দীপক বিশ্বাসের গল্প : জমি



গ্রাম ছেড়ে মাঠে পা রাখতেই ধীরাজ দেখল ত্রয়োদশীর চাঁদ চরাচরে মাধুর্যের বন্যা বইয়ে দিয়েছে। কী স্নিগ্ধ, মোহময় পরিবেশ! মনটা খুশিতে ডগমগ হয়ে উঠল তার।

সারা মাঠে তার জমিজিরাত ছড়ানো-ছেটানো। তারই দু'-একটাতে চোখ বুলাতে বুলাতে এগিয়ে চলল ধীরাজ। কিছু দূরে গিয়ে নজরে পড়ল, তার পটলখেতের আলে কে যেন বসে আছে পিছন ফিরে। পটল-চোর কি? কয়েক দিন ধরে মাঠের ফসলের এটা-ওটা চুরি যাচ্ছে শুনেছে ধীরাজ। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তার কিছু চুরি হয়নি। অন্যান্যদের কলার মোচা, কপি, বেগুন, দু'-একটা কাঁচকলার কাঁদি চুরি হয়েছে, একথা কানে এসেছে। ফসল হলো লক্ষ্মী। চুরিচামারি করে তাকে অসম্মান করলে কি সে প্রাণ খুলে বর দেয়! ভীষণ রাগ হয় এজন্য ধীরাজের। দরকার হলে সামনাসামনি এসে কিছু চেয়ে নিয়ে যাক। অযথা মা লক্ষ্মীকে অপমান করা কেন?

কিন্তু চোর চুপ করে বসে আছে যে ? চুরি করছে না কেন? সতর্ক হয়ে এগোয় ধীরাজ। কিছুটা এগোতেই চোরের কণ্ঠস্বর কানে আসে, " কিছুই বাঁচাতে পারলাম না রে মা। না তোকে, না ছেলেটাকে! তিনপুরুষকে বাঁচিয়ে রেখেছিস তুই। আর আজ এমন অধম তোকে রক্ষা করতে পারল না! এক সময় কত হাত বুলিয়েছি তোর সারা গায়ে ; আর আজ তুই পরের কব্জায়। তোর গায়ে হাত বুলিয়ে আদর করার অধিকার নেই আমার। তুই-ই বাঁচিয়ে রাখতিস সারাবছর। কিন্তু তুই নেই, বিলে গিয়ে মাছ ধরতেও পারি না তেমন। রপ্ত নেই। কী যে আতান্তরে পড়েছি তোকে হারিয়ে !"

বুকে হাতুড়ি ঘা পড়ে ধীরাজের। এ তো কাঞ্চনের কণ্ঠ! একমাত্র ছেলের অসুস্থতা ধরা পড়ায় ছুটে এসেছিল তার কাছে টাকার জন্য। গাঁয়ের মধ্যে সে-ই একমাত্র ধনী। যখন-তখন টাকা বের করার ক্ষমতা রাখে। তাই দিয়েওছিল এই জমির দলিল নিয়ে দুই কিস্তি। পরের বার চাইতে এলে দলিল পাকাপোক্ত করে নিয়েই টাকা দিয়েছিল ধীরাজ। এসব কথা মনে পড়ায় কাঞ্চনের কান্নায় বিভোর হয়ে গিয়েছিল সে। হাতে আগুনের ছ্যাঁকা লাগায় চমকে ওঠে। তারপর বিড়ালের মতো নিঃশব্দে পিছিয়ে যায়।

বন্ধুর ছেলের চাকরি হওয়ার সুবাদে তার বাড়ি থেকে ভূরিভোজ খেয়ে একটা সিগারেট ধরিয়ে সুখটান দিতে দিতে শম্বুকগতিতে আড়াআড়ি মাঠের পথ ধরেছিল ধীরাজ। কিছুটা এগোতেই এমন পরিস্থিতির মুখে পড়ে।

২.

একটা এঁচোড় কাঠাল মাঝ বরাবর ফাল দিলে যেমন দেখতে লাগে — দু' কিলোমিটার ওপর থেকে ছবি তুললে গ্রামটাকে তেমন দেখায়। কিন্তু তার জন্য গ্রামটার নাম কাঁঠালিয়া নয়। গ্রাম গড়ে ওঠার শুভ লগ্নে কাঁঠাল গাছের প্রাচুর্য হেতু বোধহয় কাঁঠালিয়া রাখা হয়। মুখে বললে সকলে ‘কাঁঠালে’ই বলে। গাঁয়ের পঁচানব্বই শতাংশ মানুষই চাষি। চাষবাস এবং মাছ ধরা এদের সারাবছরের কাজ। এর বাইরে যে দু- একজন ভিন্নতর কাজে রত নয় তা নয়। তবে তা ধরার মধ্যে আসে না। এ গাঁয়ে সরকারি চাকুরে একজনও নেই। দু'-একজন পাঁচ-ছয় কিলোমিটার দূরের বাজারে কারও দোকানে কাজ করে, মাস গেলে পাঁচ -সাত হাজার পায়।

কাঁঠালিয়ার মানুষ চাষবাসের সুবাসেই মেতে আছে। যাদের জমিজায়গা নেই তারা অন্যের জমিতে শ্রম দিয়ে এবং মাঠের দক্ষিণে বিরাট বড়ো বল্লির বিলের মাছ ধরে সংসার যাপন করে আসছে। বিলের মাছ বলতে শোল, কই, শিঙি, মাগুর, পুঁটি, খলসে,পাঁকাল, ল্যাঠা প্রভৃতি। এসব মাছের দামও ভালো এখন। যা পায় তাতেই এক প্রকার দিন চলে যায় অনেকের। মাঠের মাটি উর্বর হওয়ায় ফসল চাষির মুখে হাসি ফোটায়। তবে ধান চাষ তেমন লাভজনক না হওয়ায় অনেকেই ধান না করে সবজি চাষ করে। পটল, বেগুন, গাজর, শশা, ,ব্রকোলি, কপি, কাঁকরোলের মতো সবজির চাষ বেশি হয়।

কাঁঠালিয়ায় চাষি তো আছে বহুজন,কিন্তু কাঞ্চনকে সকলে চাষিদের শিরোমণি মানে। যে কোনো ফসল তার হাতে সোনার ফসল হয়ে ধরা দেয়। চাষের আটঘাট তার মস্তিষ্কে ও নখদর্পনে। যে ফসল অন্য কেউ করতে সাহস পায় না, কাঞ্চন তা অবলীলায় করতে পারে। কাঁঠালিয়ায় কাঁকরোল ও ব্রকোলি তার হাত ধরেই এসেছে। ড্রাগন ফ্রুট নিয়ে মেতে আছে বছর দুই। কাঁঠালিয়ার পাশের গ্রাম গোঁটরা। এই গ্রামে একটা কৃষি উন্নয়ন সমিতি আছে। তাদের সমবায় ব্যাংকের শাখাও আছে। সমিতির তরফে চাষবাস করা হয়। সেই গোঁটরা কৃষি উন্নয়ন সমিতির কৃষি আধিকারিকরা ডেকেছিলেন কাঞ্চনকে তার কৃষিবিদ্যা সম্পর্কে কৌতূহলী হয়ে। কৃষিবিদ্যায় গবেষণা করা সুকান্তবাবু পর্যন্ত চাষের ক্ষেত্রে কাঞ্চনের জ্ঞান দেখে চমৎকৃত হয়েছিলেন। তারপর তিনিই তাকে দিয়ে সমিতির তরফে ড্রাগন ফ্রুটস চাষের বন্দোবস্ত করেন। প্রথম ঋতুতে তেমন লাভের মুখ না দেখলেও পরের বার কাঞ্চন ও সুকান্তবাবুর মুখে হাসি চওড়া হয়েছিল।

গাঁয়ের অনেকে কাঞ্চনকে 'গাদোড়ে' বলে ডাকে। যে দিন নেই, রাত নেই, সময়-অসময় জ্ঞান করে না, মাঠে ঘাটে পড়ে থাকে, জল-কাদা ঘাঁটে তাকে সকলে গাদোড়েই বলে থাকে। কাঞ্চনও তার এক খণ্ড জমিকে মায়ের মতো জ্ঞান করে। তার সমস্ত আয়ের উৎস ওই জমিটুকু। তাই মন দিয়ে ফসল ফলায়, কালীবাজারের সবজি আড়তে গিয়ে বিক্রি করে আসে। যথেষ্ট ভালো দামে বিক্রি হয় তার পরিপুষ্ট টাটকা ফসল।

চাষের কাজে আগে উপযুক্ত ঋতু দেখে মাটি তৈরি করতে হয় এবং মাটির রসের ওপর নির্ভর করে পরিপুষ্ট বীজ বপন করতে পারলে ভালো চারা পাওয়া যায়। এই ঋতু এবং মাটির প্রকৃতির ওপর প্রভূত জ্ঞান রাখে কাঞ্চন। ব্রকোলি চাষের জন্য সে ঝুরঝুরে নরম মাটি করে নেয়। যে কোনো ফসল ফলানোর জন্য নরম এবং ঝুরঝুরে মাটি যে আদর্শ তা কাঞ্চন ভালো মতোই জানে। মাঠের প্রথম ব্রকোলি তার জমিতেই হয়। সেবার মাত্র বারো কাঠা জমির ব্রকোলি বিক্রি করে সে খরচখরচা বাদ দিয়ে ছেচল্লিশ হাজার টাকা লাভ করেছিল। তাই দেখে অনেকেই তার মতো ব্রকোলি চাষের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

রাইচরণ কাঞ্চনকে ডেকে নিয়ে জমি দেখিয়ে বলল, " বল দেখি আমার এই জমিতে ব্রকোলি চাষ করলে কেমন হবে? "
প্রায় শুকনো জমি ও ছোট-বড়ো ঢিলা দেখে কাঞ্চন বলেছিল, "খুড়ো, তোমার এই জমির যা জো, তাতে ব্রকোলি চাষ করা আর জোর করে পিরিত করা একই! আগে জমিতে জল দাও, দু'দিন অপেক্ষা করো, তারপর লাঙল দিয়ে মাটি ভাঙো। ঢেলামাটি ভেঙে চিনির দানা তৈরি করো তারপর চারা বসাও। তবেই না মাটি-মাকে শিকড় জড়িয়ে ধরতে পারবে? "

৩.

" দেখ বাবা ব্যবসা-বাণিজ্য ফেল হতে পারে, চাকরি-বাকরি চলে যেতে পারে, অন্য যে কোনো কাজ যখন তখন বন্ধ হয়ে যেতে পারে কিন্তু চাষবাস চিরকালের। দেশে যত যাই হোক, চাষের কোনো বিকল্প নেই। চাষ করলে আর কিছু নাই হোক দু'মুঠো খেয়ে অন্তত বেঁচে থাকতে পারবি।" –- এমন কথা কাঞ্চনের বাবা তার জীবনে গেঁথে দিয়ে গেছেন। তাই চাষবাসকে সে কখনও অবহেলা করে না। বাবার উপদেশ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলে। বারো কাঠা জমি এবং বাবার এই উপদেশই তার পৈতৃক সম্পত্তি ।

সাড়ে নয় বছরের সুদাম গাঁয়ের স্কুলে ক্লাস ফোরে পড়ে। মাঝে মধ্যে তার বাবার বাড়িতে আসতে দেরি হলে ভাত নিয়ে মাঠে যায়। কাঞ্চন সুযোগ পেলেই ছেলেকে চাষবাসের ব্যাপারটি বোঝাতে চেষ্টা করে। মাটি চেনায়, ‘জো’ কাকে বলে জানায়, ঋতু ভিত্তিক ফসলের গুরুত্ব বোঝায়, জৈব সারের উপকারিতা সম্পর্কে বলে। ঠিক যেমন তার ছোটবেলায় বাবা তাকে বোঝাতেন।

চাষের কাজে কাঞ্চন নাওয়া-খাওয়া ভুলে যায়। তখন আগমনী ছেলেকে দিয়ে খাবার পাঠায়, " যা খোকা, তোর বাবাকে ভাতটা দিয়ে আয়। কাজপাগল মানুষ, কাজের নেশায় খাওয়ার কথা ভুলে যায়। বেশিক্ষণ না খেয়ে থাকলে আবার পিত্ত গরম হবে!"

কখনও সখনও জ্বর গায়েও সুদাম বাবার জন্য খাবার নিয়ে যায়। কিছু দিন ধরে হালকা- পাতলা জ্বরে ভুগছে সে। মাথাও ঘোরে মাঝে মধ্যে। গাঁয়ের লোকের অমন কত কিছু হয় বলে বাবা-মা তেমন গুরুত্ব দেয় না।

সেদিন খেতে ছোট ছোট আগাছা নিড়াতে গিয়ে কাঞ্চনের আর বেলার দিকে খেয়াল ছিল না। সুদামকে মাথা ফাটা রোদের মধ্যে মাথায় করে এক গামলা ভাত আনতে হলো। বাড়ি থেকে তাদের জমির দূরত্ব বেশ খানিকটা। এতটা পথ হেঁটে এসে মাথা থেকে ভাতের গামলা নামাতে গিয়ে মাথা নিচু করার সময় নাক থেকে টপটপ করে কয়েক ফোঁটা রক্ত মাটিতে পড়ল। রক্ত দেখে ভয় পেয়ে গেল সুদাম। ভয় পেল কাঞ্চনও।

৪.

গাঁয়ের হাতুড়ে ডাক্তার ওষুধ দিলেন। জ্বরের জন্য রক্ত পরীক্ষা করালেন। কিন্তু জ্বরজারি তেমন কিছু পেলেন না। তাঁর সাধ্যের বাইরে বলে কল্যাণী হাসপাতালে পাঠালেন। তারাও দায়সারা ভাবে দেখেশুনে বলল কলকাতায় যেতে। যা পরীক্ষা-নিরীক্ষার দরকার সে ব্যবস্থা এখানে নেই। কথা শুনে কাঞ্চন মুষড়ে পড়ল। একজন ডাক্তারবাবু কাঞ্চনের দিকে তাকিয়ে কী বুঝলেন তিনিই জানেন। তারপর কাকে ফোন করে কিছু কথা বললেন। পরে কাঞ্চনকে বললেন শিয়ালদহ স্টেশনের সামনে নীলরতন হাসপাতালে যেতে, সেখানে তাঁর একজন ডাক্তার বন্ধু আছেন, তিনিই ব্যবস্থা করে দেবেন।

বাড়ির কাছে কল্যাণীতে যা হোক করে গিয়েছিল কাঞ্চন, কিন্তু কলকাতার কথা শুনে ঘাবড়ে গেল। সারাজীবন সে মাটি ঘেঁটে এসেছে। কলকাতা কোথায়, কোথায় হাসপাতাল, সে কিছুই জানে না! বাড়িতে এসে নিরুপায় হয়ে পড়শি শম্ভুকে আঁকড়ে ধরেছিল। শম্ভু কলেজে পড়ে, কলকাতার কোথায় যায় মাঝে-মধ্যে বই কিনতে। তাই তাকে ধরেই গিয়েছিল নীলরতনে। সেখানে গিয়ে অনেক পরীক্ষানিরীক্ষার পর জেনেছিল সঠিক রোগটা কী? কাকে বলে 'লিউকোমিয়া'।

এসব করার জন্য কাঞ্চনকে ধীরাজের কাছে হাত পাততে হয়েছিল। ধীরাজ বিষয়ী মানুষ। জমির দলিল জমা নিয়ে টাকা দিয়েছিল। মাসখানেক পর আবার ছেলের চিকিৎসার জন্য ধীরাজের কাছে যেতে হয়েছিল। কিন্তু তাতেও মুক্তি মেলেনি। তখন শম্ভু পরামর্শ দিল দক্ষিণ ভারতে গিয়ে চিকিৎসা করানোর। সেখানে কম খরচে ভালো চিকিৎসা হয়।

শেষ পর্যন্ত ছেলের জন্য শম্ভুকে সঙ্গী করে সেখানে যাওয়াই স্থির করে কাঞ্চন। কিন্তু ততদিনে সুদাম প্রায় বিছানা নিয়েছে। হঠাৎ হঠাৎ নাক থেকে রক্ত পড়ে। দুর্বল শরীরের জন্য চলতে ফিরতে কষ্ট হয়। গাঁটে গাঁটে ব্যথা। বাধ্য হয়ে কাঞ্চনকে বড় সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল — মায়ের মতো জমিকে হাতছাড়া করার সিদ্ধান্ত। তাছাড়া আর উপায় কী? ওই একখণ্ড জমি ছাড়া কিছুই তো নেই তার।

কাঞ্চনদের এলাকার রীতি হলো, যে জমিজায়গা কিনবে সে জমি রেজিস্ট্রেশনের দিন বিক্রেতা এবং সাক্ষীদের মিষ্টিমুখ করাবে কিংবা হোটেলে মাংস-ভাত খাওয়াবে। সাক্ষীরা চেয়েছিল মাংসভাত খেতে। ধীরাজ সকলকে খাইয়েছিল। কিন্তু কাঞ্চন হোটেলের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল, ভিতরে ঢোকেনি। খাওয়া তো দূর অস্ত! ধীরাজ খেয়ে এসে দেখে কাঞ্চন করুণ মুখে দাঁড়িয়ে আছে। সেদিনও কিছু মনে হয় নি ধীরাজের। এমনকি কাঞ্চন মৃত ছেলেকে যেদিন দক্ষিণ ভারত থেকে নিয়ে ফিরে এলো বাড়িতে, সেদিনও ধীরাজ দেখতে গিয়েছিল। কিন্তু কাউকে গলা ছেড়ে কাঁদতে দেখেনি। বারান্দার খুঁটিতে হেলান দিয়ে আরও দুটি খুঁটি হয়ে বসে ছিল কাঞ্চন ও আগমনী।

৫.

আজ ধীরাজের মনটা উথাল-পাতাল হয়ে উঠল কাঞ্চনের কথা শুনে। এমন ভাবেও মানুষ মাটিকে ভালবাসতে পারে! জমিজিরাত হারিয়ে এমন বুকফাটা আর্তনাদ যে বেরিয়ে আসতে পারে সে ধারণা ছিল না ধীরাজের। মনটা খুবই বিষন্ন হয়ে যায়। নিজের তেষট্টি বিঘা জমি। প্রয়োজনের অতিরিক্ত বলে বোধহয় জমির জন্য ভালোবাসা গড়ে ওঠেনি তার। কিন্তু সামান্য জমির মালিক কাঞ্চনের কাছে যে জমি কী, সেটা এই মুহূর্তে বুঝে গেল সে।

পরদিন সকালে ধীরাজের ডাকে কাঞ্চন তার ঘরের টিনের দরজা ঠেলে বেরিয়ে এল। প্রায় সারা মাঠের মালিক ধীরাজকে তার বাড়ির উঠানে দেখে আশ্চর্য হয় সে। পায়ে পায়ে সামনে এসে দাঁড়াতেই ধীরাজ তার হাত দুটো ধরে বলল, " ভাই, তোমার মতো মাটিকে ক'জন বোঝে? তোমার হাতের জমি অন্যের কাছে বশ মানবে কেন? আমি শত চেষ্টা করেও তোমার মতো ফসল ফলাতে পারলাম না। জমিটুকু তুমি তোমার নিজের জমি ভেবেই চাষ করো আজীবন। আমাকে শুধু খাওয়ার সবজি দিও তাহলেই হবে। "

কাঞ্চন কিছু বুঝতে না পেরে অবাক চোখে তাকায়। ততক্ষণে ধীরাজ দ্রুত তার হাতটা ছেড়ে দিয়ে ফিরে যেতে শুরু করেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

14 মন্তব্যসমূহ

  1. দীপক বিশ্বাস ভাই, পড়লাম। ভালো লাগলো তোমার লেখা গল্পটা।

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. আপনি সময় করে পড়েছেন জেনে আনন্দিত হলাম দাদা। ভালো থাকুন 🙏🙏

      মুছুন
  2. অসাধারণ লেখা।ছিপছিপে।

    উত্তরমুছুন
  3. গল্পটা বেশ ভালো লাগল দীপক। তোমার আরও গল্প পড়তে চাই।

    উত্তরমুছুন
  4. অশেষ ধন্যবাদ দাদা। ❤️
    পাঠাব আপনাকে। ভালো থাকুন। 🙏

    উত্তরমুছুন
  5. চাষের জমির মাটির সঙ্গে চাষীর রক্ত মাংস ভালোবাসার গল্প, সাবলীল উপস্থাপনার মধ্যে দিয়ে সম্পর্কের জীবন্ত মর্মকথা এই গল্প পাঠে আমার প্রাপ্তি।

    উত্তরমুছুন
  6. উপরের নামহীন মন্তব্যটি আমার।দীপক বাবু, আপনাকে অভিনন্দন।

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. আপনার ভালো লেগেছে জেনে আপ্লুত হলাম। শ্রদ্ধা জানবেন 🙏🙏

      মুছুন
  7. উপরের মন্তব্যটি আমার।

    উত্তরমুছুন
  8. খুব ভাল লেখা। গল্পটা ভাল লেগেছে। মাটি আর মাটির মত মানুষদের গল্প!

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. আপনার ভালো লেগেছে জেনে আনন্দিত হলাম। শ্রদ্ধা জানবেন 🙏🙏🙏

      মুছুন
  9. ভাল লাগল। শেষটা ওপেন হলে রেশটা বেশি থাকতো।

    উত্তরমুছুন
  10. শ্রদ্ধা জানবেন। আপনার পরামর্শ স্মরণে থাকবে। 🙏

    উত্তরমুছুন