মূল স্প্যানিশ থেকে বাংলায় অনুবাদ : জয়া চৌধুরী
খুয়াঞ্চো আর তার মাদী কুকুর মারিপোসা দিনে দুবার করে তিন কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাতায়াত করত। বৃষ্টি হোক বা বরফপাত হোক, কনকনে ঠান্ডা বা ঝকঝকে উজ্জ্বল রোদ, দেখা যেত খুয়াঞ্চোর ছোটখাট চেহারাটা স্কুলে যাচ্ছে। আর পিছন পিছন যাচ্ছে মারিপোসা মানে প্রজাপতি। খুয়াঞ্চো ওর নাম মারিপোসা রেখেছিল কারণ ওর বিরাট বড় বড় কান ছিল। আলোর উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে দেখলে মনে হত দুটো বিশাল বড় বড় ডানাওয়ালা কালো প্রজাপতি যাচ্ছে। অতএব সে কুকুরও পথের প্রতিটা ফুল শুঁকতে শুঁকতে যেত যেন কোন পোকা দেখতে পেয়েছে।
মারিপোসা তার মালিকের সঙ্গে সঙ্গে স্কুলে যেত। তারপর দোরগোড়ায় বসে মালিকের জন্য অপেক্ষা করত যতক্ষণ না স্কুল শেষের ঘন্টা বেজে ওঠে। ক্লাস শেষ হলে দরজা খুলে যেত, আর ছেলেমেয়ের দল দড়িছেঁড়া বাছুরের মত হুড়মুড় করে ভেতর থেকে বেরিয়ে আসত। তখন মারিপোসা তার ঢুলুঢুলু ভাব ঝেড়ে ফেলে তার বাড়ির বাচ্চাকে খুঁজতে শুরু করত। ক্লাসে যত জুতো আর পা থাকত, সব শুঁকতে শুঁকতে শেষ পর্যন্ত তার খুয়াঞ্চোকে খুঁজে পেত। তারপর দম দেওয়া পাখার মত লেজ নাড়াতে নাড়াতে বাড়ির রাস্তা ধরত।
শীতকালে তাড়াতাড়ি দিন ফুরিয়ে সন্ধ্যে নেমে আসত। সমুদ্রের তীরের আকাশটায় যখন মেঘ করত সমুদ্রকে অনেকখানি কালো কুচকুচে দেখাত। বিকেল পাঁচটাতেই প্রায় অন্ধকার হয়ে যেত। সেদিনও ওরকমই এক দিন ছিল- মেঘলা, আধা ছাই ছাই আধা ঠান্ডা, বৃষ্টি পড়বে পড়বে করছে, ফ্যানাওলা ঢেউ আছড়ে পড়ছে তীরে।
- খারাপ হচ্ছে রে ব্যাপারটা, মারিপোসা। আমাদের তাড়াতাড়ি পা চালাতে হবে। নয়তো জলে ডুবে যাব, তার উপর রাতও নেমে আসছে… রাতের বেলা এই একলা থাকাটাকে আমার খুব ভয় করে রে, মারিপোসা- খুয়াঞ্চো তার ফুটিফাটা জুতো আর পরনের রঙচঙা পঞ্চো সামলাতে সামলাতে বলল।
কুকুরটা অস্থির হয়ে উঠেছিল। হাওয়া শুঁকতে শুঁকতে হঠাত মৃদু গোঙানি করে উঠল। কানদুটো সজাগ হয়ে উঠল আর লেজ খাড়া।
- কী হয়েছে তোর?- খুয়াঞ্চো ওকে জিজ্ঞেস করল- এখন আবার চিৎকার শুরু করিস না বুদ্ধু কাঁহাকা। চেঁচালে ভূতেরা এসে শাস্তি দেবে।
স্কুলটা পাহাড়ের উপর। ফেরবার সময় রাস্তা হারিয়ে পাশের মেঠোপথ ধরে, ব্যাঙদের ডিঙিয়ে হাঁটা যখন অবশ্যম্ভাবী হল, ততক্ষণে মারিপোসা একেবারে অসহ্য হয়ে উঠেছিল। মাটিতে বসে পড়ে এমন ভাবে গোঙাতে শুরু করল যেন কেউ ওর লেজ মাড়িয়ে দিয়েছে। খুয়াঞ্চো ছোট ছেলে ছিল, তায় চাষির ঘরে জন্ম। ছোটবেলা থেকেই প্রাণীদের চালচলনের ইঙ্গিতকে গুরুত্ব দিতে শিখে বড় হয়েছে। যখন দেখল তার মাদী কুকুর একেবারে উন্মাদ হয়ে উঠেছে, মাথার লোম খাড়া হয়ে উঠেছে, তখন জিজ্ঞেস করল-
- কী হয়েছে মারিপোসা?- ভূতেরা কি বন্দী রয়েছে না ছাড়া পেয়েছে? আইই…! মারিপোসা, আমার ভয় করছে!
আড়চোখে চেয়ে দেখে নিল চারপাশে ভয়ের পরিবেশ। কিন্তু কাউকে দেখতে পেল না। নরকের মত ছাই ছাই বিকেলে নিস্তব্ধ প্রান্তর ভারী বিষাদের মত চেপে বসছিল। দূর থেকে ভেসে আসা সমুদ্রের গর্জন আর চিলের প্রান্তরের সেই একাকীত্ব।
ভয়ে কাঁপছিল সে, তবুও দ্রুত রাত নেমে আসছে জেনে জোরে সাইকেল চালাচ্ছিল। একসময় তাড়াতাড়ি পৌঁছনোর রাস্তা ধরবে বলে পাশে মাঠে নেমে গেল। প্যাডেল করবার সঙ্গে সঙ্গে পায়ের কাছে ভারী ব্যাগ আঘাত করছিল, গায়ে পঞ্চোটা আধা জড়ানো। কী খেয়াল হল, মারিপোসা পিছনে দৌড়ে আসছিল। বিশাল মাঠটার মাঝামাঝি ডালপালা ভাঙা হোলিওক গাছের কাছে ওরা যখন পৌঁছল, তখনই চোখে পড়ল।
মাটির উপর দু মিটার জায়গা জুড়ে একটা বিশাল ধাতব রূপালী পাত্র, তবে একেবারে নিখুঁত রকমের অনড় ছিল। ওটায় কোন দরজা ছিল না, জানলাও না। কেবল তিনটে উজ্জ্বল ছিদ্র ছিল দেখে মনে হচ্ছিল যেন গর্ত। ওখান থেকে এক সরু কমলা রঙের আলোর ধারা বেরোচ্ছিল। চরাচর নিস্তব্ধ … মোটরের কোন আওয়াজ আসছিল না কানে। সেই অদ্ভূত মেশিনের চারপাশে বাতাসের কোন ঘূর্ণিও ছিল না।
ছেলেটা আর তার কুকুর হাঁ করে বিরাট বড় বড় চোখে দেখছিল। এত কাছে, এত রহস্যময় সেই একেবারে আলাদা রকমের গোল বস্তুটা কী বুঝবার চেষ্টা করছিল। কিন্তু বুঝতে পারছিল না।
প্রথম ধাক্কায় মনে হল যাকিছু আছে সব ছেড়েছুড়ে দৌড় দেয়। কিন্তু ছোট ছেলের কৌতূহল আর তার কুকুরের বিশ্বস্ত স্বভাব- দুটোই ভয়ের চাইতে অনেক বড় জিনিষ। সম্মোহিতের মত এক পা এক পা করে ছেলেটা আর তার কুকুর মাঠের ঠিক মাঝখানে যেখানে রুপোলী জিনিষটা থেমে ছিল, ওটার কাছে এগিয়ে গেল।
তারা যখন রুপোলি বৃত্তটার প্রায় পনের মিটার দূরত্বে পৌঁছে গেল, কমলা রঙের রশ্মির রঙ তখন বদলে গেল। ভীষণ গাঢ় নীল রঙ বের হচ্ছিল। একটা তীক্ষ্ণ শিস বাতাস চিরে বের হল। মাঠের উপর গোয়াল ঘরের পাশের গাছের ডাল কাঁপতে লাগল সে শব্দে। মারিপোসা মড়া কুকুরের মত মাটিতে পড়ে গেল। ছেলেটা দু হাত দিয়ে নিজের কান ঢাকল। শিসের শব্দ যখন বন্ধ হল ততক্ষণে খুয়াঞ্চো মাতালের মত দুলছিল।
সন্ধ্যের আধো ঘন অন্ধকারে দেখল চকচকে কী যেন একটা জিনিষ তার দিকে এগিয়ে আসছে। জিনিষটার চোখ দুটো ভাজা ডিমের মত দেখতে। সে ছিল রুপোলী রঙের একজন মানুষ। ছেলেটার চেয়ে সামান্য বড় আকার। সম্পূর্ণ রুপোয় মোড়া তার শরীর। দেখে মনে হয় গোটা শরীর যেন অ্যালুমিনিয়ামের ফয়েলে মোড়া। মুখগহবর হীন গোল একটা মাথা, তার নাক নেই, কান নেই, কিন্তু চোখ দুটো এত বড় যেন সেগুলো ব্যাঙ মানুষের চোখ।
খুয়াঞ্চো পালাতে চাইছিল। কিন্তু একটুকু মাংসপেশীও নাড়াতে পারল না। তার শরীর পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে গিয়েছিল। যেন কেউ অদৃশ্য সুতো দিয়ে শরীরটা বেঁধে রেখেছে। ভয়ে, সারা শরীর শীতল ঘামে ভিজে গিয়েছিল। গলার কাছে উঠে আসা চিৎকার কেউ যেন টিপে বন্ধ করে রেখেছিল। খুয়াঞ্চো দেখল রূপোলী মানুষ তার দিকে এগিয়ে আসছে। মাটি থেকে তিরিশ সেন্টিমিটার উচ্চতায় ভাসছে তার শরীর।
মানুষটার কন্ঠস্বর খুয়াঞ্চো টের পেল। কোন এক উপায়ে বুঝতে পারল সে কথা বলছে। যেন শব্দ হাতড়াচ্ছে বলবার জন্য। কিংবা শুনতে পাচ্ছে আর মনে মনে রেকর্ড করে রাখছে সেগুলো।
- বন্ধু… বন্ধু… আমি বন্ধু… ভয় নয়… ভয় পেয়ো না… আমি তোমার বন্ধু…
ছেলেটার মন থেকে ভয় অল্প ছেড়ে গেল। রুপোলী মানুষকে এবার কাছ থেকে দেখল। নিচু হয়ে তাকিয়ে দেখল মারিপোসাকেও। অজ্ঞান কুকুরটাকে তখন সে সাবধানে উঠাল। মাদীটাকে কোলে তুলে সে রুপোলী মানুষের কাছে গেল।
আমি বন্ধু… তোমার বন্ধু… ভয় পেয়ো না, কোন ক্ষতি করব না তোমার… আমি তোমার বন্ধু … তোমাকে চিনতে চাইছি… অনেক দূর থেকে এসেছি, আমি এই গ্রহের নই… মহাশূন্য থেকে এসেছি… আমি শুধু তোমাকে চিনতে জানতে চাই…
রুপোলী মানুষের স্বরহীন শব্দগুলো কোন গোলমাল না করেই খুয়াঞ্চোর মাথায় গেঁথে গেল। বোঝামাত্রই ছেলেটার মন থেকে ভয় চলে গেল। প্রাণপণে একটামাত্র পা উঠাতে পারল। অদ্ভূত মানুষটা তার দিকে হাত বাড়াল। সেটা ধরল।
- এসো আমার সঙ্গে… আমরা যানে চড়ি… তোমাকে জানতে চাই… আমি তোমার বন্ধু…
আর খুয়াঞ্চো, বলা বাহুল্য সে নিমন্ত্রণ গ্রহণ করল। এক পা বাড়াল, হাতটা কিন্তু বরাবর রুপোলী মানুষের হাত ধরা। মানুষটার শরীর মাটির কয়েক সেন্টিমিটার উঁচুতে রয়ে গিয়েছিল। ঘুরন্ত রুপোলী চাকা থেকে যে নীল রশ্মি বের হচ্ছিল খুয়াঞ্চো সেটা মাড়িয়ে এগোচ্ছিল। দেখল মারিপোসাকে নিয়ে, নতুন বন্ধুর সঙ্গে কোন জোরজবরদস্তি না করেই সে রশ্মি ধরে যানে চড়ে বসতে পারল।
দেখল দরজা না খুলেই যানে চড়ে বসতে পারল। অনুভব করছিল যেন দেয়াল ফুঁড়ে ভিতরে গেছে তারা। দেখল নরম আলো ভরা, নিস্তব্ধ এক বিরাট সুড়ঙ্গের একটু ভিতরে তারা ঢুকেছে।
তাদের পা মাটি স্পর্শ করছে না। তা বলে ভাসছে এমন অনুভবও করল না।
- আমি অন্য গ্রহের মানুষ… এসেছি পৃথিবীকে চিনতে… এখানে নেমেছি কারণ দেখে মনে হল জায়গাটা নির্জন… তবে তোমার সঙ্গে দেখা হয়ে সুখী হয়েছি… তোমার সঙ্গে আলাপ করে আমি খুব খুশি… আমি তোমার বন্ধু…
কোন শব্দ ছাড়া যেভাবে কথা বলছিল রুপোলী মানুষ খুয়াঞ্চোর মনে হল কথাগুলো বোধহয় এমনই। মারিপোসা তখনও মড়ার মত শুয়ে ছিল। ভাসমান এক আলোর কুশনে মিষ্টি করে শুয়েছিল।
- আমি খুয়াঞ্চো সোতো, ফুন্দো জেলার বাসিন্দা। বাবার নাম খুয়ান সোতো।
বিড়বিড় করে ছেলেটা বলে উঠল। কিন্তু তার কন্ঠস্বর ভারী শোনাল। আর খুব প্রতিধ্বনি হচ্ছিল কথাগুলোর। শব্দগুলো যে সুড়ঙ্গের মধ্য দিয়ে ওরা যাচ্ছিল সেটার দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে ফিরে ফিরে আসছিল।
রুপোলী মানুষ খুয়াঞ্চোকে সুড়ঙ্গের ওপারে নিয়ে গেল। সামনে খুলে গেল এক গোলাকার ঘর। ঘরটা বিরাট বড় আর আলো ঝলমলে। সেখানে আসবাব বলতে গেলে কিছু নেই, কোন জিনিষই নেই আসলে। মনে হচ্ছিল একদম ফাঁকা অথচ অজস্র বোতাম আর ছোট ছোট স্ক্রিনে ভরা।
- এটা সত্যিকারের এক ঘুরন্ত রুপোর চাকতি- চারপাশে তাকাতে তাকাতে খুয়াঞ্চো বলে উঠল।
- এখানে নিয়ে এলাম যাতে তোমার একটা ছবি আমার দুনিয়ায় পাঠানো যায়… তবে তোমাকে ভয় পাওয়াতে চাই না… এটাও চাইনা মানুষ আমাদের চিনতে পারুক… কারণ এখনও তারা আমাদের বরণ করে নিতে প্রস্তুত নয়… - নিঃশব্দে বলল রুপোলী মানুষ।
- তোমার সঙ্গে তোমার দুনিয়ায় যেতে চাই, চাইলে মারিপোসাকে আর আমাকে নিয়ে যাও- খুয়াঞ্চো বলল। একটু কাঁপছিল সে তবে ভেতরে প্রচুর কৌতূহল ছিল।
- না, আমার সঙ্গে নিয়ে যেতে পারব না… তোমার শরীর এই যাত্রা পথের ধকল নিতে পারবে না… তবে তোমার একটা প্রতিরূপ নিয়ে যেতে চাই… দাঁড়াও তোমাকে পরীক্ষা করে দেখি, চিনি… কোন ক্ষতি করব না… শান্ত হয়ে ঘুমোও… ভয় পেয়ো না… ঘুমোও যাতে আমি তোমায় জানতে পারি…
মনে হল পায়ের গোড়ালি থেকে উঠে আসা একটা ভারী গভীর স্বপ্নে যেন সে ডুবে যাচ্ছে। কোন রকম চেষ্টা না করেই গভীর ঘুমে ডুবে গেল।
মুখের উপর বৃষ্টির ফোঁটা পড়ে ভিজে গেলে খুয়াঞ্চোর ঘুম ভেঙে গেল। তখন অন্ধকার ছিল, বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছিল। প্রান্তরের ছায়াচ্ছন্নতা দেখে মনে হচ্ছিল রাত নেমে এসেছে। তার পঞ্চোর নিচে ঘুমিয়ে থাকা মারিপোসার শরীরের ওমে কিছুটা গরম অনুভব করলেও আসলে তার শীত করছিল। দেখল নিজের পায়ে জুতো নেই।
- মারিপোসা! আমরা ঘুমিয়ে পড়েছিলাম! স্বপ্ন দেখলাম… না না স্বপ্ন না! এটা সত্যি! এটা সত্যি হতেই হবে… আমি রুপোলী মানুষ দেখেছি। রুপোলী ঘুরন্ত চাকায় চড়েওছি- বলতে বলতে চারপাশে চোখ বুলিয়ে নিল। সেই রহস্যজনক যানের কোন ছায়া আছে কী না তাই খুঁজছিল। কিন্তু কালো মেঘ ছাড়া কিছুই চোখে পড়ল না। মাদীটাও জেগে উঠেছে তখন। সেও গা ঝাড়া দিল। অদ্ভূত চোখে চারপাশ দেখল। তারপর দূরে সোতোদের বাড়ি থেকে আসা আলোর দিকে এক ছুট লাগাল। খুয়াঞ্চোও তার পিছন পিছন হাঁটা দিল। পুরনো গামবুটটা কোথায় পড়ে আছে তা না খুঁজেই এগোল। কাদায় মাখামাখি হয়ে ছপাত ছপাত করে সোতোদের বাড়ির খোলা দরজা দিয়ে ঢুকে পড়ল।
- পাজী হতচ্ছাড়া ছেলে! কোথায় পড়ে রয়েছিলি এতক্ষণ? – বাড়ি ঢুকতে দেখে খুয়াঞ্চোর মা চিৎকার করে বলে উঠল। হাতে তখন রান্নাঘরের হাতা উঁচিয়ে ধরা। খুয়াঞ্চোর মাথা তাক করেছিল সেটা।- তোর গামবুট কোথায় গেল? বৃষ্টির মধ্যে খালি পা?
- মাঠে গোয়ালঘরের পাশ দিয়ে হাঁটছিলাম। ঠিক মাঝখান দিয়ে। তখনই … মা, ওমা মেরো না! রুপোলী মানুষ দেখলাম, রুপোলী চাকতিটাকে দেখছিলাম শূন্যে ভেসে আছে, অথচ তার ডানা নেই…
- বৌ, ওকে ছেড়ে দাও। ব্যাটা ঘুমিয়ে পড়েছিল। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখছিল। কাল খুঁজব জুতোজোড়া। সাবান দিয়ে হাত পা ধো এখন, তারপর বিছানায় যা। কাল ভোর হোক আগে, ওটা জরুরী- বাবা বলল।
পরদিন খুয়াঞ্চো আর তার বাবা কাঠ কুড়াতে বেরোল।
- দ্যাখ খুয়াঞ্চো…। মাঠের মাঝখানে কে আগুন জ্বালিয়েছিল? পুরো জায়গাটা ঝলসে গেছে। কী অদ্ভূত! আমি তো আগুন দেখি নি! বা ধোঁয়ার গন্ধও তো পাই নি!... ওরা লুকিয়ে লুকিয়ে একসঙ্গে অন্তত দুটো বনফায়ার করেছে। বিরাট বড় এক চাকার মত জায়গা নিয়ে। - জায়গাটা পরীক্ষা করতে করতে একটু হতচকিত ভাবে খুয়ান সোতো কথাগুলো ছেলেকে বলল।
ঘাস জ্বলে গেছে। জায়গাটার মাটিও কালো হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে যেন ছাই দিয়ে ঢাকা। গোয়াল ঘরের তল থেকে কয়েক সেন্টিমিটার নিচে ছিল পোড়া জায়গাটা। দেখে মনে হয় বিরাট ভারী কোন জিনিষ জায়গাটার উপর চেপে বসেছিল। খুয়াঞ্চো আর মারিপোসা সাবধানে জায়গাটার দিকে এগিয়ে গেল। হাতে একটা লাঠি তা দিয়ে খুঁচিয়ে কী যেন খুঁজছিল। ছেলেটা মাটি খুঁচিয়ে যাচ্ছিল দেখে-
- কী খুঁজছিস- বাবা জিজ্ঞেস করল।
- আমার বুটজোড়া তাইতা, … তবে মনে হচ্ছে রুপোলী মানুষ সেটা নিয়ে গেছে।
ছেলেটা অল্প হাসল। মাদী কুকুরটা লেজ নাড়াল একটু। আর খুয়ান সোতো তাঁর মাথা চুলকে নিলেন।
চিলের ছোট ছেলেমেয়েরা বাবাকে আদর করে তাইতা বলে সম্বোধন করে।


0 মন্তব্যসমূহ