জয়া চৌধুরীর সঙ্গে কথোপকথন
গল্পপাঠ: বাংলাভাষায় অনুবাদ সাহিত্যের প্রতি পাঠকের একধরনের অনীহা কাজ করে। এর পেছনে কী কী কারণ আছে বলে মনে করেন?
জয়া চৌধুরী: এ বর্তমান সত্য হলেও হতে পারে চিরকালীন সত্য নয়। আমি আশির দশকে বেড়ে উঠেছি। আমরা অনুবাদ সাহিত্য গোগ্রাসে গিলতে গিলতেই বড় হয়েছি। পড়তে ভালো না লাগলে কী আমি না আমার প্রজন্মের মানুষেরা এত অনুবাদ সাহিত্য পড়ত? আসল কথাটা মনে হয় লক্ষ্য ভাষায় দক্ষতা ও সাহিত্য প্রতিভা এই দুটোই তখনকার অনুবাদকদের অনেক বেশি ছিল। এখনকার অনুবাদকদের অধিকাংশেরই সেখানে খামতি রয়েছে। এটাই কারণ অনুবাদ সাহিত্য পড়তে চাইবার অনীহা। তবু তার মধ্যেও কিছু ভালো অনুবাদ তো হচ্ছেই।
গল্পপাঠ: মৌলিক সাহিত্য হিসেবে অনুবাদকে অস্বীকারের পেছনে মূল কারণ কি?
জয়া চৌধুরী: দুটো কারণ থাকতে পারে। প্রথমত লেখকের ভয় থাকে যে তিনি যা বলতে চাইছেন পাঠকের কাছে তা যথাযথ রূপে পৌঁছবে না যদি অনুবাদ সঠিক না হয়। দ্বিতীয়ত অনুবাদকের সৃষ্টি লেখককেও ছাপিয়ে যেতে পারে সেই অনিরাপত্তা বোধও আসতে পারে।
গল্পপাঠ: অনুবাদ পরিশ্রমসাধ্য একটি কাজ। ভালো অনুবাদক হয়ে ওঠার প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত?
জয়া চৌধুরী: আমার মনে হয় অনুবাদককে প্রচুর পড়তে হবে। অর্থাৎ সমাজ সংসার ইতিহাস রাজনীতি সবকিছু নিয়েই আগ্রহ ও জ্ঞান থাকা দরকার। যে ভাষা থেকে অনুবাদ করা হচ্ছে সেই উৎস ভাষিক দেশের এইসব বিষয় তো জানতেই হবে, একই সঙ্গে লক্ষ্য ভাষার পাঠকদের মানসিকতা সম্বন্ধেও ওয়াকিফহাল থাকতে হবে।
এছাড়াও ভাষা দক্ষতা জরুরী। তুলমূল্য বিচারে উৎসের থেকেও লক্ষ্য ভাষায় দক্ষতা ও প্রতিভা সামান্য হলেও বেশি প্রয়োজন। কেননা শেষ অবধি পাঠকই লক্ষ্য।
অনুবাদ প্রচন্ড পরিশ্রম দাবী করে। স্বাভাবিক! কোনো স্থায়ী কাজই কী কম পরিশ্রমে হয়? অনুবাদে মূল লেখা পড়ার পরে সেটিকে কিভাবে লক্ষ্য ভাষায় পাল্টে প্রকাশ করা যাবে সেটি হয়ে যায় নতুন চ্যালেঞ্জ। অনুবাদের পরে আবার সেটা এডিট করতে হয়। যতবার পরিমার্জন করা যাবে ততই সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষতম খামতিও চোখে পড়ার সম্ভাবনা। অতএব শেষতম লেখাটিতে পৌঁছতে মৌলিকের থেকে ঢের বেশি পরিশ্রম করতে হয়।
গল্পপাঠ: একজন অনুবাদক উৎস ভাষা (Source Language) এবং উদ্দিষ্ট ভাষায় (Target Language) দক্ষ হলেই তিনি ভালো অনুবাদক হবেন, এমন কোনো ফরমূলা কি অনুবাদ সাহিত্যের ক্ষেত্রে খাটে?
জয়া চৌধুরী: বিষয়টা জরুরী তো বটেই। কিন্তু অনুবাদকের সাহিত্য প্রতিভা না থাকলে ভাষা দক্ষতা মোটেই ভালো অনুবাদের গ্যারান্টি নয়।
গল্পপাঠ: মৌলিক সাহিত্যচিন্তার ক্ষেত্রে অনুবাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম, এই বিষয়ে আপনার মতামত জানতে চাই।
জয়া চৌধুরী: অনুবাদ করতে গেলে অজানা জগতকে জানতে হয়। মৌলিক সাহিত্যের দিগন্ত বিস্তার করতে গেলে অনুবাদ পড়া বা অনুবাদ করার অভ্যাস অবশ্যই সাহায্য করে। কেননা অনুবাদ করতে গেলে লেখকের মস্তিস্কে ঢুকে পড়তে হয়। এতে চিন্তার অনুপুঙ্খতা ও প্রসারতা বৃদ্ধি পায়।
গল্পপাঠ: বিদেশি সাহিত্য বাংলা ভাষায় যতটা অনূদিত হচ্ছে, বাংলাসাহিত্য ইংরেজিতে সেমাত্রায় অনূদিত হচ্ছে না। এক্ষেত্রে দক্ষ অনুবাদকের অভাব ছাড়া আর কী কী কারণ আছে বলে মনে হয়?
জয়া চৌধুরী: ধুর। দক্ষতা কম কে বলেছে? টাকা, কম টাকা। দেখুন ব্যবসায়িক অনুবাদ অর্থপ্রদানকারী। কিন্তু সাহিত্যের অনুবাদে টাকা ভারতে অন্তত একদম পাওয়া যায় না। কেন্দ্রীয় এজেন্সিও সাহিত্যের অনুবাদে শব্দ পিছু এত কম টাকা ধার্য করে রেখেছে যে সেটিকে এক অর্থে ইন্টেলেকচুয়াল শোষণও বলতে পারি। সত্যি কথাটা হল সাহিত্যের অনুবাদকে বিন্দুমাত্র আর্থিক সমর্থন করা হয় না। সাহিত্যের অনুবাদকদের প্রাপ্য ভারী ভারী বিশেষণ মাখানো বাক্য আর পিঠ চাপড়ানি। আর ভাগ্য খুব প্রসন্ন হলে সরকারী পুরস্কার। ব্যস। সুতরাং নিয়মিত সিরিয়াসলি অনুবাদ করবেন কেন বলুন তো? বিনিময়ে তারা কী পাবেন? বেগার খাটনি কি অনন্তকাল করা যায়? সাহিত্যের অনুবাদকে গুরুত্ব দেয়া হলে, যথাযোগ্য পারিশ্রমিক দেয়া হলেই বাংলা থেকে ইংরিজিতে ভালো মানের অনুবাদ হবে। বাঙালিদের মধ্যে প্রতিভার অভাব তো মোটেই নেই।
গল্পপাঠ: সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর পঞ্চতন্ত্র বইয়ের অনুবাদ সাহিত্য পর্বের একটা জায়গায় বলেছিলেন, ‘ইংরেজি সাহিত্য বহু ভাষা থেকে বহু বস্তু অনুবাদ করে কীভাবে পরিপুষ্ট হয়েছে, নব নব অনুপ্রেরণা পেয়েছে, নব নব অভিযানে বেরিয়েছে সেই আদিযুগের শুভক্ষণ থেকে।’ যদি বলি, একই প্রক্রিয়ায় বাংলা সাহিত্যেরও উত্তরণের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে– এমন ভাবনার সাথে আপনি কতটা সহমত পোষণ করবেন?
জয়া চৌধুরী: ঋষিবাক্য তো বিফল হবার নয়। বাংলা ভাষার যে সম্পদ আমরা নিজেদের কাছেই রেখে দিয়েছি তা থেকে পৃথিবীর সাহিত্য বঞ্চিতই হচ্ছে অনুবাদ না করার জন্য। আমাদের সমাজ এত জটিল, আমাদের সংস্কৃতি এত বৈচিত্র্যময় , সাহিত্যও তার বাইরে নয়। আর সেই সাহিত্য যদি ইংরিজি সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ভাষায় অনুবাদ করা হয় তাহলে আদতে বিশ্বসাহিত্যই ধনী হবে। আচ্ছা ভেবে দেখুন তো মনীন্দ্র গুপ্তকে পড়ছেন স্প্যানিশ বা ইংরিজি ভাষায়। কেমন অন্যরকম অভিজ্ঞতা হতে পারে! বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমার আনপ্যারালাল লাগে। বিশ্বসাহিত্য এই স্বাদ পেলে কী অন্য ছাঁচে ভাববে না?
গল্পপাঠ: অনুবাদ কর্মের ইতিহাস থেকে জানা যায়, ফার্সী ভাষায় অনূদিত উপনিষদ পরবর্তীতে ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়েছিল যা ইউরোপীয় মননশীলতায় গভীর প্রভাব রেখেছিল। প্রায় শুনতে হয় অনুবাদ সাহিত্য ঠিক সাহিত্য নয়, বা এর তেমন পাঠক নেই ইত্যাদি। প্রশ্ন হচ্ছে, অনূদিত বিদেশি সাহিত্য সার্বিকভাবে বাঙালি লেখক/পাঠকের মননশীল জগতে টোকা দিতে কেন ব্যর্থ হচ্ছে? এর জন্য শুধুমাত্র মানসম্মত অনুবাদ না হওয়াটাই কি দায়ী? এমন অভিযোগকে কতটা যৌক্তিক ভাবেন?
জয়া চৌধুরী: উপনিষদ বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দর্শনসাহিত্য একথা মুক্তকন্ঠে বলাই যায়। তাই লাতিন বা ইউরোপীয় মননশীলতায় এর প্রভাব পড়তই। কিন্তু ভালো করে ভেবে দেখলে এখনকার এই সময়টার কথা আমাদের ভাবতে হবে। টেকনোলজির অগ্রগতি এত প্রচন্ড বেগে হচ্ছে যে মানুষ সেই দৌড়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে পিছিয়ে পড়ছে। দর্শন নিয়ে ভাবার ইচ্ছাই এখন পাঠকদের মনে থাকছে না এই গতির কারণেই। মানুষের আয়ু বাড়ছে বিজ্ঞানের অগ্রগতিতেই। অথচ মানুষ কল্পনাশক্তি অত্যন্ত স্থির প্রায় স্থবিরই হয়ে পড়ছে এই সময়। তাই নতুন কোনো দর্শনই তাদের আকৃষ্ট করতে পারছে না যা এই দ্রুতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছে না। আপনি তখনই কাউকে কিছু দিতে পারবেন যখন সে সেটি নিতে আগ্রহী হয়। পাঠকের আগ্রহই তো শেষ হয়ে যাচ্ছে এউ দ্রুততায়। অতএব অনুবাদের মান নয় পাঠকের অপরিপক্কতা ও ধৈর্যহীনতা দায়ী কেননা লেখক তো প্রথমত একজন পাঠক ।
গল্পপাঠ: মানসম্মত অনুবাদ করতে হলে কোন কোন বিষয়ের ওপর একজন অনুবাদকের গুরুত্ব দেওয়া দরকার বলে মনে করেন?
জয়া চৌধুরী: আগে এর উত্তর দিয়েছি।
গল্পপাঠ: উৎকৃষ্ট অনুবাদের ক্ষেত্রে উৎস টেক্সটের নিবিড়পাঠ, সময়, মনোযোগ ইত্যাদির পাশাপাশি
মূলের প্রতি অনুবাদকের সৎ থাকার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ– এ বিষয়ে কি আপনি একমত?
জয়া চৌধুরী: আমি তাই মনে করি। অনুবাদ আসলে মূল লেখকের ভাবকে পৌঁছে দেয়া। সেই ভাবকে নিজের ভাবনার ছাঁচে সম্পূর্ণ ঢালাই করে প্রকাশ করা নয়। সততা তাই জরুরী।
গল্পপাঠ: বিদেশি এবং বাংলা ভাষাসংস্কৃতির মধ্যে স্পষ্টতই ভিন্নতা রয়েছে। একজন অনুবাদক এই ভিন্নতা সম্পর্কে সচেতন থেকে ভাষার গ্রহণ ক্ষমতাকে বিস্তৃত করতে সক্ষম হন– এ ব্যাপারে আপনার মতামত জানতে চাই।
জয়া চৌধুরী: এই কাজটি কিছুটা জটিল। ভাষার গ্রহণক্ষমতা কতদূর বিস্তৃত করা যায় সেটি অনুবাদক শুধু নয় পাঠকের উপরেও নির্ভর করে। সংস্কৃতির মধ্যে ধর্মের অভ্যাসকেও যদি গ্রহণ করে বিচার করি তাহলে দেখেছি কাজটা বেশ কঠিন। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলছি। একবার বলিভিয়ার এক লেখক রোসারিও বারাওনা মিচেলের উপন্যাস অনুবাদ করতে গিয়ে দেখেছি লেখক প্রত্যেক অনুচ্ছেদে কোনো না কোনো ধর্মীয় আচার বা রূপক ব্যবহার করেছেন। এদিকে বাঙালি সংস্কৃতিতে
মূলত হিন্দু মুসলিম আচারের ছাপ সাহিত্যে দেখা যায়। খৃষ্টানদের খুব প্রাথমিক আচার আচরণ যেমন প্রথম কম্যুনিয়ন বা ধর্ম মা ধর্ম বাবা হবার যে অনুষ্ঠানগুলো থাকে সেসবের ব্যবহার প্রতুল। ওদিকে উপন্যাসটিতে বাইবেলের অনুষঙ্গ বিশেষ করে নিউ টেস্টামেন্টের কথা আর অন্যান্য ধর্মীয় অনুষঙ্গ বারবার ব্যভার করেছেন লেখক যা অনুবাদক হিসাবে আমার অজানা। কিভাবে অনুবাদ করলে পাঠকের কাছে অজানা বলে বিরস লাগবে না এই চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছিল। তাতে কখনও টীকা দিয়ে বা কখনও শব্দটিকে ব্যাখ্যা সহ এমন ভাবে লিখতে হয়েছিল যাতে লেখার ছন্দ নষ্ট না হয় আবার পাঠক অনায়াসে বুঝতে পারে বিষয়টি। এই কাজ খুব কঠিন। তবে নিষ্ঠ অনুবাদ করতে চাইলে এরকম ভাবেই করা উচিৎ।
গল্পপাঠ: অনুবাদের ক্ষেত্রে মূল লেখায় লেখক তাঁর যে কৃষ্টি-সংস্কৃতি বা আচার-আচরণের প্রকাশ ঘটিয়ে থাকেন, অনুবাদক সেখান থেকে সরে গিয়ে নিজের মতো সেটা প্রকাশ করতে পরেন কি? (উদাহরণ: একজন হিন্দু লেখক, যিনি তাঁর গল্পে সৌজন্যমূলক সম্বোধনে নমস্কার ব্যবহার করেছেন, একজন মুসলিম অনুবাদক সম্বোধনটিকে সালামে রূপান্তর ঘটাতে পারেন কি? ভাইসভার্সা)
জয়া চৌধুরী: এখানে আমি বলব না। কারণ সম্বোধনে স্পষ্ট বোঝা যায় ধর্ম। লেখার বিষয় বস্তু বা সমাজ পটভূমি বোঝানোর জন্য সম্বোধন যেভাবে লেখক লিখেছেন সেটাই রাখা উচিৎ। একবার আমার এক সহপাঠী লোরকার La Gutarra কবিতাটি অনুবাদ করেন। আমিও পাশাপাশি করি। তিনি অনুবাদে গিটারের পরিবর্তে বাঁশি ব্যবহার করেছিলেন। অনুবাদটি একটি কবিতা হিসাবে চমৎকার। কিন্তু বাঁশি ব্যবহার করাতে মূল ভাব হিসাবে যে যূথবদ্ধ বিদ্রোহী জনতার কথা বলছেন কবি, সেটি সঠিক প্রকাশ হল না। কেননা গিটার বাজাতে প্রয়োজন মানুষের পাঁচটি আঙুল। এই মেটাফোর ব্যবহারের সুযোগই থাকল না যখন অনুবাদক যন্ত্রটাই বদলে দিলেন। এ কারণেই লেখকের মূল অনুসরণ করাই উচিৎ। শক্তি চট্টোপাধ্যায় যখন নেরুদার কবিতা অনুবাদ করেন তখন সেগুলি চমৎকার শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা হয়ে যায়। নেরুদার স্বকীয়তা রাখতে গেলে মূল থেকে এত সরে গেলে চলে না।
গল্পপাঠ: উৎসভাষার টেক্সটের সময়কাল অনুবাদের উদ্দিষ্ট ভাষার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
জয়া চৌধুরী: খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি যখন লাসারিও দে তোরমেস করছি তখন ষোড়শ শতকের স্পেনের পরিবেশ মাথায় রাখতে হচ্ছে। সমাজ অনেক বদলে গেছে। ভাষাও তাই। আবার একেবারে এখনকার ভাষা ব্যবহার করলে তখন পটভূমিকেই মনে হবে মেকী। তাই অনুবাদ করবার সময় রচনাকাল খেয়াল রাখতেই হবে। সেক্ষেত্রে আমি যা করবার চেষ্টা করি সেটা হল একটা বোঝাপড়া। অর্থাৎ ভাষায় চর্যাপদের বাংলা ব্যবহার করছি না, আবার জেনারেশন- জি এর ব্যবহৃত বহু ভাষা মিশ্র এক আধুনিক বাংলাও নয়। বরং দুটোর মাঝামাঝি একটা রফা করি। যাতে পুরানোর স্বাদ থাকে আবার মতুনের অনাগ্রহ না জন্মায় পড়তে।
গল্পপাঠ: অনুবাদ সাহিত্যের সার্বিক সমস্যা ও সম্ভাবনা বিষয়ে সংক্ষেপে আপনার বক্তব্য বলুন।
জয়া চৌধুরী: সমস্যা হল- ১) চটজলদি সাফল্য অর্জন করবার তাড়া। ধৈর্য ধরতেই হবে।
২) পড়াশুনোর ব্যপ্তি যথেষ্ট থাকে না। সেটা বাড়াতে হবে। আমরা যখন – আমি ভাত খাই- বাক্যটি বলি। তার প্রেক্ষিতে জড়িয়ে থাকে ধান চাষ, কৃষক, রাঁধুনি, ভোক্তা- এই এতগুলি ক্ষেত্র। এই সবকটির সার ওই একটি বাক্যে প্রকাশ পায়। তাই অনুবাদকের জানার ব্যপ্তি আকাশের মত বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন। তাই নিরন্তর অধ্যয়ন, যাকে বলে আপ ডেটেড থাকা।
৩) মূল ভাষা চর্চায় অনাগ্রহ ও ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রান্সলেটর অ্যাপ নির্ভরতা। এটা একেবারে এ আই ময় সভ্যতার সংকট। যা অনুবাদ করতে চাই দুম করে মেশিনে ফেললাম সেও এক সেকেন্ডে অনুবাদ করে দিয়ে দিল। সেখানে ব্যক্তি মানুষ অনুবাদকের যে চিন্তার সৃষ্টিশীলতা সেটি বাধা পায়। সেক্ষেত্রে একই টেক্সট পাঁচজন অনুবাদক করলেও পড়বার স্বাদ একই থেকে যায়। সেখানেই অনুবাদের অতুল সম্ভাবনা মার খায়। তাই মূল ভাষা জানতেই হবে। ১০০ ভাগ নিখুঁত না জানলেও জানতে হবে অনেক্ খানি।
৪) বাঙালি অনুবাদকরা দেখি বাংলা বা ইংরিজি জানেন বলেই অনুবাদে হাত দেন। কিন্তু অনুবাদকদের দরকার ভাসাগুলিতে বিশেষ দক্ষতা। মাতৃভাষা হলেই মানুষ সে ভাষায় পন্ডিত হয় না। তাই কারো মাতৃভাষা বাংলা বা ইংলিশ আর তাই সে সে ভাষায় অনুবাদ অনায়াসেই করতে পারবে সে ভাবনা সম্পূর্ণ ভুল। অনুবাদ একটি সৃজন কলা। সেখানে প্রতিভা থাকা জরুরী।
গল্পপাঠ: অনুবাদ সাহিত্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?
জয়া চৌধুরী: ভালই। কারণ এখন পৃথিবীটা গ্লোবাল ভিলেজ হওয়াতে অচেনা মানুষের কাছাকাছি খুব সহজেই আসে মানুষ। সেক্ষেত্রে অনুবাদ সাহিত্য জারী থাকলে জ্ঞান ও রস বিনিময় করা সহজ হবে। আগামীর পৃথিবী সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে গেলে অনুবাদ সাহিত্য খুব প্রয়োজন।
[উত্তরদাতার বানানরীতি অক্ষুন্ন রাখা হয়েছে]


0 মন্তব্যসমূহ