প্রতিভা সরকারের গল্প : আত্মীয় স্বজন


জবরদস্ত সন্ধ্যা নামেনি তখনও। সুতলেজ বা শতদ্রুর ক্যানালের পেছনে গোল সূর্যের নীচের আধখানা টকটকে লাল, ওপরটুকু কমলা রঙের। ঠিক এইসময় বেজায় শোরগোল শোনা গেল, ক্যানেস্তারা পেটাবার শব্দ, কুকুরের চিৎকার, মানুষের দৌড়োদৌড়ি। যেন প্রলয় নেমে আসছে পাহাড়ের গা বেয়ে! ঝোপড়ির ভেতর থেকে ল্যাংড়া গুলাব কৌতূহলী চোখ বার করে বলে,
- হুয়া ক্যায়া !
দৌড়তে দৌড়তে কে যেন লম্বা শ্বাসের সঙ্গে বলে,
- জংলি শোর ! বহোত সারা। বাহার মত আ।

আরে, অত বড় জানোয়ার গা ঘষে গেলেই তো এই পলিথিনের পাত্তি দিয়ে গড়া ঘর লুটোপুটি খাবে। তখন কী অন্দর, আর কী বাহার ! ইদানিং যে জন্তুগুলো ঘোরাঘুরি করছে, তাদের কোনোটারই পঞ্চাশ কিলোর কম গতর বলে মনে হয় না। আর চোখের কী দৃষ্টি ! ফেঁড়ে দেবার জন্য একেবারে তৈরি ! এই জংলি শুয়োরগুলোর উপদ্রব এখানে এখন প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে উঠেছে ৷

হবার কারনও আছে প্রচুর। জঙ্গল মুড়িয়ে নতুন বিল্ডিং উঠছে একের পর এক। পশুগুলো গর্ত ছেড়ে পালাচ্ছে, নহর পেরিয়ে, ব্যারেজ পেরিয়ে, বুড়ির মাথার পাতলা চুলের মত হালকা জঙ্গল পেরিয়ে ছুটছে, তারপর আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। কারণ ওপাশে আবার শুরু হয়ে গেছে নতুন নগর, বিস্তীর্ণ নির্মাণ, বুলডোজারের বাঁকানো লম্বা কংকাল-হাত, ট্রাকের টায়ারের দাগ! আতঙ্কগ্রস্ত বাস্তুহারা জন্তুগুলো ফিরে না এসে যাবে কোথায় !

ঝোপড়ির সামনের উঁচাইতে পিচ রাস্তার কালো সাপের মতো শরীর। সেখানে দাঁড়িয়ে উত্তরে তাকালে দেখা যায়, দূরে আকাশের গায়ে বখাটে ছোকরার মতো হেলান দিয়ে দাঁড়ানো শিবালিক পর্বতের ক্ষয়াটে সারি। স্পষ্ট বোঝা যায় পাহাড়ের চূড়া-ফুড়া সাফ করে দেদার ঘর তুলছে মানুষ। খাঁজখোঁজ থেকে সাদা ধোঁয়ার সরু রেখা ছাই রঙা আকাশের দিকে উঠে যাচ্ছে। ফিতের মতো নদীর গা ঘেঁসে দাঁড়িয়ে সার সার ট্রাক। ওপর থেকে পাহাড়ের পায়ের কাছে চোখ নামালে দেখা যাবে বয়ে যাচ্ছে নহর, শতদ্রুর ক্যানাল। চাষের জল যোগায়, নানা ধরনের মাছ, এমনকি ট্রাউটও নাকি পাওয়া যায়। দুই ধারকে বেঁধেছে মস্ত ব্যারেজ। বার মাস চাষের জল দেয় বলে গুরদোয়ারা ফেরত দেহাতি নববিবাহিত শিখ দম্পতি কখনও সখনও তার বিস্তর স্তম্ভের একেবারে হাতের কাছেরটিতে গাঁদা ফুলের মালা পরিয়ে দিয়ে নমো করে যায়। মেয়েটির চুন্নি আর বরের পাগড়ি, দুইয়েরই রঙ গোলাপি।

পশ্চিমে সন্ধ্যা নামে দেরি করে। আলো কমলেই বালুচরে বসে বিশ্রাম নেয় শ'য়ে শ'য়ে সাদা বক আর কালো রঙের পরিযায়ী পাখির দল। শীত শেষ হয়ে এল, বাতাসে এমন টান অনুভব করলেই তারা উড়াল দেবার প্রস্তুতি নেবে। বসে বসে সে কথাই ভাবে কিনা কে জানে ! তাদের মধ্যে কেউ কেউ অবশ্য তখনও সাঁতার কেটে চলে, জলের ওপর শরীরের সামনের অংশ তুলে একে অপরকে তীব্র তাড়া করে। একনাগাড়ে ডাক চলতে থাকে, পিঁপ… পিঁপ… পিঁপ! ল্যাংড়া গুলাব বসে বসে অলস দেখে এইসব।

জল শেষ হলে শুরু হয় আয়তাকার পপলারের ক্ষেত। শীতে সব পাতা ঝরে গিয়ে সরু সরু ডালপালা উঁচিয়ে আকাশের দিকে অভিশাপের আঙুল তুলে রেখেছে যেন শীর্ণকায় গাছগুলো। পায়ের কাছে পাতা আছে উজ্জ্বল সর্ষে ফুলের অনন্ত জাজিম। তারপরেই জল-জমা বর্গাকার চাষের জমির নীচু ঢাল ক্রমশ উঁচু হয়ে যেখানে পিচ রাস্তায় মিশেছে, সেইখানে লাইন করে কালো পলিথিনে তৈরি ছোট ছোট খাঁচার মতো ঘর। হঠাৎ দেখলে মনে হয় সারি দেওয়া শৌচাগার।

উত্তরপ্রদেশ, বিহার, কখনও কখনও ছত্তিশ গড়, পশ্চিম বাংলা থেকেও পরিযায়ী শ্রমিকরা এখানে খাটতে আসে। তাদের নিজেদের রাজ্যের তুলনায় এইখানে রোজের টাকার পরিমাণ অনেকটাই বেশি।

বারণ সত্ত্বেও ঝোপড়িতে ঢোকার জায়গাটার পলিথিন একটু সরিয়ে গুলাব উঁকি মেরে দেখে, আধখানা চাঁদের মতো বাঁকানো দাঁতওয়ালা পেটমোটা বুনো একটা চলেছে আগে আগে, তার পেছনে সাইজে অল্প ছোট আরও একটা, লাল কুতকুতে চোখ, দেখলেই মনে হয় ভয়ানক রাগী। তার বেঁটেখাটো চার পায়ের ফাঁকে ফাঁকে কখনও বেরিয়ে আসছে, আবার ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে গোলাপি রঙের চার চারটে বাচ্চা। গায়ে তাদের কালো বাহারি ডোরা! এ পড়ছে তো ও ছুটছে, তার মধ্যেই মায়ের ঝুলে পড়া মাই মুখে নেবার চেষ্টা চলছে অনবরত।

এ শালারা আন্ধারের সঙ্গে আন্ধার-ঢিপি হয়ে মিশে থাকে। তফাৎ করা যায় না। না দেখে কেউ চলে গেল কাছে, কী হুমড়ি খেয়ে পড়ল গায়ের ওপর, ব্যাস আর দেখতে হবে না, বাঁকানো ছুরির মতো দাঁত ফালা করে দেবে জঙ্ঘা বা জানু, ফাঁসিয়ে দিতে পারে নরম পেট। তাই এদিকটায় খুব ভোরে আর সূর্য ডোবার আগে মানুষজন মোটা লাঠি ছাড়া ইদানিং বেরোচ্ছে না। কী করা যাবে, জানোয়ারগুলোর চরতে বেরোবার সময়ই যে ঊষাকাল আর গোধূলি। নাহলে অন্যসময় ওরা গর্তের আশেপাশে বা ভেতরে থাকতেই পছন্দ করে।

কিন্তু পলিথিনের বাক্সের মধ্যে বসে তো আর রুটি পাকানো যায় না। তাই গুলাবকেও অন্যদের সঙ্গে আলো থাকতে থাকতেই বাইরে বেরতে হয়। একটা খ্যাবড়াটে গর্তের মধ্যে খড়, পাতা আর কাঠকুটোর আগুনে রুটি সেঁকতে হয়। সারাক্ষণ নজরও রাখতে হয়, একবার যদি পেছন থেকে এসে ঢুঁ মারে তাহলে রক্তাক্ত শরীর নিয়ে সাঁ করে বাতাস কেটে উনুনের ওপর দিয়ে ডিগবাজি খাবে গুলাব, পড়বে গিয়ে আরও নীচের খোপকাটা খেতিতে, নয়তো ওপরের পাকা রাস্তায়। এমনিতেই একটা পা কমজোরি বলে তাকে দুহাতে মোটা লাঠি জড়িয়ে হাঁটতে হয়। তখন প্রাণে বেঁচে গেলেও বোধহয় হামাগুড়ি দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।

তবে জানোয়ার তো আর মানুষ নয়, অভিজ্ঞতা থেকে জানে গুলাব ওরা আগুনকে ভয় পায়। আর একেবারে গায়ের ওপর গিয়ে না পড়লে সাধারণত আক্রমণ করে না। তবে বুনোদের মেজাজ মর্জি বোঝা মুশকিল ! তাই সে ভয়ে ভয়ে আবছা হয়ে আসা জলাটার দিকে তাকায় আর একদিক সেঁকা হলে রুটিগুলোকে ওল্টানোর বদলে তাড়াতাড়ি এলুমিনিয়ামের থালায় তুলে ফেলে। একটু কাঁচা থাকে থাক, তাও অল্প নুন দিয়ে খেতে অসাধারণ লাগবে, আচার না থাকলেও ক্ষতি নেই ।

সখিনা সেদিন ভোরবেলায় নহরের দিকে নিজেকে খালাস করতে গিয়ে সবচেয়ে বড় জন্তুটার মুখোমুখি হয়েছিল। ওকে কিন্তু কিছু বলেনি, চুপচাপ ঝোপে ঢুকে গেছে। সখিনা ঐরকমই, বাঘের চোখও বোধহয় ওর দিকে তাকালে কোমল হয়ে আসবে। তাদের গ্রামের সবাই জানত যে মেয়েটা পশুপাখিকে বশ করতে পারে। তাই সে দলে থাকলে মেয়ে পুরুষরা শালপাতা কুড়োতে যেতে পারত নিশ্চিন্তে। গুলাব নিজে দেখেছে রাহিল গাছের তলায় দাঁড়িয়ে সখিনা উপরমুখো হয়ে গলা ছেড়ে ডাকছে, আ, আ, আ:, আর গাছ ভর্তি গিলহরি তুরবুর তুরবুর করে ঝরে পড়ছে তার কোলে কাঁখে। পাখিদের মধ্যে কাজিয়া হচ্ছে কে সখিনার মাথায় ঘাড়ে বসবে তাই নিয়ে! খেত কুড়িয়ে নিয়ে যাওয়া কয়েক মুঠো মকাইয়ের দানা, তাইতে ওদের লোভ? মোটেই তা নয়, ওরাও ল্যাংড়া গুলাবের মতো সখিনার খর্বুটে ফাটা আঙুলের ছোঁয়া চায়, গা থেকে উঠে আসা অদ্ভুত গন্ধটা পেতে চায়, বাতাসে ওড়া রুক্ষ চুলের খোঁপায় খেলা করতে চায়।

বনে ঢুকলেই সখিনা তখন গান গাইত। ঘুমপাড়ানি সুরের মতো, সাপুড়ের বিণের মতো নেশা ধরানো গান, তার কথাগুলোও খুব অদ্ভুত, যেন কোনো গাঁওবুড়া সবাইকে ঢেকে বলছে, এই জঙ্গল হামার, জল হামার, জমিন ভি হামার, কিন্তু মনে রেখো ভাইসব, যারা আমাদের সঙ্গে আদি অনন্তকাল থেকে একসঙ্গে বাস করছে এই পাহাড়ে জঙ্গলে, আমরা যাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে খেয়েপরে বাঁচি, যাদের কাছ থেকে আমরা শিখেছি শিকার, নাচ আর চাঁদের আলোয় ঘাসের ওপর গড়িয়ে উলুতপুলুত ভালবাসাবাসি, যারা আমাদের দিয়েছে পবিত্র আগুনের খোঁজ, সেই ঈগল, সেই ভালু, সেই হিরন, চিতা, মছলি আর পাখপাখালিরাও এই জল জঙ্গল জমিনের সমান দাবীদার।

সেখানেই থামতো না সখিনা। গান গেয়েই যেত, বনের ঝিরঝিরে বাতাসে ছড়িয়ে যেত সেই সুর, খানিক পরে মনে হত, নদী ঝরনা সবাই সখিনার সঙ্গে সঙ্গে গাইছে, মানুষকে ডেকে ডেকে বলছে, তোমার ধনুক থেকে ছোটা তিরে বা বর্শার তীক্ষ্ণমুখ ফলায় যে হিরন বা খরগোশটি লুটিয়ে পড়ল, যে মাছ জালে লাফিয়ে উঠল, তাদেরকে কব্জা করার বাহাদুরি কি একা তোমার? তা নয় মোটেই, ওরা ইচ্ছে করে নিজেদের ‘হত’ হতে দিয়েছে, কারন ওরা মানুষের ঘরে আসতে চায়, মেহমান হয়েও দেখতে চায় তাদের যাপন। তাই কালো ভালু বন্ধু হরিনকে পাঠিয়ে দেয় তোমার তিরের নাগালে, জলের অনেক গভীরে বাস করা প্রাচীন মহাশোল মাঝারি বা ছোট মাছেদের নির্দেশ দেয় জলের ওপর ভেসে উঠতে !

গুলাব শুনে অবাক হয়ে যায়, যেই তিরবেঁধা হরিণের চামড়া ছাড়ানো হয়, বা জালে পড়া মাছের আঁশ, অমনি নাকি তাদের ভেতর থেকে উজ্জ্বল আলোর মতো এক আঙুলসমান আত্মা বেরিয়ে আসে, কুপির শিখার মতো কাঁপতে কাঁপতে খুঁটিয়ে দেখে মানুষের ঘরদুয়ার, তাদের রান্নাবান্না, আদবকায়দা, খাবারের পাত্র ঘিরে তাদের খুশিভরা নাচ গান, তাদের প্রেম ভালবাসা, ঝগড়া, অভিমান ।

তারপর পাহাড়ের কন্দর আর জলের নীচের অন্ধকারে সেই আলোর টুকরোরা ফিরে যেতে না যেতেই তাদের গায়ে নতুন গত্তি লাগে, পুরনো চেহারায় ফিরে তারা জাতভাইদের বলে মানুষের ঘরে ‘মেহমান’ হবার অভিজ্ঞতার কথা–তাদের পানীয়ের সুগন্ধ, রান্নার তারিকা, ভালবাসাবাসি আর দেদার আনন্দ ! সমস্বরে বলে “আহা, কী সুন্দর সময়ই না কাটিয়ে এলাম মানুষের ঘরে, কত কী-ই না দেখলাম!”

ব্যস হুড়োহুড়ি পড়ে যায় বাকীদের মধ্যে, এবার কারা যাবে “মেহমান” হয়ে !
মানুষ যদি আদ্যন্ত নিষ্ঠুর না হয়ে যায়, প্রয়োজনের বহর বাড়াতে গিয়ে ভুলে না যায় প্রাচীন মেহমানদারি, তাহলে চিরকাল পশুপাখির এইভাবেই নবজন্ম হবে, ফিরে ফিরে আসতে থাকবে তারা। তাই শিকারি যখন তির ছুঁড়বে তার আঙুলে যেন জড়ানো থাকে শ্রদ্ধাবোধ আর কৃতজ্ঞতা! তার থেকে বেশি আর কে জানে এই আত্মীয়বধের অনন্যোপায় অসহায়তা!

এই কথা বলে যখন গান শেষ করত সখিনা, সূর্য তখন দুই পাহাড়চূড়ার নিখুঁত ঢেউয়ের ঠিক মধ্যখানে। ঝলমলে কিন্তু তেজ নেই। যেন ওর ব্লাউজের গলার ওপরে কিছুটা বেরিয়ে থাকা দুই ভরন্ত বুকের খাঁজে আয়েশ করে বসে থাকা বাচ্চা কাঠবেড়ালিটির ঘুম-পাওয়া চোখ। সেইদিকে তাকিয়ে ল্যাংড়া গুলাব ঘোর লাগা গলায় বলে উঠত,
- এইসব কি ঠিক কথা সখিনা ?

উঠে পড়ে শাড়ির পেছনের ধুলো ঘাসের টুকরো ঝাড়ত সখিনা, বুকের ওম থেকে বার করে আনত ফুলো লেজের বাচ্চাটাকে, কোটরে ঢুকিয়ে দিতে দিতে বলত,
- ঠিক কী বেঠিক ,জানিনা গুলাব। তবে আমাদের আদিবাসীদের নিজস্ব গাঁও ছিল যখন নদী আর পাহাড়ের ওপারে, তখন বুজুর্গরা এইসব কথা বলাবলি করত বলে শুনেছি। কে জানে, এখন এত অভাব কেন, কেনই বা পশু আর মানুষে এত লড়াই ! বনের গাছ কেন শুকিয়ে যাচ্ছে এমনি এমনি! দোনা বানাবার জন্যও তেমন সবুজ শালপাতা মেলে না আর। কত্ত মাছ মরে সেদিন ভেসে উঠল নদীর বুকে, দেখিস নাই ?

মাথা নাড়ে গুলাব। দেখেছে বৈকি! তবে সে কিছু বলার আগেই আবার গান ধরে সখিনা। মেহমানকে খাতিরদারি করার কথা, জগত সংসারের সব কিছুর ওপর মায়া রাখবার কথা! মিহি পরাগের মতো সে গানের সুর আর আশ্চর্য কথা মিলেমিশে সরু পথের দুপাশে ঝুঁকে পড়া হলুদ ঘাসের গায়ে লেপটে যেতে থাকে আর গুলাবকে শোনায় কত কালের পুরানো আশ্চর্য সব কহাবত!

এসব কথা সখিনার দাদা পরদাদা বলাবলি করত, তারপরে বনের অনেক ওষধি, অনেক গাছ আর প্রাণীর মতোই সে কথারাও একদিন ওই পুরনো মানুষগুলোর সঙ্গে হারিয়ে যায়। ভাগ্যিস সখিনা এইসব মনে রেখে দিয়েছে। নাহলে কে গুলাবকে শেখাত, শিষ্টতা আর কোমলতা হল সমুদ্রমন্থনে উঠে আসা দুই সুধাভান্ড, যা রয়েছে সৃষ্টির মূলে ! অশিষ্ট চিৎকারে বাতাস কাঁপলে ভেতরের মহাপ্রাণী ক্ষুণ্ণ হন!

তমিজ সে বাত করনা, আহিস্তা বোলনা, সখিনা তাকে শিখিয়েছিল, বনের মধ্যে চেঁচাতে নেই, কারণ সমস্ত অরণ্য পূর্ণ হয়ে আছে আমাদের বহু পুরনো আত্মীয়স্বজনে। তাদের বিরক্ত করা ভালো নয়। ওরা আমাদের পরিবারের প্রাচীনতম সদস্য, বাইসনের পালের দিকে আঙুল তুলে সখিনা বলে। ওরা আমাদের অভ্যাস জানে, আমরাও ওদের। খিদে মেটাবার জন্য যেটুকু দরকার, শুধুমাত্র সেইটুকুই, তারপর শুধু শিষ্টতা আর মমতা দিয়ে গড়া পারস্পরিক সম্পর্ক ওদের আর আমাদের মধ্যে।

দলের পান্ডা বাইসনটির বাঁকানো শিঙ-এ কতো দিনের অভিজ্ঞতা সবুজ শ্যাওলার মতো ঝুলে রয়েছে ! দূর থেকে সখিনার কথা কানে যেতে সে-ও যেন নিশ্চিন্ত হয়ে হাঁটু মুড়ে জাবর কাটতে লাগল। পশমে ঢাকা গায়ের পাশের শুঁড়িপথ দিয়ে গুলাব ধীরে আর সখিনা গটগটিয়ে হেঁটে গেল, একবার ফিরেও দেখল না !

তারপর কতদিন কেটে গেল, নদী শুকিয়ে গেল, এন্তার গাছ কাটায় কত জঙ্গল পাতলা হতে হতে বেমালুম উধাও হয়ে গেল, সরকার বাহাদুর শালপাতার উপর ভি ট্যাক্স বসাল, কিন্তু সখিনার ওপর থেকে গুলাবের ঘোর কাটল না। মেয়েটাকে তার মনে হত অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন এক ছদ্মবেশী দরবেশ, যে পশুপাখিকে বশ করবার মন্ত্র জানে, বাতাস আর ঢেউয়ের কথা বুঝতে পারে। নিজের অকিঞ্চিৎকর জীবন সখিনার ছায়ায় কাটানই তার ভবিতব্য, এর বাইরে গুলাব আর কিছুই ভাবতে পারত না।

কিন্তু অন্যদের আরও অনেক বিবেচনা ছিল। সখিনার আর গুলাবের সমাজ, সংস্কার, ধরম বেবাকই আলাদা। জঙ্গলে তারা এতক্ষণ একসঙ্গে শালপাতা কুড়োয়, দোনা বানায়, শালের কাঠি ভেঙে দাঁতন বানায়, ট্রেনে চড়ে সেগুলো শহরে বিক্রি করতে যায়, তাতেও অনেকের বেদম আপত্তি। তাই একদিন ধুত্তেরিকা বলে গুলাব আর সখিনা ট্রেনে চড়ে বসল। বনচরা দুটি মানুষ রাতারাতি পরিযায়ী শ্রমিক বনে গেল।

সুতলেজের ক্যানালের পাশে এই পলিথিনের বাক্সের দুনিয়ায় আগে বুনোশুয়োরের ভয় ছিল না। তারা দূরে দূরে থাকত, মানুষের পথ কাটতো না। বড়জোর ভুঁড়ো শেয়াল, ছাই রঙের খরগোশ আর অজস্র ময়ূর দেখা যেত। ঝোপঝাড়ে দু একটা শুয়োর চোখে পড়ত বটে, কিন্তু তারা ভুলেও মানুষের ছায়া মাড়াত না।

কিন্তু দুটো কারণে গুলাব এখন ভীত। এক তো তাদের গাঁয়ের লাগোয়া জঙ্গলের নিস্তরঙ্গ জীবনে অভ্যস্ত মুখচোরা পশুপাখি আর এই শহরঘেঁষা ঝোপঝাড়ের বাস্তুহারা মরিয়া প্রাণগুলোর মেজাজ-মর্জিতে বিস্তর ফারাক। দ্বিতীয়ত ঝোপড়িবাসী হয়ে সখিনার চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন।
এখন কথায় কথায় বিশ্রি চেঁচায় সে, গান তো মোটেই গায় না, বললে বলে সুর, কথা, সব নাকি ভুলে গেছে। ঠিকাদারের চামচা ছাবিলার সঙ্গে মাঝে মাঝেই গাঁইতা কাঁধে লেবার ভর্তি ট্রাকে উঠে চণ্ডিগড় চলে যায় সারাদিনের নামে। ফিরে এসে গুলাবের তৈরি রুটি খায় আর দেদার নিন্দে করে। রোটি পাকানাও ভুলে গেল বাদশার বাদশা গুলাব, তাহলে সে আর কোন কাজে লাগবে!

আসলে তা নয়। কিছুদিন হল সখিনার মাথায় যে কথা ঢুকেছে, সেটা হল, খেতির কাজের থেকে শহরে রাস্তা বানাবার কাজে নাকি ঢের বেশি পয়সা। তাই গুলাবের ওপর রাগ, তার জন্যই না সখিনাকে এই অল্প পয়সা অথচ বেদম খাটুনির কাজে বছরের পর বছর লেগে থাকতে হচ্ছে ! কী মধু আছে সাদা ধোঁয়ার মতো ভোরবেলায় বাষ্প উঠতে থাকা ঠান্ডা জলার পাশে গড়ে ওঠা এই দুর্গন্ধ ঝোপড়িতে, যে গুলাব শহরে যেতে চায় না ? আজকাল সে প্রায়ই ভয় দেখায়, গুলাবকে ছেড়ে চলে যাবে। এক পা নিয়ে কী করে খাবে সে তখন?

সখিনার গায়ের অদ্ভুত গন্ধটা চিরকালের জন্য হারিয়ে যাবে, একথা ভাবলেই ল্যাংড়া গুলাবের ছোট ছোট চোখদুটো সেই মা-হারা গিলহরি-বাচ্চার মতো অসহায় হয়ে যায়। পশুপাখি বশ করা যাদুকরী সখিনা, সুর ভুলে গেছে তো কী হয়েছে, এখনও প্রত্যেক শীতকালে জলায় ভিড় করে আসা পরিযায়ী পাখির ঝাঁক তাকে দেখলে হুড়োহুড়ি করে এ ওর ঘাড়ে উঠে পড়ে, পাড়ে উঠে আসতে চায়। পাকা রাস্তার ধারে ঝরে পড়া সোহাঞ্জনা পাতা আর ডাঁই করা খড়ের ওমে বুঁদ হয়ে থাকা কুকুরগুলো আচমকা কুন্ডলী ভেঙে তড়িঘড়ি উঠে আসে। ব্যগ্রতাকে চূড়ান্ত বিন্দুতে নিয়ে গিয়ে শরীর বেঁকিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে সখিনার মুখ হাত চাটতে।

মেয়েটা পুরনো দিনের মতো হাসে খিলখিল করে, ওদের গলা জড়িয়ে ধরে চুমু খায়, মাথা গলা আঙুলে হাঁটকায়। তার ট্রাক ছেড়ে দিলেও কুকুরগুলো সাদা ধুলোর মধ্যে অনেকদূর ছোটে। বেপাড়ার জাতভাইদের তাড়া খেয়ে ফিরে এসে যদি দেখে গুলাব লাঠি জড়িয়ে তখনও দাঁড়িয়ে আছে রাস্তার ওপর, কোথায় হারিয়ে গেছে তার উদাসী নজর, অমনি সবগুলো একসঙ্গে খ্যা খ্যা করে তেড়ে আসে। যেন গুলাবকে এড়াবার জন্যই সখিনা অতদূর চলে গেল সারাদিনের নামে, এটা ওরাও বোঝে।

হ্যাট হ্যাট বলতে বলতে গুলাব রাস্তার ঢাল পেরিয়ে জলার দিকে হাঁটা দেয়। হাতে জড়ানো মোটা লাঠির ভয়েই হোক, কী সখিনার খাতিরেই হোক, কুকুরগুলো তাকে রেহাই দিয়ে নিজেদের জায়গায় ফিরে যায়।

সখিনা সেদিন ফিরল দেরি করে। কিছু খেল না। জলায় স্নান করে গায়ে কী একটা গন্ধ মাখল, তারপর ভোঁসভোঁস করে ঘুমোতে লাগল। আজকাল এইসব নকল গন্ধ-ফন্দ মাখে বলেই ওর গা থেকে বনের সতেজ শ্যামল ভাবটা খসে পড়ছে তাড়াতাড়ি। দেখবি, এরপর পশুপাখিরা তোকে দেখলে মুখ ফিরিয়ে চলে যাবে! মুখের ওপর বলার সাহস নেই, মনে মনেই গজগজ করে গুলাব। পাশ ফিরতে গিয়ে হাতের যষ্টিখানা ঠং করে গিয়ে পড়ে এলুমিনিয়ামের হাঁড়ির ওপর। জড়ানো গলায় ঘুমের মধ্যেই তাকে গাল পাড়ে সখিনা,
কুছ তো রহম কর খোটে কি আউলাদ। সারাদিন খাটাখাটুনির পর কি একটু ঘুমোতেও পারব না !

সখিনা সত্যি ঘুমোচ্ছিল, না ভান করছিল, গুলাব জানে না, কারণ মাঝ রাতে উঠে সে দেখেছিল সখিনা ঘরে নেই। মাথায় রক্ত উঠে গেলেও জন্ম-ল্যাঙড়া মানুষ সে, তাই হুড়মুড়িয়ে বাইরে যায়নি, চুপ করে বসেই ছিল। শুধু লাঠিটা কোলের ওপর এমন গোছানো, যেন ইচ্ছে হলেই কারও মাথায় মারতে পারে। ঝিঁঝিঁর সমস্বর, ফুটফুটে জোছনাকে দিনের আলো ভেবে ঘুমভাঙা কাকের ডাক, শেয়ালের তাড়া খাওয়া পাখির জলে ঝাঁপিয়ে পড়ার আওয়াজ, সবই স্থির হয়ে শোনে সে। প্রবল অস্থিরতা ভেতরে, তবুও নড়াচড়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা এক পাথুরে মূর্তি যেন!

তারপর বসে থাকতে থাকতে একসময় তার ঝিমুনি আসে। তন্দ্রার মধ্যে সে দেখতে পায় তাদের গ্রামের লাগোয়া বনজঙ্গল ভেদ করে ছুটে আসছে এক কামোন্মাদ পুরুষ বরাহ। এইসময় তাদের যেমন হবার কথা, দাঁতালটার ঠিক তাই তাই হয়েছে, বাঁকানো দাঁত রাতারাতি বেড়ে গেছে প্রতিদ্বন্দ্বীকে ঘায়েল করার জন্য, অন্ডকোষ দুটি ফুলেফেঁপে দ্বিগুণ আকার ধারণ করেছে। সেখান থেকে সবসময় নির্গত হচ্ছে হলদেটে ফেনাময় তরল। প্রবল বিক্রমে সে পেরিয়ে যাচ্ছে মাইলের পর মাইল। তার অভিমুখ দূরের কোনো জঙ্গলে দল বেঁধে থাকা শূকরীর পাল। খাদ্য সংগ্রহে মন নেই, তৃষ্ণাও ভুলে গেছে, তখন দাঁতালটির চূড়ান্ত অভীষ্ট কেবল তীব্র দৈহিক মিলন!

গ্রামের সবাই জানে মেয়ে শূয়োররা জঙ্গলে দল বেঁধে থাকে এক বয়স্কা শূকরীর অধীনে। প্রচন্ড কালবৈশাখীর মতো সেই দলটাকে তছনছ করে দেয় মদ্দাটা, পছন্দের শূকরীটিকে পেড়ে ফেলে। অন্যগুলি এদিক ওদিক ছিটকে পড়ে, কুঁই কুঁই আর্তনাদ করতে করতে পালিয়ে যায়। এই প্রবল আবেগ, বিরাট শক্তি আর অন্ধ উন্মাদনার সামনে খড়কুটোর মতো ভেসে যায় সমস্ত প্রতিবন্ধকতা!

এইসময় বাইরের হাওয়ার প্রবল ঝাপটায় নড়ে ওঠে পলিথিন পায়রার খোপ। অনেক দূর থেকে মিহি সুরের মতো কী যেন শোনা যায়! ও কি বুনো শুয়োরের মিলন শেষের ক্লান্ত অথচ আনন্দময় সংকেত? তাহলে সখিনা কি এখন হলুদ ফেনাময় আঁচল নিয়ে ঘরে ফিরবে? শরীরের সব সুগন্ধ কি ছাবিলাকে দিয়ে এল সে? লাঠিটিকে দু হাতে আঁকড়ে ধরে গুলাব, পা তার যেমনই হোক, হাতের পেশি যেন পাথরে কোঁদা, ঠিকমতো তাক করতে পারলে বসে বসেই এক আঘাতে চুহার মাথাও সে দু ফাঁক করে দিতে পারে।

ক্রমে হাওয়ার বেগ বাড়ে, সুরের ওঠানামা স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হয়, চারপাশের ঝোপড়ির গায়ে মাথায় লাগানো প্লাস্টিক বিপুল শব্দে কাটা ঘুড়ি হয়ে উড়ে যেতে চায়, কিন্তু কোমর নুইয়ে গুলাবের ছোট্ট ঘরটায় কেউ ঢোকে না।

শেষকালে চূড়ান্ত অধৈর্য মানুষটা ছেঁচড়ে দরজার বাইরে এসেই অবাক হয়ে যায়। ইয়া মাবুদ, এতবড় চাঁদ কখন উঠল আকাশের গায়ে! এই তো যেন তার ফেলে আসা মাটির বাড়ি। নিঝুম জঙ্গল আর আঁকাবাঁকা নদীর পাশে ঘুমিয়ে থাকা তার প্যায়ারা গাঁও! পুরনো একটা সুর তাকে টেনে নিয়ে যায় জলাটার প্রান্তে, এই রাতেও হাজার মেহমান পাখি সেখানে অলস গা ভাসিয়ে কী যেন শুনছে! ঐ যে দূরের পাথরটা ঘিরে যত কানা খোঁড়া কুকুরের জটলা, এই আপদগুলো এখানে কেন, গুলাবকে দেখেও তেড়ে আসছে না তো!

এতক্ষণে সেই মিহি সুরের উৎস দেখতে পায় গুলাব, বনদেবীর মতো পাথরের ওপর বসে মেহমানদারির পুরনো গান গাইছে সখিনা, যেমন সে গাইত গভীর বনের মধ্যে শালপাতা কুড়োতে গিয়ে। ঝোড়ো হাওয়ায় উড়ছে রুখা চুল, পপলার গাছের দীর্ঘ কান্ড যেন গানের তালে তালে অবশিষ্ট পাতাগুলোকেও ঝরিয়ে দিচ্ছে, দূর থেকে শোনা যাচ্ছে নহরের জলোচ্ছ্বাস!
পাথর ঘিরে থাকা ঝোপঝাড় নড়ছে মাঝেমধ্যেই, যেন বড় কোনো প্রাণী উৎকর্ণ হয়ে গান শোনার ফাঁকে পাশ ফিরে সুরের মায়ায় বিবশ পাশের জীবটির গায়ে আরও ঘন হয়ে বসছে। ওরা কি সেই বুনো শুয়োরের দল?

যে দিকেই তাকায় ল্যাংড়া গুলাব, দেখে চারপাশের সব অটুট, সব নিখুঁত, দূরের বনভূমি থেকে উঠে আসছে আশ্বাস, সব ঠিক হো যায়েগা, স্বজন পরিবেষ্টিত এই স্বল্প জীবনসীমায় অশিষ্টতা আর নিষ্ঠুরতার কোনো স্থান নেই। নিজের সন্দেহ আর নীচতায় লজ্জিত গুলাব পারলে নিজের হাতের লাঠিটি জলায় ছুঁড়ে ফেলে দিত। কিন্তু উপায় নেই বলে তাতে ভর দিয়ে অবশ পা-টিকে গুছিয়ে গান শোনার জন্য মাটিতেই থ্যাবড়া হয়ে বসে সে।

ভোর হতে আর দেরি নেই, পাহাড়ের দিক থেকে আসা ঠান্ডা তাজা হাওয়ায় সখিনার গান যেন ফুটে ওঠা ফুলের মতই পাপড়ি মেলছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

9 মন্তব্যসমূহ

  1. প্রিয় কলম। বৈজ্ঞানিক তথ্য মিশানো থাকে তাই আরও ভালো লাগে৷ বাংলা গ্লপের খুব দুরাবস্থা। কিন্তু গল্পপাঠে এইরকম অনেক ভালো ভালো গল্প পড়তে পাই। পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশ হোক। আর নিয়মকানুন সোজা হইলে ভালো হয়। নাম দিয়ে মন্তব্য করতে গেলে সে কী ঝামেলা বাপ্রে বাপ।

    উত্তরমুছুন
  2. আত্মীয় স্বজন পড়লাম। আপনার লেখায় একটা  ছবি তৈরি  হয়। আমি যেন দেখলাম  শতদ্রু ক্যানাল, লাল কমলা  সূর্যের  ডুবে যাওয়া, পলিথনের পর্দা সরিয়ে ল্যাংড়া গুলাবের মুখ বের করা,রুখা চুলে সখিনা পাথরে  ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে  গান গাইছে, ভাষা  বোঝা যাচ্ছে না, কেবল সুর ভাসছে, আর সেই সুরে আটকে পড়ছে সবাই।গুলাবের অক্ষম আক্রোশও।

    উত্তরমুছুন
  3. ভালো লাগলো 'আত্মীয় স্বজন' । নগরায়ন, সভ্যতার বিকাশ ক্রমশঃ গ্রাস করে মানুষ আর অরণ্য এবং অরণ্যচারী জীবের পারস্পরিক নির্ভরতা, একই সঙ্গে তাদের জল, জমি, মাটি । প্রতিভা সরকারের কলম প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার সাথে সাথে বর্তমান সভ্যতার সঙ্কটও নিপুণ ভাবে তুলে ধরেছে। অরণ্যোচ্ছেদ শুধু মানুষকেই নয়, আশ্রয়হীন করছে জীবজন্তুদেরও । Survival of the fittest ... হিংস্রতা বাড়ছে তাই ।

    উত্তরমুছুন
  4. একটি সুন্দর গল্প।সমাজ, মানুষ প্রকৃতি ও প্রাণীর সহাবস্থানের কথা। প্রতিভার সিগনেচার ভাষায় লেখা।পড়লেই চেনা যায়। পত্রিকাটি পড়ে ও দেখে ভালো লাগল।
    বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়
    ০৫/০৭/২০২৪

    বিশ্বকাপ

    @

    উত্তরমুছুন
  5. কী যে pensive আর একই সঙ্গে গভীর সুরেলা বিস্তার এ লেখার প্রতিভাদি! যেন অনন্তকালের রাগমালিকা। বিরহের রাগেও চিরন্তন বিচ্ছেদ কাটিয়ে আনন্দের সম্ভাবনা! অথবা বেদনা বিচ্ছেদের অভিযোজনে আনন্দের তালাশ। কী যে সুরের ধারায় ভাসালেন! 🌸🌸

    উত্তরমুছুন
  6. আহা ! বড় মায়াময় লেখা ।

    উত্তরমুছুন