উঠোনে ফুটফুটে জোছনা ফুটেছে। শ্রাবণ মাস। অথচ আজ আকাশে এতটুকু মেঘ নেই। বৃষ্টি ধোয়া পরিষ্কার আকাশ বলেই বোধহয় জোছনার এমন ছটা! ইতির সেদিকে তাকিয়ে কেমন ঘোর লেগে গেল। তার হাতে জল ভরা একটা মগ। রাতের খাবার খেয়ে আঁচাবে বলে সে উঠোনে এসেছে। এ বাড়িতে জায়গা কম। ঘরগুলো কেমন যেন ছোটো আর ঠেসাঠেসি। ঘরের মধ্যে জামা কাপড় বোঝাই করা, সবকিছু অগোছালো। ঘাটের পুকুরের জলটাও একদম ঘোলা। তাদের বাড়ির পুকুরের জল কাকের চোখের মত স্বচ্ছ। এরা কি জলে চুনও দেয় না? আর রান্নায় কী ভীষণ মিষ্টি দেয় এরা! বাপরে! একদিনেই ইতির যেন দমবন্ধ হয়ে আসছে।
আজ এই বাড়িতে তার দ্বিতীয় রাত্রি। আজ তার ফুলশয্যা! সে আঁচলের তলা থেকে সাবধানে ফোনটা বের করে আনল। এবার রূপমকে ফোন করে ডেকে নিতে হবে। পথ বলা আছে। রাত হলেও অসুবিধা হবার কথা না, চারদিক ফটফট করছে আলোতে। ফোনটা পুনির। টিউশনির টাকায় কেনা। একটু আগে বাড়ি ফিরে যাবার সময় দিয়ে গেছে তাকে। পুনি লেখাপড়ায় ভাল। বাবা বলেছে ওকে এরপর কলকাতার কলেজে রেখে পড়াবে। প্রথমটায় ফোন কি দিতে চায়! ইতি ওর হাত ধরে যখন মাথা নামিয়ে কাঁদছিল, দেখে বোধহয় মায়া লেগেছিল ওর। ফোন দিয়ে বলেছে,
''সাবধানে থাকিস। রূপমদাদাকে আবার ফোন করিস না যেন। নতুন জায়গা, কে কখন কোথা থেকে দেখে ফেলবে! জানিস! রূপমদাদার মা আজ না তোর কথা জিজ্ঞাসা করছিল। অষ্টমঙ্গলাতে এসে ফোনটা আমাকে ফিরিয়ে দিস। এই কয়েকদিন আমি ঠিক ম্যানেজ করে নেব।''
পুনি জানে না, ইতির আর অষ্টমঙ্গলা হবে না।
ইতি মুখে জল নিয়ে ফুচফুচ করে কুলকুচি করে ফেলতে লাগল, জল সামনের লেবু ঝোপের উপরে গিয়ে পড়ছে। ঝোপের দিকে মুখ করে দ্রুত একটা নম্বর ডায়াল করল সে। ধরছে না! আশ্চর্য ছেলে! ইতির চিন্তায় মাথা ফেটে যাচ্ছে আর ইনি কিনা ফোনটাও ধরছেন না?
রূপম হ্যালো বলতেই, তাড়াতাড়িতে ইতি মুখের জলটা কোঁত করে গিলে নিল।
''কোথায় তুমি?''
''বাড়িতে।''
''মানে? আমাকে নিয়ে যাবে না? কত রাত হয়ে গেল, কখন আসবে?''
''দেখো ইতি, ভেবেচিন্তে যা করার তোমাকেই করতে হবে। তুমি এখন একজনের বউ। আমি তোমায় নিয়ে এলে পুলিশ কেস হবে যে! তাছাড়া মা-ও রাজি হবে না। তুমি তো জানো আমি মায়ের মনে কখনও দুঃখ দিতে চাই না। এর চেয়ে তুমি ওখানেই মানিয়ে নাও। বিয়ে যখন হয়েই গেছে, তখন আর কিছু করা যাবে না।'' শুনে ইতি পারিপার্শ্বিক ভুলে চিৎকার করে উঠল।
''বিয়ের আগে থেকে আমাকে নিয়ে পালাবে বলে আসছ, এই করে করে শেষে বিয়েটা হল, এখন বলছ সংসার করো? শোনো, তুমি যদি না আসো আমি আজ রাতেই বিষ খাব। বাবার বেগুনগাছের পোকা মারার বিষের প্যাকেট এখন আমার কাছে। আমি নিয়ে এসেছি। এখন আমার আর ফেরার পথ নেই। যা বলছি শোনো। এই বাড়িতে দুটো বাথরূমই বাইরে, মানে উঠোনে। রাত দুটো নাগাদ আমি উঠোনে বাথরূমে আসব। তুমি বাইরে অপেক্ষা করবে।''
''শোনো ইতি, তা হয় না।''
''একটাও কথা বলবে না, তুমি। আমি ফোন রাখছি। তাড়াতাড়ি এসো।''
''কাকে তাড়াতাড়ি আইতে কইলে?''
ইতি চমকে পেছনে তাকাল। কখন তার বর এসে দাঁড়িয়েছে তার পেছনে। একটু সরু আর মেয়েলি গলা লোকটার। গায়ের রং টুকটুকে ফর্সা। সারা মুখে ছোট ছোট তিলের দাগ। ধীরু পান্ডা। পান্ডাদের বেশ কয়েকটা পানের বরজ আছে। দুই ভাই মিলে ধানী জমি আর বরোজ থেকে বেশ ভালই আয় করে। বাজারে একটা দোকানও ভাড়া দেয় ধীরু। দেখেশুনেই বাবা বিয়ে ঠিক করেছে ইতির। এরা এই গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবার। দেনা পাওনাও তেমন কিছু চায়নি ওরা। ধীরুর মা খুব গরজ করে বিয়ে ঠিক করেছেন ছেলের। পুনি একদিন বলছিল,
''জানিস দিদি, তোর বরের নামে নাকি গ্রামে কীসব বদনাম রটেছে। কাদের বাড়িতে কোন এক বউয়ের জন্য খুব যাতায়াত করে। তাই ওর মা ছেলের তাড়াতাড়ি বিয়ে দিতে চায়। দেনা পাওনাও করেনি, খুঁজে খুঁজে এত দূরের পাত্রী আনছে। তেঁতুলিয়ার ছেলে আর সেই বটচড়ার মেয়ে!''
ইতি ধীরুর গলা শুনে ভয় পেয়ে গেল। বলল,
''কই কিছু বলিনি তো।''
মেয়েলি গলায় ধীরু বলল,
''যাঃ! আমি পস্টো শুনচি, তুমি ওউ কথা কউচো! তুমার হাতে কী একটা থাইল আমি দেখচি। মোব্বাইল? তাই না? তুমি কার সাথে ফোনে কথা কইথল?''
ধীরুর মুখের সামনে শূন্যে হাত নাচিয়ে ইতি বলল,
''আমি আবার ফোন কোথায় পাব?''
ধীরু হাসল। জোছনার আলোয় ওর চোখদুটো যেন দপ করে জ্বলে উঠল। মুখ ভর্তি পানের পিক ছপ করে গাছের পাতার উপর ফেলে লোকটা ইতির হাতদুটো মুচড়ে পেছনে নিয়ে, হঠাৎ ওর ব্লাউজের ভেতর হাত ঢুকিয়ে দিল। লাল দাঁত বের করে হাসছে লোকটা। ইতির বুকদুটো প্রচন্ড জোরে কচলাতে কচলাতে বলল,
''ফুলশয্যা কি এঠিনু শুরু করবু?''
ইতি কাঁদছে। তার বমি পাচ্ছে। জর্দার গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসছে। এত জোরে কেউ প্রথম কাউকে চুমু খেতে পারে! ইতি ভাবতেই পারে না। তার রূপমের চুম্বন মনে পড়ছে। একবারই তাদের দুজনের ঠোঁট মিলেছিল। এ ছাড়া রূপম তাকে কখনও স্পর্শ করেনি। একবার রূপমের সঙ্গে মৃদঙ্গভাঙা নদী দেখতে ওর সাইকেলে করে এসেছিল ইতি। তখন প্রায় সন্ধ্যা হয়ে আসছে। সারি সারি বাবলা গাছের পাশে পাশে বিরাট বিরাট মাছের ভেরী। সূর্যের লাল আলোয় ভেরীর জল তখন লাল। ফাঁকা পথের ধারে হঠাৎ সাইকেল থামিয়ে দিয়ে রূপম আলতো করে ইতির ঠোঁটে ঠোঁট রেখেছিল। খুব হালকা সিগারেটের গন্ধ ছিল রূপমের ঠোঁটে। এই লোকটার মুখে তীব্র জর্দার গন্ধ। দাঁতগুলো লাল। ধীরু ইতিকে জড়িয়ে ধরেছে।
বিয়ে উপলক্ষ্যে ঘরে অনেক আত্মীয় স্বজন আছে। কারা যেন হি হি করে হেসে হঠাৎ দৌড়ে পালাল। একটু দূরে পুকুরঘাটে হ্যাজাক লাগানো হয়েছে। কেউ ঘাটে ঝনঝন করে একগাদা এঁটো বাসন ফেলল। ইতির সায়ার ভেতর উঠোনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই হাত ঢুকিয়ে দিয়েছে ধীরু। তারপরই মোবাইলটা হাতে পেয়ে গেল ধীরু। মোবাইলটা চট করে অন্য হাতে নিল সে, কিন্তু হাতটা সারালো না।
হঠাৎ কাটা পাঁঠার মত অসহ্য যন্ত্রণায় চেঁচিয়ে উঠল ইতি। ইতির চিৎকারে ঘরের ভেতর থেকে ধীরুর মা এবং অনেক লোকজন ছুটে এল উঠোনে। ধীরু ইতিকে ছেড়ে তার মায়ের দিকে তাকিয়ে শান্ত স্বরে বলল,
''এই দুশ্চরিত্তির মেয়েছেলে নিয়ে ঘর করা যাবেনি।''
সকাল নটা। উঠোনের চারদিকে গোল করে চেয়ার পাতা হয়েছে। সেইরাতেই গাড়ি পাঠিয়ে ইতির বাবা ভবেশ মিশ্রকে ধরে এনেছে এরা। ইতি দেখল বাবার রাতে ঘুম না হওয়ায় চোখদুটো লাল। তার বুকের ভেতরটা মুচড়ে উঠল। ধীরু ফোনটা পেয়েই রাতে রূপমকে ফোন করেছিল। রূপম ফোন ধরে অবাক গলায় বলেছিল,
''কী হয়েছে ইতি? শোনো আমি এখন কিছুতেই যেতে পারব না। কটা দিন তুমি এখন ওখানেই থাকো।''
ধীরু সালিশি সভা ডেকেছে। সভায় সবার সামনে বসে ইতি কেবল হু হু করে কাঁদতে লাগল। ইতির ফোনের কথা বলা নিয়ে গ্রামের লোকজন নানা রকম কানাকানি করছে। ইতির বাবা একদিকে অপরাধীর মত মাথা নীচু করে বসে আছে। রূপমকে ভালবাসে এ কথা ভয়ে বাবাকে কখনও বলতে পারেনি ইতি। ভবেশ মিশ্রকে বটচড়া গ্রামের সবাই মানে। ইতি আর পুনি তাদের বাবাকে বাঘের মত ভয় করে। সেই বাবা কেমন অসহায়ের মত উঠোনের এককোনে বসে আছে! একটা কাগজে লিখিত বয়ান দিতে হল ভবেশ মিশ্রকে। তারপর নিজের দুশ্চরিত্র মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরে চলল সে। পাথর প্রতিমা আর রামগঙ্গার মাঝখান দিয়ে বটচড়া নদী বয়ে গেছে। ভবেশ ভটভটি থেকে নেমে নদীর ধার দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে শান্ত গলায় বলল,
''বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাব না তোকে। তুই এখন রূপমদের বাড়িতেই যা। ওরাও যদি তোকে না নেয়, বটচড়া তো আছে! ওখানে ডুবে মরিস। ওই মুখ আর আমাকে দেখাস না!''
ভবেশ চোখ মুছতে একবার তার মাথাটা নামাতেই দেখল, সত্যিই রূপমদের পাড়ার দিকে হেঁটে যাচ্ছে ইতি। সে হতবাক হয়ে সেইদিকে তাকিয়ে রইল।
অনেকটা পথ রোদে হেঁটে এসে ইতির মুখ কালো হয়ে গেছে। সকাল থেকে সে কিছুই খায়নি। অবশ্য কেউ তাকে খেতেও বলেনি। তার মুখে এখন একটু থুতুও নেই। সে শুকনো জিভ দিয়ে ঠোঁট চেটে নিল। রূপমের মা তার সামনে বিরক্ত মুখে দাঁড়িয়ে আছেন। গ্রামে বিদ্যুতের বেগে কুৎসা ছড়িয়ে পড়ে। সমস্ত ঘটনা তিনি আগেই শুনেছেন।
''রূপম আছে?''
''রূপমকে কী বলবে? রূপম ওর আড়তের জন্য ভেরীতে মাছের অর্ডার দিতে গেছে। কখন ফিরবে ঠিক নেই। জানোই তো অনেক পয়সা খরচ করে রূপমের বাবা বাজারে ওই দোকানটা কিনেছেন।''
''আমি তাহলে এখানে একটু বসি। রূপম ফিরুক।''
''না। এখানে তোমার জায়গা হবে না।''
ইতি চমকে উঠল। সে জানতো এমন কিছু একটা হতে চলেছে। তার কেমন জেদ চেপে বসেছে। সে গোয়ারের মত বলে ওঠে
''ঠিক আছে আমি বাইরে রাস্তায় বসছি। রূপম ফিরুক!'' ইতি ভেবেছিল বাইরে প্রচন্ড রোদ দেখে মহিলার মন নরম হবে, কিন্তু মহিলার শক্ত চোয়াল, আর নিষ্ঠুর ভঙ্গি তাকে বুঝিয়ে দিল এ বড় শক্ত ঠাঁই।
ইতি রূপমদের বাড়ির সামনের জমির উপর বসে পড়ল। তার হাত পা কাঁপছে, মাথা ঠিক করে কাজ করছে না। সে আবার রূপমকে ফোন করল। সকাল থেকে প্রায় পঞ্চাশবার সে রূপমকে ফোন করেছে, ফোন সুইচড অফ বলছে।
সন্ধ্যার দিকে রূপমকে ফিরতে দেখল ইতি। রূপম চোরের মত ঘরের ভেতর ঢুকে গেল। ঝিমঝিম করে তখন বৃষ্টি নেমেছে। খেতের উপর বাদুলে পোকার দল ঘিরে ধরেছে ইতিকে। কটকট করে ব্যাঙ ডাকছে একটু দূরে। একটু পরে সারাদিন পর বৃষ্টি ভেজা ইতি অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল মাটিতে।
তাদের গ্রামের মেয়ে বউরা একটা ভ্যানে চাপিয়ে ইতিকে গ্রামীন হাসপাতালে নিয়ে এসেছে। স্যালাইন চালিয়ে দিলেন প্রায় ইতিরই বয়সী একজন লেডি ডক্টর। ইতির গল্পটা অনেকের কাছেই সবিস্তারে শুনেছেন তিনি। গল্পটা শুনে বিরক্তমুখে নাক কুঁচকে রইলেন তিনি। কোনো কথা বললেন না।
কয়েক ঘন্টা পরে ইতি জল বিস্কুট খেয়ে কিছুটা সুস্থ। ডাক্তার মেঘা রায় তার প্রেশার দেখতে দেখতে বললেন,
''বিয়ে আর সংসার ছাড়াও পৃথিবীতে অনেক কাজ করার আছে। ওইসব নিয়ে একবার ভাবলেও তো হয়! তাই না!
সেই রাতটা ইতিকে ভর্তি করে রাখলেন ডাক্তার মেঘা। ইতি হাসপাতালের বেডে শুয়ে শুয়েই আকাশে চাঁদ উঠতে দেখল। আজও চারদিকে জোছনায় ফটফট করছে। জানলার কাছে একটা বিরাট শ্যাওড়া গাছে চাঁদের তীব্র আলো দেখে, কাকেরা ভোর হয়েছে ভেবে কা কা করে ডেকে উঠল। এমন জোছনাকেই তাই বুঝি বলে কাকজ্যোৎস্না।
ইতি মুগ্ধ হয়ে চেয়ে থাকে সেদিকে। সে দেখল আকাশ থেকে সেই জোছনা গায়ে মেখে স্বচ্ছ ডানার এক পরি নেমে এসেছে তার কাছে। পরি ইতির হাত ধরে তাকে নিয়ে আকাশে উড়ে চলল, ইতি দেখল তারও পরির মত সুন্দর একজোড়া ডানা হয়েছে। সে নদীতে সাঁতার কাটার মত করে আকাশের বুকে সাঁতার কাটতে কাটতে দুধের সরের মত জোছনার সমুদ্র পেরিয়ে যেতে লাগল।
হঠাৎ ফিসফিস শব্দে কে যেন তাকে ডাকতে লাগল। জানলার গায়ে টকটক করে কে টোকা দিচ্ছে? কে? ইতি অনেক কষ্টে তার চোখ খুলল। চোখে যেন আঁঠা লেগে জুড়ে গেছে। মাথাটা অসম্ভব ভারী। ইতি চেয়ে দেখল জানলার পাশে রূপম দাঁড়িয়ে আছে।
''ইতি বাড়ি ফিরে যাও। এভাবে আমার বাড়ির সামনে থেকো না! মা খুব রাগ করছে।''
''আচ্ছা।''
''কাল হাসপাতাল থেকে ছুটি দিয়ে দেবে তোমায়, তাই না? তখন সোজা বাড়ি যেও কিন্তু।'' ইতি উত্তর দিল না। হঠাৎ তার ভীষণ বমি পেল। বহুক্ষণ খালি পেটে থেকেছে সে। সে ছুটে কলঘরের দিকে চলে গেল। তারপর সশব্দে উগড়ে দিতে লাগল পিত্ত, লালারস আর চোখের জল।
বিছানায় ফিরে এসে ইতি দেখল জানলার পাশ থেকে রূপম কখন যেন চলে গেছে। মেঘা রাউন্ডে এসেছিল একটু আগে। গোটা ঘটনাটা সে দেখেছে। সে ইতির হাতদুটো ধরল।
'' আমি তোমাকে একটা সুযোগ দিতে চাই। আমার মা-ও আমাকে অনেক কষ্টে বড়ো করেছেন। এখন আমি এখানে চলে এলে, মা একাই থাকেন। যদি তুমি রাজি থাকো, আমার সঙ্গে আমার বাড়িতে যেতে পারো। ওখানে গিয়ে তোমাকে আবার পড়াশুনো শুরু করতে হবে, আর নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। যে পুরুষকে এতদিন ভরসা করেছিলে, সে যে দুর্বল আর কাপুরুষ এখন নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছ? তোমাকে নিজের জন্যই স্বাবলম্বী হতে হবে। কাল ভোর হলে তোমার বাড়ির সবার সঙ্গে কথা বলতে চাই।''
ইতি কথা বলতে পারে না। গলার কাছে কী যেন দলা পাকিয়ে ওঠে। চোখ ভিজে যায়। শেষ রাতের জোছনায় ভিজে ভিজে ও পরির যে স্বপ্ন দেখেছিল, তা এবার সত্যি হতে চলেছে।


1 মন্তব্যসমূহ
এই গল্পে বাস্তবের মাটির গন্ধ লেগে আছে। করুণ রসে পূর্ণ হলেও শেষে যে আশার আলো দেখতে পেলাম, বড় ভালো লাগল। ভাগ্যিস এইভাবে শেষ হল গল্পটি! অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
উত্তরমুছুন