বুড়ো লোকটা সমস্ত জীবন ধরে নানা দেশের কয়েন, নোট জমিয়ে যাচ্ছে। কেউ দেখতে চাইলে দেখায়। ওই দেখতেই তার কাছে কতজন আসে। আর তাতেই তার দোকানটি চলে। পুরোন কয়েন, তামার পয়সা, ফুটো পয়সা, রুপোর টাকা, লাল দুয়ানি, সিকি আধুলি, মহান সম্রাট পঞ্চম জর্জের মুখ, মহারানি ভিক্টোরিয়ার মুখ খোদাই করা কয়েন আর বড় বড় দশ টাকা, একশো টাকা, সুন্দরবনের গোসাবা দ্বীপে সমবায়ে ফসল কেনা বেচার জন্য স্যার ড্যানিয়েল হ্যামিল্টন প্রচলিত নোট......এই সব দেখে কেউ কেউ ওকে পেনি রুবল ফ্রাঁ আর ডলার, ইউরো দিয়েও গেছে। আমাদের কাছে থাকবে না, তুমি রেখে দাও। কোপেক, রুবল ফ্রাঁ, পেনি, লিরা, দিনার, ডলার, পাউন্ড জমিয়ে জমিয়ে সেই বুড়ো এখন চায়ের দোকানটিকে যেন মস্ত একটা শপ করে দিয়েছে।
সেখানে লিরা ফ্রাঁ দিনার রুবল পেনি একানি দুয়ানি চারানির বাজনা সমস্তদিন বাজতে থাকে।

কোট প্যান্ট হ্যাট পরা একটা লোক এল, রুপি নেবে?

ইয়েস, কী রুপি ? বুড়ো বলল।

আমার কাছে চাষা ঘরের রুপি আছে, সারা জীবন ধরে জমানো।

বুড়ো বলল, নেব।

জুট মিলের শ্রমিকের বেতন আর প্রফিডেন্ট ফান্ডের রুপি আছে, নেবে?

নেব। বুড়ো ঘাড় কাত করল, আর ?

কেরানির মেয়ের বিয়ের জমানো রুপি আছে, নেবে?

নেব, এক ঘেয়ে ডলার, পাউন্ড দেখতে চাইছে না লোকে।

সব নোট কিন্তু তাদের মতো ময়লা আর দুর্গন্ধে ভরা।

সে বলল, বেশ, তাই দাও, কিন্তু তারা ফেরত নিতে আসবে না তো ?

শাদা কোট প্যান্ট হ্যাট শাদা ফ্রেঞ্চ কাট ফর্শা লোকটা বলল, চাষা গলায় দড়ি দিয়েছে, জুটমিলের শ্রমিক রেল লাইনে গলা দিয়েছে, সোমত্ত মেয়ে বিষ খেয়েছে, নো ওয়ারিশন, আমি বিলেত থেকে ফিরে এসে নেব।



ইউনিভার্সাল কারেনসি শপের বুড়ো এখন ময়লা রুপিসকল দেখিয়ে খুব হাততালি পায়। রুপি দেখাতে দেখাতে সে রুপির ইতিহাস বলে কী সুন্দর।