার আমেরিকা থেকে এসে কেস করেছেন। দাবিদারের এক চাচা পুলিশের বড় কর্তা। একটু ঝামেলা হচ্ছে এ কারণে, তবে বাবু সাহেব বলেছেন, সমস্যা নাই। দশ-বারো দিন একটু নিচা হইয়া থাকতে হবে: ঘাড়টা না তুললে কেউ দেখব না। 

নিচা হয়ে থাকতে হবে আমাকেও। 

বাবু সাহেব আরও বললেন, আগামী মাসের দুই তারিখ তিনি মালয়েশিয়া যাবেন। ইমিগ্রেশনে তার সময় লাগবে পাঁচ মিনিট। অর্থাৎ তাকে লাইনে দাঁড়াতে হবে না। তিনি জামাই আদর পাবেন। তার কথা যে সব সময় সত্য হয়, আর দশ দিন পর তা প্রতিষ্ঠা পাবে। তার সব ঝামেলা মিটবে, তিনি নতুন জন্ম নেওয়া শিশুর মতো নিস্পাপ হয়ে যাবেন। দেশের ভেতরে-বাইরে তার যাতায়াত হবে ফুলের বনে। উড়ে বেড়ানো ভোমরার মতো সরল। 

নদীর পারে কেউ একজন ফুলের একটা বাগান রচনা করেছে। ফুল ফুটেছে। হাওয়া দিচ্ছে। সেই হাওয়ায় ভেসে ভেসে কয়েকটি ভোমরা ফুলে বসছে। মধু পান। বাগানের দিকে চোখ মেলে বাবু সাহেব বললেন, বিষয়টা আমারে অবাক করে, সুজন মিয়া। এই যে ভোমরার দল, তাদের ভনভনানি ফুলের উপ্রে বসা পর্যন্ত। ফুলে বসল কি এক্কেরে চুপ। 

জি, আমি বললাম, বাচ্চাগো মতো। দুধ না পাওয়া পর্যন্ত খালি কান্না। মা বুক দিলে চুপ। 

বাবু সাহেব হাসলেন। কথাটা ব্যাপকভাবে খাটে, তিনি বললেন। এই যে আমার বউ, জানটা পানি করে ফেলল মালয়েশিয়া মালয়েশিয়া করতে করতে, যেই মালাক্কায় একটা বাড়ি কিন্যা বসাইয়া দিলাম, এক্কেরে চুপ। রা নাই মুখে। 

বাবু সাহেবের স্ত্রীর মুখে রা নেই কেন, তার আসল কারণটা অবশ্য আমি জানি, বাবু সাহেব জানেন না। তার ধারণা, মালাক্কায় বাড়ি পেয়ে বউ খুশি। অথচ বউয়ের খুশির আসল কারণ কিনা মালাক্কায় বাড়ি কিনেছেন রহমত আলীও । একসময় বাবু সাহেবের পার্টনার ছিলেন, তাদের ব্যবসা ছিল কেমিক্যাল আমদানির। একবার আমদানি-নিষিদ্ধ কেমিক্যালের চালানসমেত রহমত ধরা পড়লেন। জেল হলো। জেল থেকে বের হয়ে রহমত আলাদা ব্যবসা দিলেন—হুন্ডি আর আদম ব্যাপারীর। একসময় সিদ্ধান্ত নিলেন, মালয়েশিয়ায় মাইগ্রেট করবেন। 

বাবু সাহেব জানেন, রহমত মালয়েশিয়ায় পামবাগানের মালিক। সত্য হলো, পামবাগান তার আছে বটে, তবে সেটা চালায় তার ছোট ভাই ল্যাংড়া কিসমত। রহমত মালাক্কায় বাড়ি কিনেছেন, যে বাড়িতে বাবু সাহেবের বউ যান, যখন ইচ্ছা হয় যান। 

সেই ইচ্ছাপূরণের কারণে বউয়ের মুখে রা নেই। বাবু সাহেব বললেন, তুমিও সুজন, অনেক ভনভন করছ। এখন চুপ। ঠিক কিনা ? 

আমি মাথা নাড়লাম । ভনভন করার কারণ ছিল। বাবু সাহেব আমার বাবার শ্যামপুরের পেট্রল পাম্প দখল করেছেন, বাবাকে যদিও অল্প কিছু টাকা দিয়েছেন ক্ষতিপূরণ হিসেবে। দুনিয়ায় আমাদের তিন কাঠা জমির ওপর আড়াই তলা একটা দালান ছিল। একদিন বাবু সাহেব তা দখলে নিলেন। জমিটা ছিল আমার মার। বাড়িটাও। একটা একটা ইট দিয়ে বাড়িটা গড়েছিলেন আমার মা। সেই বাড়ি ছেড়ে একটা ভাড়া বাসায় উঠতে হলো, শালার দুনিয়াতেই। বাড়ি হারিয়ে মা বিধ্বস্ত হলেন, পরের উদ্বাস্তু অবস্থা তাকে শেষ করে দিল। তিনি পরপারে চলে গেলেন। 

এই দুই দখলের আসল কারণ: আমার বাবার হঠাৎ বাতিক হয়েছিল ওয়ার্ড কমিশনার হবেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাবু সাহেবের ছোট ভাই সাবু। বাবাকে বাড়ি এসে বাবু সাহেব বলেছিলেন নির্বাচনে না দাঁড়াতে। বাবা শোনেন নি। জিতেনও নি। জিতেছে সাবু। তবে নির্বাচনী ধকলে সাবু কাহিল হলো, ঠাই নিল হাসপাতালে। তারপর আজিমপুরের নিচতলায়। ভাইটার মরণের জন্য বাবু সাহেব দায়ী করেছিলেন বাবাকে। একদিন তিনি আমাকে ডেকে বললেন, সুজন মিয়া, হাজি সাহেবকে বল, কপূরেট করতে। কপূরেট করলে তার জানটা থাকবে। না করলে না। বাবু সাহেবের কাছে বাবার কো-অপারেট করার মানে ছিল তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা না করা। অথচ মারা যাওয়ার আগে বাবার হাত ধরে মা অনুরোধ করেছিলেন বাড়িটা বাচাতে। একটা মামলা করলে হয়তো সেটা সম্ভব হবে। 

আমি দনিয়া কলেজে পড়ি। ছাত্রনেতা। বাবু সাহেব শ্যামপুর-দনিয়ার ত্রাস। এমপির ডান হাত। ভূমিদস্যু। তার দস্যুতা ছিল ঢাকা শহরজুড়ে। | বাবাকে বললাম, বাবা, কপূরেট করো। বাবা বললেন, ঠিক বাবা, তা-ই করব। 

না করলে বাচা যাবে না। মাকে হারানোর দুঃখের সঙ্গে এবার যোগ হলো বাবু সাহেবের সঙ্গে কো-অপারেট করার লজ্জা। সেই সঙ্গে পেট্রল পাম্প খোয়ানোর কষ্ট তো ছিলই। ফলে বাবার হৃদ্যন্ত্র ভেঙে পড়ল। সেই যন্ত্রের মেরামতি করতে গিয়ে অনেক টাকার দরকার পড়ল। | বাবু সাহেব আমাকে ডেকে বললেন, সুজন মিয়া, একটা কাম কইরা দেও। টাকা পাবা, বাবাও বাচব। 

কাজটা সহজ। সবুজবাগে সবুজ সংঘের সাইনবোর্ড লাগানো তিনতলা দালানটার অধিকার নেওয়া। 

কাজটা না করে উপায় ছিল না। বাবার হৃদ্যন্ত্র বলে কথা। তবে অধিকার নেওয়াটা সহজ হলো না, ঝামেলা হলো। বোমা ফাটল। গুলি চলল। একজন মানুষ একটা পা হারিয়ে, আরেকজন কয়েক কেজি রক্ত হারিয়ে হাসপাতালে গেল। 

অধিকার পাওয়ার পর আরেক পার্টিকে বাড়িটা বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যাপারটা এল। বুঝিয়েও দিলাম, সবুজবাগ থানায় বসে চা-নাশতা খেতে খেতে। পার্টির নাম সুলেমান কন্ট্রাক্টর। সুলেমান থানায় অভিযোগ করেছেন, তার মালিকানায় থাকা সম্পত্তি কিছু স্থানীয় যুবক অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিল। ইত্যাদি। 

বাবার হৃদ্যন্ত্র মেরামত হলো। দুনিয়ায় আরেকটা ভালো বাড়িতে উঠলাম। কিছুদিনের মধ্যে কাচপুরে আরেক অধিকার মিশনে নামতে হলো। মিশনটা ভালোভাবে শেষ করে যে টাকা পেলাম, তা দিয়ে বাবাকে একটা দোকান করে দিলাম। হাজি আমজাদ জেনারেল স্টোর । একেবারে মেইন রাস্তার ওপর। জমজমাট বিক্রিবাট্টা। বাবার হৃদব্যাটারির ভালো রিচার্জ হয়েছে। তিনি স্টোরে বসেন সকাল বিকাল। খদ্দেররা তাকে পছন্দ করে। 

বাবু সাহেবও আমাকে পছন্দ করতে শুরু করেছেন। আমার পকেটও ভারী হচ্ছে। আমি তার আম দলে নাম লিখিয়েছি। কিন্তু আমার জেদ, খাস দলে ঢুকব। 

সেই থেকে আমার ভনভনানি। 

নৌকায় বসে বাবু সাহেব বললেন, সবাই ভনভন করে। আমি এক শ টাকা কামাই করলে দশ টাকা যায় ভনভনানিদের পাতে। তো যাউক। 

আমি বললাম, আপনি ওই দশ টাকা না দিলেও তো পারেন। 

আরে ছাওয়াল, তিনি ধমকের হাসি হাসলেন, বুদ্ধিসুদ্ধি নাই ? ওই দশ টাকা। দেই বইলাই তো নব্বই টাকা পকেটে ঢোকাই। তবে একটু দম নিয়ে তিনি বললেন—নিজের মানুষ ভনভন করলে ভাল্লাগে না। নিজের মানুষ—তিনি আরও দম নিয়ে বিরক্ত গলায় বললেন—ফুলে বইসা মধু খায়, আবার ওড়ে, আবার ভনভনায়। পরমানুষ তা করে না, না হয় করার সুযোগ পায় না। 

বাবু সাহেব হাসলেন। হাসির স্বাভাবিক মেয়াদ শেষ হতে দিলেন। তারপর আমার দিকে শীতল চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি মনে মনে ভনভনাও ? 

আমি চমকে উঠলাম। লোকটা কি মন পড়তে পারে ? জি না, আমি চিকন গলায় বললাম, আমার ভনভনানির কী দরকার ? 

তা তো ঠিক, বাবু সাহেব বললেন, কিন্তু মালয়েশিয়া তো তোমারেও টানে। ঠিক কি না ? 

জি। একটু-আধটু টানে। আপনার সঙ্গে একবার গেলাম। আরেকবার যাইতে মন চায়। 

যাবা। বাবু সাহেব বললেন। তবে ২ তারিখ না। 

বাবু সাহেবের মোবাইলে ফোন এল। আমেরও আম কেউ ফোন করেছে। তিনি হাতের ইশারায় আমাকে তফাত যেতে বললেন। 

তফাতে গিয়ে আমি একটা সিগারেট ধরালাম। ফোনটা কার, আমি আন্দাজ করতে পারি। সুধীর অ্যাডভোকেটের। সুধীর তার ছোটবেলার বন্ধু, যার চব্বিশ ঘণ্টার আইনি জিম্মায় নিজেকে তিনি ছেড়ে দিয়েছেন। বাবু সাহেবের সম্পদের পরিমাণ, আমার হিসাবে, এক হাজার কোটি টাকার কম না। এর ছয় আনা হলেও বাবু সাহেবের অধিকারে আছে সুধীর অ্যাডভোকেটের কল্যাণে। তবে সুধীর তাকে আজ জানাবেন, বংশালের চৌদ্দতলা তৈফুর টাওয়ার বাবু সাহেবের অধিকারে নাই। | 

এটা সকালের খবর, আমি জেনেছি সকালে। সুধীর জেনেছেন পনেরো মিনিট আগে । বাবু সাহেব এইমাত্র। | বাবু সাহেব আরেকটা ফোন পেয়েছেন। তিনি জেনেছেন, তার সন্ধানে র‍্যাব নেমেছে। তিনি তার শ্যামপুরের বিটুমিন ফ্যাক্টরিতে আমদানি-নিষিদ্ধ কেমিক্যাল মজুত করেছিলেন। | রহমত হাওয়া হয়ে গেলেও তার ভূতটা তাহলে রয়ে গেল। অবাক, বাবু সাহেব জানেনই না, এসব কেমিক্যাল—না অ-কেমিক্যাল—তার ফ্যাক্টরিতে কে আনল, কে রাখল। রহমতের ভূত ? 

আছাড়ি-পিছাড়ি ঝড়ে নৌকা চলে, বাবু সাহেব চোখ বন্ধ করে বসে থাকেন। আমাকে বলেন, কিছু মানুষের ভনভনানি জীবনে কমবে না। 

আমি চুপ থাকি । জানতে চাও না, এরা কারা ? কারা ? আমাকে জিজ্ঞাস করতে হয়। 

রহমত, তিনি হাসেন, রহমত আলী। মালয়েশিয়া থেকে সে ঢাকায় তশরিফ এনেছিল যখন তার কে এক বুবু, সেই বুবু মরণ-বিছানায় ছিল। মরতে মরতে বুবু তারে বলেছিল, শোধ নিস। রহমত ছোট্ট একটা শোধ নিল। 

টোক গেলার মতো হাসলেন বাবু সাহেব। সেই বুবুর ছেলেটা এখন ভনভনায়, তিনি বললেন। ঠিক কি না? 

জি না, আমি বললাম, ভনভনানি তার স্বভাব না। আচ্ছা ? চোখ ছোট করে বললেন বাবু সাহেব, স্বভাবটা কী ? 

তার স্বভাব মানুষরে ফুলে বসাইয়া মধু খাওন শুরু করলে উঠাইয়া নেওয়া। মায়ের দুধ মুখে নিলে বাচ্চারে টাইন্যা সরাইয়া দেওয়া। মানুষ যাতে ভনভনায়, সেই ব্যবস্থা করা। 

বাবু সাহেব চুপ হয়ে গেলেন। তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, মালাক্কায় কয়টা দিন কাটাইয়া আসি। তারপর দেখব কে ভনভনায় । 

মালয়েশিয়া যাইতে পারবেন, সেইটা মনে হয় না, আমি বললাম। গেলেও আপনি রহমত সাবের হাতে পড়বেন। আপনার বিবি সাহেবা সেই হাতে একটা হাত দিয়া রাখছেন। 

খামোশ, বাবু সাহেব আওয়াজ দিলেন। এত জোরে হাঁক পাড়লে র‍্যাব শুনব। আমি বললাম। 

আমি কি র‍্যাবের খাই, না পড়ি, সুজন মিয়া যে তুমি আমারে র‍্যাবের কথা পাড়ো ? বাবু সাহেব রাগ রেখেই বলেন। আমি মনে মনে হাসলাম। বাবু সাহেব নিশ্চয় শুনেছেন, সোনামণি ডেভেলপারের যে ২৪ কোটি টাকা মালয়েশিয়া গেছে, তার বারো আনা এখন তার বিবি সাহেবের কোমল হাত হয়ে রহমতের হাতে গেছে। রহমত তার জেলের শোধ নিচ্ছেন। তাকে বাৰু সাহেব ফাঁসিয়েছেন, এখন তার গলায় ফাঁস লাগাবেন রহমত । 

আমি চুপচাপ দেখব। যখন ফাসটা টাইট হবে, আমি কোপ মারব। শ্যামপুরের পেট্রল পাম্প। দুনিয়ার বাড়ি। মা সারা জীবনে যা সুখ পেয়েছিলেন, তা ওই আড়াই তলা বাড়ির সাড়ে পাঁচ বছর। 

নৌকার পেছনে র‍্যাবের স্পিডবোট দেখা যাচ্ছে। ঝড় কিছুটা কমলেও বৃষ্টি যথেষ্ট। বোটে এক র‍্যাবের পাশে স্বচ্ছ প্লাস্টিকে মাথা-গা মোড়া সুধীর অ্যাডভোকেটকে দেখা যাচ্ছে। 

বাবু সাহেব চোখ বন্ধ করেছেন। রাগটা কিছুটা কমেছে মনে হলো। চোখ বন্ধ রেখেই বললেন, র‍্যাবের ইসপিটবোট আসতাছে? 

জি।। ওগো সঙ্গে সুধীর না ? সুধীর অ্যাডভোকেট ? 

ইসপিটবোটের ভেতরে রহমতও আছে। রহমত তিন দিন আগে তশরিফ এনেছে, আজ ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। যাইতে পারে নাই। 

আমি চুপ করে থাকি। লোকটা তাহলে সব জানে। 

র‍্যাব আসছে কয়েকজনের ভনভনানি থামাইতে। তাগো মধ্যে আমি থাকতে পারি, সুধীর থাকতে পারে, রহমতও। আর কে থাকতে পারে, কও তো ? 

আমি কিছু বলি না। বাবু সাহেব হাসেন। তুমি এখনো নাবালগ, সুজন। তুমি মাটিতে হাঁটো, আমি উপ্রে দিয়া চলি। শাখামৃগের মতো। শাখামৃগ কারে কয়, জানো ? 

জি। 

ভালো। তো এখন একটু আল্লা আল্লা করো। র‍্যাব বলে কথা। 

আমি হাসি। শাখামৃগ । বাবু সাহেব অবশ্যই ডালে ডালে চলেন। মানুষ তা জানে। 

কিন্তু ডালের ওপরেও তো কিছু থাকে, যেমন পাতা। পাতায় পাতায়ও তো চলা যায়, নাকি ? 

আচ্ছা, পাতা দিয়া যারা চলে, তাদের কী বলা যায় ? পাতামৃগ ? 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন