উম্মে মুসলিমার গল্প : অষ্টাদশী


তরু বুবুর সাথে দেখা গোয়ালন্দ রেলওয়ে স্টেশনে। ঢাকা থেকে দেশের বাড়ি যাওয়ার পথে আমারও গোয়ালন্দে ট্রেন বদল। সেই সুচিদি। অনেকটা সুচিত্রা সেনের মতো দেখতে ছিল বলে আমরা বন্ধুরা তরুবুকে ডাকতাম সুচিদি। সুচিত্রা সেন এ বয়েসে দেখতে কেমন হয়েছে জানার কোন উপায় নেই। স্বেচ্ছাবন্দী জীবন কাটাচ্ছেন। কদিন আগে কে যেন ফেসবুকে সুচিত্রা সেনের এখনকার একটা ছবি আপলোড করেছিল। আমি ভালো করে না তাকিয়েই দ্রুত আঙুল ঘুরিয়ে নিচে চলে আসি। সেটা হতে পারে আমি সেই সাগরিকা বা হারানো সুরের মোহনীয়াকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই বা সুচিত্রার নিজেকে আর প্রকাশিত না করার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাতে। সুচিদিকে দেখে আন্দাজ করা যায় কি সুচিত্রা সেনের বর্তমান? সিঁথি অনেক চওড়া, পাতলা চুল, সাদার আধিক্য। পাবনাই তাঁতের সবুজ-কমলা শাড়ি, ব্লাউজের হাতার ভাঁজে ছেঁড়া, দুটো সোনার ক্ষয়ে যাওয়া চুড়ির সাথে দুটো কাঁচের চুড়ি, একপা তুলে কংক্রিটের বেঞ্চের ওপর হাতের ব্যাগটা কসে চেপে ধরে বসে আছে। পা তুলে রাখার কারণে উরুর কিছুটা অংশ বেখেয়ালে বেরিয়ে আছে। দুএকজন পথচারী আড়চোখে দেখেও নিচ্ছে। ঘাড় ঘুরিয়ে পানের পিক ফেলতে গেলে শাড়ির ওপর খানিকটা ছলকে পড়লে সুচিদি তটস্থ হয়ে কী দিয়ে তা মোছা যায় তার অনুসন্ধান করতে লাগলো। পানের খিলি জড়ানো ফেলে দেয়া কাগজটা নিচু হয়ে মাটি থেকে তুলতে গিয়ে পা নামাতে হলো। যাক্্ এতক্ষণে স্বস্তি পেলাম। পান চিবিয়ে চিবিয়ে দাঁতের কী ছিরি করেছে? আগে হাসলে একগালে টোল পড়তো। এখনও হেসে উঠলো। কিন্তু টোলটা পুকুরের জলে ঢিল ফেলার মত ঢেউ না তুলে বলিরেখার সাথে এক লাইনে হারিয়ে গেল। দাঁড়িয়েছিলাম। আমার হাতে পানের পিকলাগা আঙুল ছুঁইয়ে পাশে বসতে বললো আমাদের সেদিনের সুচিত্রা সেন। কতো বদলেছি আমি, সুচিদি, আমাদের চারপাশ। তবুও ঠিক সেই ফেলে আসা দিনগুলোর মতই আপনস্বরে একটুও অবাক না হয়ে সুচিদি বললো
‘এখেনটায় বোস রুমা। কদ্দিন পর দেখা বলতো। বাড়ি যাচ্ছিস? চাচী বেঁচে আছে?

‘না গো সুচিদি’।

সুচিদি কি একটু কেঁপে উঠলো? আমার মায়ের মৃত্যু তাকে কেঁপে ওঠার মতো আঘাত দেয়ার অতখানি যোগ্যতা রাখে না। তাহলে? ‘কতোদ্দিন পর নামটা শুনলাম। সুচিদি। ভুলেই গেছলাম’। স্বগতোক্তির মতো করে বলে কী মনে করে আনমনে নিজের গালে হাত বুলালো সে। হয়তোবা কারো প্রশংসা বা হারানো যৌবনের কথা মনে হলো তার। দেখলাম সুচিদির চিবুকের বিখ্যাত তিলটির ওপর একটা চুল। সাদা।

‘বাড়িতে কার কাছে যাচ্ছিস? কে আছে?’

‘আর বলোনা। রবুদার মেয়েটাকে নিয়ে ভারি ঝামেলা হচ্ছে। ভাবী মারা গেছে চার বছর হলো জানোতো। ভারি জেদি আর একরোখা মেয়েটি। রবুদা সামলাতে পারছে না। গত পরশু ঘুমের ওসুধ খেয়ে সে এক কাণ্ড’

‘ও। কত বয়স হলো ওর?’

‘এইতো আঠারো’।

সুচিদি আবার পা তুলে বসলো। স্টেশনের লাল দালান ছাড়িয়ে দূরে দাঁড়িয়ে আছে ঝলমলে রাধাচূড়া। তার ওপরে ঝুঁকে আছে কৃষ্ণ মেঘ। সুচিদি কোনদিকে চেয়ে আছে বুঝলাম না। হয়তো আকাশে। কিন্তু আমি জানি সুচিদিকে ‘এইতো আঠারো’ টেনে নিয়ে যাচ্ছে পেছনের দিকে।

সুচিদি মানে তরু ছিল পাতার বড়বোন। পাতা আমার বন্ধু। আমাদের বাড়ি থেকে ওদের বাড়ির দূরত্ব মাঝে একটা মসজিদ আর ক্লাবঘরের। ক্লাবটা ওদের বাড়ির ঠিক পাশে। পাতার বাবা ছিলেন রেজিস্ট্রি অফিসের মুহুরি। তরুবু তখন তিনচারবছর আগে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে ডাইনিং চেয়ারের কভারে কাটওয়ার্ক করে, কেক-টিকিয়া-কাবাব বানানো শেখে, একতলার ছাদে রোদ পড়ে এলে আচারের বয়াম তুলতে গেলে ক্যারমবোর্ড থেকে চোখ তোলা ক্লাবের সব ছেলেদের একমাত্র দর্শনীয় বস্তুতে পরিণত হয়। ছেলেগুলোর সারাদিনের একমাত্র আকাক্সক্ষার পরিসমাপ্তি ঘটে। তো আমার ভাই রবিউল মাহমুদ ছিল ঐ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। বাবা ওর নাম রেখেছিল মো: রবিউল হোসেন। তখন কবি আল-মাহমুদের সোনালী কাবিনের ভক্তরা নিজেদের নামের শেষে সবাই মাহমুদ যোগ করতে শুরু করলো। আমার ভাই রবু কবিতা লিখতো। একদিন ক্লাবে কবিতা পাঠের আসরে মাইক এনে মাইকের মুখ পাতাদের বাসার দিকে ঘুরিয়ে ‘জন্ম আমার আজন্ম বৃথা’ নামে তার নিজের লেখা কবিতা পড়লো। ক্লাবের আর এক ত্যাদড় সদস্য মোমিনুল রবুদার কবিতা আবৃত্তির পরপরই মাইক কেড়ে নিয়ে ঘোষণা দিল-

‘রবিউল মাহমুদ এতক্ষণ যে কবিতাটি পড়লেন সেটি দাউদ হায়দারের ‘জন্ম আমার আজন্ম পাপ’এর হুবহু নকল। এ ক্লাব থেকে নকল কবিদের উচ্ছেদ করা প্রয়োজন’।

আমি আর পাতা তখন ওদের চিলেকোঠায় সুচিদির বানানো মুড়ির মোয়া খাচ্ছিলাম আর সব কানে আসছিল। আমার ভাইয়ের ভরাট গলার কবিতা আমাকে কবির বোন হিসেবে যখন গর্বিত করতে উদ্যত তখনই ঐ ঘোষণা। আমি দ্রুত অন্য গল্পে মোড় নিলাম। কিন্তু পাতা বিশ্বাস করলো না। বললো-

‘এ হতেই পারে না। মাসিক ‘পাথরকুচি’তে রবুদার কবিতা আমি পড়েছি। একটাও নকল না। বললেই হলো’।

কিন্তু যার জন্যে এত কবিতা রচনা, এত কবিদের আবির্ভাব তার কোন বিগাড় নেই। কবিতা-টবিতা ওসব ওর কানেই যায় না। সুচিদি দিব্যি বালিশের ওয়ারে ক্রুশকাঁটার কাজ করছে আর মুখ না তুলেই তার জিজ্ঞাসা-

‘কীসের এত হৈচৈরে ক্লাবে?’

‘রাজকন্যাকে জয় করার মহড়া চলছে’- পাতার বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর। তরুর তুলনায় পাতা একেবারেই সাদামাটা। কিন্তু পাতা ক্লাসে থার্ড-ফোর্থ হয়। অনেক বই পড়ে। আমাদের বাড়ি এসে রবুদার আলমারি থেকে বই নিয়ে যায়। আমার কেন জানি মনে হয় পাতা রবুদাকে ভালবাসে। রবুদা অবশ্য ভাবে পাতা তরুর অনুরাধে বই নিয়ে যায়। ক্লাস নাইনে পড়া পাতা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় হজম করতে পারবে এ বিশ্বাস তার ছিল না বলেই একদিন বইয়ের মধ্যে চালান করে দেয় তরুর উদ্দেশ্যে প্রেমপত্র। পাতা আর আমি ওদের চিলেকোঠার ছাদে দরজা বন্ধ করে সে চিঠি পড়েছিলাম। এখনও মনে আছে চিঠিতে এরকম লেখা ছিল ‘সুচরিতাসু, আমি কত বসন্ত রজনী তোমাকে নিয়ে বাসর রচনা করেছি’। আমার ভারি লজ্জা লাগছিল বলে আমি আর পড়িনি। পাতা তা হস্তান্তর করেনি প্রাপককে। করবেই বা কেন? সুচিদির তখন ফরিদপুর কলেজের ফিজিকাল ইন্সট্রাক্টরের সাথে বিয়ের কথা প্রায় পাকা। তবে পাত্র বছরখানেক সময় নিয়েছিল এম এ পাস করার জন্য। এম এ পাস করলে গোয়ালন্দ কলেজে পৌরনীতির শিক্ষক হিসেবে যোগদান করতে পারবে - এরকম নিশ্চয়তা সে পেয়েছিল। সুচিত্রা সেনকে গ্রহণের যোগ্য করে তুলতে হবে না নিজেকে?

চিঠিটা পেলে তরু কী সিদ্ধান্ত নিত জানিনা। তবে তরুর ভালো গৃহিনী হওয়ার স্বপ্ন, ঘর-সংসার সামলানো, অনুগত পুত্রবধু হওয়ার আকাক্সক্ষা দেখে মনে হয়নি সে কোন বিপ্লব করার ক্ষমতা রাখে। রবুদাকে বিয়ে করার মতো বোকামি কেন করতে যাবে তরু? পাত্র হিসেবে রবুদার কী পরিচয়? বিএ পাস করে কেবল সাহিত্য করলে ওর কাছে কে মেয়ে দেবে? হ্যাঁ, জমাজমি আমাদের ভালোই ছিল। কিন্তু কলেজের শিক্ষক আর বেকারের মধ্যে তুলনা চলে? তবে কেন জানি রবুদা ধরেই নিয়েছিল তরু তাকেই ভালবাসে। জোর করে তরুর বিয়ে দেয়া হচ্ছে।

‘আজ তরুবুর মুখে ক্ষীর। দুলাভায়ের বোন আর ভগ্নীপতি আসবে। তুই আসিস কিন্তু’- একটু গলা বাড়িয়ে রবুদার ঘরের দিকে মুখ করে আমাকে দাওয়াত দিয়ে গেল পাতা।

রবুদা খানিক ঝিম ধরে বসে থেকে গায়ে একটা জামা চড়িয়ে বেরিয়ে গেল। গ্রামে ঢোকার মুখে রেলগেটের দোকানে গিয়ে সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে বসে থাকলো যতক্ষণ না তরুর বৈবাহিক লোকজন আসে। রবুদা নাকি ওদের মোটরবাইক আটকেছিল। তরুর হবু ননদাইকে নামিয়ে দোকানের পেছনে দাঁড়িয়ে তরু সম্পর্কে যাচ্ছেতাই অপবাদ দিয়েছিল যাতে ওরা ওখান থেকেই ফিরে যায়।

ফিরে তো যায়ইনি, উপরন্তু মুখে ক্ষীরের দিন পাত্রকে ডেকে পাঠিয়ে পরদিনই কলমা পড়িয়ে সুচিত্রা সেনকে নিয়ে কেদারনাথের পগার পার। মোটা, বিরলকেশ, ভোঁতামুখের অধ্যাপককে সুচিদির ভক্তরা নাম দিয়েছিল কেদারনাথ। হৃদয় ভেঙে গেল অনেক যুবকের। ক্লাবঘর কিশোরদের দখলে চলে গেল। খড়ের ছাউনির দুর্বল ক্লাবঘরের চাল অভিভাবকদের মনোযোগের অভাবে এক বৈশাখে উড়ে গিয়ে পাতাদের উঠোনে গিয়ে পড়লো। সবকিছু লণ্ডভণ্ড। রবুদা একমুখ দাড়ি নিয়ে দেড়মাস পর খালার বাড়ি থেকে বেড়িয়ে বাড়ি এলো। আমার ম্যাট্রিক পরীক্ষা শেষ হলে পাতার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমি রাজশাহী সরকারি কলেজে পড়তে গেলাম। পাতা শহরের স্থানীয় কলেজে ভর্তি হলো। মা রবুদার জন্য সুন্দরী পাত্রী জোগাড়ের প্রাণান্ত চেষ্টা চালাতে লাগলো। রবুদা কবিতা ছেড়ে ঠিকাদারি শুরু করেছে। চোখের দিকে তাকানো যায় না। কেমন জিঘাংসার আগুন জ্বলজ্বল করে।

দু’বছর পর মায়ের চিঠি।

‘পর সমাচার এই যে, গতরাতে তোমার প্রাণের বান্ধবী পাতা বিষপানে আত্মহত্যা করিয়াছে। পুলিশ আসিয়াছিল। সে লিখিয়া গিয়াছে তাহার মৃত্যুর জন্য কেহ দায়ী নহে। তরু ও তরুর স্বামী আসিয়া সব ব্যবস্থা করিয়াছে। তাহার মা পাগলপ্রায়। ছুটি হইলে চলিয়া আসিও। রবুর জন্য পাত্রী পছন্দ হইয়াছে। ইতি মা’।

আমার হস্টেলের বান্ধবীরা আমাকে জড়িয়ে ধরে রাখলো। আমি পাতার চিঠিগুলো বের করে পড়ার চেষ্টা করলাম। কোথায় পাতার বেদনা তা খোঁজার জন্য বারবার করে পড়তে থাকলাম। কিন্তু কান্নায় আমার সবকিছু ঝাপসা হয়ে এলো। আমার রুমমেট আমার ব্যাগ গুছিয়ে দিল। ছুটি হতে আরও দিন সাতেক দেরি থাকলেও আমার রুমমেট আমাকে নিয়ে পরদিনই রওনা দিল। আমি ছুটে গিয়ে পাতার মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলাম। পাতার মা উদভ্রান্তের মতো অন্যদিকে তাকিয়ে থাকলো, তার ছড়ানো দু’হাত আমার পিঠে উঠে এলো না। তরুবু তার বাঁ হাতে স্ফীত তলপেট চেপে আস্তে আস্তে এগিয়ে এসে আমার মাথায় হাত দিল। সে হাতের ছোঁয়া আমার আবেগকে দু’কূল প্লাবিত করতে ব্যর্থ হলো। আমি চোখ তুলে সুচিত্রা সেনকে খুঁজলাম। এ ক’বছরেই সুচিদির বয়স এতো বেড়েছে? নাকি গর্ভবতীদের চেহারা এরকম হয়ে যায়? অতো টিকোল নাক ওরকম মোটা দেখাচ্ছে কেন? না কি এসবই আমার ঝাপসা চোখের প্রতিফলন? শোকে-বিহ্বলে কেমন নিস্প্রাণ আচরণ সবার। কেন পাতা এমন করলো, কী হয়েছিল ওর কাউকে জিজ্ঞাসা করার সে পরিবেশও আমাকে কেউ উপহার দিল না। আমি একাই ওর ঘরে গেলাম। ওর বইখাতা ছুঁয়ে ওর হাতের স্পর্শ নিলাম। আমার দেয়া মানিপ্ল্যান্টটা ওর খোলা জানালা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যেতে উদ্যত। ওর বালিশ টেনে নাকে ধরলাম। নারকেল তেলে মেথি মিশিয়ে সারাবছর চুলে দিত পাতা। বালিশে পাতার জীবন্ত গন্ধ। আমি পাতা পাতা বলে ডুকরে কেঁদে উঠলাম। মানিপ্ল্যান্টের পাতারা একটুখানি নড়ে উঠলো।

সুচিদি সন্বিত ফিরে আমার ঘাড়ে হাত রাখলো। এ স্পর্শেও প্রাণের ছোঁয়া নেই। অন্যদিকে তাকিয়েই বললো

‘আব্বাতো ছ’বছর হলো মারা গেছে। মাও অসুস্থ। আমার কাছে নিয়ে যেতে চাচ্ছি। যেতে চায় না’

‘তোমার ক’টা গো সুচিদি?’

‘দুটো। ছেলেটা বড়। মেয়েটার বিয়ে দিয়ে দেব ভাবছি’

‘ওমা! এত তাড়াতাড়ি?’

‘মেয়েটা পাতার মতো দেখতে’

‘তো?’ বলে ফেলেও আমি চাইলাম না সুচিদি পাতার কথা তুলুক। পাতার জন্যে আমার কষ্ট তো সুচিদির কষ্টের কাছে কিছুই না।

সুচিদি আবার আনমনা। মাথার ঘোমটা ঘাড়ে এসে পড়লো। কানে ভারি দুটো পাশা। অনেকদিন ধরে পরে থাকার কারণে কানের লতি কেটে পাশা ঝুলে পড়েছে। সুচিদিকে এখন বেশ দেখাচ্ছে। কিন্তু আলো আমার আলোর সুচিত্রা সেনের মতো নয়। আঁচলের খুঁটে চোখ মুছলো সে। ট্রেন আসার ঘন্টা হলে সবাই তটস্থ হয়ে নামিয়ে রাখা ব্যাগ হাতে তুলে নিল। আমার ঘাড় থেকে হাত সরিয়ে আবার মাথার ঘোমটা টেনে ব্যাগটা কোলের ওপর তুলে সুচিদি বললো-

‘পাতা তিনমাসের অন্ত:সত্ত্বা ছিল’

আমার হাতের ব্যাগ বেঞ্চের ওপর ধপ করে পড়ে গেল। মানুষজন প্ল্যাটফরমে জড়ো হতে শুরু করেছে। আর আমি ভারসাম্য রাখতে না পেরে বেঞ্চের ওপর বসে পড়লাম। সুচিদি উঠে দাঁড়ালো।

‘রবুর মেয়ের বয়স কত বললি?’

‘আঠারো, কেন?’

‘পাতারও আঠারোই ছিল কিনা’।

ইঞ্জিনের মুখে ঘন ধূলো উড়িয়ে ট্রেন আরও সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। সুচিদি বসে থাকা আমাকে কোনধরনের তাড়া না দিয়েই ট্রেনের দিকে এগিয়ে গেল। সুচিদি যে বগিতে উঠলো আমি সেটাতে উঠেও আবার নেমে এসে পরের বগির জন্য একটু জোরে পা চালালাম।




লেখক পরিচিতি:
উম্মে মুসলিমা কবি, কথাসাহিত্যিক ও কলাম লেখক। দেশের জাতীয় দৈনিক, ম্যাগাজিন ও ওয়েব ম্যাগে নিয়মিত লেখালেখি করেন। কবিতা, ছোটগল্প ও প্রবন্ধ মিলিয়ে তাঁর মোট ১২টি বই প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর লেখার প্রধান উপজীব্য নারী। ইমেইল - muslima.umme@gmail.com


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ