দুখীরামের কথা
ভাঙা পাল্লা পাথরে আড়াইশো নিমক নাপতে নাপতেই ঝমঝমিয়ে আবার বৃষ্টি নামল । তবু কথা থামে না দুখীরামের । ধান খেত, পদ্মবন, গহীন গাঙ আর থালার মতন ঝলমলে এক আস্ত চাঁদ । চাঁদের শরীর থেকে বেরিয়ে আসে চাঁদ পরিরা... তারপর ধান খেত গহীন গাঙ দেখতে দেখতে নেমে যায় পদ্মবনে ।
শালা কী স্বপন ।
হামি জানিস রোজ দেখি ।
রোজ ?
শালা রোজ দেখি । হামার বাপ দেখত । উত্তয়ার বাপও দেখত ।
সচ বলছিল দুখীরাম?
বিড়ি ফুকতে ফুকতে বলে লক্ষণ পঞ্চাইতের বেটা সুকর্ণ সচ না তো কী? বাপ দেখত কালিয়া দহে সেই কমলে কামিনীর হাতি গেলার স্বপন । ভারত মাস্টারের কাছে চণ্ডীকথা শুইনে শুইনে....
নিমকটা দে কাকা । ঘরে যাই ।
লে। কত দিলিস গো?
আড়াইশো ।
আড়াইশো? আধা কেজি ন বললি ?
হামার পুরা দোকানেই এখন আড়াইশো নিমক আছে । ফেলাডে কোনও আর টাউনে যাতে পারছি? আড়াইশো নিমকে তো চা খাতেই শেষ হবেক ।
কিরতা পাতায় বাধা আড়াইশো লবণ নিয়ে চলে গেল বিভীষণের বেটা সুকর্ণ । ওদিকে তাকাতে তাকাতে দুখীরামও একটা বিড়ি ধরিয়ে সোজা হয়ে বসল ।
দাল দে ।
কত ?
একশ ।
পরাণের বউটাকে দেখলেই দুখীরামের বুকের ভেতরটা কেমনে ধড়াস ধড়াস করে ।
তারপর মনটা কেমন উরু উরু করে আকাশ পাতালে ঘোরে। কিন্তু পাত্তাই দেয় না বউটা । কেমন কোমর দুলিয়ে ফটাস ফটাস করে চলে যায়। কথাও বলে কেমন কটাস কটাস করে । এখনও ডাল চাল নিয়ে যেতে ছিল । সুকর্ণর কথায় ঘুরে দাঁড়াল । কি ?
পরাণকে বলে কাল থানায় লিয়ে গেছিল ।
হ।
ছাড়ে দিয়েছে?
হ।
কত লিল ?
একশো।
শালা তবু ধান্দা ছাড়বেক নাই। বিড়িটাতে শেষটান দিয়ে ছুঁড়ে ফেলতে ফেলতে বলল সুকর্ণ। হুঁ কাল সানঝের সময় ঝিলে যায়ে দেখলি পরাণ মদ বানাচ্ছে। বিড়িটা আটার টিনের উপর রেখে পরাণের বউটাকে ডাল দিল। একন বিড়িটা তুলতে দিয়ে দেখে অনেকটা জ্বলে গেছে। জল তো এদিকেও বাড়ছে দুখীরাম। ধূপঘরের সামনেও জল। নম্বরে ও বলে জল ঢুকছে। শোন সুকর্ণ হামার পরদাদাও স্বপন দেখত।
এখন রাখ তোর স্বপনের কথা । চিন্তা লাগছে ডুবে না মরি।
কিন্তু জানিস হামার বেটা দুলারামের কোনও স্বপন নাই ।
দুলারীর মেয়েটা মাথায় ছপি দিয়ে হাঁটু পানি ভেঙে এসে দোকানটার এক চিলতে বারান্দায় উঠল। কি লিবিস ?
কুকিস।
কটা ?
দুটা। জলদি দে। ভাইটা কান্দছে। প্রায় আমসির মতো কুকিস নিয়ে বৃষ্টির মধ্যেই প্রায় ছুটে গেল মেয়েটা। এবার মেঘ ডাকল ৷ বৃষ্টিটাও তেড়ে এল৷ পাঞ্চাইতের বেটা বাঁশের বেঞ্চি থেকে নেমে এল। হাওয়ায় কাঁপছে দুখীরামের পলিথিনে ছাদ, বাঁশের বেড়া তিন ফুট বাই চারফুটের আটা কুকিস নুন বিস্কুটের দোকান। সেই ছত্রিশ বাংলার গোলা তখন নাকি দুখীরামের বাপের জনম হয়েছিল। দাদির মুখে সেই ঘোলা জলের কাহিনী শুনে শুনে...। কত জল শুধু জল, জল জল, জল...। তেড়ে এল রাক্ষসের মতো জল... মানুষ জল গরু মোষ সব টিলাটক্করে উঠল। কতক ভাইসে গেল। এদিকে ও তো জল বাড়ছে। পাঞ্চায়েতের বেটা ঠিকই তো বলে গেল। এখন জল এসে গেলে দোকান সামলাবে না ঘর? ঘরে ও তো সেই... ধেৎতেরি পদ্মবন, গহীনগাঙ ঝলমলে চাঁদ, পরানের বউ, দুখীরামের সব স্বপন মিলেমিশে এক হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বেটা দুলারামের কেনে কোনও স্বপন নাই...?
দুলারামের কথা
দশ কেলাসে পড়ার সময়ই কেলাবঘরে মাথায় না কাঁধে হাত রেখেছিলেন দাদা। দুলারামের চোখ দুটো যেন বুজে এসেছিল। কেঁপে উঠেছিল সারা শরীর। দুখীরাম, বুড়হি দাদির সব আশায় ছাই ঢেলে তখন থেকেই তো পড়াশুনায় ইতি । কত কাজ তখন দুলারামের। সামনেই ভোট। তারপর তো পাঁচ বছর গড়িয়ে গেল। ওরা অবশ্য বলেছিল বসে যা দুলারাম ওই যে অনেকদূরে কী যেন ইস্কুলটার নাম পাশ করানো আমাদের হাতে। কিন্তু বসব বসব করেও আর বসা হয়না দুলারামের । কত রকম কাজ কেলাব ঘর ও আজকাল ওকেই সামলাতে হয় কিনা। ভোটের সময় তো আর কথাই নেই। বিনিময়ে চা বিস্কুট কখনও বিলাইতি মদ, শ দেড়েকের টাকায় পালতু কুত্তা হয়ে গেছে দুলারাম। কারও মুণ্ডু কাটতেও এখন ভয় পাবে না হয়তো এক সময়ের লাজুক মুখচোরা দুলারাম। বাপ দুখীরাম ভেবেছিল বেটা বাবু হবেক। নিদেন পক্ষে পিয়ন। কিন্তু কোথায়? দাদার দয়ায় কত ফাইভ পাশ, প্রথম শ্রেণি পাশ, এমন কি নাম সই ও জানে না এমনও ছেলে পিয়ন হয়ে গেল। শালা কতদিন চামচা গিরি করবি? চকচক জুতা পরে টেপ বাজাবি? মস্তানি করবি? এক এক সময় খুব ক্ষেপে যায় দুখীরাম। তোর পরদাদা দাদিরা শালা চা বাগান ছাইড়ে ভাগতে গিয়ে গোরা সেনাদের হাতে জান দিয়েছিল। আর তুই .... বোনাসের লাগি গুলি খায়ে মরেছে হামার মামা আর তুই কি না কিন্তু কোনও নড়চড় হয় না দুলারামের। তখন গান শোনে নয়তো পান চিবোয়। সুগন্ধি পান। শিকলিঙ করতে করতে যখন টিলা থেকে পা পিছলে পড়ে হাত ভাঙল দুখীরাম তখন ওর কাজটাতে দুলারামকে ঢোকানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু কোথায়? বেটা শুনলে তো কথা।
হামি শিকলিঙ করব নম্বরে ?
নিজের চকচকে জুতো আর নিপাট পোশাকের দিকে তাকিয়ে বলেছিল দুলারাম। শিকলিঙ করবিস কেনে? তোখে দোসরা কাজ দিবেক। নম্বরে পানি খাওয়াবি। পানিওয়ালা? উ হামি হতে নাই পারব।
এই করে বাগানের রেজেস্ট্রি কাজটা হাতছাড়া হয়ে গেল দুখীরামের। বাদে ফাণ্ডের কিছু পয়সা কড়ি পেয়ে দোকান দিয়ে বসল ৷ তাও সবাই বাকি, খেয়ে খেয়ে.....।
দুলারাম । হে দুলারাম।
গোহাল ঘরে টেপ বাজিয়ে ‘লগান’ এর গান শুনে শুনে চকচকে জুতোকে ব্রাশ করে আরও চকচকে করতে করতেই মুখ তুলল দুলারাম।
কি হল ?
শালা জল আসছে। মেঘ পড়ছে। আর তুই জুতো বেরাস করছিস? শালা হাঁটুপানি থানের সামনে।
কামের কথা বল ।
আজ দাদা আসবেক । তুই মানুষকে খবর দিস।
দিব। দিব যা যতসব
গরম দেখাচ্ছিস কেনে? পলু দাদা বলল তোখে বলতে এর লাগি..
ঠিক আছে যা।
এমনিতেই দুদিন থেকে মেজাজটা খিঁচরে আছে। বিদ্যামতীর শাদি ঠিক করেছে ওর বাপ এক ইস্কুল মাস্টারের সঙ্গে। এতদিন দুলারামের সঙ্গে লাইন মেরে শেষে কিনা.... ওর বাপ ত জানত ভাল করে। শ্রীকৃষ্ণ সিনেমা হলে “কহ না প্যার হ্যায়” দেখাল। রাস্তায় দাঁড়িয়ে চপ খাওয়াল। গেল পাঞ্চাইত ইলেকশনের সময় মারামারি করে টাকা পেয়ে একটা লালরঙের চুড়িদার ও কিনে দিয়েছিল। আর ওর বাপ যখন বেমার হল তখন অ্যাম্বুলেন্স মেডিক্যাল কে করল? আর এই যে স্কুল মাস্টার উওয়ার চাকরিটা কার লাগি হইল? দাদার কাছে কত হাটাহাটি জমিন বেচার টাকা সমঝানি। দুসরা সরকার এসে ফেলে দিয়েছিল। কী ঝামেলা ৷ বাদে আবার দৌড়াদৌড়ি সব তো দুলারামই করল। শুধু চা মিষ্টির বিনিময়ে। বলেছিল একটা প্যান্ট শার্ট দিবে। কিন্তু আর দিল কোথায়? কিন্তু শেষে কিনা এক বেইমানি তাও দুলারামের সঙ্গে। শালা চশমখোর। একটুকুন কৃতজ্ঞতা পর্যন্ত নেই। বলবিস তো মানুষকে?
কি বলব যায়ে পলু দাদাকে?
যা যা যাব যা।
জলদি আসিস সব গোছ গাছ করতে লাগবেক ।
দুলারাম আবার ব্রাস করে জুতো।
আকাশটা কালো আছে । কত বড় বড় মেঘের চাঙর জমাট বেঁধে ঘোরাঘুরি করছে আকাশময়। কতদিন থেকে মেঘ মেঘ বৃষ্টি শালা রোদের নাম পর্যন্ত নেই। কাপড় চোপড়ও শুকোচ্ছে না। দুদিন আগের ধোওয়া প্যান্ট এখনও শুকোয়নি। ভাল প্যান্ট বলতে তো ওই একটাই। যাবে কী করে? দাদা আসবেন পলুদাদা বলে পাঠাল যেতে। রাখালের ইস্তারিটা এনে ইস্ত্রি দিয়ে শুকোনো যায় কিন্তু আগুন? এখন যত ভিজে বাঁশ-লাকড়ি নিয়ে বুড়হি দাদি আগুনে ফুঁ দিচেছ। এখন আগুন চাইলেই খ্যাঁক খ্যাঁক করে উঠবে। আগে এমন ছিল না এখন সারাদিন শুধু ক্যাট ক্যাট করে। চোখে ও দেখতে পারে না ভাল করে। ধুর যত্তসব আবার ঝমঝমে করে বৃষ্টি নামল। কাকটা নিমগাছে ভিজছে কখন থেকে। ঝড়ে ওর ঘরদোর বোধহয় সব ভেঙেছে। আবার আকাশের দিকে তাকাল দুলারাম। ধলি এসে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যামতীর মুখটা যেন সারা আকাশ জুড়ে হাসছে না কাঁদছে? আস্তে আস্তে বিদ্যামতীর মুখটা মায়ের মুখ হয়ে গেল। দুলারামের জনমের পরেই নাকি মা টা চলে গিয়েছল এক ড্রাইভারের সঙ্গে। তার বাদে বাপ আবার শাদি করেছিল। ওই বউটা ও নাকি হাঁটুজলে ... ধেৎতেরি মায়ের মুখটা কেমন ছিল কেজানে? একবার নাকি ড্রাইভারের ঘর সংসার ফেলে মা টা এসেছিল দুলারামকে দেখতে কিন্তু বুড়হি এমন ঠেঙাল বৃষ্টিটা যেন আরও জোরে তেড়ে আসছে। বাজ পড়ল কোথায় ৷ বাপ কত স্বপনের কথা বলে পদ্মবিল, গহীন গাঙ কিন্তু দুলারামের কোনও স্বপন নাই, কোনও স্বপ্ন দেখেনি কোনও দিন। কেজানে কেন যে দেখে না । এমা আমগাছটার একটা ডাল ভেঙে পড়ল গোহালের চাল ঘেঁষে। ধলিটা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাঁপছে। গাভীন গরু একটু হলেই ... আবার বাজ পড়ল। গাছগাছালি যেন থরথর করে কাঁপছে।
দুলারাম। হে দুলারাম....
বাঁশের ফুঁকনি দিয়ে ভিজে লাকড়ি ফুঁকতে ফুঁকতে লাল চোখ মেলে বেরিয়ে আসছে বুড়হি .....
বুড়হির কথা
সেই ছত্রিশ বাংলার গোলার বাদের বছরই জনম হয়েছিল দুখীরামের মা দুলারামের দাদি বুড়হি মন্দোধরীর। গুরুবাবাই নাম দিয়েছিল তাও নাম শঙ্খফুঁকে। বাপের পাঁচ বেটার পর বেটি শঙ্খ ফুঁকবে না তো কী? আগে বিহার থেকে আসত গুরুবাবারা এখনও আসে কারও কারও। মন্দোধরীদের গুরুবাবা আসেনি অনেকবছর। মন্দোধরীর যে নামকরণ করেছিল ওর নাতি নাকি এখন গুরুবাবা হয়েছে। বাবা এলে আগে মন্দোধরীকে খুব ছুটোছুটি করতে হতো। এসেই বাবা শঙ্খ ফুঁকত। ওই শঙ্খ শুনলেই লোকে ভেবে নিত গুরুবাবার পদার্পণ। তারপর গোহাল ঘর নিকানো, ঝাড়পুছ করে তকতক করা, ঋণ করে গুরুর আটা, ঘি, সুগন্ধি চাল জোগাড় করা। ইস্কুলে পড়েছে মন্দোধরী দুই কেলাস। নামটা কোনমতে লিখতে পারে বাঁকাচোরা করে। তখন ভরত মাস্টার। বলত মাস্টার মন্দোধরীদের পূর্বজরা চা বাগান ছেড়ে পালাতে গিয়ে সেই... রেল থেকে নেমে ইস্টিমারে উঠার সময় গোরা সেনাদের গুলি খেয়ে কেমন ছটপট করে মরেছিল। ওদের বাগান থেকে বের করে এনেছিলেন নাকি পূজারী দেওসরণ ত্রিপাঠি। অসহযোগ আন্দোলন করে গ্রেফতার হয়ে যোরহাট জেলে চল্লিশদিন অনশন করে শহিদ হন। দুখীরাম শুনত এসব গল্প কথা কিন্তু নাতি দুলারাম তো কিছু শুনতেই চায় না। সব সময় কেমন একটা উরুউরু ভাব নিয়ে খিটখিটে হয়ে থাকে। লেখাপড়ায় ভাল ছিল ছেলেটা। কিন্তু ওই নেতা ফেতাদের চক্করে পড়ে ছেলেটা কী যে হয়ে গেল । কিন্তু এই মেঘবৃষ্টি তো ছাড়ারই নাম নিচ্ছে না । বাবা ছত্রিশ বাংলার গোলা না হয়ে যায়। কতদিন থেকে বুড়ির শুসনি শাক তেলা বন্ধ। এই ঝড় বৃষ্টিতে যাবে কী করে? এই শাকটা খেলে ভাল ঘুম হত বুড়ির। শাকটা না খেয়েই বোধহয় বুড়িকে শুয়ে বসে আজকাল কাটাতে হচ্ছে রাত। কে জানে? জঙ্গলে ঢুকে দুটো জংলি বেগুন, একমুঠো কচুশাক, দুটোমুঠো বাবুভাজি তুলে আনে বুড়ি। কখনও বিল থেকে কাজললতা। ছানিপড়া চোখ নিয়ে দুলারামদের কোনও মতে রেঁধে বেড়ে খাওয়ায়। আগে জংলি আলুও আনত। আজকাল আর মাটি খোড়ার শক্তি নেই বুড়ির। একটু পরিশ্রমেই আজকাল কেমন হাঁপিয়ে ওঠে। সকাল থেকে দুটো রুটি করতে পারছে না। ভিজে লাকড়ি থেকে কোনও মতেই আগুন ধরছে না। ধোঁয়ায়-ধোঁয়ায় ভরে যাচ্ছে সারা ঘর। রেখেছিল বাঁশের মাচার ওপর। কিন্তু জল ছুঁয়ে ছুঁয়ে সব... মেঘ বৃষ্টিকে শাপান্ত করতে করতে আবার বাঁশের ফুঁকনি দিয়ে উনুনে ফুঁ দেয় বুড়হি....
জল এবং শেষের কথা
দিনের বেলা প্রায় হাঁটু জল কোমর জলে দাঁড়িয়ে দুখীরামরা নেতা মন্ত্রীদের কপ্টার বিহার দেখেছে। দেখেছে বুক জলে দাঁড়িয়ে দুলারামও। এখন পুরো এলাকাটাই ভাসছে। দুখীরামের দোকান ঘর, ভিটেঘর, ধুপঘর সব জলের নীচে একাকার হয়ে গেছে। ভাসছে দুলারামও পরাণের বউ, ধুপঘর সব জলের নীচে একাকার হয়ে গেছে। ভাসছে দুলারামও। পরাণের বউ, পাঞ্চাইতের বেটা সুকর্ণ, বিদ্যামতী, ইস্কুল মাস্টার, বিভীষণের বেটা সুগ্রীব, দুলালীর বেটি আরও কে কে জানি ডুবছে, ভাসছে। আহারে কত মুণ্ডু শুধু ভাসছে আর ডুবছে, ডুবছে আর ভাসছে।
আরে বুড়হি কোথায় গেল ?
আচমকা চিল চিৎকার দিল দুখীরাম। বাঁশের বোঙায় তোলে দিয়েছলাম গো। ভাসতে ভাসতেই বলে দুলারাম। গলায় নাইলনের রশি নিয়ে গাভীন ধলিটাও ভাসছে ওদের সঙ্গে সঙ্গে। বৃষ্টিটা এখনও পড়ছে ঝমঝমিয়ে। অন্ধকারে প্রায় কিছুই দেখা যাচ্ছে না ।
বাজও পড়ছে ঘনঘন। দুখীরাম তবু ডুবতে ডুবতে, ভাসতে ভাসতে
স্বপন দেখে সেই ধানখেত, পদ্মবন, গহীন গাঙ থালার মতন ঝলমলে আস্ত চাঁদ, তারপর চাঁদপরিরা.....
দুলারামও আজ ভাসতে ভাসতে, ডুবতে ডুবতে এই প্রথম একটা স্বপন দেখল। দেখল...


2 মন্তব্যসমূহ
ঝুমুর পান্ডে ও আমি পাশাপাশি জেলার মানুষ ।
উত্তরমুছুনআমারও শৈশব চা বাগানের আশেপাশে কেটেছে।
উনার ভাষার প্রয়োগ খাঁটি এবং উনার প্রতিটি
লাইনে আমি বাস্তবের প্রতিফলন দেখি। আপনাদের
প্রকাশ সফল হোক।
খুব ভাল গল্প
উত্তরমুছুন