বাংলা অনুবাদঃ অমিতাভ চক্রবর্ত্তী
১
ইয়োশিকো হাত-খরচ পেত মাসে দুই ইয়েন বা ২০০ সেন, তার মানে চারটি ৫০ সেন মূল্যের রূপোর আধুলি। প্রতি মাসের শুরুতে ইয়োশিকোর মা নিজের হাতে, চারটি আধুলি ইয়োশিকোর বটুয়ায় ভরে দিত।
সেই সময় যত দিন যাচ্ছিল, বাজারে এই রুপার আধুলিগুলি পাওয়া তত কঠিন হয়ে উঠছিল। এগুলো দেখতে হাল্কা হলেও হাতে নিলে বেশ ভারি লাগত। শুধু তাই না, ইয়োশিকোর মনে হত এই মুদ্রাগুলো ওর লাল চামড়ার, দড়ি দিয়ে মুখ বাঁধা বটুয়াটায় রাখলে সেটার মর্যাদা বেড়ে যেত। হাবিজাবি জিনিষ কিনে জমানো সঞ্চয় যাতে নষ্ট না হয়ে যায় সে ব্যাপারে ইয়োশিকো খেয়াল রাখত খুব। ফলে মাসের শেষ দিন পর্যন্ত সে ঐ আধুলিগুলো জমিয়ে রেখে দিত। আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ে যেভাবে আনন্দ করে, একটা সিনেমা দেখা কি বন্ধুদের সাথে কফিশপে যাওয়া, সে সব থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখাটা সে যে খুব হিসেব করে করত, ব্যাপারটা ঠিক তেমন নয়, সত্যি কথা বলতে কি, এই সব শখ-আহ্লাদকে সে কখনো তার জীবনের অংশ বলেই মনে করেনি। হয়ত, এই ধরণের শখ-আহ্লাদ নিয়ে তার কোন অভিজ্ঞতা ছিলনা বলে এগুলো নিয়ে তার কোন আকাঙ্খাও ছিল না।
সপ্তাহে একদিন, অফিস থেকে ফেরার পথে, সে একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে থামত এবং তার খুব পছন্দের নোনতা ফ্রেঞ্চ রুটির একটি টুকরো কিনতে দশটি সেন খরচ করত। এ ছাড়া তার নিজের জন্য বিশেষ কিছু চাওয়ার ছিল না।
কিন্তু, একদিন মিতসুকোশির স্টেশনারি ডিপার্টমেন্টে একটা কাঁচের পেপারওয়েটে তার নজর আটকে গেল। ছয়কোণা, উপরে একটা কুকুর খোদাই করা। কুকুর দেখে মুগ্ধ ইয়োশিকো পেপারওয়েটটিকে হাতে তুলে নেয়। অপূর্ব! গা শিরশির করছে! ভারিও আছে! আনন্দে মন ভরে ওঠে তার। এই ধরনের সূক্ষ্ম কারুকাজ খুব পছন্দ তার, একেবারে আটকে যায় তাতে। জিনিষটা হাতের তালুতে নিয়ে ভাল করে সে তার ওজন অনুভব করল, সব রকম কোণ থেকে সেটাকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখল এবং তারপরে, নিতান্ত অনিচ্ছায় সে্টাকে তার বাক্সে ফিরিয়ে রেখে দিল। জিনিষটার দাম - চল্লিশ সেন।
পরদিন সে আবার দোকানটায় ফিরে এল, একইভাবে পেপারওয়েটটাকে নেড়েচেড়ে দেখল। তার পরদিন আবার এসে দেখল। দশ দিন এভাবে চলার পর অবশেষে সে মনস্থির করে ফেলল।
'আমি এটা নেব,' দোকানের কাউন্টারে দাঁড়ানো সহকারীটিকে বলল সে, তার হৃদপিণ্ডটা যেন ছুটছে এখন। বাসায় ফিরলে পর তার মা ও বড় বোন তাকে নিয়ে হাসাহাসি জুড়ে দিল। 'এই রকম একটা খেলনার পিছনে এতগুলো পয়সা খরচ করে এলি তুই! কেন?'
কিন্তু যখন তারা জিনিষটা হাতে নিয়ে সেটাকে ভালো করে দেখল, দুজনেই স্বীকার গেল, 'ঠিকই করেছিস তুই, এটা আসলেই সুন্দর। আর এত নিখুঁত করে এটা বানিয়েছে!’
তারা ওটাকে আলোর দিকে উঁচু করে তুলে ধরল। মসৃণ স্বচ্ছ কাঁচের সাথে ঝাপসা, ঘষা কাঁচের খোদাইয়ের কাজটা এমন চমৎকার সূক্ষ্মভাবে মিলে গেছে, আর ছ’কোনা পিঠগুলোকে এমন অপূর্ব নিখুঁত করে বানিয়েছে! ইয়োশিকোর মনে হল এটা সত্যিই একটা মুগ্ধ হয়ে দেখার মত শিল্পবস্তু।
পেপারওয়েটটি সংগ্রহে রাখার মত কিনা সেই সিদ্ধান্ত নিতে সাত, আট কি আরও বেশি দিন সময় লাগিয়ে দিলেও এই জিনিষটা নিয়ে অন্যরা কে কী বলবে তাই নিয়ে ইয়োশিকোর কোন মাথাব্যথা ছিল না। তবু এখন যখন মা আর দিদির কাছ থেকে নিজের রুচির স্বীকৃতি পাওয়া গেল, তার মনের ভিতর বেশ একটা গর্বের বোধ হল।
তবে, মাত্র চল্লিশ সেন দামের কিছু কিনতে গিয়ে দশ-দশটা দিন লাগিয়ে দেওয়ার এই অতি সাবধানতার জন্য তাকে যদি ঠাট্টা করা হয়ও – ইয়োশিকোর পক্ষে আর কোন ভাবেই এই কাজটা করে ওঠা সম্ভব ছিল না। মুহুর্তের ঝোঁকে কিছু কিনে ফেলে শেষে আফশোষ করতে হবে, এমন কাজ করা তার ধাতে নেই। অবশ্য, সতেরো-বছর-বয়সের-ইয়োশিকো এত খুঁটিনাটি হিসাবনিকাশ করে চলতনা যে, কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে দিনের পর দিন ধরে সে একটা জিনিষকে দেখে যাবে কি সেটাকে নিয়ে ভাবতে থাকবে। তার শুধু একটাই ভয় ছিল - এতকাল ধরে এত মমতায় বাঁচিয়ে রাখা রুপোর আধুলিগুলো স্রেফ হাবিজাবি কারণে খরচ না হয়ে যায়।
তিন বছর পর যখন একদিন এই পেপারওয়েট নিয়ে কথা উঠল, এবং সবাই হাসিতে ফেটে পড়ল, তখন তার মা তাকে মনের থেকেই বলেছিল, 'আমার সেই সময় তোকে কি মিষ্টি যে লাগত!’
ইয়োশিকোর প্রত্যেকটি সম্পত্তির সাথে এ’রকম কোন না কোন মজার কাহিনি জড়িত ছিল।
২
তারা লিফট নিয়ে মিতসুকোশির পাঁচ তলায় উঠে গেল কারণ কেনাকাটার কাজটা উপর থেকে শুরু করে নীচে নেমে শেষ করলে সুবিধার হয়। এই রবিবারে দিনটা একটু অন্যরকম করে কাটানোর ইচ্ছায় ইয়োশিকো তার মায়ের সাথে কেনাকাটায় যেতে রাজি হয়ে গিয়েছিল।
নামতে নামতে এক তলায় পৌঁছেই কেনাকাটা শেষ হয়ে যাওয়ার কথা, কিন্তু তার মা মাটির নীচের তলাটায় না গিয়ে ছাড়লনা, যেন ঐখানে থেকে কিছু একটা না কিনলে তার চলবেই না। এই তলার কাউন্টারগুলোয় জোর দরাদরি চলে।
'এখানে ভীষণ ভিড়, মা। এই জায়গাটা আমি দেখতে পারি না,' ইয়োশিকো বিড়বিড় করে বলল, কিন্তু তার মা এর মধ্যেই দরদামের এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে এমনভাবে মেতে গিয়েছিল যে, ইয়োশিকোর কথাগুলো তার কানে ঢুকেছে বলে মনে হলনা।
দরকষাকষি করে জিনিষ কেনার এই তলাটা চালু করা হয়েছিল একটিই মাত্র উদ্দেশ্য নিয়ে – খরিদ্দারদের যতটা সম্ভব অর্থের অপচয় করিয়ে দেওয়া। কিন্তু কে জানে, তার মা হয়ত মনের মত কিছু পেয়েও যেতে পারে! ইয়োশিকো মায়ের উপর নজর রাখার জন্য একটু দূর থেকে তাকে অনুসরণ করেছিল। ভালো ব্যাপার যেটা, ঘরটা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ছিল বলে গরমের কষ্ট ছিল না।
প্রথমে তার মা পঁচিশ সেন দিয়ে তিন প্যাকেট স্টেশনারি কিনলো, তারপর মুখ ফিরিয়ে ইয়োশিকোর দিকে তাকালো। নিজেদের মধ্যে একটু হেসে নিল তারা। ইদানীং তার মা ইয়োশিকোর স্টেশনারিতে ভাগ বসাচ্ছিল, সেটা ওর মোটেও পছন্দের নয়। এবার দুজনেই নিশ্চিন্ত, পরস্পরের দিকে তাকিয়ে এরকমই কিছু চোখাচুখি করে নিল মনে হয়।
ইচ্ছে ছিল রান্নার বাসন আর অন্তর্বাসের কাউন্টারগুলো একবার ঘুরে যায়, কিন্তু ঐগুলো ঘিরে থাকা ভিড় ঠেলে এগোনোর সাহস তার মায়ের ছিলনা। সে কখনো পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে মাথা উঁচু করে লোকেদের ঘাড়ের উপর দিয়ে দেখার চেষ্টা করল, কখনো আবার ঠেলেঠুলে এগিয়ে এর-ওর গায়ের জামাকাপড়ের মাঝে আটকে গেল। শেষ পর্যন্ত কিছুই আর কিনে উঠতে পারলনা, বরং বেরিয়ে যাওয়ার দরজার দিকে এগিয়ে গেল, মন্থর দ্বিধাগ্রস্ত পায়ে, যেন এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয় যে একেবারে হাল ছেড়ে দেওয়াটা ঠিক হল কিনা।
‘আরে, এগুলো কি মাত্রই পঁচানব্বই সেনে দিয়ে দিচ্ছে? কি কাণ্ড …’ তার মা বেরিয়ে যাওয়ার দরজার পাশে রাখা ছাতাগুলোর থেকে একটাকে তুলে নিল। স্তূপ থেকে হাতড়ে বের করা প্রতিটি ছাতার গায়েই পঁচানব্বই সেন দামের ট্যাগ দেখে অবাক হয়ে গিয়ে সে যেন হঠাৎ মনের জোর ফিরে পেয়ে বলল, 'এগুলো ত খুবই সস্তায় ছেড়ে দিচ্ছে, তাই নারে, ইয়োশিকো? একেবারে জলের দরে, কি বলিস তুই?' যেন এই দোকানটা ছেড়ে যেতে তার প্রবল অনিচ্ছা অবশেষে একটি উপায় খুঁজে পেয়েছে। ‘হ্যাঁরে, কী মনে হয় তোর? বেশ সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে, তাই না?’
'ঠিকই ত, অবশ্যই সস্তা।’ ইয়োশিকোও একটা ছাতা তুলে নিল। তার মা সেটা নিয়ে নিজের ছাতার পাশাপাশি খুলে ধরল।
‘এই দামে শুধু ছাতার কাঠিগুলো পাওয়া গেলে সেটাও সস্তা পড়বে,’ মা বলল, ‘তার সাথে কাপড়ের হিসাব ধরলে – মানছি যে এগুলো রেয়নের, কিন্তু বানিয়েছে খুব ভাল, কি বলিস তুই?’
এত সস্তায় এরকম ভাল জিনিস বেচছে কি করে এরা? বিদ্দুচ্চমকের মত যেই এই চিন্তাটা ইয়োশিকোর মাথায় খেলে গেল, বাজে জিনিষ কিনে ঠকে যাওয়ার অনুভূতিতে তার মনের ভিতরে একটা অদ্ভুত বিরক্তি জেগে উঠল। তার মা ছাতার স্তূপ থেকে তন্ন তন্ন করে খুঁজে একটার পর একটা ছাতা খুলে খুলে দেখতে লাগল, নিজের বয়সের সাথে মানানসই কিছু পাওয়া যায় কিনা। ইয়োশিকো বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে বলল, 'মা, তোমার কি বাড়িতে রোজকার ব্যবহারের একটা ছাতাও আর নেই?'
‘হ্যাঁ, আছে একটা, তবে সেটা ...’ ইয়োশিকোর দিকে তাকাল সে, ‘দশ বছরের হয়ে গেল, না, তারও বেশি। পনেরো বছর ধরে ব্যবহার করছি। ছিঁড়ে-ফেটে গেছে আর একেবারে পুরনো ফ্যাশানের। আচ্ছা ভেবে দেখ, এটা যদি আমি কাউকে উপহার দিই, সে যেই হোক না কেন, খুশি হবে কি না!’
‘ঠিক। তুমি যদি এটা উপহার হিসাবে কিনতে চাও তা হলে ঠিকই আছে। এটা পেলে যে কেউ খুশি হবে, আমি নিশ্চিত।’
ইয়োশিকো হাসল; সে ভাবছিল যে তার মা কি সত্যিই অন্য কারও কথা মাথায় রেখে ছাতা বাছাবাছি করছে! নিশ্চয়ই তাদের ঘনিষ্ঠ কেউ হতে পারেনা। যদি তাই হতো তাহলে তার মা ‘যেই হোক না কেন’ বলত না।
‘এটা কেমন, ইয়োশিকো?’
‘হুম, ভাবছি।'
ইয়োশিকো খুব বেশি উৎসাহ দেখাতে পারেনি, কিন্তু সে খোঁজাখুঁজিতে হাত লাগাতে কাছে এগিয়ে গেল, যদিই তার মায়ের জন্য পছন্দসই একটি ছাতা পাওয়া যায়, সেই আশায়।
অন্যান্য ক্রেতারা, গরমের দিনের হাল্কা-পাতলা রেয়নের পোশাক পরা লোকজন সব, কত সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে তাই নিয়ে বলাবলি করতে করতে টপাটাপ একেকটা ছাতা তুলে নিয়ে চলে যাচ্ছিল।
ইয়োশিকোর দুঃখ হল - একটু রাগও হল নিজের উপর – মাকে সাহায্য করতে দ্বিধা করায়, বেচারি উদ্বেগে, উৎকন্ঠায় কিরকম লাল হয়ে উঠেছে।
ইয়োশিকো তার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘কিনে ফেলছ না কেন, যে কোন একটা, ঝটপট?’
‘বাদ দে, ইয়োশিকো, থাক।’
‘কেন, কী হল?’
তার মা একটা করুণ হাসি দিল, এমন ভাবে ইয়োশিকোর কাঁধে হাত রাখল যেন সেখান থেকে কিছু ঝেড়ে ফেলছে, তারপর কাউন্টার থেকে সরে গেল। এবার ইয়োশিকোরই আরও জোর করার কথা, কিন্তু বড় জোর পাঁচ-ছ’ পা পরেই তার মনে হল, বাঁচা গেছে।
কাঁধের উপর মায়ের হাতটি ধরে একটু জোরে চাপ দিল সে, নেড়ে দিল আচ্ছা করে, তারপর দুজনে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দ্রুত বাইরে যাওয়ার দরজার দিকে এগিয়ে গেল।
ঘটনাটি ঘটেছিল সাত বছর আগে, ১৯৩৯ সালে।
৩
পোড়া ধাতুর পাতে বানানো এই খুপরির ছাদে যখন তুমুল বৃষ্টি আছড়ে পড়ছে, ইয়োশিকোর মনে হল, কি ভাল হত যদি তারা সেই দিন একটা ছাতা কিনে রাখত আর এখন সে মাকে মজা করে বলতে পারত যে আজ এই ছাতার দাম একশ বা দু’শ ইয়েন হবে, কিন্তু তার মা টোকিওর কান্দা এলাকায় তাদের পাড়ায় বোমা হামলায় মারা গিয়েছিল।
ছাতা কিনলেও খুব সম্ভবত সেটা ঐ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যেত।
ঘটনাক্রমে, কাঁচের পেপারওয়েটটি বেঁচে গিয়েছিল। ইয়োকোহামায় যখন তার শ্বশুরবাড়ির ঘরদোর পুড়ে গিয়েছিল, তখন কিছু জিনিষ সে পাগলের মতো একটি জরুরি ব্যাগে ভরে নিয়েছিল, পেপারওয়েটটি সেই জিনিসগুলির মধ্যে ছিল এবং এখন এটিই তার ছোটবেলার বাড়িতে কাটানো দিনগুলোর একমাত্র স্মৃতিচিহ্ন।
সন্ধ্যা থেকে এই গলিতে এ পাড়ার মেয়েদের অদ্ভুত আর্তনাদের আওয়াজ ভেসে আসে। গুজব শোনা যায় যে তারা একেকজন এক রাতেই এক হাজার ইয়েন আয় করতে পারে। আজকাল ইয়োশিকো কখনও কখনও নিজেকে দেখতে পায় চল্লিশ সেনের পেপারওয়েটটি হাতে নিয়ে বসে আছে, অনেকদিন আগে যখন তার নিজের বয়স আশেপাশের এইসব মেয়েদের মত ছিল, দশ-দশটি দিনের অনেক দ্বিধা-দ্বন্দ কাটিয়ে উঠে সে এটি কিনে ফেলেছিল, এবং পেপারওয়েটে খোদাই করা মিষ্টি ছোট্ট কুকুরটিকে একমনে খুঁটিয়ে দেখতে দেখতে সহসা অবাক হয়ে খেয়াল করে যে পুড়ে যাওয়া গোটা পাড়াটায় আর একটিও কুকুর অবশিষ্ট নেই।
(জাপানি থেকে লেন ডানলপের অনুবাদ The Silver Fifty-Sen Pieces থেকে বাংলা ভাষান্তর)


0 মন্তব্যসমূহ