উৎপল দাশগুপ্তের গল্প: দেওয়ালঘড়ি ওয়ার্ল্ড কাপ ও আমরা








ব্যাপারটা আমরা প্রথম লক্ষ করলাম দেওয়াল ঘড়িতে।

চাকুরিজীবী বাঙালি বাড়িতে যেমন হয়ে থাকে। অফিস যেতে লেট, স্কুলে লেট এসব ভয় আমাদের ছোটবেলা থেকেই তাড়া করে বেড়ায়। তাই বাবা কাকা দাদাদের অভ্যেস হল দেওয়াল ঘড়িটাকে দশ পনেরো মিনিট ফাস্ট করে রাখা।

আমাদের দেওয়াল ঘড়িটাও সেই যুক্তিতে দশ মিনিট ফাস্ট করে রাখা হত। বাবা পাঁচ মিনিট ফাস্ট করে রাখতেন। একটু বড় হয়ে দাদা বাবার থেকে এক কাঠি ওপরে উঠে পাঁচের জায়গায় ওটা দশ মিনিট ফাস্ট করে দিল।

বাবা প্রথমটা ধরতে পারেন নি। পাঁচ মিনিট ফাস্টের হিসেবে বেরিয়ে বাস স্ট্যান্ডে পৌঁছে মনে হত যেন আবহমানকাল ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সন্ধেবেলা বাড়ি ফিরে বাসওলাদের সময়জ্ঞান নিয়ে নিন্দেমন্দ করতেন। "আমাগো দ্যাশে পাংচুয়ালিটি লইয়া কাউরই মাথাব্যথা নাই!" তারপর একদিন টিভির সঙ্গে সময় মেলাতে গিয়ে গরমিলটা নজরে এল।

সঙ্গে সঙ্গে দাদাকে তলব। "তয় এডারে দশ মিনিট ফাস্ট কইরা দিছস?"

"বিকেলে ফুটবল খেলতে যেতে রোজ দেরি হয়ে যায়।" দাদার কৈফিয়ৎ ।

আমি এখনো তত বড় হইনি। যখন হব তখন এটা আরও পাঁচ মিনিট ফাস্ট করে দেব। মনে মনে ঠিক করে রাখলাম।

সেটার দরকার পড়ল না। একদিন বিকেলে টিভি খুলেছি। একটা ফুটবল ম্যাচ দেখব বলে। খেলা শুরুর আগে বাংলা খবর হবে। টিভির ঘড়িতে সময় দেখাচ্ছে। ৫:৫৮ঃ - ৫:৫৯ - ৬:০০। তারপর খবর শুরু হবার মিউজিক । অজান্তেই চোখটা দেওয়াল ঘড়ির দিকে চলে গেল। পাঁচ মিনিট নয় - দশ মিনিট নয় - পনেরো মিনিট নয়! একেবারে নিখুঁত ভারতীয় সময় - এক মিনিট আগে পিছে নয়। খবর শেষ হয়ে ম্যাচ শুরু হয়ে গেল। আমিও ব্যাপারটা বেমালুম ভুলে মেরে দিলাম।

খেয়াল হল পরদিন সন্ধেবেলা। "আজ অফিস পৌঁছাইতে পাক্কা বিশ মিনিট ল্যাট কইরা ফ্যালাইলাম। হালার বাসডা আগেভাগে চইলা গেছে। নেক্সট বাস আইল পনরো মিনিট পর!"

আমি তো বুঝে গেছি ব্যাপারটা। চেপে যাওয়াটাই মঙ্গল মনে হল। যেই করুক, আমি তো আর করিনি!

বাবা টিভি খুলে ঘড়ির সময়টা মিলিয়েই ছাড়ল।

"খুকন!" দাদাকে তলব।

কাছেই ছিল। বলল, " কি বলবে?"

"তয় কি মজা পাইছস? ঘড়িটারে লইয়া খালি আকাম করত্যাছস!"

"আমি কিছু করিনি।"

"তাইলে কি ভূতে করছে হারামজাদা!"

এবার মাকে হস্তক্ষেপ করতে হল। "ছেলেদের সামনে মুখটা খারাপ নাই বা করলে।" মা আবার এদেশীয়। "দ্যাখো, ব্যাটারি পাল্টাতে হবে হয়ত।"

তখুনি নতুন ব্যাটারি এনে লাগানো হল। আবার ঘড়িটা পাঁচ মিনিট ফাস্ট রেখে যথাস্থানে ঝুলিয়ে দেওয়া হল। দশ মিনিট ফাস্ট করার জন্য দাদার কাকুতিমিনতি বাবা গ্রাহ্য করলেন না। কুড়ি মিনিট দেরিতে অফিসে পৌঁছানোর রাগ এভাবেই দাদার ওপর দিয়ে পুষিয়ে নিলেন।

পরদিন সন্ধেবেলায় আবার রাগারাগি। দেওয়াল ঘড়িটা নাকি আবার 'স্লো' হয়ে গেছে! মানে সঠিক সময়ে চলছে। আজ নাকি আবার অফিস পৌঁছাতে 'আধা ঘন্টা ল্যাট হইছে'। 'বড়বাবু হাতে চোথা ধরায়ে দিছে'।

মা বললেন, "ঘড়িটার মেশিন খারাপ হয়েছে। ডাক্তার দেখাও।" পরের দিন ঘড়ির ওপর আর ভরসা না করে বাবা সাত তাড়াতাড়ি অফিসে বেরিয়ে গেলেন। যাবার সময় ঘড়িটাও বগলদাবা করে নিয়ে গেলেন। সারাতে হবে।

ঝামেলা বাড়ল মায়ের। ঘড়িটা পেতে দিন সাতেক লাগবে। বাবা ব্যস্তবাগিশ মানুষ। ঘন ঘন রিস্টওয়াচ দেখার ধৈর্য নেই। ওটা অফিস থেকে এসেই খুলে ফেলেন। ফলে বাবার মনে হতে থাকে মা রান্নায় আজকাল অহেতুক দেরি করছেন। দুজনের কথা কাটা কাটি লেগে যায়।

সাত দিন বাদে সারাই হয়ে ঘড়ি ফেরত এল। এবার দাদার কথা মেনে দশ মিনিটই ফাস্ট করে টাঙানো হল। ও মা পরদিন আবার দশ মিনিট 'স্লো' হয়ে সঠিক সময়। ধস্তাধস্তি চলল কদিন ধরে। ফাস্ট করা হয়। আবার পরের দিন যে কার সেই। শেষে বাবা একদিন হাল ছেড়ে দিলেন। "হালায় ভূতে পাইছে।"

***

সাড়ে ন'টা থেকে দশটার মধ্যে আমাদের রাতের খাওয়া হয়ে যেত। ডিনার টেবিল গোছানোর দায়িত্ব ছিল বাবার। সবজি, মাছ মাইক্রোওয়েভে গরম করা, টেবিল ম্যাট পেতে সেগুলো এনে গুছিয়ে রাখা, জলের গ্লাস, প্লেট, সার্ভিং স্পুন (হাতা) টেবিলে এনে রাখা, গ্লাসে জল ভরা ইত্যাদি ইত্যাদি। দায়িত্বটা বাবা স্বেচ্ছায় নিয়েছিলেন। সন্ধে থেকে মায়ের একটু টিভিতে বাংলা সিরিয়াল দেখার ঝোঁক ছিল। বাবা চাইতেন মায়ের ওই শখে যেন কোনো বিঘ্ন না হয়।

মাঝে মাঝে অবশ্য বাবা দু'একটা জিনিস আনতে ভুলে যেতেন - এই যেমন কোনোদিন হাতাটা আনতে ভুলে গেলেন, কি চারটের বদলে তিনটে গেলাস বা প্লেট নিয়ে আসতেন। আবার কখনো হয়ত খেতে বসে মায়ের একটু ঘি কি আচার খাবার ইচ্ছে হত, যেটা আনা হয়নি। বাবা একটুও বিরক্ত না হয়ে উঠে গিয়ে সেটা নিয়ে আসতেন। বাবা আসলে মনে মনে মাকে খুবই ভালবাসতেন। আমাদের দু'ভাইকেও।

একদিন এরকম খেতে বসে মা বললেন, "আজ একটু আমের আচার হলে মন্দ হয় না।" বাবা বিনা বাক্য ব্যয়ে উঠে গেলেন আচার আনতে। বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর আচারটা না পেয়ে ফিরে এসে টেবিলের দিকে তাকিয়েই বলে উঠলেন, "অই ত, নিজেই আচার আইনা রাখছ, এই বুড়া মানুষডারে শুধুমুধু উঠাইলা ক্যান?" আমরাও অবাক হয়ে দেখলাম আচারের শিশি টেবিলের ওপরেই রাখা আছে। মায়ের ভুলই হয়ে থাকবে তাহলে। মায়ের চোখে অবশ্য অবিশ্বাস। ওটা নিয়ে বেশি মাথা না ঘামিয়ে আমরা খাওয়ায় মন দিলাম।

এরপর প্রায়ই এরকম ব্যাপার ঘটতে লাগল। মা কোনো কিছুর ইচ্ছে প্রকাশ করেন। বাবা আনতে যান। খুঁজে না পেয়ে ফিরে আসেন। তারপর সেটা টেবিলেই পাওয়া যায়। এটা আমাদের মধ্যে একটা হাসাহাসির ব্যাপার দাঁড়িয়ে গেল। মায়ের ধারণা বাবা আগেই অন্যমনস্ক ভাবে নিয়ে আসেন। বাবার ধারণা আমরা দু'ভাই দুষ্টুমি করে এসব করি। আমি আর দাদা একে অন্যকে দায়ী করি। ফয়সালা হয় না কখনোই ।

***

মা রোজ আমাদের জন্য বিকেলের জলখাবার বানিয়ে রাখতেন। বাবা অফিস থেকে ফিরলে সবাই একসাথে খেতাম। সাধারণত টিভি দেখতে দেখতে।

একদিন আমরা তিনজন টিভি দেখছি। মা জলখাবারের প্লেট হাতে ঢুকেই বাবাকে দেখে চোখ কপালে তুলে বললেন, "একি তুমি এখানে বসে আছ? তবে যে বললে শোবার ঘরে তোমারটা দিতে!"

বাবা আকাশ থেকে পড়লেন। "কখন কইলাম? অফিস থিক্যা আইসা আমি ত ভিতরে যাই নাই!"

মা ছাড়বার পাত্রী নন। বললেন, "কেন তুমি বললে না যে শরীরটা ম্যাজ ম্যাজ করছে। একটু বিশ্রাম নেবে। জলখাবারটা বেডরুমেই যেন দিই।"

বাবা মায়ের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলেন । আমি আর দাদা মুখ তাকাতাকি করতে লাগলাম। সত্যিই তো! বাবা তো অফিস থেকে ফিরেই টিভির সামনে বসে পড়লেন। ফুটবল ওয়ার্ল্ডকাপে আজ দুটো বড় টিমের খেলা আছে।

শেষে বাবা বললেন, "তুমার চক্ষু দুইখানরে ডাক্তার দ্যাখাইতে লাইগব। আইজকাল গিন্নি দিনদাহারে তুমি খ্বাব দেইখতে আছ!" "তোমার ভিমরতি ধরেছে। তুমি ডাক্তার দেখাও" বলে মা আমাদের প্লেট নামিয়ে রেখে আর কোনো কথা না বলে গটগট করে বেরিয়ে গেলেন। মনে হয় বেডরুম থেকে বাবার প্লেট আনতে।

***

"বুঝলি ভাই আমাদের বাড়িতে নিশ্চয়ই ভূত ঢুকেছে!" বাড়িতে ঘটে চলা ঘটনাগুলো নিয়ে দাদা অনেক ভেবেচিন্তে মতামত দিল।

পড়াশোনা, স্কুলে যাওয়া আর খেলাধূলার বাইরে সময় পেলেই আমাদের দু'জনেরই আড্ডা মারার হট টপিক হল ঘড়ি, ডাইনিং টেবিল আর মা বাবার সেদিনের ঝগড়া ।

"ধ্যাত, ভূত বলে আবার কিছু হয় নাকি?"আমি প্রতিবাদ করে বলি। "তুই ভূত দেখেছিস কখনো?" দাদা ভূতে ভয় পায় আমরা সবাই জানি। অন্ধকার জায়গায় যেতে হলে আমাকে ধরে টানাটানি করে।

"তা দেখিনি ঠিক," দাদা একটু ব্যাকফুটে। "কিন্তু ভূত হয়। আমার বিশ্বাস। শুধু শুধু ঘড়িটা স্লো হয়ে যাবে কেন বল?"

"কেন আবার? ঘড়িটা তো সেই জন্ম থেকে দেখছি। পুরোনো হয়ে গেছে। তাই সময় রাখতে পারছে না।"

দাদা চট করে জবাব দিতে পারল না। বলতেই পারত ফাস্ট করা ছেড়ে দেবার পর থেকে ঘড়িটা আর স্লো হয়নি। এটা আমার কাছেও রহস্য! তাহলে কি মা নিজেই এই কাজটা করতেন? ঘড়ি ফাস্ট করে রাখা নিয়ে মাঝে মাঝেই বাবাকে ঠাট্টা করতেন! যাই হোক আমি আর দাদাকে ব্যাপারটা ধরিয়ে দিলাম না।

"আর ডাইনিং টেবিলে জিনিসগুলো হাজির হয়ে যেত যে!"

"ভুল কি হয় না? হয়তো বাবাই এনে রেখেছিল। কি মা? তারপর অন্যমনস্ক ভাবে মুখ ফস্কে বেরিয়ে গেছে!"

"আর বাবার মাকে বেডরুমে জলখাবার দিতে বলাটা?"

"আরে এর মধ্যে তো কোনো রহস্যই নেই! মায়ের মনের ভুল। সেদিন বাবা একটু জ্বর জ্বর নিয়ে অফিসে গেছিল। তাই মা ভেবেই নিয়েছিল যে বাবা অফিস থেকে এসে বেডরুমে রেস্ট নেবে।"

এত বলেও দাদার মনের বদ্ধমূল ধারণাটা বদলাতে পারতাম না। ঘুরে ফিরে আবার একই প্রসঙ্গ তুলত।


***

যেদিন ওয়ার্ল্ড কাপ ফাইনাল সেদিন বাবা বললেন, "আইজ সুজিতেগো বাসায় আমাগো হক্কলেইর নিমন্ত্রণ । ফাইনাল ম্যাচডা অর লগেই দেখুম।"

যদিও ফাইনাল ম্যাচটা বেশ রাত্তিরে হবে আমরা সন্ধে হতে না হতেই সুজিতকাকুর বাড়ি গিয়ে হাজির। রিনাকাকিমা সবাইকে হাল্কা জলখাবার দিলেন। ঠিক হল সাড়ে আটটার মধ্যে ডিনার খেয়ে নেওয়া হবে। তারপর সবাই মিলে খেলা দেখা।

বাবা আর সুজিতকাকু বসার ঘরে নিজেদের মধ্যে গল্প করতে লাগলেন। মা আর রিনাকাকিমা ভেতরে চলে গেলেন। দাদা আর আমি বুলুর (সুজিতকাকুর ছেলে) সাথে ওর ঘরে গিয়ে খেলতে লাগলাম।

ঠিক সাড়ে আটটার সময় আমরা সবাই ডিনার করতে বসে গেলাম। ন'টার মধ্যে ডিনার সারা। বাবা আর সুজিতকাকু বসার ঘরে গিয়ে টিভি খুলে সিগারেট ধরিয়ে বসলেন। আমরা তিনজনও টিভির সামনে এসে বসে পড়লাম। মা আর রিনাকাকিমা ডাইনিং টেবিল সাফ করে এসে বসবেন।

খেলা শুরু হতে বেশ দেরি আছে। বাবা আর সুজিতকাকু দুই দলের হারা জেতার সম্ভাবনা নিয়ে তুমুল তর্ক জুড়ে দিলেন। আমরা হাঁ করে কথাগুলো গিলতে লাগলাম।

হঠাৎ বোমা ফাটার মত বিকট আওয়াজ হল। আলোগুলো একবার চমকে উঠে নিবে গেল। চারদিক অন্ধকার। মিনিট পাঁচেক অন্ধকারে কাটাবার পর রিনাকাকিমা আর মা দুটো মোমবাতি নিয়ে ঢুকলেন। কথাবার্তায় মিনিট দশেক কেটে গেল আরও। অন্ধকার। জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে দেখা গেল গোটা পাড়াটাই অন্ধকার।

"বোঝলা সুজিত, আইজ আর আশা নাই। তোমাগো পাড়ার ট্রান্সফরমারডা জ্বইলা গ্যাছে।"

সুজিতকাকু বিষণ্ণভাবে ঘাড় নাড়লেন।

"তাইলে ত এহানে বইয়া লাভ নাই। ম্যাচডা মাটি হইয়া যাইব। কই কি আমাগো বাসায় আস।"

অগত্যা কি আর করা। সবাই বুঝল ওটাই সুযুক্তি। সকলে মিলে বাড়ির দিকে হাঁটা লাগালাম। আমাদের বাড়ি অন্য পাড়ায়। ট্রান্সফরমারও আলাদা।

আট দশ মিনিট হাঁটার পর আমাদের বাড়িটা দেখা গেল। বসার ঘরে আলো জ্বলছে মনে হল।

"একি তুমি বেরোনোর সময় সুইচ অফ করনি? মা বাবাকে জিজ্ঞেস করলেন।

"করছিলাম ত!" বাবার জবাবে তেমন জোর নেই। ভুলোমনা হবার জন্য এই সব টুকটাক ভুল হয়েই থাকত।

বাড়ির সামনাসামনি এসে বাবা মা দুজনের মুখেই একটা চাপা বিস্ময়ের অভিব্যক্তি।

"আমি ত দরজা লক কইরা গেছিলাম! খুলল কেডা?"

দেখলাম বসবার ঘরের দরজা হাট করে খোলা। (আমরা বাড়িতে থাকলে প্রায়ই তাই থাকে।) ভেতর থেকে আওয়াজ আসছে। মনে হচ্ছে টিভি চালানো আছে। কথাবার্তাও শোনা যাচ্ছে।

বাবা হন হন করে ঢুকতে যাচ্ছিলেন। সুজিতকাকু আটকালেন।

"দাদা, ভেতরে কারা ঢুকেছে তা তো জানিনা। হঠাৎ একা ঢুকে পড়লে বিপদ হতে পারে। তার চেয়ে চলুন, সবাই মিলে পা টিপে টিপে ঢুকে পরস্থিতিটা আগে বুঝে নিই। তারপর যা হোক কিছু করা যাবে।"

কথাটা সবারই মনে লাগল। আমরা পা টিপে টিপে ঘরে ঢুকলাম। কোনও আক্রমণ হল না। দেখলাম টিভি চলছে। স্পোর্টস চ্যানেল খোলা। সোফা, মোড়া আর মেঝেয় বসে সাত জন মিলে এক মনে টিভির দিকে তাকিয়ে আছে। মাঝে মাঝে তিনটে কমবয়সী ছেলে নিজেদের মধ্যে খুনসুটি করছে।

সব্বাই আমার খুব চেনা! বাবা, মা, সুজিতকাকু, রিনাকাকিমা, দাদা, বুলু আর আমি!


লেখক পরিচিতি: উৎপল দাশগুপ্ত এর জন্ম কলকাতায়। আদিবাড়ি ওপার বাংলার শ্রীহট্টের পঞ্চখণ্ডে এবং অসমেরকরিমগঞ্জে। অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্কার। কর্মজীবনের শুরু ভারত সরকারে অর্থ মন্ত্রক থেকে। কর্মসূত্রে দিল্লী, উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় এবং অসমে কাটিয়েছেন। অল্প লেখালেখি আর অনুবাদের কাজ করেন। তবে নিজের লেখালেখির চাইতেও বই পড়তে বেশি ভালবাসেন, বিভিন্ন বিষয়ে। ঘুরে বেড়াতে, অবসর সময়ে গান শুনতে ভালবাসেন। শখের ফটোগ্রাফি করে থাকেন। কলকাতায় থাকেন।






একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ