বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

অনুবাদকের সাক্ষাৎকার : জাফর আলম

‘অনুবাদকে সাহিত্য হয়ে উঠতে এর পাঠকদের উপর নির্ভর করে’

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : অলাত এহ্সান / কবির হোসেন


উর্দু সাহিত্যকে বাংলাদেশে পরিচিত করা ও জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি জাফর আলম। একটি ভাষাভাষি সাহিত্য অনুবাদে সারাজীবন নিয়োজিত থাকা অল্পকিছু অনুবাদকদের তিনি একজন। তিনি শুধু অনুবাদই করেননি, মান্টো, কৃষণ চন্দ, মুন্সি প্রেমচান, মুলক রাজ আনান্দ, ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ প্রমুখের সমগ্র সাহিত্য ও সামগ্রিক পরিচয় আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন।
পেশাজীবনে সরকারি চাকুরি গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও, নিষ্টা ও সততার সঙ্গে প্রায় দশক ধরে তিনি উর্দু সাহিত্য অনুবাদ করছেন। অনুবাদের অনেক দিকই তার উন্মোচিত। আছে অনুবাদের নিজস্ব ধরন। নিজস্ব পাঠকগোষ্ঠীও তৈরি আছে তার। তার বইয়ের সংখ্যা ত্রিশ। স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছে একুশে পদকসহ অন্যান্য পদ ও পুরষ্কার। প্রখ্যাত এ অনুবাদকের সঙ্গে কথা বলেছেন গল্পকার অলাত এহ্সান। সঙ্গে ছিলেন কবির হোসেন।

অলাত এহসান : অনুবাদ তো একটা পরিণত কাজ। আপনার কাছে অনুবাদক হয়ে ওঠার প্রস্তুতি কি রকম?

জাফর আলম : অনুবাদ হল একটি শিল্প। অনুবাদের জন্য ভাষার উপর দখল থাকতে হবে। শুধু দখল থাকলে চলবে না, আপনি যে গল্প বা উপন্যাসের অনুবাদ করতে চান সেটাকে পড়ে পড়ে প্রথমে আত্মস্ত করতে হবে। তারপর সেটাকে এমন ভাবে লিখতে হবে যাতে পাঠক সেটা বুঝতে পারে। বিদঘুটে শব্দ ব্যবহার বা আক্ষরিক অনুবাদ করলে তো চলবে না। পরিশ্রম করতে হবে। যে সাহিত্যের অনুবাদ করতে চান তার উপর ভাল জ্ঞান থাকতে হবে। সাহিত্যের সর্ব শেষ খবরাখবর সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। পাঠক কিভাবে নেয় সেটা সম্পর্কে ও ধারণা থাকতে হবে।


অলাত এহসান : অনুবাদ শুধু ভাষার পরিবর্তন নয়, ভাবের অনুবাদের ক্ষেত্রে ভাবের অনুবাদ তো একটা মৌলিক সমস্যা। আপনি এই সমস্যা দূর করতে কি করেন?

জাফর আলম : আমি তো আক্ষরিক অনুবাদ করি না, আমি আমার মত করে লিখি সহজ সরল ভাষায় যাতে পাঠকরা বুঝতে পারে।


এহসান : লেখার সঙ্গে, বিশেষত সাহিত্যের সঙ্গে দেশের ইতিহাস-সংস্কৃতি-মিথ ইত্যাদির গভীর ভাবে যুক্ত। সেক্ষেত্রে অনুবাদের জন্য লেখকের দেশ-সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা খুবই জরুরি। অনুবাদের দক্ষতা অর্জনের জন্য কোনো একটা দেশ বা মহাদেশ এবং ভাষাকেই বেছে নেয়া উত্তম। তাই না?

জাফর আলম : আসলে এটা নিজের উপর নির্ভর করে। আমাদের এখানে কিন্তু অনেকে উর্দু চর্চা করত। যেমন : নবাব আব্দুল লতিফের ভাই নবাব আব্দুল নাছির, খালিদ বাঙালী, মনির উদ্দিন ইউসুফ-উনারা ভাল অনুবাদ করত। ষাটের দশকে অনুবাদের ভালো চর্চা হত। বিমল মিত্রের ‘কড়ি দিয়ে কিনলাম’ও অনুবাদ হয়েছিল, চিন্তা করেন! তবে অনুবাদ উপমহাদেশের ভাষাকে নিয়ে করলে ভাল। তবে যার যার দক্ষতা অনুযায়ী বা চর্চা অনুযায়ী করতে পারলে ভাল।


এহসান : একজন লেখক তো লেখায় মেজাজ-মর্জি-ছন্দ-গতি দিয়ে লেখেন। অনুবাদেও সেই মেজাজ-ছন্দের জন্য সেই লেখকের ওপর প্রস্তুতি দরকার। অনুবাদের জন্য একজন লেখককে নির্বাচন করাই কি ঠিক হবে?

জাফর আলম : না, এমনটা নয়। তবে লেখক হতে হবে বামপন্থী চিন্তা ধারার। আমার কাছে লেখককে হতে হবে অসম্প্রদায়িক, মানবতাবাদী। মানুষের কথা না বললে তো সে আর লেখক হল না, বা ঐ লেখা অনুবাদ করে তো কোন লাভ নাই।


এহসান : একজন অনুবাদকের তৃপ্তি কোথায়, একটি অনুবাদ করায়, না একটি ভাষা-দেশ-সংস্কৃতি-লেখক সম্পর্কে গভীরভাবে জানা?

জাফর আলম : সংস্কৃতিকে জেনে তা পাঠকদের কাছে পৌছে দেওয়াটা, আমার কাছে তৃপ্তি।


এহসান : প্রায়ই শোনা যায়, অনুবাদ কোনো সাহিত্য নয়। অনুবাদকে সাহিত্য হয়ে ওঠায় অন্তরায়টা কোথায়? কি ভাবে সাহিত্য হয়ে ওঠতে পারে?

জাফর আলম : ভাষা জ্ঞান থাকতে হবে, পাঠকদের কাছে সহজ সরল ভাবে ফুটিয়ে তুলতে হবে। পাঠক সৃষ্টি করতে হবে। পাঠকরা যদি না পড়ে অনুবাদ তাহলে লাভ কি? আর অনুবাদের মাধ্যমে আমরা বিশ্বসাহিত্য সম্পর্কে জানতে পাড়ছি, অন্যান্য দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পাড়ছি। মোট কথা অনুবাদকে সাহিত্য হয়ে উঠতে এর পাঠকদের উপর নির্ভর করে। পাঠকরা যদি পড়ে, আনন্দ পায়, কিছু জানতে পাড়ে, বুঝতে পাড়ে, তাহলে অনুবাদ সাহিত্য উঠতে সক্ষম।


এহসান : অনেক সময় দেখা যায়, কোনো দেশের কিছু গল্প অনুবাদ করেই তাকে সেই দেশে ‘শ্রেষ্ঠগল্প’ বলে দিচ্ছে। বইয়ের ভূমিকায়ও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু থাকে না যে, এগুলো কেন শ্রেষ্ঠ গল্প? কিভাবে বাছাই করা হয়েছে? সেক্ষেত্রে পাঠকরা কি প্রতারিত হচ্ছেন না?

জাফর আলম : আসলে দেখেন আমি তো মান্টোর অনেক গল্প অনুবাদ করছি, কোনটা শ্রেষ্ঠগল্প বলা মুশকিল। একেক জনের বিবেচনায় আলাদা আলাদা হয়। যেমন-পাকিস্থান মান্টোর শ্রেষ্ঠগল্প বের করেছে। আমি সেটা অনুবাদ করেছি।


এহসান : আমাদের দেশে সাধারণত যে অনুবাদগুলো হয় সেগুলো মূলভাষা থেকে নয়, দ্বিতীয় কোনো ভাষা, বিশেষত ইংরেজি থেকে। তাহলে আমরা কি ‘সূর্যের রশ্মি থেকে তাপ না নিয়ে বালি থেকে তাপ নিচ্ছি’?

জাফর আলম : আমার কাছে একটি বই আছে, ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের; যেটার এক পাশে উর্দু আর এক পাশে ইংরেজীতে লেখা আছে, কিন্তু ইংরেজী ঠিক ভাবে অনুবাদ হয়নি। আবার বাংলায় যারা করছেন তারাও উর্দু ঠিক মত জানে না, এতে করে আমরা বইটির আসল স্বাদটি পাচ্ছি না।


এহসান : অধিকাংশ অনুবাদই বিশ্বের জনপ্রিয় বা বহুল আলোচিত, মানে ‘বেস্ট সেলার’ বইগুলো হয়ে থাকে। এই অনুবাদ দ্বারা একটি দেশের সাহিত্য কতটুকু উপকৃত হতে পারে?

জাফর আলম : হ্যা, উপকার তো হবেই। আমরা সেই দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারছি।


এহসান : বিশ্বের অনেক বিখ্যাত গ্রন্থ আছে যেগুলো ভাল, কিন্তু বহুল আলোচিত নয়, প্রকাশকরাও বিনিয়োগ করতে চায় না। সেক্ষেত্রে মানসম্মত সাহিত্য অনুবাদ কি করে পেতে পারি?

জাফর আলম : এটার মূল উদ্যোগ নিতে হবে বাংলা একাডেমীকে। তবে সমস্যা হচ্ছে এখন সেখানে উপযুক্ত লোক নেই। সেখানে এখন উপযুক্ত লোক নিয়োগ দিতে হবে। দরকার পড়লে বিদেশি বিভিন্ন ভাষাভাষীর লোক আনতে হবে।


এহসান : একটি দেশ উপনিবেশ মুক্ত হওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো বিশ্বের সেরা সাহিত্য, জ্ঞানগর্ভ-মননশীল-চিন্তাশীল বইগুলো ব্যাপক ভাবে, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগেই, দেশি ভাষায় অনুবাদ করা। আমাদের দেশে তা হয়নি। এটা কি আমাদের দেশে প্রভাব ফেলেছে মনে করেন?

জাফর আলম : অবশ্যই, আমাদের তো ঠিক মত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লেখা হয়নি।বিচ্ছিন্ন ভাবে লেখা হয়েছে। নতুন প্রজন্মকে তো সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। চিন্তাশীল বইগুলোও তাই।


এহসান : ট্যাকনিক্যাল শব্দগুলো ছাড়াও, অন্য ভাষার সাহিত্য অনুবাদে সংকট হলো যথাযথ পরিভাষার অভাব। আমাদের দেশে তেমন কোনো রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেই। সেক্ষেত্রে আমাদের কি করণীয়?

জাফর আলম : পশ্চিম বঙ্গের বাঙলা একাডেমি আর ঢাকার বাংলা একাডেমি মিলে উদ্যোগ নেয়া যেতে পাড়ে। অনুবাদকদের যদি একটি সমন্বয় পরিষদ থাকতো তাহলে অনুবাদ সাহিত্য উপকৃত হত।


এহসান : অনেকেই মনে করেন অনুবাদের মান রক্ষার জন্য দেশে রেগুলেটরি স্থাপন করা দরকার। আপনার কি মনে হয়? তাহলে আমরা কিভাবে মানসম্মত অনুবাদ পেতে পারি?

জাফর আলম : যদি অনুবাদের একটি সমিতি থাকে তাহলে তো সেখানেই এর সম্পাদনা করা যায়। মনে করেন জুনিয়ার একজন অনুবাদ করল, সে তো কাউকে দেখাতে পারছে না। সমিতি থাকলে সেখানে সিনিয়র অনুবাদকদের সাথে আলোচনা করা যেতে পাড়ে। কিন্তু সমস্যা হল আমাদের মধ্যে কোন যোগাযোগ নাই। যোগাযোগ থাকলে আরও ভাল হত।


এহসান : প্রতিবছরই দেশে প্রচুর অনুবাদ হচ্ছে। তার সবই জনপ্রিয় ও বহুলালোচিত গ্রন্থ। অপরিচিত কিন্তু শক্তিশালী লেখক বা বই, অনুবাদকের তেমন কোনো আবিষ্কার নেই। এটা কি অনুবাদকের দূর্বলতা নয়?

জাফর আলম : সেটা তো বেছে নিতে হবে পাঠক ও অনুবাদককে। অনুবাদককে বেস্ট সেলার ছাড়াও তো ভাল ভাল লেখক আছে তাদেরকেও আবিষ্কার করা উচিত। আমাদের পত্রিকা গুলোতে তো সাহিত্য পাতা নেই বললেই চলে। অনুবাদের জন্য আলাদা পত্রিকা হওয়া উচিত।


এহসান : রবার্ট ফ্রস্ট, টি এস এলিয়ট, শার্ল বোদলেয়ার, শাহনামা অনেক অনুবাদ করেছেন; কিন্তু শামসুর রাহমান, বুদ্ধদেব বসু, কাজী নজরুল ইসলামের মতো কেউ করতে পারেননি। তার মানে কবিতার অনুবাদ কবি, গল্পের অনুবাদ একজন গল্পকার করলেই কি সেরাটা পাওয়া সম্ভব। আপনার কি মনে হয়?

জাফর আলম : হ্যা, কবিতা অনুবাদ একজন কবি করলেই ভালো আর গল্পের জন্য গল্পকারই শ্রেয়। তবে গদ্য অনুবাদে অন্তত বাইরের কেউও ভাল করতে পারবে, যদি তার সে রকম প্রস্তুতি থাকে।


এহসান : অনুবাদ তো দুইভাবেই হতে পারে। বিদেশি সাহিত্য দেশি ভাষায়, দেশি সাহিত্য বিদেশি ভাষায়। আমরা কিন্তু তা দেখছি না। এর কারণ কি? এ সমস্যা থেকে উত্তোরণের উপায় কি বলে মনে করেন?

জাফর আলম : যারা অনুবাদ করে তাদেরকে উদ্যোগী হতে হবে। খালি বাংলা একাডেমির উপর চাপ দিলে তো হবে না।


এহসান : এবার বই মেলায় আপনার একাধিক অনুবাদ গ্রন্থ বের হচ্ছে। সে সম্পর্কে বলুন।

জাফর আলম : ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের কবিতা ও প্রবন্ধের অনুবাদ সংকলন বেঙ্গলস্ পাবলিকেশন থেকে বের হচ্ছে। আর মওলা ব্রার্দাস থেকে কৃষণ চন্দের গল্প সংকলন ‘ইরানী পোলাও’ এই দুইটা বের হচ্ছে ।


এহসান : অনুবাদের জন্য এই গল্পগুলো বা এই লেখকের গল্পগুলো বেছে নেয়ার কারণ কি?

জাফর আলম : ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ আমার খুব প্রিয় কবি। তিনি বামপন্থী চিন্তাধারার লোক। তিনি জেলখানার মধ্যে বসেও কবিতা কয়েদীদের কবিতা শোনাতেন। আন্তর্জাতিক ধারার কবি তিনি। তিনি তো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষেও ছিলেন।


এহসান : অনুবাদক হিসেবে অন্যদের থেকে নিজেকে কিভাবে আলাদা করেন?

জাফর আলম : আসলে আমি তো ভাবানুবাদ করি। যেটা আমার কাছে ভাল লাগে সেটাকে আমি আগে ভাল মতো পড়ি। তারপর অনুবাদ করি। অন্যরা তা করেন কি না জানা নাই।


এহসান : অনুবাদের ক্ষেত্রে অনেকে ভাষা, অনেকে ভাব, অনেকে মূলবক্তব্য অনুসরণ করেন। এতে কি একটি সাহিত্যের প্রকৃতাবস্থার হের ফের ঘটে যায় না?

জাফর আলম : আগে গল্প পড়ে আত্বস্ত করতে হবে, তারপর ভাবানুবাদ করতে হবে। যাতে পাঠক প্রিয়তা পায়। পাঠকরা বুঝতে পারে। মূল বক্তব্য তুলে ধরতে হবে।


এহসান : অনুবাকের স্বাধীনতা, শব্দ তৈরি ইত্যাদি দিক অনেকে সামনে আনেন। এটাকে আপনি কি ভাবে দেখেন? তা ছাড়া অনুবাদকের আদৌ কোনো স্বাধীনতা আছে কি?

জাফর আলম : নিজের মত করেই লিখতে হবে, তবে বেশি স্বাধীনতা প্রয়োগ করা উচিত না। মূলের সাথে যোগাযোগ রেখে তারপর লিখতে হবে।


এহসান : একটি ভাষায় লেখা অনুবাদ হচ্ছে। লেখক জানছেন না, রয়েলটি পাচ্ছেন না। মূলানুগ অনুবাদের জন্যও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে না। বিষয়টা কিভাবে দেখেন?

জাফর আলম : রয়েলটির ব্যাপারটি হল, বিদেশে এর নিয়ম ব্যাপক হারে পালিত হয়। কিন্তু আমাদের দেশে এর কোন বালাই নেই। তবে লেখককে পারমিশন নেওয়া জরুরি। রয়েলটির ব্যাপারটাও চালু হওয়া উচিত।


এহসান : লেখালেখির ক্ষেত্রে পেশাদারিত্বের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে অনুবাদের তেমন পেশাদারিত্ব দেখছি না। অনুবাদের মানোন্নয়নের জন্য পেশাদারিত্বের ভূমিকা কি মনে করেন আপনি?

জাফর আলম : আমার তো ২৯ টা বই বের হয়েছে, অন্য দেশ হলে আমার কিন্তু চাকুরী করা লাগত না। অনুবাদকে পেশাদারিত্বের আওতায় আনা দুষ্কর এ দেশে।


এহসান : নতুন লেখক তৈরির ক্ষেত্রে লিটল ম্যাগকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবা হয়। অনেকে অনুবাদক হওয়ার চিন্তাও করেন। অনুবাদক তৈরির ক্ষেত্রে কোনো মাধ্যমটি আপনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন?

জাফর আলম : লিটল ম্যাগ জাতীয় ম্যাগাজিন থেকেই অনুবাদক তৈরি হতে পারে। তার জন্য যত্ন দরকার। আমাদের তো বিশ্বমানের অনুবাদ পত্রিকাও নেই।


এহসান : অনুবাদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে একুশে পদকও দেয়া হচ্ছে। এটা আমাদের দেশে মানসম্মত অনুবাদের ক্ষেত্রে কি কোনো ভূমিকা রাখছে?

জাফর আলম : হ্যা, এটা তো সকল অনুবাদককে অনুপ্রানিত করবে।


এহ্সান : এই মুহুর্তে দেশে যে অনুবাদ হচ্ছে, তার মান নিয়ে কি আপনি সন্তুষ্ট?

জাফর আলম : না, অনুবাদের মান আরো উন্নতি করতে হবে। অনুবাদ সংস্থা থাকতে হবে, অনুবাদের সম্পাদনা শাখা থাকতে হবে। বাংলা একাডেমিকে আরো উদ্যোগী হতে হবে।


এহ্সান : আমাদের দেশে অনেক অনুবাদক আছেন। বাজারে তাদের অনেক বই আছে। আপনি কাদেরকে আদর্শ অনুবাদক বলে মনে করেন?

জাফর আলম : কবির চৌধুরী স্যার, শামসুর রাহমান, খালেকুজ্জামান ইলিয়াস, শওকত হোসেন। আর তরুণ যারা আছেন তাদেরকে আমি ভাল মত চিনি না।০

এহ্সান :  আপনাকে ধন্যবাদ।

জাফর আলম : আপনাদেরকেও ধন্যবাদ।


শ্রুতি লিখন : কবির হোসেন



সাক্ষাৎকারগ্রহণকারীর পরিচিতি:
অলাত এহ্সান 

জন্ম ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আরো ভেতরে, বারুয়াখালী গ্রামে। কঠিন-কঠোর জীবন বাস্তবতা দেখতে দেখতে বড় হয়ে ওঠা। পারিবারিক দরিদ্রতা ও নিম্নবিত্ত অচ্ছ্যুত শ্রেণীর মধ্যে বসত, জীবনকে দেখিয়েছে কাছ থেকে। পড়াশুনা করেছেন সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ ও ঢাকা কলেজে। ছাত্র জীবন থেকেই বাম রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া। কবিতা লেখা দিয়ে সাহিত্য চর্চা শুরু হলেও মূলত গল্পকার। প্রবন্ধ লিখেন। প্রকাশিতব্য গল্পগ্রন্থ ‘পুরো ব্যাপারটাই প্রায়শ্চিত্ব ছিল’। প্রবন্ধের বই প্রকাশের কাজ চলছে। 



৩টি মন্তব্য:

  1. এমন একটা পত্রিকা আছে তাই জানতাম না। হঠাৎ করে জাফর আলমকে খূঁজতে গিয়ে পেয়ে খুব ভাল লাগল।

    উত্তর দিনমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. পাঁচ বছর আগে এক ফেব্রুয়ারিতে খুঁজে খুঁজে বের করে ছিলাম অনুবাদক জাফর আলমের বাসা। মিরপুর-১০, কোয়ার্টারের মতো ফ্ল্যাট বাসা। বয়েজ্যেষ্ঠ মানুষ। চাকরি ছাড়ার পর বাসায় বসে থেকে আরো রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। আমরা সঙ্গে ছিল হুমায়ূন শফিক। আমাদের দেখে তিনি আপ্লুত। এটাই সম্ভবত তার নিকটদিনের একমাত্র সাক্ষাৎকার।
      তিনি আক্ষেপ করে বললেন, আপনারা এসেছেন খুব খুশি হয়েছি, কেউ তো সাক্ষাৎকার নিতে আসে না, আমাকে তো কেউ সাহিত্যিকই মনে করলো না।
      অনেক কথা হলো সেদিন। কিন্তু স্মৃতি কেবলই জড়িয়ে যাচ্ছিল তার। কেবল প্রতিশ্রুত আর নিষ্ঠাটুকু মনে ছিল। সেদিন তার তোলা ছবি দেখেও তিনি খুশি হয়েছিলেন। দীর্ঘ রোগভোগের পর আজ প্রয়াত হলেন এই গুণী মানুষ।
      মনে পড়ছে, ছাত্রদিনে নীলক্ষেতের ফুটপাতে অনেক সাহিত্যিকের মতো পুরনো বইয়ের স্তুপ থেকে আবিষ্কার করে ছিলাম জাফর আলমকে। সবই তার উর্দুসাহিত্যের অনুবাদ। লটে বিক্রি করে দেয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া বিউটি বুকস ও ডানা প্রকাশনীর বই । প্রতিটি বই ১০ টাকা। ‍বুঁদ হয়ে থাকতাম বইগুলোতে। তাই অনুবাদকের সাক্ষাৎকার নেয়ার সুযোগ এলেই তাকে বেছে নিয়ে ছিলাম।
      সাক্ষাৎকার নেয়ার পর অনেক বার চেষ্টা করেছি তার খোঁজ নেয়ার। হুমায়ূনকে পাঠিয়েছিলাম, তবুও পারিনি। তার ফোনম্বারের কল করে দেখেছি, কেউ তুলে না
      ~ অলাত এহ্সান

      মুছুন
  2. গৌরাঙ্গ হালদার২৩ জুন, ২০২০ ৩:০৯ PM

    গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন অলাত ভাই। শুভেচ্ছা জানবেন।

    উত্তর দিনমুছুন