সাজেদা হক

গল্পের প্লট সত্যিই একটি বড় সমস্যা।প্লটই বলে দেবে আপনার গল্পটা আসলে কিসের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এমন অনেক ভালো ভালো প্লট আছে যার উদাহরণ দেয়া হয় যুগে যুগে, আবার এমনও প্লট আছে যেগুলো উদাহরণ দেয়া হয়, তবে খারাপ অর্থে। সুতরাং যে সাহিত্যই রচনা করেন না কেন, সেটা যেনো আপনাকে, আপনার পরিচয়কে প্রতিনিধিত্ব করে। আপনার মর্যাদাকে বহুগুন বাড়িয়ে দেয়। তাই একটি ইউনিক প্লট তৈরি করাটা লেখকের জন্য একইসাথে অত্যন্ত গৌরবের এবং কষ্টসাধ্যের। যাই হোক এবার আমরা একটু জানবো কিভাবে একটা নিজস্ব গল্পের প্লট তৈরি করা যায়।


আসুন কি ধরণের গল্পগুলো সাধারণত হয়, তার একটা তালিকা করি :

ছেলে-মেয়েতে বন্ধুত্ব
খারাপ ছেলে-ভালো মেয়ের প্রেম
শিক্ষক-ছাত্রের প্রেম
সর্বসম্মতিতে বিয়ে

....হ্যা, ঠিক ধরেছেন, এভাবেই তালিকাটা করতে থাকুন।পেয়ে যাবেন আপনি আপনার কাঙ্খিত গল্পের ইউনিক প্লট।


তারপরও পল্ট তৈরির কিছু কৌশল আছে। এখানে পাঁচটি কৌশলের কথা আলোচনা করা হলো।


১. 
অপ্রাসঙ্গিক দুটি বিষয়কে মিলিয়ে একটি প্লট তৈরি করুন। 
কিংবা একদম বিপরীতমূখী দুটি ভিন্ন ভিন্ন ঘটনাকে একীভূত করে একটি সাহিত্য নির্মাণ করা। সেটা হতে পারে কারো জন্মদিন, ভালোবাসা। দুটি বিষয় ভিন্ন কিন্তু আপনি চাইলেই একীভূত করতে পারেন! কি, পারেন তো?


২. 
গল্পের রুপান্তরিত গল্প তৈরি করুন। 
সোজা সাপটা কথা হলো যে গল্পগুলো এতোদিন ধরে মানুষ পড়ে এসেছে, সেগুলোর ভবিষ্যত ভার্সন তৈরি করতে পারেন। যেমন ধরেন আমাদের ডালিম কুমার। সেই যে সাত সমুদ্র তের নদী পেরিয়ে রাজকন্যাকে উদ্বার করলো, তারপর তার কি হলো তা আজো আমরা জানি না। জানান না আপনি!

যেমন করে থেমে নেই সিনডারেলার অভিযান। হ্যামলেট তো সিনডারেলার পরেও কল্পকাহিনী লিখেছেন। সে কল্পকাহিনীগুলোও কিন্তু বেশ সমাদৃত। দ্য লায়ন কিং, রোমিও জুলিয়েট কিন্তু মুল গল্পেরই রুপান্তার। সিনডারেলার কাহিনীর উপর ভর করেই কিন্তু লেখক বেল ওয়াটসন লিখেছিলেন, কল মি এলা সাহিত্যটি। সেটিও জনপ্রিয়তা পেয়েছে বেশ।


৩. 
চিন্তার উম্মেষ ঘটান
মনের মধ্যে গুড় গুড় করছে গল্পের প্লট, দ্রুত লিখে ফেলুন। একটা তালিকা করুন। কি কি বিষয় হতে পারে। প্রেম, বিরহ, ভালোবাসা, দ্বন্দ্ব, প্রতিশোধ, প্রতিবাদ, গাছ, পাখি, ঘাস, ফুল, ফল, বাতাস, স্বভাব, অন্যায়, অপরাধ, পাহাড়, নদী, সাগর, মাছ, মতস কন্যা, জীবন, জীবিকা- যা মনে আসে আপনার তার একটা তালিকা তৈরি করুন। তারপর ভাবুন কোনটা সবচেয়ে আকর্ষক!

৪. 
গল্পের শুরু এবং শেষ চিন্তা করুন
শুরুতেই গল্পের শুর এবং শেষ চিন্তা করে রাখুন। মাঝে কি হবে তা নিয়ে এখনি ভাবার দরকার নেই। শুরু আর শেষ ভাবুন। এবার দুটি বিষয়কে জোড়া দিতে অন্যান্য চরিত্র বা উপাদানগুলো যোগ করুন। যেমন ধরেন শুরু করতে পারেন কারো মৃত্যু দিয়ে। অস্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারে সেটি। কিংবা স্বাভাবিক মৃত্যুও হতে পারে। ফলে এতিম হয়ে গেলো আপনার প্রধান চরিত্র। কিংবা খুনী হয়ে উঠলো আপনার প্রধান চরিত্র। এবার ইচ্ছামতো এগিয়ে যান। যোগ করুন, আরো চরিত্র, বৈশিষ্ট্য, স্থান, কাল। শেষ এমনভাবে করুণ যেনো পাঠক কোনোভাবেই আপনার উদ্দেশ্যকে আগে থেকেই অনুমান করতে না পারেন।



৫. 
ভালোবাসা-ঘৃনা কৌশল
সবচেয়ে এবং সবসময় কার্যকর একটি কৌশল। ভালোবাসা আর ঘৃণাকে আপনার সাহিত্যের প্রধান চরিত্র বানান। তাতে যোগ করুণ ব্যতিক্রমী অবস্থান, নতুন চিন্তা আর আপনার চৌকষ অভিজ্ঞতা। দেখবেন পাঠক মুগ্ধ হয়ে পড়বে আপনার বই।