বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২০

অহনা বিশ্বাসের গল্প : সুসময়

আমার মা ঠাকুমার ছিল ওই এক রােগ । কোথাও কোনাে জ্যোতিষী এলেই টুকটুক করে তার কাছে গিয়ে হাতখানা পেতে দেবেন । তারপর একথা সেকথার পরই তিনি যে কথায় আসবেন - তা হল, দেখুন তাে আমার মরণ কবে লিখেছে বিধাতাঠাকুর । 

মনে আছে, সেই টাক মাথা সাদা গোঁফের মানুষটিকে, যদিও তিনি আমাদের প্রতিবেশীর বাড়িতে আমন্ত্রিত ছিলেন, তবু ঠাকুমা ডেকে এনেছিলেন তাকে ।
তক্তপােশের ওপরে বাবু হয়ে বসে তিনি ঠাকুমার অতীত সম্পর্কে যা কিছু বলছিলেন, সব নাকি সত্যি ছিল । আমার বয়স তখন সাত । ঠাকুমার সারাক্ষণ আঁচল ধরে থাকি । ঠাকুমার পিঠের ওপর লেপটে আমি দেখছিলাম, ঠাকুমা তাঁর শীর্ণ হাতখানি লােকটির পুরুষ্ট হাতে পেতে দিয়েছেন, আর জিজ্ঞাসা করছেন, ঠাকুরমশাই, কবে এই মায়ার বাঁধন কাটাব? কবে তেনার কাছে যাবার সময় হবে ? 

সাংঘাতিক কথা । এ কথা শুনলে আমার রক্ত শুকিয়ে যায় । মৃত্যুতে আমার সবচেয়ে ভয় । মৃত্যু আমি দেখিনি এমনও নয় । আমার কাকিমার সাত দিনের ফুটফুটে মেয়েটাকে নার্সিংহােম থেকে বাড়িতে নিয়ে আসতে না আসতেই কেমন নেতিয়ে গেল । পাশের বাড়ির বিনুদিদির মা মারা যাবার পর বিনুদিদির কান্না শুনতে পাবার ভয়ে আমি কতদিন ওদের ওই দিকটায় পা বাড়াতাম না । ঠাকুমার এসব কথায় আমি রাগ করতাম, কিন্তু ওই বয়সে ঠিক ঠিক কারণে ঠিক ঠিক জায়গায় নিজের রাগ প্রকাশ করতে পারতাম না । অন্য জিনিস নিয়ে কেঁদে ভাসাতাম । 

টাকমাথা লােকটা অনেকক্ষণ ধরে ঠাকুমার নরম হাতখানা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছিলেন । আমার সেই অমােঘ বাক্য শুনতে ভয় হচ্ছিল, কিন্তু প্রচণ্ড আকর্ষণে ঠাকুমাকে ধরে আমি বসেছিলাম । লােকটা হাসছিলেন । হাসতে হাসতে হাতখানা ছেড়ে দিয়ে বলেছিলেন- ভাবনা কী, আপনার এখন সময়টা খারাপ যাচ্ছে । কিন্তু ভালাে সময় আসছে । ভালাে সময় এলেই আপনি ড্যাংডেঙিয়ে চলে যাবেন । কেউ আপনাকে আটকাতে পারবে না । 

কিন্তু কাকে বলে ভালাে সময়? কাউকে কিছু বলি না, কিন্তু মনের মধ্যে ভালাে সময়ের জন্য ভয় জমতে থাকে । ঠাকুমা যে আমার সব । ঠাকুমা চলে গেলে যে বাবা-মা থাকা সত্ত্বেও আমি অনাথ হয়ে যাব । অথচ ঠাকুমা ভালাে সময়ের জন্য সব সময় প্রার্থনা করেন । মা লক্ষ্মীর সামনে বসে যখন তিনি বিড়বিড় করেন, তখন যেন সেসব কথা আমি বুঝতে পারি।

আমার বাবার ব্যবসা তেমন জমল না , মানে গানের ইস্কুল করতে হল । কাকার চাকরি একেবারে চলে গেল। কোম্পানিটাই উঠে গেল। মায়ের ইস্কুল নিয়ে, গান গাওয়া নিয়ে আর কাকিমার বাপের বাড়ি প্রীতি নিয়ে ঠাকুমার অভিযোগের অন্ত ছিল না । ছোট হলেও সব ক্ষোভের কথা আমাকেই শুনতে হত , শুনতে শুনতে বুঝতাম ঠাকুমা কত কষ্টে আছেন । অন্তত এটুকু বুঝতাম এ সময় ঠাকুমায় ভালাে সময় নয় । ভেতরে ভেতরে আমি খুশি হয়ে উঠতাম । 

সত্যি ঠাকুমার দুঃখ-কষ্টের অবধি ছিল না । সেই কবে থেকে মানুষটা খেটেই যাচ্ছেন । বাংলাদেশ থেকে এক বস্ত্রে এদিক এসেছেন । ঠাকুরদার ও দেশে জমি ছিল, পুকুর ছিল, এ দেশে তারা ভিখারী । ভিখারী অবস্থায় এক ছেলে আর এক মেয়ে মরল একই রাতে কলেরায়, তারপর এই দুটি ছেলে সম্বল। ঠাকুরদা মরে যাবার পর টলোমলাে সংসারে তিনি একমাত্র নাবিক। তাঁর দুটি ছেলে চিরকালের নাবালক । ছােটটি তার ওপর মস্ত বােকা, চালাক বউয়ের বশ । কত দুঃখকষ্ট, কত চাতুরি, কত অপমান নিয়ে যে ঠাকুমাকে চলতে হয় সে খবর একমাত্র আমি জানি । ঠাকুমার চোখ দিয়ে এ সংসারটাকে আমি দেখতে শিখেছি । তহি জানি, ভালাে সময় কোনােদিনও আসবে না আমাদের বাড়িতে । কোনােদিন আমার বিষয়বুদ্ধিহীন বাবা ব্যবসায় উন্নতি করতে পারবেন না । আমার মা সংসারী হবে না । একটা উপার্জনহীন অহেতুক গানের ইস্কুল নিয়ে পড়ে থাকবেন । আমার কাকিমা চিরকাল আলাদা হতে চাইবেন। কাকার একার রােজগারে কুলােতে পারবেন না বলে চিরকাল এই বাড়িতে বাধ্য হয়ে মুখ গোঁজ করে থাকবেন। ঠাকুমাও চিরকাল কাকিমাকে বেশি খ্যাচখ্যাচ করে যাবেন , আর মাঝে মাঝেই উচ্চস্বরে সবাইকে শুনিয়ে বলবেন, রুনির বিয়ে হােক, ওর কাছে ওর শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে থাকব , তবু এই বাড়িতে কোনােদিন আসব না।

তবে হয়তাে আমার বিয়ে হওয়াটাই ঠাকুমার কাছে একমাত্র সুখের সময় । ঠাকুমাকে প্রতিবেশীরা আড়ালে ছিচকাঁদুনে বলত । ঠাকুমার দুঃখের কথা , ঠাকুমার ‘নেই নেই’ কেন ফুরােয় না । লােকে বলত জগতের যত কষ্ট কি তাের ঠাকুমার ? বকবক করে বুড়ি বউ দুটোর জীবন অতিষ্ঠ করে তুলল । 

ঠাকুমার কাছে সব সময় থাকতাম বলে জানতাম দুঃখের কথাগুলাে ঠাকুমার কাছে আর তেমন দুঃখের নেই । বড় হয়ে উঠছিলাম, নিজের চোখ গজাচ্ছিল । ঠাকুমা বাবাকে যতখানি বোকা ভাবতেন বাবা তা ছিলেন না । মা বাড়ির সবাইকে লুকিয়ে গানের স্কুলে উপার্জিত অর্থ নিজের নামে ব্যাঙ্কে জমাতেন । কাকা, কাকিমার অনুগত হয়ে বাড়িতে থাকলে কী হবে , অফিসের এক সহকর্মীর সঙ্গে কেমন এক ধরনের বউ বউ আচরণ করতেন। কাকিমার সে সংবাদ কিছু অজানা ছিল না । ঠাকুমা হয়তাে তা কিছু কিছু জানতেন, তবু কখনাে কাকাকে দু-কথা বলেননি । আমার মাকেও সরাসরি কিছু তিনি বলেননি । সংসারের খরচ কমানোর কথা ঠাকুমা মুখে যতখানি বলতেন , নিজেই সে কথা এইরকম সময়ে পালন করতে ভুলে যেতেন । মাঝে মাঝেই কোনাে না কোনাে ভালো রান্না খেতাম তখন। ঠাকুমা পিঠে তৈরি করতে ভালোবাসতেন। নানারকম পিঠে করে দানধ্যানও করতেন । আমার বাবা তখন দোতলা ওঠাচ্ছেন।

ভেতরে ভেতরে ঠাকুমার ভালাে সময়টা অনুভব করি । স্কুল থেকে ফিরি প্রচণ্ড দুর্ভাবনা নিয়ে । যদি বাড়ির সামনে গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে দেখতে পাই । বিনুদির মাকে যেমন গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল , সেরকম গাড়ি । বুক ধক ধক করত । দৌড়ে দৌড়ে সারা রাস্তা এসে পা টিপে টিপে ঢুকতাম। কান খাড়া করে থাকতাম , কোনাে কাতর কান্নার আওয়াজ পাই কিনা । কোনাে ফিসফিস শােনা যায় কিনা । শেষ পর্যন্ত কোনাে না কোনাে কাজে ব্যস্ত ঠাকুমাকে দেখে শান্তি পেতাম । 

আমি জানতাম , এ সময় ভালাে যাচ্ছে । ঠাকুমা মানতেন না । কোনাে কোনাে ছুটির দিনে ছাদে বসে দুপুরবেলা তিনি তাঁর ছেলেবেলাকার খাঁটি সোনার দিনগুলােতে ডুবে যেতেন । আমিও চোখের সামনে পরিস্কার দেখতে পেতাম আলােয় ডােবানো সেসব ছবি।

মামাদের পুকুরেতে ফেলাইলাম জাল

তাতে উঠল এক রাঘববােয়াল। 

ওরে রুনি, আমাদের দেশে কী মাছ রে ! কত মাছ যে তােকে খাওয়াতে পারলাম না । কী আপশােস । তেমন মাছ তাে চোখেই দেখলি না । যত জল তত মাছ । তখন তাে সব্বাই মাছ ধরতে জানত । বাংলাদেশের মানুষ জলের পােকা । এক একটা জাল ওঠে , আর রাশি রাশি বাতাসী , চেনা , মেনি , ট্যাংরা , কাতলা , চাঙ্গা কিলবিল করে । 

আমি আমাদের বাড়ির সামনেই কচুরিপানা আর আবর্জনায় ঢাকা পুকুরটার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে মাছের গল্প শুনি । ভাবি, কোনােদিন হয়তাে এ পুকুরটা এমন কেউ লিজ নেবে, যে পানা সরিয়ে প্রচুর মাছ ছাড়বে । পুকুরের পাড়গুলােতে আম , জাম , কাঁঠালের জঙ্গল করে দেবে । না হলে অন্তত বেতঝােপ, তার টক টক বেথুইল ফল - যা নুন লঙ্কা মেখে খাওয়া যাবে । যেসব গাছপালা আমি কোনােদিন চোখে দেখিনি সেসবে ভরে যাবে আমাদের চারপাশ । কিন্তু সেদিন কি কোনােদিন হবে ? কোনােদিন কি পানা ওঠালে ঠাকুমার দেশের মতাে দেখতে পাব পানার শিকড় ধরে গুচ্ছের কইমাছ দাঁড়িয়ে আছে ? 

সেই সোনার দেশ আর নাইরে রুনি । 

আমি সংশয় প্রকাশ করি । থাকবে না কেন , ম্যাপ আনি , দেখাই । ঠাকুমা ফোকলা দাঁতে হাসলেন । পাগল মেয়ে , দেশ কি কারুর কাগজে থাকে । আমি কীভাবে প্রমাণ করব বুঝে পাই না । শুধু বলি , বড় হই , তােমাকে নিয়ে যাব ।

আমার প্রতি অনাস্থায় তিনি হাসেন । তাই নিয়ে যাস । তবে সেখানে গিয়েই যেন মরি । আমার বাবা-মা যেখানে শুয়ে আছে , সেখানেই যেন শুই । আরে সে দেশের কথা শুনে তােদের গল্প মনে হবে । আমার শ্রীপতি জ্যাঠা মরল বর্ষার দিনে । কোথাও একফোটা ডাঙা নেই যে পােড়াবে । জলে জল । এ ঘর থেকে ও ঘরে কলার ভেলায় যাই । এমন দিনে মরণ তাে কথা শুনবে না । সে আসবেই । তারপর তাকে নৌকার ওপরেই চিতা করে পােড়ানাে হল । 

ঠাকুমার এইসব গল্প বিশ্বাস করি আর নাই করি , মৃত্যুর গল্প শুনতে ভালাে লাগে না । মরার গল্পও যে গল্প । বলতে শুরু করলে থামতে জানবে না । আমি তাকে থামিয়ে বলি , ভালো কথা বলো, ভালো গল্প করো। তোমার চিনিদিদির বিয়ের গল্প বলো না, যেখানে প্রথম ঠাকুরদাকে দেখেছিলে।

আমার চিনিদিদির ছোট দেবর তো তোর ঠাকুরদা। তা এ দেশে ওরা আগেই এসেছিল। আমার ভাসুর গণ্যমান্য ছিল। ছেলেরাও ভালো দাঁড়িয়েছে। তা আমার সঙ্গে যে ব্যবহার সে দেখিয়েছে।

ঠাকুমা আবার সেই দুঃখের পাঁচালি খুলে বসেছে দেখে আমি চেঁচাই- আহ, তোমাকে এ দেশের কথা বলতে কে বলল, তুমি বিয়ের গল্প করছিলে না?

হ্যাঁরে, সে কথা বলছি। আর তোর বাপ-কাকদের যে ছিরির বিয়ে হল। টাকা খরচ করলেই যেন সব হয়। খ্যা খ্যা করে মাইক বাজালেই যেন যত আমোদ।

আমি ঠাকুমাকে সতর্ক করে দিই। ঠাকুমা, আবার তুমি বেলাইনে ঘুরছ। কারণ আমি জানি এরপর কী কী কথা আসবে। আমি ঠাকুমাকে প্রাণপণে সেই স্বপ্নের দিনগুলোতে নিয়ে যাই। আমিও এক পা এক পা করে সেখানে গিয়ে দাঁড়াই। 

হ্যাঁ, চিনিদিদি আমাদের গুষ্টির মেয়েদের মধ্যে সবচেয়ে ভালাে বরে, ভালাে বাড়িতে পড়েছিল। তাতেও রাক্ষসীর মন ভরেনি । তার বিয়েতে নহবত বসেছিল । হ্যাঁ, সেখানে তোর ঠাকুরদাকে প্রথম দেখি । নিতবর হয়েছিল, বুঝলি না । তা চিনিদিদির নিজের নিজের দেওর তাে নয় । মামার ছেলে। নইলে কি এই হাল হয়? চিনি জামাইবাবুদের কত বুদ্ধিশুদ্ধি । এ দেশে এসে কত কী গুছিয়ে নিয়েছে । তাের ঠাকুরদার মতাে কি আমাকে খাটিয়ে মারলে ? কত কক্ট যে দিয়েছে!

আবার বেলাইন, সেই বিয়ের ক-টা গান শােনাও না । 

হ্যাঁ রে, সেই বিয়ে কেন , সব বিয়েরই এক গান । রাম-সীতার গান । কেউ কখনও ভাবতে পারত, এ আমলে সেসব গান একেবারে উঠে যাবে ! ঠাকুমা ফোকলা মুখ নাড়িয়ে নাড়িয়ে গাইতে লাগলেন-

তােরা আয় লাে সকলে 

আমার রামচন্দ্রকে স্নান করাব সুশীতল জলে । 

আর সীতা নেই ? 

হ্যাঁ রে রুনি , ভুল হয়ে গেছে । তাের বিয়ে লাগলে তাে গাইতে হবে, ওগাে সীতার মা , হলুদ কুটো গাে । ডালা ভরো , কুলাে ভরাে হলুদ কুটে কুটে । 

আমি লজ্জা পাই, বলি, ভ্যাট। 

হ্যাঁ রে, আমি বেঁচে থাকলে আমিও গাইব- ও সীতার মা, শীতলপাটি বােনো গো ,রাম সীতা পাশা খেলবে। জোলার বাড়ি খবর দাও , লাল শাড়ি বুনুক গাে , মালিকে খবর দাও , টোপর মুকুট বানাক গাে। তবে এ গান তাে রুনি বিধবার গাওয়া চলবে না , সধবার গান । তেল-সিঁদুর কপালে নিয়ে মুখে পান-সুপরি পুরে তবে গাইতে হবে । তা সধবা না হলে কুমারীও চলবে । তাের বন্ধুদের সব ডাকিস , শিখিয়ে দেব । 

সেসব শেখানাের দরকার নেই । আমার মা হলুদ কুটে কুটে মরবে নাকি । ক্যাটারার নেই বাজারে? জোলার বাড়ির শাড়ি পরব আমি ? বেনারসী পরব , বেনারসী- বুঝলে।

হ্যাঁ হ্যাঁ, তাই পরবি । তাের বাপ-মা তােকে পােছে না । তাের বােনকে নিয়ে গদগদ হয়ে আছে । তাের বিয়ে আমি থাকতে দিয়ে যাব । অল্প বয়সে বউ হলে সব দিক থেকে ভালাে , নইলে তাের কাকিমার মতাে…

আমি ঠাকুমাকে ও প্রসঙ্গ পাড়তে দিই না । ঠাকুরদার কথা হচ্ছিল মনে নেই ? তােমাদের প্রেমপর্বটা বলো । 

কী যে বলিস রুনি । সেকাল কি একালের মতাে বেহায়া ছিল ? আমি ছােট , তখন কি এসব বুঝতাম । বাড়ির সকলের যে কী ছাই মনে উঠল । সবাই রাগাতে লাগল । কী ওদের ঘরে , কী আমাদের ঘরে । আর কী বলব , চিনিদিদির শাশুড়ির বাপের ঘর , শ্বশুরঘর গাঁয়ের এ পাড়া ও পাড়া । চিনিদিদি বাপের বাড়ি যাচ্ছে শুনেছে কী সেই নৌকার সামনে এসে গেল । ওর বর আসত না , ওই আসত । 

আর তােমরা লুকিয়ে লুকিয়ে খুব চালাতে , তাই না ! 

ও কি আমার পিছু পিছু ঘুরত নাকি রে ? এ জঙ্গল ও জঙ্গল ঘুরত । হাতে থাকত ছুরি । ডােমদের মতাে বেতের ঝুরি-টুরি বানাত । একটা তাে তুই দেখেছিস রুনি । 

আর কিছু হয়নি ঠাকুমা ? তুমি আমার কাছে লুকোচ্ছে । 

ঠাকুমার ধূসর হয়ে যাওয়া চোখ যেন ভেসে উঠল আমার কথা শুনে । পুরােনাে ঝুলি হাতড়ে যেন বের করছেন একটা দুটো কথা । 

বাড়িতে এসে সে তাে খুব হুল্লোড় লাগাত । বাবা-জ্যাঠারা , এমনকী বউদিরা পর্যন্ত ওর কথায় হেসে হেসে মরে যেত । ওর পেটে যে কী আছে কেউ ধরতে পারত না সহজে । সবাইকে জাদু করতে জানত। 

—আমার ঠাকুরদার রূপখানা কী ছিল তার কথা একবার তাে বলবে । আমি যদি অমন বর পাই তাে বর্তে যাব ঠাকুমা । 

বালাই ষাট , আমার মতাে কপাল নিয়ে ঘর করবি তুই , মরে যাই । 

তােমার কপালখানা আমি ভালােই দেখেছি ঠাকুমা , তুমি সেই দোলপূর্ণিমার গল্পখানা বলাে । 

কত বার তাে তােকে সে কথা বলেছি রুনি । বার বার তােকে বলি , মনে করিয়ে দিস না । আমাদের বাড়িতে তাে রাধামাধব ছিলেন । তাঁর ঘটা করে দোলযাত্রা হত । চিনিদিদিরা সবাই আসত । সে সময় ভর্তি বাড়ি । সন্ধেবেলায় পুজোর পর আবির নিয়ে মাখামাখি হত খুব । আমরা বড়দের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতাম । তারে প্রণাম করতে গেছি , অমনি সে সারা মুখে আবির দিয়ে ভূত করে দিল । চিনিদিদি দেখেছিল তা । রাগ করেছিল খুব । তারপর সব কানা লােকগুলাে ওর সঙ্গে আমার বিয়ে দিয়ে দিল । 

কানা কেন বলছ ঠাকুমা, অত সুন্দর দেখতে । একেবারে রাজপুত্তুর । 

এই বুড়াে বয়সেও ঠাকুরদার প্রেমে ঠাকুমার চোখের কোনা ভিজে উঠত । আমারও বুকটা টনটন করত। আমি পরিবেশ হালকা করার জন্য বলতাম , অমন ভালাে সময়ে তাে তুমি অনায়াসে মরে যেতে পারতে । অত জল । গলায় কলসী বেঁধে ডুবতে পারতে । জ্যোতিষী বলেছে- ভালাে সময়ে নাকি তুমি মরবে ? যত আজেবাজে কথা ।

তাহলে যে সব চুকেবুকে যেত রুনি । এত কষ্ট সইবে কে ? যা ওঠ , পােড়ামুখীকে দেখে আয় , কী করছে । বল একবার আমি ডাকছি । 

আমি কাকিমাকে ডাকতে যেতাম । ঠাকুমা বাতাসকে উদ্দেশ্য করে কাকিমার সম্বন্ধে বিড়বিড় করে বকত , স্বামীকে বিষ খাওয়াল । নিজে খেতে পারল না হতভাগী । 

আমি বিরক্ত হয়ে বললাম , কী বাজে বকছ ? কাকে বলছ এসব কথা ? 

রেগে উঠত ঠাকুমা । বড়দের কথায় কান দিস না তাে রুনি । তাের ওই এক স্বভাব । নিজেকে বলছি , নিজেকে । সারাজীবন ধরে বিষ খাইয়েছি স্বামীকে । মধু দিতে পারিনি একদিনও , বুঝলি । চিনিদিদির মতাে কি আমার চিনি ছিল ? ঠিকই বলেছিস তুই । তার থেকে নিজে যদি বিষ খেয়ে মরতাম , তবে ভালাে সময় আসত বইকী । 

ঠাকুমার এই পাগলামিতে বিরক্ত হয়ে আমি কাকিমার ঘরে যাই ঠিকই । কাকিমা কাকার জন্য তখন সােয়েটার বুনছেন খাটে বসে । কাকিমার সঙ্গে এটা-সেটা গল্প করি , তবু ঠাকুমা যে তাঁকে ডেকেছেন , সে কথা ইচ্ছে করেই বলি না । আমি কাকিমার পানপাতার মতাে মুখ দেখতে দেখতে কাকার কথা ভাবি । কাকার অন্য সম্পর্ক আছে সে কথা বাড়ির সবাই জানে । তবু আমরা সবাই কিছু না জানার ভান করি । কাকিমাও কাকার প্রশংসা করেন শতমুখে । কাকার জন্য সেজেগুজে বসে থাকেন । কোথাও এতটুকু ফাঁক নেই । 

আমার জীবনটা আজকাল কেমন ফাঁকা লাগে । গেল পুজোর সময় অতসীদের সঙ্গে রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়েছিলাম । অতসীর নতুন বয়ফ্রেন্ড দীপকদা আমাদের খাওয়াল । অতগুলাে মেয়ের মাঝে ওই মধ্যমণি । অতসী অহংকারে ফেটে যাচ্ছে , টেবিলের তলায় বার বার দীপকদার পা আমার পায়ে এসে ঠেকছে । 

না , দীপকদাকে আমি ভালােবাসি না । ভালােবাসা আমার পক্ষে সম্ভব নয় । ওর সঙ্গে আমার বিয়ে হতে পারে না । প্রেম হতে পারে না , কিচ্ছু হতে পারে না । তবু ওর কথা মাঝে মাঝে এত মনে হয় কেন কে জানে । দীপকদা অতসীর সন্ধানে কতদিন কলেজের গেটে দাঁড়িয়ে থাকে । দেখা হলে কথা বলি । অতসীকে ডেকে দিই । অতসী যেদিন আসে না , সেদিন ওর সঙ্গে এমন গল্পে মজে যাই , যে একটার পর একটা ক্লাস বাদ পড়ে যায় । ও আমাদের বাড়ি আসতে চায় । বলে , একই পাড়ায় থাকি , তবু কোনােদিন তুমি আমাকে ডাকলে না। আমি তাকে নিরস্ত করি । বলি , আমাদের রক্ষণশীল বাড়ি । বাড়িতে বুড়ি ঠাকুমা আছে, অশান্তি হবে। দীপকদা কে জানে কী ভেবে বলে , তােমার ঠাকুমা আছেন তাে কী হয়েছে ? ঠাকুমা কি তোমার কোনাে পুরুষ সঙ্গী হােক চান না ? নাতনিকে একটা ভালাে ছেলে বিয়ে করুক, এটাও কি তিনি চান না ? আমি ম্লান হাসি । তবু ঠাট্টা করে বলতে পারি না- কে বিয়ে করবে, তুমি? কে জানে ওইটুকু ভেতরের কথা বলতে গিয়ে আমি নিজেকে ভাসিয়ে দেব কিনা। ঠাকুমার নির্দেশবাণী কানে বাজে । দেখেশুনে বিয়ে করিস রুনি । তােরা তাে আমাদের মতো অজ্ঞান অবস্থায় বাচ্চাবেলাতেই বিয়ে করবি না । বিয়ে হচ্ছে সাংঘাতিক জিনিস। একবার যদি গোলমাল হয়ে যায়, সারাটা জীবন নষ্ট হয়ে যাবে। একবার যদি গােলমাল হয়ে যায় , সারাটা জীবন নষ্ট হয়ে যাবে । 

সব জানি আমি । জ্ঞানপাপী । আমার বয়স হয়েছে । নিজেকে প্রাচীর দিয়ে রাখতে জানি । তবু কী করে বােঝাব আমায় ছােট থাকতে ইচ্ছে করে , ভুল করতে ইচ্ছে করে । গােপনে আমি চোখের জলে ভেসে যাই । 

ঠাকুমা মাস তিনেক বিছানায় শুয়ে আছেন । ডাক্তার এখন জ্যোতিষীর ভূমিকা নিয়েছেন । নিদান দিয়ে দিয়েছেন । শেষ সময় চলে এসেছে । এখন যে কোনােদিন যে কোনাে সময়ে তিনি চলে যেতে পারেন । এই কথা জানার পর প্রথম ক-দিন কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছিল না। তারপর ক-দিন আর সবাই ঘরে বসে থাকবে? কাকিমা কেবল ঠাকুমার পাশটিতে চুপ করে বসে থাকতেন । কখনাে কখনাে আমি যেতাম । কিন্তু বেশিক্ষণ নয় । যে মানুষটা আমার কাছে চরম সত্য ছিল , তাঁর ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে আসাটা মানতে হয়তো পারতাম , কিন্তু চোখে দেখতে পারতাম না । ঠাকুমার ঘরের দরজার বাইরে ব্যালকনিতে একটা মােড়া পেতে সারাক্ষণ বসে থাকতাম । 

ঠাকুমা কথা বলতেন না , চোখ খুলতেন না , তবু মাঝে মাঝে চিৎকার করে উঠতেন । বাবার নাম ধরে , কাকিমার নাম ধরে , আমার নাম ধরে ডাকতেন । ঘােরের মধ্যেও কাকিমাকে পোড়ামুখী সম্বােধন করলে কাকিমা হাসতেন । হাসির মধ্যেও চোখের কোনা বেয়ে কখনাে গড়িয়ে যেত জল । কেউ থাকলে তাকে লুকোনাের জন্য ব্যস্ত হতেন । হঠাৎ এরকম এক দিন তার ঠোঁট আবার নড়ে উঠল । মুখের কাছে মুখ নিয়ে গেলেন কাকিমা । আমিও উপুড় হয়ে শুনলাম । ঠাকুমা গান গাইছেন—

তাের আয় লাে সকলে 

আমার সীতা মাকে চান করাব সুশীতল জলে । 

কাকিমা বললেন , রুনি , মা মরতে মরতে বিয়ের গান গাইছেন , তবে কি তাের বিয়ের ফুল ফুটে গেল । এ কথা শুনে আমি আর নিজেকে সামলাতে পারলাম না , একছুটে ছাদে এসে একা একা আকুল হয়ে চোখের জল ফেললাম । 

আর তার কয়েকদিন পরই আমার সঙ্গে দীপকদার বিয়ের সম্বন্ধ করতে দীপকদার বড়দা বাবার সঙ্গে দেখা করলেন । আমি দরজার আড়াল থেকে সবই শুনছি , ওর বড়দা বলছেন , আপনার মেয়েকে আমার ভাইয়ের বিশেষ পছন্দ , আমাদের সকলেরই পছন্দ । আর দীপক তাে অযােগ্য পাত্র নয়।

সব শুনে আমার মাথার ভেতর একটা বোঁ বোঁ শব্দ হতে লাগল । বুকের মধ্যে আনন্দ, দুঃখ , না কী এক অনুভূতি পাখা ঝাপটাতে লাগল । আমি একবার ঠাকুমার কাছে যাই , একবার বারান্দায় দাঁড়াই । শান্তি পাই না কিছুতেই । দীপকদা যে এমন কিছু একটা করতে পারে তা তাে আমি স্বপ্নেও ভাবিনি । ভেতরে ভেতরে যাকে হয়তাে একান্ত গােপনে চাইতাম সে যখন নিজেকে উন্মুক্ত করে মেলে ধরল , তখন কি আমার সব আকর্ষণ নিমেষে উবে গেল ? হায় , বুকের ভেতর যে কালশিটে পড়ে গেল । 

আমাকে বাঁচালেন আমার বাবা-মা । কিছুদিন সময় নিলেন । বাবা ওর দাদাকে বললেন , বাড়িতে অসুখ চলছে । এ অবস্থায় এসব কথা বলতে ভালো লাগছে না । মনে থাকল আপনাদের কথা। মেয়ের তাে আমাকে বিয়ে দিতে হবে । তবু এই সমা ওকে টানাটানি করব না। মা আমাকে ডেকে বললেন , রুনি , একদম বাইরে যাবি না তুই । বড় হয়েছিস। 

আমি মনে মনে বললাম , হ্যাঁ মা , বড় হয়েছি মা , আমি তো নিজের চারদিকে প্রাচীর তুলছি । তবু রেহাই পাচ্ছি না কেন ? ঠাকুমা কি একেই ভালাে সময় বলতেন ? তুমি যা চাও সব হাতের কাছে এসে যাবে । বাবার দোতলা বাড়ি হল । বাড়ির টাকাপয়সা যে বেড়েছে তা তো আমােদ আহ্লাদের খরচপত্র দেখলেই বােঝা যায় । কারও নতুন চাকরিতে প্রমােশন হয়েছে । কাকাকে আজকাল অনেকক্ষণ অফিসে থাকতে হয় । মায়ের গানের ইস্কুলও রমরমিয়ে চলছে। ঠাকুমা যতখানি চেয়েছিলেন , কাকিমা তার চেয়ে বেশি তাঁর অনুগত হয়েছেন । কিন্তু এসব চোখে চেয়ে দেখছেন না । সংসার ঠেলার কষ্ট নিয়ে , তার স্মৃতি নিয়ে , শরীরে ব্যথা নিয়ে সংসার ছেড়ে চলে যাচ্ছেন । ভালাে সময় সামনে থমকে দাঁড়িয়ে থাকে । তাকে কিছুতেই আমরা ভােগ করতে পারি না । 

আমাদের বাড়ি থেকে সামান্য দূরে ছেলেদের ক্লাব। দীপকদার সেখানে আসা-যাওয়া। কখনো ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে থাকলে ওকে দেখি। ও দূর থেকে হাসার চেষ্টা করে, নীচে নেমে ওর সঙ্গে কথা বলতে বলে। মুখে অনুনয় ফোটায়। আমি দৌড়ে পালিয়ে আসি ভেতরে। বােঝাই, নিজেকে বােঝাই। আমার শরীরটা যেন দুমড়ে মুচড়ে যায়। আমার কী করা উচিত আর কী উচিত নয়, তার লড়াই করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। হায় ভগবান! গ্রহণ, বর্জন- কোনাে কিছুতেই যে মন সায় দেয় না।

ঘোর বসন্ত এসে গেল। ঠাকুমার শয্যা নেওয়া চার মাসে পড়ল। পুকুরের ধারের কৃষ্ণচূড়া ফুল ফুটিয়ে ফুটিয়ে নিজেকে নিঃশেষ করার নেশায় মাতল। ডাক্তার বললেন, আর মাত্র কয়েকটা দিন। 

সেই দিন শেষ হতে হতে দোল এসে পড়ল । আমাদের রাধামাধব নেই , পুজো-অর্চনা কিছুই নেই । নীচের দরজা-জানলা বন্ধ করে রাখি রং দেবার ভয়ে । ক্লাবের ছেলেরা বাদরমার্কা লাল-সবুজ রং মেখে হল্লোড় করে । ঢােল বাজিয়ে নাচে । ভালাে লাগে না । তবু দেখি । ছেলেরা রং দেবার জন্য দরজা খুলতে বলে । মা ওপর থেকে তাদের নিরস্ত করেন । দীপক আসতে চায় । দরজা যেন ভাঙতে চায় । ও হাতময় পাকা রং আনে । যা একবার মাখলে সহজে মুছবে না ।

দাঁড়িয়ে দাড়িয়ে ওদের মাতন দেখছি । বেশ কয়েকদিন একেবারে থেমে থাকার পর হঠাৎই ঠাকুমার গলা শুনি । শুনে ছুটে যাই । 

আমার সতীন এসেছে , ওদের ঘরে ঢুকতে দিস না রুনি । আমি অবাক হই । ঠাকুমার হাতখানা ছুঁই। ঠাকুমা তাঁর দুর্বল হাতে যথাসম্ভব জোরে আমাকে চেপে ধরেন । রুনি , তাের ঠাকুরদা ওর সঙ্গে এসেছে কী করতে রে? ওদেরকে আমি সহ্য করতে পারছি না । রুনি ওদের তাড়া, তাড়া । আমি একা যেতে পারব । আমাকে কাউকে নিয়ে যেতে হবে না । ঠাকুমা আমার হাত নাড়া দিচ্ছেন। আমি বলে যাচ্ছি, কোথায় কাকে দেখছ , কেউ তাে নেই । কেবল কাকিমা আর আমি। ঠাকুমা আবার নেতিয়ে গেলে আমি মুখে প্রশ্নচিহ্ন নিয়ে কাকিমার দিকে তাকালাম। সতীন কাকে বলছেন কাকিমা? 

কাকিমা মুখ না উঠিয়ে ফিসফিস করে বললেন- চিনিমসি। মনে হল কে যেন মুহূর্তে আমার হৃৎপিণ্ডে পিন ফুটিয়ে দিল। আমি চমকে কাকিমার দিকে তাকালাম । কাকিমা আরও কিছু বলতে চাইছিলেন । আমি সে সুযােগ না দিয়ে আবার ব্যালকনিতে এসে বসলাম। সব যে নিমেষে আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে । 

বেলা গড়াচ্ছিল না । বাবা-কাকা-মা সবাই ঠাকুমার চারপাশে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল। ডাক্তারকে ফোন করা চলছিল। তারমধ্যে ঠাকুমা চলে গেলেন । ঠাকুরডাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন । এবার এতদিনে আবির প্রত্যাখ্যান করলেন ।

দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে । রঙিন ছেলেরা একে একে ঘরে ঢুকছে। একটি ঘরে একা দাঁড়িয়ে আছি স্থির হয়ে । বাড়িতে কান্নার রােল । কথায় কথায় যে আমি কান্নায় ভাসিয়ে দিই, সেই আমার চোখ থেকে এক ফোঁটা জল বের হচ্ছে না । আর যে ' আমি বিদায় দিতে পরিপূর্ণ প্রস্তুত।

তুমি কি ভেঙে পড়েছ রুনা ? দীপকদার গলা । আমি জানতাম ও আসবে । কিন্তু ও কত কাছে দাঁড়িয়ে ছিল কে জানে । আমিও তাে আনমনা ছিলাম । সামান্য ঘুরে ঘাড় নাড়াতেই স্পর্শ হয়ে গেল। কনুইয়ের কাছে খানিক রং লেগে গেল। সেদিকে তাকিয়ে ম্লান হাসলাম। দীপকদা বােধহয় উৎসাহ পেল । বলল, তুমি মাখতে চাও না । এ কিন্তু উঠতে সময় নেবে । নাও উঠতে পারে কোনােদিন । বলে ইঙ্গিতময় হাসল । 

আমি ঘাড় নাড়লাম । এতদিনে স্পষ্ট ওর দিকে তাকিয়ে বলতে পারলাম; বললাম- চাইলেই কি সব রং পাকা হয়? এ রংও উঠে যাবে । আমি জানি, দেরি লাগবে না ।



লেখক পরিচিতি
অহনা বিশ্বাস
কথাসাহিত্যিক
শান্তিনিকেতনে থাকেন।

৪টি মন্তব্য: