গতকাল কাগজে খবরটা পড়ার পর থেকে কুকুরদের আমার খুব ভয়।
বাঁকুড়ার কোথায় যেন কয়েকটা কুকুর জ্যান্ত খেয়ে ফেলেছে একটি আট-নয় বছরের বাচ্চা ছেলেকে। পুরোটা ঠিক খেয়ে ফেলেনি, আঁচড়ে-কামড়ে মাটিতে ফেলে পা আর পেটের কিছুটা তারা ভক্ষণ করেছে। হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে কোনো লাভ হয়নি।
বাজারে মুরগির দোকানের সামনে তিনটে কুকুর হাঁ করে বসে থাকে। আগে তেমন করে চোখে পড়েনি, কিন্তু খবরটা পড়ার পর থেকে কুকুরগুলোকে আমার বাঘের মতো লাগছে।
রোজই বাজারে যাই। বাজার করাটা আমার নেশা। এ নেশা যদিও অনেকেরই আছে। বিশেষত আমার মতো অবসরপ্রাপ্তদের তো আছেই। হাট-বাজারে চক্কর মারলে দেখেছি মনটার বেশ ফুরফুরানি বাড়ে। কিন্তু আজ যেন কোথাও একটু বেসুর। কালও দেখেছি ওদের, কিন্তু আজ অপেক্ষারত কুকুরগুলোর স্থির চোখ আমার ভেতরে কোথাও একটা কাঁপন ধরাল।
চিকেন কেনার কোনো ইচ্ছে নেই, কিন্তু আমি মুরগির দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ি। নড়তে পারি না। কুকুরগুলোও যথারীতি। পেতে আছে ওৎ।
মাংস কাটে যে ছেলেটা সে খাঁচার ভেতর হাত ঢুকিয়ে ভয়ার্ত মুরগিগুলো থেকে একটাকে ঘেঁটি ধরে বার করে আনে।
কঁক কঁক করে বেচারি। বাকিগুলো আরও বেশি। বের করেই কী এক কায়দায় ডানা দুটোকে পাকিয়ে কেমন একটু মুড়ে দেয়। তারপর টানটান করে ডান হাত দিয়ে গলাটা চাপে। বাকি বডি বাঁহাতে ধরে ধারালো বড় বটিটার নিকটবর্তী। কয়েক সেকেন্ড। ঘ্যাঁচ।
মুরগির গলাটা কেটে মাথা ফেলে দেয় নিচে। কেলিয়ে হাঁ পড়ে থাকে মুণ্ডুটা। তারপর বাঁ হাত দিয়ে মাথাহীন গলাটা চেপে ধরে থাকে যতক্ষণ না সাড় অদৃশ্য। কবন্ধ ধড়টা পালক-টালক উড়িয়ে খানিক ছটফট করে স্থির। তারপর দ্রুত পালক ছাড়িয়ে বডিটা গামলায় রাখে। অনেকটা মানুষের ভ্রুণের মতো দেখতে লাগে তখন বডিটা। রক্তমাখা মাংসপিণ্ড দপদপায়।
আমি মাংস কাটা ও কুকুরদের আচরণ দেখি। তীক্ষ্ণ চোখে অপলক কুকুরত্রয়ী। কখন উড়ে আসবে খাদ্য। দূর থেকে দেখে মনে হবে সাধারণ ব্যাপার-স্যাপার। নিরীহ অপেক্ষা। কিন্তু নজর দিতে হবে ওদের আচরণে, চোখে। তাহলেই বোঝা যাবে হিংস্রতা কোন পর্যায়ের। সহজাত কিন্তু একমুখী।
চোখের সামনে বাজারের কুকুরগুলোর হরদম এই আচরণ দেখেছি কিন্তু ভয় পাইনি। নিশ্চিন্তে ওদের টপকে গেছি। কখনও গায়েও পা লেগেছে, সরে গেছে ওরা, আমিও পা সরিয়েছি কিছু না ভেবেই। ভয় পাওয়ার প্রশ্নই আসেনি। কিন্তু গতকাল কাগজে খবরটা দেখা ইস্তক দেখছি একটা শিরশিরানি নামছে কশেরুকা বরাবর। কালও ভয় পেয়েছি, কিন্তু আজ দেখছি ভয় আমায় সম্পূর্ণ গ্রহণ করেছে।
মুরগি কাটছে যে লোকটা, সে-ও কেমন স্থির। চিবুক স্বাভাবিক। চোখ অচঞ্চল। যেন কোনো ব্যাপারই না। কাটতে বললে মানুষও কেটে দেবে! সারাদিনে লোকটা হয়ত একশ' মুরগি কাটে, ফলত যান্ত্রিক সহজতা তাকে গ্রাস করেছে। আচ্ছা, কখনও যদি মাংসওয়ালাকেই আক্রমণ করে বসে কুকুরগুলো? লোকটা তো আর মাংস দেয় না ওদের, ছাঁট দেয়।
অপেক্ষায় অপেক্ষায় ওদের ক্ষুধা বাড়ে। রাগ। গরগরে রাগ। চিৎকারে এত রাগ নেই। গরগরানিতে বেশি।
রাগের সঙ্গে একসময় বাড়বে সাহস। আমি নিশ্চিত একদিন এই আক্রমণ হবেই। লাফ দিয়ে সিমেন্টের বাঁধানো উঁচু চাতালে কুকুরগুলো উঠে পড়বে। লোকটা বাধা দেবে। কিন্তু পারবে না। আক্রমণোদ্যত কুকুর তখন কেবল মুরগির মাংস খাবে না, খাবে লোকটাকেও। বাচ্চা ছেলেটাকে যেমন খেয়েছে। পুরোটা কি আর খাবে? আঁচড়ে-কামড়ে বিক্ষত করে একটু হাত, একটু পা বা একটু পেট খেয়ে ফেলবে।
কাগজে লিখছে, ছেলেটি বিয়েবাড়ি উপলক্ষে তার মাসির বাড়ি বাঁকুড়ায় যায়। বিয়েবাড়ির উচ্ছিষ্ট ভোজে কুকুরের দল নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ে ব্যস্ত ছিল। এমন সময় ছেলেটি ওই আস্তাকুঁড়ের পাশ দিয়ে যেতে গিয়ে কুকুরদের সম্মিলিত আক্রমণের মুখে পড়ে। কুকুরের দল অচেনা ছেলেটিকে ভাবে আরও একজন ভাগীদার। ফলত আক্রমণ।
হঠাৎ কানে আসে চাপা গরগরানি। আবার জগতে দ্রুত ফেরত আসি আমি। ভাবতে ভাবতে কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে গিয়েছিলাম। চোখ চলে গেল কুকুরগুলোর দিকে। ওদের গলা দিয়ে ওই আওয়াজটা বেরোচ্ছে। রাগ ক্রমবর্ধমান। না, আর এখানে থাকা ঠিক হবে না। শালারা আবার আমাকে নাড়িভুঁড়ি, ঠ্যাং আর রক্তমাখা পালকের ভাগীদার না ভেবে বসে। বলা যায় না। দিনকাল মোটেই ভাল নয়।
বলতে বলতেই এক ক্রেতার সঙ্গে মাংসের দোকানির ওজন নিয়ে লেগে গেল। লেগে গেল তো গেলই। জমল লোকজন। নরক গুলজার। কুকুরগুলো পাশে সরল। ইলেকট্রনিক দাঁড়িপাল্লা, মাপ নিখুঁত, কিন্তু তাও ওজন নিয়ে বেশরম বচসা। ব্যাপারটা বাড়তে বাড়তে এমন জায়গায় দাঁড়াল দোকানি মাংস কাটার বটি তুলল। ক্রেতা পাকাল মুঠো। রক্তারক্তি হওয়ার আগে সমবেত জনগণের হস্তক্ষেপ।
আজকাল একটুতেই মানুষ খুব রেগে যায়। ঝামেলা এড়াতে আর কিছুটা সারমেয়কুলের গরগরানির ভয়ে আমি মাছ-বাজারের দিকে যাই। কিছু সব্জিও কিনতে হবে।
দুই
বাজারে সময় যায়। এই কারণে মাঝেমধ্যে চেঁচামেচি করে থাকে গিন্নি। কিন্তু কিছু করার নেই। আরাম আর এই দুনিয়ায় কোথায়। ঘুরে ঘুরে বাজারের মধ্যে একটা আরাম আছে। ঘন্টা দেড়েক-দুয়েক বেরিয়ে যায় এই আরামের ওমে। শুরুতেই এক চক্কর মেরে নিই গোটা বাজারটায়। তারপর সুবিধে মতো, চেনা-অচেনা বিক্রেতার থেকে ঝেড়ে-বেছে, মুলাই করে থলে ভরি। দরদাম করে কেনার মধ্যেও সেই আরাম।
কিন্তু আজ আর অতটা ঘোরা হল না। সূত্রপাতেই কেমন একটা ঠাণ্ডা মেরে গেল মেজাজটা। মেজাজ ম্যাদা মেরে গেলে আর কিসের আরাম আর বিরাম। গলদ বিসমিল্লায়। তবু থলে ভরতে হবে। নাহলে গিন্নি সঙ্গত প্রশ্ন তুলবে এতক্ষণ আমি ঠিক কী করছিলাম।
চটপট দু’থলে ভর্তি বাজার নিয়ে একটা রিকশা ধরি। রিকশাওয়ালা ড্যাবড্যাবিয়ে আমার দুই থলের দিকে চায়। দু’টাকা অতিরিক্ত দাবি করে। আমি জানি অকারণ দাবি। তাও কারণ জিজ্ঞেস করি। হিসহিসে কিন্তু তীব্র স্বরে সে জানায়, রোজই তো মাগগিগন্ডার বাজারে ব্যাগভর্তি বাজার করছেন, আমাদের কী করে চলে ভাবেন কখনও – অ্যাঁ ?
আবার সেই শিরশিরে ভয়টা আপাদশির নড়ে উঠল। নিশ্চিত হই, আজ নয় কাল, আক্রমণ অনিবার্য। কেবল কুকুরগুলো নয় আরও অনেকেই তৈরি হচ্ছে আক্রমণের জন্য।
কোনও কথা না বলে রিকশায় উঠে বসলাম। এবার একটা বন্দুক না কিনলেই নয়!
রিকশাওয়ালার দড়ির মতো পাকানো শরীরটা প্যাডেলের সঙ্গে ওঠানামা করে। লুঙ্গি আর একটা তেলচিটে গেঞ্জি। ঘেমো কালো হাতটা হ্যান্ডেল পাকড়ে। শিরগুলো কেবল জেগে আছে হাতদুটোয়। শুকনো পাছাটা সিটে না ঠেকিয়ে পা প্যাডেলে দিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। গোটা শরীর দিয়ে শক্তি প্রয়োগ প্যাডেলে। লিভারটা ঘোরে। চেনটার আবর্তন এগিয়ে নিয়ে যায় রিক্সাটাকে।
ওই চেনটা খুলেই একদিন ও আক্রমণ করতে পারে। দড়ির মতো পাকানো শরীর হলে হবে কী, শক্তি আছে। ক্রমাগত আধপেটা খাবার। বাকি অর্ধেক ভরে রাগ দিয়ে। আধপেটা খেয়ে শক্তি আসে না। শক্তি আসে ওই রাগ থেকে।
দু'কেজি চাল, পঞ্চাশ তেল আর আড়াইশো আলু কিনে রাত আটটা নাগাদ বাড়ি ফেরার পথেই নির্ঘাৎ প্রাণ পায় সেই রাগ। দেশি মালের বোতল ঝনঝন হুমড়ি খায় কলতলায়। বউটা কাঁউমাঁউ কাঁউমাঁউ। গলার শির ফুলিয়ে চিৎকার। তাও কাঁউমাঁউ থামে না। থাবড়া খায় বউটার কানসহ চোয়াল। যখন হাঁ করে শুয়ে থাকে, শালা ধুনকরের মতো ধুনে দিতে ইচ্ছে করে মাগির শয়ন। তারপর অন্ধকারকে পাশবালিশ করে নির্মম নিদ্রা। অকাতর। যেন মড়া।
আবার সেই সক্কাল সক্কাল হাতে হ্যান্ডেল। দু'মুঠো পান্তা জুটল কী জুটল না। স্ট্যান্ডে এসে বিস্বাদ চা আর একটা লেড়ো। হাওয়ায় ঝুনো পোঁদটুকু উঠিয়ে নামিয়ে দু-টিপ যেতে না যেতেই খলবলানো রোদ। সূর্যের তেজ বর্ধমান। তারও। ব্যাগভর্তি বাজার দেখলে মাথার কি ঠিক থাকে! দুটো টাকা বেশি চাইলে বলে, কেন? ব্রহ্মতালু অবধি চিড়বিড়ায় বেসামাল রাগ।
আমি সেই রাগে আর হাওয়া দিই না। রা না কেড়ে আটভাট ভাবতে ভাবতে চুপটি বসে থাকি সিটে।
পিচরাস্তা আর হাওয়ার সঙ্গে ঘষাঘষি করে রিক্সা এগোয়। আমি এগোতে পারি না আমার ভাবনা থেকে। বন্দুক লাগবেই। নাহলে আসন্ন ও অনিবার্য আক্রমণের থেকে বাঁচব কী করে!
বাড়িতে ঢুকেই গিন্নিকে বলি তাড়াতাড়ি দরজা দিতে। রান্নাঘরে বাজারের থলেদুটো রেখে হাঁফাই। গিন্নি হাঁ করে দেখে। আমি সবটা বলি। কুকুর। রিকশাওয়ালা। সব শুনে ও-ও ভয় পেয়ে যায়। ভয় খুব ছোঁয়াচে। আমার ভয় আমার বউয়েরও দখল নেয়।
যদিও এইরকম টেনশনের মুহূর্তেও গায়ে আমার পুলক লাগে। কারণ বউ পাশে আছে আর বউ পাশে থাকলে ভাল লাগে সব কিছুই। বউও বলল, এ জিনিস ও কাজের মেয়েটার মধ্যেও দেখেছে। রান্নার বাসন-কোসন আর চিনেমাটির প্লেটগুলোর দিকে তাকিয়ে নাকি ও প্রায়ই বলে – কত খাও গো তোমরা মাসি ! বলার সময় ওর চোখ দেখেও আমার গিন্নির ভয় হয়েছে। রিকশাওয়ালার মতোই বোধহয় চাহনি।
তাহলে কি সবাই ছিনিয়ে খেতে চাইছে? ওদের কি সকলের ক্যানাইন আছে? তীক্ষ্ণ ছুরির ফলার মতো দাঁত? রিকশাওয়ালার? কাজের মেয়েটার? কুকুরের যেমন থাকে।
আমি ছেলেকে ফোন করি। ছেলে ব্যাঙ্গালুরু থাকে। আইটি। বললাম বন্দুক পাওয়া যায় কোথায়। ছেলে বলতে পারল না কিন্তু অবাক হল। হবেই। পাত্তা দিলাম না। বন্দুক বিষয়ে আমার সিরিয়াসনেস দেখে ছেলে চুপ।
পরে ওর মাকে ফোন করল। ভাবল বাবাকে নিয়ে হয়ত এবার একজন সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে যেতে হবে। মায়ের কাছে সবটা শুনে হাসল। বলল কাজের মেয়েটার মাইনে শ'তিনেক টাকা বাড়িয়ে দিতে। তাহলে আর সমস্যা হবে না।
ছেলের কথা শুনে ওর মা আঁতকালো। এই তো গত পুজোর পরপরই দু'শ বাড়ানো হল। আবার এ বছর পুজোর আগেই তিনশ! পাগল! ছেলের ঠাণ্ডা মাথা। বন্দুক কেনার থেকে ব্যাপারটা অনেক সস্তা হবে বলে মাকে বোঝাল। মা বুঝল না মোটেই। বিরক্ত হয়ে ফোন কাটল ছেলে।
বন্দুক আপাতত মুলতবী রাখলেও আমি বসলাম নেট-এ। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে একটু ঘাঁটাঘাঁটি দরকার। আমার অবশ্য সেলফ ডিফেন্স বা আত্মরক্ষাই মূল। সেখানে ক্যারাটে বা জুডো বা তাইকোন্ডো বা কিক বক্সিং নিয়ে বিস্তারিত। এই বয়সে এসব হবে না। পেশি এখন অনেক শিথিল। বেতো বডি এ ধকল সইবে কেন? বেশি কেরদানি করতে গিয়ে যদি লেগে-ফেগে যায়। আরশোলার মতো চিৎপটাং হয়ে বিছানায় পড়ে থাকলে আমও যাবে, ছালাও।
লুঠ হতে বেশি সময় লাগবে না অরক্ষিত এই বাড়ি। অরক্ষিতই বটে। ছেলে প্রবাসে। বুড়োবুড়ি কোনো কিছুরই রক্ষক হতে পারে না।
লুঠের কথা মাথায় আসতেই আবার টেনশন। নেট থেকে উঠে পড়লাম। নেট-ফেটে হবে না। নিজের বুদ্ধি কাজে লাগাতে হবে। গিন্নিকে বলে আবার বেরোলাম। গোদরেজের নভতাল রোজ রাতে মেন কোলাপসিবল গেটে লাগাই। কিন্তু আজ লাগাতে হবে এই সাতসকালেই। দোর দিতে হবে ভাল করে। কোনও ঝুঁকি নেওয়া যাবে না।
গিন্নি কোলাপসিবল গেট টেনে তালাটা দিতে তবে আমি এগোলাম। গোটা বাড়ি আমার পাঁচিল ঘেরা। লোহার গ্রিলের গেটটা লাগালাম। এখানেও তালা একটা দিয়ে বেরবো? না থাক, বাড়াবাড়ি হবে।
জয়শ্রী বিল্ডার্সে গিয়ে গোটা পঞ্চাশেক বালি আর গোটা বিশেক সিমেন্টের বস্তার অর্ডার দিলাম। মালিক চেনা। কী কাজ করাব, জিজ্ঞেস করল। বললাম বালি আর কংক্রিটের বস্তা দিয়ে ব্যারিকেডের কথা। পরে একটা ট্রেঞ্চ বানাবার ইচ্ছেও আছে। ছেলেটা হাঁ। আমি টাকাটা দিয়ে মালটা দ্রুত পাঠাতে বললাম। হ্যাঁ, ওর হাঁ মুখের ওপরই। আসার সময় নিলাম ওর ফোন নাম্বারটাও।
বিল্ডার্স ছেলেটা যাও বা দু-একটা কথা বলবে ভাবছিল, বন্দুকের কথা শুনে একদম চুপ মেরে গেল। ভ্যাবলা। আসলে ওকে জিজ্ঞেস 'করব-কি-করব না' ভাবতে ভাবতে করেই ফেললাম শেষতক – ভাই বন্দুক কিনব, তোমার কাছে কোনো সন্ধান আছে? রাইফেলই যদি বল, একে ৪৭ বা অন্যান্য এসএলআর হয়ত বড় ব্যাপার, কিন্তু থ্রিনটথ্রি হলেও চলবে। রিভলবার হলেও আপাতত চালিয়ে নেব। একদম কিছু না পেলে দেশি ওয়ান-শটারও যদি ওর সন্ধানে থাকে। আমার মুখের দিকে তাকিয়ে, সম্ভবত আমার সিরিয়াসনেস দেখেই ও আর কথা বাড়াল না। ওর বাকরুদ্ধ হওয়ার সঙ্গত কারণ আছে। এখনও পর্যন্ত কেউ ওর দোকানে ব্যারিকেড বানাবার কাজে বালি বা সিমেন্টের বস্তা নেয়নি। ইট-বালি-সিমেন্টের গোলায় এসে কেউ বন্দুকের খোঁজও সম্ভবত করেনি। তাছাড়া চেনে আমাকে। মেশোমশাই বলে। জানি না, বাড়িতে গিন্নিকে ফোন-টোন করবে কিনা!
তবে আমি মনে মনে হাসলাম। আজ আমার আচরণ দেখে তুমি অবাক হোচ্ছো ভাইটি, দু'দিন পরে আর হবে না। তখন অনেক খদ্দেরই আসবে ব্যারিকেডের মাল নিতে। কারণ আক্রমণ একটা হবেই। আমি নিশ্চিত।
বাজারের মাসিক ফর্দের মধ্যেই একদিন জায়গা করে নেবে কার্তুজ, চাকু, গ্যাস, মিরচি স্প্রে। দিল্লির নির্ভয়া বলে মেয়েটার ধর্ষণ ও খুনের পর সরকারি উদ্যোগেই এই স্প্রে লঞ্চ হয়েছে। টিভিতে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী এই স্প্রে ব্যবহার করতে বলছেন মেয়েদের। চোখে স্প্রে করে দিলে কিছুক্ষণের জন্য শত্রুপক্ষ হীনবল। তুমি পরবর্তী স্ট্র্যাটেজির জন্য কিছুটা সময় পেয়ে যাবে। খান দশেক কিনে রাখতে হবে।
বাড়িতে ঢুকতে ঢুকতে মনে হল কিছু ইটেরও অর্ডার দিলে হত। বাইরের পাঁচিলটা উঁচু করার দরকার। গ্রিলের গেট আছে। ওটাও পুরোটা লোহার শিট দিয়ে মুড়ে ফেলতে হবে। আর ব্যারিকেডটা হবে পাঁচিলের ভেতর। বাইরের গেটটা পেরিয়ে বাড়িতে ঢোকার ঠিক মুখে।
তবে পঞ্চাশ আর কুড়ি – এই সত্তর পিসে কি ব্যারিকেড হবে ? সিমেন্টটা আরও বাড়াতে হবে। বৃষ্টি হলেই বালি গলে জল। এখন শরৎ। কিছুদিন চলবে। আগামি বর্ষার আগে পুরোটাই কংক্রিটের বস্তা দিতে হবে। একবার ব্যাঙ্কে যাওয়া দরকার। বেশ কিছু টাকা তুলতে হবে। কথা বলতে হবে মিস্তিরিদের সঙ্গেও।
গিন্নিও কাজ এগিয়ে রেখেছে অনেকটা। বাগান করার খুরপি, ছেলের পুরনো জ্যামিতি বক্স খুঁজে একটা কাঁটা কম্পাস, ছাদে পড়ে থাকা দুটো লোহার শিক, একটা পুরনো সাঁড়াশি, দুটো চাকু আর একটা মস্ত শাবল।
শাবলটা পাশের বাড়ি কোনো কাজে নিয়ে গিয়েছিল। গিন্নি গিয়ে নিয়ে এসেছে। কে জানে প্রতিবেশিরাও প্রস্তুতি নিচ্ছে
কিনা! না হলে হঠাৎ তারা আমাদের শাবলটা নেবে কেন? আমি স্পর্শ করলাম শাবলটার কালো মসৃণ গা। চমৎকার। ঘরোয়া অস্ত্রসম্ভার দেখে বুকে বল পেলাম। গিন্নিও উত্তেজিত। অবহেলায় পড়েছিল এইসব। কাজে লেগে যেতে সে বেজায় আমোদিতও বটে।
গিন্নির ঠাকুরঘরটাকেই আপাতত বানালাম অস্ত্রাগার। একটা ইনডেক্স আর ইনভেন্টরি চাই। লোহার সেলফ লাগবে। কোথায় কী আছে বা থাকবে, নখদর্পণে থাকাটা জরুরী। দরকারের সময় যেন দ্রুত উঠে আসে হাতে প্রয়োজনীয় অস্ত্র।
ডিং ডং। বেল বাজল। গিন্নি চমকাল। আমিও।
কাজের মেয়েটি। অস্ত্রগুলোর ওপর দুটো শাড়ি দ্রুত ফেলে ঢেকে দিয়ে গিন্নি দরজা খুলে দিল। মেয়েটা লাফাতে লাফাতে চলে গেল বাসন মাজতে। আমরা গম্ভীর।
আমি কাগজ-কলম নিয়ে বসলাম। কী কী লাগবে আর কেমন খরচ হবে – হিসেবনিকেশ করা দরকার। গিন্নি আমায় চা-জলখাবার দিল। খিদের কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। তবে খিদে আর আজকাল পায় কোথায়! খিদে পাওয়ার আগেই তো খাবার চলে আসে। চেষ্টা করেও মনে করতে পারলাম না শেষ কবে খিদে পেয়েছে আমার। খিদে পাওয়ার অনুভূতির কথা ভুলেই গিয়েছি।
খিদের কথায় কাজের মেয়েটার কথা মনে পড়ে। প্রচুর বাসন-কোসন আর প্লেট দেখে বলেছে, কত খাও গো তোমরা মাসি! ওর খিদে পায়। শুকনো দড়িশরীর রিকশাওয়ালারও। ওদের খিদের অনুভূতি জাগ্রত। রিকশাওয়ালার কথাও কানে বাজে, রোজ থলে ভর্তি বাজার করছেন, এই মাগ্গিগণ্ডার বাজারে কীভাবে চলে আমাদের সে খবর রাখেন! স্বীকার করতেই হবে রাখি না। লুচিটা বাঁ হাতে ধরে কারিপাতা-আলুর তরকারি মুড়ে মুখে পুরতে পুরতে ভাবলাম, বন্দুকের প্রয়োজন থেকে সরা যাবে না। এইসব উচ্চারণ ইঙ্গিত। আক্রমণের আগে লাল সংকেত ।
খেতে খেতে প্রায়োরিটি লিস্টের এক নম্বরেই রাখলাম বন্দুক। একটা বন্দুক, আমি জানি, অনেকটা আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। একটা হ্যান্ড কামানের কথাও লিখলাম। রকেট লঞ্চার বা বড় কামান – বোফর্স -টফর্স বেশ বড়সড় ব্যাপার, কিন্তু হ্যান্ড কামান তো পাওয়াই যায়। বানিয়েও নেওয়া যায়। আগামিকালই এলাকার কামারশালায় একবার ঢুঁ মারতে হবে।
ভ্যান রিক্সার হর্নের আওয়াজ। জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে দেখলাম বালি-সিমেন্টের বস্তা এসে গেছে। আরও একটা লুচি দ্রুত মুখে পুরে কোলাপসিবল গেটটার তালা খুললাম। বাইরে বেরিয়ে খুলে দিলাম লোহার গেটও। ভ্যানচালককে দেখে নিলাম। ওই এক দড়ি পাকানো শরীর। ভবিষ্যতের আক্রমণকারী। আত্মরক্ষার্থে যে ব্যারিকেড বানাচ্ছি, তার মাল-মশলা ও-ই বহন করে নিয়ে এসেছে।
ভ্যান ঢুকবে না ভেতরে। ভ্যান থেকে নিপুণ কায়দায় বস্তাগুলো পিঠে ফেলে লোকটা। সামান্য কুঁজো হয়ে বস্তাগুলো নিয়ে ঢোকে ভেতরে। বাড়ির দরজার সামনে বস্তাগুলো আস্তে আস্তে জড়ো করে। কোথায় ফেলবে বস্তাগুলো, কীভাবে জড়ো করবে – সবটাই করে, বলা বাহুল্য, আমারই নির্দেশে।
সব বস্তা নামাবার পর ওকে বস্তাগুলো সাজিয়ে দিতে বললাম। একটু অবাক হল প্রথমে। কিন্তু কাজটা শুরু করল। হাত লাগালাম আমিও। যেভাবে বালির বস্তা দিয়ে ব্যারিকেড করে ঠিক সেইভাবে সাজানো দরকার। নিচে সিমেন্টের বস্তা তারপর বালি। হাতে আমার একটা কাগজের টুকরো। ওতে নেট দেখে ব্যারিকেড বানাবার একটা স্কেচ করে নিয়েছি। বস্তুত ওই স্কেচ দেখে দেখে আমার নির্দেশ দেওয়া দেখেই ভ্যানচালক বেশি বিস্মিত।
দু'একটা বস্তা টানাটানি করার পর দেখলাম ঘামতে শুরু করেছি। খুলে ফেললাম জামাটা। স্রেফ পায়জামা। খালি গা। আরও বস্তা লাগবে, তবুও এইটা মোটের ওপর খারাপ হল না। প্রাথমিক আক্রমণ প্রতিহত করার পক্ষ যথেষ্ঠ। এর আড়ালে দাঁড়িয়ে বন্দুক তাক করা যাবে। পরে এর চারপাশটাও গ্রিল দিয়ে ঘিরে দেব। কিন্তু আসল জিনিসটা পাব কোথায়? বন্দুক।
লোকটাকে কিছু টাকা দিয়ে বিদেয় করলাম। সন্তুষ্টই হয়েছে মনে হল। কে জানে। ওপর-ওপর দেখে তো আজকাল কিছুই বোঝা যায় না। সব ঠিকঠাক, নো প্রবলেম, ওমা – আচম্বিতে নেমে আসবে চাকু। আমূল। ফালাফালা করে দেবে অস্তিত্ব।
ব্যারিকেড বানাতে গিয়ে দু'টো বেজে গেল। এত বেলা আমাদের হয় না। বেলা করে খেলে গ্যাস-অম্বলের কবলে পড়তে হয়। রাতেও খিদে আসতে ঝামেলা করে। বাথরুমে দাঁড়িয়ে শাওয়ারে গা ভেজালাম। ঠাণ্ডা। ভাল লাগে। তবে চান করতে করতে টের পেলাম সে আসছে। বহুদিন পর এই অনুভূতি। খিদে পেয়েছে। মাথায় জল পড়তে না পড়তে সে ক্রমশ চাগাড়।
আগুন খিদে নিয়ে বাড়ি ঢুকে প্রয়োজনীয় খাবার না পেলে রাগ স্বভাবত ঘনীভূত। আমি বুঝলাম ওদের রাগের কারণ। খেতে বসলাম।
দুপুরের খাওয়ার পর একটু গড়িয়ে নিই বিছানায়। প্রতিদিনই তাই করি। আজ বেশিক্ষণ হল না। গিন্নি খাওয়া-দাওয়া সেরে লফ্ট্ আর স্টোর ঘেঁটে আরও কিছু অস্ত্র বার করে ফেলেছে। ওমা, এটা কী? ছেলে কোন ছোটবেলায় ব্রুস লি'র ছবি দেখে এসে বানিয়েছিল! নান চাকু। ঘোরাতে পারি না। থাক। কাজে লাগবে। এই জগৎ সংসারে কিছুই যায় না ফেলা। তবে এই জিনিসটা তোফা। হাতে নিলাম। সাইকেলের একটা পুরনো চেন। একটু ঘুরিয়ে সপাটে দিতে পারলে ছত্রভঙ্গ। হাওয়ায় শুধু শব্দ হবে – সাঁই সাঁই।
অস্ত্রাগার ক্রমশ ভরাট দেখে আনন্দ বিহ্বল। বুড়ি বউকে একটা চুমুই খেয়ে ফেলি। টের পাই যুদ্ধ পরিস্থিতি একটা যৌন উত্তেজনাও তৈরি করছে।
তিন
কেবল সন্ধের পর থেকে ভয়টা ক্রমশ গাঢ়। অন্ধকারকে ভয় পায় না কে? এ তো মহাভারতের কাল নয় যে অন্ধকারে আক্রমণ করা যাবে না আর এ বিধান সকলে মানবে! সুতরাং রাতগুলো ভয়ের। আত্মরক্ষার।
ছাদের দরজায় ভাল করে তালা মারলাম। টেনে দেখে নিলাম। স্বস্তি। খিড়কির দোর। মূল ফটকের কোলাপসিবল। সব। বাইরের আলোটা জ্বালিয়ে রাখব কিনা ভাবলাম। না, থাক। বাইরে আজ চাঁদের আলো। সব দেখে শুনে গিন্নিকে নিয়ে শুয়ে পড়লাম। প্রতিদিন রাতেই এসিটা ঘণ্টা চারেকের টাইমারে সেট করে ঘুমোই। আজ এসি চালালাম না। এসি চালালে ঘরের দরজা বন্ধ করতে হবে। দরজা বন্ধ থাকলে বাকি বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
বরং আজ আমরা শোওয়ার ঘর ছেড়ে বাইরের হল-এর ডিভানে এসে শুলাম। এখান থেকে গোটা বাড়িটাই নিয়ন্ত্রণে। ব্যাটলফিল্ডে পজিশন খুব গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধে পজিশন নিয়ে একটা পিডিএফ আর্টিকেল ডাউনলোড করেছি। চোখ বুলিয়েছি। বিস্তারে যাব আগামিকাল। বন্দুক কেনাবেচারও একটা সাইট পেয়েছি। দেখা যাক। কোথাকার জল কোথায় বয়। দুগগা-দুগগা করে গিন্নিকে জড়িয়ে শুয়ে পড়ি।
ক'টা বাজে কে জানে, গভীর রাত সন্দেহ নেই, জেগে গেলাম। একটা খরর্ খরর্ আওয়াজ।
কোথা থেকে আসছে প্রথমটা ঠাহর করতে না পারলেও, পরে বুঝলাম দরজায়। কোলাপসিবলের ফাঁক দিয়ে কাঠের দরজায় কেউ আঁচড়াচ্ছে। গিন্নিকে জাগালাম। মাথা ঠাণ্ডা রাখতে হবে। যা ভেবেছিলাম অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাচ্ছে। শুরু হয়ে গেছে আক্রমণ। গিন্নিকে বললাম বেশ করে জল গরম করতে। দ্রুত পরে নিলাম প্যান্ট-টিশার্ট। ইচ্ছে করেই টাইট প্যান্টটা পরলাম।
অস্ত্রাগার থেকে শাবল আর সাইকেলের চেনটা এনে হল-এ রাখলাম। শব্দটা যেন বন্ধ হল! এগিয়ে গিয়ে দরজায় কান পাতলাম। না, শব্দটা আর হচ্ছে না। ওদের স্ট্র্যাটেজিটাও বুঝতে হবে। পেছন দিকে গেল না তো?
দু'টো লোহার শিক আর নান চাকুও নিয়ে এলাম। দুটো চাকু আর কাঁটা কম্পাসটা গুঁজে নিলাম কোমরে বেল্টের সঙ্গে।
রিকশাওয়ালা আমার বাড়ি চেনে। ভ্যানচালকও চিনে গেছে সকালে। আর আমাদের কাজের মেয়েটা তো সবটাই জানে। বাড়ির অন্দর মহলও ওর মুখস্থ। স্ট্র্যাটেজি বানাতে ওদের অসুবিধে হবে না। আবার শুরু হল শব্দটা। খরর্ খরর্! পরিষ্কার আঁচড়ানোর আওয়াজ। ওদের কী ধারালো নখ আছে? ক্যানাইন? গিন্নিকে দেখতে বলেছিলাম কাজের মেয়েটার দাঁতের গঠন। হাসলে চোয়ালের ধার থেকে ধারালো কোনো দাঁত কি বেরোয় ওর? ছুরির ফলার মতোন?
আবার খরর্ খরর্! নখ। তাহলে কি কুকুরগুলোও এসেছে? বন্দুকের অনুপস্থিতিতে আমার আফসোস। এইসময় বন্দুকটাই দরকার ছিল। যাই হোক, আত্মরক্ষার জন্য আমরা প্রস্তুত।
ক্রমশ রাত মৌষল। যুদ্ধ পরিস্থিতি। গিন্নি ফুটন্ত গরম জল নিয়ে রেডি। আমি শাবলটা বল্লমের মতো ধরে আস্তে আস্তে এগোই দরজার দিকে।
লেখক পরিচিতি
দেবতোষ দাশ
জন্ম ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২-এ পশ্চিমবঙ্গে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। প্রকাশিত উপন্যাস: হলুদ কোকাবুরা, জলের প্রতিভা, বিন্দুবিসর্গ, সন্ধ্যাকর নন্দী ও সমকালীন বঙ্গসমাজ, বিয়োগপর্ব ও কামসূত্র। গল্প সংকলন: ধর্ষণের ১৮ দিন পর; একটি কাঁঠাল ও পাকিস্তানের গল্প। লিখেছেন বাচ্চাদের জন্য নভেলা ‘ভূতের নাতি ভোলামন’। লেখেন নাটকও। কিংবদন্তী নাট্যদল নান্দীকার-এর হাত ধরে নাট্যজগতে তাঁর প্রবেশ। নাটক ‘ও চাঁদ’ লিখে পেয়েছেন ‘সুন্দরম পুরস্কার’। পেয়েছেন মোহিত চট্টোপাধ্যায় নামাঙ্কিত ‘মোহিত সম্মান’। ‘সারভাইভল’ গল্পটি ২০১৫ সালে কলকাতার পাবলিশার্স ও বুকসেলার্স গিল্ড-এর পত্রিকা ‘বইমেলা’ শারদসংখ্যায় প্রকাশিত।


2 মন্তব্যসমূহ
বেশ ভালো লাগলো!
উত্তরমুছুনএই মন্তব্যটি লেখক দ্বারা সরানো হয়েছে।
উত্তরমুছুন